পরিবেশমন্ত্রী
পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বাড়ানো হবে: পরিবেশমন্ত্রী
কৃষিজমির উর্বর মাটি রক্ষা, বায়ুদূষণ ও কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং টেকসই নির্মাণব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
রবিবার (১৬ আগস্ট) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বৃদ্ধি ও সরকারি নির্মাণকাজে ব্লক ব্যবহারের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও নির্মাণ খাতের বাস্তব প্রয়োজনের মধ্যে সমন্বয় রেখে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, সরকারি প্রকৌশল দপ্তর, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য অংশীজনকে একযোগে কাজ করতে হবে।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ রক্ষা করে বিনিয়োগ বাড়ানোর পক্ষে। তাই ইটভাটার মালিকদের দ্রুততম সময়ে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে রূপান্তর হতে হবে।
আজ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বৃদ্ধি, সরকারি নির্মাণকাজে ব্লক ব্যবহারের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং ইটশিল্পের সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে পৃথক দুটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রথম সভায় সরকারি নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কারকাজে পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং এর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, সরকারি প্রকৌশল দপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কংক্রিট ব্লক প্রস্তুতকারক মালিক সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
পরিবেশবান্ধব ব্লকের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়াতে কাঁচামাল আমদানির শুল্ক ও কর যৌক্তিকীকরণ, উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট কমানো, কাঁচামাল কেনায় পরিশোধিত ভ্যাটের রেয়াত এবং শিল্পবর্জ্য ও নির্মাণবর্জ্য পুনর্ব্যবহারে প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়।
এসব বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে আলোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় ব্লকের মান নিশ্চিত করতে হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পাশাপাশি গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ অন্যান্য সরকারি প্রকৌশল দপ্তরকে মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিবীক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা এবং প্রকৌশলী, টেকনিশিয়ান ও রাজমিস্ত্রিদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।
দিনের দ্বিতীয় সভায় ইটশিল্প-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ অটো ব্রিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়।
সভায় ইটশিল্পের বিদ্যমান সমস্যা, পরিবেশগত মান ও আইন পরিপালন, কাঁচামাল ও জ্বালানি ব্যবহার এবং অধিকতর পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক উৎপাদনব্যবস্থায় রূপান্তরের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রচলিত ইটভাটার পরিবেশগত প্রভাব কমানো, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, ইট উৎপাদনে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্বয়ংক্রিয় ইট ও পরিবেশবান্ধব ব্লক উৎপাদনের প্রসারে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।
ইটশিল্পের প্রতিনিধিরা খাতটির সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার বিষয়ে তাদের মতামত ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।
মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমের সভাপতিত্বে সভায় জলবায়ু পরিবর্তন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ কংক্রিট ব্লক প্রস্তুতকারক মালিক সমিতি, বাংলাদেশ ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ অটো ব্রিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
হাতির আবাসস্থল রক্ষা হলে মানুষের ভবিষ্যৎও সুরক্ষিত হবে: পরিবেশমন্ত্রী
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, হাতির আবাসস্থল রক্ষা মানে শুধু হাতিকে রক্ষা করা নয়; এর মাধ্যমে বন, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের ভবিষ্যৎও সুরক্ষিত হয়।
তিনি বলেন, হাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; স্থানীয় জনগোষ্ঠী, বন বিভাগের মাঠকর্মী, বেসরকারি সংস্থা, শিক্ষার্থী, তরুণ প্রজন্ম, গবেষক, গণমাধ্যমকর্মীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এ কাজে সম্পৃক্ত হতে হবে।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে বিশ্ব হাতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এ বছরের বিশ্ব হাতি দিবসের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য ‘ব্রিঙ্গিং দ্য ওয়ার্ল্ড টুগেদার টু হেল্প এলিফ্যান্টস’ যার বাংলা প্রতিপাদ্য ‘বিশ্বজুড়ে ঐক্য গড়ি, হাতির জীবন রক্ষা করি’। হাতি ও এর আবাসস্থল সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং হাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, একসময় দেশে প্রচুর হাতি থাকলেও বর্তমানে এ প্রাণীর সংখ্যা ক্রমেই কমছে। আবাসস্থল দখল ও ধ্বংস, বন উজাড়, অবৈধ শিকার এবং বন্যপ্রাণী অপরাধ হাতির অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, হাতি রক্ষার সঙ্গে বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই হাতির আবাসস্থল রক্ষা করা গেলে শুধু একটি বিপন্ন প্রাণীই রক্ষা পাবে না, একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য এবং মানুষের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী জানান, ২০১৫ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বন্যহাতির সংখ্যা ২৬৮টি, পরিযায়ী বন্যহাতি ৯৩টি এবং পোষা হাতি ৯৬টি। ২০২৭ সালের মধ্যে পুনরায় হাতি জরিপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাতি সংরক্ষণে ৪০টি অগ্রাধিকার কার্যক্রম
হাতি সংরক্ষণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে পরিবেশমন্ত্রী জানান, হাতি সংরক্ষণে ‘বাংলাদেশ এলিফ্যান্ট কনজাভেশন অ্যাকশন প্ল্যান (২০১৮-২০২৭)’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে ৪০টি অগ্রাধিকার কার্যক্রম চিহ্নিত রয়েছে। এসব কার্যক্রম বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মানুষ-হাতি সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকার ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বন্যপ্রাণী দ্বারা আক্রান্ত জানমালের ক্ষতিপূরণ বিধিমালা, ২০২১’ অনুযায়ী নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ৩ লাখ টাকা, আহত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা এবং জানমালের ক্ষতির জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, ২০১২ সাল থেকে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত নিহত ৩২২ জনের পরিবার, আহত ১৬৯ জন এবং ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতির শিকার ৩ হাজার ২১৫টি পরিবারকে মোট প্রায় ১৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।
হাতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে দ্রুততম সময়ে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য বন অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।
মানুষ-হাতি সংঘাত কমাতে ১৫৯টি ইআরটি
মানুষ-হাতি সংঘাত মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, হাতি অধ্যুষিত এলাকায় এ পর্যন্ত ১৫৯টি এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) গঠন করা হয়েছে।
এসব দল হাতির আগমন সম্পর্কে দ্রুত সতর্কবার্তা প্রদান, প্রাণীটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপদ উপায়ে মানুষ ও হাতির মধ্যে সংঘাত কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
‘হাতি সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। স্থানীয় জনগণকে বাদ দিয়ে হাতি সংরক্ষণ কখনোই টেকসই হবে না,’ বলেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল তার সংসদীয় আসনের এলাকায় হাতির আক্রমণ ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে অপর বিশেষ অতিথি প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, প্রাণ ও প্রকৃতি রক্ষায় হাতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এজন্য হাতি রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি মনে করিয়ে দেন, মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, হাতি শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বেই বিপন্ন। হাতি রক্ষা হলে এর সুফল কতটা বিস্তৃত হবে, তা সাধারণভাবে অনুধাবন করা কঠিন। ফলে নতুন প্রকল্প অনুমোদন পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।
তিনি সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সরকারের সঙ্গে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরণ্যক ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ড. মো. আব্দুল মোতালেব হাতি নিয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে হাতি নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এবং ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
৬ দিন আগে
ইটভাটায় কোনোভাবেই কাঠ পোড়ানো যাবে না: পরিবেশমন্ত্রী
ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কোনোভাবেই কাঠ পোড়ানো যাবে না বলে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু।
বুধবার (১৫ জুলাই) সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিবিএমওএ) নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ইটভাটা শিল্পের পরিবেশগত প্রভাব, বায়ুমান ব্যবস্থাপনা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে আলোচনা করতে এ সভার আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, ইটের বিকল্প এখনও পুরোপুরি তৈরি হয়নি। তাই ইটভাটা বন্ধ না করে কীভাবে ইটভাটা থেকে সৃষ্ট দূষণ কমানো যায়, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দূষণ কমাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ইট তৈরিতে জমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) ব্যবহার করলে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়। এর ফলে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ দিন দিন কমছে। এর বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।
এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, অবৈধ ইটভাটার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, উচ্চমাত্রার সালফারসমৃদ্ধ কয়লা ইটভাটায় ব্যবহারের ফলে পরিবেশ দূষিত হয়। তাই কয়লা ব্যবহারের ক্ষেত্রে এর গুণগত মান নির্ধারণে নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।
সভায় বাংলাদেশ ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফিরোজ হায়দার খান ও মহাসচিব মমিন উল্লাহ খানের নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন জেলার উপদেষ্টা ও সহ-সভাপতিসহ একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।
আলোচনায় টেকসই ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মাধ্যমে ইট উৎপাদন এবং পরিবেশ দূষণ কমিয়ে আনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা তাদের বিভিন্ন দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরেন। সভায় জানানো হয়, তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো বিবেচনা করা হবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম সভায় সভাপতিত্ব করেন।
এ সময় পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও আইন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. সাইদুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান, অতিরিক্ত মহাপরিচালকসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৩৪ দিন আগে
বৃহস্পতিবার পরিবেশ মেলা ও জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
আগামীকাল ৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষে বুধবার (৮ জুলাই) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, এবারের জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। ঢাকায় পরিবেশ মেলা ও মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলার পাশাপাশি দেশের সাতটি বিভাগীয় সদরে ১৫ দিনব্যাপী, ৫৬টি জেলা সদরে সাত দিনব্যাপী এবং ২৯টি উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হবে। এবার জাতীয় বৃক্ষমেলায় মোট ১২০টি স্টল থাকবে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সেগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে জাতীয় পর্যায়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।
আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, এই কর্মসূচির আওতায় স্যাটেলাইটভিত্তিক জিআইএস ও রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তির মাধ্যমে রোপিত গাছের অবস্থান ও প্রবৃদ্ধি ডিজিটালভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। সারা দেশে রোপণ করা গাছের তথ্য সংরক্ষণ এবং টিকে থাকার হার পর্যবেক্ষণের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ন্যাশনাল ট্রি ডাটাবেজ ও ট্রি মনিটরিং সিস্টেম চালু করা হবে। এ জন্য একটি অ্যাপও তৈরি করা হবে।
তিনি জানান, দুর্গম চরাঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা ও বনাঞ্চলের বনসৃজন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় সাড়ে তিন লাখ নতুন সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। গ্রামীণ নারী ও যুবকদের নার্সারি ব্যবসা ও বৃক্ষরোপণ-পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করে স্বাবলম্বী করা হবে এবং ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলা হবে।
মন্ত্রী বলেন, চলতি বছর বন অধিদপ্তরের মাধ্যমে বৃক্ষহীন এলাকা, রাস্তা, খাল-বাঁধ ও উপকূলীয় অঞ্চলে এক কোটি ৫০ লাখ স্থানোপযোগী দেশীয় প্রজাতির চারা রোপণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি জবরদখলমুক্ত বনভূমির চার হাজার ৮০০ হেক্টর এলাকায় নতুন বনায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
৪১ দিন আগে
জলবায়ু সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে এশিয়া-প্যাসিফিক আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর
বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জলবায়ু সহনশীল সবুজ অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং পরিবেশবান্ধব টেকসই বায়োইকোনমি (জৈব-অর্থনীতি) বিকাশে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত ও সুদৃঢ় আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
বুধবার (১ জুলাই) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইউএনইএসক্যাপ) ‘কমিটি অন এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’-এর নবম অধিবেশনের মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।
বায়োইকোনমি বা জৈব-অর্থনীত' বলতে এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে বোঝায়, যা নবায়নযোগ্য জৈবিক সম্পদ (যেমন: উদ্ভিদ, প্রাণী, অণুজীব এবং বর্জ্য বা বায়োমাস) ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব উপায়ে খাদ্য, শক্তি, পণ্য ও বিভিন্ন সেবা উৎপাদন করে। এটি জীবাশ্ম জ্বালানি (যেমন: কয়লা, পেট্রোলিয়াম) এবং ক্ষতিকারক রাসায়নিকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও জৈবিক উপাদানভিত্তিক একটি টেকসই অর্থনৈতিক মডেল।
অধিবেশন চলাকালে ইউএনইএসক্যাপের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি লিন ইয়াংয়ের এক প্রশ্নের জবাবে পরিবেশমন্ত্রী বাংলাদেশের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং এ বিষয়ে জাতীয় ও আঞ্চলিক উদ্যোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক বায়োইকোনমির বাজার বর্তমানে প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ৭ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে অবশ্যই পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে, যাতে কৃষক, জেলে, নারী এবং জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত হয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি বদ্বীপ দেশ হওয়ায় প্রতিনিয়ত বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা ও তীব্র তাপদাহের মতো জলবায়ুজনিত সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ২০২৪ সালে তীব্র তাপদাহের কারণে বাংলাদেশের প্রায় ১৭৮ কোটি ডলার সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে এবং প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ কর্মদিবস নষ্ট হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে টেকসই বায়োইকোনমি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
একই দিনে ব্যাংককের জাতিসংঘ সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ সরকার, ইউএনইএসক্যাপ, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), এশিয়ান ডিজাস্টার প্রিপেয়ার্ডনেস সেন্টার (এডিপিসি) এবং জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আরেকটি আলোচনা সভায় আবদুল আউয়াল মিন্টু বাংলাদেশের সবুজ অর্থনীতিতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সোনালি আঁশ পাট ঐতিহ্যবাহী চটের বস্তার গণ্ডি পেরিয়ে এখন উচ্চমূল্যের বহুমুখী সবুজ পণ্যে রূপান্তরিত হচ্ছে। পাশাপাশি প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব ‘সোনালি ব্যাগ’ উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি সফল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের গ্রামীণ জ্বালানি সংকট নিরসন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বায়োগ্যাস এবং উন্নত চুল্লি কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি দুর্গম উপকূলীয় এলাকায় ৪১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি সোলার হোম সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের কাছে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
তিনি ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্বের বৃহত্তম একক ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলতে ব্লু-বায়োইকোনমি ও ম্যানগ্রোভ বনায়নের গুরুত্বও তুলে ধরেন।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার ও নীতিগত অগ্রাধিকারের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ৩ আর (রিডিউস, রিইউজ ও রিসাইকেল) পদ্ধতি ও সার্কুলার ফিউচার মডেলের মাধ্যমে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
৪৮ দিন আগে
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
রবিবার (২১ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে আয়োজিত ‘শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারত্বমূলক প্রকল্প’-এর সমাপনী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, শব্দদূষণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে—এই বিষয়টি জনগণকে বোঝাতে হবে। শব্দদূষণের কারণে মাথাব্যথা, শ্রবণশক্তি হ্রাস, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মনোযোগে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং অনিদ্রাসহ বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি বলেন, একজন চালক যে হর্ন ব্যবহার করছেন, সেটিই তার নিজের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতির কারণ হতে পারে। সড়কে অতিরিক্ত হর্নের কারণে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে শুধুমাত্র একটি প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে পরিবেশমন্ত্রী বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), বাংলাদেশ পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ও সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি শব্দদূষণমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কর্মশালায় আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, বিভিন্ন এলাকাকে পাইলট ভিত্তিতে ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করে তা বাস্তবায়নে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বর্তমানে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকা এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনের সড়কের লা মেরিডিয়ান হোটেল থেকে উত্তরা স্কলাস্টিকা সেকেন্ডারি স্কুল পর্যন্ত এলাকাকে নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ সচিবালয়, আগারগাঁও প্রশাসনিক এলাকাসহ দেশের সকল সিটি করপোরেশনে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক এলাকাকে অন্তর্ভুক্ত করে ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদ জানান, প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার ৫০০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৭ হাজার ২৯৭টি মামলায় ১ কোটি ৮ লাখ ১৩ হাজার ১৫৭ টাকা জরিমানা আদায় এবং ৬ হাজার ৯৮৬টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি জানান, ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫’ জারির মাধ্যমে ট্রাফিক সার্জেন্ট ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের ক্ষমতা প্রদান করায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগ কার্যক্রম আরও জোরদার হয়েছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রায়হান কাওছার বলেন, রেল, বিমান, যানবাহন ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনলে শব্দদূষণ কমানো সম্ভব।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিআরটিএ’র পরিচালক (অপারেশন) মীর আহমেদ তারিকুল ওমর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালা শেষে মন্ত্রী ‘সার্ভে রিপোর্টস অন নয়েজ লেভেল মেজারমেন্ট ইন ৬৪ ডিস্ট্রিক্টস টাউন’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।
৫৮ দিন আগে
পরিবেশ খাতে লুটপাট আগে যা হয়েছে, ভবিষ্যতে আর হবে না: পরিবেশমন্ত্রী
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, পরিবেশ খাতে লুটপাট আগে যাই হয়েছে, ভবিষ্যতে আর হবে না। লুটপাট যাই হয়েছে এতে কাউকে না কাউকে দায়ী করা হবে।
রবিবার (৮ মার্চ) ফেনী সার্কিট হাউজে ‘গার্ড অব অনার’ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী হওয়ার পর নিজ জেলা ফেনী ও সংসদীয় আসনে এটিই তার প্রথম সরকারি সফর।
এ সময় পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরের দূষণ লেভেল পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ। যেভাবেই হোক আমাদের জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য পরিবেশের উন্নয়ন করতে হবে। আগের কাউকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। দূষণ কমানো আমাদের জাতিগত দায়িত্ব।
তিনি বলেন, মাটি পোড়ানো ইটের জায়গায় পরিবেশবান্ধব ইটে রূপান্তর করা এক-দুই বছরে সম্ভব নয়, এটি সময়সাপেক্ষ। তবে পরিবেশবান্ধব ব্লক ইটে যেতেই হবে।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের দেশের জনগণ যে পরিণতির শিকার, তাদের সেই পরিণতি থেকে কিছুটা লাঘব করাই হবে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কাজ।
জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন একটা বিরাট ব্যাপার। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে পরিণতির শিকার হতে হয়, তা থেকে আমরা আরেকটু উন্নত করার জন্য বনায়ন করা দরকার; সেটাই আমরা দ্রুত করব। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে সমস্ত কিছু জড়িত, যেমন: নদী ভাঙন ও পরিবেশ দূষণের ব্যাপার আছে, এগুলো কিন্তু জলবায়ুর সঙ্গে জড়িত। আমাদের অগ্রাধিকার হবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের দেশের জনগণ যে পরিণতির শিকার হচ্ছে, তাদের সেই পরিণতি থেকে কিছুটা লাঘব করা।
তিনি আরও বলেন, বনায়নের মাধ্যমে দূষণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। তবে সমস্যা হলো আমাদের দেশের কাঠামোর একটু অভাব আছে। যেমন: ডার্বেজ, ময়লা আবর্জনা—এগুলো সরানো পরিবেশ মন্ত্রনালয়ের কাজ নয়, কিন্তু এটার ফলে যে দূষণ হয় সেটার জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয় দায়ী। তাই এখন দূষণের বিষয়টি একটি কাঠামোর আওতায় আনতে হবে। আমরা শুধু ঢাকা শহরকে এই কাঠামোর আওতায় রাখব, তা কিন্তু না; দেশের ছোট ছোট শহরগুলোতেও যেন এ সমস্যার সমাধান হয় সেদিকেও নজর রাখা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেনী জেলা প্রশাসক মুনিরা হক, পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. নবী নেওয়াজ, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোবাশ্বের হোসেন মো. রাজিব, ফেনী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিকসহ অন্যান্যরা।
১৬৩ দিন আগে
জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ খাতে বাংলাদেশ-নরওয়ে সম্পর্ক জোরদার করবে: পরিবেশমন্ত্রী
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং বনজ সম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশ ও নরওয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, উভয় দেশ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট মূল বিষয়গুলোতে আগামী দিনে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।
বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কার্যালয়ে নরওয়ের বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত এসপেন রিক্টার-সভেন্ডসেন বিদায়ী সাক্ষাৎকালে পরিবেশমন্ত্রী এই কথা বলেন।
মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
বিদায়ী রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানান এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে তার অবদানের প্রশংসা করেন সাবের হোসেন।
তিনি বলেন, তার মেয়াদকালে, বাংলাদেশ-নরওয়ে সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী হয়েছে এবং এটি আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও প্রসারিত করার জন্য একটি দৃঢ় ভিত্তি গড়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: যথাসময়ে লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড বিতরণ নিশ্চিতের উপায় বের করার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর
এছাড়াও নবায়নযোগ্য শক্তি, বন সংরক্ষণ এবং জলবায়ু অভিযোজনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর আলোকপাত করেন মন্ত্রী।
রাষ্ট্রদূত রিক্টার-সভেন্ডসেন বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই এবং এর সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রচেষ্টার জন্য নরওয়ের অব্যাহত সমর্থনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি বৈশ্বিক পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন। বাংলাদেশের পরিবেশগত উদ্যোগগুলোকে বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য নরওয়ের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত।
উভয় পক্ষ তাদের পারস্পরিক পরিবেশগত লক্ষ্যগুলোকে আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য সহযোগিতা বাড়ানোর এবং অংশীদারত্বের নতুন ক্ষেত্র অন্বেষণ করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হন। উভয় দেশ পরিবেশ এবং জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। যা উভয় দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।
আরও পড়ুন: উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বৃক্ষ নিধন পরিহারের আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর
৭৪৭ দিন আগে
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বৃক্ষ নিধন পরিহারের আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর
সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে যথাসম্ভব বৃক্ষ নিধন পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী।
তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় জায়গা থাকলে অধিক পরিমাণে বৃক্ষরোপণ করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নকারী প্রকল্প পরিচালক কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও কর্মসম্পাদনে সফলতা বিবেচনায় স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) বিকালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের ২০২৪-'২৫ অর্থবছরের এডিপিভুক্ত প্রকল্পসমূহের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের পরিবেশের মানোন্নয়নে মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ যথাসময়ে ও সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। অর্থবছরের শুরুতেই কর্মপরিকল্পনা করে সেই মোতাবেক কাজ করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সফলতার হার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করতে হবে। মন্ত্রী প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা, অর্জন ও চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে জলবায়ু অর্থায়ন বাড়াতে উন্নত বিশ্বের প্রতি আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ইকবাল আব্দুল্লাহ হারুন, অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. মোশাররফ হোসেন, অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ) ড. ফাহমিদা খানম, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবদুল হামিদ এবং বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক এবং অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন: জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ফ্রান্স-বাংলাদেশ অভিযোজন চুক্তি: পরিবেশমন্ত্রী
৭৪৯ দিন আগে
বাংলাদেশকে ‘সবুজ দেশে’ রূপান্তরে জাপানের সহযোগিতা চান পরিবেশমন্ত্রী
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, ‘বাংলাদেশে সবুজ বিনিয়োগ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে সবুজ, টেকসই ও সমৃদ্ধ দেশে রূপান্তরের ক্ষেত্রে জাপানের অব্যাহত সহায়তা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকিকে সহিষ্ণুতা ও তারপর সমৃদ্ধিতে রূপান্তরিত করার জন্য জাপানকে মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা (এমসিপিপি) বাস্তবায়িত করতে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিতে বৈশ্বিক সহযোগিতার বাড়ানোর আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর
নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে জাপানের পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী মটোমে তাকিসাওয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পরিবেশমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
বৈঠকে আগামী এনডিসি ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের মিথেন গ্যাস হ্রাস লক্ষ্য পূরণে জাপানের সহায়তা কামনা করেন পরিবেশমন্ত্রী। এ বিষয়ে গবেষণা, জ্ঞান ভাগাভাগি ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দেশটির সহায়তা কামনা করেন তিনি।
তিনি প্রস্তাব করেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের অধীনে সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে জয়েন্ট ক্রেডিটিং মেকানিজমের (জেসিএম) মাধ্যমে জাপান-বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো যেতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী তাকিসাওয়া এশিয়া প্যাসিফিক ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যাডাপ্টেশন ইনফরমেশন প্ল্যাটফর্মের (এপি-প্ল্যাট) মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে।
উভয় পক্ষই আসন্ন বহুপাক্ষিক আলোচনা, যেমন: জীববৈচিত্র্য-সংক্রান্ত জাতিসংঘ কনভেনশন (ইউএনসিবিডি), ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অব ক্লাইমেট চেঞ্জ (ইউএনএফসিসিসি), জাতিসংঘের কনভেনশন অন কমব্যাটিং ডেজার্টিফেশনের (ইউএনসিসিডি) পাশাপাশি সমসাময়িক বিষয়ে আলোচনা করেন। এসময় প্লাস্টিক চুক্তি ও অভিন্ন উদ্বেগের বিষয়ে দুই দেশের অবস্থানের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মন্ত্রীরা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থাসহ বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন এবং নীতিগতভাবে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ককে আরও গভীর করতে সহযোগিতার একটি সমঝোতা স্মারক সই করে এগিয়ে যেতে সম্মত হন।
পরে মন্ত্রী স্টপ ইকোসাইড ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জোজো মেহতার সঙ্গে একটি বৈঠক করেন ও বড় ধরনের পরিবেশগত অপরাধ মোকাবিলায় ইতিবাচক অগ্রগতি এবং এ বিষয়ে জাতীয় আইনগুলো উন্নত করার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন।
আরও পড়ুন: ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর প্রয়োজনে জাতিসংঘকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর
বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক পরিবেশ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করবে: পরিবেশমন্ত্রী
৭৬৩ দিন আগে