পাহাড়ধস
সাজেকে আটকে পড়া চার শতাধিক পর্যটক উদ্ধার
রাঙ্গামাটিতে টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধস এবং সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সাজেক ভ্যালিতে আটকে পড়া পর্যটকদের মধ্য থেকে এ পর্যন্ত ৪৬১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আজ (শুক্রবার) দ্বিতীয় দফায় ৩১১ জন সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদে সাজেক ত্যাগ করেছেন।
সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক ভ্যালিতে মোট ৫৬১ জন পর্যটক আটকা পড়েছিলেন। গতকাল প্রথম দফায় ১৫০ জন ও আজ সকাল ৯টায় দ্বিতীয় দফায় আরও ৩১১ জন পর্যটক সেনাবাহিনীর এসকর্টে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। অবশিষ্ট প্রায় ১০০ জন পর্যটকদেরও পর্যায়ক্রমে নিরাপদে সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।
গতকাল বিকেলে মাচালং বাজার, সীমানাছড়া ও বাঘাইহাট বাজার এলাকায় নৌকা দিয়ে পার করে এরপর সড়ক পথে তাদের নিরাপদ গন্তব্যে পাঠানো হয়। সেনাবাহিনীর বিশেষ উদ্যোগে পানিতে ডুবে থাকা সড়কগুলোতে নৌকা ও ভেলার মাধ্যমে পর্যটকদের পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়।
কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জানান, আটকে পড়া পর্যটকদের বিনা ভাড়ায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে শুধু পানির বিল নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, টানা ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির স্বাভাবিক জনজীবন। পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিচ্ছে জেলা প্রশাসন। এ পর্যন্ত পুরো রাঙ্গামাটি জেলায় ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৫২৪ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
অন্যদিকে, বন্যা পরিস্থিতির কারণে বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি ও জুরাইছড়িতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমিসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে কয়েক হাজার বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যসংকটে মানুষ ভুগছেন।
এছাড়া রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম ও কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সেখানে যেকোনো সময় নতুন করে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস।
২ ঘণ্টা আগে
কক্সবাজারে পাহাড়ধসে অন্তঃসত্তা স্ত্রীসহ স্বামীর মৃত্যু
কক্সবাজারের সদর উপজেলায় পাহাড়ধসে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার(২০ জুন) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সদর উপজেলার পুলিশ লাইন বাদশা ঘোনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পাহাড়ধসে নিহতরা হলেন, পুলিশ লাইন বাদশা ঘোনা এলাকার কেন্দ্রীয় মসজিদের মোয়াজ্জিন আনোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী মাইমুনা আক্তার।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন, ঝিলংঝা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক পাহাড় ধসে ৯ জনের মৃত্যু, উদ্ধার চলছে
টিপু সুলতান বলেন,টানা কয়েকদিন ধরে ভারী বৃষ্টি হচ্ছিল। রাত ৩টার দিকেও প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। এসময় বাদশা ঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে একটি বসতঘরের ওপর পড়ে। এ সময় ঘুমন্ত অবস্থায় মাটি চাপা পড়ে ওই দম্পতি মারা যান। স্থানীয় লোকজন মাটি সরিয়ে তাদের লাশ উদ্ধার করে। পাহাড় ধসের সময় বসতঘরটিতে ওই স্বামী-স্ত্রী ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। এর মধ্যে স্ত্রী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক অফিসার ডাক্তার আশিকুর রহমান বলেন, পাহাড়ধসে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগে মৃত্যু হয়।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুজ্জামান বলেন, কক্সবাজার শহরে বাদশা ঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে ঘুমন্ত স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে হোটেলের সুইমিংপুলে ডুবে শিশু পর্যটকের মৃত্যু
৭৪৯ দিন আগে