ডিসি
রংপুরে দুই বছরে ৪ ডিসি পরিবর্তন, ৪ মাসেই প্রত্যাহার রুহুল আমিন
জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে মাত্র দুই বছরে রংপুরে ৪ জেলা প্রশাসককে (ডিসি) প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চার জনকে জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়নও করা হয়েছে। এর মধ্যে মোহাম্মদ এনামুল আহসান ও মোহাম্মদ রুহুল আমিন মাত্র চার মাস করে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার জেলা প্রশাসক প্রত্যাহার ও পদায়নে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে যোগদানের মাত্র চার মাসের মধ্যেই মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করায় এ ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসানকে ওই বছরের ২০ আগস্ট প্রত্যাহার করে মোহাম্মদ রবিউল ফয়সালকে জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করা হয়। তিনি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেন।
এরপর ১ বছর ২ মাসের ব্যবধানে তাকে প্রত্যাহার করে নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে মোহাম্মদ এনামুল আহসানকে পদায়ন করা হয়। তিনি ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেন। তাকেও মাত্র চার মাস ২০ দিনের মাথায় পরিবর্তন করে ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করা হয়। মোহাম্মদ রুহুল আমিনকেও চার মাস ১৩ দিনের মাথায় পরিবর্তন করা হয়েছে। তিনি ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল যোগদান করেছিলেন।
তার স্থলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মিজ ইশরাত জাহানকে নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। ১৯ আগস্ট এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে পদায়ন করা হয়। দুই-এক দিনের মধ্যে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-২ শাখা থেকে গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে প্রত্যাহারপূর্বক পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
এদিকে, অল্প সময়ের মধ্যেই রংপুরবাসীর কাছে জনপ্রিয় ও দক্ষ প্রশাসক হয়ে ওঠেন মোহাম্মদ রুহুল আমিন। তাকে হঠাৎ করে প্রত্যাহার করায় স্থানীয় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, মোহাম্মদ রুহুল আমিন রংপুরে যোগদানের পর থেকেই জনকল্যাণমূলক নানা পদক্ষেপ, প্রশাসনিক গতিশীলতা এবং বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন। হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত রংপুরবাসীর মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। জনস্বার্থে এই ধরনের বদলি বা ওএসডি করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবিও জানিয়েছেন অনেকে।
এ বিষয়ে জেলা সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সভাপতি ফখরুল আনাম বেঞ্জু জানান, ‘অল্প সময়ের ব্যবধানে রংপুরের কয়েকজন জেলা প্রশাসক পরিবর্তন করা হলো যা রংপুরবাসীর একজন হিসেবে মোটেই সমর্থন করি না। কেননা ঘন ঘন জেলা প্রশাসক পরিবর্তন হলে রংপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি হয়। একজন জেলা প্রশাসক যোগদান করে ‘সেটেল’ হতেই কয়েক মাস সময় লাগে। অথচ তার আগেই আবার প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। এতে করে রংপুরবাসী সেবা থেকে যেমন বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনি উন্নয়নের জন্যও বিষয়টি অন্তরায়। তাই আগামী দিনে জেলা প্রশাসক যোগদান করবেন কিংবা আগামীতে যারা আসবেন জেলা প্রশাসক হিসেবে, অবশ্যই তাদের কাজ করার জন্য দুই-এক বছর সময় দেওয়া দরকার বলে মনে করি।’
১৪ দিন আগে
রাজশাহীতে বিভাগীয় কমিশনার, তিন জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ
রাজশাহী বিভাগে নতুন বিভাগীয় কমিশনার এবং নাটোর, গাইবান্ধা ও রংপুর জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
রাজশাহী বিভাগের নতুন বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের সদস্য-পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. ইউসুফ আলী।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের উপসচিব মোছা. সুমনী আক্তারকে নাটোরের জেলা প্রশাসক করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর একান্ত সচিব ড. মো. মনিরুজ্জামান গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ইসরাত জাহানকে রংপুরের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
গেল মঙ্গলবার রাতে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. এ এন এম বজলুর রশীদকে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়।
এছাড়া নাটোরের ডিসি আসমা শাহীন, গাইবান্ধার ডিসি মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা ও রংপুরের ডিসি মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
১৫ দিন আগে
সিলেট ও কুমিল্লায় নতুন ডিসি
সিলেট ও কুমিল্লায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
রবিবার (২৮ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানকে সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে বদলি করা হয়েছে। অন্যদিকে, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রোজী আক্তারকে কুমিল্লার নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত ২১ জুন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।
সম্প্রতি হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে দানের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সিলেটজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ডিসি সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে সিলেট জেলা প্রশাসন মাজারে নতুন কয়েকটি দানবাক্স স্থাপন করে।
সেই সঙ্গে মাজারে থাকা দানের ঐতিহাসিক তিনটি ‘ডেগ’ সিলগালা করা হয়, ‘নিরাপত্তার জন্য’ মোতায়েন করা হয় আনসার সদস্য; যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মাজার ভক্তরা।
এর চার দিনের মাথায় সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে বদলি করা হয়। তাকে সরানোর এই সিদ্ধান্ত ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
৬৭ দিন আগে
ঢাকার নতুন ডিসি ফরিদা খানম
ঢাকার নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফরিদা খানম।
বুধবার (২২ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
অন্যদিকে, ঢাকার ডিসি মো. রেজাউল করিমকে ঢাকার ওই পদ থেকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব করা হয়েছে।
১৩৪ দিন আগে
১১ জেলায় নতুন ডিসি
দেশের ১১টি জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
রবিবার (২৯ মার্চ) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
জেলাগুলো হলো— রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা, খুলনা, মাদারীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, হবিগঞ্জ, নরসিংদী, মেহেরপুর, লালমনিরহাট ও বান্দরবান।
নতুন ডিসিরা হলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কাজী শহিদুল ইসলামকে রাজশাহী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব লুৎফুন নাহারকে চুয়াডাঙ্গা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব হুরে জান্নাতকে খুলনা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের উপসচিব মর্জিনা আক্তার মাদারীপুর, সরকারি প্রিন্টিং প্রেসের উপপরিচালক মো. আবু সাঈদকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উপসচিব আহমেদ জিয়াউর রহমানকে চাঁদপুর, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব জি এম সরফরাজকে হবিগঞ্জ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ইসরাত জাহান কেয়াকে নরসিংদী, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শিল্পী রানী রায় মেহেরপুর, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের উপসচিব মুহ. রাশেদুল হক প্রধানকে লালমনিরহাট ও ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক মো. সানিউল ফেরদৌসকে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের নিজ নিজ জেলায় জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনকে এই আদেশের অনুলিপি প্রদান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পৃথক প্রজ্ঞাপনে ১১ জেলার ডিসিদের প্রত্যাহার করে পরবর্তী প্রজ্ঞাপনের জন্য তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
১৫৯ দিন আগে
নির্বাচন সামনে রেখে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নতুন ডিসিদের নিয়োগ
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুব শিগগিরই দেশের সব জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিতে যাচ্ছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই নতুন ডিসিদের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হবে। এরই মধ্যে নতুন ফিটলিস্ট তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ইতিমধ্যে সিলেট জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবার ডিসি নিয়োগে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সুবিধাভোগী বা বিতর্কিত কর্মকর্তাকে স্থান দেওয়া হবে না। কেউ ছলচাতুরী বা তথ্য গোপন করে ডিসি পদে নিয়োগ পেলে এবং পরে তা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইতিমধ্যে গত ১৮ আগস্ট সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ পেয়েছেন প্রশাসনের আলোচিত সেই ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম। উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা সারওয়ার আলম বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ফিটলিস্ট প্রস্তুত প্রক্রিয়া
চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি থেকে নতুন ফিটলিস্ট তৈরির কাজ শুরু করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসেবে ছয় ধাপে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২৫তম ও ২৭তম ব্যাচের ২৬৯ জন উপসচিবের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এর মধ্য থেকে অর্ধশতাধিক কর্মকর্তাকে ফিটলিস্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের মৌখিক পরীক্ষা চলছে।
জনপ্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ২৪তম ব্যাচের ২৬ জন, ২৫তম ব্যাচের ২৫ জন এবং ২৭তম ব্যাচের ১২ জন কর্মকর্তা ডিসির দায়িত্বে রয়েছেন। তবে ২৪তম ব্যাচের ২১ জন কর্মকর্তা গত ২০ মার্চ যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পেলেও এখনও মাঠ প্রশাসন থেকে তাদের প্রত্যাহার করা সম্ভব হয়নি।
পূর্বের বিতর্ক ও বর্তমান সতর্কতা
এর আগে ২০২৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ১০৮ জন কর্মকর্তার একটি ফিটলিস্ট থেকে ৬১ জেলায় ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সেই নিয়োগ নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। অনেক কর্মকর্তা নিজেদের ‘বঞ্চিত’ দাবি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। মারামারি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে, যা সরকারের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করেছিল।
তাছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধা পাওয়া একাধিক কর্মকর্তা গত বছরের ৫ আগস্টের পরও ডিসি পদে নিয়োগ পেয়েছেন। এসব নিয়ে সমালোচনার পর এবার সরকার অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে।
প্রশাসনে অস্থিরতা ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে অসন্তোষ
কেবল ডিসি নিয়োগই নয়, বর্তমানে একাধিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সচিব নেই এবং ভারপ্রাপ্ত সচিব দিয়ে চলছে। কর্মকর্তাদের দাবি, প্রশাসনের শীর্ষ পদগুলোতে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সবচেয়ে বড় ভুল।
তাদের মতে, এক দশক বা দেড় দশক আগে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারা বর্তমানের ডিজিটাল প্রশাসন ব্যবস্থায় খাপ খাওয়াতে পারছেন না। তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণেও সাহস পান না। এর ফলে প্রশাসনে শৃঙ্খলার অভাব দেখা দিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।
জনপ্রশাসনের অবস্থান
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগ) মো. এরফানুল হক ইউএনবিকে বলেন,
‘ডিসি নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। কবে নাগাদ নিয়োগ হবে তা জনপ্রশাসনবিষয়ক কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে। তবে আমরা আশা করছি দ্রুতই নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে।’
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোখলেস-উর রহমান ইউএনবিকে বলেন,‘ডিসি ফিটলিস্ট থেকেই নিয়োগ দেওয়া হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে, যাতে কোনো প্রশ্ন না ওঠে।’
বিশেষজ্ঞ মতামত
সাবেক সচিব ও প্রশাসন বিশেষজ্ঞ এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদার বলেন,‘১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি। বর্তমান প্রশাসনের দুর্বলতা দ্রুত সমাধান করতে হবে। একটি সৎ, দক্ষ ও পেশাজীবী আমলাতন্ত্র ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব নয়। এখনো সময় আছে—সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্য লোক নিয়োগ দিয়ে প্রশাসনের প্রাণ ফিরিয়ে আনতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এ আমলাতন্ত্রের ওপর ভর করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা সত্যিই অসাধ্য। তাই এখনো সময় আছে প্রশাসনের প্রাণ ফিরে আনতে হবে। মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও ডিসি সহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যোগ্য ও দক্ষ লোক নিয়োগ দিতে হবে।’
নিয়োগে কমিটি
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, যুগ্ম সচিব ও তদূর্ধ্ব পদে নিয়োগ, বদলি ও শৃঙ্খলাজনিত বিষয়ে পরামর্শ প্রদানের জন্য চারজন উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং জনপ্রশাসন সচিবকে নিয়ে ‘জনপ্রশাসনবিষয়ক কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিই ডিসি নিয়োগসহ অন্যান্য বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন।
৩৭৯ দিন আগে
নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা ৩৩ সাবেক ডিসিকে ওএসডি
২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন করা বর্তমানে যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার ৩৩ জন কর্মকর্তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।
এ কর্মকর্তাদের ওএসডি করে বুধবার (১৯ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ছয়টি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন ৩৩ জন কর্মকর্তা বুধবার ওএসডি হলেন। একই কারণে ১২ জন কর্মকর্তা ইতোপূর্বে ওএসডি হয়েছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব সাবিনা ইয়াসমিন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আতাউল গনি, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (সংযুক্ত) আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন, যুগ্ম-সচিব কাজী এমদাদুল ইসলাম এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত যুগ্ম-সচিব এস এম মোস্তফা কামালকে ওএসডি করা হয়েছে।
এছাড়া ওএসডি হয়েছেন- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব অঞ্জন চন্দ্র পাল, পরিকল্পনা বিভাগের যুগ্ম-প্রধান (সংযুক্ত) মোছা. সুলতানা পারভীন, একটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব (যুগ্ম-সচিব) মো. শহিদুল ইসলাম, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ হেলাল হোসেন এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম-সচিব মো. আলী আকবর।
এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মো. দাউদুল ইসলাম, শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মো. মাজেদুর রহমান খান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব এ জেড এম নুরুল হক, বাংলাদেশ রাবার বোর্ডের পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) এস এম আজিয়র রহমান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সচিব (যুগ্ম-সচিব) মো. মাসুদ আলম সিদ্দিক এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্ম-সচিব গোপাল চন্দ্র দাশকে ওএসডি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের পরিচালক (যুগ্মসচিব) কবীর মাহমুদ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের পরিচালক (যুগ্মসচিব) মাহমুদুল আলম, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের পরিচালক (যুগ্মসচিব) হায়াত-উদ-দৌলা খাঁনকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করা হয়েছে।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের বরিশালের আঞ্চলিক পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. আবুল ফজল মীর, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের সদস্য-পরিচালক (যুগ্মসচিব) মঈন উল ইসলাম, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (যুগ্মসচিব) মো. ওয়াহিদুজ্জামান, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (সংযুক্ত) এ কে এম মামুনুর রশিদ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব (সংযুক্ত) এস, এম, আব্দুল কাদের, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো)-এর সদস্য (যুগ্মসচিব) ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম ওএসডি হয়েছেন।
আরও পড়ুন: ফেসবুকে পোস্টের জেরে লালমনিরহাটের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ওএসডি
একই সঙ্গে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব কাজী আবু তাহের, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. মিজানুর রহমান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সদস্য (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব (সংযুক্ত) আনার কলি মাহবুব, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সদস্য (যুগ্মসচিব) সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (যুগ্মসচিব) মাহমুদুল কবীর মুরাদকে ওএসডি করা হয়েছে।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। ওইদিন প্রধানমন্ত্রীর পর থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপর গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী এবং নানা অন্যায়-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওএসডি কিংবা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এখন আওয়ামী লীগের আমলের সুবিধাভোগী, জনবিরোধী কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রশাসনের মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার।
৫৬১ দিন আগে
নির্বাচনে সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগের নির্দেশ ডিসিদের
জাতীয় নির্বাচনে জেলা প্রশাসকদের আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ. এম. এম. নাসির উদ্দিন৷
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে তিন দিন ব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলনের শেষ অধিবেশনে এসব কথা বলেন তিনি৷
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন ঘিরে ইসির যতটুকু ক্ষমতা আছে তার সর্বোচ্চটা প্রয়োগ করবে৷ একইসাথে সারা দেশের জেলা প্রশাসকরা যাতে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করেন সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: তথ্য ফাঁস ঠেকাতে এনআইডি ভেরিফিকেশনে নতুন সিদ্ধান্ত ইসির
সিইসি বলেন, আমরা ছেলেবেলায় পড়েছি জেলা প্রশাসকরা হলো - সরকারের চোখ, হাত এবং মুখ৷ এই ডিসিদের চোখ দিয়ে সরকার দেখে, মুখ দিয়ে সরকার বলে এবং হাত দিয়ে সরকার কাজ করে৷ কিন্তু এই চোখ, মুখ এবং হাত আজ নষ্ট হয়ে গেছে৷
তিনি বলেন, নির্বাচন পরিচালনায় উচ্চ পর্যায়ের কোনো চাপ ডিসিদের ওপর যাবে না৷ যদি চাপ আসে সেটা ইসি অবজারভ করবে৷ সুতরাং মাঠ পর্যায়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করতে হবে৷ কোনো ব্লেমিং গেম শোনা হবে না৷ কার কারণে কি করতে পারে নাই; এসব শোনা হবে না৷
৫৬২ দিন আগে
সীমান্তে আরও বেশি বিজিবি মোতায়েনের পরামর্শ ডিসিদের
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ‘সীমান্ত এলাকায় আরও বেশি হারে বিজিবি মোতায়েনের পরামর্শ দিয়েছেন জেলা প্রশাসকেরা (ডিসি)। এছাড়া নৌপথের নিরাপত্তা বাড়াতেও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।’
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের তৃতীয় দিনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের কার্য-অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসাবে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের কার্য অধিবেশনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও কৃষির উন্নয়ন নিয়ে মূলত কথা হয়েছে। জেলা প্রশাসকরা সীমান্ত এলাকায় আরও বেশি হারে বিজিবি মোতায়েন, নৌপথের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে নৌপুলিশ বৃদ্ধি করার কথা বলেছেন। তাছাড়া তারা গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা ও শিল্প পুলিশের জনবল বৃদ্ধির কথা বলেছেন। আমরা বিষয়সমূহ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি ও বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছি।’
‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক কিন্তু এটাকে আরও উন্নতির অবকাশ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে আরও উন্নতি ঘটে, সেজন্য সারাদেশে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ পরিচালনা করা হচ্ছে,’ বলেন জাহাঙ্গীর আলম।
আরও পড়ুন: যুবকদের সার্বজনীন সামরিক প্রশিক্ষণের প্রস্তাব ডিসিদের
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো দুর্নীতি। এটিকে সমূলে বিনষ্ট করতে না পারলে দেশের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হবে না। সব লেভেল থেকে দুর্নীতি কমাতে হবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কার্য-অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তৃতা করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরী।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান, পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম বিপিএম-সহ স্বরাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধানরা।
৫৬৩ দিন আগে
ডিসি নিয়োগে ঘুষ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন 'ভুয়া': সচিব মোখলেসুর
জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ-সংক্রান্ত ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে 'ভুয়া' বলে দাবি করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোখলেস উর রহমান।
বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে সিনিয়র সচিব এ মন্তব্য করেন।
অর্থ লেনদেন-সংক্রান্ত কথোপকথনে তার জড়িত থাকার অভিযোগের স্ক্রিনশটের বিষয়ে তিনি বলেন, 'আমার মোবাইলটা হলো স্যামসাং, উনারা যেটা দেখিয়েছেন, সেটা আইফোন। আইফোন কি আমি ব্যবহার করি? আমি ব্যবহার করি স্যামসাং। কে কী দেখালো ওনাদের জিজ্ঞাসা করবেন। কী কথপোকথন ছিল (হোয়াট ওয়াজ দ্য ডায়লগ) আমি সেটার কিছুই জানি না। এ বিষয়ে আমি যত কম বলব, ততই ভালো (ইফ আই সে লেস, ইট ইস বেটার)।'
আরও পড়ুন: নবনিযুক্ত নৌসচিব মতিউরকে ওএসডি করা হয়েছে
প্রকাশিত খবরের প্রতিক্রিয়া জিানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ, সরকার যে টেলিফোন (মোবাইল ফোন) দিয়েছে সেটাও আমি ব্যবহার করি না। আপনারা যারা জানেন, আমার আগের যে নম্বর সেটাই আমি ব্যবহার করছি সরকারিভাবে।’
এই অভিযোগের কারণে পদত্যাগ করবেন কি না- এ বিষয়ে তিনি বলেন, 'আপনারা যদি স্ট্যান্টবাজি নিউজ করতে চান, তাহলে এ প্রশ্ন করতে পারেন। এতদিন আমার সঙ্গে কাজ করেছেন, বিন্দু-বিসর্গ যেখানে সত্যতা নেই। এই প্রশ্ন করার আগে আপনারা নিজেকে প্রশ্ন করেন, কতটুকু যৌক্তিক হচ্ছে আমাকে এই প্রশ্ন করা।’
ওই দৈনিকে এর আগে প্রকাশিত নিউজের পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া তিনটি পদক্ষেপ তুলে ধরে মোখলেস উর রহমান বলেন, 'ইতোমধ্যে তিনটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনটি চিঠি আমাদের ওয়েবসাইট থেকে নামিয়ে নেবেন। তথ্য সচিবকে চিঠি লিখেছি সেখানে এই পত্রিকাটির নাম আছে। ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরাসরি সরকারি চিঠি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য নিয়ম-কানুন সম্পর্কে আপনারা আমার থেকে ভালো জানেন। তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে।'
তিনি বলেন, 'ওই লোকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র সচিবকে লেখা হয়েছে। দুয়েক দিনের মধ্যে তিনি গ্রেপ্তার হবেন। যে ব্যাংকারের অনভিজ্ঞতা বা ভুলের কারণে ব্যাংক অ্যাকাউন্টটা খোলা হয়েছিল, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে এ ব্যাপারে। শুধু উনার ব্যবস্থাই হবে না, অন্যান্য ব্যাংকেও যাতে এ রকম সমস্যা না হয় সেই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।'
মানহানির মামলা করবেন কি না- এ বিষয়ে তিনি বলেন, 'আমি প্রথমত বলব, যারা এটা করেছে তাদের আমরা কতটুকু গুরুত্ব দেই। একটা রাস্তার লোক আমাকে অনেক কথা বলতে পারে, আমি কি রাস্তার লোকের পেছনে দৌড়াব? কখনো নয় (নেভার)।'
এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সরকারের কাছে আহ্বান জানাবেন কি না- জানতে চাইলে মোকলেস উর রহমান বলেন, 'অভিযোগটা যিনি করেছেন এই অভিযোগকারী আমার কাছে কোনো বিবেচনায় নেই। এই অভিযোগ আমি মূল্যহীন মনে করি। এটা ভুয়া নিউজ।'
আরও পড়ুন: প্রধান উপদেষ্টার নতুন মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া
৭০০ দিন আগে