হামলার
কুষ্টিয়ায় চালের কার্ড বিতরণ নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদে হামলার অভিযোগ
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির (ভিজিএফ) চালের কার্ড বণ্টনকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর এবং ইউপি সচিবকে মারধরের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বুধবার বিষয়টি নিয়ে হইচই শুরু হয়।
ফুটেজে ঘটনার সময় ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে হাতাহাতি এবং রামদা হাতে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের দিকে তেড়ে যেতে দেখা যায় কয়েকজনকে।
ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম দাবি করেন, ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিস মণ্ডল, প্রচার সম্পাদক কনিজ এবং ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম এই হামলার নেতৃত্বে ছিলেন। তিনি বলেন, ভিজিএফ চালের কার্ডের একটি অংশ জামায়াত নেতাদের দিতে বলায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ভিজিএফ চাল বিতরণের কার্ড ভাগবাটোয়ারা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। কয়েক দফা বসেও সমাধান না হলে গতকাল (মঙ্গলবার) ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
সে সময় চেয়ারম্যানের সঙ্গে হাতাহাতির পর স্থানীয় বিএনপি নেতারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিষদ কার্যালয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পরিষদের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিস মণ্ডল, প্রচার সম্পাদক কনিজসহ বেশ কয়েকজন রামদা হাতে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোস্তফা হালিম সিদ্দিকীর দিকে তেড়ে যান। তাকে মারধরও করেন তারা।
এর আগের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বৈঠক চলাকালীন কয়েকজন চেয়ার থেকে উঠে চেয়ারম্যানকে মারতে তেড়ে যান। সে সময়ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সেখানে ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ঘটনার বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে ইউনিয়ন পরিষদে ৬০০ ভিজিএফ চালের কার্ড পেয়েছি। স্থানীয় বিএনপি নেতারা চান, তারাই সব কার্ড ভাগবাটোয়ারা করে নেবেন। যেহেতু স্থানীয় সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা, এছাড়া এমপির প্রতিনিধি রয়েছেন, তাই তাদের ১০০ কার্ড দিতে বলেছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার সময় তারা আমার দিকে তেড়ে আসেন। পরে আমি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চলে যাওয়ার পর বিএনপি নেতা আনিস মণ্ডল, কনিজ, যুবদল নেতা নজরুল ইসলামসহ ১০ থেকে ১৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একটি প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে এসে পরিষদে হামলা চালান। তারা চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেছেন। এ সময় তারা রামদা নিয়ে সচিবের দিকেও তেড়ে যান। সচিবকে মারধর করেন তারা।’
নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন কিংবা পুলিশ প্রশাসন থেকে তেমন কোনো সহযোগিতা পাইনি। তাই মামলার বিষয়ে আপাতত ভাবছি না।’
ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোস্তফা হালিম সিদ্দিকী বলেন, ‘ভিজিএফের কার্ড এসেছে ৬১৬টি। এর মধ্যে বিএনপি ৪৫০টি কার্ড দাবি করেছিল। তাদের ১৫০টি কার্ড নিতে বলা হয়েছিল, কিন্তু বিএনপি নেতারা জামায়াতকে কোনো কার্ড দিতে দেবে না। আমার গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে রেখেছিল। বিষয়টি আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। তারা পরবর্তী নির্দেশনা দেবেন।’
এ বিষয়ে কথা বলতে ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা আনিসুজ্জামানের মোবাইল ফোন নম্বরে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
তবে ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিস মণ্ডল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এতদিন পলাতক ছিলেন। গ্রামের একজন যুবককে বিদেশে পাঠানোর নাম করে ১০ লাখ টাকা নিয়েছেন, ফেরত দিচ্ছেন না। সেই টাকার বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম।’
ফুটেজে রামদা হাতে সচিবের দিকে তেড়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আনিস বলেন, ‘ঠেকানোর জন্য আমি অন্য একজনের হাত থেকে রামদা কেড়ে নিয়েছিলাম। তাই আমার হাতে দেখতে পেয়েছেন।’
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিদুল ইসলাম বলেন, এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত করছি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার উপপরিচালক আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। তাৎক্ষণিক ইউএনওকে যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
৬ ঘণ্টা আগে