ধর্ষণ
শিশু নন্দিনী হত্যা ঘিরে রণক্ষেত্র আদিতমারী, এসপি-ওসিসহ আহত অন্তত ২০
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে সাত বছরের শিশু নন্দিনী কান্ত রায়ের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিয়ে নিজেরাই বিচার করার দাবিতে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় পুলিশ সুপার (এসপি), থানার ওসিসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় জেলা প্রশাসকের গাড়িসহ প্রশাসনের সাতটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ঘটনায় অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র রায় (২২) ও তার বাবা রণজিৎ কুমারকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নন্দিনী ওই গ্রামের নলিনী কান্তের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকাল থেকে নিখোঁজ ছিল নন্দিনী। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। আজ (মঙ্গলবার) সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাখেতে নরম মাটি দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এরপর স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, সোমবার সন্ধ্যায় তিনি বিধান চন্দ্রকে ওই ভুট্টাখেত থেকে কোদাল হাতে বের হতে দেখেছিলেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয়রা তার বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা বিধানকে আটক করেন। পরে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
২ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে ১১ বছরের শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণ, গোপন না রাখলে প্রাণনাশের হুমকি
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার ঘুড়কা এলাকার এক স্কুলছাত্রীকে (১১) ধর্ষণের অভিযোগে আবু হানিফ শেখ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে তাকে আটক করে ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা। এরপর পুলিশ গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গ্রেপ্তার হানিফ শেখ ওই গ্রামেরই বাসিন্দা।
এ ঘটনায় গতকাল (রবিবার) রাতেই সলঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, হানিফ ওই স্কুলছাত্রীকে গতকাল (রবিবার) বিকেলে ডেকে গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এর আগেও তিনি শিশুটিকে ধর্ষণ করেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার কথা কাউকে জানালে শিশুটিকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। এ কারণে ভয়ে এত দিন সে বিষয়টি গোপন রেখেছিল।
তবে কিছুদিন ধরে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন ও অসুস্থতা বুঝতে পেরে তার মা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এরপর শিশুটি ঘটনার কথা জানায়।
গতকাল তার পরিবারের সদস্যরা কৌশলে হানিফ শেখকে আটকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে সলঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে। পরে মামলা হয়ে তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম আলী বলেন, এ ঘটনায় গতকাল রাতে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
৩ দিন আগে
যশোরে প্রবাসীর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ৩ যুবক গ্রেপ্তার
যশোরের শার্শা উপজেলার ছোট বসন্তপুর গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ৩ যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
সোমবার (১৫ জুন) ভোরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন—নিজামপুর ইউনিয়নের চান্দুড়িয়া ঘোপ গ্রামের হাসিব আল হাসান (১৯) এবং ছোট বসন্তপুর গ্রামের আব্দুর রহমান ইমন (২০) ও মেহেদী হাসান তুতুল (২১)।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৩ জুন রাতে এ ঘটনা ঘটে। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বাইরে বের হন ওই নারী। এ সময় একদল যুবক তাকে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। সে সময় ঘটনা কাউকে জানালে ভুক্তভোগীকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
পরে ভুক্তভোগী তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। ভুক্তভোগীর পরিবার এ ব্যাপারে শার্শা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ আজ (সোমবার) ভোরে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় জড়িত অপর দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, ‘ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি নির্জন মাঠে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিন আসামিকে সোমবার বিকেলে যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।’
৩ দিন আগে
সিলেটে ফাহিমা হত্যা মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি জাকির হোসেনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। চার্জশিটে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে জাকির হোসেন এবং মরদেহ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজুরুল আলম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গতকাল (বৃহস্পতিবার) আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এতে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া মরদেহ গুমে জাকিরকে সহযোগিতার জন্য তার দুই ভাইকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা সকলে ফাহিমার প্রতিবেশী। ঘটনার পরই জাকিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাবাসী দুই দফা জাকিরদের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়।
উল্লেখ্য, গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় ফাহিমা। দুই দিন পর ৮ মে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ১১ মে রাতে ফাহিমাকে হত্যার অভিযোগে প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তিনি পুলিশের কাছে এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
পরদিন ১২ মে সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ৬ মে সকালে ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট আনার জন্য পাঠায় জাকির। সিগারেট এনে দেওয়ার পর জাকির তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেয়। সে সময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। জিজ্ঞাসাবাদে জাকির জানিয়েছেন, সে সময় ঘরের দরজা বন্ধ করে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তবে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে গলা টিপে হত্যা করে জাকির। প্রথমে তিনি মরদেহ ঘরের ভেতরে একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখেন। পরে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় মরদেহ ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তবে মরদেহ পানিতে না ডোবায় সেটি পাশেই রেখে পালিয়ে যান জাকির।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাদর ও ব্রিফকেস উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামত জব্দ করে তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হবে।
এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় সিলেটজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ফাহিমা হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনে নামেন স্থানীয়রা। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি ফাহিমার বাড়িতে গিয়ে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।
৬ দিন আগে
শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: সোহেল রানা ও স্ত্রী স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি সোহেল রানাকে ৫ লাখ ও স্বপ্না খাতুন ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
রবিবার (৭ জুন) বেলা পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
এ সময় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কাছগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।
এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।
বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এত কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।
অবশ্য এর আগে তিন কার্যদিবসে মাদক মামলা নিষ্পত্তির নজির রয়েছে। আর গত বছর মাগুরায় আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন হয় ১৪ কার্যদিবসে। ওই মামলায়ও আসামির সর্বোচ্চ সাজার রায় আসে।
ঘটনা ঘটে গত ১৯ মে। সেদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে প্রতিবেশী সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে তাদের কক্ষে নিয়ে যায় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত রামিসা। সে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। একই ভবনের একটি সাবলেট কক্ষে থাকতেন সোহেল ও স্বপ্না। মামলার তদন্তে উঠে এসেছে, রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং দুই হাতও কাঁধের কাছ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, মরদেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয় এবং কাটা মাথা বাথরুমের একটি বালতিতে রাখা হয়। এরপর সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে সোহেল ও স্বপ্নার কক্ষের সামনে রামিসার স্যান্ডেল দেখতে পান তার মা। ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে মাথাবিহীন মরদেহ এবং বাথরুমের বালতিতে কাটা মাথা দেখতে পান তিনি। এ সময় স্বপ্না আক্তার কক্ষের ভেতরেই উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার দিন রাতেই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর ১৯ মে দিবাগত রাতে শিশুটির বাবা হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা করেন।
পরদিন আদালতে হাজির করার পর সোহেল রানা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান তার জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালত জবানবন্দি গ্রহণ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একইদিন পৃথক আবেদনের পর সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হক।
মামলাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দেশজুড়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি গুরুত্ব পায়। একটি জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানক এ ঘটনার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং সর্বোচ্চ শাস্তির কথা উল্লেখ করেন।
ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায়, ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অহিদুজ্জামান দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ওইদিনই ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত বলে মত দেন এবং তা ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একইদিন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।
এরপর ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হলেও মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে বিচারিক কার্যক্রম চালু রাখা হয়। আদালতের অবকাশকালীন কার্যক্রম সীমিত থাকলেও এ মামলার শুনানির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
১ জুন আদালত দুই আসামির উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন করেন। একই সঙ্গে ২ জুন বাদীসহ ১৮ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।
২ জুন মামলার বাদীসহ ১৬ জন সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দেন। আসামিদের উপস্থিতিতেই তাদের জেরা ও সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিচারক ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য করেন।
৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজের দায় স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অব্যাহতি চান। শুনানি শেষে বিচারক ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন।
৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল রহমান দুলু এবং রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মূসা কালিমুল্লাহ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত। অপরদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী সোহেল রানার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং স্বপ্না আক্তারের জন্য ৭ বছরের সাজা প্রার্থনা করেন।
সবশেষে আদালত আজ ৭ জুন রায়ের দিন ধার্য করেন। অভিযোগ গঠন থেকে যুক্তিতর্ক শেষ হওয়া পর্যন্ত পুরো বিচার কার্যক্রম মাত্র চার কার্যদিবসে সম্পন্ন হয়।
১২ দিন আগে
রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রায় ৭ জুন
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার নামে আট বছর বয়সী স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আগামী ৭ জুন (রবিবার) রায়ের দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এই দিন ধার্য করেন। এর আগে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু।
এদিন সকাল ৮টার দিকে সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে শুনানির সময় তাদের এজলাসে তোলা হয়।
এরপর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের যুক্তি উপস্থাপন করেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি আজিজুল রহমান দুলু আদালতে বলেন, সাক্ষীদের সাক্ষ্য, জব্দ আলামত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মূসা কালিমুল্লাহ আসামিদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন। একই সময়ে ভুক্তভোগী রামিসার পরিবারের পক্ষেও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।
এর আগে, গতকাল বুধবার আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে স্বপ্না খাতুন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান। এছাড়া সোহেল রানা আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, ‘স্যার, আমি নির্দোষ। খালাস চাই। আমাকে মাফ করে দেন। আমার সঙ্গে ডলার ছিল, সেটা কেউ দেখেনি। তাকে ধরেন স্যার, সেও তো দোষী।’
উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক ও শুনানি শেষে আদালত আগামী রবিবার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন।
গত মঙ্গলবার (২ জুন) এ মামলার গ্রহণ শেষ হয়। ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য নেন আদালত। একই আদালত সোমবার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ওইদিন সকালে পাশের ফ্লাটের বাসিন্দা ৩২ বছরের সোহেল শিশুটিকে গলা কেটে হত্যার পর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিলেন। পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে সন্ধ্যায় সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে সেদিনই পল্লবী থানায় মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত করে গত ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান দুইজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত অভিযোগপত্রটি দেখে বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় বদলির আদেশ দেন।
মামলাটি ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ওই দিনই বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।
১৫ দিন আগে
রামিসা হত্যা মামলায় নতুন মোড়, চাঞ্চল্যকর দাবি আসামি সোহেলের
রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার ঘটনায় এবার নতুন মোড় নেওয়ার চেষ্টা করছেন প্রধান আসামি সোহেল রানা। রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় ‘ডলার’ নামের অন্য এক ব্যক্তির ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছেন তিনি।
সোমবার (১ জুন) আলোচিত এই মামলায় গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জগঠন শুনানি শুরু হয়।
আজ (সোমবার) বেলা ১১টার পরে উভয়কে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে তোলার পর সাংবাদিকদের সামনে সোহেল রানা এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। একইসঙ্গে নিজের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের উদ্দেশে চিৎকার করে সোহেল রানা বলেন, ‘ধর্ষণ করছে, মারছে ডলার, ওরে ধরেন। ডলার দুই লাখ টাকা দিচ্ছে।’
নতুন নাম আসা এই ডলারের পরিচয় জানতে চাওয়া হলে সোহেল রানা জানান, ‘সে মিরপুর ১১ নম্বর রোডের এক বাড়ির অনেক টাকাওয়ালা লোক।’ এ সময় নিজের ডিএনএ টেস্ট না করিয়েই ‘অটোমেটিক’ সব লেখা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন এই আসামি।
এর আগে, সকাল পৌনে ৮টার দিকে কড়া পুলিশি পাহারায় আসামি সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় এনে রাখা হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের পর গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে অপরাধে সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। মামলাটিতে মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার দিনই মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি করা হয় এবং আদালত আজ চার্জ গঠনের শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। এর মাধ্যমে মামলার প্রাথমিক তদন্ত, ডিএনএ পরীক্ষা, অভিযোগপত্র দাখিল এবং তা আদালতে আমলে নেওয়ার প্রধান চারটি ধাপ শেষ হলো।
দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে মামলার রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু বলেন, মামলাটি যেন দ্রুত শেষ হয়, সে বিষয়ে তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করবেন এবং বাকি সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনাল নিবেন।
প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্রুত বিচারের আশ্বাসের ব্যাপারে তিনি কোনো রাজনৈতিক মন্তব্য না করে শুধু নিজের আইনি দায়িত্ব পালনের কথা জানান।
এদিকে, মামলার রায় ও তা কার্যকর করার প্রক্রিয়া নিয়ে ঢাকার জেলা লিগ্যাল এইডের নিয়মিত আইনজীবী রায়হানা নাজনীন জুঁই জানান, রামিসার মামলার রায় দ্রুত শেষ হবে মনে হলেও এটি কার্যকর করাটাই আসল চ্যালেঞ্জ যা মূলত উচ্চ আদালতে গিয়ে থমকে যায়। তবে নিম্ন আদালতের পর কারাগারের জেলার এবং প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ পেলে এটি দ্রুত শেষ হবে, না হলে ডেথ রেফারেন্স সংগ্রহসহ বিভিন্ন ধাপ শেষ করতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রামিসার পরিবার ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং বাথরুমে বালতির ভেতর থেকে তার কাটা মাথা উদ্ধার করেন।
ঘটনার পরপরই জানালার গ্রিল কেটে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আদালতে আসামিরা ইতোমধ্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও আজ শুনানির দিনে এসে প্রধান আসামি নতুন করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করলেন।
১৭ দিন আগে
রামিসা হত্যা: সোহেল রানা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিচার শুরু
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু জানান, আদালত এই মামলায় সাক্ষীদের জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন।
এদিন, বেলা ১১টার দিকে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসায় সোহেল রানা কর্তৃক আবদুল হান্নান মোল্লার মেয়ে রামিসা আক্তার ধর্ষিত ও খুন হয়। অভিযুক্ত সোহেল রানা তাদের পার্শ্ববর্তী একটি ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া ছিলেন। তিনি শিশুটিকে কৌশলে তার কক্ষে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে রামিসার ছিন্নভিন্ন মরদেহ বিছানার নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় এবং তার কাটা মাথা বাথরুমের একটি বালতির ভেতর থেকে পাওয়া যায়।
ঘটনার সময় স্বপ্না আক্তারকে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। তবে সোহেল রানা পালিয়ে যান। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
১৮ দিন আগে
সিলেটে সৎ বাবার বিরুদ্ধে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ
সিলেট মহানগরীতে এবার সৎ মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগে তাকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয় জনতা।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে মহানগরীর বালুচর এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। আটক ওই ব্যক্তি ওই এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে ওই ব্যক্তি তার নিজের সৎ মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছেন। এই বিষয়ে এলাকায় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মিলে বৈঠক করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জানালে তিনি তা অস্বীকার করেন। গতকাল (মঙ্গলবার) মেয়েকে ফের নির্যাতন ও ধর্ষণের চেষ্টা করলে তখন এলাকার লোকজন মিলে ওই ব্যক্তিকে আটক করেন। তখন স্থানীয়রা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মারধর করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন।
আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. মনজুরুল আলম বলেন, ‘ধর্ষণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন স্থানীয় জনতা। তাকে শাহপরাণ (রহ.) থানায় আটক রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগী মেয়ে ও তার অভিযুক্ত সৎ বাবা দুজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এর আগে, গত বুধবার (২০ মে) সিলেটের জৈন্তাপুরে নিজের ১১ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওই শিশুর বাবাকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।
২২ দিন আগে
হবিগঞ্জে শিশুকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, প্রধান অভিযুক্তকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া ৯ বছরের এক শিশুকে মুখে গামছা বেঁধে নির্জন বাঁশঝাড়ে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণকাণ্ডে প্রধান অভিযুক্তকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৫ মে) রাতে উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের বড়চর বাজারে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।
আটক ব্যক্তি ওই উপজেলার বড়চর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার বিকেলে বড়চর গ্রামের ওই শিশু বাড়ির পাশের একটি দোকানে যাওয়ার পথে আটক ব্যক্তি ও তার এক সহযোগী মিলে শিশুটির মুখে গামছা বেঁধে জোরপূর্বক পাশের একটি নির্জন বাঁশঝাড়ে নিয়ে যান এবং পাশবিক নির্যাতন চালান। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে গেলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।
পরদিন ভুক্তভোগী শিশুটিকে প্রথমে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, ঘটনার পর থেকেই পলাতক থাকা ওই ব্যক্তিকে গতকাল রাতে পাশের বাহুবল উপজেলার দিগম্বর বাজারে দেখতে পেয়ে ধরে ফেলেন স্থানীয় কয়েকজন যুবক। পরে তাকে বড়চর বাজারে নিয়ে আসার পর জনতা তাকে পিটুনি দেয়। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে আটক করে হেফাজতে নেয়।
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোনায়েম মিয়া প্রধান অভিযুক্তকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
২৩ দিন আগে