ধর্ষণ
ফরিদপুরে শিশুধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন
ফরিদপুরের সালথায় ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ মামলায় শওকত মিয়া (৩৮) নামে এক ব্যাক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আবুল বাসার আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর পুলিশ পাহারায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত শওকত মিয়া ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বড় বাংরাইল গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২২ মে বিকেলে সালথা উপজেলার বড় বাংরাইল গ্রামের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ৯ বছরের ওই শিশুটি বাড়ির পাশে নিজেদের শাক-সবজির (ডাটা) খেত দেখতে গিয়েছিল। এ সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা প্রতিবেশী শওকত মিয়া শিশুটিকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পাশের একটি নির্জন পাটখেতে নিয়ে ধর্ষণ করেন।
পরে শিশুটির রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থা দেখে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ‘ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার’ (ওসিএসি)-এ ভর্তি করান। ঘটনার পরদিনই ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে সালথা থানায় শওকত মিয়াকে একমাত্র আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা করেন।
এরপর তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর সালথা থানা পুলিশ আসামি শওকত মিয়াকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় সাক্ষী গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে দীর্ঘ ৬ বছর পর আদালত আজ এ রায় প্রদান করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট অর্চনা দাস বলেন, ‘একটি অবুঝ শিশুকে নির্যাতন করে যে নৃশংসতা চালানো হয়েছিল, আজকের এই রায়ের মাধ্যমে তার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো। এই শাস্তি সমাজে অপরাধীদের মনে ভীতি সঞ্চার করবে এবং শিশু সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা এ রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট।’
৮ দিন আগে
নড়াইলে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে আটক ১
নড়াইল সদর উপজেলায় পাঁচ বছর বয়সী জান্নাতুল নামে এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে (৩৫) আটক করেছে সদর থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের দত্তপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ ওঠে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
নিহত শিশুর স্বজনরা অভিযোগ করেন, ওই ব্যক্তি ঘরের ভেতর শিশুটিকে কাঁথা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় দেখতে পান। তিনি মেয়েটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছেন বলে দাবি তাদের।
এ ঘটনায় অভিযুক্তকে আজ (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দত্তপাড়া এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজন আটক করে পিটুনি দেন। পরে খবর পেয়ে নড়াইল সদর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি থানা হেফাজতে রয়েছেন।
ওসি অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, আটক ওই ব্যক্তিকে থানা হাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১০ দিন আগে
জামালপুরে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন
জামালপুরে এক কিশোরীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের মামলায় ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আব্দুর রহিম আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। আসামিদের উপস্থিতিতেই বিচার কার্য সম্পন্ন হয়।
মামলার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর সকাল ৭টার দিকে জামালপুর সদর উপজেলার ভারুয়াখালী হরিপুর গ্রামের কবির হোসেনের কিশোরী কন্যা প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। এ সময় বাড়ির পাশের রাস্তায় প্রাইভেটকার নিয়ে ওঁৎ পেতে থাকা শামীমের নেতৃত্বে ৩ থেকে ৪ জনের একটি দল তাকে অপহরণ করে নিয়ে যান। তারা ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে ধর্ষণ করেন। সে সময় ভুক্তভোগী ভারুয়াখালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা কবির হোসেন ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি জামালপুর সদর থানায় অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা করেন। সেই মামলায় আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলায় আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. জাবেদ আলী।
১১ দিন আগে
এমসি কলেজে ধর্ষণ মামলায় ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত কে এই সাইফুর
সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাইফুর রহমান আবারও আলোচনায়। রায়ের পর নতুন করে সামনে আসছে তার পরিচয়, অবস্থান ও অতীত কর্মকাণ্ড।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাইফুর রহমানের গ্রামের বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায়। তবে ঘটনার সময় তার বর্তমান ঠিকানা হিসেবে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়কের বাংলো উল্লেখ করা হয়েছিল। তিনি এমসি কলেজের ইংরেজি বিভাগের স্নাতক শ্রেণির অনিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয়ভাবে সাইফুর ছাত্রলীগের টিলাগড়কেন্দ্রিক রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। এমসি কলেজ ছাত্রাবাস এলাকায় তার প্রভাব ছিল। তাছাড়া গ্রুপটি টিলাগড় ও আশপাশ এলাকায় ছিনতাইচক্রের সঙ্গে জড়িত ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পরদিনই তার বিরুদ্ধে আরও একটি পৃথক মামলা হয় অস্ত্র আইনে। ২০২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর শাহপরান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিল্টন সরকার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে ২৬ মার্চ ভোরে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সাইফুর রহমানের কক্ষে অভিযান চালিয়ে একটি পাইপগানসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।
শাহপরান থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইয়ুম চৌধুরী সে সময় জানিয়েছিলেন, সাইফুরের কক্ষ থেকে একটি পাইপগান, চারটি রামদা, একটি ছুরি ও দুটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। এসব তথ্য তার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগকে আরও জোরালো করে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৫ মার্চ রাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালত সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। একই মামলায় আরও তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বহুল আলোচিত এই মামলার রায়ের পর সাইফুর রহমানের পরিচয় ও অতীত কার্যকলাপ নিয়ে জনমনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রায়ে সাইফুরকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি শাহ মাহবুবুর রহমান (রনি), তারেকুল ইসলাম (তারেক) ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় আইনুদ্দিন (আইনুল), মিসবাউল ইসলাম (রাজন), রবিউল এবং মাহফুজুর রহমানকে অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।
১৭ দিন আগে
এমসি কলেজে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন
সিলেটের মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া রায়ে আরও ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি ৪ জনকে খালাসের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড এবং শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম রনি ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি ৪ আসামি আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমানকে মামলা থেকে খালাসের আদেশ দেওয়া হয়।
সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহ মোশাহিদ আলী বলেন, এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে কেউ সাক্ষী দেয়নি। ভুক্তভোগীও আসামিদের শনাক্ত করেনি। অপরাধ প্রমাণ না হওয়া সত্ত্বেও কয়েকজনকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।
আলোচিত এ মামলার রায় উপলক্ষে আজ সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে ভিড় করেন গণমাধ্যমকর্মীরা।
সকালে কড়া নিরপাত্তায় ৮ আসামিকে আদলতে হাজির করা হয়। এ সময় তারা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আমরা ধর্ষণকারী না ভাই, আমরা ধর্ষণ করিনি। রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের কারণে আমাদের মামলার আসামি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীও আমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনেনি।
সে রাতে যা ঘটেছিল
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় স্বামীর সঙ্গে প্রাইভেটকারে চড়ে শাহপরান মাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন ওই তরুণী (২০)। ফেরার পথে টিলাগড় এলাকায় এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে গাড়ি থামিয়ে পাশের দোকানে প্রবেশ করেন তার স্বামী। এই সময়ে ৫/৬ জন তরুণ সেখানে পৌঁছে তাদের জিম্মি করে প্রাইভেটকারসহ বালুচর এলাকায় এমসি কলেজের ছাত্রবাসে নিয়ে যায়।
এরপর মেয়েটির স্বামীকে মারধর করে বেঁধে রেখে তাকে ছাত্রাবাসের ভেতরে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। পরে স্বামীর টাকাপয়সা ও প্রাইভেটকার রেখে দিয়ে তাদের ছেড়ে দেয় ধর্ষকরা।
ছাত্রাবাস থেকে বেরিয়ে এসে তরুণীর স্বামী ঘটনাটি পুলিশকে জানান। তবে অভিযুক্তরা ছাত্রলীগের কর্মী হওয়ায় প্রথমে ছাত্রাবাসে প্রবেশে গড়িমসি করে পুলিশ। এই সুযোগে ছাত্রাবাস থেকে পালিয়ে যায় ধর্ষকরা। এরপর রাতভর ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন কক্ষ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ধর্ষিতার স্বামী বাদী হয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন।
ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে ছয় আসামি ও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র্যাব। গ্রেপ্তারের পর তাদের পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। পরবর্তী সময়ে সবাই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেন। আসামিদের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষায় আটজন আসামির মধ্যে ছয়জনের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়।
অভিযুক্ত যারা
২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর চালঞ্চল্যকর এই ধর্ষণ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর পুলিশের শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য।
অভিযোগপত্রে আসামি সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজনকে দলবেঁধে ধর্ষণের জন্য অভিযুক্ত করা হয়। আসামি রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুমকে ধর্ষণে সহায়তা করার জন্য অভিযুক্ত করা হয়। তারা সবাই ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিতি।
অভিযুক্ত ৮ জনকেই কলেজ কর্তৃপক্ষ স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে। এরপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও এই ৪ জনের ছাত্রত্ব ও সার্টিফিকেট বাতিল করে। আর ছাত্রাবাস থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সাইফুর রহমান ও শাহ মাহবুবুর রহমান রনিকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
যেভাবে সম্পন্ন হলো বিচার প্রক্রিয়া
২০২০ সালের ২২ নভেম্বর অস্ত্র ও চাঁদাবাজি মামলার অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। এরপর ধর্ষণ মামলায় ওই বছরের ৩ ডিসেম্বর ৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র প্রদান করা হয়। এরপর ২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোহিতুল হক চৌধুরী মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচারকাজ শুরু করেন। আর ২০২২ সালের ১১ মে একই আদালতে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
ধর্ষণ মামলার অভিযোগ গঠনের পর ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছিলেন আদালত। তবে ওই বছরের ২৪ জানুয়ারি আদালতে দুটি মামলার বিচার কার্যক্রম একসঙ্গে শুরুর আবেদন করে বাদীপক্ষ। শুনানি শেষে বিচারক আবেদনটি খারিজ করে দেন। এরপর বাদীপক্ষ এই আবেদন জানিয়ে উচ্চ আদালতে একটি ফৌজদারি বিবিধ মামলা করেন। ওই বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল বেঞ্চ মামলা দুটির বিচার কার্যক্রম একসঙ্গে একই আদালতে সম্পন্নের আদেশ দেন। এরপর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বদলে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দুটির কার্যক্রম চালানোর আবেদন করে বাদীপক্ষ।
বাদীর আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ গঠনের দীর্ঘদিন পরও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু না হওয়ায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দুটির কার্যক্রম চালানোর জন্য ২০২২ সালের ১ আগস্ট বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে বাদী একটি রিট করেন। ওই বছরের ১৬ আগস্ট রিটের শুনানি শেষে দুই মামলার কার্যক্রম দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বদলির প্রক্রিয়া গ্রহণে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
এর আগে, ২০২২ সালের ২৭ জুলাই আসামি রবিউল ইসলামের জামিন শুনানিতে মামলার বিচার বিলম্বিত হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেন বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
আদালত সূত্রে জানা জানায়, মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ কেন শুরু করা হয় না মর্মে রাষ্ট্রপক্ষকে ২০২২ সালের ২১ আগস্ট কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহিতুল হক।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মামলাটি গত বছরের মে মাসে নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। মামলায় ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ওই গৃহবধূ, তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তি নেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের অধ্যাপক ও ওসমানী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক রয়েছেন।
১৭ দিন আগে
জয়পুরহাটে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড
জয়পুরহাটে সপ্তম শ্রেণির এক মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিবেশী আলম মন্ডলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে জয়পুরহাটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুর রহমান আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আলম মন্ডল জেলার আক্কেলপুর উপজেলার পালশা গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর মাদরাসা থেকে বাড়ি ফিরে কাপড় পরিবর্তন করছিল ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরী। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করেন প্রতিবেশী আলম। ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে পালিয়ে যান ধর্ষক। পরে গুরুতর অবস্থায় ওই কিশোরীকে জয়পুরহাটের তৎকালীন আধুনিক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় ওই বছরের ১১ অক্টোবর ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে আক্কেলপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন ।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানিতে ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আজ (সোমবার) এই রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ফিরোজ আলী এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট নন্দকিশোর আগরওয়ালা।
এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফিরোজ আলী সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
১৮ দিন আগে
ময়মনসিংহে শিশু নিছামনি ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় চাঞ্চল্যকর পাঁচ বছরের শিশু নিছামনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নদীতে ফেলে হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সেইসঙ্গে তাদের দুই লাখ টাকা করে জরিমানা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক সুদীপ্তা সরকার এই রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— আরিফ, রাকিব ও সিয়াম। এই মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্ক অপর আসামি মারুফকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জুন বিকেলে ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামের তাজু মিয়ার মেয়ে শিশু নিছামনিকে ধর্ষণের পর নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়। পরদিন ১৫ জুন নিছামনির বাবা বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানায় মামলা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) বজলুল করিম চৌধুরী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে মামলার মাত্র ৯ দিনে ৪ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। পরে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঘটনার ২৫ দিনের মধ্যে আদালত তিন আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, রায়ে নিছামনির বাবা-মা সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন। তারা এই রায় কার্যকর করতে সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানান।
নিছামনির মা বলেন, ‘এই রায় দ্রুত কার্যকর হলে আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে। আমার মতো আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়।’
বাবা তাজু মিয়া বলেন, আমার মেয়ের বয়স ছিল ৪ বছর ৭ মাস। এই বয়সের একটি মেয়েকে ধর্ষণ করে হত্যার পর পানিতে ফেলে দেয়। এই ঘটনা যে শুনেছে, সে-ই কেঁদেছে। আমি দেশবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই এবং সরকার যেন এই রায় দ্রুত কার্যকর করে, সেই দাবি জানাই।
তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন সরকার।
২২ দিন আগে
লালমনিরহাটে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) ধর্ষণের পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তাকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাতে এ ঘটনায় বাদী হয়ে আদিতমারী থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা।
মামলার এজাহারে জানা যায়, উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের নামুড়িটারী গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে মোখলেছার রহমান (৪০) গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় প্রতিবেশী ওই স্কুলছাত্রীকে ফুসলিয়ে বাড়ির পাশের একটি লিচুবাগানে নিয়ে যান। সেখানে ভুক্তভোগীর মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে তাকে বাগানে ফেলে রেখে যান মোখলেছার। বিষয়টি প্রকাশ করলে তাকেসহ তার পরিবারের সদস্যদের মেরে ফেলার হুমকিও দেন তিনি। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে ভুক্তভোগী ধর্ষণের বিষয়টি গোপন রাখে।
ওই ঘটনার পর গত ১ জুলাই নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে প্রতিবেশী সুমি বেগম ও নছিমন বেগমের সহায়তায় ওই স্কুলছাত্রীকে ডেকে নেন মোখলেছার। পরে স্কুলছাত্রীকে প্রথমে রংপুর নিয়ে গিয়ে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে ঢাকায় নিয়ে যান তিনি। সেখানে এক বন্ধুর বাসায় রেখে আবারও ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করেন মোখলেছার। এ সময় ভুক্তভোগী চিৎকার করে ছুটে গিয়ে বাইরের লোকজনের সহায়তা চার। সেখানের স্থানীয় লোকজন মোখলেছারকে মারধর করে ছেড়ে দেয়। পরে স্থানীয়রা বুক্তভোগীর কাছ থেকে বাড়ির ফোন নম্বর নিয়ে গাজীপুর থেকে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
এ ঘটনার অসুস্থ মেয়েটিকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে তার পরিবার। চিকিৎসা শেষে তিনি কিছুটা সুস্থ হলে গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে মোখলেছার ও তার সহযোগী দুই নারীর বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় মামলা করেন তার বাবা। ধর্ষক পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলকার কয়েকজন নারী বলেন, মোখলেছার রহমান খুবই খারাপ প্রকৃতির মানুষ। তার ভাই মহুবর রহমান এই ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ। তার ক্ষমতার প্রভাবে তিনি অপকর্ম করে বেড়ান। এ মামলাটিও নষ্ট করতে জোর চেষ্টা করেছিল গ্রাম পুলিশ মহুবর। তার সঙ্গে থানা পুলিশের সম্পর্ক ভালো। এ কারণে বারবার অপরাধ করেও বেঁচে যান মোখলেছার। মোখলেছারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন তারা।
ভুক্তভোগীর বাবার দাবি, আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে তাকে হত্যা করতে ঢাকায় নিয়ে গিয়েছিল মোখলেছার। তার বিশ্বাস ছিল, আমার মেয়ে কোনো একদিন ঘটনাটি আমার কাছে প্রকাশ করবে। সেই ভয়ে আমার মেয়েকে মেরে ফেলতে আসামিরা তাকে অপহরণ করে।
তিনি বলেন, আমি অশিক্ষিত গরীব মানুষ, টাকা পয়সা নেই। ন্যায়বিচারের জন্য কোথায় যেতে হবে, সেটাও জানি না। থানায় মামলা করেছি। আমি আমার মেয়ের ওপর অন্যায়কারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। মামলা করার পর থেকে তাদের লোকজনের হুমকিতে আমাদের জীবন অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।
আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, অভিযোগ পাওয়ামাত্র আমরা ঘটনা তদন্ত করে রাতেই মামলা নথিভুক্ত করেছি। আজ (বুধবার) ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতেলে পাঠিয়েছি। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
২৩ দিন আগে
জামালপুরে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে ৭ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: বকশীগঞ্জ উপজেলার রাশেদুর রহমান, বিজু মিয়া, বাদশা মিয়া, জসিম মিয়া, আজমত আলী, মনিরুজ্জামান ও আশরাফুল ইসলাম। তাদের বাড়ি বকশীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করা হয়।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৫ মে রাতে অটোরিকশায় চড়ে ঝগড়ারচর বাজার থেকে জানকীপুর মাজালিয়ায় বাড়ি ফিরছিলেন ওই গৃহবধূ। পথে নিলক্ষিয়া বাজারের কাছে অটোরিকশাচালকের সহায়তায় কয়েকজন তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে একটি নির্জন বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তারা ভুক্তভোগীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন।
পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাত সাড়ে ৪টার দিকে তার স্বামী নিলক্ষিয়া বাজার এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় বকশীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করা হয়।
তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিজ্ঞ বিচারক ৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। একই মামলায় ইদ্রিস আলী নামে এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ফজলুল হক। আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মোকাম্মেল হক।
২৫ দিন আগে
যশোরে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে আটক ১
যশোরের মনিরামপুরে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে (৪০) আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (৪ জুলাই) সকালে পৌরসভার জয়নগর জামতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক ওই ব্যাক্তি জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ওই শিক্ষার্থীকে উত্যক্ত করছিলেন। গতকাল (শনিবার) সকালে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে ভুক্তভোগীকে একা পেয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরে ভুক্তভোগী বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ভাই বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেছেন।
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, অভিযোগের পরপরই একজনকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
২৬ দিন আগে