ধর্ষণ
যশোরে সাত বছরের শিশু ‘ধর্ষণ’, অভিযুক্ত নানা পলাতক
যশোরে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৭ বছরের এক শিশুকে ভাড়া বাসায় নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২ মার্চ) রাত ৯টার দিকে যশোর মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে শিশুটি যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। শিশুটি যশোর শহরের নাজির শংকরপুর ৩৯ নম্বর হাজারী গেট এলাকায় তার নানি বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করত। সোমবার রাত ৯টার দিকে শিশুটির নানির আপন ভাই হাফিজুল (৪০) বেড়ানোর কথা বলে শিশুটিকে যশোর মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন আফজালের ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় বলে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন।
আজ মঙ্গলবার সকালে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা তাকে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাক্তার হাবিবা সুলতানা ফোয়ারা জানান, শিশুটির ভ্যাজাইনাল ইনজুরি লক্ষ্য করা গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে শারীরিক আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং মেডিকেল প্রতিবেদন হাতে পেলে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।
অভিযুক্ত হাফিজুল সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে যশোর মেডিকেল কলেজ এলাকায় ভাড়া থাকেন। ঘটনার পর থেকেই হাফিজুল পলাতক রয়েছেন।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ জানান, পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। মেডিকেল প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাফিজুলকে আটকের চেষ্ট চলছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
৪ দিন আগে
নরসিংদীতে কিশোরীকে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ-হত্যা: ৭ আসামি রিমান্ডে
নরসিংদীতে কিশোরীকে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরাসহ গ্রেপ্তার ৭ আসামির ৮দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রবিবার (১ মার্চ) জুডিশিয়াল দ্বিতীয় আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান এই আদেশ দেন।
এর আগে, গত শুক্র ও শনিবার দুদিনে ৭ আসামির ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওমর কাইয়ুম। এরপর আজ (রবিবার) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নরসিংদী জজ কোর্টের দ্বিতীয় জুডিশিয়াল আদালতে তোলা হয় ওই ৭ আসামিকে।
এদিন বাদীপক্ষ স্বপ্রণোদিত হয়ে আইনজীবী আদালতে দাঁড়ালেও আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী আদালতে দাঁড়াননি।
ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা থেকে শুক্রবার দিবাগত রাতে নূরা এবং একই সময়ে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে হযরত আলীকে গ্রেপ্তার করে নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এর মাধ্যমে নিয়ে কিশোরীর মা ফাহিমা বেগমের করা মামলায় ৯ জন আসামির মধ্যে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
তার আগে, গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে কিশোরী আমিনার বাবার কাছ থেকে নূরার নেতৃত্বে একটি চক্র তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে মাধবদী থানার কোতালিরচর দড়িকান্দি এলাকার একটি সরিষাখেত থেকে গলায় ওড়না পেচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মামলার এজহারের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্ষণের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ৪ জন এবং বিচারকাজে সহায়তাকারী সাবেক মেম্বারসহ ৩ জন নিয়ে মোট ৭ আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। বাকী দুই পলাতক আসামিকেও দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
৬ দিন আগে
গাইবান্ধায় উপবৃত্তির প্রলোভনে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, মাদরাসা অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় উপবৃত্তির প্রলোভন দেখিয়ে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ করে তা প্রকাশ করে দেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগে এক মাদরাসার অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মো. রঞ্জু মিয়া (৫৫) উপজেলার গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের খড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় পণ্ডিতপুর আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ছাত্রী গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের জরিপপুর গ্রামের বাসিন্দা। চার মাস আগে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হন। ভর্তির পর থেকেই অধ্যক্ষ রঞ্জু মিয়া ওই ছাত্রীর পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার অজুহাতে তার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন এবং তাকে সরকারি উপবৃত্তি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
গত ১৮ ডিসেম্বর সকালে অধ্যক্ষ ওই ছাত্রীকে ফোন করে জানান, উপবৃত্তি ফরমে স্বাক্ষর করার জন্য জরুরিভিত্তিতে তার পান্থাপাড়ার বাসায় যেতে হবে। অধ্যক্ষের কথায় মেয়েটি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার বাসায় যান। সেখানে কেউ না থাকার সুযোগে রঞ্জু মিয়া তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ সময় অত্যন্ত কৌশলে মোবাইল ফোনে ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ধারণ করে রাখেন তিনি। পরবর্তীতে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় ।
গতকাল আবারও গোপন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে মেয়েটিকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন তিনি। পরে বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী বাড়িতে গিয়ে তার মা-বাবার কাছে বিষয়টি খুলে বলেন। পরিবারের পরামর্শে অবশেষে মেয়েটি নিজে বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার পর পুলিশ দ্রুত অভিযানে নামে। গতকাল (শুক্রবার) রাতে তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ।
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। আমরা রাতেই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। আসামিকে আজ (শনিবার) আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে।
৭ দিন আগে
পাবনায় দাদিকে হত্যা করে নাতনিকে ‘ধর্ষণের পর হত্যা’
পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলায় দাদিকে কুপিয়ে হত্যার পর নাতনিকে অপহরণ ও ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতের কোনো একসময় উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ভবানিপুর উত্তরপাড়া গ্রামের নজিমুদ্দিনের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও তার নাতনি জামিলা আক্তার (১৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মধ্যরাতে হঠাৎ কান্নাকাটির আওয়াজ শুনে প্রতিবেশীরা ঘর থেকে বের হলেও কিছুক্ষণ পর শব্দ থেমে যাওয়ায় তারা আবারও নিজ নিজ ঘরে ফিরে যান। সকালে বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। এ সময় নাতনি জামিলাকে বাড়িতে খুঁজে না পাওয়া গেলেও পরে পার্শ্ববর্তী একটি সরিষাখেত থেকে তার বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্বজন ও এলাকাবাসীর ধারণা, জামিলাকে অপহরণের পর ধর্ষণ শেষে হত্যা করেছে ঘাতকরা। পরে মরদেহ সরিষাখেতে ফেলে রেখে গেছে তারা।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকালে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কী কারণে এই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৭ দিন আগে
নরসিংদীতে ধর্ষণের পর হত্যা: আটক ৫
নরসিংদীর মাধবদীতে আমেনা আক্তারকে (১৫) জোরপূর্বক তুলে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মাধবদী থানায় সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিং করেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। তিনি জানান, এ ঘটনায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে নিহতের মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে মাধবদী থানায় মামলা করেছেন।
ডিআইজি রেজাউল করিম বলেন, ইতোমধ্যে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। আটকরা হলেন— সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য আহম্মদ আলী দেওয়ান, তার ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান, নূরের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আইয়ুব, এবাদুল্লাহ ও গাফফার। তাদের মধ্যে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত ২ জন এবং সালিশকারী ৩ জন।
তিনি আরও বলেন, বাকিদের আটকের জন্য অভিযান চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাদের আটক করব। কোনো অপরাধীরাই রেহাই পাবেন না।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন বলেন, কিশোরীকে নৃশংস ও নিষ্ঠুরভাবে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানার পরপরই নরসিংদীর পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে হত্যায় জড়িতদের দ্রুত আটকের নির্দেশ দিয়েছি। যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত, যাতে এ ধরনের ঘটনা সমাজে আর না ঘটে।
তিনি আরও বলেন, ধর্ষণকারীদের পক্ষে যাতে কেউ কোনো সহানুভূতি না দেখায় এবং নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যারা এ নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড এবং ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত তাদের যেন কোনো ধরনের আইনি সহায়তা না দেওয়া হয়; যাতে অপরাধীরা বুঝতে পারে, অপরাধ করলে আইনি সহায়তা পাওয়া যাবে না; তখন ভয়ে সমাজে অপরাধও কমে যাবে।
খায়রুল কবির আরও বলেন, আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। যারা সমাজে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হবেন অবশ্যই তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। কে কোন দল করে, কে কোন দলের, কোন মতের—সেটা দেখার বিষয় না। অপরাধীদের কোনো দল নেই, তারা অপরাধী; অপরাধী হিসেবেই চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স, অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে, নিহত আমেনার ময়নাতদন্ত নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে সম্পন্ন হয়েছে। নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. ফরিদা গুলশানারা কবিরের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের মেডিকেল-বোর্ড ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছেন।
নিহতের মা ফাহিমা বেগম জানান, কোথায় মরদেহ দাফন করা হবে, তা অনিশ্চিত। নিহত আমেনার মা, সৎ পিতা আশরাফ মিয়া ও ভাই সিফাত এখনও মাধবদী থানা হেফাজতে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে মাধবদী থানার মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষাখেত থেকে গলায় ওড়না পেচানো অবস্থায় ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, নিহতের পিতা আশরাফ হোসেন বরিশালের বাসিন্দা। কাজের সুবাদে স্ত্রী-কন্যাসহ মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরার নেতৃত্বে ৫-৬ জনের একটি দল এলাকা থেকে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসাও করা হয়।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে আশরাফ হোসেন তার কাজ শেষে মেয়েকে নিয়ে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছলে নূরার নেতৃত্বে আবারও ৫ জন মিলে তার বাবার কাছ থেকে আমেনাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান। পরে মেয়েটির পরিরেরর লোকজন বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুজির পরও না পেয়ে বাড়ি ফিরে যান। সকালে একই এলাকার একটি সরিষাখেত থেকে গলায় ওড়না পেচানো অবস্থায় আমেনা আক্তারের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে নিহত মেয়ের বাবা মো. আশরাফ জানান, নূরার নেতৃত্বে ৫-৬ জন লোক আমার সামনে থেকে আমার মেয়েকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করে রাতে আর পাইনি। সকালে আমরা জানতে পারি আমেনার মরদেহ ঘটনাস্থলে পড়ে আছে। আমার সন্তানকে যারা হত্যা করেছে আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
৮ দিন আগে
বাবার কাছ থেকে তরুণীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ, পরে হত্যার অভিযোগ
নরসিংদীর মাধবদীতে আমেনা আক্তার (১৫) নামে এক তরুণীকে তার বাবার কাছ থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে মাধবদী থানার মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষাখেত থেকে গলায় ওড়না পেচানো অবস্থায় ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, নিহতের পিতা আশরাফ হোসেন বরিশালের বাসিন্দা। কাজের সুবাদে স্ত্রী-কন্যাসহ মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরার নেতৃত্বে ৫-৬ জনের একটি দল এলাকা থেকে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসাও করা হয়।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে আশরাফ হোসেন তার কাজ শেষে মেয়েকে নিয়ে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছলে নূরার নেতৃত্বে আবারও ৫ জন মিলে তার বাবার কাছ থেকে আমেনাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান। পরে মেয়েটির পরিরেরর লোকজন বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুজির পরও না পেয়ে বাড়ি ফিরে যান। সকালে একই এলাকার একটি সরিষাখেত থেকে গলায় ওড়না পেচানো অবস্থায় আমেনা আক্তারের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে নিহত মেয়ের বাবা মো. আশরাফ জানান, নূরার নেতৃত্বে ৫-৬ জন লোক আমার সামনে থেকে আমার মেয়েকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করে রাতে আর পাইনি। সকালে আমরা জানতে পারি আমেনার মরদেহ ঘটনাস্থলে পড়ে আছে। আমার সন্তানকে যারা হত্যা করেছে আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, মেয়েটির সঙ্গে নূরার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এটি মেয়েটির পরিবার মেনে নেয়নি। গতকাল (বুধবার) তাকে বাবার কাছ থেকে নূরা তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল বলে জেনেছি। পরে সকালে মেয়েটির মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অপরাধীদের খুঁজে বের করতে কাজ করছে পুলিশ। ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন হিসেবে একজনকে আটক করা হয়েছে। ধর্ষণের বিষয়টি তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।
৯ দিন আগে
কামরাঙ্গীরচরে দেড় যুগ আগের ধর্ষণ মামলায় আসামিদের যাবজ্জীবন
প্রায় ১৭ বছর আগে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের আশ্রাফাবাদে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় চার যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় দেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন— শহিদুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, নিজাম এবং মনির হোসেন ওরফে সেন্টু।
সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এরশাদ আলম (জর্জ) সাজার তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল। অপর তিন আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ২৫ বছর বয়সে ওই তরুণী তার বান্ধবীর সঙ্গে কামরাঙ্গীরচর থানাধীন আশ্রাফাবাদে ময়দার মিলের পাশের নৌকা ঘাটে বেড়িবাঁধে বেড়াতে বের হয়েছিলেন।
একপর্যায়ে তার বান্ধবী তাকে রেখে বাসায় চলে যায়। তার বান্ধবী চলে যাওয়ার পর ঐদিন সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে মো. শহিদুল, মো. সাইফুল, মো. নিজাম, সুজন, মো. পলাশ এবং মো. সেন্টু জোরপূর্বক তার প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে একটি নৌকায় ওঠায়। এরপর বুড়িগঙ্গা নদীর মাঝখানে নিয়ে মাঝিকে নদীর মধ্যে ফেলে দেন।
পরে নৌকার মধ্যে আসামিরা পালাক্রমে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন। তারপর তারা ওই নারীকে ছালাম কন্ট্রাকটারের বাড়ির একটি রুমের মধ্যে তালাবদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে তার বাবা-মা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করান।
ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ৩১ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা কামরাঙ্গীরচর থানার উপপরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম শিকদার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
১৩ দিন আগে
বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার হিরো আলম
আলোচিত কন্টেন্ট নির্মাতা আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমকে বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শাজাহানপুর উপজেলার ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের মাঝিড়া বন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–১ এ হাজির করা হলে পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তার গতিবিধির ওপর নজরদারি চলছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে মাঝিড়া বন্দরের কাছে তার অবস্থান নিশ্চিত হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মহাসড়কে ব্যারিকেড দেন। একপর্যায়ে ধাওয়া দিয়ে গাড়ি থামিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। গত ১০ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–১-এর বিচারক আনোয়ারুল হক তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন। তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করলে বিচারক অভিযোগটি আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আদেশ দেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সাদিয়া রহমান মিথিলাকে নায়িকা বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে হিরো আলম বিয়ের আশ্বাস দেন। পরে তাকে ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন এবং গর্ভপাত করাতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগ অস্বীকারের পর ২১ এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
তদন্ত সূত্র জানায়, মামলার প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের কিছু সত্যতা পাওয়া গেছে বলে পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
১৬ দিন আগে
খাগড়াছড়িতে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ: চলছে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ, এলাকাজুড়ে থমথমে অবস্থা
স্কুলছাত্রী ধর্ষণের প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চলছে, বন্ধ রয়েছে সব ধরনের যানবাহন চলাচল। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। এ ছাড়া অবরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতার পর এলাকাজুড়ে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। কেউ বের হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশির মুখে পড়ছেন। এমনকি শহরতলীর দোকানপাটও খোলেনি।
আজ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। গতকাল (শনিবার) সড়কে পিকেটারদের দেখা গেলেও আজ তা চোখে পড়ছে না।
তবে জেলা শহরসহ আশপাশ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। সেনাবাহিনী টহলের পাশাপাশি ৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।
এর আগে, শনিবার খাগড়াছড়ি পৌরসভা, সদর উপজেলা ও গুইমারায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।
আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে চলমান অবরোধের মধ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি
খাগড়াছড়ির জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি থাকবে।
প্রসঙ্গত, এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে খাগড়াছড়ি পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সিঙ্গিনালায় প্রাইভেট পড়া শেষে বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষণের শিকার হন ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রী। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে খাগড়াছড়ি সদর থানায় মামলা করেন।
পরদিন সকালে সেনাবাহিনীর সহায়তায় সন্দেহভাজন যুবক শয়ন শীলকে (১৯) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শয়ন শীলকে গ্রেপ্তার করা হলেও বাকি দুইজন এখনো পলাতক রয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে জুম্ম ছাত্র জনতা ২৪ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে এবং পরদিন (২৫ সেপ্টেম্বর) খাগড়াছড়ি জেলায় অর্ধদিবস অবরোধ কর্মসূচি পালন করে।
অবরোধে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় সাজেকে প্রায় দুই হাজার এবং রাঙামাটি শহরে সহস্রাধিক পর্যটক আটকা পড়েন। আটকে পড়া পর্যটকদের রাতেই খাগড়াছড়িতে নিয়ে আসা হয়। তাদের অনেকেই ফিরে গেছেন গন্তব্যে।
১৬০ দিন আগে
তেঁতুলিয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্ত জামায়াত কর্মী গ্রেপ্তার
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় মাদ্রাসাছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ ও অপহরণের অভিযোগে জামাল উদ্দিন (৪৫) নামে এক জামায়াত কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকালে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠিয়েছে তেঁতুলিয়া মডেল থানার পুলিশ ।
এর আগে গতকাল শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে ওই ভুক্তভোগী মাদ্রাসা ছাত্রীর নানী বাদী হয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
পরে রাতেই উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নের ঠুনঠুনিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে জামাল উদ্দিনকে আটক করা হয়।
জানা গেছে, আটক জামাল উদ্দিন একই এলাকার আলী হোসেনের ছেলে।
স্থানীয়রা বলছেন, আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও ৫ আগস্টের পর জামাল উদ্দিন জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। তিনি ঠুনঠুনিয়া মসজিদের ক্যাশিয়ার ছিলেন। ঘটনার পর মসজিদের দায়িত্ব থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, মায়ের মৃত্যুর পর মাদ্রাসার ওই ছাত্রী ছোট থেকেই নানীর বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। স্থানীয় একটি নুরানী মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতেন তিনি।
গত ১৭ জানুয়ারি সকালে ওই মাদ্রাসার ছাত্রী তার নানীর বাড়ির পাশে অভিযুক্ত জামাল উদ্দিনের বাড়িতে ফ্রিজ থেকে মুরগির মাংস আনতে যায়।
সাবেক ভূমিমন্ত্রীর গাড়িচালকের বাড়ি থেকে ২৩ বস্তা নথি জব্দ
এ সময় জামাল উদ্দিনের বাড়িতে লোকজন না থাকায় ওই ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দেয়। েএতে ওই মাদ্রাসার ছাত্রী অস্বীকৃতি জানালে জামাল উদ্দিন ক্ষিপ্ত ও রাগান্বিত হয়ে ওই মাদ্রাসার ছাত্রীকে জোর করে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।
এভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে দীর্ঘদিন ধরে বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করেন জামাল উদ্দিন এবং একপর্যায়ে ওই মাদ্রাসা ছাত্রী অন্তঃস্বত্বা হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় সামাজিক বিচার শালিশও হয়।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, আসামি জামাল উদ্দিন ঘটনার দায় স্বীকার করলেও পরে তিনি তার স্ত্রী ও ভাইসহ আসামিদের সহযোগিতায় ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
গত ১৪ জুন সকালে ভিকটিমকে জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। মীমাংসার আশ্বাসে পরে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে তার পরিবার। এ ঘটনায় মাদ্রাসার ওই ছাত্রী বিচার না পাওয়ায় তার নানী মামলা দায়ের করলে রাতেই পুলিশ জামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে।
ঠুনঠুনিয়া এলাকার এক বাসিন্দা জানান, জামাল জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছে। এ ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর তাকে সম্ভবত দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গ্রামের মসজিদের দায়িত্ব থেকে তাকে বাদ দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইকবাল হোসাইনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
এজাহারে জামাল উদ্দিন ছাড়াও আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুসা মিয়া জানান, আসামি জামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
১৬৭ দিন আগে