ড. আসিফ নজরুল
দেশ পরিচালনায় কিছু ক্ষেত্রে ব্যর্থতার কথা স্বীকার আইন উপদেষ্টার
দেশ পরিচালনায় কিছু ক্ষেত্রে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, পরিস্থিতির উত্তরণে সরকারের আন্তরিকতার ঘাটতি নেই।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহীর পিটিআইয়ের সম্মেলন কক্ষে দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানবাধিকার ও পরিবেশের ওপর গুরুত্বসহ আইন প্রয়োগ বিষয়ক কর্মশালায় এ কথা বলেন তিনি।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, নতুন বাংলাদেশে কয়েকটি ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান নিয়ে কাজ করছে সরকার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পুলিশ বাহিনী।
‘নিয়োগ থেকে শুরু করে বাহিনীটির সবক্ষেত্রেই ভঙ্গুরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় বেশ কিছু জায়গায় ব্যর্থতা থাকলেও তা উত্তরণে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।’
আরও পড়ুন: সাড়ে ১৬ হাজার গায়েবি মামলা প্রত্যাহার হচ্ছে: আইন উপদেষ্টা
আইন উপদেষ্টা বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসররা কোটি কোটি টাকা খরচ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটনোর চেষ্টা করছে। ফ্যাসিবাদের দোসরদের কিছু অংশ দেশের বাইরে পালিয়ে গেলেও অধিকাংশই দেশের ভেতরে অবস্থান করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে, একই অনুষ্ঠানে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, একটি গোষ্ঠী চাচ্ছে না দেশে স্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করুক। চেষ্টা করছে যেভাবে হোক দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে। তবে বর্তমান সরকার মানবাধিকারের ওপরে সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। অপারেশন ডেভিল হান্টে গুরুত্বপূর্ণ অপরাধীরা ধরা পড়ছে বলেও উল্লেখ করেন আইজিপি।
৩০ দিন আগে
সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ হবে কাউন্সিলের মাধ্যমে, অধ্যাদেশ জারি
স্বতন্ত্র কাউন্সিলের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ করা হবে। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) `সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫' এর গেজেট জারি হয়েছে।
এরআগে এদিন সচিবালয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ আইনসহ সমসাময়িক বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এ কথা জানান। গত ১৭ জানুয়ারি অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দেয় উপদেষ্টা পরিষদ।
আইন উপদেষ্টা বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ২০২৫ এর গেজেট আজকে জারি হয়েছে। আপনারা সবাই জানেন, বিগত সরকারের সময় যে অনাচার হতো, মানবাধিকার লঙ্ঘন হতো, মানুষকে যে দমন-নিপীড়ন করা হতো—সেটার একটা বড় প্ল্যাটফর্ম ছিল উচ্চ আদালত। চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরেও মানুষ সেখানে প্রতিকার পেতেন না।
আরও পড়ুন: ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিলে প্রত্যর্পণ চুক্তির লঙ্ঘন হবে: আইন উপদেষ্টা
‘কারণ ছিল উচ্চ আদালতে রাজনৈতিক সরকারগুলো সম্পূর্ণভাবে দলীয় বিবেচনায়, অনেক ক্ষেত্রে অযোগ্য লোকদের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিত। উচ্চ আদালতে বিচারক হিসেবে যদি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষ ও যোগ্য লোক নিয়োগ না পান, তবে ১৮ কোটি মানুষের মানবাধিকারের প্রশ্নটি অমীমাংসিত ও ঝুঁকির মধ্যে থেকে যায়।’
তিনি বলেন, উচ্চ আদালতে দক্ষ, অভিজ্ঞ, দল নিরপেক্ষ, প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিরা বিচারক নিয়োগ পাবেন—এমন একটি চাহিদা সমাজে বহু বছর যাবত ছিল। রাজনৈতিক দল, নাগরিক সংগঠন থেকে এই ধরনের দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল।
আসিফ নজরুল বলেন, অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাতে চাই যে, এই আইনটা হয়েছে। আইনটি রচনা করার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির অফিস থেকে একটা ড্রাফট (খসড়া) পাঠানো হয়েছিল, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন থেকে একটা খসড়া পাঠানো হয়েছিল। ২০০৮ সালে এরকম একটি অধ্যাদেশ করার প্রক্রিয়া ছিল সেটার কপি—কিছু পর্যালোচনা করেছি আমরা। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আমরা একটি পরামর্শক সভা করেছি। আমরা চেষ্টা করেছি ভালো একটা আইন করার জন্য।
আধ্যাদেশে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল করার কথা বলা হয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, সেই কাউন্সিল হবে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দুজন বিচারক, হাইকোর্ট বিভাগের দুজন বিচারক ও এটর্নি জেনারেল—তাদেরকে নিয়ে এ কাউন্সিল গঠন করা হবে।
‘এ কাউন্সিল প্রথমে যাচাই-বাছাই করবে। তারা নিজ উদ্যোগে অনেক নাম সংগ্রহ করবেন। একই সঙ্গে যে কোনো মানুষ, যে কোনো আইনজীবী বা যে কেউ কাউকে রেফার (বিচারপতি নিয়োগ দেওয়ার জন্য) করে চিঠি পাঠাতে পারবেন। সেটা উন্মুক্ত থাকবে। কাউন্সিল প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করার পর ইন্টারভিউ নেবেন।’
আরও পড়ুন: বিবাহ কর বাতিল, ডকুমেন্ট সত্যায়ন এখন অনলাইনে
আসিফ নজরুল বলেন, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে উচ্চ আদালতে বিচারকরা নিয়োগ পাবেন। আশা করছি, উচ্চ আদালতের পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে আগামী তিন মাসের মধ্যে হাইকোর্টে যে পরবর্তী নিয়োগ আছে, আগের যে কোনো আমলের চেয়ে একটা বেটার নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ দিতে পারব।
জুডিশিয়াল সার্ভিস এবং আইনজীবীদের মধ্য থেকে এখন হাইকোর্টে বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়। নতুন আইন অনুযায়ী দুই ক্ষেত্র থেকে নিয়োগের জন্য কোনো অনুপাত নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে কিনা- এ বিষয়ে আসিফ নজরুল বলেন, এটি দীর্ঘদিনের টেনশন—কতজন আইনজীবী থেকে বিচারক করা হবে আর কতজন নিম্ন আদালতের বিচারক থেকে করা হবে। আমরা এটা কাউন্সিলের বিবেচনার ওপর ছেড়ে দিয়েছি। আমরা বলেছি যথোপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব যাতে থাকে।
৬৪ দিন আগে
বিবাহ কর বাতিল, ডকুমেন্ট সত্যায়ন এখন অনলাইনে
বিয়ের ক্ষেত্রে আরোপিত কর বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। এছাড়া সত্যায়ন প্রক্রিয়া এখন থেকে অনলাইনে সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ আইনসহ সমসাময়িক বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এসব কথা জানান।
আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘বিবাহ সম্পাদনে আরোপিত একটা কর ছিল। মন্ত্রণালয় এই অযৌক্তি কর আরোপকে বাতিল করেছে।’
আরও পড়ুন: ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিলে প্রত্যর্পণ চুক্তির লঙ্ঘন হবে: আইন উপদেষ্টা
বিয়ের কর বাতিলের সিদ্ধান্ত কবে থেকে কার্যকর হবে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বিয়ের ট্যাক্সে আজকে সাইন করলাম। আপনি ট্যাক্স ছাড়া বিয়ে করতে পারবেন।’
আসিফ নজরুল বলেন, “এছাড়া বিয়ের ফরমে লেখা থাকত—বিবাহিতা নাকি কুমারী। এটা একটা মেয়ের জন্য অমার্যাদাকর শব্দ। সেটা আমরা (পরিবর্তন করে) ‘অবিবাহিতা’ করে ফেলেছি। এমন ছোটো ছোটো অনেক কাজ করেছি। আরও অনেক কাজ করার চিন্তা আছে।”
ডকুমেন্ট সত্যায়ন প্রক্রিয়া
আসিফ নজরুল বলেন, ‘৩৬ ধরনের ডকুমেন্ট সত্যয়ন করে আইন মন্ত্রণালয়। গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে এই সত্যায়ন প্রক্রিয়াকে অনলাইনভিত্তিক করা হয়েছে। তাই ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে সত্যায়ন করার জন্য জনগণকে আর লাইনে দাঁড়াতে হয় না।’
‘আমি শুনেছি, আমাদের আইন মন্ত্রণালয়ের সামনে দীর্ঘ লাইন থাকত সত্যায়ন করার জন্য। বর্তমান পদ্ধতিতে দুই-একদিনের মধ্যেই ঘরে বসে কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এই পদ্ধতিতে সত্যায়নের পর বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশি দূতাবাসে সার্ভিস ফি দিয়ে সত্যায়ন করা লাগছে না। আমাদের হিসাব অনুযায়ী, এতে বছরে জনগণের ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা বেঁচে যাচ্ছে।’
আরও পড়ুন: অন্তর্ভুক্তিমূলক 'জুলাই ঘোষণা' নিয়ে ঐকমত্য সব দল: আসিফ নজরুল
বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার আনার বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যবিধির আরও কিছু এরিয়া (জায়গা) চিহ্নিত করেছি। ১৫ থেকে ২০টি এরিয়া ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। আমরা আশা করি, সমস্ত আইনগত সংস্কার আগামী ছয় মাসের মধ্যে করব। আমাদের যে প্রত্যাশা, সেই অনুসারে সবগুলো সংস্কার করে যাব।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে বিচার বিভাগ সংস্থার কমিশন করা হয়েছে। তাদের সাহায্য নিয়ে আমরা এ কাজগুলো করার চেষ্টা করছি, যাতে একটা সমন্বয় থাকে।’
৬৪ দিন আগে
যেতে না পারা প্রায় ১৮০০০ কর্মীকে মালয়েশিয়া পাঠানোর বিষয়ে কাজ করছে সরকার: উপদেষ্টা
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, টিকিট জটিলতায় মালয়েশিয়া যেতে না পারা প্রায় ১৮ হাজার কর্মীকে সে দেশে পাঠানোর বিষয়ে কাজ করছে সরকার।
তিনি বলেন, দেশটিতে বন্ধ শ্রমবাজার চালু ও বাংলাদেশের সব রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং কর্মীদের বেতন বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করছে সরকার।
আরও পড়ুন: প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির সংলাপ
প্রবাসীকল্যাণ ভবনের বিজয়-৭১ মিলনায়তনে শনিবার (৫ অক্টোবর) মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন সামাজিক নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন উপদেষ্টা।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সমঝোতা সইকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের সুরক্ষা ও কল্যাণ সুনিশ্চিত করতে ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি।
এসময় তিনি বলেন, দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে প্রবাসী কর্মীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্রবাসীরা বিদেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। প্রত্যেকেই বাংলাদেশের একেকটি পতাকা হয়ে কাজ করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকার পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রমে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। তাদের যথাযথ মূল্যায়ন, প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের কল্যাণমূলক সুরক্ষা নিশ্চিত করা আবশ্যক। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড এ কাজটি নিরলসভাবে করে যাচ্ছে।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রুহুল আমিনের উপস্থিতিতে চুক্তিতে ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ডের মহাপরিচালক মো. হামিদুর রহমান এবং মালয়েশিয়ার পারকেসোরর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ আজমান আজিজ মোহাম্মদ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন।
আরও পড়ুন: রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার সংলাপ শুরু আজ
ঋণ দেওয়ার সময় কঠোর যাচাই-বাছাই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার আহ্বান অর্থ উপদেষ্টার
১৭২ দিন আগে
দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্য বিচার নিশ্চিত করতে চাই: ড. আসিফ নজরুল
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্য বিচার নিশ্চিত করতে চাই। আমরা প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার বিচার চাই না, বরং আমরা সুবিচার নিশ্চিত করতে চাই।
তিনি বলেন, গত জুলাইয়ে হত্যাকাণ্ড জনগণ নিজ চোখে দেখেছেন। একটি বৃদ্ধ প্রজন্ম দেশের তরুণ প্রজন্মকে উন্মত্তভাবে খুনের নেশায় মেতেছিল।
আমাদের বুকের ভেতর যত কষ্ট, হতাশা ও ক্ষোভ থাকুক না কেন এই খুনের বিচারকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে বলেও জানান তিনি।
সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩’ সংশোধন বিষয়ক একটি মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
আরও পড়ুন: শিক্ষার্থী-জনতাকে ধৈর্য ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান আসিফ নজরুলের
উপদেষ্টা বলেন, অতীতে দেখেছি, এদেশে বিচারের নামে কী ধরণের অবিচার হয়েছে। আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ ও আন্তর্জাতিক বিশ্বের কাছে গ্রহণযোগ্য বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা করব।
আসিফ নজরুল বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমকে সচল করার লক্ষ্যে প্রসিকিউশন ও ইনভেস্টিগেশন টিম গঠন করা হয়েছে। এখন আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ট্রাইব্যুনালকে পুনর্গঠন করা।
তিনি আরও বলেন, আমরা এখন ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩’ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। সংস্কার কার্যক্রম এখানেই থেমে থাকবে না। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে আইন সংশোধন করা হবে।
সভায় ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩’ সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত খসড়া সংশোধনী উপস্থাপন করা হয়।
প্রস্তাবিত খসড়া সংশোধনীতে ৪এ, ১৩এ ও ২০এ নামে ৩টি নতুন ধারা ও ৩(৩) ও ১২(২) নামে ২টি নতুন উপধারা যুক্ত করা হয়। এছাড়া ৩(২)(এ), ৪(২) ও ১৯ ধারায় সংশোধন আনার প্রস্তাব করা হয়।
আরও পড়ুন: জনগণের সংস্কার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে নতুন নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যাশার সমন্বয় করেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থাকবে: আসিফ নজরুল
আইনটির প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন, সমবায় এবং ভূমি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা এ. এফ. হাসান আরিফ, শিল্প, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম রব্বানী, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব (চলতি দায়িত্ব) ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী, নির্বাচন কমিশন সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. বদিউল আলম মজুমদার, সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্না, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ ইকতেদার আহমেদ, সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ও অধ্যাপক নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. বেগম আসমা সিদ্দীকা, রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের যুগ্মসচিব (ড্রাফটিং) মো. রফিকুল হাসান, ঢাকাস্থ জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী অফিসের কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন, সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান, আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, সোস্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট ড. জাহেদুর রহমান, সাংবাদিক সাঈদ আব্দুল্লাহ, সানজিদা ইসলাম, শরিফ ভূঁইয়া প্রমুখ তাদের নিজ নিজ মতামত তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: আশা করি সাকিবকে গ্রেপ্তার করা হবে না: আসিফ নজরুল
১৮৪ দিন আগে