প্রাথমিক শিক্ষা
মাসখানেকের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষার নতুন নীতিমালা হবে: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক শিক্ষার কার্যক্রম পরিচালনা, তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মাসখানেকের মধ্যে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। নতুন নীতিমালার ভিত্তিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (২৩ আগস্ট) সকালে বরিশাল নগরীর শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষার শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘মাসখানেকের মধ্যে আমরা নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করব যার আলোকে আমাদের সব কর্মকর্তা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। সেই আলোকে আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো পরিচালিত হবে।’
প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন অনুযায়ী একটি সুশিক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কাজগুলো এমনভাবে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা চলছে যাতে অল্প সময়ের মধ্যেই নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হয়।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রধান কারিগর হবে আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার ইনশাআল্লাহ।’
কর্মশালায় প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশিক্ষণে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা এবং প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
৩ দিন আগে
খেলায় খেলায় শেখার মাধ্যমে শিশুদের শেখার সক্ষমতা বাড়বে: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক শিক্ষায় মুখস্থনির্ভরতার পরিবর্তে খেলাধুলা ও আনন্দের মাধ্যমে শিশুদের শেখানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, খেলায় খেলায় শেখার মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে শেখার সক্ষমতা, সমস্যা সমাধান ও চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটানো সম্ভব।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা অ্যাকাডেমি (নেপ) আয়োজিত তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা বিষয়ক ‘খেলায় খেলায় শিখি’ শীর্ষক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, শিশুদের শুধু মুখস্থ করানোর মাধ্যমে কার্যকর ও টেকসই শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আনন্দময় পরিবেশে খেলাধুলা ও বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে শেখার সুযোগ তৈরি করা হলে শিশুদের শেখার সক্ষমতা, সৃজনশীলতা ও চিন্তাশক্তি আরও বিকশিত হবে। এজন্য স্থানীয় খেলাগুলোকে পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামোও শিশুবান্ধব ও খেলাভিত্তিক শিক্ষার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি জানান, নেপ ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় পর্যায়ের খেলাধুলা নিয়ে গবেষণা ও তথ্য সংগ্রহ করেছে। ইতোমধ্যে ৪১২টি খেলা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে প্রচলিত ৭০০টির বেশি খেলাকে নিয়মবদ্ধ করে বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে কীভাবে যুক্ত করা যায়, সে বিষয়েও কাজ করা হয়েছে।
চীন ও জাপানের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব দেশে পাঠ্যক্রমের বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে খেলনা ও খেলার সমন্বয় করা হয়েছে। কোন শ্রেণিতে কোন বিষয়ের কোন অধ্যায় শেখাতে কোন খেলনা বা খেলা ব্যবহার করা হবে, তা পাঠ্যবই ও পাঠ্যক্রমে নির্ধারণ করা থাকে। এ ক্ষেত্রে পাঠ্যবই প্রকাশক, খেলনা প্রস্তুতকারক ও পাঠ্যক্রম প্রণয়নকারীরা সমন্বিতভাবে কাজ করেন।
বাংলাদেশেও এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে বসে প্রাথমিক শিক্ষায় খেলাধুলা ও খেলনাভিত্তিক শিখন কীভাবে আরও কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করলেই হবে না; এর যথাযথ বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, খেলার জায়গা, শিক্ষার পরিবেশ এবং অবকাঠামো নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার প্রতিটি পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। শিশুদের জন্য একটি আনন্দময়, নিরাপদ ও কার্যকর শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করাই প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী।
৮ দিন আগে
চিলমারীর চরাঞ্চলে শিক্ষকসংকট চরমে, ব্যাহত প্রাথমিক শিক্ষা
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার চরাঞ্চলে শিক্ষকসংকটে প্রাথমিক শিক্ষার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার অষ্টমীরচর ইউনিয়নের মুদাফৎ কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষককে দিয়েই তিন শ্রেণির পাঠদানসহ দাপ্তরিক কাজ চালানো হচ্ছে। একই ইউনিয়নের দক্ষিণ নটারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও ২০২২ সাল থেকে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে।
অতি সম্প্রতি মুদাফৎ কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম একাই তিন শ্রেণির পাঠদান করছেন। এক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়া বুঝিয়ে দিয়ে অন্য শ্রেণিতে ছুটে যেতে হচ্ছে তাকে। এর পাশাপাশি দাপ্তরিক কাগজপত্র তৈরি, মিড-ডে মিলের হিসাব, উপস্থিতি রেজিস্টার সংরক্ষণ এবং সরকারের বিভিন্ন অনলাইন কার্যক্রমও পরিচালনা করতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের নথিপত্রে মাসুমা আক্তার নামে আরেকজন শিক্ষক থাকলেও ২০২৩ সালে যোগদানের পর মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে তিনি চিলমারী সদরের একটি বিদ্যালয়ে প্রাক্কলনে (ডেপুটেশন) চলে যান। দুই শিক্ষকবিশিষ্ট বিদ্যালয় থেকে একজনকে অন্যত্র প্রাক্কলনে পাঠানোর সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
দুই বছর আগে অবসরে যাওয়া বিদ্যালয়টির সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক বলেন, তার সময়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল প্রায় ২৫০ জন। শিক্ষকসংকটের কারণে তা কমে বর্তমানে ১৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়বিমুখ হয়ে পড়ছে বলেও জানান তিনি।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাসি মনি বলে, ‘একজন স্যার সবাইকে বেশি সময় দিতে পারেন না, তাই আমরা ভালো শিখতেও পারছি না।’
অভিভাবকরা বলেন, শিক্ষকসংকটের কারণে শিশুদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। এতে অনেক শিশু শিক্ষাজীবন শেষ করার আগেই ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
৯ দিন আগে
দুই-তিন বছরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রাথমিক শিক্ষার পরিবর্তনে যে স্বপ্ন ও দায়িত্ব আমাদের দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে সরকার সুপরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান ও গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রবিবার (১৬ আগস্ট) ময়মনসিংহ বিভাগের জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা অ্যাকাডেমির (নেপ) মিলনায়তনে উপপরিচালকের কার্যালয়ে আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহি ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, বৃহত্তর কমিউনিটিকে বিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং শিক্ষাঙ্গনে কার্যকর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কর্মশালায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর আগে সিলেট বিভাগে এ ধরনের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশের বাকি ছয়টি বিভাগেও পর্যায়ক্রমে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পরিকল্পনা, পাইলটিং ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, নতুন শিক্ষক নীতিমালা প্রণয়ন, মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা, সাংস্কৃতিক শিক্ষা, ক্রীড়া শিক্ষা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কারভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন, কোনো শিশু যেন শ্রেণিকক্ষের বাইরে না থাকে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রতিটি প্রাথমিক শিক্ষার্থীর জন্য পুষ্টিকর মিড-ডে মিল, বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগসহ বিভিন্ন সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারের লক্ষ্য শুধু ভবন নির্মাণ নয়, বরং প্রতিটি বিদ্যালয়কে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা অর্জনের উপযোগী আধুনিক, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে রূপান্তর করা। এ ছাড়াও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে প্রতিটি এলাকার ‘উজ্জ্বল নক্ষত্র’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ছয় মাসের লক্ষ্যমাত্রাগুলোও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীর কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে যে অঙ্গীকার রয়েছে, তা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সক্ষমতা নিশ্চিত করেই এসব পরিবর্তন বিদ্যালয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক শিক্ষার আগামী কারিকুলামে ইংরেজি লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে স্পিকিং টেস্ট (কথা বলার দক্ষতা যাচাই) চালু করা হবে। শিক্ষার্থীদের তথ্য ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও আধুনিক করতে একটি সমন্বিত আইটি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য একটি করে ইউনিক আইডি থাকবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়নে পৃথক ওয়াশ ব্লকের পরিবর্তে স্কুল ভবনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় ‘ওয়াশ ব্লক’ স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে যেসব ভুল-ত্রুটি হচ্ছে, তার তুলনায় এ নিয়ে অপপ্রচারই বেশি হচ্ছে, তবে সরকার প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করে তা দ্রুত সমাধানে কাজ করছে।
ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটছে, অথচ মসজিদে সাধারণত এমন ঘটনা দেখা যায় না। এর পেছনে বড় কারণ হলো মানুষ মসজিদকে নিজের প্রতিষ্ঠান মনে করে, কিন্তু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অনেকেই নিজের প্রতিষ্ঠান হিসেবে ধারণ করে না। আমাদের লক্ষ্য হলো, অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সবার নিজের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা।
ময়মনসিংহ বিভাগে প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপপরিচালকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেপের মহাপরিচালক ফরিদ আহমেদ।
এছাড়া, অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশনসের পরিচালক এবং ময়মনসিংহ বিভাগের সকল জেলার পিটিআই সুপার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
১০ দিন আগে
খেলতে খেলতেই বিজ্ঞান শিখবে শিশুরা, প্রাথমিকের কারিকুলামে যুক্ত হচ্ছে ‘সায়েন্স টয়’: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক ও সৃজনশীল করে গড়ে তুলতে প্রাথমিকের কারিকুলামে বিজ্ঞানভিত্তিক খেলার সামগ্রী বা ‘সায়েন্স টয়’ যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেছেন, আমরা চাই শিশুরা শুধু বই পড়ে বিজ্ঞান শিখবে না, বরং হাতে-কলমে কাজ করে, খেলতে খেলতেই বিজ্ঞান শিখবে। এ লক্ষ্যেই প্রাথমিকের কারিকুলামে সায়েন্স টয় যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রবিবার (৯ আগস্ট) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে ইউনিসেফ বাংলাদেশ আয়োজিত ফাউন্ডেশনাল লার্নিং অ্যাকশন ট্র্যাকার শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় বিজ্ঞান, গণিত, ডিজাইন ও সৃজনশীলতার ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিশুদের শেখার প্রক্রিয়াকে আনন্দময় ও বাস্তবভিত্তিক করতে কারিকুলামের ভেতরে ‘সায়েন্স টয়’ ও হাতে-কলমে শেখার বিভিন্ন উপকরণ যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘ম্যাথ ল্যাব’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে যেখানে বিভিন্ন উপকরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আকার, আকৃতি, গুণ, ভাগ, যোগ-বিয়োগসহ গণিতের মৌলিক ধারণা শিখবে।
ফাউন্ডেশনাল লার্নিংয়ের ঘাটতি দূর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলোর একটি হলো প্রতিটি শিশুর মৌলিক পড়া, লেখা ও গণিতের দক্ষতা নিশ্চিত করা। কোনো শিক্ষার্থী উচ্চতর শ্রেণিতে উঠলেও তার ভিত্তিগত শেখার ঘাটতি থাকলে পরবর্তী শিক্ষাজীবনে তা বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করে।
আউট অব স্কুল চিলড্রেন’ প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। শিশুদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্মসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট প্রথমবারের মতো বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে বলেও জানান তিনি।
মিড-ডে মিল কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় যেসব ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলো সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি পাইলট প্রকল্পের সফলতা শুধু কতজনের কাছে পৌঁছেছে তা দিয়ে নয়, বরং বাস্তবায়নের সময় কী কী সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে এবং সেগুলোর কতটা কার্যকরভাবে সমাধান করা গেছে তার ভিত্তিতেও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন প্রকল্পকে শুধু দর্শননির্ভর নয়, বরং অপারেশনাল ও বাস্তবভিত্তিক হতে হবে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাদর্শন থাকবে, তবে সেই দর্শন বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি প্রকল্পের সুস্পষ্ট কার্যক্রম, বাস্তবায়ন কাঠামো, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা থাকতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের দর্শন হলো দেশের প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি শিশুর কাছে সঠিক শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু প্রকল্প যখন মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন হবে, তখন সেটি হতে হবে সম্পূর্ণ অপারেশনাল (কার্যকর)। ধাপে ধাপে কীভাবে কাজটি করা হচ্ছে, কীভাবে মনিটরিং (তত্ত্বাবধান) হচ্ছে, এসব বিষয়ে আমরা আরও শক্তিশালী ব্যবস্থা তৈরি করছি।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব জেসমিন নাহার, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ারস, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৭ দিন আগে
শুধু পাঠ্যবই নয়; নতুন শিক্ষাব্যবস্থায় আসছে শিক্ষক গাইড, ওয়ার্কবুক ও রেমিডিয়াল গাইড: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, নতুন প্রজন্মকে বিশ্বমানের দক্ষ, সৃজনশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার একটি সমন্বিত ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলছে। এ ব্যবস্থায় শুধু পাঠ্যবই নয়, প্রতিটি বিষয়ের সঙ্গে থাকবে শিক্ষক গাইড, ওয়ার্কবুক, রেমিডিয়াল গাইড এবং ভিডিও লেসন, যাতে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে সমানভাবে শেখার সুযোগ পায়।
রবিবার (১২ জুলাই) ঢাকার সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের চারটি নতুন পাঠ্যপুস্তকের কাঠামো চূড়ান্তকরণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে নতুন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার ২০২৮ সালের জন্য একটি যুগোপযোগী, দক্ষতাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জাতীয় শিক্ষাক্রম প্রণয়নে কাজ করছে। বর্তমানে যে পাঠ্যবইগুলো প্রস্তুত করা হচ্ছে, সেগুলো ভবিষ্যতের পূর্ণাঙ্গ কারিকুলামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তৈরি করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বের করে এনে দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, নেতৃত্ব, দলগত কাজ, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তাত্ত্বিক শিক্ষার তুলনায় ব্যবহারিক শিক্ষাকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে বাস্তব জীবনের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ আরও শক্তিশালী করা হবে।
তিনি বলেন, সংস্কৃতি শিক্ষা ও ক্রীড়া শিক্ষা নতুন প্রজন্মের শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংস্কৃতি শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, মূল্যবোধ, জাতীয় পরিচয় এবং সৃজনশীল প্রকাশের সুযোগ পাবে। অন্যদিকে, ক্রীড়া শিক্ষার মাধ্যমে নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, সহমর্মিতা, দলগত কাজ এবং সুস্থ জীবনাচারের চর্চা গড়ে উঠবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। দেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে এমন কারিকুলাম প্রণয়ন করা হবে, যা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব এবং শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে না।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মওলা। এ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহের সচিব, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
৪৫ দিন আগে
দেশের এইচএসসির শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত দক্ষতা সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির সমমানের: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের গড় এইচএসসির শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত দক্ষতা অনেক ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীর সমমানের। এই বাস্তবতা আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
রবিবার (২৮ জুন) ঢাকার তেজগাঁও কলেজে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষ (শিক্ষাবর্ষ ২০২৫-২৬) নবীন বরণ অনুষ্ঠান-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে পুনর্গঠন করা হবে যাতে শিক্ষার্থীরা শুধু ডিগ্রিধারী নয়, দক্ষ, নৈতিক ও কর্মসংস্থান-উপযোগী নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। অতীতের মতো কেবল সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, বরং দক্ষতা, মূল্যবোধ ও বাস্তব কর্মজীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষাই হবে সরকারের অগ্রাধিকার।
এ সময় বিশ্ব ব্যাংকের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গড় এইচএসসি শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত দক্ষতা অনেক ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীর সমমানের। এই বাস্তবতা আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই শুধু পরীক্ষায় পাস করানো নয়, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শেখা, দক্ষতা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বহু শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জনের পরও কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বর্তমান সরকার এই বাস্তবতা পরিবর্তনে শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে কাজ করছে।
৫৯ দিন আগে
জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রাথমিক শিক্ষায় সংস্কার আনা হবে: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী, দক্ষতা-ভিত্তিক ও শিশুবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এ লক্ষ্যে জাপানের শিক্ষা ব্যবস্থার সফল অভিজ্ঞতা, কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) বাংলাদেশের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষার নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ করছি। এতে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে সিভিক এডুকেশন, ক্রীড়া শিক্ষা, সাংস্কৃতিক শিক্ষা, গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের চ্যালেঞ্জিং ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, জাপানের নাগরিক শিক্ষা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও নাগরিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে আমরা জাপানের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে চাই।
৬৩ দিন আগে
২০২৮ সালের পর প্রাথমিকে অপ্রশিক্ষিত শিক্ষক থাকবে না: প্রতিমন্ত্রী
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ২০২৮ সালের পর দেশের কোনো প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষে অপ্রশিক্ষিত শিক্ষক পাঠদান করবেন না। সরকারি, বেসরকারি, কিন্ডারগার্টেন কিংবা ইংরেজি মাধ্যম—সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য এই নীতি প্রযোজ্য হবে।
সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর বসুন্ধরায় ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের মাল্টিপারপাস হলে আইইউবি এবং বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্কের যৌথ আয়োজনে ‘আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট নীতিমালা’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার প্রকৃত উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ শিক্ষক, যুগোপযোগী কারিকুলাম এবং শিশুদের জন্য আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ।
তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে শিশুকে। এমন শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে যাতে শেখা তাদের কাছে বোঝা না হয়ে আনন্দের বিষয় হয়ে ওঠে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে কারিকুলাম পুনর্বিন্যাসের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এ সময় তিনি এনসিটিবিকে অযাচিত প্রভাবমুক্ত রেখে পেশাগতভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, শিক্ষকের জীবনমান উন্নয়ন ছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। একজন শিক্ষক যদি আর্থিক, সামাজিক ও পেশাগতভাবে সম্মানজনক জীবনযাপন করতে না পারেন, তাহলে শিক্ষাব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন কখনোই অর্জন করা যাবে না।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে এক শিফটে রূপান্তরের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই শিফটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত সময় ও মনোযোগ পাচ্ছে না। তাই পর্যায়ক্রমে দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ‘ওয়ান-শিফট স্কুলে’ রূপান্তর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
শিক্ষক প্রশিক্ষণের বিষয়টি উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, ২০২৮ সালের পর দেশের কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে অপ্রশিক্ষিত শিক্ষক পাঠদান করবেন না। সরকারি, বেসরকারি, কিন্ডারগার্টেন কিংবা ইংরেজি মাধ্যম—সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য এই নীতি প্রযোজ্য হবে।
আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ম তামিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা অ্যাকাডেমির মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ, আইইউবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দিদার এ হোসেইন, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
৬৫ দিন আগে
এমপির ঝটিকা সফর: সুনামগঞ্জের ৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেলেনি শিক্ষকের দেখা
সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল আকস্মিক পরিদর্শনে বেরিয়ে এসেছে প্রাথমিক শিক্ষার বেহাল দশা। মধ্যনগর ও ধর্মপাশা উপজেলার এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে যাওয়ার পথে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় তিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষকের উপস্থিতি পাননি তিনি। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে বের হন। পথিমধ্যে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেন। তবে তার পরিদর্শনে উঠে আসে হতাশাজনক চিত্র।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মধ্যনগর উপজেলার আবিদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। তখন পর্যন্ত কোনো শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত হননি। পরে সকাল ৯টা ৪২ মিনিটে তিনি দুগনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছান। সেখানেও একই চিত্র দেখা যায়। বিদ্যালয়ের ফটক খোলা থাকলেও কোনো শিক্ষকের দেখা মেলেনি।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা যায় কায়েতকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে সংসদ সদস্য সকাল ১০টা পর্যন্ত অবস্থান করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরেও কোনো শিক্ষক কর্মস্থলে উপস্থিত হননি।
পরপর তিনটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অনুপস্থিতি দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি স্থানীয় জনসাধারণ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। শিক্ষকদের এ ধরনের পলায়নপর মনোভাবকে তিনি শিক্ষার অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
অসন্তোষ প্রকাশ করে কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ‘সরকার যখন প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তখন তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষকদের এই ধরনের অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না। সকাল ১০টা বেজে গেলেও যদি শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে না আসেন, তবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কী হবে? এটি স্পষ্টত দায়িত্বহীনতা এবং জনস্বার্থপরিপন্থি।’
ঘটনার পরপরই তিনি সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান। তিনি এই তিন বিদ্যালয়ের অনুপস্থিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তসাপেক্ষে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, দুর্গম এলাকায় তদারকি কম থাকায় শিক্ষকরা প্রায়ই এমন অনিয়ম করে থাকেন।
সংসদ সদস্যের এই আকস্মিক পরিদর্শন এবং সরাসরি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়াকে তারা সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, এমন তদারকির ফলে শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
১০৪ দিন আগে