বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
ঝিনাইদহে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই নেতা রিমান্ডে
ঝিনাইদহে বাস পোড়ানো মামলায় বৈষম্যবিরোধী দুই ছাত্রনেতার রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বাকি ৫ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঝিনাইদহ জেষ্ঠ্য জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মোখলেছুর রহমান এ আদেশ দেন।
রিমান্ড পাওয়া দুই ছাত্রনেতা হলেন— ঝিনাইদহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ন কবির এবং ‘দ্য রেড জুলাই’-এর জেলা কমিটির আহ্বায়ক আবু হাসনাত তানাইম।
ঝিনাইদহ আদালত পরিদর্শক মোক্তার হোসেন বলেন, হুমায়ন কবির ও তানাইমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল পুলিশ। আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে পুলিশ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন।
গত ৭ মার্চ দিবাগত রাতে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বাসে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে বাস মালিকপক্ষ থেকে মামলা করা হয়। ওই মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মুখ সারির নেতাদের আসামি করা হয়।
একই দিন আওয়ামী লীগ নেতা হারুন অর রশিদের সৃজনী ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৫ নেতার জামিন নামঞ্জুর করে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ঝিনাইদাহ আদালতের পরিদর্শক মোক্তার হোসেন জানান, ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুরের মামলায় আটক আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। তবে আদালত রিমান্ড নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত ৭ মার্চ ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে আওয়ামী লীগ নেতা হারুণ অর রশিদের তাজ ফিলিং স্টেশনে পাম্পকর্মীদের হামলায় নিহত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ফারদিন আহমেদ নিরব। পাম্পে তেল নিতে গিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে বৈষম্যবিরোধী ওই নেতাকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে আহত করেন পাম্পের কর্মীরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
ওই ঘটনার পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা রাতে আওয়ামী লীগ নেতার একটি ফিলিং স্টেশনের ভাঙচুর চালান। একই দিন মধ্যরাতে ঝিনাইদহ টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরদিন ৮ মার্চ অগ্নিসংযোগ ও ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়। মামলায় অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়।
এরপর ওইদিন মধ্যরাতে শহরের বিভিন্ন ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে পুলিশ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের আটক করে। পরে তাদের ওই দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
৫ দিন আগে
ঝিনাইদহে পেট্রোল পাম্পে ভাঙচুর: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৭ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার
ঝিনাইদহ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি সাইদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান জীবনসহ ৭ জনকে আটকের পর পেট্রোল পাম্প ভাঙচুর ও ৩টি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে বাস মালিকদের পক্ষে সাইফ নোমান ও পেট্রোল পাম্প সৃজনী ফিলিং স্টেশনের পক্ষে শামসুল কবীর মিলন ঝিনাইদহ সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন। গণমাধ্যমে পাঠানো পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল সাক্ষরিত এক প্রেসনোটে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— ঝিনাইদহ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান জীবন, যুগ্ম আহ্বায়ক এজাজ হাসান অন্তর মাহমুদ, ‘দ্য রেড জুলাই’-এর আহ্বায়ক আবু হাসনাত তানাঈম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ন কবির, তাশদিদ হাসান ও রাসেল।
জেলা পুলিশের প্রেসনোটে বলা হয়, গত ৭ মার্চ ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গিয়ে পাম্প কর্মচারীদের হামলায় নিহত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী ফারদিন আহম্মেদ নীরব।
এ ঘটনায় র্যাব ও পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে হত্যার সঙ্গে জড়িত পাম্পের ৩ কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করে। নীরব হত্যার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগ নেতার মালিকানাধীন পেট্রোল পাম্পে ভাঙচুরের চেষ্টা চালান, কিন্তু পুলিশের তৎপরতায় তারা একই মালিকের আরাপপুর সৃজনী ফিলিং স্টেশনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। ঘটনার দিন দিবাগত রাত সোয়া ৩টার দিকে ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা রয়েল পরিবহনের দুটি ও জে লাইন পরিবহনের একটি বাসে তারা আগুন ধরিয়ে দেন বলে প্রেসনোটে উল্লেখ করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, পেট্রোল পাম্প ভাঙচুর ও তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার ও মোবাইল ট্রাকিং করে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়।
এ ব্যাপারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তারেক রেজা জানান, প্রতিটি অপরাধই আইনের দৃষ্টিতে খারাপ। আমরাও চাই প্রকৃত অপরাধীর বিচার হোক।
তিনি বলেন, পেট্রোল পাম্প ভাঙচুর ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় যাদের গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে তাদের মধ্যে অনেকেই নিরাপরাধ রয়েছেন। ফলে আইনের প্রয়োগ যেন সঠিক হয়।
হত্যার চেয়ে যদি ভাঙচুরের ঘটনা বড় করে দেখানো হয়, তবে সেটা দুঃখজনক ঘটনা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
৮ দিন আগে
ঝিনাইদহে জুলাই যোদ্ধাকে হত্যার জেরে বাসে আগুন, পেট্রোল পাম্প ভাঙচুর
ঝিনাইদহ শহরের তাজ ফিলিং স্টেশনে গতকাল শনিবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সামনের সারির যোদ্ধা নিরব নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সহিংস হয়ে উঠেছে ঝিনাইদহ শহর। এ হত্যাকাণ্ডের পর বাসে আগুন দেওয়াসহ সৃজনী ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল পাম্প ভাঙচুর করে একদল ব্যক্তি।
শনিবার (৭ মার্চ) মধ্যরাতে শহরের আরাপপুর এলাকায় ও ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বারোইখালি গ্রামের নাসিম, আড়ূয়াকান্দি গ্রামের রমিজুল ও কাস্টসাগরা গ্রামের আবু দাউদকে আটক করেছে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নিরবকে হত্যা করার জেরে শহরের আরাপপুর এলাকায় সৃজনী ফিলিং স্টেশনে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা পুলিশের উপস্থিতিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে। এর আগে, সৃজনী এনজিওর মালিক আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের বাড়ি এবং ইউনিলিভার ডিপোতে হামলা চালানো হয়।
সৃজনী পেট্রোল পাম্পের কোষাধ্যক্ষ আলামিন শেখ জানান, গতকাল (শনিবার) মধ্যরাতে অজ্ঞাতনামা ২০-৩০ জনের একটি দল তাদের পাম্পে আকস্মিক হামলা চালিয়ে পাম্পের মেশিন ভাঙচুর করে। এ সময় পুলিশ বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করে পাম্পের তিনটি মেশিন গুঁড়িয়ে দেয়।
রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে একাধিক বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, নিরব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এসব হামলার যোগসূত্র থাকতে পারে।
ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা তানভীর হাসান জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি ঝিনাইদাহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে থাকা তিনটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে, ঝিনাইদহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক মীর রাকিব জানিয়েছেন, আজ (রবিবার) জোহরের পর নিহত নিরবের জানাজার নামাজ শেষে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করা হবে। শহরে অব্যাহত ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার সঙ্গে তাদের কোনো নেতা-কর্মী জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন তিনি।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আরেফিন জানান, গতকাল রাত ১০টার দিকে শহরের তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহের শহরের বেপারীপাড়ার আবুল কাশেমের ছেলে নিরব খুন হয়। এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎপর রয়েছে।
উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল এলাকায় অবস্থিত তাজ ফিলিং স্টেশনে গতকাল রাত ৮টার দিকে জ্বালানি তেল কেনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র নেতা ফারদিন আহমেদ নিরবকে পিটিয়ে জখম করে পাম্পের কর্মচারীরা। পরে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
৯ দিন আগে
রাতভর নাটকীয়তার পর সকালে জামিনে মুক্ত হবিগঞ্জের সেই বৈষম্যবিরোধী নেতা
রাতভর নানা নাটকীয়তার পর অবশেষে আজ রবিবার সকালে জামিন পেয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলার সদস্যসচিব মাহদী হাসান।
গতকাল (শনিবার) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরে তাকে হবিগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়। তবে কী অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা জানতে গতকালই সংবাদকর্মীরা যোগাযোগ করলেও, হবিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) থেকে শুরু করে পুলিশ সুপার, কেউই মুখ খোলেননি।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে মাহদীকে হবিগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় মাহদীর আইনজীবী আব্দুল মালেক হৃদয় মাহদির জামিনের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
এই নেতার বিরুদ্ধে বেআইনি লোকজন মিলিত হয়ে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি মামলা দেখানো হয়েছে।
এদিকে, মাহদীর মুক্তির দাবিতে রাতভর হবিগঞ্জ থানার ফটকের সামনে অবস্থান নেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। তারা মাহদীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে স্লোগান দেন। থানা এলাকার পরিস্থিতির অবনতি যাতে না ঘটে, সেজন্য পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও র্যাব মোতায়েন করা হয়। এছাড়া গতরাতে রাজধানীর শাহবাগে জড়ো হয়েও মাহদীর মুক্তির দাবি জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা।
শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে রাত সোয়া ১টার দিকে পুলিশ একটি মাইক্রোবাসে করে মাহদীকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতেই তাকে আদালতের মাধ্যমে জামিন দেওয়ার প্রস্তুতির কথা শোনা গেলেও বিচারক না আসায় তাকে কোর্ট হাজতে রাখা হয়।
উল্লেখ্য, শায়েস্তাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হাসান নয়নকে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন।
নয়নকে আটকের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলার নেতা-কর্মীরা তার মুক্তির দাবিতে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে শায়েস্তাগঞ্জ থানা ঘেরাও করেন। এ সময় জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্র অধিকার আন্দোলনের সদস্যসচিব মাহদী হাসানের নেতৃত্বে একদল নেতা-কর্মী ওসির কক্ষে অবস্থান নেন। তারা দাবি করেন, নয়ন একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও পরে তিনি জুলাই আন্দোলনে জড়িত হন। তারা নয়নকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি করেন।
আটক ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নিতে একপর্যায়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ওসির সঙ্গে তর্কে জড়ান মাহদী হাসান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মাহদী ওসিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা সরকার গঠন করেছি। এই জায়গায় আপনারা আমাদের প্রশাসনের লোক। আপনারা আমাদের ছেলেদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে এসেছেন। আবার আমাদের সঙ্গে বার্গেনিং করছেন। আপনি (ওসি) বলেছেন, “আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে?”’ একপর্যায়ে মাহদী হাসান ওসিকে বলেন, ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম; এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম। ওই জায়গা থেকে উনি (ওসি) কোন সাহসে এটা (আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে) বললেন। আমি স্ট্রিকলি এখানে আসছি। আমরা এতগুলা ছেলে ভাইসা আসছে নাকি?’
খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ছুটে যান। তার মধ্যস্থতায় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এনামুল হাসানকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
এ বিষয়ে মাহদী হাসান বলেন, ‘আটক হওয়া ছাত্রনেতা একসময় ছাত্রলীগ করলেও তিনি জুলাই আন্দোলনে আমাদের সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন। শুধু তার অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে আসে।’
মাহদী প্রশ্ন তোলেন, ‘আমাদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে মূল সমন্বয়কারীদের একজন সারজিস আলম। তিনিও তো একসময় ছাত্রলীগ করেছেন। তাহলে তিনিও কি অপরাধী?’ তিনি দাবি করেন, তাদের তিন নেতা-কর্মীকে আটক করে শায়েস্তাগঞ্জ থানার পুলিশ আগেও ‘অপরাধ’ করেছে।
বানিয়াচং থানা জ্বালিয়ে দেওয়া ও পুলিশকে পুড়িয়ে ফেলার মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি স্লিপ অব টাং (মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে)।’
তবে, ওই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মাহদীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুস্পষ্ট জবাব দিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেনের সই করা একটি শোকজ নোটিশ গতকাল বিকেলে প্রকাশিত হয়। একইসঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংগঠনের কার্যক্রম থেকে তাকে বিরত থাকতেও নোটিশে বলা হয়েছে। কারণ দর্শনোর নোটিশ মাহদী পেয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।
শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম বলেন, ‘আমরা তাকে (এনামুল) বৈষম্যবিরোধী একটি মামলায় সন্দেহভাজন ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে আটক করি। ওই দিন রাত বেশি হওয়ায় আমরা যাচাই-বাছাই করতে পারিনি। পরদিন নানাভাবে তথ্য নিয়ে আমরা জানতে পেরেছি, আটক হওয়া ব্যক্তি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন। পরে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
৭২ দিন আগে
হলে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ: উমামার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি সুফিয়া কামাল হলে বাম, ডান ও ইসলামীসহ সব দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তার বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
গত শুক্রবার (৮ আগস্ট) কবি সুফিয়া কামাল হলের প্রাধ্যক্ষকে দেওয়া একটি চিঠিতে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, আমরা গত বছরের ১৭ জুলাই সম্মিলিত আন্দোলনের মাধ্যমে প্রশাসন থেকে এই মর্মে প্রতিশ্রুতি নিতে সক্ষম হয়েছি যে, হলে সব ধরনের ছাত্ররাজনীতি (ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, শিবির, বাগছাস, বামপন্থি ইত্যাদি) নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
উমামা ফাতেমার নেতৃত্বে দেওয়া ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘গত এক বছরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশাসনের এই চুক্তি বলবৎ ছিল। কিন্তু এরই মধ্যে কিছু সংগঠন গুপ্তভাবে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যার কারণে ৮ আগস্ট ছাত্রদল হলে কমিটি ঘোষণা করেছে। আমরা শিক্ষার্থীরা মনে করি, তাদের এইসব কার্যকলাপ জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে সৃষ্টি হওয়া উল্লেখিত চুক্তিকে ভঙ্গ করেছে, যা স্পষ্টত সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।’
পরবর্তীতে দৈনিক জনকণ্ঠসহ বিভিন্ন মাধ্যমে উমামার উদ্ধৃতিতে বলা হয়, ‘হলে বাম দল ছাড়া সব দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ চান উমামা ফাতেমা।’
পড়ুন: হল রাজনীতি নিষিদ্ধের আগের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে: ঢাবি উপাচার্য
শনিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে ইউএনবিকে উমামা ফাতেমা বলেন, দৈনিক জনকণ্ঠসহ অন্যান্য মিডিয়ায় শিরোনাম ও ফটোকার্ডে আমার বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে। এসব সাংবাদিক নিজের মতো একটা অর্থ বানিয়েছে। কবি সুফিয়া কামাল হলে বামরা কোনো ফ্যাক্টর নয়, আমাদের হলে বাম রাজনীতি করেন এমন কেউ নেই।
বিবৃতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রভোস্ট স্যারের কাছে জমা দেওয়া বিবৃতিতে আমরা সুফিয়া কামাল হলে সব ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকবে লিখে দিয়েছি। ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, শিবির, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদসহ (বাগছাস) ইত্যাদি, মানে যাবতীয় বাম, ডান, ইসলামিক সব দলের রাজনীতি হলে বন্ধ থাকবে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘অথচ ছাত্রীসংস্থার লোকজন এর আগেই খসড়া বিবৃতি ছড়িয়ে দিয়েছে। ছাত্রীসংস্থার লোকজন এর আগেও হলে পানির ফিল্টার ও ঝাড়বাতি লাগিয়েছে। ঝাড়বাতি বিষয়ে নাকি প্রক্টর অফিস থেকে ফোন দিয়ে হলে অফিসকে অনুমতি দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল।
‘হল রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে সব ধরনের রাজনীতি এনডোর্স করা হচ্ছে,’ বলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক এই মুখপাত্র।
তবে উমামার এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সংস্থার সভানেত্রী সাকিবুন্নাহার তামান্না। তিনি বলেন, ‘ঢাবি ছাত্রী সংস্থা এমন কোনো কাজে জড়িত ছিলো না। হলে তো অনেক শিক্ষার্থী আছেন, এখানে ছাত্রী সংস্থার নাম কেন জড়ানো হলো বুঝতে পারছি না।’
একই দিন রাতে মিরর নিউজ নামের একটি অনলাইন পোর্টালের ফটোকার্ডে উমামার বক্তব্যের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়, ‘শিবিরকে সব হল কমিটি প্রকাশ করতে হবে এবং ছাত্রদল যে কমিটি প্রকাশ করেছে তা বাতিল করতে হবে।’
পড়ুন: ঢাবির ১৮ হলে আহ্বায়ক কমিটি দিল ছাত্রদল
এই ফটোকার্ডের বিষয়ে উমামা বলেন, আমি বলিনি যে শিবিরকে প্রকাশ করতে হবে। যারা ‘গুপ্ত’ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, তারা তো নিজ থেকে এসে পরিচয় প্রকাশ করবে না। এটি প্রশাসনের দায়িত্ব, প্রশাসনের উচিত এসব শিক্ষার্থীকে আইডেন্টিফাই করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিকে একটি পুনর্মিলনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে সবারই অভিযোগ — শিবিরের সমস্যা আমি কেন গুপ্ত রাজনীতির কথা তুললাম, ছাত্রদলের সমস্যা আমি কেন কমিটির কথা বলেছি, আর বামদের সমস্যা আমি কেন হলে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ চাইলাম।
উমামা বলেন, আমি ঠিক করেছি এসবের বিরুদ্ধে মামলা করব। আমি এসব কার্যক্রম ডাকসুর জন্য করছি না, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এসব করছি।
২২০ দিন আগে
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া সব কমিটি স্থগিত
কেন্দ্রীয় কমিটি বাদে দেশের সব কমিটি স্থগিত ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। রবিবার (২৭ জুলাই) এমন ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রিফাত রশিদ।
রাজধানীর শাহবাগ জাদুঘরের সামনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে রিফাত রশিদ বলেন, অর্গানোগ্রামের (সাংগঠনিক কাঠামো) সিদ্ধান্তে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি ব্যতীত সারা দেশের সব কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হলো। বৈষম্যবিরোধী ব্যানারকে কলুষিত করার জন্য পরাজিত শক্তিরা নানাভাবে এ প্লাটফর্ম ব্যবহার করছে।
পড়ুন: পুলিশের ৯ কর্মকর্তাকে বদলি
যারা অনৈতিক কাজ করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহবান জানান তিনি।
২৩৩ দিন আগে
রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই কমিটির কার্যক্রম স্থগিত
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রংপুর জেলা কমিটির কার্যক্রম স্থগিতের একদিন পর এবার স্থগিত করা হয়েছে মহানগর কমিটির কার্যক্রম।
শনিবার (২৬ জুলাই) রাতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক হাসান ইনাম সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রংপুর মহানগর শাখার আহ্বায়ক কমিটির নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ায় কমিটির সব ধরনের কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
একই কারণে গত ২৪ জুলাই রংপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
এদিকে, কমিটি গঠনের পর থেকেই জেলা ও মহানগর কমিটির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জমি দখল ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠতে থাকে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা পদত্যাগও করেন।
গত ১৮ মে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা ও মহানগর কমিটির শীর্ষ চার নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে ১৬ জন নেতা একযোগে পদত্যাগ করেন। একই দিনে সংগঠনটি থেকে আরও অর্ধশতাধিক কর্মী সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
আরও পড়ুন: সাত জেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটি স্থগিত
এর আগে, ১৫ মে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে জেলা কমিটির আরও এক সদস্য পদত্যাগ করেন।
এ ছাড়াও মহানগর কমিটির মুখপাত্রের বিরুদ্ধে বালু মহালে চাঁদাবাজির চেষ্টার অভিযোগ ওঠে এবং চাঁদাবাজির ঘটনার ভিডিও এবং অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে গত ৮ মার্চ সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাকে মুখপাত্রের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে আবার সংগঠনে পুনর্বহাল করা হয়।
জেলা কমিটির আহ্বায়ক ইমরান আহমেদ ও মহানগর কমিটির আহ্বায়ক আহমেদ বলেন, ‘কমিটির সময় অতিক্রান্ত হওয়ার কারণেই এই কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।’
২৩৩ দিন আগে
শহিদ আবু সাঈদকে স্মরণে প্রস্তুত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় আবু সাঈদকে স্মরণের জন্য প্রস্তুত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। সারা বছরই নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শহিদদের স্মরণ করে আসছে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। কিন্তু গত বছরের ১৬ জুলাই ছিল ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের টার্নিং পয়েন্ট।
ওইদিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে শহিদ হন। এই ঘটনার পরপরই সারা দেশ উত্তাল হয়ে ওঠে। ফলে হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।
১৬ জুলাই আবু সাঈদের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে বেরোবির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বেরোবিতে ১৬ জুলাই পালিত হবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহিদ আবু সাঈদের শাহাদাতবার্ষিকী ও ‘জুলাই শহিদ দিবস’। ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চার উপদেষ্টা। দিনটি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন থাকবেন প্রধান অতিথি। এই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে চার উপদেষ্টা উপস্থিত থাকবেন, তারা হলেন— আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ৃ পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম।
এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব সিদ্দিক জোবায়ের এবং ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. তানজীমউদ্দীন খান।
দিনটি উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে বেরোবি ক্যাম্পাসে ৬২ ঘণ্টার জন্য বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পড়ুন: জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে বুধবার রাষ্ট্রীয় শোক
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৬ জুলাই শহিদ আবু সাঈদের প্রথম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘জুলাই শহিদ দিবস-২০২৫’ উদযাপনের জন্য সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে ১৩ জুলাই রবিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১৬ জুলাই বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বেরোবির সকল শিক্ষার্থীকে আইডি কার্ড সঙ্গে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশের জন্য বলা হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
রংপুরের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও দিবসটি পালনে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
বেরোবি প্রক্টর ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, জুলাই শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের নিরাপত্তার স্বার্থে এটা করা হয়েছে, যাতে ক্যাম্পাসে কেউ কোনো ধরনের শৃঙ্খলা নষ্ট না করতে পারে। ক্যাম্পাসের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কার্ড থাকলে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না।
বেরোবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ১৬ জুলাই আবু সাঈদের শাহাদাত বার্ষিকী পালনে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে চারজন উপদেষ্টা উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া আরও ২১ জন শহিদ পরিবারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
গত বছরের ১৬ জুলাই দুপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহত হওয়ার পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ওইদিন রাত সাড়ে ৯টায় সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের পরদিন ১২টার মধ্যে আবাসিক হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়, কিন্তু ছাত্ররা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে রংপুরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৯ জুলাই পুলিশ নির্মামভাবে গুলি চালিয়ে ৬ জন সাধারণ পেশাজীবী মানুষকে হত্যা করে। আন্দোলনের চূড়ান্ত রুপ লাভ করে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং শেখ হাসিনার পলায়নের মাধ্যমে।
বেরোবি উপাচার্য ড. শওকাত আলী বলেন, ১৬ জুলাই আবু সাঈদকে স্মরণের জন্য সকল প্রস্তুতির আয়োজন করা হয়েছে। শুধু এই দিনটি নয় বছরজুড়ে আমরা আবু সাঈদের স্মরণে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছি।
২৪৫ দিন আগে
সাত জেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটি স্থগিত
চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের সাতটি জেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক কমিটির কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় এসব কমিটির দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক হাসান ইমামের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
লিখিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনটির যশোর, ঝিনাইদহ, গাইবান্ধা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও বরিশাল জেলা শাখা এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা আহ্বায়ক কমিটিগুলোর নির্ধারিত মেয়াদ অতিক্রান্ত হওয়ায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব কমিটির সকল কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
এ ঘোষণার পর চুয়াডাঙ্গায় সংগঠনটির সাবেক নেতা-কর্মীদের মধ্যে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
আরও পড়ুন: বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদের পেটানো রংপুরের সেই ওসিকে ১১ মাস পর বদলি
এর প্রতিক্রিয়ায় চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সদ্য সাবেক সদস্যসচিব সাফফাতুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক ওয়ালে লেখেন, ‘চুয়াডাঙ্গার আর কোনো অফিসিয়াল পরিচয় থাকল না। সাবেক হয়ে গেলাম, আলহামদুলিল্লাহ। যে দায়িত্ব আমার ওপর অর্পিত হয়েছিল, সেটি থেকে অফিশিয়ালি মুক্তি পেলাম। আমি চেষ্টা করেছি আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চটা দেওয়ার। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতে নতুন পরিচয়ে রাজপথে ফিরব। রাজপথই আমার পরিচয়, সবার কাছে দোয়ার দরখাস্ত রইল।’
সাবেক আহ্বায়ক আসলাম হোসেন অর্ক বলেন, ‘সব সময় মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। আগামীতে সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকব। এ মুহূর্তে কোনো দলে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা নেই।’
২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটি গঠিত হয়। ছয় মাসের মেয়াদ শেষে এ বছরের এপ্রিলে কমিটির কার্যকাল শেষ হয়।
সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, জেলা কমিটির পাশাপাশি উপজেলা কমিটিগুলোও স্থগিত করা হয়েছে।
২৪৮ দিন আগে
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সহকারী প্রকৌশলী গ্রেপ্তার
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের (কুসিক) সহকারী প্রকৌশলী মো. তোফাজ্জল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রবিবার (৮ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশ নগরীর কোটবাড়ি রোডের চাঙ্গেনী মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার প্রকৌশলী ওই এলাকার সুলতান আহম্মদের ছেলে। তিনি কুসিকের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর যুবলীগের বহিস্কৃত যুগ্ম আহবায়ক আলমগীর হোসেনের ছোট ভাই।
স্থানীয়রা জানান, তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় গত বছরের ৫ আগস্ট সদর দক্ষিণ ও কোতোয়ালি মডেল থানায় দুটি মামলা দায়ের হয়। এসব মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি।
তবে, মামলার পরও তিনি কুসিকের সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং নগরীর ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
আরও পড়ুন: সাভারে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতা গ্রেপ্তার
এ বিষয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলায় রবিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, তোফাজ্জল হোসেন ২০২০ সালের ১০ জুলাই চাঙ্গেনী এলাকায় ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। তবে, তিনি ওই মামলায় জামিনে আছেন।
আজ (সোমবার) সকালে তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করার কথা জানান ওসি।
২৮১ দিন আগে