বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন
নড়াইলে ‘জুলাই যোদ্ধাদের মারতে’ পুরস্কার ঘোষণা, থানায় অভিযোগ
নড়াইলে জুলাই যোদ্ধা ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রদের মারার জন্য ফেসবুকে দেড় লাখ করে টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ১১ জনকে উল্লেখ করে নড়াইল সদর থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নড়াইল জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম রানা এ অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জুলাই মাস আসায় বিভিন্ন সময়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের মারতে পারলে ফেসবুকে দেড় লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা করেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পলাতক কয়েকজন নেতাকর্মী।
অভিযুক্তরা হলেন— বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদ নড়াইলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মো. মিজানুর রহমান নয়ন (৩৮), সহ-সভাপতি সৌরভ কর্মকার (২৬), ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগরী উত্তর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সজিবুল ইসলাম হৃদয় (২৬), একই এলাকার শাহাদাত হোসেন রায়হান (২৫), চাচই গ্রামের ইমন শিকদার (২৪), লোহাগড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিলন জমাদ্দার (২৯), মল্লিকপুর গ্রামের মো. ইস্রাফিল (২৫), কামেশ্বরপুর গ্রামের মো. সজীব চৌধুরী (২৬), কালনা গ্রামের এস কে আসলাম (২৫), নড়াইল পৌরসভার আব্দুল্লাহ আল জাবের লোটাস (৪০) ও সদর উপজেলার সিবানন্দপুর গ্রামের জুবায়ের শেখ (২০)।
আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই আসায় আওয়ামী লীগ পাগল হয়ে গেছে। বিদেশে বা বিভিন্ন অজ্ঞাত স্থানে পালিয়ে থেকে তারা এ ধরনের হুমকি দিচ্ছে। কিছুদিন আগে আমার ওপর হামলা করা হয়েছে বলে মিথ্যা গুজব ছড়িয়েছে। তাদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। আমরা আইনের দ্বারস্থ হয়েছি। প্রতিকার চাই, তবে প্রতিকার না পেলে আমরা প্রস্তুত আছি পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য।’
অভিযুক্ত নড়াইল পৌরসভার আব্দুল্লাহ আল জাবের লোটাস বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে তাদের কাউকে আমি চিনি না। তাদের সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। আর যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তাদেরও কাউকে আমি চিনি না। তাদের মারতে কেন টাকা খরচ করতে যাব।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৯ দিন আগে
সিলেটে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার
সিলেটের গোলাপগঞ্জে পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দীপনকে (৩৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (২১ জুন) ভোররাতে উপজেলার রণকেলী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল ইসলাম বলে, গ্রেপ্তার দেলোয়ার হোসেন দীপন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হওয়া একাধিক মামলার আসামি। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
তিনি আরও জানান, মামলাগুলোর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২৪ দিন আগে
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হওয়া মানবতাবিরোধী মামলাগুলো যাচাই-বাছাই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর, অর্থাৎ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে হওয়া মানবতাবিরোধী মামলাগুলো যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য জেলা পর্যায়ে থেকে মামলাগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের চতুর্থ ও শেষ দিনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান। স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ অধিবেশন হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্টের পরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু মামলা হয়েছে, যেগুলো গণহত্যার মামলা এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা। জেলা পর্যায়ে কতগুলো মামলা সেরকম দাখিল হয়েছে, আজকে সে ব্যাপারে আমরা তাদের (ডিসি) কাছে তালিকা চেয়েছি। এগুলো প্রত্যন্ত জেলাগুলোতে হয়তো কম, কিন্তু মহানগরগুলোতে সংখ্যাটা একটু বেশি। অনেক মামলার মধ্যে হাজার হাজার মানুষকে আসামি করা হয়েছে, সেগুলো আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব প্রকৃত অর্থে প্রকৃত আসামি কারা। তদন্ত কর্মকর্তারা এ বিষয়ে তদন্ত করে দেখবেন যাতে স্বল্প সময়ের ভেতরে সেগুলোর নিষ্পত্তি করা যায়।
তিনি বলেন, যাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তাদের যাতে নিষ্কৃতি দেওয়া হয়, সেই সুপারিশ আমরা করেছি। তবে এটা আইনানুগভাবে, আইনি প্রক্রিয়ায় হবে।
ডিসিদের মামলাগুলো পাঠানোর জন্য কত দিন সময় দেওয়া হয়েছে—জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমরা বলেছি এটা যথাশীঘ্র সম্ভব পাঠাতে। মৌখিকভাবে বলেছি সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে পাঠাতে। তবে কোনো ক্ষেত্রে কেউ যদি বিলম্ব করে থাকে, আমরা ন্যায়বিচারের স্বার্থে সেটা বিবেচনা করব। আশা করি যারা মামলা প্রত্যাহার চান, তারা বিলম্ব করবেন না।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জেলা পর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হয়েছে। এতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার, পাবলিক প্রসিকিউটর (সরকারি কৌঁসুলি) এবং আরও একজন প্রতিনিধি আছেন। এই কমিটি প্রজ্ঞাপন জারি করে জানিয়েছে, যদি কারও বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা ভুয়া/মিথ্যা মামলা হয়ে থাকে, তাহলে তিনি নির্দিষ্ট একটি ফরমে আবেদন করতে পারবেন।
তিনি জানান, আবেদনের সঙ্গে এফআইআর, এজাহার বা চার্জশিট (যদি হয়ে থাকে) এবং মামলাটি কোন আদালতে চলছে—এসব তথ্য দিতে হবে। এরপর কমিটি যাচাই-বাছাই করে দেখবে, মামলাটি সত্যিই এ ধরনের কি না। যদি তা প্রমাণিত হয়, তাহলে তারা মামলা প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশ করবে।
মন্ত্রী জানান, এই আবেদনগুলো প্রথমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যাবে। সেখানে সঙ্গে সঙ্গে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। পরে সেগুলো আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আইনমন্ত্রীর সভাপতিত্বে থাকা একটি কমিটি বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবে। তারা যদি মনে করে কোনো মামলা প্রত্যাহারের উপযুক্ত, তাহলে তা আবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৪ ধারার অনুযায়ী মামলাগুলো প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সময়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় বা হয়রানিমূলক উদ্দেশ্যে যেসব ভুয়া ও গায়েবি মামলা করা হয়েছিল, সেগুলোর বিষয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর আবারও একটি পত্র দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কিছু মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, তবে তখন কিছু ধরনের মামলা এর আওতায় আনা হয়নি, যেমন: হত্যা, অস্ত্র, নারী নির্যাতন, মাদক পাচার ও মানব পাচারের মামলা।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক সরকার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখেছি, আমাদের বিরুদ্ধেও অনেক হত্যা ও অস্ত্র মামলা দেওয়া হয়েছিল। এমনকি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও অন্তত দুই-তিনটি হত্যা মামলা ছিল—যাত্রাবাড়ী, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে। চৌদ্দগ্রামের মামলাসহ আমার বিরুদ্ধেও একই ধরনের মামলা ছিল; অস্ত্র মামলাও ছিল। আমাদের অনেক নেতার বিরুদ্ধে মাদক ও নারী নির্যাতনের মামলাও দেওয়া হয়েছিল, যাতে যেকোনোভাবে আটক রাখা যায়।
৭১ দিন আগে
রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মিঠু গ্রেপ্তার
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত ছাত্রনেতা নাদিমুল হক এলেম হত্যা মামলায় সূত্রাপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সারোয়ার উদ্দীন মিঠুকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানার নারিন্দা রোডের নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে আজ মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।
গত বছরের ১৯ জুলাই পুরান ঢাকার কবি নজরুল কলেজসংলগ্ন পাতলা খান লেনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন শেখ বোরহানউদ্দিন কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী নাফিমুল হক ওরফে এলেম।
তিনি জানান, গত বছরের ১৯ জুলাই পুরান ঢাকার কবি নজরুল কলেজের মোড়-সংলগ্ন পাতলা খান লেনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ও শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী নাদিমুল হক এলেম। এ ঘটনায় নিহতের মা ইসমত আরা বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ মোট ৮৯ জনকে আসামি করে সূত্রাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। একই ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মো. শামসুল আলম আরেফিনও সূত্রাপুর থানায় আরেকটি মামলা করেন। বর্তমানে ঘটনাটির তদন্ত কার্যক্রম সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ বিভাগ পরিচালনা করছে। এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সাবেক এমপি বাহার ও মেয়ের ১৭ কোটি টাকা অবরুদ্ধ করল সিআইডি
সারোয়ার উদ্দিন আহমেদ মিঠুকে রিমান্ডের আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে উপস্থাপন ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন।
তিনি আরও জানান, অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অন্যান্য জড়িতদের সনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৩১৭ দিন আগে
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলায় আমুসহ গ্রেপ্তার সাত সাবেক মন্ত্রী-এমপি
রাজধানীর যাত্রাবাড়ি থানায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত সাতটি পৃথক মামলায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (১৪ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিনহাজুর রহমান শুনানি শেষে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এদিন তাদের আদালতে উপস্থিত করা হয়।
অন্য আসামিরা হলেন— সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক এমপি কাজী মনিরুল ইসলাম মনু।
এর মধ্যে আনিসুল হককে তিন মামলায়, আমু, ইনু, মেনন ও পলককে দুই মামলায়, মনিরুল ইসলাম মনুকে তিন মামলায় এবং শাজাহান খানকে এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সব মামলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতা, হত্যা ও হত্যাচেষ্টা সংক্রান্ত।
এদিকে, আলোচিত শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদ (মোস্তাকীন) হত্যা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলমের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আরও পড়ুন: হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মমতাজ চার দিনের রিমান্ডে
গত ১২ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক তাপসচন্দ্র পন্ডিত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী। অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি প্রয়োজনে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুরোধ করেন। তবে শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর সময় শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদ একটি মিছিলে অংশ নেন। মিছিলটি শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট এলাকায় পৌঁছালে ছাত্রজনতার ওপর আসামিরা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হন জুনায়েদ। পরে মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ৫ সেপ্টেম্বর বংশাল থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।
৪২৮ দিন আগে
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনার মামলায় গ্রেপ্তারে ঊর্ধ্বতনের অনুমতির সিদ্ধান্ত স্থগিত
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় করা মামলায় আসামি গ্রেপ্তারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি-সংক্রান্ত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের জারি করা সার্কুলারের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।
একইসঙ্গে আসামিদের গ্রেপ্তারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিতে হবে মর্মে ডিএমপি কমিশনারের পক্ষে স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ কেন বেআইনি হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
এক রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার (২৩ এপ্রিল) রুলসহ এই আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, দেশ ও জাতির স্বার্থে এই মামলায় বিনা পয়সায় লড়েছি।
আরও পড়ুন: জুলাই আন্দোলন নিয়ে চলচ্চিত্র ‘দ্য রিমান্ড’ প্রদর্শনীর অনুমতি দিতে নির্দেশ হাইকোর্টের
এর আগে গত ৯ এপ্রিল ঢাকা মহানগর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলায় আসামি গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়।
আদেশে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে এজাহারভুক্ত আসামির সংখ্যা অধিক। এসব মামলার এজাহারভুক্ত কিংবা তদন্তে প্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে উপযুক্ত প্রমাণসহ অবশ্যই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।
উপযুক্ত প্রমাণ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনার মামলার এজাহারভুক্ত কিংবা তদন্তে প্রাপ্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার না করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। এই আদেশের বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জসিম উদ্দিন গত রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট করেন।
৪৪৯ দিন আগে
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট মামলায় গুরুত্ব দিতে ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশ
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর রাজারবাগ বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে জানুয়ারি মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে হওয়া মামলাগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করতে হবে। মামলা তদন্তে অগ্রগতির পাশাপাশি মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়াতে হবে। মাদক উদ্ধার ও ওয়ারেন্ট তামিলে আরও তৎপর হতে হবে।’
আরও পড়ুন: রাজশাহী সারদা পুলিশ একাডেমী থেকে এসপি তানভীর আটক
তিনি বলেন, “বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অভিযান শুরু হয়েছে। গত ১৫ বছরে যারা গুম, লুটপাট, চাঁদাবাজি ও গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিল, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। ঢাকা মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”
ছিনতাইকারী ও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তারে ডিএমপির থানা ও ফাঁড়িগুলোকে আরও বেশি তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় পুলিশকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে বলে পরামর্শ দেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
ঢাকা শহরের যানজট নিয়ে সাজ্জাত আলী বলেন, ‘একটি রাস্তা বন্ধ হলে অন্য রাস্তাগুলো বন্ধ হয়ে যায়। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন রাস্তা বন্ধ করে সরকারের কাছে তাদের দাবি জানাচ্ছে। রাস্তা বন্ধ করে দাবি আদায়ের এ চর্চা বন্ধ করতে হবে।’
ওভার স্পিড নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে ট্রাফিক বিভাগকে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেন ডিএমপি কমিশনার।
সভায় যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন জানুয়ারি মাসের সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি যেমন- ডাকাতি, দস্যুতা, চুরি, খুন, অপমৃত্যু, সড়ক দুর্ঘটনা, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র উদ্ধারসহ বিভিন্ন মামলা-সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করেন।
অপরাধ পর্যালোচনা সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. সরওয়ার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনার, ডিএমপির সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৫১৯ দিন আগে
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে চোখ হারানো সাইদুল পেল জীবিকার মাধ্যম
জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিতে চোখের আলো হারিয়ে অন্ধকারে ডুবে যান পটুয়াখালীর যুবক সাইদুল। তবে, তার জীবনে নতুন করে আশার আলো জ্বালিয়েছে কিছু হৃদয়বান মানুষ। বাড়িয়েছেন সাহায্যের হাত। তুলে দিয়েছেন জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম একটি রিকশা।
সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের ড. আখতার উদ্দিন মিলনায়তনে সাইদুলের হাতে রিকশাটি তুলে দেওয়া হয়।
উপহারটি সাইদুলের হাতে তুলে দেন পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও দি ডেইলি স্টারের পটুয়াখালী প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন।
আরও পড়ুন: বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা-পুনর্বাসনে একযোগে কাজ করতে হবে: স্বাস্থ্য উপদেষ্টা
সাইদুলের জীবন নিয়ে গণমাধ্যমে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হলে হৃদয়বানদের নজরে পড়ে। তিনি ওই গণমাধ্যম কর্মীর মাধ্যমে সাইদুলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা উপহার দেন।
রিকশাটি পেয়ে সাইদুল বলেন, ‘আমি কৃতজ্ঞ।’ আমার এই সময়ে যারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন তাদের প্রতি শুভকামনা। এখন আমি রিকশাটির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতে পারব। সমাজের হৃদয়বান এসব মানুষের জন্য আজও মানবতা টিকে আছে। এছাড়া আমার দুঃসময়ে স্ত্রী আমাকে তালাক দিয়ে দেড় বছরের একমাত্র মেয়েকে নিয়ে চলে গেছে।
তিনি আরও জানান, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন আন্দোলনে শামিল হন তিনি। ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে আন্দোলনের সময় চোখে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে প্রায় অর্ধশতাধিক স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। ওই সময় আন্দোলনে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও জনতা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে এক সপ্তাহ ভর্তি থাকার সময় তার চোখ থেকে স্প্লিন্টার বের করা হয়। পরে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আরও এক সপ্তাহ চিকিৎসা নেন তিনি। সেখানে তার চোখে অপারেশন করা হয়। স্প্লিন্টারের আঘাতে তার বাম চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করল জাবির বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মীরা
৫৭০ দিন আগে
ফেনীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার অভিযোগে যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ফেনীতে ছাত্র-জনতার ওপর অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগে যুবলীগ নেতা কামরুল হাসান প্রকাশ ওরফে বোমা কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রবিবার দিবাগত রাতে কাজীরবাগ ইউনিয়নের মধ্যম সোনাপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: সাবেক মন্ত্রী ইমরান গ্রেপ্তার
কামরুল কাজীরবাগ ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের প্রচার সম্পাদক ছিলেন।
যৌথবাহিনী সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কামরুলের সশস্ত্র হামলার একটি সিসিটিভি ফুটেজের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসময় তাকে মুখে কাপড় বেঁধে থাকতে দেখা যায়।
৬৩৩ দিন আগে
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থী কাউসারের মৃত্যু
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামের নিউমার্কেট মোড়ে পুলিশের ছোঁড়া টিয়ারশেল ও ছাত্রলীগের হামলায় আহত কাউসার মাহমুদ মারা গেছেন।
রবিবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তারা।
মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করে নিহত কাউসারের বাবা আব্দুল মোতালেব বলেন, সোমবার সকালে জাতীয় শহীদ মিনারে কাউসারের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে কমার্স কলেজ রোডের বাসায় নিয়ে আসা হবে।
আরও পড়ুন: ফরিদপুরে মদ্যপানে আরও এক কিশোরীর মৃত্যু
গত ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামের নিউমার্কেট মোড়ে পুলিশের ছোঁড়া টিয়ারশেলের আঘাতে আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন কাউসার। তখন তার ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে কিডনিতে আঘাত পান তিনি। আগে থেকে একটি কিডনি নষ্ট ছিল কাউসারের।
দীর্ঘ ২ মাসেরও বেশি সময় চট্টগ্রামের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা সিএমএইচে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন কাউসার।
কাউসার বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের বিবিএ ডিপার্টমেন্টের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি লক্ষীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের আব্দুল মোতালেবের ছেলে। আব্দুল মোতালেব নগরীর ডবলমুরিং থানার চট্টগ্রাম কর্মাস কলেজ রোডে দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। মোগলটুলীতে মুদির দোকান রয়েছে তার।
আরও পড়ুন: মৃত মাকে দেখতে যাওয়ার পথে মৃত্যু হলো মেয়ে-ননদের
৬৪০ দিন আগে