স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
নিরাপত্তার চাদরে খালেদা জিয়ার জানাজা-দাফন সম্পন্ন হবে
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুরো কার্যক্রম ঘিরে ১০ হাজারেরও বেশি পুলিশ, এপিবিএনসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠিত হবে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে খালেদা জিয়ার জানাজা, দাফন ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের জানান, জানাজা ও দাফন উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১০ হাজারেরও বেশি পুলিশ, এপিবিএন ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্য মাঠে থাকবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু এলাকায় সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনাও থাকবে।
জানাজার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রতিটি বিষয় নতুন করে পর্যালোচনা করেছে। সম্প্রতি একটি বড় জানাজার অভিজ্ঞতা থাকলেও এবার আরও বৃহৎ পরিসরে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, যাতে পুরো অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খল ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন হয়।
শফিকুল আলম জানান, জানাজা ও দাফনের সার্বিক আয়োজন নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিএনপির পূর্ণ সমন্বয় রয়েছে। এ বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। দলটির পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে এবং সরকারও প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
নিরাপত্তা শঙ্কা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, কোনো ধরনের উদ্বেগ নেই। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পৌঁছানো পর্যন্ত জানাজা ও দাফনের সব আনুষ্ঠানিকতা পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হবে।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করে শফিকুল আলম বলেন, তিনি ছিলেন আপোষহীন নেত্রী। দেশের গণতন্ত্র বারবার সংকটে পড়লেও তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী হিসেবে এবং প্রায় ৪৫ বছরের দীর্ঘ জনসেবার মাধ্যমে তিনি দেশের জন্য যে অবদান রেখেছেন, তা অনন্য।
৩ দিন আগে
সীমান্ত সমস্যা সমাধানে বিজিবিকে কৌশলী হতে হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা সমাধানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবিকে কৌশলী হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে ‘বিজিবি দিবস-২০২৫’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিজিবি ‘ত্রিমাত্রিক’ বাহিনী হিসেবে দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা ও জনকল্যাণমূলক কাজে অনন্য ভূমিকা রাখছে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থকে সমুন্নত রেখে সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় অত্যন্ত ন্যায়ানুগ পন্থায় নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
তিনি বলেন, সীমান্ত দিয়ে কোনো মাদক প্রবেশ করবে না। অবৈধ পথে বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশীয় কোনো পণ্য বিদেশে পাচার হবে না। বিজিবির যেসব সদস্য চোরাকারবারি ও মাদক পাচারকারীদের সহায়তা করেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলেন উপদেষ্টা।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা সমাধানে অত্যন্ত কৌশলী ও যোগ্যতার পরিচয় দিতে হবে। দেশের স্বার্থ শতভাগ রক্ষা করতে হবে।’ সেইসঙ্গে বাংলাদেশ থেকে কোনো অপরাধী, সন্ত্রাসী সীমান্ত দিয়ে যাতে পালাতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশও দেন তিনি।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ নিতে বিজিবি সদস্যদের নির্দেশ দেন উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, ফেয়ার এবং উৎসবমুখর হয়, সেজন্য আপনাদের যতো ধরনের প্রস্তুতি নিতে হবে, আপনাদের প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এই নির্বাচনটা উৎসবমুখর করা আপনাদের কিন্তু একটা বড় দায়িত্ব! এটা আপনারা ভালোভাবে পালন করবেন—এ আমি বিশ্বাস করি। আপনারা জাতিকে একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিবেন—এ আমার আশা।’
এ সময় বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী গত এক বছরে বিজিবির নানা অর্জন ও বাহিনীটির সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘সকল ক্ষেত্রে আমরা হয়তো শতভাগ সার্থক হতে পারিনি, তবে আমাদের প্রচেষ্টায় কোনধরণের কমতি ছিল না। ভবিষ্যতেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক অর্পিত যেকোনো দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালনে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
নির্বাচনি দায়িত্ব সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে পালনে বিজিবি বদ্ধপরিকর বলেও প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন মহাপরিচালক আশরাফুজ্জামান।
৪ দিন আগে
পদ বাঁচাতে তিন উপদেষ্টাকে তিন দাবি পূরণের আল্টিমেটাম ডাকসুর
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় ৩ দফা দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে স্বরাষ্ট্র, আইন ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বৈঠকে এই আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
ডাকসুর পক্ষ থেকে প্রথম দাবিতে বলা হয়, ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের সঙ্গে জড়িত প্রত্যক্ষ হামলাকারী, পরিকল্পনাকারী ও সহায়তাকারী সব সন্ত্রাসীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। একইসঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থাসহ রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সব অর্গানকে (অঙ্গ সংস্থাকে) দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। যাদের গাফিলতি প্রমাণিত হবে, তাদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবিও জানানো হয়। পাশাপাশি এই হামলাকে সমর্থন ও উসকানি দেওয়া ‘কালচারাল ফ্যাসিস্টদের’ সামাজিকভাবে সম্পূর্ণ বয়কটের আহ্বান জানানো হয়। এসব পদক্ষেপ দ্রুত দৃশ্যমান করার দাবি করে ডাকসু।
দ্বিতীয় দাবিতে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে এলাকাভিত্তিক চিরুনি অভিযান শুরুর আহ্বান জানানো হয়। নিষিদ্ধ সংগঠনের সব স্তরের নেতাকর্মী ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানিয়ে বলা হয়, এ বিষয়ে সরকারের অবহেলা আর মেনে নেওয়া হবে না।
তৃতীয় দাবিতে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে মানবতাবিরোধী অপরাধে দেওয়া রায় কার্যকরের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে গণহত্যাকারী ও অভিযুক্তদের আশ্রয় দেওয়ার প্রতিবাদে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়। অভিযুক্তদের ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা যাবে না বলেও দাবি জানানো হয়।
গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেলে করে আসা দুই আততায়ীর একজন চলন্ত রিকশায় থাকা ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
কিন্তু সেখানে অবস্থার খুব বেশি পরিবর্তন না হওয়ায় আজ (সোমবার) দুপুরে হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছে। দুপুর ২টার দিকে হাদিকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।
১৮ দিন আগে
হাদির ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার দাবিতে শাহবাগ অবরোধ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি।
এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করার অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগও দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেন। পরে তারা শাহবাগ মোড়ে গিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন।
অবরোধের ফলে শাহবাগ এলাকায় যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি আবু বাকের মজুমদার বলেন, ‘আমরা আজকে শান্তিপূর্ণ ও গণতন্ত্রিক আন্দোলন কর্মসূচি পালন করব। আমাদের আন্দোলন জনদুর্ভোগ তৈরি করার জন্য নয়। আমাদের কর্মসূচি জনমত ও ন্যায়ের কর্মসূচি। আমরা আশা করি, অন্তর্বতী সরকার এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন যাতে জনদূর্ভোগ কম হয়।’
দুপুর দেড়টার দিকে ১টা ৩০ মিনিটে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি চলছিল।
গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেলে করে আসা দুই আততায়ীর একজন চলন্ত রিকশায় থাকা ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
কিন্তু সেখানে অবস্থার খুব বেশি পরিবর্তন না হওয়ায় আজ (সোমবার) দুপুরে হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছে।
১৮ দিন আগে
শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিতে অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ চালু হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
জাতীয় নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসীদের দমনের উদ্দেশ্যে অবিলম্বে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’ চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান।
উপদেষ্টা বলেন, লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে। এটিকে আরও জোরদার ও বেগবান করার জন্য এবং ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসীদের দমনের উদ্দেশ্যে কোর কমিটি ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’ অবিলম্বে চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটি সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করবে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করছে এবং বিষয়টিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
তিনি বলেন, অনতিবিলম্বে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেxয়া হয়েছে। এ হামলায় জড়িত কাউকে কোনোপ্রকার ছাড় দেxয়া হবে না।
উপদেষ্টা এ বিষয়ে জনগণের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন এবং অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ওসমান হাদির ওপর আক্রমণের ঘটনা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার অপপ্রয়াস। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত বা বানচাল করার যেকোনো ধরনের অপচেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের কেউ ধরিয়ে দিতে পারলে সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। উপদেষ্টা এ সময় ওসমান হাদির দ্রুত সুস্থতার জন্য সবাইকে দোয়া করার অনুরোধ করেন।
তিনি আরও বলেন, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে এতদিন শুধু সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারীদের অনুকূলে ইস্যু করা হতো। এখন জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থীদের মধ্যে যারা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স চাইবে, তাদেরও লাইসেন্স ইস্যু করা হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরলে তার নিরাপত্তায় কি ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে—সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, সরকার তারেক রহমানের নিরাপত্তায় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এবং তার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী, মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
২০ দিন আগে
হাদির হামলাকারীদের ধরিয়ে দিতে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টায় জড়িতদের ধরিয়ে দিতে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে সরকার।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
তিনি বলেন, ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার সঙ্গে জড়িত আসামিদের ধরিয়ে দিতে পারলে তার জন্য সরকার ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে। আপনারা সবাই ওসমান হাদির জন্য দোয়া করবেন, উনি ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে আছে। আমাদের সবার দোয়ায়, আল্লাহ দিলে উনি আবার ফিরে আসতে পারবেন।
তিনি বলেন, ওসমান হাদির ওপর আক্রমণের ঘটনা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার অপপ্রয়াস বলে আমরা মনে করি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার যে কোনো ধরনের অপচেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকার কঠোর হস্তে দমন করবে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই অভ্যুত্থানে সম্মুখ সারির যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সম্মুখ সারির যোদ্ধা ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে। এ বিষয়টিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। অনতিবিলম্বে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, অতি দ্রুত দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারব।
২০ দিন আগে
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য প্রশিক্ষণ, বডি ওর্ন ক্যামেরা ক্রয়, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুতের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণসহ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ১৭তম সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, যেকোনো প্রস্তুতি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য প্রশিক্ষণ অনস্বীকার্য। প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। তাই আমরা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, নিরাপদ, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য প্রশিক্ষণ চলমান রেখেছি, যা আগামী জানুয়ারিতে সম্পূর্ণ শেষ হবে।
তিনি বলেন, এ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে, যা সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে। তাই এবার সূর্যের আলো চলে গেলেও ভোট গণনা করতে হবে। সেজন্য সকল ভোটকেন্দ্রে যেন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকে সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, জুলাই জাদুঘর জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার আগে আমরা এর নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলাপ করেছি, যাতে দর্শনার্থীরা নিরাপদে জাদুঘরে আসা-যাওয়া করতে পারেন।
রংপুরে এক মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্ত্রীকে হত্যার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।
নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে চাই।
এ সময় ‘জাতীয় পার্টিকে মাঠে নামতে দেওয়া হচ্ছে না’ এমন অভিযোগ সঠিক নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। জাতীয় পার্টির কার্যালয় নিয়ে তাদের নিজেদের মধ্যেই ঝামেলা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা।
তার ভাষ্যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাকে মাঠে নামতে দিচ্ছে না? পুরো মাঠ তো তারাই (রাজনৈতিক নেতারা) দখল করে রেখেছে। কে কী বলল, তা তো নয়। অনেক আছেন, ঘর থেকে বের হতে চান না। বলেন—ভাই, আমি ঘর থেকে বের হতে পারছি না। তার শরীরের অবস্থা এমন যে, বাইরে বের হলে তার ঠান্ডা লাগবে, সে এজন্য বের হতে পারে না। সে ঘরে কম্পিউটারের মধ্যে থাকে। সে ভাবে, বাইরে গেলেই তো আবার ঠান্ডা লাগবে, সর্দি-কাশি হতে পারে। তাকে তো আমরা বের হতে না করছি না।
ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি, আইজিপি বাহারুল আলম, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
২৫ দিন আগে
আমার ছেলেমেয়ে দেশে, আমি একা সেফ এক্সিট নিয়ে কী করব: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সম্প্রতি উপদেষ্টারা সেফ এক্সিট চাচ্ছেন—এমন একটি বক্তব্য প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, তার ছেলেমেয়েরা সবাই দেশেই আছেন। তিনি একা একা সেফ এক্সিট নিয়ে কী করবেন।
রোববার (১২ অক্টোবর) আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত উপদেষ্টাদের সেফ এক্সিট প্রসঙ্গে তিনিও এমন কিছু চান কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘কে কী চায় সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। আমার ছেলেমেয়ে সবাই দেশে। আমি একা সেফ এক্সিট নিয়ে কী করব?’
এরপর বেহাত হওয়া কতগুলো অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা আইজিপির সঙ্গে কথা বলে পরের সভায় হয়তো জানাতে পারব।’
আরও পড়ুন: আসন্ন ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সরকার বদ্ধপরিকর: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
নির্বাচনের সময় কেউ যাতে কোনো অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারে, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও আশ্বাস দেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
তিনি আরও বলেন, ‘সব অস্ত্র সব সময় উদ্ধার হয় না, কিছু অস্ত্র তো বাইরে থাকে। এজন্যই তো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজন হয়। যদি সব অস্ত্র উদ্ধার হয়ে যেত, তাহলে তো আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাগত না, নির্বাচন স্বাভাবিকভাবেই হয়ে যেত। কোনো ধরনের অসুবিধা নেই। আল্লাহ চাইলে ভালোভাবে নির্বাচন হবে।’
এদিকে, অভিযুক্ত সেনাবাহিনীর সদস্যদের সেনাবাহিনীর হেফাজতে রেখেই বিচারকার্য করার কথা উঠছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কোনো নির্দেশনা আছে কিনা জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, আইনে যেটা আছে, সেটাই করা হবে।
৮২ দিন আগে
মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে 'জুলাই বীরত্ব' ও 'জুলাই আত্মত্যাগ' গ্রাফিতির উদ্বোধন
মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে অঙ্কিত গ্রাফিতি 'জুলাই বীরত্ব' ও 'জুলাই আত্মত্যাগ'র উদ্বোধন করা হয়েছে।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী গ্রাফিতির উদ্বোধন করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের স্মরণে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে অঙ্কিত গ্রাফিতির মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা রাখা বীর যোদ্ধা ও শহীদ হওয়া বীরদের আত্মত্যাগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গ্রাফিতিটিতে জায়গা পেয়েছে জুলাই আন্দোলনের বীরযোদ্ধা রিকশা চালক মোহাম্মদ সুজন, আন্দোলনে নারী শিক্ষার্থীদের বীরত্ব, রংপুরে শহীদ আবু সাঈদ ও নিহত শহীদ গোলাম নাফিজ।
উদ্বোধনের সময় উপদেষ্টা বলেন, যারা জুলাই আন্দোলন ও গ্রাফিতির বিরুদ্ধে তারা আর কখনো ফিরে আসবে না। যারা জুলাই আন্দোলনে আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের এই আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আপনাদের মনে কখনো সৃন্দেহ রাখবেন না যে এই গ্রাফিতি থাকবে না। সামনে নির্বাচিত সরকার আসলেও এই গ্রাফিতি না রাখার কোনো কারণ নেই বলে উল্লেখ করে তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, জুলাই ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের স্মরণে অঙ্কিত গ্রাফিতি "জুলাই বীরত্ব" ও "জুলাই আত্মত্যাগ" স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য তরুণ সমাজের আত্মত্যাগের কথা আমাদের জাতিকে বারবার স্মরণ করিয়ে দিবে।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের স্মরণে গ্রাফিতি অঙ্কনের এ উদ্যোগ তরুণ সমাজকে অনুপ্রাণিত করবে সত্য, ন্যায়, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের চেতনায় উজ্জীবিত হতে। আমাদের দায়িত্ব হবে তাদের এ ত্যাগকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা এবং একইসাথে দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য তাঁদের আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করা।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, জুলাই পুনর্জাগরণ ও তারুণ্যের উৎসব ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষ্যে পদ্মা সেতুর উভয় প্রান্তের ম্যুরাল চত্বরে জুলাই বিপ্লবের বীরত্ব ও আত্মত্যাগকে মূল উপজীব্য করে ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখার উদ্দেশ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টার নির্দেশনা এবং সংস্কৃতি উপদেষ্টার পরামর্শ অনুযায়ী গ্রাফিতি অঙ্কন করা হয়েছে।
১০৪ দিন আগে
ছাত্র সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা জাতীয় নির্বাচনে কাজে লাগবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও নিরাপদভাবে অনুষ্ঠানে কাজে লাগবে।’
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘ইতোমধ্যে ডাকসু ও জাকসু নির্বাচন নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিগগিরই রাকসু ও চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’
‘আজকের সভায় ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রক্টর ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমাদের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে, তাই এ নির্বাচনগুলো দেখে আমাদের কিছু অভিজ্ঞতা হচ্ছে। সে অভিজ্ঞতা জাতীয় নির্বাচনে কীভাবে প্রয়োগ করা যায়, সেটা শেয়ারের জন্য আজকের এ সভা হয়েছে।’
‘তাছাড়া যেহেতু ইতোমধ্যে দুইটা ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সে দুইটা নির্বাচনের ছোটখাটো ভুলগুলো কীভাবে সমাধান করা যায়— সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।’
উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আজকের সভায় নির্বাচন বিষয়ে যেসব ভালো পরামর্শ এসেছে, তা আমরা ভবিষ্যতে কাজে লাগাব। নির্বাচনের বিষয়ে যেসব পরামর্শ এসেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা নির্ধারণ, ভোট গণনার প্রক্রিয়া নির্ধারণ, কালি কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, ইত্যাদি। তাছাড়া নির্বাচনের ফলাফল দ্রুত ঘোষণার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ, ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের ছবি যুক্ত আইডিকার্ড, স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রণয়ন ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘রাকসু ও চাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রতিষ্ঠানদুটির কোনো উদ্বেগ নেই। দুটি নির্বাচনই সুষ্ঠু, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’
নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানান উপদেষ্টা। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অনুরোধ করেন এবং সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
ব্রিফিং অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার উপস্থিত ছিলেন।
১০৬ দিন আগে