ড. খলিলুর রহমান
বর্ণবাদ নির্মূলে বৈশ্বিক ঐক্যের ডাক বাংলাদেশের
বিশ্বজুড়ে বর্ণবাদ নির্মূল, সাম্য প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক মর্যাদা সমুন্নত রাখতে বৈশ্বিক উদ্যোগ জোরদার করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
সোমবার (২৩ মার্চ) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ‘আন্তর্জাতিক বর্ণবাদ নির্মূল দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মারক সভায় এই আহ্বান জানানো হয়।
সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বর্ণবাদ ও জাতিগত বৈষম্যবিরোধী সকল আন্তর্জাতিক কনভেনশনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্বাক্ষরের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বর্ণবাদ নির্মূলে ঢাকার অটুট অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে মিয়ানমারের রাখাইন ও ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান বর্ণবাদমূলক নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরেন। আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনার লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য থেকে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে।
বিশ্বব্যাপী অভিবাসী শ্রমিকদের বঞ্চনা, শোষণ এবং ন্যায়বিচারে তাদের সীমিত প্রবেশাধিকারের সমস্যার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি জাতিসংঘের মূল আদর্শ ও চেতনার পরিপন্থী। বৈষম্য ও অন্যায় প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
বাংলাদেশের সাংবিধানিক অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ শুরু থেকেই মানবাধিকার, সমতা ও মর্যাদা রক্ষায় বদ্ধপরিকর। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে ঢাকা।
ভবিষ্যতে বর্ণবাদমুক্ত বিশ্ব গড়তে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কয়েকটি বিষয়ের ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি শিক্ষায় টেকসই বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন জাতির মধ্যে আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপ ও যোগাযোগ জোরদার করার আহ্বান জানান।
২ দিন আগে
লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে দৃঢ় অঙ্গীকার বাংলাদেশের
লিঙ্গ সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত কমিশন অন দ্য স্ট্যাটাস অফ উইমেনের (সিএসডব্লিউ) ৭০তম অধিবেশনে তিনি এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বেইজিং ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য এজেন্ডা-২০৩০-এর লক্ষ্যসমূহ এগিয়ে নেওয়ার প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, সকল নারী ও কন্যাশিশুর জন্য ন্যায়বিচার উন্মুক্ত হতে হবে, যাতে তারা নির্ভয়ে ও কোনও প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই আইনি সুরক্ষা পেতে পারে।
এ সময় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সংঘাত এবং ডিজিটাল বিভাজনের মতো বিষয়গুলো গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের জন্য নতুন নতুন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ নারী নেতৃত্বের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থা শক্তিশালী করার এবং মানবপাচার রোধে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে।
নিউইয়র্কে সিএসডব্লিউ-এর ৭০তম অধিবেশনটি ৯ মার্চ শুরু হয়ে ১৯ মার্চ পর্যন্ত চলবে। এবারের অধিবেশনের মূল লক্ষ্য হলো ন্যায়বিচারে নারীদের প্রবেশাধিকার শক্তিশালী করা, বৈষম্যমূলক আইন নির্মূল করা এবং নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য কাঠামোগত বাধাগুলো দূর করা।
৮ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্য সংকট: আঙ্কটাড মহাসচিবের সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতি নিয়ে ঢাকার আলোচনা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ এবং জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাড।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ মার্চ) জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আঙ্কটাডের মহাসচিব রেবেকা গ্রিনস্প্যান।
আজ (মঙ্গলবার) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে তারা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে উত্তেজনা আর না বাড়িয়ে জরুরি ভিত্তিতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানান তারা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিঘ্ন এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ইতোমধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলো বছরের পর বছর ধরে অর্জিত অগ্রগতির উল্টো রথ দেখতে পাচ্ছে।
কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যান জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব পদের একজন প্রার্থী। অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদের প্রার্থী। বৈঠকে এ দুই কর্মকর্তা নিজ নিজ প্রার্থিতা নিয়েও আলোচনা করেন।
এ সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
আঙ্কটাড ১৯৬৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি স্থায়ী আন্তঃসরকারি সংস্থা।
৯ দিন আগে
শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল দ্রুত চালুর বিষয়ে ঢাকা-টোকিও আলোচনা
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড (তৃতীয়) টার্মিনাল দ্রুত চালুর উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও জাপান। আলোচনার মাধ্যমে একটি পারস্পরিক সুবিধাজনক সমাধানে পৌঁছানোর বিষয়ে উভয় পক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে টার্মিনালটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে জাপানের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বিষয়টি আলোচিত হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাপানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সহকারী ভাইস মিনিস্টার নাকায়ামা রিকো।
উভয় দেশের প্রতিনিধরা থার্ড টার্মিনালের পরিচালনা ও আর্থিক বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং স্থাপনাটি সচল করতে দ্রুত সিদ্ধান্তের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নতুন টার্মিনালটি চালুর প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত করার নির্দেশনার পর এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হলো।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হুমায়ুন কবির এবং প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত আলোচনাকে ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেন। মিল্লাত বলেন, টার্মিনাল পরিচালনাকারী জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আগের চুক্তির ত্রুটিগুলো সংশোধন করে দেশের স্বার্থ রক্ষা হয় এমন একটি সমাধান খুঁজছে বাংলাদেশ। তিনি জানান, চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত নির্দিষ্ট কিছু পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয় এবং চার্জ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন চুক্তিতে সাধারণত তিন ধরনের চার্জ থাকে এবং এর মধ্যে কিছু বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ এই বিষয়ে নিজস্ব প্রস্তাব পেশ করেছে এবং জাপান তাদের অবস্থান তুলে ধরেছে।
মিল্লাত জানান, জাপান বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলো বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে এবং একটি সংশোধিত প্রস্তাব জমা দেবে, যার ভিত্তিতে পরবর্তী আলোচনা হবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, সরকার জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং দ্রুত অর্থবহ অগ্রগতির আশা করছেন তারা।
টার্মিনালটির নির্মাণকাজ ৯৯ শতাংশের বেশি শেষ হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। প্রকল্পটিতে জাপানের সুমিতোমো করপোরেশন এবং সোজিৎজ করপোরেশনসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান জড়িত। এর সিংহভাগ অর্থায়ন করেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ।
২০১৭ সালে অনুমোদিত এবং ২০১৯ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। বার্ষিক ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ অতিরিক্ত যাত্রী এবং প্রায় ৯ লাখ টন কার্গো বহন করার সক্ষমতা রয়েছে এই টার্মিনালটির।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঢাকা বিমানবন্দরের ভিড় কমাতে এবং বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করতে এই টার্মিনালটি চালু করা অত্যন্ত জরুরি।
১৩ দিন আগে
এ ধরনের যুদ্ধ কারও জন্য মঙ্গলকর নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করার কথা বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে সৌদি আরবের জেদ্দায় ফিলিস্তিন-বিষয়ক ওআইসি নির্বাহী বৈঠক থেকে ফিরে এসে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা একটা দুঃখজনক ব্যাপার। আমরা প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কিছু বলছি না, আমরা আমাদের মতো করে বন্ধুদের বোঝানোর চেষ্টা করছি যে, এ ধরনের যুদ্ধ কারও জন্য মঙ্গলকর নয়।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে আফগানিস্তানের নানগরহার ও পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর থেকেই দুই দেশের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে বিক্ষিপ্তভাবে সীমান্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই দেশ।
এরপর বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন এলাকায় কামান, মাল্টি ব্যারেল রকেট লঞ্চার, সাঁজোয়া গাড়ি বহর নিয়ে কার্যত মুখোমুখি লড়াই করেছে পাকিস্তানের সেনা এবং আফগানিস্তানের তালেবান বাহিনী।
গতকাল (শুক্রবার) পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, দুই দেশ এখন ‘খোলামেলা যুদ্ধে’ লিপ্ত।
এ কিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জেদ্দায় ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) নির্বাহী কমিটির মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ ইসহাক দার, গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজি, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভারসেন ওহানেস ভার্তান আগাবেকিয়ান, তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূত মুসা কুলাক্লিকায়া এবং সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ এলখরেইজির সঙ্গে পৃথক পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঞ্চলিক ‘শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি’ এগিয়ে নিতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এদিকে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সার্কের মহাসচিব মো. গোলাম সারওয়ারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্ক সনদে অন্তর্ভুক্ত নীতিমালা—সার্বভৌম সমতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জনগণের পারস্পরিক কল্যাণ এসবের প্রতি বাংলাদেশের অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
২৬ দিন আগে
তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় আশাবাদী ওআইসি নেতারা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করবে এবং উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) নেতারা।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সৌদি আরবের জেদ্দায় ফিলিস্তিন-বিষয়ক ওআইসি নির্বাহী বৈঠকের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তারা এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফিলিস্তিনবিষয়ক ওআইসি নির্বাহী বৈঠকের ফাঁকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বেশ কিছু দেশের প্রতিনিধি দলের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
এ সময় তারা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি পূর্ণ সমর্থনও ব্যক্ত করেছেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ ইসহাক দার, সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ. এলখরেইজি, তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাক্লিকায়া, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভারসেন ওহানেস ভার্তান আগাবেকিয়ান এবং গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজি।
২০২৬-২০২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্ব থেকে ফিলিস্তিন ইতোমধ্যে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ফিলিস্তিনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ফলে এখন এই পদের জন্য বাংলাদেশ সাইপ্রাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই পদের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে মনোনীত করেছেন।
ওআইসি প্রতিনিধি দলের নেতারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বিশাল বিজয় এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। একইসঙ্গে ফিলিস্তিনের পক্ষে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানেরও প্রশংসাও করেন তারা।
বাংলাদেশ সফরে আগ্রহী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
বৈঠকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার গত বছর প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার সাক্ষাতের কথা আন্তরিকতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বাংলাদেশ সফরের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দার আশা প্রকাশ করেন যে, ঢাকায় নতুন সরকারের অধীনে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমাগত সমৃদ্ধ হবে।
তুরস্কের সমর্থনের প্রশংসা
তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুলাক্লিকায়া তুরস্ক ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে আশা প্রকাশ করেন যে, আগামীতে বিভিন্ন খাতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও প্রসারিত হবে। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তুরস্কের অব্যাহত সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান। উভয় পক্ষই রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এছাড়া তিনি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানকে রমজানের পর বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
সৌদি আরবের আমন্ত্রণ
সৌদি প্রতিনিধি দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ. এলখরেইজি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সুবিধাজনক সময়ে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকেও রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ বাংলাদেশের জন্য বিভিন্ন খাতে অনেক সুযোগ সৃষ্টি করেছে এবং তার সরকার এ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য সৌদি আরবের সামনে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে। এছাড়া ওআইসি সচিবালয়ের সংস্কারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সমর্থন কামনা করেন সৌদির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ফিলিস্তিনিদের প্রতি অটল সমর্থন
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগাবেকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি বাংলাদেশের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ১৯৬৭ সালের আগের সীমান্ত অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান। ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের ধারাবাহিক সমর্থনের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে আরব-ইসলামিক দেশগুলোর সমর্থন থাকবে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে গাম্বিয়ার ভূমিকার প্রশংসা
গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এনজিকে রোহিঙ্গাদের পক্ষে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করাসহ গাম্বিয়ার সক্রিয় ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান ড. খলিলুর রহমান। উভয় পক্ষই চলতি বছরের এপ্রিলে বাগদাদে অনুষ্ঠিতব্য ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে একমত হন। গাম্বিয়া ইউএনজিএ সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থীকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য আফ্রিকান দেশগুলোর সমর্থন আদায়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মোল্লা ফরহাদ হোসেন এবং ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এমজেএইচ জাবেদ উপস্থিত ছিলেন।
২৭ দিন আগে
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাতে তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎ শেষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘আমাদের উভয় দেশকে আরও নিরাপদ, শক্তিশালী এবং সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।’
এ সময় ড. খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রদূত।
এর আগে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বার্তায় বলেন, এই অঞ্চলের সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা জোরদার করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
৩১ দিন আগে
ঢাকা-ওয়াশিংটন দ্বিতীয় দফার শুল্ক আলোচনা শুরু হচ্ছে আজ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক বিষয়ক দ্বিতীয় দফার আলোচনা আজ বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে শুরু হতে যাচ্ছে। প্রথম দফার ফলপ্রসূ আলোচনার ভিত্তিতে আরও অগ্রগতি অর্জনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
২৭ জুনের প্রথম দফার আলোচনায় অর্জিত অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে দ্রুত একটি চুক্তি সম্পন্ন করার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ অফিস (ইউএসটিআর) আয়োজিত এ আলোচনা ৯ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশীরউদ্দিন, যিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে উপস্থিত থেকে সরাসরি আলোচনায় অংশ নেবেন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করবেন।
এছাড়া বাণিজ্য সচিব এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবসহ সিনিয়র কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নিতে এরইমধ্যে ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌঁছেছেন। শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশ আশা করছে, গত ২৭ জুন অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ফলপ্রসূ আলোচনার অগ্রগতির ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্টা শুল্ক চুক্তিটি দ্রুত সম্পন্ন করা যাবে।
গত ৭ জুলাই প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে পাঠানো চিঠিতে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন মার্কিন পেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প জানান, ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যে ৩৫ শতাংশ শুল্ক ধার্য করবে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, শুল্ক হার সংশোধনের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ভারসাম্য স্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি যেসব দেশ আমেরিকার রপ্তানি ও শ্রম বাজারে বাধা সৃষ্টি করছে, তাদের জন্য কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
২৬০ দিন আগে
বিদেশি নাগরিকত্ব থাকার দাবি প্রত্যাখ্যান খলিলুরের
বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজের সব অধিকার ভোগ করার প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। এ সময়ে তার বিদেশি নাগরিকত্ব আছে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে যে দাবি করা হয়েছে, তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
রবিবার (১৮ মে) বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে তিনি এমন কথা বলেন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে আমার পূর্ণাঙ্গ অধিকার ভোগ করার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।’
‘এই অভিযোগ যিনি করেছেন, তাকে সেটি প্রমাণ করতে হবে। প্রয়োজনে আাদলতের মাধ্যমে এটি প্রমাণ করতে হবে’, যোগ করেন তিনি।
এরআগে খুলনার সার্কিট হাউস মাঠে এক সমাবেশে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আপনার সরকারে একজন বিদেশি নাগরিককে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা করেছেন। আপনার কি সেই আক্কেলজ্ঞান নেই—একজন বিদেশি নাগরিকের কাছে এই দেশের সেনাবাহিনী কীভাবে নিরাপত্তাসংক্রান্ত রিপোর্ট প্রদান করবে।’
আরও পড়ুন: আমাদের ঘাড়ের ওপর একটি গাজা বসে আছে: খলিলুর রহমান
‘তিনি রোহিঙ্গা করিডোরের নামে, মানবিক করিডোরের নামে বাংলাদেশকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করতে চান। সেই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে বিদায় করুন,’ যোগ করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘এই দেশে বন্দর, করিডোর—সব কিছু নাকি ইউনূস সরকারের অধিকারের মধ্যে পড়ে। বিদেশে আপনি কী কন্ট্রাক্ট করে এসেছেন জানি না। আপনি অবলীলাক্রমে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর, করিডোর সব বিদেশিদের কাছেন হস্তান্তর করবেন—কী চুক্তি করে এসেছেন? কী এখতিয়ার আছে আপনার? কী ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছেন।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহামান ১৯৭৭ সালে প্রথম নিয়মিত বিসিএস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে ১৯৭৯ সালে কূটনৈতিক জীবন শুরু করেন। একই বছর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে প্রথম শ্রেণিতে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ফরেন সার্ভিসে যোগদানের আগে আমেরিকান এক্সপ্রেস ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংকে অল্প সময়ের জন্য কাজ করেন।
আরও পড়ুন: আরাকানের যুদ্ধাবস্থা নিরসন করেই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন: খলিলুর রহমান
তিনি ফ্লেচার স্কুল অফ ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি, টাফটস বিশ্ববিদ্যালয় এবং কেনেডি স্কুল অফ গভর্নমেন্ট, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন ও কূটনীতিতে এমএ এবং অর্থনীতিতে পিএইচডি অর্জন করেন।
তার কূটনৈতিক মেয়াদে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘে স্থায়ী মিশন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও আর্থিক কমিটির স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) মুখপাত্র ছিলেন।
৩১২ দিন আগে
সেভেন সিস্টার্স নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা সৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কথাই বলেছেন: হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য (সেভেন সিস্টার্স) নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি-সংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘অত্যন্ত সৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কথাই প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন। এর ব্যাখ্যা যদি অন্যরকম দেওয়া হয়, তাহলে আমরা তা ঠেকাতে পারছি না।’
বুধবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে দেশটির ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান ড. ইউনূস। সে সময় বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থানের গুরুত্ব উল্লেখ করে বাণিজ্য ও ব্যবসা সম্প্রসারণে সমুদ্রের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘নেপাল ও ভুটান স্থলবেষ্টিত দেশ, যাদের কোনো সমুদ্র নেই। ভারতের সাতটি উত্তর-পূর্বঞ্চলীয় রাজ্যও স্থলবেষ্টিত। সমূদ্রের সঙ্গে তাদের কোনো সংযোগ নেই।’
‘এই অঞ্চলের জন্য সমুদ্রে আমরাই একমাত্র অভিভাবক। সুতরাং, এটি একটি বিশাল সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে। সুতরাং, চীনা অর্থনীতির সম্প্রসারণে এটি দারুণ সম্ভাবনাময় হতে পারে।’
আরও পড়ুন: চীন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা
চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশে পণ্য উৎপাদন করুন, বাজারজাত করুন, চীনেও নিয়ে আসুন এবং তা সারা বিশ্বের কাছে নিয়ে যান।’
অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান বলেন, ‘নেপাল ও ভুটানের সীমাহীন জলবিদ্যুৎ রয়েছে, যা এ অঞ্চলের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। কারখানা স্থাপনসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে আমরা এটিকে আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে নিয়ে আসতে পারি।’
‘বাংলাদেশ থেকে আপনি যেখানে খুশি যেতে পারেন। সমুদ্র আমাদের আঙিনায়। সুতরাং, এই সুযোগটি আপনি নিতে পারেন।’
প্রধান উপদেষ্টার এ মন্তব্য ভালোভাবে নেয়নি ভারত। এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভারতের বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা।
দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের প্রধান পবন খেরা এক এক্স পোস্টে লিখেছেন, ‘ভারতকে ঘিরে ফেলার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ চীনকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের এই আচরণ (ভারতের) উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য খুবই বিপজ্জনক।’
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, “বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের এই মন্তব্য খুবই আপত্তিকর এবং নিন্দনীয়। এটি ভারতের কৌশলগত ‘চিকেনস নেক’ করিডোরের দুর্বলতা নিয়ে প্রচলিত বর্ণনাকে পুনরায় উসকে দিচ্ছে।”
ভারতের এমন প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে জানতে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা সেভেন সিস্টার্স নিয়ে এই প্রথমবার কথা বলেননি। তিনি ২০১২ সালেও একই ধরনের কথা বলেছিলেন।’
‘এর চাইতে একটু এগিয়ে গিয়ে ২০২৩ সালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী দিল্লিতে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশ একটি ভ্যালু চেইনে আবদ্ধ করা এবং তিনি এ প্রসঙ্গে একটি একক অর্থনৈতিক অঞ্চলের কথাও বলেছিলেন তিনি, যেটাকে বিগ বে ইনেশিয়েটিভ বলে গণ্য করা হয়।’
আরও পড়ুন: মোদি-ইউনূসের বৈঠক হতে পারে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে
তিনি বলেন, ‘কানেক্টিভিটি এই অঞ্চলের সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে। বিশেষ করে যাদের জন্য সমুদ্রের এক্সেস পাওয়া খুব কঠিন। কিন্তু আমরা কানেক্টিভিটি জোর করে চাপিয়ে দেব না, সেটি করার মতো অবস্থাও আমাদের নেই।’
‘কেউ যদি নেয় খুব ভালো, না নিলে কী করব আমরা? কিছু করার নেই। অত্যন্ত সৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কথাই প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন। এর ব্যাখ্যা যদি অন্যরকম দেওয়া হয়, আমরা সেই ব্যাখ্যা ঠেকাতে পারছি না। আমরা শুধু সবার সমান লাভের জন্য কানেক্টিভিটি দিতে আগ্রহী আছি। কেউ নিলে ভালো, না নিলে নেবেন না।’
আগামী বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে প্রধান উপদেষ্টার।
এ বিষয়ে হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের বক্তব্য, ‘আশা করা যাচ্ছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আমাদের আশাবাদী হওয়ার কারণ আছে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত বৈঠক না হচ্ছে, এ প্রসঙ্গে আমরা আগ বাড়িয়ে কিছু বলব না।’
৩৫৭ দিন আগে