সংবিধান সংস্কার
দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে না দিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকুন: গোলাম পরওয়ার
দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে না দিয়ে সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে নরসিংদী শিশু একাডেমি মিলনায়তনে দলের সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ আহ্বান জানান।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির জন্য যে গণভোট হয়েছে, সেই গণভোটের রায় মেনে নিয়ে এটা কার্যকর করে সংবিধানের সেই সংস্কারটা করেন। তাহলেই সংকটটা নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। আর তা যদি না করেন, তাহলে রাজপথে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প পথ থাকবে না।
শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা আইনি ব্যাপার, সরকারের ব্যাপার। সরকারই তার দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ রেখেছে। সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারী সরকার জুলাই-আগস্টের সময় সাধারণ মানুষের ওপর যে নিষ্ঠুরতা, বর্বরতা, হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, মৃতদেহকে আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে। এমনকি হ্যালিকপ্টারে করে দেশের মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করেছে— সে ক্ষত চিহ্ন এখনও শুকায়নি। তারা যে অন্যায় করেছে তাদের বিচার হতে হবে, শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, স্বৈরাচারী সরকার সংবিধান মানেনি, তাদের মধ্যে মানবিকতা ছিল না। স্বৈরাচারী সরকারকে জনগণ দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করেছে। বাংলাদেশে তাদের রাজনৈতিক অধিকার হবে কি হবে না, এটা এখন জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। এটা কোনো দলের একার সিদ্ধান্ত না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানই বলে, ফ্যাসিবাদী রাজনীতির অস্তিত্ব এ দেশের মানুষ আর মানে না। গণভোটের রায় এটাই প্রমাণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা দিল্লিতে আশ্রয় পেয়েছেন, এ দেশের রাজনীতির যত গণ্ডগোল পাকানো, জুলুম করানো, কে ক্ষমতায় যাবে আর যাবে না, অর্থনীতি, রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, সংস্কৃতি— সব কিছুর রিমোট কন্ট্রোল তো ওনারাই করেছেন। সমস্ত আন্তর্জাতিক আইন, বন্দি বিনিময় আইন, জেনেভা কনভেনশন, সমস্ত কিছুকে লঙ্ঘন করে একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে সব ধরণের প্রযুক্তিগত সুযোগসুবিধা ব্যবহারসহ আরাম আয়েশে দিল্লিতে থাকার সুযোগ দিয়েছে। এটা কোনোভাবেই স্বাভাবিক বলে মনে করা যাবে না।
নরসিংদী জেলা জামায়াতে ইসলামীর সংগঠক মো. ইব্রাহিম ভূঞার সভাপতিত্বে সদস্য সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আ ফ ম আব্দুস সাত্তার, কর্মপরিষদ সদস্য মশিউল আলমসহ প্রমুখ।
২০ দিন আগে
জনপ্রত্যাশা ও ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে জনপ্রত্যাশা এবং ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর ভিত্তিতে সমঝোতার মাধ্যমে যাবতীয় সংশোধনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
শনিবার (২৮ মার্চ) রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবিধানে জিয়াউর রহমান-এর নাম স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এ সমস্ত বিষয়ে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং সেখানে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা করা হবে। জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আমরা সব কিছুই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রণয়ন করবো। সেখানে বাংলাদেশের মানুষের বর্তমান সময়ের প্রত্যাশা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্বপ্নকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।’
তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ স্বীকৃত বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে সংবিধান সংশোধন কমিটি খসড়া প্রণয়ন করবে। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে বিধি মোতাবেক প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পাঠের মাধ্যমে আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পরে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের নবীন কর্মকর্তাদের মাঝে সনদপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আজ থেকে আপনাদের জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো। এই ইউনিফর্ম কেবল ক্ষমতার প্রতীক নয়; এটি দায়িত্ব, ত্যাগ এবং সেবার প্রতীক।’
এ সময় নবীন কর্মকর্তাদের সততা, সাহস ও মানবিকতার সঙ্গে দেশসেবায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের সদস্যদের সফলভাবে প্রশিক্ষণ সমাপ্তিতে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং তাদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল (অ্যাডিশনাল আইজিপি) জি এম আজিজুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১৩১ দিন আগে
ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাক্ষাৎ
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন।
শনিবার মতিঝিলের ড. কামালের কার্যালয়ে কমিশনের সদস্যরা সাক্ষাৎ করেন।
আরও পড়ুন: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ড. কামালের অভিনন্দন
সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বে কমিশনের সদস্য অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক, অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকরামুল হক, ড. শরীফ ভূঁইয়া, ব্যারিস্টার এম মঈন আলম ফিরোজী, ফিরোজ আহমেদ, মো. মুসতাইন বিল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেন তারা।
ড. কামাল হোসেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধানসহ উপস্হিত সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ায় আস্হা প্রকাশ করেন। তিনি সংবিধানকে সমসাময়িক করার কথা উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রধান ছিলেন ড. কামাল হোসেন।
আরও পড়ুন: নিরপেক্ষ নির্বাচনের কাঠামো গঠনের পরামর্শ ড. কামালের
৬৪২ দিন আগে
সংবিধান সংস্কার কমিশনের নতুন প্রধান হলেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ
সংবিধান সংস্কার কমিশনের নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ সেপ্টেম্বর জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সংস্কার উদ্যোগের জন্য ছয়টি কমিশন গঠনের ঘোষণা দেন এবং প্রতিটি কমিশনের প্রধানদের নাম ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন সংলগ্ন সড়ককে ‘শহীদ ফেলানি সড়ক' নামকরণ
প্রাথমিকভাবে সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে ড. শাহদীন মালিকের নাম ঘোষণা করা হয়। তবে এখন তার জায়গায় অধ্যাপক আলী রীয়াজকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আলী রীয়াজ যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক, আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র নন-রেসিডেন্ট ফেলো এবং আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজের (এআইবিএস) সভাপতি।
আরও পড়ুন: আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ব্যাংকিং কমিশন গঠন করা হবে: ড. ইউনূস
৬৮৬ দিন আগে