গণমাধ্যম
গণমাধ্যমের সংস্কারে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: তথ্যমন্ত্রী
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও নাগরিক উদ্যোগ রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এ সময় গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, সরকার গণমাধ্যম সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এবং ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ইআরএফ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের ধন্যবাদ জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তাদের সমালোচনা, পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ সরকারকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।
তিনি বলেন, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং সরকার গণমাধ্যম সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এ সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, নির্যাতনের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিকারের ব্যবস্থা এবং অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের জন্য কল্যাণমূলক কাঠামো প্রণয়নের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যম খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিজ্ঞাপন নীতিমালা প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর ‘রিফর্ম ট্র্যাকিং’ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সরকার, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি গণমুখী, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল মিডিয়া পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, দৈনিক নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবীর ও ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ বক্তব্য রাখেন।
৫ দিন আগে
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক জোরদারে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে: ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার
সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ক আরও জোরদার করতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে সিলেটে কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
নগরীর উপশহর এলাকায় একটি অভিজাত হোটেলের সেমিনার কক্ষে এ পুনর্মিলনী আয়োজন করে সিলেটস্থ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন।
সহকারী হাইকমিশনার দুদেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে সিলেট অঞ্চলের সাংবাদিকরা আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যে সাংবাদিক নেতারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন সাংবাদিকদের সঙ্গে ভারতীয় সরকারের সৌহার্দ্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও পেশাগত বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে। পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরতে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে বলেও তারা মত প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা প্রেসক্লাব সভাপতি মঈন উদ্দিন, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সিলেট অনলাইন প্রেস ক্লাবের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আব্দুল মোহিত দিদার, সিলেট উইমেনস জার্নালিস্ট ক্লাবের সভাপতি সুবর্ণা হামিদ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সিলেট ব্যুরো প্রধান সেলিম আওয়াল ও দ্যা ডেইলি স্টারের সিলেট ব্যুরো প্রধান দ্বোহা চৌধুরী।
সৌহার্দ্যপূর্ণ এ আয়োজনে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, সিলেট প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক সিলেট মিরর সম্পাদক আহমেদ নূরসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা।
সিলেটের বিভিন্ন প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ার বিপুল সংখ্যক সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমির আবৃত্তি প্রশিক্ষক নাহিদা খান সুর্মি।
১৭ দিন আগে
শক্তিশালী গণমাধ্যম ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর
শক্তিশালী গণমাধ্যম ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশ,ন সামিট ২০২৬-এ এ কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইলমাজ এবং কমিউনিকেশন বিভাগের প্রধান বুরহানেত্তিন দুরান।
‘নতুন বৈশ্বিক কাঠামো: একটি যোগাযোগের দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তথ্যমন্ত্রী তুরস্ক সরকারকে সময়োপযোগী এ আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী ক্ষমতার পরিবর্তন এবং অপতথ্য ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি উল্লেখ করেন, কৌশলগত যোগাযোগ এখন শাসন ব্যবস্থার একটি কেন্দ্রীয় উপাদান হয়ে উঠেছে এবং রাষ্ট্রগুলোকে ক্রমেই তাদের যোগাযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা ও ধারাবাহিকতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
তথ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, অপতথ্য মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, বিশেষ করে একটি স্বাধীন ও পেশাদার গণমাধ্যম।
তিনি বলেন, সত্য প্রতিষ্ঠিত করা, জবাবদিহি নিশ্চিত এবং জনআস্থা বজায় রাখতে একটি শক্তিশালী চতুর্থ স্তম্ভ অপরিহার্য।
জহির উদ্দিন স্বপন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, মতপ্রকাশে বাধা সৃষ্টি করে এমন আইন পর্যালোচনা করা এবং একটি স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলাসহ বাংলাদেশের চলমান সংস্কার কার্যক্রম আলোচনায় তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, তথ্যের বিশৃঙ্খলার সমাধান একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতির মধ্যেই নিহিত যেখানে অতি নিয়ন্ত্রণ ও নিয়ন্ত্রণহীনতা—উভয়কেই পরিহার করতে হবে।
তথ্যমন্ত্রী কৌশলগত যোগাযোগের জন্য বিশ্বাসযোগ্যতা, গণতান্ত্রিক সহনশীলতা এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা—এ তিনটি মূলনীতি তুলে ধরেন।
বাংলাদেশের মতো একটি জনবহুল ও দ্রুত ডিজিটালাইজড দেশে অপতথ্য ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী শাসনামলে জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করতে তথ্যকে কৌশলগতভাবে বিকৃত ও ব্যবহার করা হয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এই ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রাপ্তি এবং অবাধ তথ্য প্রবাহের মধ্যে একটা কার্যকর সমন্বয় দরকার। একটা নতুন লাগসই ফ্রেমওয়ার্ক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমাদের নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করবে। বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্য দেশের কাছ থেকে এই বিষয়গুলি জানতে চায়, আবার একইসঙ্গে আমাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে আমরা গ্লোবাল নলেজকে সমৃদ্ধ করতে আগ্রহী। এই যৌথ জ্ঞান বিশ্ব শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ করবে।
বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ মানবিক বিষয়গুলোতে তুরস্কের সমর্থনের প্রশংসা করেন তথ্যমন্ত্রী।
জহির উদ্দিন স্বপন বক্তব্যের শেষে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক যোগাযোগ কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেখানে উন্নয়নশীল দেশগুলোর কণ্ঠস্বর যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে।
প্যানেল আলোচনায় আরও অংশ নেন উত্তর সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাহসিন এরতুগ্রুলোগ্লু, সিরিয়ার তথ্যমন্ত্রী হামজা আলমুস্তাফা এবং কাজাখস্তানের সংস্কৃতি ও তথ্যবিষয়ক উপমন্ত্রী কানাত ঝুমাবায়েভিচ ইস্কাকভ।
১৮ দিন আগে
গণমাধ্যম নিয়ে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে চাই: তথ্যমন্ত্রী
সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে গণমাধ্যম নিয়ে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে চান বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে সরকারের এক মাসপূর্তি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
গণমাধ্যমকর্মীদের হুট করে চাকুরিচ্যুতি রোধে কোনো সুনির্দিষ্ট আইন বা কোনো কিছু করে যাবেন কিনা—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন যে, গণমাধ্যম জগতের চেহারা এবং কাঠামোটায় কত বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে সারা পৃথিবীতে। আপনারা দেখেছেন যে, প্রতিষ্ঠিত মিডিয়া হাউসের চাইতেও একজন ইউটিউবারের প্রভাব প্রতিপত্তি এবং পরিধি অনেক বেশি বেড়ে গেছে। এটা সবটাই কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তি এবং এখনকার যে কমিউনিকেশন সায়েন্স, তার যে রূপান্তরিত পরিস্থিতি, সেটার কারণেই।
‘অনলাইন পত্রিকা, আইপি টিভি—এ ধরনের প্লাটফর্মগুলো তৈরি হয়েছে। ফলে আগের মতো কিন্তু আমরা বা সরকার চাইলেই পুরনো নিয়ন্ত্রণের আইন কাঠামো... তার আওতার মধ্যে কিন্তু এগুলো পড়ে না। আবার এগুলো কিন্তু আমাদের সভ্যতার অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। ফলে পুরো ব্যাপারটাই একটা স্ট্র্যাটেজিক ডিসকাশন (কৌশলগত আলোচনা)।’
তিনি বলেন, ছোটখাটো বিষয় নিয়ে কথা বলা যায়—অমুকটা কীভাবে, তমুকটা কীভাবে; কিন্তু আমরা এ রকম কোনো পিসমিল (আংশিক) কথাবার্তা না বলে গণমাধ্যম-সংক্রান্ত একটা বিষয়ে আপনাদের মতো স্টেক হোল্ডারদের (অংশীজনদের) সঙ্গে নিয়েই একটা স্ট্র্যাটেজিক মুভ (পরিকল্পিত পদক্ষেপ) নিতে চাই। এজন্য আমি কোনো বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত মন্তব্য করতে চাচ্ছি না আপাতত।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ব্যক্তিগত মালিকানাধীন কোনো প্রতিষ্ঠানেকে তার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাখবেন কি রাখবেন না, এটার তো তার একটা এখতিয়ার এবং ক্ষমতা আছে। আবার তথ্য মন্ত্রণালয় যে কোনো ধরনের গণমাধ্যমকর্মীদের এক ধরনের নিরাপত্তা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার একটা নৈতিক দায়িত্ব আছে। কিন্তু, এই নৈতিক দায়িত্ব পালন করার জন্য কোনো উদ্যোক্তার প্রতি কী পরিমাণ চাপ প্রয়োগ করা যাবে, তার কিন্তু কোনো আইন নেই। ফলে সবটাই কিন্তু আমাদের একটা কৌশলগত আলোচনার মধ্যে আনতে হবে। আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই এই বিষয়ে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এক মাসের মধ্যে সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড চালু, কৃষকদের ঋণ মওকুফ, ইমাম-মোয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরতদের সম্মানি প্রদান, মহিলা বাস চালু, খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেছে। কৃষি কার্ড ও হেলথ কার্ড চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে বলেও জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
২০ দিন আগে
গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে আমাদের কাজ: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে আমাদের কাজ।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বগুড়ায় স্থানীয় একটি কনভেনশন সেন্টারে রাজশাহী বিভাগের সাতটি জেলার সাংবাদিকদের মধ্যে আর্থিক অনুদান ও সাংবাদিক পরিবারের মেধাবী সন্তানদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র জনগণের কল্যাণে কতটা কাজ করবে তা নিশ্চিত করে গণমাধ্যম। তাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কোনো করুণার বিষয় নয়, বরং তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। আধুনিক সভ্যতায় গণমাধ্যম অনিবার্য অনুষঙ্গ। গণমাধ্যম ছাড়া সভ্যতার চর্চা করা যায় না।
রাষ্ট্র ও সমাজে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যে সমাজে জবাবদিহিতা থাকে না সেখানে শেখ হাসিনার মতো পতিত, ঘৃণিত ও লাঞ্ছিত রাষ্ট্রনায়ক তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে আমরা জবাবদিহিতার সংস্কৃতি তৈরি করতে চাই।
এ সময় সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদান, কৃষিঋণ মওকুফসহ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
৩২ দিন আগে
ডেইলি স্টার-প্রথম আলোয় অগ্নিসংযোগ জাতির জন্য লজ্জার: সালাহউদ্দিন
দেশের দুটি শীর্ষ গণমাধ্যমে সাম্প্রতিক হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে জাতির জন্য ‘লজ্জার’ বলে অভিহিত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। এসব ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বনানীতে গণমাধ্যম সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সাংবাদিকদের সমাজের দর্পণ উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছি, পত্রিকা হচ্ছে সমাজের দর্পণ। পত্রিকা একটি বিমূর্ত শব্দ, সেটাকে মূর্ত করেন আপনারা (সাংবাদিকরা)। জাতির বিবেক, জাতির মতামত—যা কিছু প্রতিফলিত হয়, তা সংবাদপত্র, গণমাধ্যমের মাধ্যমে হয়।
তিনি বলেন, সমাজের সেই দর্পণ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে, কিন্তু সাংবাদিকদের দর্প যেন চূর্ণ না হয়। আপনারা যদি যদি রাষ্ট্রকাঠামোয় সংস্কার চান, সংস্কারকৃত সামজ ও রাষ্ট্র চান, গণতান্ত্রিক সংস্কার চান, সর্ব পর্যায়ে বৈষম্যহীন সমাজ নির্মাণ করতে চান, আপনারাই পারবেন। আপনারাই সমাজের দিকনির্দেশক। রাজনীতিবিদরা সরকার পরিচালনার সময় ড্রাইভিং সিটে থাকেন, কিন্তু তাদের আপনারা পথনির্দেশ না করলে সমাজ বিচ্যুত হবে।
সালাহউদ্দিন বলেন, কয়েক দিন আগে বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমেও ওপর যে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে গেছে। দেশের খ্যাতনামা পত্রিকা—প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার যেভাবে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, সারা বিশ্ব সেটা দেখেছে। জাতি হিসেবে সেটা আমাদের জন্য লজ্জার। এটা শুধু দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়ে সমাপ্ত করতে পারব না।
১১৪ দিন আগে
শিক্ষক পেটানোর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেনি সরকার: হাদী
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ উসমান হাদী বলেছেন, `আমরা কথার জবাব কথা দিয়ে দিব। কোনোভাবেই কোনো হামলা দিয়ে নয়। আমরা দেখেছি, আমাদের পিতৃতুল্য শিক্ষকরা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু তাদের ওপর যে পেটোয়া বাহিনী হামলা করলো, তার জন্য কি সরকার থেকে কোনো দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে? করেনি।
বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বিকাল সাড়ে পাঁচটায় রাজধানীর কাকরাইলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি গণমাধ্যমের সামনে এসব কথা বলেন।
এ সময়ে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র বলেন, মনে রাখবেন, একপাক্ষিক মহানুভবতা ভালো কিছু বয়ে আনে না।
‘বর্তমানে দেশের সব ক্যাম্পাসে ছাত্র সংগঠনের মধ্যে ঝগড়াঝাটি লেগে আছে। কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবির প্রশ্নে ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরসহ সকল সংগঠন এক হয়েছে। তাদের বলবো—আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকেন,’ যোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: জবির চলমান আন্দোলনে যোগ দিলেন সাবেক শিক্ষার্থীরা
এদিকে চারদফা দাবিতে টানা ত্রিশ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কাকরাইল মসজিদ মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি হলো—আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন বৃত্তি ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে কার্যকর করতে হবে; জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাঁটছাট না করেই অনুমোদন করতে হবে; জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ পরবর্তী একনেক সভায় অনুমোদন করে অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করতে হবে; শিক্ষকদের ওপর হামলাকারী পুলিশদের বিচারেী আওতায় নিতে হবে।
৩৩৪ দিন আগে
ফ্যাসিবাদের পক্ষে সম্মতি উৎপাদন না করতে গণমাধ্যমের প্রতি তথ্য উপদেষ্টার আহ্বান
জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কোনো হত্যাকাণ্ড তুলনীয় নয় উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বলেছেন, ‘গত বছরের ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে যে পরিমাণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, এত স্বল্প সময়ে ফিলিস্তিনেও এই পরিমাণ মানুষ হত্যা করা হয়নি।’
সোমবার (৫ মে) বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে 'ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সাংবাদিক হত্যা-নিপীড়ন' শীর্ষক সেমিনারে উপদেষ্টা এ সব কথা বলেন।
এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম ফ্যাসিবাদের পক্ষে সম্মতি উৎপাদন না করতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘গুম, অপহরণ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপকর্মের সম্মতি উৎপাদনের জন্য আওয়ামী লীগ সরকার গণমাধ্যমকে ব্যবহার করেছে।’
‘এসব অসৎ উদ্দেশ্যেই আওয়ামী লীগ সরকার গণমাধ্যম তৈরি করেছে। বিগত সরকারের আমলে যেসব গণমাধ্যমকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর অনুমোদন প্রক্রিয়া তদন্ত করা হবে।’
সম্প্রতি চাকরিচ্যুত তিনজন সাংবাদিক প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকার চায় না বিনা নোটিশে কোনো সাংবাদিক চাকরিচ্যুত হোক। কোনো সাংবাদিক অপরাধ করলে তাকে প্রক্রিয়া মেনেই চাকরিচ্যুত করতে হবে। বিনা নোটিশে সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুতিকে সরকার সমর্থন করে না।’
মাহফুজ আলম বলেন, ‘কিছু গণমাধ্যম জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে আন্দোলন হিসেবে অভিহিত করছে, পাশাপাশি বর্তমান সরকারকে পটপরিবর্তনের পরবর্তী সরকার বলা হচ্ছে। বিষয়টি দুঃখজনক।’
তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে কিছু বলা হয়নি। আমরা মনে করি, জনগণ বিষয়টি মূল্যায়ন করবে। আমরা চাই না গণমাধ্যম সরকারের পক্ষে লিখুক। সরকারকে প্রশ্ন করুন। সরকারকে প্রশ্ন করলে সরকার আরও বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।’
পতিত সরকারের দুঃশাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসনের সম্মতি উৎপাদনের যন্ত্র ছিল গণমাধ্যম। গণমাধ্যমের রাজনীতিকীকরণের ফলে সাংবাদিকরা তাদের অধিকার বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টি সাংবাদিকদের বোঝা উচিত। যেসব সাংবাদিক হত্যার শিকার ও দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত হয়েছেন, সরকার তাদের পরিবারকে সহযোগিতা করবে।’
আরও পড়ুন: সাংবাদিকতার অধিকার সুরক্ষা-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে: তথ্য উপদেষ্টা
তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের ৪৪ ধাপ অবনতি হয়েছে। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের শাসনামলে গণমাধ্যমের চিত্র উপলব্ধি করা যায়।’
বিগত সরকারের আমলে সাংবাদিক নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার নির্দেশেই তাদের ওপর হামলা হয়েছে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলের সঙ্গে অন্য কোনো শাসনামলের তুলনা চলে না। এ বিষয়ে কোনো দ্বিধা থাকা উচিত নয়। ফ্যাসিবাদ ও স্বাধীন গণমাধ্যম একসঙ্গে চলতে পারে না। ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান তিনি।’
সেমিনারে সাংবাদিক হত্যা-নিপীড়ন বিষয়ে স্মৃতিচারণ করেন নিহত সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ সাংবাদিক হাসান মেহেদীর স্ত্রী ফারহানা ইসলাম ববি, শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা সামসি আরা জামান, নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক আক্তারুজ্জামান ও সাংবাদিক রাশেদুল ইসলাম। সেমিনারে হত্যা-নিপীড়নের শিকার সাংবাদিক-পরিবারের সদস্য এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
৩৪৪ দিন আগে
ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে অনেক মন্ত্রী-এমপি গণমাধ্যমের মালিক হয়েছেন: তথ্য উপদেষ্টা
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে অনেক মন্ত্রী-এমপি বিভিন্নভাবে গণমাধ্যমের মালিক হয়েছেন। এসব গণমাধ্যমের সার্বিক অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে
তিনি বলেন, ‘সংবাদপত্রের গুণগত মানোন্নয়নে টাস্কফোর্স গঠন করবে সরকার। এই টাস্কফোর্স স্বচ্ছতার সঙ্গে সংবাদপত্রের প্রকৃত প্রচারসংখ্যা নির্ধারণ, ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন, বিজ্ঞাপন হার নির্ধারণসহ সংবাদপত্রের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবে।’
সোমবার (২১ এপ্রিল) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) অংশীজনের সভায় উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
সরকারের নীতিমালা মেনে সংবাদপত্র প্রকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, যেসব সংবাদপত্র সরকারি নীতিমালা মেনে প্রকাশিত হবে, সেসব সংবাদপত্র বিজ্ঞাপনসহ সরকারি সুবিধা পাবে। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানসমূহ ট্যাক্স দেয় কিনা, সে বিষয়টিও যাচাই করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সরকার কোনো সংবাদপত্র বন্ধ করতে চায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবাদপত্র প্রকাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং বিভিন্ন সংবাদপত্রের মধ্যে প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।
আরও পড়ুন: কেউ দেশ অস্থিতিশীল করতে চাইলে সরকার হার্ডলাইনে যাবে: তথ্য উপদেষ্টা
এতে আরও বক্তব্য দেন গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ এবং চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদা বেগম।
এছাড়া সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরিন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ডিইউজের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, দৈনিক প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফ, দৈনিক দিনকালের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শিমুল বিশ্বাস, দৈনিক নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলীসহ বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৩৫৮ দিন আগে
সত্য প্রকাশই হোক গণমাধ্যমের একমাত্র অঙ্গীকার: কাদের গনি চৌধুরী
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, সত্য প্রকাশই হোক গণমাধ্যমের একমাত্র অঙ্গীকার। গত ১৬ বছর গণমাধ্যম সত্য প্রকাশ করতে পারেনি। এখন ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে, সত্য লিখতে আর বাধা নেই। এখন দরকার আমাদের মনমানসিকতার পরিবর্তন।
রবিবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজার প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব বলেন।
সাংবাদিক কামাল হোসেন আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন। বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সাংবাদিক নুরুল ইসলাম হেলালি, এসএম আমিনুল হক চৌধুরী, আতাহার ইকবাল, মমতাজ উদ্দিন বাহারি, আবু সিদ্দিক ওসমানি, শামসুল হক শারক ও এম আর মাহবুব। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এসএম জাফর।
আরও পড়ুন: সাংবাদিকদের জন্য একটি নিরাপদ ও স্বাধীন পরিবেশ জরুরি: কাদের গনি চৌধুরী
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতা হচ্ছে সত্যের আরাধনা। তাই সাংবাদিকতা হতে হয় শতভাগ সত্য। সত্য ও মিথ্যার সংমিশ্রণে সাংবাদিকতা হয় না।একশ'তে একশ না পেলে যেমন দেশ প্রেমিক হওয়া যায় না, তেমনি শতভাগ সত্য না হলে নিউজ হয় না।
‘আমাদের মনে রাখতে হবে, সাংবাদিকের দায়িত্ব হচ্ছে সত্য উদ্ঘাটন ও সত্যের বিকাশ ঘটানো। একজন সাংবাদিককে আত্মসচেতনতার মাধ্যমে পেশার দায়িত্ব ও নির্দেশনা মেনে চলা আবশ্যক। তবেই দেশ ও দেশের মানুষের সেবা নিশ্চিত হবে।’
তিনি বলেন, সাংবাদিকতার সঙ্গে যারা যুক্ত—প্রতিবেদক থেকে সম্পাদক—তাদের অবশ্যই কতগুলো মৌলিক দায়িত্ব আছে, যেগুলো এড়িয়ে গিয়ে সাংবাদিকতা করা সম্ভব নয়; অন্যার্থে সাংবাদিকতার নীতিমালার ভিত্তিগত কিছু বিষয় আছে, যা সর্বজনীন এবং দায়িত্বনির্বিশেষে সবার জন্য প্রযোজ্য। সাংবাদিকতার প্রথম বাধ্যবাধকতা বা দায়িত্ব হচ্ছে সত্যের প্রতি। বিল কোভাচ ও টম রোসেন্টিয়েল দ্য এলিমেন্টস অব জার্নালিজম গ্রন্থে একে বলেছেন ‘আ প্র্যাকটিক্যাল অ্যান্ড ফাংশনাল ফর্ম অব ট্রুথ’—বাস্তব এবং কার্যকর সত্য।’
‘এ সত্যের ভিত্তি হচ্ছে পেশাদারিভাবে তথ্য-উপাত্ত ও ঘটনার বিবরণ সংগ্রহ এবং তা যাচাই করা।সাংবাদিকতা আসলে কেবল তথ্য-উপাত্ত ও ঘটনার বিবরণ সংগ্রহের পেশা নয়; এটির ভিত্তি হচ্ছে তথ্য যাচাই করাও। ইংরেজিতে যাকে বলে ভেরিফিকেশন, একে আমরা সত্য প্রতিপাদন বলে বর্ণনা করতে পারি।’
আরও পড়ুন: সাংবাদিকদের কাজ সমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা: কাদের গনি চৌধুরী
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের চাকরির ঝুঁকি, জীবনের ঝুঁকিসহ নানা ঝুঁকি নিতে হয়। সাংবাদিকরা এই ঝুঁকি না নিলে সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে কীভাবে? অসহায় আত্নসমর্পণ সাংবাদিকদের মানায় না। বিগত সরকারের সময় আমাদের সাংবাদিকদের বিরাট অংশকে আমরা অসহায় আত্মসমর্পণ করতে দেখেছি সেল্ফ সেন্সরশিপের মাধ্যমে।
মনে রাখবেন সত্য প্রকাশে বাধা ও বিপদের সম্মুখীন হলেও সমাজের সাধারণ মানুষ সাংবাদিকদের পাশে এসে দাঁড়ায়।
৩৭৩ দিন আগে