বোম ডিসপোজাল ইউনিট
সাভারে উদ্ধার হওয়া বস্তুটি ‘প্রেসার কুকার বোমা’, নিষ্ক্রিয় করল বোম ডিসপোজাল ইউনিট
সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের সাধাপুর এলাকায় স্কচটেপে মোড়ানো উদ্ধার হওয়া বস্তুটি একটি ‘প্রেসার কুকার বোমা’ বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধারের পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বোম ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি নিরাপদভাবে নিষ্ক্রিয় করেছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে বোমাসদৃশ বস্তুটি নিষ্ক্রিয় করেন ডিএমপির বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সাধাপুর গোপের বাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের মাঠে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতরে কাপড়চোপড়, কোরআন শরীফ এবং একটি প্রেসার কুকার দেখতে পান স্থানীয়রা। সন্দেহজনক বস্তুটি ড্রাম থেকে বের করে মাঠে রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রাতের বেলা অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তি ড্রামটি মসজিদের মাঠে রেখে চলে যান। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।
সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইমরান হোসাইন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল এটি একটি প্রেসার কুকার বোমা। পরে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডিএমপির বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়। ইউনিটের সদস্যরা ৪ ঘণ্টা চেষ্টার পর আজ (বুধবার) বিকেলে বোমাসদৃশ বস্তুটি নিষ্ক্রিয় করেন।
এর আগে, গত ৩০ জুলাই রাতে আশুলিয়ার খেজুর বাগান এলাকায় ‘জয়ী জেনারেল স্টোর’-এর সামনে একটি পরিত্যক্ত ব্যাগ থেকে একটি প্রেসার কুকার বোমা উদ্ধার করেছিল পুলিশ। সেবারও ডিএমপির বোম ডিসপোজাল ইউনিট নিরাপদ স্থানে নিয়ে সেটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে।
এদিকে, গতকাল রাতে সাভারের হেমায়েতপুরের শ্যামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচটি তাজা হাতবোমাসহ আরিফ হোসেন নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন একটি চারতলা ভবনের নিচতলায় অভিযান চালিয়ে আরও নয়টি পাইপ বোমাসদৃশ বস্তু, জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) বেশ কিছু লিফলেট এবং বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির উপকরণ ও সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
সিটিটিসির একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, ওই ভবনে বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম মজুত রাখা হয়েছিল—এমন তথ্যের ভিত্তিতে সিটিটিসির পাশাপাশি স্থানীয় থানা পুলিশ, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন।
বাড়ির মালিক আব্দুল জলিল ও তার মেয়ে ইলমা জানান, গত ২ আগস্ট আব্বাস আলী নামে এক ব্যক্তিসহ দুইজন আমাদের ভবনের একটি বাসা ভাড়া নেন। এ সময় তারা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বলেছিলেন, তাদের গ্রামের বাড়ি পাবনার হেমায়েতপুরে এবং তারা ড্রাইভিংয়ের কাজ করেন।
পরিবার নিয়ে বসবাস করবেন বলেই তাদের বাসা ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। তারা বাসার ভেতরে বোমা ও বিস্ফোরক লুকিয়ে রেখেছিলেন এমন তথ্য তাদের কাছে ছিল না বলেও জানান তারা।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, ঘটনাগুলোর সঙ্গে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ এবং সিটিটিসি সূত্র।
এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, ‘শ্যামপুর এলাকা থেকে মোট ১৪টি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিটিটিসি বিস্ফোরক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।’
সাম্প্রতিক সময়ে সাভারে পরপর দুটি প্রেসার কুকার বোমা উদ্ধার এবং একই এলাকায় বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
১১ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় ৭টি ল্যান্ডমাইন নিষ্ক্রিয় করল সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল ইউনিট
চুয়াডাঙ্গায় ভুট্টার জমিতে সেচ নালা তৈরির সময় কোদালের কোপের সঙ্গে উঠে আসা শক্তিশালী ৭টি ল্যান্ডমাইন নিষ্ক্রিয় করেছেন সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা। কম্পন আর বিকট শব্দে ল্যান্ডমাইনগুলো নিষ্ক্রিয় হয়।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার মাখালডাঙ্গা গ্রামের স্কুলপাড়া মাঠে সেনাবাহিনীর ৫৫ রেজিমেন্ট যশোর ইউনিটের সদস্যরা এ ল্যান্ডমাইনগুলো নিষ্ক্রিয় করেন।
স্থানীয়রা জানান, ল্যান্ডমাইনগুলো বিস্ফোরণের পর কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় আকাশ। ল্যান্ডমাইন খুঁজে পাওয়ার ২৯ দিনের মাথায় এগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এই কদিন পুলিশি পাহারায় রাখা হয়েছিল ওই এলাকা।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, সদর উপজেলার দিননাথপুর গ্রামের কৃষক হযরত আলীর মাখালডাঙ্গা গ্রামের স্কুলপাড়া মাঠে চাষের জমি রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য মাঠে নালা তৈরির জন্য কোদাল দিয়ে খুড়ছিলেন। এ সময় কোদালের কোপের সঙ্গে উঠে আসে ৩টি শক্তিশালি ল্যান্ডমাইন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি পরে সেনাবাহিনীকে জানানো হয়। এরপর আজ (শনিবার) সকালে ক্যাপ্টেন রিফাতুল ইসলামের নেতৃত্বে ৫৫ রেজিমেন্ট যশোর সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। দুপুরে সেখান থেকে একে একে ৭টি শক্তিশালী ল্যান্ডমাইন উদ্ধার করেন। এরপর তারা প্রথমে ৪টি এবং পরে বাকি ৩টি ল্যান্ডমাইনও নিষ্ক্রিয় করেন। এ সময় বিকট শব্দ এবং কম্পন অনুভূত হয়। বোমা নিষ্ক্রিয় করা স্থানগুলোতে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
১৪৮ দিন আগে
১৬টি গ্রেনেড নিষ্ক্রিয় করল বোম ডিসপোজাল ইউনিট
গাজীপুরে জোড়পুকুরপাড় এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া ১৬টি গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করেছে বোম ডিসপোজাল ইউনিট।
সোমবার (৮ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এএসপি মাহমুদুজ্জামানের নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
আরও পড়ুন: বগুড়ার শিবগঞ্জে নদী থেকে গ্রেনেড উদ্ধার
তারা দুইটি রোবটসহ ঘটনাস্থলে বোম শনাক্ত করার যন্ত্রপাতি দিয়ে গ্রেনেডগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করে এবং বিকাল সোয়া ৫টা পর্যন্ত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গ্রেনেডগুলো নিষ্ক্রিয় করে।
এ বিষয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এএসপি মাহমুদুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে বোম ডিসপোজাল ইউনিট দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা থেকে ১৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে আসেন।
এরপর রোবটের সাহায্যে মাটির মটকার ভেতরে পলিথিন মোড়ানো গ্রেনেডগুলোর পিন পরীক্ষা করা হয়। পরে দুইজন সদস্য নেমে ১৬টি গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করে।
তিনি আরও বলেন, গ্রেনেডগুলো কত আগের বা কোন দেশের তৈরি তা জানতে এগুলোর নমুনা বিস্ফোরক অধিদপ্তরে পাঠানো হবে।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে মাটির নিচে গ্রেনেড সদৃশ বস্তু উদ্ধার
চট্টগ্রামে কবর খুঁড়তে গিয়ে মিলল যুদ্ধকালীন গ্রেনেড
৭৭৬ দিন আগে