গণমাধ্যম
১৭ বছর মতপ্রকাশের সুযোগ ছিল একজন ও এক দলের: রিজভী
গত ১৭ বছরে দেশে অনেক টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্র থাকলেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কার্যত একজন ব্যক্তি ও একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ডিআরইউ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘গত ১৭ বছরে দেখলাম, অনেক টেলিভিশন ছিল, অনেক পত্রিকা ছিল। কিন্তু কথা বলা হবে, মত প্রকাশ হবে শুধু একজন ব্যক্তির, একটি রাজনৈতিক দলের।’
তিনি আরও বলেন, ওই কাঠামোর বাইরে মতপ্রকাশের চেষ্টা যারা করেছেন, তাদের কেউ গুমের শিকার হয়েছেন, আবার কেউ কারাগারে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। ‘ভয়াবহ ছিল সেই রূপ,’ বলেন তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘মিডিয়াগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে, টকশো তাদের নিয়ন্ত্রণে, টকশো হোস্ট যারা করছেন তাদের নিয়ন্ত্রণে। সামাজিক গণমাধ্যমকে তারা নানাভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন।’
তবে ওই সময় মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকরা গণতন্ত্রের আলো কিছুটা জ্বালিয়ে রেখেছিলেন বলে প্রশংসা করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক যারা মাঠপর্যায়ে ছিলেন, তারা কেবল ধিকি ধিকি করে জ্বলছিলেন। গণতন্ত্রের আলো কিছুটা তারা জ্বালিয়ে রেখেছেন, যারা এখানে অনেকেই বসে আছেন। তারা ওই পরিস্থিতির মধ্যেও চেষ্টা করেছেন।’
বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সংগ্রামে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘যে সময়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবদমিত ছিল, কথা বলা ছিল পাপ এবং সরকারের বিরুদ্ধে যায়—এমন কথা বলা ছিল ঘোরতর অন্যায়, সেই সময় আমরা যতটুকু পরিসর পেয়েছি, ডিআরইউ তা প্রচার ও প্রকাশ করতে কখনও দ্বিধা করেনি।’
ওই সময়ে সাংবাদিকেরাও চাপের মুখে ছিলেন উল্লেখ করে রিজভী বলেন, অনেক সাংবাদিককে দমনমূলক কালো আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় নিগৃহীত হতে হয়েছে। জেল-জুলুমও খাটতে হয়েছে।
তবে এখন দেশে মুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, এখন সবাই স্বাধীনভাবে নিজেদের মত প্রকাশের সুযোগ পাবেন।
রিজভী বলেন, ‘যারা সরকারে আছেন, সরকারের বাইরে যারা আছেন এবং সরকারের বাইরে থাকা বিরোধী দল—তারা মুক্ত কণ্ঠে সমালোচনা করবেন। সরকারের কাজগুলোর গঠনমূলক সমালোচনা করবেন। এইভাবেই একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে ওঠে।’
এছাড়া গণতান্ত্রিক এই অঙ্গীকারের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যমের কথা উল্লেখ করেন রিজভী।
২ দিন আগে
গণতন্ত্রকে বাঁচাতে গণমাধ্যমকেও বাঁচাতে হবে: রাষ্ট্রপতি
গণতন্ত্রের মূল শক্তি গণমাধ্যম উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে গণমাধ্যমকেও বাঁচাতে হবে। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সুশাসনের জন্য সঠিক পথে থেকে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ ও সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়ার নেতৃত্বে প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘প্রেস ক্লাবের সঙ্গে আমার সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক। আমার সবচেয়ে দুঃসময়ে আপনারা আমার পাশে ছিলেন, যা আমার জন্য বিরাট প্রাপ্তি।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণতন্ত্র হচ্ছে একটা সংস্কৃতি। একে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। সেজন্য মন-মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন করতে হবে। পুরনো কর্তৃত্ববাদী চিন্তাভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে। আন্দোলন করে পরিবর্তন আনার পরও যদি পুরনো মানসিকতা থেকে যায়, তাহলে প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব হবে না।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, জনগণের নির্বাচিত সরকারকে কাজ করার জন্য সময় দিতে হবে। এ সময় তিনি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ বৈশ্বিক কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের বিষয়টি যথাযথভাবে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান।
সাংবাদিকদের কল্যাণে সার্বিক সহযোগিতার আশাবাদ ব্যক্ত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমার জায়গা থেকে আপনাদের জন্য যেটুকু করার আছে, আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, আমি সেটুকু করার চেষ্টা করব।’
সংবাদকর্মীদের কর্মসংস্থানের সংকট নিরসনে বন্ধ হয়ে যাওয়া পত্রিকাগুলো পুনরায় চালুর ওপরও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘বন্ধ পত্রিকাগুলো, বিশেষ করে ট্রাস্টের অধীনে থাকা পত্রিকাগুলো পুনরায় চালু করা গেলে অন্তত ১০০০ সাংবাদিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ঐক্য অত্যন্ত জরুরি, বিভক্তি কখনও সাফল্য এনে দিতে পারে না। আপনারা মৌলিক জায়গাগুলোতে এক হতে পারলে সরকার ও বিরোধী দলের সঙ্গেও কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন।’
সাংবাদিকদের সুরক্ষা এবং অনিয়ম ও গণহারে সাংবাদিক ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন পর একটি সত্যিকার গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এখন গণমাধ্যমের দায়িত্বও আরও বেড়েছে। সরকারের ভুল-ত্রুটিগুলো বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি সরকারের ভালো কাজগুলোও জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে হবে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সুদীর্ঘ ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন।
দেশের গণমাধ্যমের প্রাণকেন্দ্র জাতীয় প্রেস ক্লাব এবং সাংবাদিকদের কল্যাণ ও উন্নয়নে সরকারের নেতৃত্বের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ওপর জোর দেন তিনি।
এ সময় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যান্য সদস্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বখতিয়ার রাণা (কোষাধ্যক্ষ), কাজী রওনাক হোসেন, সৈয়দ আবদাল আহমদ, কাদের গনি চৌধুরী, শাহনাজ বেগম পলি, মোহাম্মদ মোমিন হোসেন, আবদুল হাই শিকদার, মাসুমুর রহমান খলিলী, এ কে এম মহসীন ও জাহিদুল ইসলাম রনি।
প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ উপস্থিত অন্য সদস্যদের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। সেই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রপতিকে সুবিধাজনক সময়ে প্রেস ক্লাবে আমন্ত্রণ জানান।
প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া অতীতের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘প্রেস ক্লাবে আপনি আমাদের পরিবারের একজন সদস্যের মতো ছিলেন। আমরা গর্বিত ও আনন্দিত যে প্রেস ক্লাবেরই একজন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।’
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্য সৈয়দ আবদাল আহমদ এ সময় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অতীতের স্মৃতিচারণ করেন এবং গণতন্ত্র রক্ষায় রাষ্ট্রপতির ত্যাগ ও অবদানের কথা স্মরণ করেন।
প্রেস ক্লাবের সদস্য কাদের গনি চৌধুরী বিগত সময়ের অপসাংবাদিকতার কথা তুলে ধরে দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ধারা অব্যাহত রাখতে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় তিনি সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের কল্যাণে দ্রুত দশম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে সরকার ও রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা চান।
উপস্থিত সাংবাদিক নেতারা প্রেস ক্লাবের অবকাঠামো সম্প্রসারণে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করলে তিনি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিবসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
৪ দিন আগে
গণমাধ্যমকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আহ্বান জহির উদ্দিন স্বপনের
নতুন বাংলাদেশ ও রাষ্ট্র সংস্কার কার্যক্রমকে সফল করতে গণমাধ্যমকে একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, গণমাধ্যমকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং সংবাদপত্রের সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করতে সরকার নীতিগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে দৈনিক জনতা পত্রিকার ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যমকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করতে হবে। রাষ্ট্র মেরামতের যে লক্ষ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার কাজ করছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে সম্পন্ন করতে গণমাধ্যমের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি উল্লেখ করেন, সংবাদপত্রের মালিকপক্ষ যাতে নিরাপদে বিনিয়োগ করতে পারে এবং সেই বিনিয়োগ লাভজনক প্রক্রিয়ায় যেতে পারে, সে জন্য সরকার পলিসি সাপোর্ট বা নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে। পাশাপাশি সম্পাদক, সাংবাদিক ও ছাপাখানার কর্মীসহ গণমাধ্যম শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সবার স্বার্থ নিশ্চিত করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
সাংবাদিকতার মূল নীতি তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সাংবাদিকতার প্রধান কাজই হচ্ছে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা। একটি নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকার প্রশ্নকে সম্পদ মনে করে। যত বেশি প্রশ্ন করা হবে, সরকার তত বেশি জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনগণের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা ও কাজ পরিষ্কার করতে পারবে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে এই উপদেষ্টা বলেন, বিগত সরকারের ১৭ বছরের ভুল জ্বালানি নীতি, অপরিকল্পিত প্রকল্প এবং ব্যাপক লুটপাটের কারণে দেশ আজ এক ভঙ্গুর অর্থনীতির মুখোমুখি। সরকার যে ঐতিহ্য ও সংকট উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া সংকট সমাধান এবং ধ্বংসাত্মক শাসনব্যবস্থার বিষাক্ত প্রভাব থেকে জনগণকে মুক্ত করার যোগ্যতা ও সততা ধানের শীষ, বিএনপি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রয়েছে বলেই জনগণ তাদের ওপর আস্থা রেখেছে।
গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রতি আলোকপাত করে স্বপন বলেন, গঠনমূলক সমালোচনার আড়ালে অতীতের ফ্যাসিবাদের সমর্থকরা যাতে পুনরায় কোনো সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
গণমাধ্যমে বহুমতের প্রকাশ ঘটবে এবং সেখান থেকেই বস্তুনিষ্ঠ তথ্য বেরিয়ে আসবে—এটাই স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের মূল ভিত্তি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দৈনিক জনতার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি সৈয়দ এম আলতাফ হোসাইনের সভাপতিত্বে ও সম্পাদক ওবায়দুর রহমান শাহীনের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহসিন হোসেন, সাবেক সভাপতি বুলবুল আহমেদসহ দৈনিক জনতার সম্পাদক ও প্রকাশকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
১৮ দিন আগে
স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল (টিইসি) আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সেমিনারে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমকে একে অপরের পরিপূরক উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যেমন স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম অপরিহার্য, তেমনি একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়।
মন্ত্রী গণমাধ্যমকে কেবল একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যম স্বীকার করছে তাদের ওপর কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ নেই। বরং একটি স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও অর্থনৈতিকভাবে টেকসই গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাংবাদিক, মালিক ও সরকার পক্ষ যৌথভাবে কাজ করে চলেছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার এমন একটি মিডিয়া ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চায়, যেখানে গণমাধ্যমের মালিক, সাংবাদিক, বিজ্ঞাপনদাতা, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাদের ন্যায্য মর্যাদা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতা ও এ শিল্প অন্য যেকোনো ক্ষেত্রের চেয়ে ভিন্ন। এটি রাষ্ট্র ও সমাজের একটি অঘোষিত অথচ অনিবার্য চতুর্থ স্তম্ভ। ফলে সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য গণমাধ্যম শিল্পের অর্থনৈতিক ভিত্তিকেও শক্তিশালী হতে হবে।
তিনি বলেন, মালিকপক্ষ যদি ন্যায্য ব্যবসায়িক পরিবেশ ও যুক্তিসঙ্গত মুনাফা না পায়, তাহলে গণমাধ্যম শিল্প টেকসই হবে না। একইসঙ্গে শক্তিশালী বেসরকারি উৎপাদন অর্থনীতি ছাড়া পণ্য বিজ্ঞাপন বাজারও সম্প্রসারিত হবে না।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে প্রচলিত গণমাধ্যমের সঙ্গে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত হয়ে মিডিয়া ইকোসিস্টেমকে আরও জটিল করে তুলেছে। তথ্যমন্ত্রী এ পরিবর্তিত বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতমুখী নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আনা দরকার, যাতে প্রত্যেক অংশীজনের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হয়। তিনি বলেন, সুশাসন ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা না থাকলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে ব্যবসায়িক স্বার্থ বা দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। তিনি এ প্রবণতাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন।
তথ্যমন্ত্রী জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও গত জাতীয় নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠান সংস্কারের যে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, গণমাধ্যম খাতেও সে সুযোগ কাজে লাগাতে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহবায়ক ও বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আব্দুল হাই সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী ও ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন টিইসির সদস্য সচিব ও সময় টেলিভিশনের সিইও জুবায়ের বাবু। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক মোস্তফা আকমল।
৩৬ দিন আগে
সরকারের কাজ করতে সময় প্রয়োজন; গণমাধ্যমের উচিত দায়িত্বের সঙ্গে ভুলগুলো তুলে ধরা: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্জিত সাফল্য তুলে ধরা এবং সরকারকে কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারকে সবসময় নজরদারিতে রাখতে হবে। তারা ভুল করলে তা স্পষ্টভাবে ধরিয়ে দিতে হবে। তবে একইসঙ্গে সরকারকে কাজ করার সুযোগ ও সময় দিতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, গণমাধ্যমের কাজ শুধু সরকারের সীমাবদ্ধতা বা ব্যর্থতা প্রকাশ করা নয়, বরং তাদের অর্জিত সাফল্যগুলোও সমানভাবে উপস্থাপন করা।
টেলিভিশন টক শো-এর কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, কিছু অনুষ্ঠান ‘সরকারের চার মাসের ব্যর্থতা’ কেন্দ্র করে সাজানো হচ্ছে, যা দেশবাসীকে ভুল বার্তা দিচ্ছে। অথচ সরকার যেসব ভালো কাজ সম্পন্ন করেছে, সেদিকে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
গণমাধ্যমের একপেশে মনোভাব এড়িয়ে বস্তুনিষ্ঠতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন গণমাধ্যমই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। তিনি মালিক ও সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও আত্মনির্ভরশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার এবং মালিক ও সাংবাদিকদের মধ্যে একটি সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, গণমাধ্যম যদি স্বাধীনভাবে এবং কোনো শর্ত ছাড়া কাজ করতে পারে, তবে গণতন্ত্রও আরও শক্তিশালী হবে। তবে তার জন্য শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিজেদের শক্তিশালী হতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এটি আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
একটি ছোট্ট পোস্ট বা একটি ছোট রিল নিমেষেই একজন মানুষের সারাজীবনের অর্জন ধ্বংস করে দিতে পারে, উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলো এর ক্ষতিকারক প্রভাবের কারণে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবেশের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে।
তিনি আরও বলেন, দেশ একটি বড় ধরনের সংকট ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই রাতারাতি সব সমস্যার সমাধানের আশা করা বাস্তবসম্মত নয়।
উন্নয়ন ও গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সবাই ধৈর্য ধরে একযোগে কাজ করলে গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত হবে।
তিনি বলেন, বিএনপির কপাল খারাপ, সব সময় একটি ধ্বংসস্তূপের ওপর বিএনপি ক্ষমতায় আসে।
বিএনপি সরকারের ওপর অর্পিত অর্থনৈতিক ও জ্বালানি খাতের সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান গ্যাস বা বিদ্যুৎ সংকট বিএনপি সৃষ্টি করেনি। বিগত সরকার নতুন কোনো গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ না নিয়ে পুরো খাতকে আমদানিনির্ভর করে গড়ে তুলেছিল। পাশাপাশি কুইক রেন্টাল প্রকল্প ও ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলা আজ বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে, যা পুনরুদ্ধারে সরকার কাজ করছে।
৩৬ দিন আগে
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে আদালতের নিষেধাজ্ঞা মানার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রে কিছু কিছু গণমাধ্যম আদালতের নিষেধাজ্ঞা মানছে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
দেশের কোনো কোনো গণমাধ্যম দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করছে, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা বাংলাদেশে একদম সরাসরি নিষেধ আছে। শুধু দণ্ডপ্রাপ্ত বলে না, তার বক্তব্য প্রচার করা যাবে না—এরকম আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে এবং আমাদের অনেক মিডিয়া এ কাজটা করছে। তার মানে হচ্ছে তারা আদালতের নিষেধাজ্ঞা, নির্দেশনা মানছে না।’
তিনি বলেন, যেহেতু এই মিডিয়াগুলো তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে আছে, তাই আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানাব যে তারা যেন এই কাজটা না করে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, আমরা এটা নিয়ে খুবই কঠোর কোনো অবস্থান নিচ্ছি তা না, কিন্তু এটা আবার স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, আমাদের মিডিয়াগুলো আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখবে, শ্রদ্ধা দেখাবে এবং তারা এসব প্রচার থেকে বিরত থাকবে।
এমন আহ্বান তো এর আগেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করেছিলেন, কিন্তু সেটি তো মানছে না—এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ঠিক আছে, আমরা আবার আহ্বান করব এবং কোনো একটা সময় হয়তো এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবা যেতে পারে।
তিনি বলেন, ঘটনা যেটা হয়েছে, সেটা হলো, তিনি (শেখ হাসিনা) যখন কথা বলেন, এটা অন্যান্য মিডিয়ায় যেহেতু আসে, মানুষ কোনো না কোনোভাবে সেটা জেনে যায়। কারণ এখন কানেক্টিভিটির যুগ। এটা আমি আবারও এর বাইরে গিয়ে, সরকারের বাইরে গিয়ে বলছি যে এটা আসলে শেষ পর্যন্ত ঠেকিয়ে রাখা যায় কি না, তা ভাবনার বিষয়। কারণ এই যে আপনি একটা বিদেশি মিডিয়ার রেফারেন্স দিচ্ছেন, সেই মিডিয়া আমাদের দেশ থেকে দেখা সম্ভব এবং অনেকে সেটা দেখছেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, যদি আদালত এই নিষেধাজ্ঞা না সরায়, তাহলে এসব বিষয় প্রচার করাটা অনুচিত। এটা ‘অপরাধ’ এভাবে বলছি না, এটা অনুচিত এবং আমি আশা করি আমাদের মিডিয়া দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
৭৪ দিন আগে
ভুল ও অপতথ্য প্রতিরোধ আমাদের জন্য যুদ্ধে পরিণত হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ভুল এবং অপতথ্য প্রতিরোধ করাটা একটা প্রধান চ্যালেঞ্জ। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দিক থেকেও এটা আমাদের জন্য এখন যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপতথ্যের বিস্তার ঠেকাতে একসঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের ফলে মতপ্রকাশের সুযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি এর অপব্যবহারও বাড়ছে, যা সমাজ ও রাষ্ট্র জীবনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এই প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সরকারের জন্য অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
মন্ত্রী বলেন, আলোচনায় এসেছে যে সারা পৃথিবীতেই এবং আমাদের জন্য তো অবশ্যই ভুল এবং অপতথ্যের বিরুদ্ধে লড়াই করাটা একটা প্রধান চ্যালেঞ্জ। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দিক থেকেও এটা আমাদের জন্য এখন যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশেষ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিতে যেভাবে মানুষের জন্য সুযোগ রয়ে গেছে, সেই সুযোগে অপতথ্য প্রচারকারীরা একটা বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করছে সমাজ, রাষ্ট্র ও নাগরিক জীবনে। সেই ক্ষেত্রে রাষ্ট্র এবং সরকার কীভাবে জনগণকে এই অপতথ্যের হাত থেকে সুরক্ষা দিতে পারে, এটা আমাদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ছিল একসময়ের চ্যালেঞ্জ। এখন শুধু স্বাধীনতা নয়, ভারসাম্যপূর্ণ স্বাধীনতাও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যারা স্বাধীনতা একটু চর্চা করছেন, সেটা প্রতিষ্ঠান হোক অথবা ব্যক্তিই হোক, বিশেষ করে যখন সামাজিক মাধ্যমে আমরা দেখছি যে এই স্বাধীনতার অপব্যবহারটা এমন হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য অনেক বেশি ভুক্তভোগী হয়ে পড়ছে। অতএব গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং অপতথ্যের হাত থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া, দুটো কাজই তথ্য মন্ত্রণালয়কে একসঙ্গে করতে হচ্ছে।
বৈঠকের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় গন্তব্য হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আমাদের মানবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দাতা হচ্ছে তারা। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অংশীদার হচ্ছে তারা। সেই বিবেচনায় আমাদের বন্ধুত্বকে আমরা আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।
তিনি বলেন, আমরা এবং সারা পৃথিবী এখন একটা মিডিয়া পরিস্থিতি নিয়ে চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছি। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মতো এরকম একটা প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত একটা দেশ এই নতুন ইকোসিস্টেমকে কীভাবে ম্যানেজ করে, এ ব্যাপারে আমরা পারস্পরিকভাবে আমাদের কীভাবে সহযোগিতা বিনিময় করতে পারি—এটাই ছিল মূলত আলোচনার বিষয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিশন ফর মিডিয়া কীভাবে কাজ করে এবং আমাদের এখানে একটা মিডিয়া কমিশন গঠন করার যে প্রতিশ্রুতি সরকার ঘোষণা করেছে, সেই কাজটা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা আমাদের নৈতিক সহযোগিতা করবেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা দুই পক্ষ—যুক্তরাষ্ট্রের এখানকার রাষ্ট্রদূতদের কার্যালয় এবং আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে আমরা পারস্পরিকভাবে খোঁজার চেষ্টা করব যে কোথায় আমরা গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করতে পারি।
১৩৮ দিন আগে
গণমাধ্যমে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউনেস্কোর সহায়তা কামনা তথ্যমন্ত্রীর
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন গণমাধ্যমে নতুন যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজের ক্ষেত্রে একটি কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়নে ইউনেস্কোর সহযোগিতা কামনা করেছেন। এক্ষেত্রে সংস্থাটির জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
বুধবার (২২ এপ্রিল) মন্ত্রীর নিজস্ব অফিসকক্ষে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর সঙ্গে সরকারের যৌথভাবে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
সাক্ষাৎকালে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি বাংলাদেশে সংস্থাটির চলমান কার্যক্রম বিশেষত গণমাধ্যমের উন্নয়ন, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট নীতিমালা এবং ভুলতথ্য ও অপতথ্য প্রতিরোধে ইউনেস্কোর উদ্যোগ সম্পর্কে মন্ত্রীকে জানান।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ইউনেস্কো অপপ্রচারের বিস্তার রোধে ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম জোরদারে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও পরিচালিত হচ্ছে।
এই সাক্ষাতে তথ্যমন্ত্রী গণমাধ্যমে অপতথ্যের বিস্তার রোধ ও ফ্যাক্ট চেকিংয়ের ওপর প্রশিক্ষণের গুরুত্বারোপ করেন এবং এ বিষয়ে ইউনেস্কোর সহযোগিতা কামনা করেন। ইউনেস্কোর প্রতিনিধিও এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তাকে।
এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন।
১৪৩ দিন আগে
গণমাধ্যমের সংস্কারে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: তথ্যমন্ত্রী
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও নাগরিক উদ্যোগ রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এ সময় গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, সরকার গণমাধ্যম সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এবং ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ইআরএফ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের ধন্যবাদ জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তাদের সমালোচনা, পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ সরকারকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।
তিনি বলেন, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং সরকার গণমাধ্যম সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এ সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, নির্যাতনের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিকারের ব্যবস্থা এবং অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের জন্য কল্যাণমূলক কাঠামো প্রণয়নের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যম খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিজ্ঞাপন নীতিমালা প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর ‘রিফর্ম ট্র্যাকিং’ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সরকার, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি গণমুখী, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল মিডিয়া পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, দৈনিক নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবীর ও ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ বক্তব্য রাখেন।
১৫৬ দিন আগে
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক জোরদারে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে: ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার
সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ক আরও জোরদার করতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে সিলেটে কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
নগরীর উপশহর এলাকায় একটি অভিজাত হোটেলের সেমিনার কক্ষে এ পুনর্মিলনী আয়োজন করে সিলেটস্থ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন।
সহকারী হাইকমিশনার দুদেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে সিলেট অঞ্চলের সাংবাদিকরা আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যে সাংবাদিক নেতারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন সাংবাদিকদের সঙ্গে ভারতীয় সরকারের সৌহার্দ্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও পেশাগত বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে। পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরতে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে বলেও তারা মত প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা প্রেসক্লাব সভাপতি মঈন উদ্দিন, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সিলেট অনলাইন প্রেস ক্লাবের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আব্দুল মোহিত দিদার, সিলেট উইমেনস জার্নালিস্ট ক্লাবের সভাপতি সুবর্ণা হামিদ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সিলেট ব্যুরো প্রধান সেলিম আওয়াল ও দ্যা ডেইলি স্টারের সিলেট ব্যুরো প্রধান দ্বোহা চৌধুরী।
সৌহার্দ্যপূর্ণ এ আয়োজনে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, সিলেট প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক সিলেট মিরর সম্পাদক আহমেদ নূরসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা।
সিলেটের বিভিন্ন প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ার বিপুল সংখ্যক সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমির আবৃত্তি প্রশিক্ষক নাহিদা খান সুর্মি।
১৬৮ দিন আগে