ড. খলিলুর রহমান
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য 'কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ' দেশ: তুরস্ক
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ একটি ‘কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ’ দেশ। দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে দ্বিপাক্ষিক প্রতিশ্রুতি বজায় রাখতে আঙ্কারা ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। তার আমন্ত্রণে হাকান ফিদান বর্তমানে দুই দিনের সরকারি সফরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তার চার দেশীয় সফরের শেষ গন্তব্য বাংলাদেশ।
সফর উপলক্ষে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষায় সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, ‘মানবতার অভিন্ন ঐতিহ্য রক্ষার প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ এই দলিল, যা আমাদের উভয় দেশের জন্য সুফল বয়ে আনবে বলে আমি আশা করি।’
তিনি জানান, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে অভিন্ন অবস্থান এবং সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে। এছাড়া বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সংস্থায় সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
হাকান ফিদান বলেন, ‘আমরা আমাদের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে আরও গভীর এবং একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর অনেক বেশি শক্তিশালী ও দূরদর্শী স্তরে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
তিনি আরও জানান, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বর্তমানের ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সম্ভাবনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করেছেন।
১০ দিন আগে
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের একাশিতম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রার্থী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২ জুন) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের ভোটে তিনি ৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী পান ৯১ ভোট।
এই বিজয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আস্থা, গ্রহণযোগ্যতা এবং ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক প্রভাবের সুস্পষ্ট প্রতিফলন হিসেবে দেখছে ঢাকা।
এটি শুধু একটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পদে বাংলাদেশের নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা নয়; বরং বহুপাক্ষিক কূটনীতি, শান্তি, উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে দেশের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও বটে।
এই অর্জনের পেছনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব, স্বল্প সময়ে পরিচালিত সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং ড. খলিলুর রহমানের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় নির্বাচনের জন্য মাত্র তিন মাসের মতো সময় অবশিষ্ট ছিল। এই সীমিত সময়ের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রার্থিতা নিয়ে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেন এবং ড. খলিলুর রহমানকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেন।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৮ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদে বাংলাদেশের নির্বাচনের বিষয়টি স্মরণ করেন। সে সময় শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশ শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী জাপানকে পরাজিত করে নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়েছিল।
এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সময়ের সীমাবদ্ধতা। সাধারণত এ ধরনের নির্বাচনে কয়েক বছরব্যাপী প্রস্তুতি ও প্রচারণা চালানো হলেও বাংলাদেশকে মাত্র তিন মাসের মধ্যে বৈশ্বিক পর্যায়ে কূটনৈতিক প্রচারণা পরিচালনা করতে হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ কার্যত পাঁচ বছরের সমপরিমাণ কূটনৈতিক তৎপরতা সম্পন্ন করেছে।
বাংলাদেশ ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউএনজিএ সভাপতি পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করলেও ড. খলিলুর রহমানকে আনুষ্ঠানিক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয় ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি। এরপর থেকেই শুরু হয় পূর্ণমাত্রার কূটনৈতিক প্রচারণা। সীমিত সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ এবং বহুপাক্ষিক ফোরামে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জনে সক্ষম হয়।
১৩ দিন আগে
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান রাখাইনেই নিহিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও কার্যকর সমাধান রাখাইন রাজ্যেই নিহিত রয়েছে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শুধু মানবিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আরও সক্রিয় ও ফলপ্রসূ ভূমিকা নিতে হবে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) তুরস্কে চলমান আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরাম–২০২৬-এর ‘গ্লোবাল রিফিউজি প্রোটেকশন সিস্টেম ইন দ্য ফেস অব ডিসপ্লেসমেন্ট ক্রাইসিস’ শীর্ষক সেশনে প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক দাতা সহায়তা কমে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই প্রেক্ষাপটে অর্থায়ন বৃদ্ধি, রাখাইনে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মি— উভয় পক্ষই তাকে স্বাগত জানিয়েছে।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা। তবে এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ ও ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।
৫৮ দিন আগে
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিত পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেমে গেলেও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট পুরোপুরি শেষ হবে না বলে সতর্ক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এ সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মরিশাসে অনুষ্ঠিত নবম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে (আইওসি) বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটের কারণে আমরা সবাই বিপদে আছি। এর প্রভাব আগামী দিনেও পড়বে। এমনকি জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি হলেও আমাদের বহুপাক্ষিকতা হ্রাসের মতো আরও বড় সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে।
সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করসহ অন্যান্য বিশ্বনেতারা বক্তব্য রাখেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার ডিজেল সরবরাহের জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানায় বাংলাদেশ। একইসঙ্গে ডিজেল ও সারের সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য ভারতকে অনুরোধ জানায় ঢাকা। দিল্লি এই অনুরোধটি সহজভাবে এবং ইতিবাচকভাবে বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছে।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা ও বিশ্বাস হারানোর যে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, তা আমাদের নিজেদের কাজের মাধ্যমেই মোকাবিলা করতে হবে। যদি আমরা আমাদের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে শক্তিশালী থাকতে পারি, তবে বাইরে থেকে আসা ঝড়গুলো মোকাবিলা করা আমাদের জন্য অনেক সহজ হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, এই সংকটের প্রভাব ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের চেয়েও অনেক বেশি হবে। বর্তমান সংকটের প্রভাব যদি ৭০-এর দশকের ধাক্কার চেয়েও বড় হয়, তবে আমরা কী ধরনের ঝুঁকির মুখে আছি তা কল্পনা করা যায়। এটি একটি তাৎক্ষণিক সমস্যা, তবে এর চেয়েও বড় সমস্যা হলো যে প্রেক্ষাপটে এটি ঘটছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, একটি সুশৃঙ্খল বিশ্ব যা পুরোপুরি সুশৃঙ্খল ছিল না ঠিকই, কিন্তু আমাদের বিশ্বাস করার মতো যথেষ্ট সুশৃঙ্খল ছিল যে, বৈশ্বিক ব্যবস্থা আমাদের সমস্যাগুলোর সমাধান করবে। তবে তা এখন গুরুতর চাপের মুখে পড়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বহুপাক্ষিকতার ওপর আঘাত এবং বৈশ্বিক কাঠামোর মধ্যে একতরফা পদক্ষেপের প্রবণতা বাড়ছে। এসব কাঠামো এই ইস্যুগুলো মোকাবিলায় আমাদের আর কার্যকরভাবে সাহায্য করছে না। তাই আমরা একটি বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এখন সম্মিলিত পদক্ষেপের সময়, কারণ একক কোনো দেশের পক্ষে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল বর্তমানে এক উত্তাল সময় অতিক্রম করছে। জ্বালানি সংকট অর্থনীতি ও সমাজের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। এ পরিস্থিতিতে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
মরিশাস সরকার এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ‘ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন’ মরিশাসে এই নবম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনের আয়োজন করেছে। এই সম্মেলনে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নেতা, নীতি-নির্ধারক এবং বিশেষজ্ঞরা পারস্পরিক দায়িত্ব ও আঞ্চলিক শাসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে একত্রিত হয়েছেন।
৬৬ দিন আগে
ভারতে শুভেচ্ছা সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আগামী ১০-১২ এপ্রিল মরিশাসে অনুষ্ঠিতব্য ভারত মহাসাগর সম্মেলনে অংশগ্রহণ করার উদ্দেশ্যে আজ মঙ্গলবার ঢাকা ত্যাগ করেন।
পথিমধ্যে নয়া দিল্লিতে যাত্রা বিরতিতে যাচ্ছেন তিনি। সেখানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিষয়কমন্ত্রী হারদীপ সিং পুরীর সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে তার।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এস এম মাহবুবুল আলম এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, এসব বৈঠকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও স্বার্থের ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সহযোগিতার ক্ষেত্রসমূহকে ভবিষ্যতে আরও ফলপ্রসূ ও টেকসই পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি রচনা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন মাহবুবুল আলম।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করবে বাংলাদেশ। এছাড়া ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদসহ অন্যান্য আসামিদের দ্রুত ফেরত চাইবে ঢাকা। মাসুদ বর্তমানে কলকাতায় গ্রেপ্তার রয়েছেন।
ভিসা সেবা পুরোপুরি চালুর বিষয়েও ভারতের কাছ থেকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যাশা করবে ঢাকা। চিকিৎসা পর্যটন থেকে ভারত উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হতে পারে, সে বিষয়টিও সেখানে উল্লেখ করা হবে। এছাড়া সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সীমান্তে আর কোনো প্রাণহানি যেন না ঘটে, সে বিষয়েও জোর দেবে বাংলাদেশ।
উভয় পক্ষ জ্বালানি সহযোগিতা, অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টন এবং বাণিজ্য বাধা সহজ করার পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এটিই হবে ভারতে প্রথম উচ্চপর্যায়ের সফর। দিল্লিতে আগামী ৮ এপ্রিল দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
নবনির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এই আমন্ত্রণপত্রটি হস্তান্তর করেছিলেন। মোদি তার চিঠিতে দুই দেশের মধ্যে সংযোগ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং জনযোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মরিশাস সম্মেলন ও ভারত সফরে যাবেন।
৬৯ দিন আগে
বর্ণবাদ নির্মূলে বৈশ্বিক ঐক্যের ডাক বাংলাদেশের
বিশ্বজুড়ে বর্ণবাদ নির্মূল, সাম্য প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক মর্যাদা সমুন্নত রাখতে বৈশ্বিক উদ্যোগ জোরদার করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
সোমবার (২৩ মার্চ) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ‘আন্তর্জাতিক বর্ণবাদ নির্মূল দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মারক সভায় এই আহ্বান জানানো হয়।
সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বর্ণবাদ ও জাতিগত বৈষম্যবিরোধী সকল আন্তর্জাতিক কনভেনশনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্বাক্ষরের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বর্ণবাদ নির্মূলে ঢাকার অটুট অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে মিয়ানমারের রাখাইন ও ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান বর্ণবাদমূলক নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরেন। আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনার লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য থেকে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে।
বিশ্বব্যাপী অভিবাসী শ্রমিকদের বঞ্চনা, শোষণ এবং ন্যায়বিচারে তাদের সীমিত প্রবেশাধিকারের সমস্যার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি জাতিসংঘের মূল আদর্শ ও চেতনার পরিপন্থী। বৈষম্য ও অন্যায় প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
বাংলাদেশের সাংবিধানিক অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ শুরু থেকেই মানবাধিকার, সমতা ও মর্যাদা রক্ষায় বদ্ধপরিকর। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে ঢাকা।
ভবিষ্যতে বর্ণবাদমুক্ত বিশ্ব গড়তে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কয়েকটি বিষয়ের ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি শিক্ষায় টেকসই বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন জাতির মধ্যে আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপ ও যোগাযোগ জোরদার করার আহ্বান জানান।
৮৪ দিন আগে
লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে দৃঢ় অঙ্গীকার বাংলাদেশের
লিঙ্গ সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত কমিশন অন দ্য স্ট্যাটাস অফ উইমেনের (সিএসডব্লিউ) ৭০তম অধিবেশনে তিনি এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বেইজিং ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য এজেন্ডা-২০৩০-এর লক্ষ্যসমূহ এগিয়ে নেওয়ার প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, সকল নারী ও কন্যাশিশুর জন্য ন্যায়বিচার উন্মুক্ত হতে হবে, যাতে তারা নির্ভয়ে ও কোনও প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই আইনি সুরক্ষা পেতে পারে।
এ সময় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সংঘাত এবং ডিজিটাল বিভাজনের মতো বিষয়গুলো গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের জন্য নতুন নতুন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ নারী নেতৃত্বের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থা শক্তিশালী করার এবং মানবপাচার রোধে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে।
নিউইয়র্কে সিএসডব্লিউ-এর ৭০তম অধিবেশনটি ৯ মার্চ শুরু হয়ে ১৯ মার্চ পর্যন্ত চলবে। এবারের অধিবেশনের মূল লক্ষ্য হলো ন্যায়বিচারে নারীদের প্রবেশাধিকার শক্তিশালী করা, বৈষম্যমূলক আইন নির্মূল করা এবং নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য কাঠামোগত বাধাগুলো দূর করা।
৯০ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্য সংকট: আঙ্কটাড মহাসচিবের সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতি নিয়ে ঢাকার আলোচনা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ এবং জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাড।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ মার্চ) জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আঙ্কটাডের মহাসচিব রেবেকা গ্রিনস্প্যান।
আজ (মঙ্গলবার) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে তারা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে উত্তেজনা আর না বাড়িয়ে জরুরি ভিত্তিতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানান তারা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিঘ্ন এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ইতোমধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলো বছরের পর বছর ধরে অর্জিত অগ্রগতির উল্টো রথ দেখতে পাচ্ছে।
কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যান জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব পদের একজন প্রার্থী। অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদের প্রার্থী। বৈঠকে এ দুই কর্মকর্তা নিজ নিজ প্রার্থিতা নিয়েও আলোচনা করেন।
এ সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
আঙ্কটাড ১৯৬৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি স্থায়ী আন্তঃসরকারি সংস্থা।
৯০ দিন আগে
শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল দ্রুত চালুর বিষয়ে ঢাকা-টোকিও আলোচনা
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড (তৃতীয়) টার্মিনাল দ্রুত চালুর উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও জাপান। আলোচনার মাধ্যমে একটি পারস্পরিক সুবিধাজনক সমাধানে পৌঁছানোর বিষয়ে উভয় পক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে টার্মিনালটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে জাপানের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বিষয়টি আলোচিত হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাপানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সহকারী ভাইস মিনিস্টার নাকায়ামা রিকো।
উভয় দেশের প্রতিনিধরা থার্ড টার্মিনালের পরিচালনা ও আর্থিক বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং স্থাপনাটি সচল করতে দ্রুত সিদ্ধান্তের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নতুন টার্মিনালটি চালুর প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত করার নির্দেশনার পর এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হলো।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হুমায়ুন কবির এবং প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত আলোচনাকে ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেন। মিল্লাত বলেন, টার্মিনাল পরিচালনাকারী জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আগের চুক্তির ত্রুটিগুলো সংশোধন করে দেশের স্বার্থ রক্ষা হয় এমন একটি সমাধান খুঁজছে বাংলাদেশ। তিনি জানান, চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত নির্দিষ্ট কিছু পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয় এবং চার্জ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন চুক্তিতে সাধারণত তিন ধরনের চার্জ থাকে এবং এর মধ্যে কিছু বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ এই বিষয়ে নিজস্ব প্রস্তাব পেশ করেছে এবং জাপান তাদের অবস্থান তুলে ধরেছে।
মিল্লাত জানান, জাপান বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলো বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে এবং একটি সংশোধিত প্রস্তাব জমা দেবে, যার ভিত্তিতে পরবর্তী আলোচনা হবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, সরকার জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং দ্রুত অর্থবহ অগ্রগতির আশা করছেন তারা।
টার্মিনালটির নির্মাণকাজ ৯৯ শতাংশের বেশি শেষ হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। প্রকল্পটিতে জাপানের সুমিতোমো করপোরেশন এবং সোজিৎজ করপোরেশনসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান জড়িত। এর সিংহভাগ অর্থায়ন করেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ।
২০১৭ সালে অনুমোদিত এবং ২০১৯ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। বার্ষিক ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ অতিরিক্ত যাত্রী এবং প্রায় ৯ লাখ টন কার্গো বহন করার সক্ষমতা রয়েছে এই টার্মিনালটির।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঢাকা বিমানবন্দরের ভিড় কমাতে এবং বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করতে এই টার্মিনালটি চালু করা অত্যন্ত জরুরি।
৯৪ দিন আগে
এ ধরনের যুদ্ধ কারও জন্য মঙ্গলকর নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করার কথা বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে সৌদি আরবের জেদ্দায় ফিলিস্তিন-বিষয়ক ওআইসি নির্বাহী বৈঠক থেকে ফিরে এসে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা একটা দুঃখজনক ব্যাপার। আমরা প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কিছু বলছি না, আমরা আমাদের মতো করে বন্ধুদের বোঝানোর চেষ্টা করছি যে, এ ধরনের যুদ্ধ কারও জন্য মঙ্গলকর নয়।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে আফগানিস্তানের নানগরহার ও পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর থেকেই দুই দেশের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে বিক্ষিপ্তভাবে সীমান্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই দেশ।
এরপর বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন এলাকায় কামান, মাল্টি ব্যারেল রকেট লঞ্চার, সাঁজোয়া গাড়ি বহর নিয়ে কার্যত মুখোমুখি লড়াই করেছে পাকিস্তানের সেনা এবং আফগানিস্তানের তালেবান বাহিনী।
গতকাল (শুক্রবার) পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, দুই দেশ এখন ‘খোলামেলা যুদ্ধে’ লিপ্ত।
এ কিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জেদ্দায় ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) নির্বাহী কমিটির মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ ইসহাক দার, গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজি, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভারসেন ওহানেস ভার্তান আগাবেকিয়ান, তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূত মুসা কুলাক্লিকায়া এবং সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ এলখরেইজির সঙ্গে পৃথক পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঞ্চলিক ‘শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি’ এগিয়ে নিতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এদিকে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সার্কের মহাসচিব মো. গোলাম সারওয়ারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্ক সনদে অন্তর্ভুক্ত নীতিমালা—সার্বভৌম সমতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জনগণের পারস্পরিক কল্যাণ এসবের প্রতি বাংলাদেশের অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
১০৮ দিন আগে