ধর্ষণ
ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা
রংপুরের কাউনিয়ায় শরীর ম্যাসাজের কথা বলে কক্ষে ডেকে এক ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে আজিজুল হাকিম (২৪) নামের এক মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পলাতক।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় মামলাটি করেন।
অভিযুক্ত আজিজুল হাকিম রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমপাড়া নাটারাম এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও ভুক্তোভোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে কাউনিয়া উপজেলার একটি মাদরাসায় আবাসিক শিক্ষার্থীরা খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। এ সময় শিক্ষক আজিজুল তার শরীর ম্যাসাজ করে দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগী ছাত্রকে তার কক্ষে ডেকে নেন। একপর্যায়ে তিনি ওই ছাত্রকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি গোপন রাখতে তিনি ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখান বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এরপর গত সোমবার রাতে আবারও ওই ছাত্রকে কক্ষে ডেকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন আজিজুল। এ সময় টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে সে বাড়িতে চলে যায়।
ভুক্তভোগী তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানালে তারা ওই রাতেই মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়।
তবে আপস-মীমাংসার কথা বলে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবকরা বলছেন, মাদরাসা কর্তৃপক্ষ গতকাল (মঙ্গলবার) সকালে সালিশ করার আশ্বাস দিয়ে তাদের বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। পরে অভিযুক্তকে মাদরাসা পরিচালকের ছেলের জিম্মায় রেখে অন্য শিক্ষকরা ক্লাসে চলে যান। এই সুযোগে তাকে গোপনে সরিয়ে দেওয়া হয়।
মাদরাসা পরিচালকের ছেলে রায়হান বলেন, সকালে সবার অগোচরে ওই শিক্ষক পালিয়ে গেছেন। তাকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
ভুক্তভোগী ছাত্রের ভাষ্য, শিক্ষক আজিজুল প্রায়ই রাতে তাকে শরীর ম্যাসাজের কথা বলে কক্ষে ডাকতেন। এমনকি তাকে বাঁশের লাঠি, রড ও পাইপ দিয়ে মারধরও করতেন। সোমবার রাতেও একইভাবে তাকে ডেকে নেন। পরে টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে সেখান থেকে বের হয়ে বাড়িতে চলে যায় সে।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিহাব উদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মাদরাসা শিক্ষক আজিজুল হাকিমের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
৩ দিন আগে
নড়াইলে মাদরাসার ৬ ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার
নড়াইলে ডুমুরতলা তাফসীর উদ্দিন হাফেজিয়া মাদরাসায় ৬ শিশু ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে মাহাবুবুর রহমান (২৫) নামের এক মাদরাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুণ্ডু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার মাহাবুবুর রহমান সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, গত ২৭ আগস্ট দিবাগত মধ্যরাতে নড়াইল পৌর এলাকার ডুমুরতলা তাফসীর উদ্দিন হাফেজিয়া মাদরাসায় অভিযুক্ত শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান এক ছাত্রকে ধর্ষণ করেন। পরের দিন ভুক্তভোগী ছাত্রের মা ওই মাদরাসায় গেলে ভুক্তভোগী শিশু তার মাকে ঘটনা জানায়। পরে শিশুটি ও তার মা মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে ধর্ষণের বিষয়টি জানান। এ সময় মাদরাসায় থাকা আরও ৫ শিশুকে ওই শিক্ষক ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ করে ভুক্তভোগীরা। ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযুক্ত শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান পালিয়ে যান।
এরপর গতকাল (শনিবার) নড়াইল সদর থানায় ভুক্তভোগী এক ছাত্রের মা বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার পর ওই দিন দিবাগত রাতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মাহাবুবর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ বিষয়ে অজয় কুমার কুণ্ডু বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে শনিবার রাতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
৬ দিন আগে
নাটোরে শিশু ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন
নাটোরের সিংড়ায় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে আবু বকর সিদ্দিক (২১) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নাটোরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা জজ শারমিন আখতার এ রায় দেন।
রায়ে আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে তা আদায় করে তা ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আব্দুল কাদের মিয়া জানান, গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি সিংড়া উপজেলার বিজয়নগর গ্রামের তৃতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে রাস্তা থেকে তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে একই এলাকার বখাটে যুবক আবু বকর সিদ্দিক।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতা ইমরান আলী বাদী হয়ে সিংড়া থানায় মামলা করলে তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। ঘটনার মাত্র দেড় বছরের মধ্যে নিম্ন আদালতে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করা হয় বলে জানান বিশেষ পিপি।
৬ দিন আগে
ফরিদপুরে কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে দুই যুবকের যাবজ্জীবন
ফরিদপুরে এক কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সুমন মোল্লা (১৯) ও উসমান বেপারী নামে দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপর আসামি রিয়াজ বেপারীকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া অপর একটি ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পলাতক আসামি রাসেল মণ্ডলকেও যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ওই আদালত।
রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত সুমন মোল্লা ও উসমান বেপারী ফরিদপুর সদর উপজেলার চর দুর্গাপুর হাজীডাঙ্গী এলাকার বাসিন্দা। আদালত তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন। অর্থদণ্ডের টাকা অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর বিকেলে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থানাধীন দৌলতদিয়া ঘাটে যায় ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরী। সেখানে পরিচিত এক যুবকের সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা থাকলেও তিনি না আসায় কিশোরী তার আত্মীয় রিয়াজ বেপারীকে বিষয়টি জানান। পরে রিয়াজ মোটরসাইকেলে করে তাকে ফরিদপুরে নিয়ে আসেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, রিয়াজের মাধ্যমে কিশোরীকে ফরিদপুরের ভাটিলক্ষ্মীপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে সুমন ও উসমান তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে কিশোরীকে মোটরসাইকেলে করে অন্যত্র রেখে পালিয়ে যান তারা।
বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানানোর পর কিশোরীর মা বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর ফরিদপুর কোতয়ালি থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত সুমন ও উসমানকে দোষী সাব্যস্ত করেন। তবে রিয়াজ বেপারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়।
এদিকে, অপর একটি ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় পলাতক আসামি রাসেল মণ্ডলকেও যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন একই আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী রতন বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন। অপর আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া অপর একটি ধর্ষণ মামলায় পলাতক আসামি রাসেল মণ্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।
২০ দিন আগে
লালমনিরহাটে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে ক্লিনিক পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ইউসুফ আলী (৪৫) নামে এক ক্লিনিক পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে কালীগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর মা।
অভিযুক্ত ইউসুফ আলী উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের কাঞ্চনশ্বর কানার বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি রংপুর নিউ রূপসী বাংলা ক্লিনিকের পরিচালক।
মামলার এজাহার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিজ ক্লিনিকে প্রতিবেশী এক পোশাক শ্রমিক ও তার পরিবারের চিকিৎসার সুবাদে ওই পরিবারের সঙ্গে ইউসুফ আলীর সখ্যতা গড়ে ওঠে। ওই পোশাক শ্রমিক কাজের সুবাদে ঢাকায় থাকেন এবং তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে থাকেন।
গেল বৃহস্পতিবার ওই পরিবারের এক শিশু অসুস্থ হওয়ায় তাকে নিয়ে তার মা ও খালা লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে যান। তখন দম্পতির মেয়ে অষ্টম শ্রেণির স্কুলছাত্রী বাড়িতে একা ছিল। এ খবর জানতেন ইউসুফ আলী।
সেদিন স্কুলছাত্রীটি বাড়িতে একা থাকায় তার মায়ের নম্বর নেওয়ার কথা বলে ইউসুফ আলী তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এরপর বাড়ির গেট ও ঘরের দরজা বন্ধ করে তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
পরে তার মুখ খুলে দিলে মেয়েটি চিৎকার দিতে চেষ্টা করলে তাকে মারপিট করে মেরে ফেলার হুমকি দেন ইউসুফ। পরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়িতে ফেলে রেখে চলে যান তিনি।
পরে ওই স্কুলছাত্রী মোবাইল ফোনে তার মাকে বিষয়টি জানায়। প্রথমে তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
মামলার বাদী ভুক্তভোগীর মা বলেন, ‘আমার নিষ্পাপ মেয়ের জীবন যে নষ্ট করেছে তার ফাঁসি চাই। আমরা গরিব মানুষ। আসামিরা প্রভাবশালী, তারা নাকি টাকা দিয়ে সব কিনে ফেলেছে। তাই তাকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আমি টাকার অভাবে অসুস্থ মেয়ের দুইটা টেস্ট করাতে পারিনি। ওষুধ কেনারও টাকা নেই।’
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক বলেন, ‘বাদীর এজাহার নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
২২ দিন আগে
যশোরে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
যশোরের শার্শায় ১১ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মকছেদ আলী (৫৫) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে শার্শা থানায় মালমা করেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা।
গ্রেপ্তার মকছেদ আলী উপজেলার মহিষা মোল্লাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, গত ১২ আগস্ট বিকেলে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর শিশুটি খেলতে বের হয়। এ সময় মকছেদ আলী টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে গ্রামের একটি ঘেরের পাড়ে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন তিনি। পরে শিশুটিকে ২০ টাকা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ভয়ে ভুক্তভোগী শিশুটি প্রথমে পরিবারের কাউকে বিষয়টি জানায়নি। এরপর সে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে এক প্রতিবেশী নারীর কাছে ঘটনাটি জানায়। পরে ওই নারীর কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে শিশুটির বাবা তার মেয়ের কাছে ঘটনার বিস্তারিত শোনেন। পরে গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে ভুক্তভোগীর বাবা মামলা করেন। মামলা পর আজ (বুধবার) সকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ মকছেদ আলীকে গ্রেপ্তার করে।
ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটির প্রতিবেশী এবং শিশুটি তাকে চাচা বলে ডাকত।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, শিশু ধর্ষণের অভিযোগে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ দুপুরে তাকে যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
২৪ দিন আগে
হাসপাতাল থেকে ডেকে নিয়ে বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ২
ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল থেকে ৬০ বছর বয়সী এক নারীকে খাবার খাওয়ানোর কথা বলে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে প্রলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (সোমবার) দিবাগত রাত ৩টার দিকে হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ড থেকে ওই নারীকে খাবার খাওয়ানোর কথা বলে বাইরে ডেকে নেওয়া হয়। পরে মোটরসাইকেলে করে তাকে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একাধিক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই ভুক্তভোগী।
ভোরে ওই নারী হাসপাতালে ফিরে এসে কান্নাকাটি শুরু করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে এবং বিষয়টি ঝালকাঠি সদর থানাকে জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং তদন্ত শুরু করে।
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাসুম ইফতেখার জানান, ভুক্তভোগী নারী হাসপাতালের ভর্তি রোগী ছিলেন না। ঘটনার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঝালকাঠি সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মেহেদী হাসান বলেন, ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুইজনকে আটক করা হয়েছে ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩২ দিন আগে
ফরিদপুরে শিশুধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন
ফরিদপুরের সালথায় ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ মামলায় শওকত মিয়া (৩৮) নামে এক ব্যাক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আবুল বাসার আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর পুলিশ পাহারায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত শওকত মিয়া ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বড় বাংরাইল গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২২ মে বিকেলে সালথা উপজেলার বড় বাংরাইল গ্রামের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ৯ বছরের ওই শিশুটি বাড়ির পাশে নিজেদের শাক-সবজির (ডাটা) খেত দেখতে গিয়েছিল। এ সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা প্রতিবেশী শওকত মিয়া শিশুটিকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পাশের একটি নির্জন পাটখেতে নিয়ে ধর্ষণ করেন।
পরে শিশুটির রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থা দেখে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ‘ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার’ (ওসিএসি)-এ ভর্তি করান। ঘটনার পরদিনই ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে সালথা থানায় শওকত মিয়াকে একমাত্র আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা করেন।
এরপর তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর সালথা থানা পুলিশ আসামি শওকত মিয়াকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় সাক্ষী গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে দীর্ঘ ৬ বছর পর আদালত আজ এ রায় প্রদান করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট অর্চনা দাস বলেন, ‘একটি অবুঝ শিশুকে নির্যাতন করে যে নৃশংসতা চালানো হয়েছিল, আজকের এই রায়ের মাধ্যমে তার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো। এই শাস্তি সমাজে অপরাধীদের মনে ভীতি সঞ্চার করবে এবং শিশু সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা এ রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট।’
৫১ দিন আগে
নড়াইলে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে আটক ১
নড়াইল সদর উপজেলায় পাঁচ বছর বয়সী জান্নাতুল নামে এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে (৩৫) আটক করেছে সদর থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের দত্তপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ ওঠে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
নিহত শিশুর স্বজনরা অভিযোগ করেন, ওই ব্যক্তি ঘরের ভেতর শিশুটিকে কাঁথা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় দেখতে পান। তিনি মেয়েটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছেন বলে দাবি তাদের।
এ ঘটনায় অভিযুক্তকে আজ (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দত্তপাড়া এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজন আটক করে পিটুনি দেন। পরে খবর পেয়ে নড়াইল সদর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি থানা হেফাজতে রয়েছেন।
ওসি অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, আটক ওই ব্যক্তিকে থানা হাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৫৩ দিন আগে
জামালপুরে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন
জামালপুরে এক কিশোরীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের মামলায় ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আব্দুর রহিম আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। আসামিদের উপস্থিতিতেই বিচার কার্য সম্পন্ন হয়।
মামলার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর সকাল ৭টার দিকে জামালপুর সদর উপজেলার ভারুয়াখালী হরিপুর গ্রামের কবির হোসেনের কিশোরী কন্যা প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। এ সময় বাড়ির পাশের রাস্তায় প্রাইভেটকার নিয়ে ওঁৎ পেতে থাকা শামীমের নেতৃত্বে ৩ থেকে ৪ জনের একটি দল তাকে অপহরণ করে নিয়ে যান। তারা ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে ধর্ষণ করেন। সে সময় ভুক্তভোগী ভারুয়াখালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা কবির হোসেন ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি জামালপুর সদর থানায় অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা করেন। সেই মামলায় আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলায় আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. জাবেদ আলী।
৫৪ দিন আগে