সঞ্চয়পত্র
পেনশনার সঞ্চয়পত্র ২০২৫: নতুন নির্ধারিত বার্ষিক হারে মাসিক মুনাফা
২০২৫-এর শুরুতেই জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের আওতায় পেনশনার সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য সঞ্চয়পত্রগুলোতে আনা হয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। এখানে মেয়াদান্তে এমনকি নগদায়নের ক্ষেত্রেও বৃদ্ধি পেয়েছে মুনাফার হার। এই রিটার্নটি যে মুলধনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সেই বিনিয়োগের সীমাতে লক্ষ্য করা গেছে যথেষ্ট পরিব্যাপ্তি। ২১ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর উৎসে করের বিষয়ের তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করে। এর ফলে মেয়াদপূর্তি বা নগদায়নে ভিন্ন ভিন্ন বিনিয়োগকারিদের প্রাপ্য অর্থের হিসেবের একটি স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যায়। এই পরিপ্রেক্ষিতে চলুন, ২০২৫ সালে পেনশনার সঞ্চয়পত্রের পরিবর্তিত মুনাফা হারের ব্যাপারে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
২০২৫ সালে পেনশনার সঞ্চয়পত্রের পুনর্নির্ধারিত মুনাফার হার
নিম্নের টেবিলে ৫-বছর মেয়াদী এই স্কিমে বিভিন্ন বিনিয়োগ সীমায় নগদায়নকালে এবং মেয়াদপূর্তীতে ধার্যকৃত মুনাফা উল্লেখ করা হলো:
টেবিল: পেনশনার সঞ্চয় প্রকল্পে বিভিন্ন বিনিয়োগের বিপরীতে পুননির্ধারিত মুনাফার হার
সময়
বিনিয়োগ সীমা সর্বোচ্চ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা
বিনিয়োগ সীমা ৭ লাখ ৫০ হাজার ১ টাকা হতে তদূর্ধ্ব
সর্বোচ্চ ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে উৎসে কর (%)
মুনাফার হার (%)
৫,০০,০০১ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে উৎসে কর (%)
মুনাফার হার (%)
উৎসে কর (%)
মুনাফার হার (%)
১ম বছরান্তে
কোনও উৎসে কর নেই
১০.২৩
১০
১০.২৩
১০
১০.১১
২য় বছরান্তে
১০.৭৫
১০.৭৫
১০.৬২
৩য় বছরান্তে
১১.৩১
১১.৩১
১১.১৭
৪র্থ বছরান্তে
১১.৯১
১১.৯১
১১.৭৫
৫ম বছরান্তে
১২.৫৫
১২.৫৫
১২.৩৭
আরো পড়ুন: ৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ২০২৫: নতুন রেটে কত মুনাফা পাবেন
সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ লাখ (৭,৫০,০০০) টাকার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করলে মুনাফা পাওয়া যাবে সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ (১২.৫৫%) হারে। ৭ লাখ ৫০ হাজার (৭,৫০,০০১) টাকার বেশি মূলধন জমা করলে তার বিপরীতে এই লাভের হার কমে হবে সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
পেনশনার সঞ্চয় ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ৫ লাখ (৫,০০,০০০) টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে কোনও উৎসে কর কাটা হবে না। তবে ৫ লাখ টাকার বেশি (৫,০০,০০১ বা তার চেয়ে বেশি) হলে ১০ শতাংশ উৎসে কর ধার্য হবে।
মেয়াদপূর্তির আগে মূলধন উত্তোলনের ক্ষেত্রে ফেরতকৃত সুদ-আসলের মধ্যে সুদের অংশ উপরোক্ত টেবিল অনুসারে প্রতি বছর শেষে উল্লেখিত হারে হিসেব করা হবে। এই স্কিমের মুনাফা যেহেতু প্রতি মাসে দেওয়া হয়, সেহেতু ৫ বছরের জন্য কেনা সঞ্চয়পত্রে ক্রেতার নামে সর্বোচ্চ হারে মুনাফা জমা হবে। তাই সিদ্ধান্ত বদলে আগেই নগদায়ন করলে প্রদানকৃত অতিরিক্ত অর্থ মূলধন থেকে কেটে রাখা হবে।
৫ লাখ (৫,০০,০০০) টাকা পর্যন্ত মূলধন জমাকারিদের প্রথম বছর শেষে নগদায়নে প্রদেয় মুনাফা হবে বার্ষিক ১০ দশমিক ২৩ শতাংশ হারে। এখানে কোনও উৎসে কর আরোপ হবে না। একই ভাবে ২য় বছরান্তে লাভের হার দাড়াবে ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ৩য় বছর শেষে ১১ দশমিক ৩১ শতাংশ, এবং ৪র্থ বছর পর ১১ দশমিক ৯১ শতাংশ।
আরো পড়ুন: ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র: মেয়াদপূর্তি ও নগদায়নে নতুন মুনাফার হার
৫ লাখ ১ টাকা থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজার (৫,০০,০০১ - ৭,৫০,০০০) টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে নগদায়নের প্রতি বছরান্তে মুনাফার উপর উৎসে কর আরোপ হবে ১০ শতাংশ। প্রথম বছর শেষেই বিনিয়োগকৃত টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে প্রদেয় মুনাফা ১০ দশমিক ২৩ শতাংশ হারে ধার্য হবে। দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ বছর শেষে নগদায়নে মুনাফা পাওয়া যাবে যথাক্রমে ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ১১ দশমিক ৩১ শতাংশ, এবং ১১ দশমিক ৯১ শতাংশ হারে।
৭ লাখ ৫০ হাজার (৭,৫০,০০১) টাকার বেশি মূলধন জমাকারিদেরও একই ভাবে ১০ শতাংশ উৎসে কর দিয়ে যেতে হবে। প্রথম বছরান্তের নগদায়ন হিসেবে বার্ষিক ১০ দশমিক ১১ শতাংশ হারে রিটার্ন দেওয়া হবে। দ্বিতীয় বছর অতিক্রান্তের পর নগদায়নে এই হার হবে ১০ দশমিক ৬২ শতাংশ, তৃতীয় বছর পর ১১ দশমিক ১৭ শতাংশ, এবং চতুর্থ বছর শেষে ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
পেনশনার সঞ্চয়পত্রের নতুন মুনাফার হার কারা পাবেন
১লা জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখ ও তার পর থেকে যারা পেনশনার সঞ্চয়পত্র কিনবেন শুধুমাত্র তারাই এই পুনর্নির্ধারিত হারে মুনাফা পাবেন।
আরো পড়ুন: পরিবার সঞ্চয়পত্রের নতুন মুনাফা হার: প্রতি লাখে ধার্য করা মাসিক মুনাফা
কারা পেনশনার সঞ্চয় স্কিম কিনতে পারবেন
· অবসরপ্রাপ্ত স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সরকারি, ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বা কর্মচারী
· সুপ্রীম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত মাননীয় বিচারপতি
· সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য
· মৃত চাকরিজীবীর স্বামী, স্ত্রী, বা সন্তান যারা ইতিপূর্বে পেনশনের সুবিধা পেয়ে এসেছেন
পেনশনার সঞ্চয়পত্রের অন্যান্য সুবিধা
· মাসিক মুনাফা প্রদানের নিয়ম
· উত্তরাধিকার নিয়োগের সুবিধা
· বিনিয়োগকারির মৃত্যুর পর নিয়োগকৃত উত্তরাধিকার মেয়াদ উত্তীর্ণের পর সুদাসল তুলতে পারবেন। এছাড়া উত্তরাধিকার চাইলে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেও নগদায়নপূর্বক প্রাপ্য মুনাফা-আসল তুলে ফেলতে পারবেন।
আরো পড়ুন: সঞ্চয়পত্রে নতুন মুনাফা হার, জানুন ২০২৫ সালে কোন স্কিমে আপনি কত পাবেন!
পেনশনার সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা
ভবিষ্য তহবিলের চূড়ান্ত অর্থ ও প্রাপ্ত আনুতোষিক বা গ্রাচুইটি সব মিলিয়ে একক নামে অনুর্ধ্ব ৫০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করা যাবে।
পরিশিষ্ট
২০২৫ সালের ১লা জানুয়ারী থেকে পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ক্রেতারা এই পুনর্নির্ধারিত মুনাফা হারের সুবিধা পাবেন। পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে মুনাফা দেওয়া হবে ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ হারে। আর সাড়ে ৭ লক্ষাধিক টাকা বিনিয়োগকারিদের প্রদেয় মুনাফার হিসেব হবে ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ হারে। এর মধ্যে ৫ লাখের জন্য কোনও কর দিতে হবে না, তবে এর বেশি মূলধনের জন্য আরোপকৃত উৎসে করের পরিমাণ ১০ শতাংশ।
উপরন্তু, অন্যান্য সঞ্চয় স্কিমগুলোর মতো এই প্রকল্পেও নগদায়নকালে প্রাপ্ত রিটার্ন বিগত বছরগুলোর তুলনায় বেশি হবে।
আরো পড়ুন: সঞ্চয়পত্রের সঙ্গে সংযুক্ত ব্যাংক পরিবর্তন করে অন্য ব্যাংকে স্থানান্তরের উপায়
৩২ দিন আগে
৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ২০২৫: নতুন রেটে কত মুনাফা পাবেন
১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে বাংলাদেশ জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের ৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রসহ প্রতিটি সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পুননির্ধারিত করা হয়েছে। নতুন রেটে মুনাফা হার বিগত সব সংষ্করণের তুলনায় সর্বাধিক। মেয়াদপূর্তির পাশাপাশি নগদায়নে রিটার্নের হারও পূর্বাপেক্ষা বেশি। একই সঙ্গে বিনিয়োগ সীমাও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিবর্ধিত করা হয়েছে।
অবশেষে গত ২১ জানুয়ারি জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে বিগত উৎসে কর অব্যাহত থাকার বিষয়টি প্রকাশ করা হয়। এর ফলে মেয়াদ শেষে বা নগদীকরণের ক্ষেত্রে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকরা তাদের প্রাপ্য অর্থের ব্যাপারে একটি স্বচ্ছ ধারণা পেয়েছে। চলুন, সেগুলোর মধ্য থেকে ৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের পরিবর্তিত মুনাফা হারের ব্যাপারে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের পুনর্নির্ধারিত মুনাফার হার
৫ বছর মেয়াদের এই স্কিমে ভিন্ন বিনিয়োগ সীমারেখায় নগদায়ন ও মেয়াদপূর্তিতে প্রদেয় মুনাফা নিম্নের টেবিলে উল্লেখ করা হলো:
টেবিল: ৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয় ব্যবস্থায় বিভিন্ন বিনিয়োগের বিপরীতে ধার্য করা মুনাফার হার
সময়
বিনিয়োগ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত
বিনিয়োগ ৭ লাখ ৫০ হাজার ১ টাকা হতে তদূর্ধ্ব
৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে উৎসে কর (%)
মুনাফার হার (%)
৫,০০,০০১ টাকা থেকে ৭,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে উৎসে কর (%)
মুনাফার হার (%)
উৎসে কর (%)
মুনাফার হার (%)
১ম বছরান্তে
৫
১০.১৩
১০
১০.১৩
১০
১০.১১
২য় বছরান্তে
১০.৬৪
১০.৬৪
১০.৬২
৩য় বছরান্তে
১১.১৯
১১.১৯
১১.১৭
৪র্থ বছরান্তে
১১.৭৮
১১.৭৮
১১.৭৫
৫ম বছরান্তে
১২.৪০
১২.৪০
১২.৩৭
সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ লাখ (৭,৫০,০০০) টাকা মূল্যমানের সঞ্চয়পত্র ক্রয় করলে মুনাফা হবে সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ (১২.৪০%) হারে। যারা ৭ লাখ ৫০ হাজার (৭,৫০,০০১) টাকার বেশি মূলধন দিয়ে সঞ্চয়পত্রটি কিনবেন, তাদের জন্য এই লাভ দাড়াবে সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
আরো পড়ুন: ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র: মেয়াদপূর্তি ও নগদায়নে নতুন মুনাফার হার
মুনাফায় আরোপিত উৎসে করের জন্য বিগত বিনিয়োগ সীমা অব্যাহত রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ ৫ লাখ (৫,০০,০০০) টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে উৎসে কর ৫ শতাংশ, আর ৫ লাখ টাকার বেশি (৫,০০,০০১ বা তদূর্ধ্ব) হলে উৎসে কর ১০ শতাংশ।
মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নগদায়ন করলে টেবিলে উল্লিখিত প্রতি অতিক্রান্ত সময়ের জন্য সংশ্লিষ্ট হারে ধার্যকৃত মুনাফা সহ মূল টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
৫ লাখ (৫,০০,০০০) টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগকারিদের প্রথম বছর শেষে নগদায়নে বার্ষিক ১০ দশমিক ১৩ শতাংশ হারে মুনাফা ধার্য হবে। ২য় বছরান্তে নগদায়নে ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ, ৩য় বছর শেষে ১১ দশমিক ১৯ শতাংশ, এবং ৪র্থ বছর পর ১১ দশমিক ৭৮ শতাংশ মুনাফা পাবেন। সব ক্ষেত্রেই কাটা হবে ৫ শতাংশ উৎসে কর।
৫ লাখ ১ টাকা থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজার (৫,০০,০০১ - ৭,৫০,০০০) টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে প্রথম বছরের নগদায়নে ১০ দশমিক ১৩ শতাংশ হারে মুনাফা হবে। দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ বছর শেষে নগদায়নে মুনাফা পাওয়া যাবে যথাক্রমে ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ, ১১ দশমিক ১৯ শতাংশ, এবং ১১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে প্রতি বছরান্তের মুনাফা থেকে কাটা হবে ১০ শতাংশ উৎসে কর।
আরো পড়ুন: পরিবার সঞ্চয়পত্রের নতুন মুনাফা হার: প্রতি লাখে ধার্য করা মাসিক মুনাফা
৭ লাখ ৫০ হাজার (৭,৫০,০০১) টাকার বেশি মূলধনের গ্রাহকদেরকে যথারীতি ১০ শতাংশ উৎসে কর দিতে হবে। প্রথম বছরান্তের নগদায়ন হিসেবে বার্ষিক লাভের হার হবে ১০ দশমিক ১১ শতাংশ। দ্বিতীয় বছরান্তের নগদায়নে এই হার হবে ১০ দশমিক ৬২ শতাংশ, তৃতীয় বছর শেষে ১১ দশমিক ১৭ শতাংশ, এবং চতুর্থ বছর পর ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের নতুন মুনাফা হার কারা পাবেন
২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি এবং তার পর থেকে যারা বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ক্রয় করবেন শুধুমাত্র তাদের পুনর্নির্ধারিত হরে মুনাফা দেবে।
কাদের জন্য ৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয় স্কিম
· শ্রেণি ও পেশা নির্বিশেষে প্রত্যেক বাংলাদেশি নাগরিক
· নিম্নোক্ত বিধি অনুযায়ী স্বীকৃত বা পরিচালিত ভবিষ্য তহবিল:
o আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ (অংশ-২)-এর বিধি ৪৯-এর উপ-বিধি (২)
o ভবিষ্য তহবিল আইন, ১৯২৫ (১৯২৫-এর ১৯ নং)
আরো পড়ুন: সঞ্চয়পত্রে নতুন মুনাফা হার, জানুন ২০২৫ সালে কোন স্কিমে আপনি কত পাবেন!
· আয়কর অধ্যাদেশ-১৯৮৪-এর ৬-তম তফসিলের পার্ট এ-এর ৩৪ নং অনুচ্ছেদ মতে নিম্নোক্ত আয়ের উৎসসমূহ (অবশ্যই সংশ্লিষ্ট উপ-কর কমিশনারের মাধ্যমে প্রত্যয়ন করতে হবে):
o বীজ উৎপাদন ও স্থানীয় উৎপাদিত বীজ বিপণন
o ফল ও লতাপাতার চাষ
o পেলিটেড পোল্ট্রি ফিড্স উৎপাদন
o হাঁস-মুরগীর খামার
o গবাদি পশুর খামার, দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্যের খামার
o মৎস্য খামার
o ব্যাঙ উৎপাদন খামার
o রেশম গুটিপোকা পালনের খামার
o ছত্রাক উৎপাদন
o উদ্যান খামার প্রকল্প
আরো পড়ুন: সঞ্চয়পত্রের সঙ্গে সংযুক্ত ব্যাংক পরিবর্তন করে অন্য ব্যাংকে স্থানান্তরের উপায়
· অটিস্টিকদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা অটিস্টিকদের সেবায় নিয়োজিত অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান (অবশ্যই সংশ্লিষ্ট জেলা সমাজসেবা কার্যালয় কর্তৃক প্রত্যয়ন করতে হবে)। মুনাফা প্রদানের পূর্বশর্ত হলো- প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ থেকে আসা মুনাফার সমুদয় অর্থ শুধুমাত্র অটিস্টিকদের জন্য খরচ হবে।
· এতিমখানা, অনাথ আশ্রম, বা নিবন্ধিত আশ্রয় প্রতিষ্ঠান যেগুলো শিশু পরিবারের মতো দুঃস্থ ও অনাথ শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠিত
· যে নিবন্ধিত আশ্রয় প্রতিষ্ঠান প্রবীণদের সেবায় নিয়োজিত
৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা
· একজন ব্যক্তির নামে হলে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা আর যুগ্ম-নামের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা
· প্রতিষ্ঠান তাদের ভবিষ্য তহবিলের মোট স্থিতির ৫০% বিনিয়োগ করতে পারবে। কিন্তু এই পরিমাণটি টাকায় ৫০ (পঞ্চাশ) কোটির বেশি হবে না
· যে কোনো ফার্মের জন্য অনুর্ধ্ব ২(দুই) কোটি টাকা
· অনাথ ও দুঃস্থ শিশুদের জন্য নিবন্ধিত আশ্রয় প্রতিষ্ঠান (শিশু পরিবার, অনাথ আশ্রম, এতিমখানা ইত্যাদি), অটিস্টিকদের জন্য নিবেদিত প্রতিষ্ঠান এবং প্রবীণদের জন্য নিবন্ধিত আশ্রয় কেন্দ্র সর্বোচ্চ ৫(পাঁচ) কোটি টাকা বিনিয়োগ দিতে পারবে।
আরো পড়ুন: সঞ্চয়পত্রে যেভাবে বিনিয়োগ করবেন
৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের অন্যান্য সুবিধা
· সঞ্চয়পত্রের উত্তরাধিকার নিয়োগ দেওয়া যায়
· সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগকারির মৃত্যু হলে, নিয়োগ করা উত্তরাধিকার মেয়াদ উত্তীর্ণের পর অথবা তাৎক্ষণিক ভাবেই নগদায়ন করে প্রদেয় মুনাফা-আসল উত্তোলন করতে পারেন।
শেষাংশ
২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারিরা এই পুননির্ধারিত মুনাফা হারের সুবিধা ভোগ করবেন। বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকা বিনিয়োগের জন্য মুনাফা দেওয়া হবে ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ হারে। আর সাড়ে ৭ লাখের অধিক টাকা বিনিয়োগকারিরা মুনাফা পাবেন ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ হারে। এর মধ্যে আরোপিত উৎসে কর অনূর্ধ্ব ৫ লাখের জন্য ৫ শতাংশ এবং ৫ লাখ মূলধনের জন্য ১০ শতাংশ। উপরন্তু, মেয়াদের পূর্বে নগদায়নের ক্ষেত্রেও বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার বেশি রিটার্ন পাওয়া যাবে।
আরো পড়ুন: ই-রিটার্ন: অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন যেভাবে
৪৪ দিন আগে
৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র: মেয়াদপূর্তি ও নগদায়নে নতুন মুনাফার হার
৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের পুনর্নির্ধারিত মুনাফার হার
নিম্নের টেবিলে ৩ বছর মেয়াদি স্কিমটির মেয়াদান্তে এবং নগদায়নে উৎসে করসহ বছরান্তে ধার্যকৃত মুনাফার হার বিস্তারিত উল্লেখ করা হলো:
টেবিল: ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয় স্কিমে বিভিন্ন বিনিয়োগের বিপরীতে প্রাপ্য মুনাফা
সময়
বিনিয়োগ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত
বিনিয়োগ ৭ লাখ ৫০ হাজার ১ টাকা
৫২ দিন আগে
পরিবার সঞ্চয়পত্রের নতুন মুনাফা হার: প্রতি লাখে ধার্য করা মাসিক মুনাফা
বছরের শুরুতেই জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের নতুন সংস্করণে দেশের প্রচলিত সঞ্চয়পত্রের প্রতিটিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় বাড়ানো হয়েছে বিনিয়োগের সীমা এবং মুনাফার হার। গত ২১ জানুয়ারি জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে উৎসে করের তথ্যটি হালনাগাদ করা হয়। এর মাধ্যমে মেয়াদপূর্তি এবং নগদায়নে গ্রাহকদের প্রাপ্য অর্থের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে চলুন, সর্বাধিক জনপ্রিয় পরিবার সঞ্চয়পত্রের নতুন মুনাফা ব্যবস্থার ব্যাপারে জেনে নেওয়া যাক।
৫৯ দিন আগে
সঞ্চয়পত্রে নতুন মুনাফা হার, জানুন ২০২৫ সালে কোন স্কিমে আপনি কত পাবেন!
২০২৫ সালে নতুনভাবে নির্ধারিত হলো সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার। এতদিন জাতীয় সঞ্চয় স্কিমগুলোতে মেয়াদান্তে সর্বনিম্ন ১১.০৪ থেকে সর্বোচ্চ ১১.৭৬ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যেতো। নতুন নিয়মে মুনাফা ১২ শতাংশের অধিক রাখা হয়েছে, যেখানে সর্বনিম্ন হার ১২.২৫ আর সর্বোচ্চ ১২.৫৫। জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে কার্যকর সব সঞ্চয়পত্রে পাওয়া যাবে এই বাড়তি মুনাফা। চলুন, সরকারি সঞ্চয় স্ক্রিমগুলোর সদ্য প্রণয়নকৃত এই মুনাফা ব্যবস্থা সম্বন্ধে বিশদ জেনে নেওয়া যাক।
সঞ্চয়পত্রের স্কিমগুলোতে নতুন মুনাফার হার
জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের মুনাফা প্রদানের জন্য দুটি ভিন্ন বিনিয়োগ পরিসীমা ঠিক করা হয়েছে।
বিনিয়োগ পরিসীমা-১: অনুর্ধ্ব সাড়ে ৭ লাখ টাকাবিনিয়োগ
বিনিয়োগ পরিসীমা-২: সাড়ে ৭ লাখ টাকার অধিক
প্রথমটিতে প্রদেয় মুনাফা অপেক্ষা দ্বিতীয় ক্যাটাগরির মুনাফার শতাংশ কম হবে। তবে এই শতাংশ আগের তুলনায় বেশি। শুধু তাই নয়, মেয়াদের প্রথম বছর থেকে মেয়াদপূর্তি পর্যন্ত প্রতি বছরের ধার্যকৃত মুনাফার শতাংশগুলোও আগের থেকে বেশি। এই হার ৫ ও ২ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের গড় সুদের হার অনুসারে প্রতি ৬ মাস অন্তর পুনঃনির্ধারিত হবে।
আরো পড়ুন: ই-রিটার্ন: অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন যেভাবে
সরকারি সঞ্চয় পরিষেবার আওতাভূক্ত প্রতিটি স্কিম নির্ধারিত রিটার্নসহ নিম্নোক্ত সারণীতে উল্লেখ করা হলো:
সারণী: ২০২৫ সালে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বাবদ লাভের পরিমাণ
বিভিন্ন ধরণের সঞ্চয় স্কিমে বছরান্তে প্রতি লাখে মুনাফার হার (শতাংশ)
বিনিয়োগের পরিমাণ (টাকা)
সময়
পেনশনার সঞ্চয়পত্র
(৫ বছর মেয়াদি)
পরিবার সঞ্চয়পত্র
(৫ বছর মেয়াদি)
বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র
(৫ বছর মেয়াদি)
৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র
(৩ বছর মেয়াদি)
ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক-মেয়াদি হিসাব
(৩ বছর মেয়াদি)
সাড়ে ৭ লক্ষ পর্যন্ত
১ম বছর
১০.২৩
১০.২০
১০.১৩
১১.৪
১১.৪
২য় বছর
১০.৭৫
১০.৭২
১০.৬৪
১১.৬৫
১১.৬৫
৩য় বছর
১১.৩১
১১.২৮
১১.১৯
১২.৩০
১২.৩০
৪র্থ বছর
১১.৯১
১১.৮৭
১১.৭৮
-
-
৫ম বছর
১২.৫৫
১২.৫০
১২.৪০
-
-
সাড়ে ৭ লক্ষাধিক
১ম বছর
১০.১১
১০.১১
১০.১১
১১
১১
২য় বছর
১০.৬২
১০.৬২
১০.৬২
১১.৬১
১১.৬১
৩য় বছর
১১.১৭
১১.১৭
১১.১৭
১২.২৫
১২.২৫
৪র্থ বছর
১১.৭৫
১১.৭৫
১১.৭৫
-
-
৫ম বছর
১২.৩৭
১২.৩৭
১২.৩৭
-
-
পেনশনার সঞ্চয়পত্র
এই স্কিমে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই নগদায়নের ক্ষেত্রে বছরান্তে মুনাফা শুরু হবে ১০.২৩ শতাংশ থেকে। ২য় বছরে ১০.৭৫, ৩য় বছরে ১১.৩১, এবং ৪র্থ বছরে ১১.৯১ শতাংশ। ৫ বছর মেয়াদপূর্তির পর মুনাফা দাড়াবে ১২.৫৫ শতাংশ, যা এখন থেকে প্রযোজ্য রিটার্নগুলোর মধ্যে সর্বাধিক।
আরো পড়ুন: সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষে নগদায়ন বা পুনরায় চালু করার উপায়
সাড়ে ৭ লাখ টাকা বিনিয়োগে ১ম বছরে মুনাফা থাকছে ১০.১১। এটি বছরান্তের হিসেবে নতুন ব্যবস্থার সবচেয়ে কম পরিমাণ রিটার্ন। উপরন্তু, ২য় বছরে ১০.৬২, ৩য় বছরে ১১.১৭ এবং ৪র্থ বছরে ১১.৭৫ শতাংশ। ৫ বছর শেষে মেয়াদ উত্তীর্ণকালে এই শতাংশটি পৌঁছবে ১২.৩৭-এ।
পরিবার সঞ্চয়পত্র
সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগকারীরা এই সঞ্চয়পত্রের মেয়াদপূর্তিতে পাবেন সাড়ে ১২ শতাংশ। মেয়াদ উত্তীর্ণের আগেই স্কিম নগদায়ন করলে বছর শেষে রিটার্ন শুরু ১০.২০ শতাংশ থেকে। ২য় বছরে নগদায়নের ক্ষেত্রে লাভের হার দেওয়া হবে ১০.৭২, ৩য় বছরে ১১.২৮ এবং ৪র্থ বছরে ১১.৮৭ শতাংশ।
বিনিয়োগ সাড়ে ৭ লাখ টাকার অধিক হলে ১ম বছরের মুনাফা ১০.১১ শতাংশ, যা ২য় বছরে ১০.৬২, ৩য় বছরে ১১.১৭ এবং ৪র্থ বছরে হবে ১১.৭৫ শতাংশ। সর্বপরি, ৫ বছর কিস্তি পূরণ করলে লাভের হার ১২.৩৭ শতাংশ।
বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র
সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের মেয়াদপূর্তিতে লাভের পরিমাণ ১২.৪০ শতাংশ। মেয়াদ পূর্ণ না করলে ১ম বছরে ১০.১৩, ২য় বছরে ১০.৬৪, ৩য় বছরে ১১.১৯ এবং ৪র্থ বছরে ১১.৭৮ শতাংশ।
আরো পড়ুন: সঞ্চয়পত্রে যেভাবে বিনিয়োগ করবেন
যারা সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ করবেন তাদের ১ম বছরে নগদায়নে মুনাফা পড়বে ১০.১১ শতাংশ। ২য় বছরে ১০.৬২, ৩য় বছরে ১১.১৭ এবং ৪র্থ বছরে ১১.৭৫ শতাংশ। ৫ বছরের আগে স্কিম না ভাঙলে লাভের হার দাড়াবে ১২.৩৭ শতাংশে।
৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র
এই সঞ্চয় স্কিমে যারা সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করবেন, তাদের মেয়াদ শেষে রিটার্ন আসবে ১২.৩০ শতাংশ। অন্যথায় মেয়াদ পূর্ণ করা না হলে ৩ বছর মেয়াদি এই সঞ্চয়পত্রে ১ম বছরে মুনাফা পাওয়া যাবে ১১.০৪ এবং ২য় বছরে ১১.৬৫ শতাংশ।
অপরদিকে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের পর ১ম বছরের পরেই বিনিয়োগ করা টাকা তোলার ক্ষেত্রে মুনাফা মিলবে ১১ শতাংশ। ২য় বছরে পাওয়া যাবে ১১.৬১ আর মেয়াদপূর্তি করতে পারলে লাভের অংশ হবে ১২.২৫ শতাংশ।
ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক-মেয়াদি হিসাব
উপরোক্ত প্রধান চার স্কিমের বাইরে ডাকঘর সঞ্চয় হিসাবে উভয় বিনিয়োগ ক্যাটাগরি থেকে প্রাপ্ত রিটার্নের হার হবে ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের অনুরূপ।
আরো পড়ুন: সঞ্চয়পত্রের সঙ্গে সংযুক্ত ব্যাংক পরিবর্তন করে অন্য ব্যাংকে স্থানান্তরের উপায়
সঞ্চয়পত্রের নতুন মুনাফার হার কাদের জন্য প্রযোজ্য
যেহেতু সব ধরনের সঞ্চয়পত্রেই উল্লেখযোগ্য হারে মুনাফা বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই সকল শ্রেণির গ্রাহকরাই এর আওতাভূক্ত। সুতরাং জানুয়ারি ২০২৫ থেকে যারা সঞ্চয়পত্র কিনবে তারা নতুন এই বর্ধিত মুনাফার সুবিধা পাবেন।
পরিশিষ্ট
২০২৫-এ নতুন নিয়মে প্রণীত সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হারে জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের প্রতিটি ক্যাটাগরিতে পরিবর্তন এসেছে। সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে কমপক্ষে ১২.৩০ শতাংশ মুনাফা রয়েছে ৩ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্র দুটোতে। সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে সর্বোচ্চ ১২.৫৫ শতাংশ হারে রিটার্নের সুযোগ থাকছে পেনশনার ব্যবস্থায়। সাড়ে ৭ লক্ষের অধিক টাকা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ৫ বছর মেয়াদি সবগুলো স্কিমেই সর্বাধিক রিটার্ন ১২.৩৭ শতাংশ। আর ৩ বছর মেয়াদি ব্যবস্থাগুলোতে থাকছে ১২.২৫ শতাংশ, যা এই পরিবর্তিত সঞ্চয় প্রক্রিয়ার সর্বনিম্ন মাত্রার মুনাফা।
আরো পড়ুন: নতুন বছরে সঞ্চয় বাড়ানোর কয়েকটি উপায়
৬৭ দিন আগে
নতুন বছরে সঞ্চয় বাড়ানোর কয়েকটি উপায়
বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালেও জনজীবনের ওপর সবচেয়ে বড় চাপ হিসেবে রয়েছে মুদ্রাস্ফীতির ক্রমবর্ধমান নিষ্পেষণ। জীবনযাত্রার ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি আর্থিক স্থিতিশীলতাকে ক্রমশঃ হুমকিতে ফেলছে। মৌলিক চাহিদা মেটাতেই যেখানে ঋণ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা, সেখানে সঞ্চয়ের প্রসঙ্গটি প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যায়। আবার সঞ্চয় ব্যতীত জীবন আরও অবনতির দিকে ধাবিত হয়।
তবে অর্থনৈতিক অস্থিরতার মাঝেও চরম সংকট মোকাবিলায় মোক্ষম হাতিয়ার হতে পারে অর্থের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা। চলুন, আত্মবিশ্বাস ও দূরদর্শিতার সঙ্গে সঞ্চয় বৃদ্ধির কয়েকটি প্রয়োজনীয় উপায় জেনে নেওয়া যাক।
সঞ্চয় বৃদ্ধির ৫টি কার্যকর কৌশল
জীবনের দৈনন্দিন লেনদেনে নিম্নোক্ত পাঁচটি পদ্ধতি অবলম্বনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়ের নির্ভরযোগ্য সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে-
সামঞ্জস্যপূর্ণ বাজেট তৈরি
প্রত্যেকটি ছোট ছোট বিষয়কে বিবেচনায় রেখে একটি বিশদ বাজেট পরিকল্পনা গড়ে দিতে পারে আর্থিক ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি। এখানে আয়ের উৎসের বিপরীতে ব্যয়ের শ্রেণি বিভাজন হওয়ার কারণে সম্ভাব্য খরচের খাতগুলো স্পষ্টভাবে দৃষ্টিগোচর হয়।
আরো পড়ুন: ই-রিটার্ন: অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন যেভাবে
বাজেটে সঞ্চয়ের জন্য জায়গা রাখার কৌশল হচ্ছে শুধুমাত্র অতি প্রয়োজনীয় ব্যয়ের খাতগুলোকে আমলে নেওয়া। সেই সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত খরচগুলো চিহ্নিত করে রাখা উচিত, যেন সেগুলো থেকে দূরে থাকা যায়।
আকস্মিক জটিলতাগুলোর জন্য আগে থেকেই বিকল্প রাস্তা বের করে রাখা জরুরি। বর্তমান অর্থনৈতিক অস্থিরতার মাঝে এমন সময় আসা খুবই স্বাভাবিক যখন সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোবে না। এই বিষয়গুলোকে ছোট ছোট অংশে বিভক্ত করে সেগুলোর প্রতিটির জন্য একটি বিকল্প নিরাপদ পন্থা বের করে রাখতে হবে। এর জন্যও কিছু জরুরি তহবিল রাখা বাঞ্ছনীয়।
স্প্রেডশিটযুক্ত (এক্সেল) মোবাইল বা কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে এই পদক্ষেপটি সহজেই নেওয়া যায়। এই সফ্টওয়্যার ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এগুলো রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং প্রযুক্তি সম্পন্ন, অর্থাৎ তাৎক্ষণিক নিজের তৈরি করা বাজেটের ওপর চোখ বুলিয়ে নেওয়া যায়। ফলে শুধু পরিকল্পনাই নয়, সে অনুযায়ী অ্যাকশন প্ল্যানগুলো ঠিকমতো বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা, সেদিকেও খেয়াল রাখা সম্ভব হয়। প্রতিটি ব্যয়ের খাতের জন্য মাসিক আয়ের যে শতাংশ বরাদ্দ ছিল, সেই সীমা অতিক্রম করছে কিনা তা নজরে আসে।
আরো পড়ুন: বাংলাদেশ সরকারের ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করার পদ্ধতি
পুনরাবৃত্তিমূলক খরচ কমানো
প্রয়োজনীয়তার মাত্রার নিরিখে প্রতি মাসের জন্য অবধারিত খরচগুলোর শ্রেণিবিন্যাস করা উচিত। এগুলোর মধ্যে কিছু থাকে যেগুলো কোনোভাবেই বাদ দেওয়া যাবে না, যেমন: বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিল। আবার এর মধ্যে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিলও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্যবহার কমিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এছাড়া নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস এবং এনার্জি সেভিং যন্ত্রাদি ব্যবহারের মাধ্যমেও খরচ অনেকটা কমে আসে।
পুনরাবৃত্তিমূলক খরচের কিছু খাত রয়েছে যেগুলো মূলত জীবনধারণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যেমন ক্যাবল টিভি ও ইন্টারনেট বিল, ফোন বিল, ওটিটি সাবস্ক্রিপশন এবং জিমের সদস্যতা। সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী এগুলোর মধ্যে এক বা একাধিক পরিষেবা বাদ দিয়ে খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
বিশেষ করে আজকাল ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চ্যানেলের অনুষ্ঠান দেখা যায়। সেক্ষেত্রে ক্যাবল টিভি ও ওটিটি বিলের পুরোটাই বাদ দেওয়া যায়। ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত যোগাযোগের মাধ্যমগুলো ব্যবহার করা হলে ফোনের বিলের ওপর থেকেও চাপ কমে যাবে।
আরো পড়ুন: বন্ডে বিনিয়োগের আগে যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরি
তাছাড়া নিতান্তই বাদ দেওয়া সম্ভব না হলে ব্যবহারের মাত্রা কমিয়ে বা দর কষাকষির মাধ্যমে কম খরচের পরিষেবা নেওয়া যেতে পারে।
কৌশলগত বিনিয়োগ
বিনিয়োগ আসলে সঞ্চয়ের কোনো প্রত্যক্ষ উপায় নয়। কিন্তু এই বিচক্ষণ কার্যক্রমটির পথ ধরে আসে সঞ্চয়ের সুযোগ। সঞ্চয়পত্র বা সরকারি বন্ডের মতো তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ খাতগুলোতে বিনিয়োগ করা হলে সঙ্গতিপূর্ণ রিটার্ন দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা আনে।
ঝুঁকি বেশি থাকা খাতগুলোর মধ্যে স্টক ও মিউচুয়াল ফান্ড বা এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড দিয়ে সর্তকতার সঙ্গে বিনিয়োগ পোর্টফোলিও গড়া যেতে পারে। এগুলো সামগ্রিকভাবে মুদ্রাস্ফীতিকে টেক্কা দিতে সহায়তা করে।
আরো পড়ুন: ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডে প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেভাবে বিনিয়োগ করবেন
চলতি বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশের মুদ্রাস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশে। মোটা দাগে বলতে গেলে, এ বছরের শুরু থেকে সঞ্চিত ১০০ টাকা নতুন বছরে গিয়ে হয়ে যাবে ৮৮ টাকা। ফলে ১০০ টাকা দামের কোনোকিছু কিনতে গেলে তার সঙ্গে আরও ১২ টাকা যুক্ত করতে হবে। তাই কমপক্ষে ১৩ শতাংশ রিটার্ন দেওয়া কোনো খাতে বিনিয়োগ করা হলে প্রাপ্ত মুনাফা থেকে লেনদেনের পরও ১ টাকা সঞ্চয় হিসেবে থেকে যাবে।
এভাবে সুচিন্তিত বিনিয়োগ পরোক্ষভাবে সঞ্চয়ের ক্ষেত্র তৈরি করে। এছাড়া সরকারি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে কর রেয়াতের সুবিধাটিও অর্থ সঞ্চয়ের একটি কার্যকর মাধ্যম।
ডিসকাউন্ট ও ফ্রি অফারে গুরুত্বারোপ
দৈনন্দিন কেনাকাটার সময় মূল্যহ্রাস ও ফ্রি সামগ্রীগুলোতে অগ্রাধিকার দেওয়া টাকা বাঁচানোর সবচেয়ে পুরনো ও সহজ উপায়। ব্র্যান্ড, সাধারণ, খুচরা ও পাইকারি-নির্বিশেষে প্রতিটি বিপণী বছরজুড়ে নানা উপলক্ষে ডিসকাউন্ট, ক্যাশব্যাক বা রিডিমযোগ্য পয়েন্টের ব্যবস্থা রাখে। বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের দৌলতে এগুলো আরও সহজলভ্য হয়ে উঠেছে।
আরো পড়ুন: পুরনো স্বর্ণ বিক্রির সময় যে কারণে দাম কেটে রাখা হয়
ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম থাকার কারণে যাতায়াত খরচ বাঁচিয়ে ঘরে বসেই হ্রাসকৃত মূল্যে কেনাকাটা করা যাচ্ছে। জনপ্রিয় পেমেন্ট গেটওয়েগুলো ব্যবহারেও থাকে মূল্যছাড়ের অফার।
এছাড়া সিজনাল সেলস ও স্টক ক্লিয়ারেন্স ইভেন্টগুলোর প্রতিও নজর রাখা উচিত। সাশ্রয়ী মূল্যে পছন্দের জিনিসটি কেনার জন্য এটি সবচেয়ে আদর্শ উপায়।
সর্বদা সাশ্রয়ী বিকল্প পন্থা অবলম্বন
সবচেয়ে প্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম সহনীয় যতক্ষণ না সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসে, ততক্ষণ অপেক্ষা করা উচিৎ। বিশেষ করে সাধারণ মুদিপণ্যের ব্যাপারে এই পদক্ষেপ নিতে হবে। দাম না কমলে তা পরিহার করতে হবে। মৌসুমি সবজি ও ফলমূলের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করা উচিৎ।
আরো পড়ুন: সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষে নগদায়ন বা পুনরায় চালু করার উপায়
যাতায়াতের যানবাহন ব্যবহারের ক্ষেত্রে দর কষাকষি করা উচিত। বর্তমানে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা সর্বত্র বিদ্যমান। এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে যতটা সম্ভব কম যাতায়াত করে প্রাত্যহিক কর্ম সম্পাদনের চেষ্টা করা উচিত। একটি ছোট ফোন কল বা হোয়াটসঅ্যাপ-মেসেঞ্জারের মাধ্যমে এখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা সম্ভব, যার জন্য আগে সশরীরে দেখা করার কোনো বিকল্প ছিল না।
এই কার্যক্রমগুলো প্রতিদিনের যাতায়াত খরচকে অল্প অল্প করে কমিয়ে দেয়। অথচ সপ্তাহ ও মাসের হিসাবে এগুলোই খরচের বোঝাও ওপর বিরাট চাপ সৃষ্টি করে।
এই পন্থাগুলো মূলত জীবনধারণ পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত করে। পরিমিত বাজেট অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করে সঞ্চয়ের অভ্যাসের জন্য মনকে প্রস্তুত করাও জরুরি।
আরো পড়ুন: সঞ্চয়পত্রে যেভাবে বিনিয়োগ করবেন
২০২৫ সাল আসতে আর বেশি দেরি নেই। প্রত্যেকের আর্থিক জীবনপ্রবাহেও পড়বে নতুন বছরের প্রভাব। তাই এখন থেকেই ব্যয়ের বাজেট প্রণয়ন ও সঞ্চয় বৃদ্ধির বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ।
শেষাংশ
সঞ্চয় বৃদ্ধির উল্লিখিত কৌশলগুলোকে সমন্বয় করা মূলত আর্থিক স্থিতিশীলতারই নামান্তর। বাজেট প্রাথমকিভাবে আর্থিক স্বচ্ছতার ভিত্তি স্থাপন করে। পুনরাবৃত্তিমূলক খরচগুলো কমানো গেলে তা দিন শেষে অতিরিক্ত সঞ্চয়ের জন্যই জায়গা তৈরি করে।
এছাড়া, মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হলো কৌশলগত বিনিয়োগ। ডিসকাউন্ট, ফ্রি অফারের পাশাপাশি যেকোনো কাজে সাশ্রয়ী বিকল্প পন্থা অবলম্বন অনাকাঙ্ক্ষিত চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে কাজ করে।
আরো পড়ুন: সঞ্চয়পত্রের সঙ্গে সংযুক্ত ব্যাংক পরিবর্তন করে অন্য ব্যাংকে স্থানান্তরের উপায়
সার্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই পদ্ধতিগুলো বাজেটবান্ধব জীবনধারণের প্রতি তাগিদ দেয় যেখানে থাকবে না ঋণের দুশ্চিন্তা ও অপ্রাপ্তির বিড়ম্বনা।
৯৬ দিন আগে
সঞ্চয়পত্রের সঙ্গে সংযুক্ত ব্যাংক পরিবর্তন করে অন্য ব্যাংকে স্থানান্তরের উপায়
কেবল নিরাপদ সঞ্চয় পরিকল্পনাই নয়, অনেকের জন্য আয়ের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস এবং আর্থিক স্থিতিশীলতার বাহক সঞ্চয়পত্র। সরকার কর্তৃক জারি করা এই বিনিয়োগ প্রকল্পগুলো পরিচালনা করা হয় বিভিন্ন ব্যাংকে গ্রাহকের অ্যাকাউন্টের সাপেক্ষে। তাই এই বিনিয়োগ থেকে নির্ধারিত মুনাফা প্রাপ্তির সম্ভাবনা ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মূলত সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের সময়েই ব্যাংকের সার্বিক দিক যাচাই করে নেওয়া জরুরি। এসব সত্ত্বেও পরে যেকোনো ব্যাংক নানা কারণে আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। এ অবস্থায় সঞ্চয়পত্রের সঙ্গে সংযুক্ত ব্যাংকটি পরিবর্তন করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। চলুন, সঞ্চয়পত্রের ব্যাংক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা এবং অন্য ব্যাংকে স্থানান্তরের পদ্ধতিটি জেনে নেওয়া যাক।
কোন অবস্থায় সঞ্চয়পত্রের ব্যাংক পরিবর্তন জরুরি
সঞ্চয়পত্র বিক্রয়কারী ব্যাংক যখন সার্বিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয় তখন এই প্রভাব সঞ্চয়পত্রের উপরও পড়ে। এ সময় বিনিয়োগ প্রকল্পটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ফলে এর গ্রাহকরা হয়রানির শিকার হন। মেয়াদ শেষের পরেও নগদ মুনাফার জন্য অপেক্ষার সময় ক্রমাগত দীর্ঘায়িত হতে থাকে। তখন প্রয়োজনের সময়ে অর্থপ্রাপ্তির ঝুঁকিতে পড়ে যান সঞ্চয়পত্র ধারকরা। এই ঝুঁকি থেকে বাঁচার জন্যই দুর্বল ব্যাংক থেকে সঞ্চয়পত্রটি অন্য কোনো সবল ব্যাংকে স্থানান্তর করা প্রয়োজন।
আরো পড়ুন: সঞ্চয়পত্রে যেভাবে বিনিয়োগ করবেন
এক ব্যাংকের সঞ্চয়পত্র অন্য ব্যাংকে স্থানান্তর করার পদ্ধতি
• প্রয়োজনীয় নথিপত্র
• জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি
• সঞ্চয়পত্রের প্রত্যয়নপত্র, যেটি ক্রয়ের সময় ব্যাংক থেকে দেওয়া হয়েছিল
• বর্তমান এবং নতুন যে ব্যাংকে সঞ্চয়পত্র স্থানান্তর করা হবে; উভয় ব্যাংকের চেক
• টিন সার্টিফিকেট
• ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য পরিবর্তন ফর্ম পূরণ
প্রথমেই নিম্নোক্ত লিংক থেকে আবেদন ফর্মটি ডাউনলোড; অতঃপর প্রিন্ট করে নিতে হবে: https://file-dhaka.portal.gov.bd/uploads/570e08be-5c15-4b2a-ae5d-2279c68459c4//624/035/312/624035312e5a4337251782.pdf
ফর্মের শুরুতেই প্রদর্শিত অনুচ্ছেদের শূন্যস্থানগুলো সঞ্চয়পত্র সার্টিফিকেট অনুসারে নির্ভূলভাবে পূরণ করতে হবে। এ সময় সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের তারিখ, টাকার পরিমাণ, ধরন, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং ব্যাংক পরিবর্তনের কারণ উল্লেখ করতে হবে।
এরপর টেবিল অংশে ‘বিদ্যমান তথ্য’-এর কলামে দিতে হবে বর্তমান ব্যাংক সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যাবলি। অপরদিকে ‘সংশোধিত তথ্য’ থাকবে নতুন যে ব্যাংকের সঙ্গে সঞ্চয়পত্রটি যুক্ত হবে তার সব তথ্য।
এ সময় উভয় ব্যাংকের চেক অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নাম, শাখা, রাউটিং নম্বর, অ্যাকাউন্টের ধরন, অ্যাকাউন্ট নম্বর, এবং অ্যাকাউন্টের শিরোনাম বা অ্যাকাউন্টের মালিকের নাম লিপিবদ্ধ করতে হবে।
রাউটিং নম্বর মূলত ৯ অংকের একটি সংখ্যা, যেটি চেক বইয়ের ব্যাংকের শাখার নামের আশেপাশে থাকে। এছাড়া গুগলে ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখার নাম লিখে সার্চ করেও পাওয়া যাবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যাংক দুটির সঙ্গে যে মোবাইল নম্বরগুলো নিবন্ধিত রয়েছে, শুধুমাত্র সেগুলো উল্লেখ করা আবশ্যক। এগুলোর স সর্বশেষে তালিকাভুক্ত হবে এনআইডি ও টিন নম্বর।
উপরন্তু, সঞ্চয়পত্রের মালিক/ধারকের সইয়ের স্থানে আবেদনকারীর নাম ও ঠিকানা অবশ্যই এনআইডির অনুরূপ হতে হবে। অতঃপর একটি সক্রিয় মোবাইল নম্বর প্রদানের মাধ্যমে ফর্ম পূরণ সম্পন্ন হবে।
আরো পড়ুন: পুরনো স্বর্ণ বিক্রির সময় যে কারণে দাম কেটে রাখা হয়
আবেদন জমা এবং প্রক্রিয়াকরণের সময়
সঞ্চয়পত্র যার নামে তাকে সশরীরে পূরণ করা ফর্ম জমা দিতে হবে। এ জন্য যে ব্যাংকের যে শাখা থেকে সঞ্চয়পত্র নেওয়া হয়েছিল সেই শাখায় উপস্থিত হতে হবে। জমা দেওয়ার পর আবেদন প্রক্রিয়াকরণে ২ মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
বিকল্প উপায় হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের যেকোনো শাখায়ও আবেদন জমা দেওয়া যেতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকে সঞ্চয়পত্রের জন্য একটি পৃথক সেকশনই থাকে। আবেদন ফর্ম জমা দেওয়ার জন্য সরাসরি সেই সেকশনে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে সঞ্চয়পত্রের স্থানান্তর সম্পন্ন হতে সময় লাগতে পারে ১৫ দিন থেকে সর্বোচ্চ ১ মাস।
আরো পড়ুন: ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডে প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেভাবে বিনিয়োগ করবেন
পরিশিষ্ট
এভাবে সঞ্চয়পত্রের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিবর্তনের প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে নিরাপদ মুনাফাপ্রাপ্তির পথ সুগমের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। এই প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য সঞ্চয়পত্র সনদ, বর্তমান এবং উদ্দিষ্ট ব্যাংকের চেক, এনআইডি ও টিন সনদ সঙ্গে রাখা জরুরি। এই স্থানান্তরকরণে বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বোচ্চ এক মাস সময় নেয়, যা অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় যথেষ্ট দ্রুত প্রক্রিয়া। সর্বপরি, ভবিষ্যতে একই সংকটময় পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তিতে এই প্রচেষ্টাটি গ্রাহকদের সতর্কতামূলক প্রস্তুতির নিশ্চায়ক।
আরো পড়ুন: বাংলাদেশ সরকারের ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করার পদ্ধতি
১৪৩ দিন আগে
সঞ্চয়পত্রে যেভাবে বিনিয়োগ করবেন
দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক নিরাপত্তার জন্য বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। সাধারণত সমাজে ব্যক্তির অবস্থানের ভিত্তিতে তারতম্য ঘটে বিনিয়োগের সম্ভাবনার। এর বাইরে বিনিয়োগের সিদ্ধান্তের উপর প্রভাব ফেলে ঝুঁকি সহনশীলতা, আর্থিক লক্ষ্য এবং বাজার পরিস্থিতি। এগুলো দীর্ঘমেয়াদে ব্যক্তির আর্থিক স্থিতিশীলতার নির্ধারক হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে যখন ঝুঁকি ও বাজার পরিস্থিতি যাচাইয়ের প্রসঙ্গ ওঠে, তখন প্রথমেই আসে সঞ্চয়পত্রের কথা। কেননা সুদের হার এবং নীতি নির্ধারকের বিবেচনায় এটি অন্যতম একটি দুশ্চিন্তামুক্ত বিনিয়োগের খাত। চলুন, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ পদ্ধতির ব্যাপারে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
সঞ্চয়পত্র কী
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার পরিচালিত এই বিনিয়োগ প্রকল্পের আরেক নাম সেভিংস ইন্সট্রুমেন্ট্স বা সেভিংস সার্টিফিকেট। এই সনদপত্রে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে নির্ধারিত সময় পরপর আসে মুনাফা। আর নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে সেই বিনিয়োগকৃত মূলধনটি পাওয়া যায়। এটি দেশের স্বল্প আয়ের জনসাধারণের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য সঞ্চয়ের মাধ্যম। মূলত অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বায়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক, নারী এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীরা সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতাভুক্ত হন। এভাবে নির্ভরতা হ্রাসের পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্যও সঞ্চয়পত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে প্রতীয়মান হয়।
বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র
মেয়াদ এবং বিনিয়োগকৃত অর্থের উপর ভিত্তি করে সরকার ৪ ধরনের সঞ্চয়পত্র জারি করে। এগুলো হলো:
১. পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র
শিরোনামের মতই এই সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ ৫ বছর। এখানে সর্বনিম্ন ১০ টাকা থেকে শুরু করে ব্যাক্তি পর্যায়ে এক নামে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ, এবং যুগ্ম নামে সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা যায়। প্রাতিষ্ঠানিক ঊর্দ্ধসীমা নেই।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ সরকারের ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করার পদ্ধতি
২. পরিবার সঞ্চয়পত্র
এখানে ৫ বছর মেয়াদে সর্বনিম্ন ১০ হাজার থেকে ব্যাক্তি পর্যায়ে শুধুমাত্র একক নামে সর্বোচ্চ ৪৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা যায়।
৩. তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র
এই সঞ্চয়পত্রে ৩ বছরের জন্য সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা রাখা যায়। এই মেয়াদে ব্যাক্তি পর্যায়ে বিনিয়োগের সর্বোচ্চ পরিমাণ এক নামে ৩০ লাখ টাকা এবং যুগ্ম নামে ৬০ লাখ টাকা।
৪. পেনশনার সঞ্চয়পত্র
এখানে ৫ বছর মেয়াদে বিনিয়োগের সর্বনিম্ন পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা এবং ব্যক্তি পর্যায়ে শুধুমাত্র এক নামে সর্বোচ্চ পরিমাণ ৫০ লাখ টাকা। তবে তা অবশ্যই গ্র্যাচুইটি এবং সর্বশেষ প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থের মধ্যে হতে হবে।
আরও পড়ুন: ২০২৩ সালে বিশ্বের শীর্ষ ১০ শক্তিশালী মুদ্রা
প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ
৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং ৩ মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের কোনো উর্ধ্বসীমা নেই। অপরদিকে দুই প্রকল্পে এই বিনিয়োগের নিম্নসীমা ব্যক্তি পর্যায়ের মতই যথাক্রমে ১০ টাকা এবং ১ লাখ টাকা।
সমন্বিত সঞ্চয়পত্র
এখানে বিনিয়োগটি হয় ৩-মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র, পরিবার সঞ্চয়পত্র, এবং ৫-বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র- এই তিনটির বিপরীতে একসঙ্গে। এই বিনিয়োগের উর্ধ্বসীমা এক নামে ৫০ লাখ টাকা এবং যৌথ নামে ১ কোটি টাকা।
সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের সুবিধা
- আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রচলিত যে কোনো বিনিয়োগের মাধ্যমগুলোর তুলনায় সঞ্চয়পত্রে সুদের হার বেশি।
- সরকারি কর্তৃত্ব থাকায় এখানে ঝুঁকির পরিমাণ অন্যান্য বিনিয়োগের খাত থেকে অনেক কম। মেয়াদপূর্তীতে সুদ-আসল সহজেই পাওয়া যায়। সুদের হার বেশি হওয়ায় মোট আয়ের পরিমাণ অনেক বেশি আসে।
- সঞ্চয়পত্র ইস্যুকারী অফিসগুলোর যে কোনোটিতে নিবন্ধন করার পর প্রয়োজনে সে সঞ্চয়পত্র সেই অফিসের অন্য শাখায় স্থানান্তর করা যায়।
আরও পড়ুন: সমতা স্কিম: স্বল্প আয়ের ব্যক্তিরা যেভাবে সর্বজনীন পেনশন স্কিম-এ রেজিস্ট্রেশন করবেন
সঞ্চয়পত্র কেনার যোগ্যতা
ব্যক্তিপর্যায়ে প্রতিটি সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে প্রথম শর্ত হচ্ছে- একক বা যুগ্ম যে নামেই হোক না কেন, তাকে অবশ্যই প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। এছাড়া আরও যে যোগ্যতাগুলো প্রয়োজন্য তা হচ্ছে:
পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র
সঞ্চয়পত্র সাধারণত যে কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়। তবে কৃষিভিত্তিক শিল্পের আয়ের ১০ শতাংশ অর্থ এবং কমকর্তা-কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ দিয়ে এই সঞ্চয়পত্র কেনা যেতে পারে।
পরিবার সঞ্চয়পত্র
- ন্যূনতম ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সের যে কোনো বাংলাদেশি নারী
- কমপক্ষে ৬৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সের যে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক
- শারীরিক প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে তাকে অবশ্যই একজন প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। এখানে প্রতিবন্ধীতার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে সত্যায়িত হওয়া আবশ্যক।
- নাবালক বা অপ্রাপ্তবয়স্ক অথবা তার পক্ষে পক্ষে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবে না।
আরও পড়ুন: স্বর্ণ বনাম হীরা: কোন বিনিয়োগটি বেশি লাভজনক?
৩ মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র
যে সকল প্রতিষ্ঠান প্রতিবন্ধীদের জন্য কাজ করে বা শুধুমাত্র প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে মুনাফার অর্থ প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে ব্যয় হবে- এই মর্মে সংশ্লিষ্ট জেলা সমাজ সেবা কার্যালয় থেকে প্রত্যয়নকৃত হওয়া আবশ্যক।
পেনশনার সঞ্চয়পত্র
- সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা-সরকারী, আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী
- সুপ্রীম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত মাননীয় বিচারপতি
- সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য
উপরোক্ত তিন ক্যাটাগরির অন্তর্ভূক্ত মৃত চাকরিজীবীর পারিবারিক পেনশন সুবিধাপ্রাপ্ত স্বামী/স্ত্রী/সন্তানগণ
সঞ্চয়পত্র কেনার পদ্ধতি
যে কোনো ধরনের সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের জন্য প্রথমে কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করতে হবে। অতঃপর যথাযথভাবে পূরণকৃত আবেদন ফর্মের সঙ্গে সংযুক্ত করে জমা দিতে হবে সঞ্চয়পত্র ইস্যূকারী সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে। চলুন, প্রথমে জরুরি নথিপত্রের ব্যাপারে পরিপূর্ণ ধারণ নেওয়া যাক।
আরও পড়ুন: জাতীয় পেনশন স্কিম: প্রবাসীদের আকৃষ্ট করছে না প্রবাস স্কিম
সঞ্চয়পত্র কেনার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
ব্যক্তিপর্যায়ে বিনিয়োগের জন্য
- প্রার্থী ও নমিনি প্রত্যেকের ২ কপি করে পাসপোর্ট আকারের সত্যায়িত ছবি (নমিনির ছবি ক্রেতা সত্যায়িত করবেন)
- আবেদনকারী ও নমিনির প্রত্যেকের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি (নমিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে তার জন্মনিবন্ধন এবং সত্যায়নকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি)
- বিনিয়োগের পরিমাণ ১ লাখ টাকার বেশি হলে প্রার্থীর (যুগ্মভাবে কেনার ক্ষেত্রে সকল প্রার্থীদের) ই-টিন সনদের কপি
- প্রার্থীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের এমআইসিআর (ম্যাগনেটিক ইন্ক ক্যারেক্টার রিকগনিশন) চেক ও এমআইসিআর সাদা চেকের কপি (যুগ্ম নামের ক্ষেত্রে যুগ্মভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের চেক)
- পেনশনার সঞ্চয়পত্রের জন্য নিয়োগকর্তার পূরণকৃত কর্মকর্তা/কর্মচারির প্রাপ্ত গ্র্যাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ড সনদপত্র এবং পিপিও (পেনশন পেমেন্ট অর্ডার)/ইপিপিও (ইলেক্ট্রনিক পেনশন পেমেন্ট অর্ডার)-এর ফটোকপি অথবা নিয়োগকর্তার অনুমোদনকৃত পিএসপি-২ ফরম।
আরও পড়ুন: সঞ্চয়পত্রে নয়, সুদ কমেছে ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের: অর্থ মন্ত্রণালয়
প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বিনিয়োগের জন্য
- প্রভিডেন্ট ফান্ড ও কৃষি ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে,
- কর কমিশনারের কার্যালয় থেকে ইস্যু করা স্বীকৃতপত্র কিংবা সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন
- প্রভিডেন্ট ফান্ডের নামে ই-টিন
- পরিচালনা পরিষদ সভার কার্যবিবরণী
- লেনদেন পরিচালনাকারীদের স্বাক্ষর সংক্রান্ত প্রত্যয়ন
- প্রভিডেন্ট ফান্ডের ব্যাংক হিসাব বিবরণী এবং উক্ত হিসাবের এমআইসিআর চেক এবং এমআইসিআর সাদা চেকের কপি
- প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে
- সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা জেলা কার্যালয় থেকে প্রত্যয়নপত্র
- পরিচালনা পরিষদের সভার কার্যবিবরণী
- লেনদেন পরিচালনাকারীদের স্বাক্ষর সংক্রান্ত প্রত্যয়ন
- প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব বিবরণী এবং উক্ত হিসাবের এমআইসিআর চেক এবং এমআইসিআর সাদা চেকের কপি।
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহের সেই শিশুকে ১৩ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কিনে দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের
সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের জন্য আবেদন
সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের জন্যই একটি নির্দিষ্ট আবেদন ফর্ম পূরণ করে স্বাক্ষর করতে হয়। ফর্মটি সঞ্চয়পত্র ইস্যুকারী যে কোনো সরকারি অফিস থেকে বিনামূল্যেই দেওয়া হয়। এছাড়া জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের ওয়েব সাইট (https://nationalsavings.gov.bd/) থেকেও ডাউনলোড করা যাবে।
যে প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সঞ্চয়পত্রের আবেদন ফর্ম প্রদান, জমা, এবং সঞ্চয়পত্র ইস্যু করা হয়, সেগুলো হলো:
- জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনস্থ সকল সঞ্চয় ব্যুরো কার্যালয়
- সদরঘাট ও ময়মনসিংহ অফিস ব্যতীত বাংলাদেশ ব্যাংকের সকল কার্যালয়
- ডাকঘর
- শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংক ব্যতীত সকল তফসিলি ব্যাংক
প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ সংক্রান্ত সঞ্চয়পত্র কেবল জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনস্থ সঞ্চয় ব্যুরোগুলোতে পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: প্রবাস স্কিম: প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেভাবে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে রেজিস্ট্রেশন করবেন
সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের সময় যে বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ
বিনিয়োগের উদ্দেশ্য
প্রতিটি সঞ্চয়পত্র ১ বছর পূর্তির পূর্বে নগদায়ন করা হলে তথা ভেঙ্গে ফেললে কোনো মুনাফা পাওয়া যায় না। শুধু বিনিয়োগকৃত মূল টাকাটি ফেরত দেওয়া হয়।
শুধুমাত্র ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে পুনঃবিনিয়োগের জন্য পরবর্তীতে অতিরিক্ত ১ মেয়াদ নেওয়া যায়।
বিনিয়োগের পূর্বেই এই দুটি বিষয় ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষ করে যারা জরুরি নগদ অর্থের প্রয়োজন অনুভব করে থাকেন, তাদের সঞ্চয়পত্র কেনার ব্যাপারে একটু সুক্ষভাবে চিন্তা করা উচিৎ।
অপরদিকে বিনিয়োগ উৎসাহীদের যথাযথ হিসেব করে নিতে হবে যে, ঠিক কত সময় পরে কাঙ্ক্ষিত রিটার্নটি তিনি আশা করছেন।
আয়করের উপর প্রভাব
সকল প্রকার সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ১০ শতাংশ উৎসে কর কেটে তারপর প্রদান করা হয়। এর সুবাদেই আয়কর জমা দানের সময় মোট আয় থেকে কর রেয়াত পাওয়া যায়।
কিন্তু গত ২০২৩ সাল থেকে এই কর রেয়াত তুলে নেওয়া হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী সঞ্চয়পত্রের মুনাফা দেওয়ার সময় সেই ১০ শতাংশ উৎসে কর কাটা হবে। সেই সঙ্গে আয়কর দেওয়ার সময় অন্যান্য আয়ের সঙ্গে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা যোগ করে মোট আয়ের উপর কর আরোপ হবে। ফলশ্রুতিতে কর রেয়াত তো থাকছেই না, বরং গুণতে হবে বাড়তি কর। এমন পরিস্থিতি সঞ্চয়পত্রের সুবিধাগুলোর ব্যাপারে নতুন করে ভাবার প্রয়াস যোগায়।
আরও পড়ুন: সুরক্ষা স্কিম: স্ব-নিযুক্ত বা অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মীরা যেভাবে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে রেজিস্ট্রেশন করবেন
মূল্যস্ফীতি
বাজারের সব থেকে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি হচ্ছে মূল্যস্ফীতি। এর পরিণতিতে ব্যাংকিং অবস্থায় ভারসাম্যহীনতার মাধ্যমে সামগ্রিক অর্থনীতি অস্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যায়।
২০২০ সাল থেকে ব্যাংকঋণের সুদ ছিলো সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ। কিন্তু ২০২২ সালে একদিকে শুরু হয় ডলার-সংকট, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি উঠে যায় ১০ শতাংশের কাছাকাছি। ফলে ব্যাংকগুলোতে সুদের হারে শুরু হয় ভারসাম্যহীনতা। এ রকম অসঙ্গতিতে সঞ্চয়পত্রের উপযুক্ততা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
শেষাংশ
বাজারে উপলব্ধ আর্থিক নিরাপত্তামুলক পণ্যগুলোর মধ্যে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ তুলনামুলক ভাবে ঝুঁকিহীন উপায়। মূল্যস্ফীতির বিচারে সরাসরি সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এই খাত অধিকাংশ সময় নিজের ইতিবাচক অবস্থান ধরে রাখে। তবে বাজারের আকস্মিক অযাচিত পরিবর্তন ভিন্ন মেয়াদ ও সরকারি বিধিমালা নির্বিশেষে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে সঞ্চয়পত্রের উপর।
যেখানে বিলুপ্তি ঘটতে পারে এর ঐতিহ্যবাহী সুবিধাগুলোর। এমতাবস্থায় অনাকাঙ্ক্ষিত আর্থিক ক্ষতি থেকে বাঁচতে মূখ্য বিষয় হয়ে ওঠে বিনিয়োগের উদ্দেশ্য নিয়ে গবেষণা করা। কারণ দিন শেষে বিনিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মূল চাবিকাঠি ব্যক্তির হাতে।
আরও পড়ুন: প্রগতি স্কিম: বেসরকারি চাকরীজীবীরা যেভাবে সর্বজনীন পেনশন স্কিম-এ রেজিস্ট্রেশন করবেন
৩২৩ দিন আগে
ময়মনসিংহের সেই শিশুকে ১৩ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কিনে দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের
ময়মনসিংহের ত্রিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা মায়ের মৃত্যুর সময় অলৌকিকভাবে জন্ম নেওয়া শিশু ফাতেমা ও তার পরিবারের ভরণ-পোষণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে থাকা ১৩ লাখ ১১ হাজার টাকা দিয়ে সঞ্চয়পত্র কিনে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে শিশু ও শিশুর পরিবারকে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য গঠিত ট্রাস্টি বোর্ডকে ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে। এ টাকা দিয়েও সঞ্চয়পত্র কিনে দিতে বলেছেন আদালত। সঞ্চয়পত্রের লভ্যাংশ দিয়ে শিশু ফাতেমা, তার দুই ভাই-বোন ও দাদীর সংসারের ব্যয় নির্বাহ করা হবে।
এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে বৃহস্পতিবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ মাহসিব হোসাইন। ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষে ছিলেন রাফিউল ইসলাম ও রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অভিযুক্ত ট্রাকচালক গ্রেপ্তার
রিটকারী আইনজীবী সৈয়দ মাহসিব হোসেন বলেন, অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া শিশুর জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া ১৩ লাখ ১১ হাজার টাকা ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসকের কাছে রয়েছে। এ টাকা দিয়ে সঞ্চয়পত্র কিনে শিশু ফাতেমা, তার ভাই ইবাদত হোসেন ও বোন জান্নাতের কল্যাণে ব্যয় করতে বলেছেন আদালত। এছাড়া, ট্রাস্টি বোর্ডকেও দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে।
আইনজীবী রাফিউল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আদালত আদেশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে রিটকারী আইনজীবীকে ট্রাস্টি বোর্ডে একটি আবেদন করতে বলেছেন। আবেদন পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ট্রাস্টি বোর্ডকে নিহত রত্না বেগমের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে বলেছেন আদালত।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৬ জুলাই ত্রিশালের কোর্ট ভবন এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় ট্রাক-চাপায় প্রাণ হারান অন্তঃসত্ত্বা রত্না বেগম (৩২), তার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম (৪০) এবং তাদের ছয় বছরের মেয়ে সানজিদা। এ সময় অলৌকিকভাবে মায়ের গর্ভ ফেটে ভূমিষ্ঠ হয় ফুটফুটে এক নবজাতক। পরে নবজাতকটিকে উদ্ধার করে নেওয়া হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
সেখানে নেওয়ার পর জানা যায়, জীবিত আছে নবজাতকটি। পরবর্তীতে যার নাম রাখা হয় ফাতেমা।
আরও পড়ুন: জেসমিনকে উঠিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে র্যাবের জুরিসডিকশন নিয়ে প্রশ্ন হাইকোর্টের
ঢাবিতে শিক্ষার্থীদের কান-মুখ খোলা রাখতে দেয়া নোটিশের কার্যকারিতা হাইকোর্টে স্থগিত
৭৩৪ দিন আগে
সঞ্চয়পত্রে নয়, সুদ কমেছে ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের: অর্থ মন্ত্রণালয়
অর্থ মন্ত্রণালয় রবিবার জানিয়েছে, ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক বিধি অনুযায়ী পরিচালিত সঞ্চয় স্কিমের সুদের হার কমিয়েছে সরকার, সঞ্চয়পত্রের নয়।
১৮৭২ দিন আগে