রায়ো ভায়েকানো
আতলেতিকোকে টপকে ফের বার্সেলোনাকে ধরল রিয়াল
গত সপ্তাহে রিয়ালের হারের সুযোগ কাজে লাগিয়ে যেমন দুইয়ে উঠেছিল আতলেতিকো, এ সপ্তাহে ঘটেছে তার ঠিক উল্টো ঘটনা। আতলেতিকোর হারের সুযোগ কাজে লাগিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। আর তাতে করে শিরোপার লড়াইয়ে ফের বার্সেলোনার সমান পয়েন্ট নিয়ে তাদের পাশে বসেছে মাদ্রিদ জায়ান্টরা।
সান্তিয়াগো বের্নাবেউতে রবিবার (৯ মার্চ) লা লিগার ২৭তম রাউন্ডের ম্যাচে রায়ো ভায়েকানোকে ২-১ গোলে হারিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল।
এদিন ম্যাচের ৩০ ও ৩৪তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল। এরপর বিরতির আগে একটি গোল পরিশোধ করে ভায়েকানো।
দ্বিতীয়ার্ধে রিয়াল মাদ্রিদের নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের সুযোগ কাজে লাগিয়ে একের পর এক চেষ্টাও চালায় সফরকারীরা। তবে কিছুতেই আর রিয়ালের জালে বল পাঠাতে পারেনি তারা। ফলে ২-১ গোলের হার নিয়েই ঘরে ফিরতে হয়েছে ভায়েকানোকে।
আরও পড়ুন: প্রথমে গোল পেয়েও হেরে সুযোগ হাতছাড়া করল আতলেতিকো
প্রথমার্ধে চেনা ছন্দে খেললেও বিরতির পর আর খুঁজে পাওয়া যায়নি রিয়ালের আক্রমণের ধার। প্রথমার্ধে ৫৬ শতাংশ সময় পজেশন ধরে রেখে মোট আটটি শট নেওয়া মাদ্রিদিস্তারা, যার পাঁচটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। অথচ বিরতির পর শট নেয় মাত্র দুটি, যার একটিও লক্ষ্যে ছিল না।
দ্বিতীয়ার্ধে বল দখলেও আধিপত্য বিস্তার করে ভায়েকানোর খেলোয়াড়রা। রিয়ালের ৩৭ শতাংশের বিপরীতে ৬৩ শতাংশ সময় পজেশন ধরে রেখে আটটি শট নেয় দলটি, যার তিনটি লক্ষ্যে ছিল। সব মিলিয়ে এদিন রিয়ালের গোলের উদ্দেশ্যে মোট ২০টি শট নিয়ে তাক লাগিয়ে দেয় ভায়েকাসের দলটি।
তাই জিতলেও চলতি মৌসুমে অন্য এক আশঙ্কার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে বর্তমান লা লিগা চ্যাম্পিয়নরা। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৬ ম্যাচে ৫১ গোল হজম করেছে রিয়াল। লা লিগার দলগুলোর মধ্যে এই সংখ্যাটি তৃতীয় সর্বোচ্চ। পয়েন্ট টেবিলের ১৬তম দল ভালেন্সিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে রিয়াল। তাদের চেয়ে বেশি গোল খাওয়া দল কেবল জিরোনা (৫২) ও রিয়াল ভায়াদোলিদ (৬৮)।
১৮ দিন আগে
রেফারিং নিয়ে ফের বিতর্ক, তবে জিতে দুই মাদ্রিদকে টপকে শীর্ষে বার্সেলোনা
রেফারিদের আলোচনার কেন্দ্রে রেখে একটি সপ্তাহ শেষ করল লা লিগা। প্রথমে রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচে বিতর্কিত লাল কার্ড দেওয়া ও রিয়ালের জয়বঞ্চিত থাকা, এরপর আতলেতিকো মাদ্রিদ ম্যাচে শুরুতেই লাল কার্ড দেওয়ায় দশজন নিয়ে খেলে তাদের কোনোমতে হার এড়ানোর মতো ঘটনার পর রায়ো ভায়েকানোর একটি গোল অফসাইডে বাতিল করে বার্সেলোনার ড্রয়ের সম্ভাবনাকে জয়ে পরিণত করার মধ্য দিয়ে শেষ হলো সপ্তাহ।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বার্সেলোনার অলিম্পিক স্টেডিয়ামে ১-০ গোলে হেরেছে রায়ো ভায়েকানো।
পেনাল্টি থেকে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করে এদিন বার্সাকে জিতিয়েছেন রবের্ট লেভানডোভস্কি।
এই জয়ে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ তিন স্থান ওলট-পালট হয়ে গেছে।
লিগের ২৪তম রাউন্ডে মাদ্রিদের দুই দল ড্র করে দুই পয়েন্ট করে হারানোর সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিন নম্বর থেকে ফের পয়েন্ট টেবিলের চূড়ায় উঠে গেছে বার্সেলোনা।
আরও পড়ুন: ওসাসুনায় ড্র, শীর্ষস্থান থেকে তিনে নেমে যাওয়ার শঙ্কায় রিয়াল মাদ্রিদ
২৪ ম্যাচে ১৬ জয় ও ৩ ড্রয়ে দলটির পয়েন্ট ৫১। সমান ম্যাচে ১৫ জয় ও ৬ ড্রয়ে সমান পয়েন্ট নিয়েও বার্সার চেয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় শীর্ষস্থান থেকে দুইয়ে নেমে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ। আর ১৪ জয় ও ৮ ড্রয়ে ৫০ পয়েন্ট নিয়ে দুই থেকে তিনে অবনমন হয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদের।
এতে করে লিগের শীর্ষ তিন দলের পয়েন্ট ব্যবধান ৩ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১-এ। ফলে মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে এসে জমে গেছে শিরোপার লড়াই।
এদিন একটির বেশি গোল করতে না পারলেও ম্যাচে পরিষ্কার ফেবারিট ছিল কাতালানরাই। ম্যাচজুড়ে ৬০ শতাংশ সময় বলের দখল রেখে গোলের উদ্দেশে মোট ১৪টি শট নিয়ে তার পাঁচটি লক্ষ্যে রাখে হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। অপরদিকে, রায়োর আটটি শটের চারটি লক্ষ্যে ছিল।
৩৮ দিন আগে
অভিষেক ম্যাচে গোল করে বার্সেলোনাকে জেতালেন অলমো
লাইপসিগ থেকে দলে ভিড়িয়েও যাকে লিগে নিবন্ধন করাতে পারছিল না বার্সেলোনা, সেই দানি অলমোই অভিষেক ম্যাচে মাঠে নেমে পার্থক্য গড়ে দিলেন। কাতালুনিয়ান জায়ান্টদের তৃতীয় জয়ের রাতে তাই নায়ক বনে গেলেন এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।
মাদ্রিদের ভায়েকাস স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাতে রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় পেয়েছে বার্সেলোনা।
ম্যাচের নবম মিনিটে গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন উনাই লোপেস। তবে দ্বিতীয়ার্ধের ৬০তম মিনিটে গোল করে বার্সাকে পেদ্রি সমতায় ফেরানোর পর ৮২তম মিনিটে দানি অলমোর গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে কাতালানরা।
এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই বার্সেলোনার সঙ্গে সমানে টক্কর দিকে থাকে রায়ো। দুই পক্ষেরই পাল্টাপাল্টি আক্রমণের মাঝে নবম মিনিটে গোল পেয়ে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
আরও পড়ুন: বিলবাওয়ের বিপক্ষে ঘাম ঝরানো জয় বার্সেলোনার
শুরুতেই গোল পেয়ে এরপর থেকে শারীরিক খেলায় মেতে ওঠে রায়োর খেলেয়াড়রা। তারুণ্যনির্ভর বার্সেলোনার ফুটবলাররা তাই প্রতিপক্ষের সামনে খুব বেশি সুবিধা করে উঠতে পারছিলেন না।
বারবার আক্রমণে উঠলেও প্রতিপক্ষের প্রবল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে হয় বল হারিয়ে ফেলছিলেন, নতুবা ভুল পাস দিয়ে বলের ওপর দখর হারাচ্ছিলেন তারা। এর মাঝে সুযোগ পেলেই তীব্র গতিতে আক্রমণে উঠছিল রায়োর খেলোয়াড়রা।
এভাবে সময় গড়িয়ে যেতে থাকলে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বার্সেলোনা। এরপর ৩৭তম মিনিটে রায়োর বক্সের দিকে এগিয়ে গিয়ে দূরের পোস্টে বাঁকানো শট হানেন লামিন ইয়ামাল, কিন্তু শটটি ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক।
৪৩তম মিনিটে একটি পাল্টা আক্রমণে ওঠে রায়ো। তবে শেষ মুহূর্তে বার্সেলোনার ডিফেন্ডারদের প্রচেষ্টায় গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেনকে ভোগাতে পারেনি তারা।
এরপরও গোলের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করে বার্সেলোনা, তবে রায়োর জমাট রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হয়ে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় তারা।
২১২ দিন আগে
লা লিগায় ফিরলেন হামেস রদ্রিগেস
২০২০ সালে রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর অনেকটা পর্যটকের মতো ইংল্যান্ড, গ্রিস ও ব্রাজিলে খেলে অবশেষে লা লিগায় ফিরলেন ২০১৪ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটজয়ী কলম্বিয়ান ফুটবলার হামেস রদ্রিগেস।
ফ্রি ট্রান্সফারে স্প্যানিশ ক্লাব রায়ো ভায়েকানোয় যোগ দিয়েছেন তিনি। এক অফিশিয়াল বিবৃতিতে রদ্রিগেসকে দলে টানার কথা জানিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তবে বিবৃতিতে তার সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
২০১৮ বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর বিশ্বের বড় বড় ক্লাবগুলোর নজরে পড়েন রদ্রিগেস। ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ওই টুর্নামেন্টজুড়ে ৬ গোল করে কলম্বিয়াকে বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা দৌড় কোয়ার্টার ফাইনালে তোলেন তিনি। দারুণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ জেতেন গোল্ডেন বুটও। এছাড়া শেষ ষোলোয় উরুগুয়ের বিপক্ষে দারুণ এক ভলিতে করা তার গোলটিই পরে পুসকাস পুরস্কার জিতে নেয়।
এরপরই প্রায় ৮০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে সান্তিয়াগো বের্নাবেউতে নাম লেখান হামেস। এটি ছিল সে সময়কার সর্বোচ্চ দলবদলগুলোর একটি। ২০২০ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদে কাটিয়ে তিনি যোগ দেন কার্লো আনচেলত্তির দায়িত্ব নেওয়া ইংলিশ ক্লাব এভারটনে। এর মাঝে অবশ্য ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ধারে বায়ার্ন মিউনিখে খেলেন তিনি।
আরও পড়ুন: ভিনিসিউসের জন্য সৌদির ৫০০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব ফেরাল রিয়াল
এভারটন অধ্যায় শেষ করে গ্রিক ক্লাব অলিম্পিয়াকোস ও সবশেষ ব্রাজিলের ক্লাব সাও পাওলোয় যোগ দেন ৩৩ বছর বয়সী এই তারকা মিডফিল্ডার। তবে ইউরোপে ফেরার আশায় গত গ্রীষ্মেই সাও পাওলোর সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে ফ্রি এজেন্ট ছিলেন তিনি।
এরপর সদ্য সমাপ্ত কোপা আমেরিকায় অসাধারণ পারফর্ম করে ফের আলোচনায় আসেন এই তারকা ফুটবলার। দলকে ফাইনালে তোলার পথে একটি গোল ও ছয়টি অ্যাসিস্ট করেন তিনি। ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে কলম্বিয়ার হৃদয় ভাঙলেও হামেস জিতে নেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার।
কোপা আমেরিকার পর স্পেনে ফেরার ইচ্ছার কথা জানান তিনি। এরপর রায়োর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলেন। রায়ো ভায়েকানোর হয়ে খেলতে সৌদি আরবের বড় অঙ্কের প্রস্তাবও তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
চলতি মৌসুমে ক্লাবের শতবর্ষ উদযাপন করছে রায়ো ভায়েকানো। ঐতিহাসিক এই মৌসুমের শুরুটাও দারুণ হয়েছে তাদের। লিগের প্রথম ম্যাচে রিয়াল সোসিয়েদাদকে ২-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে পরের ম্যাচে গেতাফের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে তারা।
আরও পাড়ুন: অবসরের বিষয়ে আগে কাউকে কিছু জানাবেন না রোনালদো
ক্লাবটির এমন স্মরণীয় মুহূর্তে যোগ দিতে পেরে উচ্ছ্বসিত হামেসও। তিনি বলেন, ‘রায়োর মতো একটি ঐতিহাসিক ক্লাবে যোগ দিতে পেরে আমি দারুণ অনুভব করছি। আমি সত্যিই এখানে ভালো কিছু করতে চাই। আমি যেখানেই যাই, এক ধরনের দায়িত্ব অনুভব করি।’
‘আমি জিততে পছন্দ করি। আর ক্লাবের এমন বিশেষ মৌসুমে তো অবশ্যই সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
আজ রাত দেড়টায় ঘরের মাঠে বার্সেলোনাকে আতিথ্য দেবে রায়ো ভায়েকানো।
২১৩ দিন আগে