গণমাধ্যম
স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল (টিইসি) আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সেমিনারে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমকে একে অপরের পরিপূরক উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যেমন স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম অপরিহার্য, তেমনি একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়।
মন্ত্রী গণমাধ্যমকে কেবল একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যম স্বীকার করছে তাদের ওপর কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ নেই। বরং একটি স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও অর্থনৈতিকভাবে টেকসই গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাংবাদিক, মালিক ও সরকার পক্ষ যৌথভাবে কাজ করে চলেছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার এমন একটি মিডিয়া ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চায়, যেখানে গণমাধ্যমের মালিক, সাংবাদিক, বিজ্ঞাপনদাতা, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাদের ন্যায্য মর্যাদা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতা ও এ শিল্প অন্য যেকোনো ক্ষেত্রের চেয়ে ভিন্ন। এটি রাষ্ট্র ও সমাজের একটি অঘোষিত অথচ অনিবার্য চতুর্থ স্তম্ভ। ফলে সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য গণমাধ্যম শিল্পের অর্থনৈতিক ভিত্তিকেও শক্তিশালী হতে হবে।
তিনি বলেন, মালিকপক্ষ যদি ন্যায্য ব্যবসায়িক পরিবেশ ও যুক্তিসঙ্গত মুনাফা না পায়, তাহলে গণমাধ্যম শিল্প টেকসই হবে না। একইসঙ্গে শক্তিশালী বেসরকারি উৎপাদন অর্থনীতি ছাড়া পণ্য বিজ্ঞাপন বাজারও সম্প্রসারিত হবে না।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে প্রচলিত গণমাধ্যমের সঙ্গে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত হয়ে মিডিয়া ইকোসিস্টেমকে আরও জটিল করে তুলেছে। তথ্যমন্ত্রী এ পরিবর্তিত বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতমুখী নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আনা দরকার, যাতে প্রত্যেক অংশীজনের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হয়। তিনি বলেন, সুশাসন ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা না থাকলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে ব্যবসায়িক স্বার্থ বা দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। তিনি এ প্রবণতাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন।
তথ্যমন্ত্রী জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও গত জাতীয় নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠান সংস্কারের যে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, গণমাধ্যম খাতেও সে সুযোগ কাজে লাগাতে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহবায়ক ও বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আব্দুল হাই সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী ও ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন টিইসির সদস্য সচিব ও সময় টেলিভিশনের সিইও জুবায়ের বাবু। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক মোস্তফা আকমল।
১৬ দিন আগে
সরকারের কাজ করতে সময় প্রয়োজন; গণমাধ্যমের উচিত দায়িত্বের সঙ্গে ভুলগুলো তুলে ধরা: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্জিত সাফল্য তুলে ধরা এবং সরকারকে কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারকে সবসময় নজরদারিতে রাখতে হবে। তারা ভুল করলে তা স্পষ্টভাবে ধরিয়ে দিতে হবে। তবে একইসঙ্গে সরকারকে কাজ করার সুযোগ ও সময় দিতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, গণমাধ্যমের কাজ শুধু সরকারের সীমাবদ্ধতা বা ব্যর্থতা প্রকাশ করা নয়, বরং তাদের অর্জিত সাফল্যগুলোও সমানভাবে উপস্থাপন করা।
টেলিভিশন টক শো-এর কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, কিছু অনুষ্ঠান ‘সরকারের চার মাসের ব্যর্থতা’ কেন্দ্র করে সাজানো হচ্ছে, যা দেশবাসীকে ভুল বার্তা দিচ্ছে। অথচ সরকার যেসব ভালো কাজ সম্পন্ন করেছে, সেদিকে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
গণমাধ্যমের একপেশে মনোভাব এড়িয়ে বস্তুনিষ্ঠতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন গণমাধ্যমই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। তিনি মালিক ও সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও আত্মনির্ভরশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার এবং মালিক ও সাংবাদিকদের মধ্যে একটি সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, গণমাধ্যম যদি স্বাধীনভাবে এবং কোনো শর্ত ছাড়া কাজ করতে পারে, তবে গণতন্ত্রও আরও শক্তিশালী হবে। তবে তার জন্য শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিজেদের শক্তিশালী হতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এটি আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
একটি ছোট্ট পোস্ট বা একটি ছোট রিল নিমেষেই একজন মানুষের সারাজীবনের অর্জন ধ্বংস করে দিতে পারে, উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলো এর ক্ষতিকারক প্রভাবের কারণে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবেশের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে।
তিনি আরও বলেন, দেশ একটি বড় ধরনের সংকট ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই রাতারাতি সব সমস্যার সমাধানের আশা করা বাস্তবসম্মত নয়।
উন্নয়ন ও গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সবাই ধৈর্য ধরে একযোগে কাজ করলে গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত হবে।
তিনি বলেন, বিএনপির কপাল খারাপ, সব সময় একটি ধ্বংসস্তূপের ওপর বিএনপি ক্ষমতায় আসে।
বিএনপি সরকারের ওপর অর্পিত অর্থনৈতিক ও জ্বালানি খাতের সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান গ্যাস বা বিদ্যুৎ সংকট বিএনপি সৃষ্টি করেনি। বিগত সরকার নতুন কোনো গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ না নিয়ে পুরো খাতকে আমদানিনির্ভর করে গড়ে তুলেছিল। পাশাপাশি কুইক রেন্টাল প্রকল্প ও ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলা আজ বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে, যা পুনরুদ্ধারে সরকার কাজ করছে।
১৬ দিন আগে
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে আদালতের নিষেধাজ্ঞা মানার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রে কিছু কিছু গণমাধ্যম আদালতের নিষেধাজ্ঞা মানছে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
দেশের কোনো কোনো গণমাধ্যম দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করছে, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা বাংলাদেশে একদম সরাসরি নিষেধ আছে। শুধু দণ্ডপ্রাপ্ত বলে না, তার বক্তব্য প্রচার করা যাবে না—এরকম আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে এবং আমাদের অনেক মিডিয়া এ কাজটা করছে। তার মানে হচ্ছে তারা আদালতের নিষেধাজ্ঞা, নির্দেশনা মানছে না।’
তিনি বলেন, যেহেতু এই মিডিয়াগুলো তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে আছে, তাই আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানাব যে তারা যেন এই কাজটা না করে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, আমরা এটা নিয়ে খুবই কঠোর কোনো অবস্থান নিচ্ছি তা না, কিন্তু এটা আবার স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, আমাদের মিডিয়াগুলো আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখবে, শ্রদ্ধা দেখাবে এবং তারা এসব প্রচার থেকে বিরত থাকবে।
এমন আহ্বান তো এর আগেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করেছিলেন, কিন্তু সেটি তো মানছে না—এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ঠিক আছে, আমরা আবার আহ্বান করব এবং কোনো একটা সময় হয়তো এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবা যেতে পারে।
তিনি বলেন, ঘটনা যেটা হয়েছে, সেটা হলো, তিনি (শেখ হাসিনা) যখন কথা বলেন, এটা অন্যান্য মিডিয়ায় যেহেতু আসে, মানুষ কোনো না কোনোভাবে সেটা জেনে যায়। কারণ এখন কানেক্টিভিটির যুগ। এটা আমি আবারও এর বাইরে গিয়ে, সরকারের বাইরে গিয়ে বলছি যে এটা আসলে শেষ পর্যন্ত ঠেকিয়ে রাখা যায় কি না, তা ভাবনার বিষয়। কারণ এই যে আপনি একটা বিদেশি মিডিয়ার রেফারেন্স দিচ্ছেন, সেই মিডিয়া আমাদের দেশ থেকে দেখা সম্ভব এবং অনেকে সেটা দেখছেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, যদি আদালত এই নিষেধাজ্ঞা না সরায়, তাহলে এসব বিষয় প্রচার করাটা অনুচিত। এটা ‘অপরাধ’ এভাবে বলছি না, এটা অনুচিত এবং আমি আশা করি আমাদের মিডিয়া দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
৫৪ দিন আগে
ভুল ও অপতথ্য প্রতিরোধ আমাদের জন্য যুদ্ধে পরিণত হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ভুল এবং অপতথ্য প্রতিরোধ করাটা একটা প্রধান চ্যালেঞ্জ। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দিক থেকেও এটা আমাদের জন্য এখন যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপতথ্যের বিস্তার ঠেকাতে একসঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের ফলে মতপ্রকাশের সুযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি এর অপব্যবহারও বাড়ছে, যা সমাজ ও রাষ্ট্র জীবনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এই প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সরকারের জন্য অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
মন্ত্রী বলেন, আলোচনায় এসেছে যে সারা পৃথিবীতেই এবং আমাদের জন্য তো অবশ্যই ভুল এবং অপতথ্যের বিরুদ্ধে লড়াই করাটা একটা প্রধান চ্যালেঞ্জ। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দিক থেকেও এটা আমাদের জন্য এখন যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশেষ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিতে যেভাবে মানুষের জন্য সুযোগ রয়ে গেছে, সেই সুযোগে অপতথ্য প্রচারকারীরা একটা বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করছে সমাজ, রাষ্ট্র ও নাগরিক জীবনে। সেই ক্ষেত্রে রাষ্ট্র এবং সরকার কীভাবে জনগণকে এই অপতথ্যের হাত থেকে সুরক্ষা দিতে পারে, এটা আমাদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ছিল একসময়ের চ্যালেঞ্জ। এখন শুধু স্বাধীনতা নয়, ভারসাম্যপূর্ণ স্বাধীনতাও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যারা স্বাধীনতা একটু চর্চা করছেন, সেটা প্রতিষ্ঠান হোক অথবা ব্যক্তিই হোক, বিশেষ করে যখন সামাজিক মাধ্যমে আমরা দেখছি যে এই স্বাধীনতার অপব্যবহারটা এমন হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য অনেক বেশি ভুক্তভোগী হয়ে পড়ছে। অতএব গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং অপতথ্যের হাত থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া, দুটো কাজই তথ্য মন্ত্রণালয়কে একসঙ্গে করতে হচ্ছে।
বৈঠকের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় গন্তব্য হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আমাদের মানবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দাতা হচ্ছে তারা। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অংশীদার হচ্ছে তারা। সেই বিবেচনায় আমাদের বন্ধুত্বকে আমরা আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।
তিনি বলেন, আমরা এবং সারা পৃথিবী এখন একটা মিডিয়া পরিস্থিতি নিয়ে চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছি। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মতো এরকম একটা প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত একটা দেশ এই নতুন ইকোসিস্টেমকে কীভাবে ম্যানেজ করে, এ ব্যাপারে আমরা পারস্পরিকভাবে আমাদের কীভাবে সহযোগিতা বিনিময় করতে পারি—এটাই ছিল মূলত আলোচনার বিষয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিশন ফর মিডিয়া কীভাবে কাজ করে এবং আমাদের এখানে একটা মিডিয়া কমিশন গঠন করার যে প্রতিশ্রুতি সরকার ঘোষণা করেছে, সেই কাজটা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা আমাদের নৈতিক সহযোগিতা করবেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা দুই পক্ষ—যুক্তরাষ্ট্রের এখানকার রাষ্ট্রদূতদের কার্যালয় এবং আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে আমরা পারস্পরিকভাবে খোঁজার চেষ্টা করব যে কোথায় আমরা গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করতে পারি।
১১৮ দিন আগে
গণমাধ্যমে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউনেস্কোর সহায়তা কামনা তথ্যমন্ত্রীর
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন গণমাধ্যমে নতুন যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজের ক্ষেত্রে একটি কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়নে ইউনেস্কোর সহযোগিতা কামনা করেছেন। এক্ষেত্রে সংস্থাটির জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
বুধবার (২২ এপ্রিল) মন্ত্রীর নিজস্ব অফিসকক্ষে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর সঙ্গে সরকারের যৌথভাবে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
সাক্ষাৎকালে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি বাংলাদেশে সংস্থাটির চলমান কার্যক্রম বিশেষত গণমাধ্যমের উন্নয়ন, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট নীতিমালা এবং ভুলতথ্য ও অপতথ্য প্রতিরোধে ইউনেস্কোর উদ্যোগ সম্পর্কে মন্ত্রীকে জানান।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ইউনেস্কো অপপ্রচারের বিস্তার রোধে ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম জোরদারে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও পরিচালিত হচ্ছে।
এই সাক্ষাতে তথ্যমন্ত্রী গণমাধ্যমে অপতথ্যের বিস্তার রোধ ও ফ্যাক্ট চেকিংয়ের ওপর প্রশিক্ষণের গুরুত্বারোপ করেন এবং এ বিষয়ে ইউনেস্কোর সহযোগিতা কামনা করেন। ইউনেস্কোর প্রতিনিধিও এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তাকে।
এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন।
১২৩ দিন আগে
গণমাধ্যমের সংস্কারে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: তথ্যমন্ত্রী
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও নাগরিক উদ্যোগ রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এ সময় গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, সরকার গণমাধ্যম সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এবং ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ইআরএফ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের ধন্যবাদ জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তাদের সমালোচনা, পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ সরকারকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।
তিনি বলেন, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং সরকার গণমাধ্যম সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এ সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, নির্যাতনের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিকারের ব্যবস্থা এবং অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের জন্য কল্যাণমূলক কাঠামো প্রণয়নের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যম খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিজ্ঞাপন নীতিমালা প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর ‘রিফর্ম ট্র্যাকিং’ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সরকার, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি গণমুখী, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল মিডিয়া পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, দৈনিক নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবীর ও ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ বক্তব্য রাখেন।
১৩৬ দিন আগে
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক জোরদারে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে: ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার
সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ক আরও জোরদার করতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে সিলেটে কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
নগরীর উপশহর এলাকায় একটি অভিজাত হোটেলের সেমিনার কক্ষে এ পুনর্মিলনী আয়োজন করে সিলেটস্থ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন।
সহকারী হাইকমিশনার দুদেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে সিলেট অঞ্চলের সাংবাদিকরা আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যে সাংবাদিক নেতারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন সাংবাদিকদের সঙ্গে ভারতীয় সরকারের সৌহার্দ্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও পেশাগত বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে। পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরতে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে বলেও তারা মত প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা প্রেসক্লাব সভাপতি মঈন উদ্দিন, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সিলেট অনলাইন প্রেস ক্লাবের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আব্দুল মোহিত দিদার, সিলেট উইমেনস জার্নালিস্ট ক্লাবের সভাপতি সুবর্ণা হামিদ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সিলেট ব্যুরো প্রধান সেলিম আওয়াল ও দ্যা ডেইলি স্টারের সিলেট ব্যুরো প্রধান দ্বোহা চৌধুরী।
সৌহার্দ্যপূর্ণ এ আয়োজনে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, সিলেট প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক সিলেট মিরর সম্পাদক আহমেদ নূরসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা।
সিলেটের বিভিন্ন প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ার বিপুল সংখ্যক সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমির আবৃত্তি প্রশিক্ষক নাহিদা খান সুর্মি।
১৪৮ দিন আগে
শক্তিশালী গণমাধ্যম ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর
শক্তিশালী গণমাধ্যম ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশ,ন সামিট ২০২৬-এ এ কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইলমাজ এবং কমিউনিকেশন বিভাগের প্রধান বুরহানেত্তিন দুরান।
‘নতুন বৈশ্বিক কাঠামো: একটি যোগাযোগের দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তথ্যমন্ত্রী তুরস্ক সরকারকে সময়োপযোগী এ আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী ক্ষমতার পরিবর্তন এবং অপতথ্য ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি উল্লেখ করেন, কৌশলগত যোগাযোগ এখন শাসন ব্যবস্থার একটি কেন্দ্রীয় উপাদান হয়ে উঠেছে এবং রাষ্ট্রগুলোকে ক্রমেই তাদের যোগাযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা ও ধারাবাহিকতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
তথ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, অপতথ্য মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, বিশেষ করে একটি স্বাধীন ও পেশাদার গণমাধ্যম।
তিনি বলেন, সত্য প্রতিষ্ঠিত করা, জবাবদিহি নিশ্চিত এবং জনআস্থা বজায় রাখতে একটি শক্তিশালী চতুর্থ স্তম্ভ অপরিহার্য।
জহির উদ্দিন স্বপন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, মতপ্রকাশে বাধা সৃষ্টি করে এমন আইন পর্যালোচনা করা এবং একটি স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলাসহ বাংলাদেশের চলমান সংস্কার কার্যক্রম আলোচনায় তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, তথ্যের বিশৃঙ্খলার সমাধান একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতির মধ্যেই নিহিত যেখানে অতি নিয়ন্ত্রণ ও নিয়ন্ত্রণহীনতা—উভয়কেই পরিহার করতে হবে।
তথ্যমন্ত্রী কৌশলগত যোগাযোগের জন্য বিশ্বাসযোগ্যতা, গণতান্ত্রিক সহনশীলতা এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা—এ তিনটি মূলনীতি তুলে ধরেন।
বাংলাদেশের মতো একটি জনবহুল ও দ্রুত ডিজিটালাইজড দেশে অপতথ্য ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী শাসনামলে জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করতে তথ্যকে কৌশলগতভাবে বিকৃত ও ব্যবহার করা হয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এই ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রাপ্তি এবং অবাধ তথ্য প্রবাহের মধ্যে একটা কার্যকর সমন্বয় দরকার। একটা নতুন লাগসই ফ্রেমওয়ার্ক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমাদের নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করবে। বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্য দেশের কাছ থেকে এই বিষয়গুলি জানতে চায়, আবার একইসঙ্গে আমাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে আমরা গ্লোবাল নলেজকে সমৃদ্ধ করতে আগ্রহী। এই যৌথ জ্ঞান বিশ্ব শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ করবে।
বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ মানবিক বিষয়গুলোতে তুরস্কের সমর্থনের প্রশংসা করেন তথ্যমন্ত্রী।
জহির উদ্দিন স্বপন বক্তব্যের শেষে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক যোগাযোগ কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেখানে উন্নয়নশীল দেশগুলোর কণ্ঠস্বর যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে।
প্যানেল আলোচনায় আরও অংশ নেন উত্তর সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাহসিন এরতুগ্রুলোগ্লু, সিরিয়ার তথ্যমন্ত্রী হামজা আলমুস্তাফা এবং কাজাখস্তানের সংস্কৃতি ও তথ্যবিষয়ক উপমন্ত্রী কানাত ঝুমাবায়েভিচ ইস্কাকভ।
১৪৯ দিন আগে
গণমাধ্যম নিয়ে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে চাই: তথ্যমন্ত্রী
সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে গণমাধ্যম নিয়ে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে চান বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে সরকারের এক মাসপূর্তি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
গণমাধ্যমকর্মীদের হুট করে চাকুরিচ্যুতি রোধে কোনো সুনির্দিষ্ট আইন বা কোনো কিছু করে যাবেন কিনা—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন যে, গণমাধ্যম জগতের চেহারা এবং কাঠামোটায় কত বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে সারা পৃথিবীতে। আপনারা দেখেছেন যে, প্রতিষ্ঠিত মিডিয়া হাউসের চাইতেও একজন ইউটিউবারের প্রভাব প্রতিপত্তি এবং পরিধি অনেক বেশি বেড়ে গেছে। এটা সবটাই কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তি এবং এখনকার যে কমিউনিকেশন সায়েন্স, তার যে রূপান্তরিত পরিস্থিতি, সেটার কারণেই।
‘অনলাইন পত্রিকা, আইপি টিভি—এ ধরনের প্লাটফর্মগুলো তৈরি হয়েছে। ফলে আগের মতো কিন্তু আমরা বা সরকার চাইলেই পুরনো নিয়ন্ত্রণের আইন কাঠামো... তার আওতার মধ্যে কিন্তু এগুলো পড়ে না। আবার এগুলো কিন্তু আমাদের সভ্যতার অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। ফলে পুরো ব্যাপারটাই একটা স্ট্র্যাটেজিক ডিসকাশন (কৌশলগত আলোচনা)।’
তিনি বলেন, ছোটখাটো বিষয় নিয়ে কথা বলা যায়—অমুকটা কীভাবে, তমুকটা কীভাবে; কিন্তু আমরা এ রকম কোনো পিসমিল (আংশিক) কথাবার্তা না বলে গণমাধ্যম-সংক্রান্ত একটা বিষয়ে আপনাদের মতো স্টেক হোল্ডারদের (অংশীজনদের) সঙ্গে নিয়েই একটা স্ট্র্যাটেজিক মুভ (পরিকল্পিত পদক্ষেপ) নিতে চাই। এজন্য আমি কোনো বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত মন্তব্য করতে চাচ্ছি না আপাতত।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ব্যক্তিগত মালিকানাধীন কোনো প্রতিষ্ঠানেকে তার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাখবেন কি রাখবেন না, এটার তো তার একটা এখতিয়ার এবং ক্ষমতা আছে। আবার তথ্য মন্ত্রণালয় যে কোনো ধরনের গণমাধ্যমকর্মীদের এক ধরনের নিরাপত্তা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার একটা নৈতিক দায়িত্ব আছে। কিন্তু, এই নৈতিক দায়িত্ব পালন করার জন্য কোনো উদ্যোক্তার প্রতি কী পরিমাণ চাপ প্রয়োগ করা যাবে, তার কিন্তু কোনো আইন নেই। ফলে সবটাই কিন্তু আমাদের একটা কৌশলগত আলোচনার মধ্যে আনতে হবে। আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই এই বিষয়ে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এক মাসের মধ্যে সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড চালু, কৃষকদের ঋণ মওকুফ, ইমাম-মোয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরতদের সম্মানি প্রদান, মহিলা বাস চালু, খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেছে। কৃষি কার্ড ও হেলথ কার্ড চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে বলেও জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
১৫১ দিন আগে
গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে আমাদের কাজ: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে আমাদের কাজ।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বগুড়ায় স্থানীয় একটি কনভেনশন সেন্টারে রাজশাহী বিভাগের সাতটি জেলার সাংবাদিকদের মধ্যে আর্থিক অনুদান ও সাংবাদিক পরিবারের মেধাবী সন্তানদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র জনগণের কল্যাণে কতটা কাজ করবে তা নিশ্চিত করে গণমাধ্যম। তাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কোনো করুণার বিষয় নয়, বরং তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। আধুনিক সভ্যতায় গণমাধ্যম অনিবার্য অনুষঙ্গ। গণমাধ্যম ছাড়া সভ্যতার চর্চা করা যায় না।
রাষ্ট্র ও সমাজে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যে সমাজে জবাবদিহিতা থাকে না সেখানে শেখ হাসিনার মতো পতিত, ঘৃণিত ও লাঞ্ছিত রাষ্ট্রনায়ক তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে আমরা জবাবদিহিতার সংস্কৃতি তৈরি করতে চাই।
এ সময় সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদান, কৃষিঋণ মওকুফসহ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
১৬৩ দিন আগে