ডিপি ওয়ার্ল্ড
চট্টগ্রাম বন্দরের বিদেশি টার্মিনাল ইজারা চুক্তিতে ‘অনিয়ম’, দুদকে অভিযোগ
চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালগুলো বিদেশি কোম্পানির কাছে কনসেশন চুক্তির আওতায় ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তা তদন্তের আবেদন জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তিনটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) নাগরিক সংগঠন ‘দেশপ্রেমিক নাগরিক সমাজ’-এর মুখপাত্র মো. আল আমিন হোসেন এবং সহ-মুখ্যপাত্র মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল চৌধুরী এই অভিযোগগুলো জমা দেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বন্দরের বেশ কিছু লাভজনক টার্মিনাল অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং ‘নন-ডিসক্লোজার’ (তথ্য প্রকাশ না করার শর্ত) চুক্তির মাধ্যমে বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে বা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে স্বচ্ছতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কমিশনভিত্তিক লেনদেনের বিষয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগে দাবি করা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং সাবেক নৌপরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালটি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে কনসেশন চুক্তির অধীনে ইজারা দিতে তড়িঘড়ি প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। সম্প্রতি সেই প্রচেষ্টা পুনরায় সচল করার জন্য তদবির শুরু হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর ডেনমার্কভিত্তিক ‘এপিএম টার্মিনালস’-এর সঙ্গে লালদিয়া টার্মিনালের জন্য ৪৮ বছরের একটি কনসেশন চুক্তি সই হয়। একই দিনে কেরানীগঞ্জের পানগাঁও টার্মিনালের জন্য সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ‘মেডলগ এসএ’-এর সঙ্গে ২২ বছরের একটি চুক্তি করা হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, এই চুক্তিগুলো অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং গোপনীয়তার শর্তে সাধারণের অগোচরে রাখা হয়েছে, যা জবাবদিহিতা ও জনসমক্ষে তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাদের মতে, উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র ছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ নির্দিষ্ট বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
তাদের ভাষ্যমতে, নিউমুরিং টার্মিনালের ইজারা কার্যকর হলে বিশাল অঙ্কের লেনদেন এবং ব্যাপক কমিশন প্রদানের সম্ভাবনা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয় অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ; তাই জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের গোপন চুক্তি বা অনিয়ম গ্রহণযোগ্য নয় বলে তারা মন্তব্য করেন।
তারা দুদককে একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের তদন্ত, প্রয়োজনে দেশ-বিদেশের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও আর্থিক লেনদেন যাচাই এবং তথ্য-প্রমাণ নষ্ট করা বা পালানোর চেষ্টা ঠেকাতে তদন্তকালীন বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় দুদক দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ‘দেশপ্রেমিক নাগরিক সমাজ’।
২২ ঘণ্টা আগে
দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি করবে না সরকার: চট্টগ্রাম বন্দরের ইজারা নিয়ে উপদেষ্টা
দেশের জন্য অনুকূল না হলে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এখনও চুক্তি হয়নি জানিয়ে নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, যদি আমাদের জন্য অনুকূল হয় তবে চুক্তি হবে, অনুকূল না হলে হবে না। দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি এ সরকার করবে না।
এদিকে, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলন করছে চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মচারীরা। কর্মচারীদের কর্ম বিরতিতে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর।
এ বিষয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বন্দরে অচলাবস্থা তৈরি করছে কিছু সংখ্যক বা বহু সংখ্যক বন্দরেরই কর্মচারী, যারা সরকারি কর্মচারীও বটে। এই অচলাবস্থার কারণে দেশের ক্ষতি হচ্ছে, সেই ক্ষতির মাসুল কে দেবে আমি জানি না। নির্বাচনের আগে তাদের একটা পরিচয় আছে, যেটা আমরা পত্রপত্রিকায় দেখছি। জনগণ দেখছে, আমি এটার ওপরে কিছুই বলতে চাচ্ছি না।’
২০ দিন আগে
ডিপি ওয়ার্ল্ড ও আবুধাবি পোর্টস বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী: রাষ্ট্রদূত
বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আবদুল্লাহ আল হামৌদি বলেছেন, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ড এবং আবুধাবি পোর্টস চট্টগ্রাম বন্দরে বিনিয়োগে আগ্রহী।
তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আরেক শীর্ষ প্রতিষ্ঠান মাসদার ইন্দোনেশিয়ায় যেমন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, তেমনি বাংলাদেশেও ভাসমান সৌর প্রকল্পসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগে আগ্রহী।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া ও আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের নিয়োগ বাতিল
সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশের লজিস্টিকস, বন্দর, এভিয়েশন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে অত্যন্ত আগ্রহী এবং দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সমর্থন করতে প্রস্তুত।
মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, অধ্যাপক ইউনূস বলেছেন, তার সরকার ইতোমধ্যেই ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে এবং আমিরাতের আরও বিনিয়োগ এবং আরও বেশি আমিরাতের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশ সফর করলে খুশি হবে।
সাক্ষাৎকালে অধ্যাপক ইউনূস সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালতে ৫৭ জন বাংলাদেশি নাগরিককে মুক্তি দেওয়ার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে ধন্যবাদ জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এটি একটি চমৎকার আচরণ ছিল। পুরো জাতি খুব খুশি হয়েছে।’
তিনি প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি অভিবাসীকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
রাষ্ট্রদূত আল-হামৌদি 'দেশের জটিল সময়ে' বাংলাদেশের প্রতি তার সরকারের সমর্থন ব্যক্ত করে বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং এর ব্যবসাবান্ধব নীতি ও সংস্কার এজেন্ডার পাশে থাকবে।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রদূত হলেন সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী
৪৮১ দিন আগে