প্রাথমিক শিক্ষা
শুধু পাঠ্যবই নয়; নতুন শিক্ষাব্যবস্থায় আসছে শিক্ষক গাইড, ওয়ার্কবুক ও রেমিডিয়াল গাইড: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, নতুন প্রজন্মকে বিশ্বমানের দক্ষ, সৃজনশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার একটি সমন্বিত ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলছে। এ ব্যবস্থায় শুধু পাঠ্যবই নয়, প্রতিটি বিষয়ের সঙ্গে থাকবে শিক্ষক গাইড, ওয়ার্কবুক, রেমিডিয়াল গাইড এবং ভিডিও লেসন, যাতে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে সমানভাবে শেখার সুযোগ পায়।
রবিবার (১২ জুলাই) ঢাকার সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের চারটি নতুন পাঠ্যপুস্তকের কাঠামো চূড়ান্তকরণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে নতুন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার ২০২৮ সালের জন্য একটি যুগোপযোগী, দক্ষতাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জাতীয় শিক্ষাক্রম প্রণয়নে কাজ করছে। বর্তমানে যে পাঠ্যবইগুলো প্রস্তুত করা হচ্ছে, সেগুলো ভবিষ্যতের পূর্ণাঙ্গ কারিকুলামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তৈরি করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বের করে এনে দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, নেতৃত্ব, দলগত কাজ, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তাত্ত্বিক শিক্ষার তুলনায় ব্যবহারিক শিক্ষাকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে বাস্তব জীবনের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ আরও শক্তিশালী করা হবে।
তিনি বলেন, সংস্কৃতি শিক্ষা ও ক্রীড়া শিক্ষা নতুন প্রজন্মের শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংস্কৃতি শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, মূল্যবোধ, জাতীয় পরিচয় এবং সৃজনশীল প্রকাশের সুযোগ পাবে। অন্যদিকে, ক্রীড়া শিক্ষার মাধ্যমে নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, সহমর্মিতা, দলগত কাজ এবং সুস্থ জীবনাচারের চর্চা গড়ে উঠবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। দেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে এমন কারিকুলাম প্রণয়ন করা হবে, যা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব এবং শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে না।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মওলা। এ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহের সচিব, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
৫ দিন আগে
দেশের এইচএসসির শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত দক্ষতা সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির সমমানের: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের গড় এইচএসসির শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত দক্ষতা অনেক ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীর সমমানের। এই বাস্তবতা আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
রবিবার (২৮ জুন) ঢাকার তেজগাঁও কলেজে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষ (শিক্ষাবর্ষ ২০২৫-২৬) নবীন বরণ অনুষ্ঠান-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে পুনর্গঠন করা হবে যাতে শিক্ষার্থীরা শুধু ডিগ্রিধারী নয়, দক্ষ, নৈতিক ও কর্মসংস্থান-উপযোগী নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। অতীতের মতো কেবল সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, বরং দক্ষতা, মূল্যবোধ ও বাস্তব কর্মজীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষাই হবে সরকারের অগ্রাধিকার।
এ সময় বিশ্ব ব্যাংকের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গড় এইচএসসি শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত দক্ষতা অনেক ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীর সমমানের। এই বাস্তবতা আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই শুধু পরীক্ষায় পাস করানো নয়, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শেখা, দক্ষতা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বহু শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জনের পরও কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বর্তমান সরকার এই বাস্তবতা পরিবর্তনে শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে কাজ করছে।
১৮ দিন আগে
জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রাথমিক শিক্ষায় সংস্কার আনা হবে: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী, দক্ষতা-ভিত্তিক ও শিশুবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এ লক্ষ্যে জাপানের শিক্ষা ব্যবস্থার সফল অভিজ্ঞতা, কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) বাংলাদেশের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষার নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ করছি। এতে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে সিভিক এডুকেশন, ক্রীড়া শিক্ষা, সাংস্কৃতিক শিক্ষা, গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের চ্যালেঞ্জিং ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, জাপানের নাগরিক শিক্ষা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও নাগরিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে আমরা জাপানের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে চাই।
২২ দিন আগে
২০২৮ সালের পর প্রাথমিকে অপ্রশিক্ষিত শিক্ষক থাকবে না: প্রতিমন্ত্রী
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ২০২৮ সালের পর দেশের কোনো প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষে অপ্রশিক্ষিত শিক্ষক পাঠদান করবেন না। সরকারি, বেসরকারি, কিন্ডারগার্টেন কিংবা ইংরেজি মাধ্যম—সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য এই নীতি প্রযোজ্য হবে।
সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর বসুন্ধরায় ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের মাল্টিপারপাস হলে আইইউবি এবং বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্কের যৌথ আয়োজনে ‘আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট নীতিমালা’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার প্রকৃত উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ শিক্ষক, যুগোপযোগী কারিকুলাম এবং শিশুদের জন্য আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ।
তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে শিশুকে। এমন শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে যাতে শেখা তাদের কাছে বোঝা না হয়ে আনন্দের বিষয় হয়ে ওঠে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে কারিকুলাম পুনর্বিন্যাসের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এ সময় তিনি এনসিটিবিকে অযাচিত প্রভাবমুক্ত রেখে পেশাগতভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, শিক্ষকের জীবনমান উন্নয়ন ছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। একজন শিক্ষক যদি আর্থিক, সামাজিক ও পেশাগতভাবে সম্মানজনক জীবনযাপন করতে না পারেন, তাহলে শিক্ষাব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন কখনোই অর্জন করা যাবে না।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে এক শিফটে রূপান্তরের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই শিফটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত সময় ও মনোযোগ পাচ্ছে না। তাই পর্যায়ক্রমে দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ‘ওয়ান-শিফট স্কুলে’ রূপান্তর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
শিক্ষক প্রশিক্ষণের বিষয়টি উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, ২০২৮ সালের পর দেশের কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে অপ্রশিক্ষিত শিক্ষক পাঠদান করবেন না। সরকারি, বেসরকারি, কিন্ডারগার্টেন কিংবা ইংরেজি মাধ্যম—সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য এই নীতি প্রযোজ্য হবে।
আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ম তামিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা অ্যাকাডেমির মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ, আইইউবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দিদার এ হোসেইন, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
২৪ দিন আগে
এমপির ঝটিকা সফর: সুনামগঞ্জের ৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেলেনি শিক্ষকের দেখা
সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল আকস্মিক পরিদর্শনে বেরিয়ে এসেছে প্রাথমিক শিক্ষার বেহাল দশা। মধ্যনগর ও ধর্মপাশা উপজেলার এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে যাওয়ার পথে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় তিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষকের উপস্থিতি পাননি তিনি। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে বের হন। পথিমধ্যে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেন। তবে তার পরিদর্শনে উঠে আসে হতাশাজনক চিত্র।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মধ্যনগর উপজেলার আবিদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। তখন পর্যন্ত কোনো শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত হননি। পরে সকাল ৯টা ৪২ মিনিটে তিনি দুগনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছান। সেখানেও একই চিত্র দেখা যায়। বিদ্যালয়ের ফটক খোলা থাকলেও কোনো শিক্ষকের দেখা মেলেনি।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা যায় কায়েতকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে সংসদ সদস্য সকাল ১০টা পর্যন্ত অবস্থান করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরেও কোনো শিক্ষক কর্মস্থলে উপস্থিত হননি।
পরপর তিনটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অনুপস্থিতি দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি স্থানীয় জনসাধারণ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। শিক্ষকদের এ ধরনের পলায়নপর মনোভাবকে তিনি শিক্ষার অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
অসন্তোষ প্রকাশ করে কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ‘সরকার যখন প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তখন তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষকদের এই ধরনের অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না। সকাল ১০টা বেজে গেলেও যদি শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে না আসেন, তবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কী হবে? এটি স্পষ্টত দায়িত্বহীনতা এবং জনস্বার্থপরিপন্থি।’
ঘটনার পরপরই তিনি সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান। তিনি এই তিন বিদ্যালয়ের অনুপস্থিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তসাপেক্ষে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, দুর্গম এলাকায় তদারকি কম থাকায় শিক্ষকরা প্রায়ই এমন অনিয়ম করে থাকেন।
সংসদ সদস্যের এই আকস্মিক পরিদর্শন এবং সরাসরি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়াকে তারা সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, এমন তদারকির ফলে শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
৬৪ দিন আগে
প্রাথমিকের ঝরে পড়া-পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়ক কার্যক্রম চালু করবে সরকার
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ঝরে পড়া ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়ক কার্যক্রম চালু করবে সরকার।
তিনি আরও বলেছেন, লার্নিং সার্কেল, কমিউনিটি সম্পৃক্ততা, অভিভাবকের অংশগ্রহণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর কনটেন্ট ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সম্মেলনকক্ষে গণসাক্ষরতা অভিযান আয়োজিত ‘রেমিডিয়াল শিক্ষা: কর্ম-অভিজ্ঞতা ও আগামীর ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষা খাতকে জাতীয় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনি ইশতেহারে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রাথমিক শিক্ষাকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় এখনো কাঙ্ক্ষিত শেখার দক্ষতা অর্জিত হয়নি। অনেক শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকলেও তাদের বড় একটি অংশ শ্রেণি-উপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে সরকার বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের চার থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের মৌলিক শেখার ভিত্তি দৃঢ় করা। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, অনেক শিক্ষার্থী তৃতীয় শ্রেণিতে পড়লেও সেই শ্রেণির উপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি। জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়ন (এনএসএ) অনুযায়ী প্রায় ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী পিছিয়ে রয়েছে।
অনুষ্ঠানে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ‘দ্য লার্নিং নেশন’ গ্রন্থে ববি হাজ্জাজ বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কারের একটি বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, বইটিতে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন ব্যবস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সেভ দ্য চিলড্রেনসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
৬৪ দিন আগে
প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার পরিকল্পনায় সরকার: প্রতিমন্ত্রী
৪ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক হবে জানিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আমরা ধাপে ধাপে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করব।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ, ব্যয় কাঠামো ও নীতিগত অগ্রাধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করে ‘শিক্ষা বাজেট: বাজেটের শিক্ষা’ শীর্ষক এক প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
গণসাক্ষরতা অভিযানের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় শিক্ষা খাতের বিদ্যমান প্রবণতা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা ধাপে ধাপে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করব। ৪ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা হবে বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক। মিড-ডে মিল আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রাথমিকের সব শিক্ষার্থীর জন্য চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
নতুন কারিকুলামের বিষয়ে তিনি বলেন, আর্থিক প্রণোদনা বৃদ্ধি করা ছাড়া শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা সম্ভব নয়। শিক্ষার মানোন্নয়নে পাঠ্যক্রম সংস্কার এবং নতুন কারিকুলাম নিয়ে সরকার কাজ করছে। আমরা নতুন কারিকুলাম তাড়াহুড়ো করে করব না। নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীরা খেলতে খেলতে শিখবে, গল্পের মাধ্যমে শিখবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গল্পের মাধ্যমে আনন্দদায়ক শিক্ষাপদ্ধতি চালুর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কোচিং, নোটবুক, গাইড—এসব আমরা বন্ধ করব। তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। শিক্ষাটা হবে ক্যারিয়ার-কেন্দ্রিক।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। শিক্ষকদের বেতন ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষায় জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ সরকারের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি। শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে দক্ষ জনবল তৈরি করা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন গণসাক্ষরতা অভিযানের উপপরিচালক তপন কুমার দাস। শিক্ষা বাজেটের প্রবণতা, বরাদ্দের কার্যকারিতা এবং বাস্তবায়ন ঘাটতির বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের উপপরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান।
কর্মসূচি ব্যবস্থাপক আব্দুর রউফ বেসরকারি শিক্ষা পরিবারের পক্ষ থেকে গণসাক্ষরতা অভিযানের ২১ দফা দাবি-সম্বলিত একটি স্মারকলিপি উপস্থাপন করেন।
এই ২১ টি দাবির মধ্যে রয়েছে, জাতীয় বাজেটে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে শিক্ষাখাতে জিডিপির অন্তত ২ দশমিক ৫ শতাংশ অথবা জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ শিক্ষার জন্য বিনিয়োগ করা। সরকারের প্রথম তিন অর্থবছরে জিডিপির ৫ শতাংশ এবং পর্যায়ক্রমে ৫ বছরের মধ্যে ৬ শতাংশে উন্নীত করার রূপরেখা প্রণয়ন করা।
এ ছাড়াও প্রাথমিকে শিক্ষার্থীপ্রতি মাসে ন্যূনতম ৫০০ টাকা, নিম্ন মাধ্যমিকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ৭০০ টাকা এবং মাধ্যমিক ও তার ওপরের শ্রেণিতে ১ হাজার টাকা করা, সমন্বিত শিক্ষা আইন করা, শিক্ষক নীতিমালা প্রণয়ন, স্থায়ী শিক্ষা কমিশন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারে স্বল্পমেয়াদী কোর্সের ওপর জোর দেওয়া, নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী প্রদান, দুর্যোগপ্রবণ ও দুর্গম এলাকাগুলোতে শিক্ষকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা ও অতিরিক্ত প্রণোদনা প্রদান, প্রতিবন্ধী বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা, অটিজম ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী স্কুলগুলোকে সমাজকল্যাণের আওতায় আনা, জাতীয়ভাবে গবেষণার তথ্যসম্বলিত ডেটা ব্যাংক করা, শিক্ষায় বাণিজ্যিকীকরণ, নোটবই, গাইডবই ও কোচিং বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া, উন্নয়ন ব্যয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষাখাত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, পর্যায়ক্রমে মিড-ডে মিল সর্বজনীন করার জোর দাবি জানানো হয় স্মারকলিপিতে।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, বাজেট ঘাটতি পূরণে করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর)-এর ৩০ শতাংশ ব্যবহার ও ‘এডুকেশন সেইজ’ চালু করা যেতে পারে। প্রতিবেশি দেশ ভারতে এডুকেশন সেইজ (সারচার্জ) প্রবর্তন করে লক্ষাধিক কোটি টাকার ‘শিক্ষা সহায়তা তহবিল’ গঠন করা হয়েছে। আমরা যমুনা সারচার্জ দিয়ে যমুনা সেতু করেছিলাম, সেরকমই এটা।
অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ, ইএলসিজি বাংলাদেশ এর কো-চেয়ার এবং ব্রিটিশ হাইকমিশন ঢাকার এডুকেশন অ্যাডভাইজার মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শরমিন্দ নিলর্মী।
উন্মুক্ত আলোচনায় উপস্থিত শিক্ষা খাতের বিভিন্ন অংশীজন শিক্ষা গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, উন্নয়ন সহযোগী, প্রতিবন্ধী শিক্ষক সংগঠনের নেতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও যুব সংগঠনের প্রতিনিধিরা বাজেট নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
৮৫ দিন আগে
আগামী বছরে সঠিক সময়ে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে: ববি হাজ্জাজ
আগামী বছরে সঠিক সময়ে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী পাড়াডগার মান্নান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি এ কথা জানান।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবারের বৃত্তি পরীক্ষাটি গত বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোনো কারণে পরীক্ষাটি তারা নিতে পারেনি। বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাঠ্যক্রমে উৎসাহিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার এই প্রক্রিয়াটা আমরা বাদ দিতে চাই না। তাই আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরই বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেই এবং বাস্তবায়ন করি। আগামী বছরগুলোতে সঠিক সময়ে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালা, কতজন শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করতে পারবে এবং বৃত্তির পরিমাণ কত হবে তা পুনর্বিবেচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বৃত্তিকে কেন্দ্র করে কোচিং বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সরকারের ব্যবস্থা বিষয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোচিং বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সরকার শক্ত অবস্থানে রয়েছে। শুধু বৃত্তি নয়, সার্বিকভাবে কোচিং আমাদের সমাজে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে৷ এটি একটি বড় সমস্যা। কোচিং নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বেশকিছু ইনোভেশন (উদ্ভাবন) বা পলিসি (নীতি) চিহ্নিত করা হয়েছে যার মাধ্যমে খুব শিগগিরই পাইলটিং শুরু হবে। তবে প্রাথমিক বৃত্তি-সংক্রান্ত কোচিং নিয়ে এখনও বড় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়নের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, স্কুলের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সরকার দৃষ্টিনন্দন প্রজেক্ট এবং পিডিপি ফাইভের মতো অনেকগুলো উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে যার মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষ বৃদ্ধি, ওয়াশরুম নির্মাণ, নকশা পরিবর্তন এবং আসবাবপত্র পরিবর্তনের মতো বড় কাজ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, গত কয়েকদিন ধরে আমি, সচিব এবং মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন করেছি। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার সময় সঠিক সুযোগসুবিধা পাচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করে সন্তোষজনক চিত্র পাওয়া গেছে।
পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান এবং অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
৯০ দিন আগে
১ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’: প্রধানমন্ত্রী
শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষকদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী ১ জুলাই থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’ (পিইডিপি-৫) শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ১ জুলাই থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় আরও অধিক সংখ্যক শিক্ষককে ইংরেজি ভাষায় প্রশিক্ষণ প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমান সরকারের ইশতেহারে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিক্ষাদানের মান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৯ জন শিক্ষক রয়েছেন। তাদের মধ্যে চলমান ‘চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)’-এর আওতায় ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষক ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।
চলমান সংসদ অধিবেশন বিরতির পর আজ (বুধবার) সকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে পুনরায় শুরু হয়েছে। দিনের কার্যসূচির শুরুতেই ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব। এরপর সংসদ সদস্যরা তাদের নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন।
৯৩ দিন আগে
সংস্কৃতি ও খেলাধুলাকে প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে: তারেক রহমান
প্রাথমিক শিক্ষার মতো সংস্কৃতি ও খেলাধুলা বড় বিষয় উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুরা যেন বাধ্যতামূলকভাবে সংস্কৃতি ও খেলাধুলাসহ সব অ্যাক্টিভিটিতে (কর্মকাণ্ড) যুক্ত থাকে। এর ফলে শিশুদের যেমন মানসিক বিকাশ ঘটবে, তেমনই তাদের শারীরিক বিকাশও ঘটবে।’
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) লালমনিরহাট জেলা পরিষদ মিলনায়তনের অডিটরিয়ামে বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক কমিটি আয়োজিত এই কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মশালা শেষে আজ (মঙ্গলবার) বিকালে ভার্চুয়ালি যোগ দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আরও পড়ুন: ‘পলাতক স্বৈরাচারের’ পুনর্বাসন নিয়ে সরকারকে তারেক রহমানের হুঁশিয়ারি
তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ যদিও ল্যান্ড ওয়াইজ (আয়তনের দিক থেকে) বড় দেশ নয়, তবুও জনসংখ্যার ভিত্তিতে অনেক বড়। লালমনিরহাটের যেমন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কিছু বৈশিষ্ট্য আছে, তেমনি কুড়িগ্রামের আছে, চট্টগ্রামের আছে, কুষ্টিয়ার ওইদিকেও আছে।’
‘বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন কৃষ্টি-কালচার বা সংস্কৃতি আছে। সেরকম আলাদা আলাদা কিছু বৈশিষ্ট্যও আছে। আর এই বৈশিষ্ট্যটাই হচ্ছে আমাদের ঐতিহ্য।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি যতবার দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে, দেশীয় কৃষ্টি-কালচারকে সামনে এগিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছে। আমরা জানি গত ১৭ বছর বহু সংস্কৃতিকর্মী কষ্টে জীবনযাপন করেছেন, চিকিৎসার অভাবে কষ্টে দিন কেটেছে তাদের। যখন দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে সুযোগ ছিল, এমন অনেক সংস্কৃতিকর্মীকে সহযোগিতা করা হয়েছিল।’
‘আমাদের সামগ্রিক চিন্তার মধ্যে যেটি রয়েছে তা হচ্ছে, আমরা এই কালচার (সংস্কৃতি) এগিয়ে নিয়ে যাব। সংস্কৃতি ও খেলাধুলাকে প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুরা যেন বাধ্যতামূলকভাবে সব অ্যাক্টিভিটিসে যুক্ত থাকে, যাতে তারা মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে পারে।’
৪৫০ দিন আগে