নিয়োগ বাতিল
সাফিকুরের নিয়োগ বাতিল, বিমানের এমডির দায়িত্বে হুমায়রা সুলতানা
গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেপ্তার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. সাফিকুর রহমানের নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। পরবর্তী এমডি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিমান ও সিভিল এভিয়েশন) ড. হুমায়রা সুলতানাকে এমডির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।
আদেশে বলা হয়, ফৌজদারি অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে কারাবন্দী থাকায় সাফিকুর রহমানের সঙ্গে সরকারের করা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দক্ষ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার স্বার্থে পরবর্তী পদায়ন না হওয়া পর্যন্ত নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও হিসেবে অতিরিক্ত সচিব ড. হুমায়রা সুলতানাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১১ বছর বয়সী এক গৃহকর্মীকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে গত ২ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরের নিজ বাসা থেকে বিমানের এমডি সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রীসহ আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ।
১১০ দিন আগে
৪৩তম বিসিএসের নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে বিএনপি
চাকরিপ্রার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত ৪৩তম বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলের ভিত্তিতে কর্মকর্তাদের নিয়োগ সম্পূর্ন বাতিলের দাবি জানিয়েছে বিএনপি।
সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে ৪৪তম, ৪৫তম ও ৪৬তম বিসিএসের সব প্রক্রিয়াও বাতিলের দাবি জানিয়েছে দলটি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, 'আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে ৪৩তম বিসিএস পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি, যা আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে একটি দলীয় কমিশনের অধীনে সম্পন্ন করা হয়েছে।’
বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
২০০৭ সালে ২৭তম বিসিএসের ফলাফলের ভিত্তিতে নিয়োগ বাতিল করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন বলেন, বিসিএস নিয়োগ বাতিলের নজির রয়েছে।
আরও পড়ুন: গণতন্ত্র নির্বাচনসহ অনেক কিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে: তারেক রহমান
তিনি উল্লেখ করেন, একই প্রেক্ষাপটে ২৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল বাতিল করা হয়েছিল এবং তৎকালীন সরকার পরবর্তীতে ভাইভা পরীক্ষা পুনরায় গ্রহণ করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিল।
৪৩তম বিসিএসের ক্ষেত্রে সরকার ২৭তম বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়ার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করতে পারে বলে উল্লেখ করেন বিএনপির এই নেতা।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মাত্র ২ মাসের মধ্যে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের অনুগতদের নিয়োগ দিয়ে প্রশাসনে আওয়ামী প্রেতাত্মাদের আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ দেওয়া বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সালাহউদ্দিন বলেন, 'আমরা মনে করি, এই নিয়োগ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের অবিস্মরণীয় আত্মত্যাগের সঙ্গে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।’
তিনি বলেন, ‘হাজার হাজার যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীকে বঞ্চিত করে দলীয় বিবেচনায় ও সুপারিশকৃত ৪৩তম বিসিএস বাতিল করতে দেশ ও জাতির পক্ষ থেকে আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’
আরও পড়ুন: দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়াদের শ্বেতপত্রের দাবি ফারুকের
৫৮৫ দিন আগে
খুকৃবির সাবেক উপাচার্যের ছেলে-মেয়েসহ ৬ স্বজনের নিয়োগ বাতিল
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুকৃবির) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. শহীদুর রহমান খানের ছেলে-মেয়েসহ ৬ স্বজনের নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সোমবার (৬ নভেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়।
এর মধ্যে সাবেক উপাচার্যের মেয়ে শিক্ষক এবং অন্যরা কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। এ ছাড়া ত্রুটি থাকায় ২৪ শিক্ষকের পদোন্নতি স্থগিত করা হয়েছে এবং বাতিল করা হয়েছে এক শিক্ষকের পদোন্নতিও।
আরও পড়ুন: খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ম দিনের মতো শিক্ষকদের কর্মবিরতি
প্রাক্তন উপাচার্যের ছাত্র আশিকুল আলমকে সহকারী অধ্যাপকের পদ থেকে পদাবনতি দিয়ে প্রভাষক করা হয়েছে। অন্য ৪৬ জন শিক্ষক ও তিন কর্মচারীর নিয়োগের বিষয়ে অভিযোগ প্রত্যাহার করা হবে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শুরু থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, আর্থিক লেনদেনসহ গুরুতর বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ৩ আগস্ট ৭৩ জন শিক্ষকের নিয়োগ বাতিলের সুপারিশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
পরবর্তী সময়ে শিক্ষকরা আবেদন করায় মন্ত্রণালয় চলতি বছরের ২৪ মার্চ পুনর্মূল্যায়ন কমিটি গঠন করে। গত ২৩ আগস্ট মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া শহীদুর রহমান খানের মেয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ইশরাত খান, ছেলে সহকারী রেজিস্ট্রার শফিউর রহমান খান, শ্যালক শাখা কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন, তিন ভাতিজা কম্পিউটার অপারেটর মো. নিজাম উদ্দিন, মো. মিজানুর রহমান ও ল্যাব টেকনিশিয়ান মো. ইমরান হোসেনের নিয়োগ বাতিল হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়, প্রয়োজনীয় সংখ্যক আর্টিকেলের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কমপক্ষে একটি আর্টিকেল প্রথম লেখক হিসেবে ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর জার্নালে প্রকাশ না করা পর্যন্ত ২০ জন প্রভাষক ও চারজন সহকারী অধ্যাপকের পদোন্নতি স্থগিত থাকবে।
প্রভাষকরা হলেন- হর্টিকালচার বিভাগের মো. মোর্শেদুল ইসলাম, আফসানা ইয়াসমিন, সয়েল সায়েন্স বিভাগের নুসরাত জাহান মুমু ও নাহিদ হোসেন, এগ্রিকালচারাল কেমিস্ট্রি বিভাগের রাকিবুল হাসান মো. রাব্বি, তুষার কান্তি রায়।
বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের রোমানা জাহান মুন, লাইভস্টক প্রোডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মুস্তাসিম ফেমাস, অ্যানিম্যাল নিউট্রিশন বিভাগের সাহাবুদ্দিন আহমেদ, সবুজকান্তি নাথ ও শাওলিন ফেরদৌস।
অ্যাকোয়াকালচার বিভাগের ফাতেমা জাহান, বাবলী আকতার, মো. জাহিদ হোসেন, ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের রাবেয়া আক্তার, ফিশারিজ রিসোর্সেস কনজারভেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মো. আসাদুর রহমান।
আরও পড়ুন: নিয়োগে অনিয়ম: খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসির বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত শুরু
ফার্মস্ট্রাকচার বিভাগের ফাহমিদা আক্তার, ফার্ম পাওয়ার অ্যান্ড মেশিনারি বিভাগের তানজিনা আক্তার তামান্না, এগ্রিকালচারাল ফাইন্যান্স কো-অপারেটিভ অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের মাহবুবা আখতার মিশু ও এগ্রিকালচারাল ইকোনমিকস বিভাগের রোমানা বিশ্বাস।
সহকারী অধ্যাপকরা হলেন- মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের নাহিদ রহমান, ফিজিওলজি বিভাগের ড. এম এ হান্নান, অ্যানিম্যাল নিউট্রিশন বিভাগের ড. মো. তসলিম হোসেন এবং ফার্ম স্ট্রাকচার বিভাগের মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
এ ছাড়া প্রভাষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ফিশারিজ রিসোর্সেস কনজারভেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ড. মো. মেহেদী আলমের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি বাতিল করা হয়েছে।
আদেশে বলা হয়, সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের মোহাম্মদ আশিকুল আলমকে সহকারী অধ্যাপকের পরিবর্তে নিয়োগকাল থেকে প্রভাষক হিসেবে পদাবনতি করা হলো।
এ ছাড়া উপাচার্যের মেয়ের চাইতে আশিকুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল গুরুতর। সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগের ন্যূনতম যোগ্যতা তার ছিল না। পদও ছিল একটি।
এতে একক ক্ষমতায় দু’জনকে নিয়োগ দিয়েছিলেন তৎকালীন উপাচার্য।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আশিকুল আলম জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা নিয়ে তারা জরুরি বৈঠক করছেন। পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের বিষয়ে জানতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল কাসেম চৌধুরীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন: দুদকের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া ৪৭৩ নথি আদালতে দাখিলের নির্দেশ
৯২৯ দিন আগে