জুলাই গণঅভ্যুত্থান
আর যেন কেউ শিকল পরানোর সুযোগ না পায়, সেরকম কাঠামো তৈরি করতে চাই: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশ বিনির্মাণে এবারের শিকল ভাঙার মধ্য দিয়ে আমাদের শুধু নতুন করে জাগ্রত হলেই চলবে না, আর যেন কখনোই কেউ শিকল পরানোর সুযোগ না পায়, সেরকম একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আমরা তৈরি করতে চাই।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘শিকল ভাঙার জুলাই’ শীর্ষক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘বাংলাদেশ জন্মের ৫৫ বছর পেরিয়ে গেছে, অথচ শিকল ভাঙতে হচ্ছে এখনও। একটা স্বাধীন দেশ এবং তার মালিক জনগণ, তাদের কণ্ঠ, অধিকার ও সৃষ্টিশীল ক্ষমতাকে বারবার শিকলে বাঁধা হয়েছে। এই শিকলবদ্ধতার কারণেই দেশ ও জাতি তাদের কাঙ্ক্ষিত অর্জনে পৌঁছাতে পারেনি। তাই এবারের শিকল ভাঙার মধ্য দিয়ে আমাদের শুধু নতুন করে জাগ্রত হলেই চলবে না, আর যেন কখনোই কেউ শিকল পরানোর সুযোগ না পায়, সেরকম একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আমরা তৈরি করতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘বারবার শিকল ভাঙতে আমাদের রক্ত দিতে হয়েছে, প্রাণ দিতে হয়েছে, বিসর্জন দিতে হয়েছে। অথচ পৃথিবীর অনেক দেশ ধারাবাহিকভাবে তাদের সমৃদ্ধির পথ ধরে রাখতে পেরেছে বলেই বিশ্বশক্তিতে পরিণত হয়েছে। আমাদের দেশে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যায়নি।’
অতীতের আন্দোলনের সঙ্গে এবারের আন্দোলনের পার্থক্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আগের আন্দোলনগুলো ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ ও জনবিক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের পর আবারও পুরোনো ব্যবস্থা ফিরে এসেছে। এবার আমরা ফ্যাসিবাদ হটানোর পাশাপাশি দেশ গড়ার কথাও ভেবেছি। জনগণকে সেই পরিকল্পনা জানিয়েই আমরা এগিয়েছি।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অর্জিত প্রাণ ও রক্তের বিনিময়ে পাওয়া বিজয়কে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হলে পুরোনো ব্যবস্থা দিয়ে তা সম্ভব নয়। তাই একদিকে যেমন শিকল ভাঙার কথা বলেছি, অন্যদিকে রাষ্ট্র কাঠামো ও রাজনীতিকে মেরামতের কথাও বলেছি। আমাদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ৩১ দফা ও নির্বাচনি ইশতেহারের মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘অতীতে কখনোই আন্দোলন-সংগ্রামের আগে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল আন্দোলন-পরবর্তী লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারেনি। এমনকি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ও এমন লক্ষ্য নির্ধারিত ছিল না। এবারের শিকল ভাঙার আন্দোলনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, শিকল ভাঙার পর আমরা কী করব, তা আমাদের নেতা তারেক রহমান ৩১ দফার মাধ্যমে আগেই বলেছেন। আমরা সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি এই সংকলনের মোড়ক উন্মোচনের মাধ্যমে জাতিকে জানিয়ে রাখতে চাই, আমরা যেমন শিকল ভাঙতে পেরেছি, তেমনি শিকলমুক্ত গণতান্ত্রিক একটি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করাতেও আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’
অনুষ্ঠান শেষে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, আপনারা সবাই আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া দেখেছেন। তথ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন, সেটারই প্রতিধ্বনি করছি।’
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
২ ঘণ্টা আগে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের পাশে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ আন্দোলনে বহু মানুষ শহিদ হন, অসংখ্য ব্যক্তি আহত হন এবং অনেক পরিবার তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে গভীর অর্থনৈতিক ও মানসিক সংকটে পড়ে।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আহত ব্যক্তি ও শহিদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনের নেতৃত্বে দেশব্যাপী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেওয়া, তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মানবিক সহায়তা প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়।
এর অংশ হিসেবে প্রতিনিধি দল দেশের বিভিন্ন জেলায় গিয়ে আহত ব্যক্তি ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে তাদের বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতে চিকিৎসাসেবা, আর্থিক সহায়তা, শিক্ষা সহায়তা, জীবিকা পুনর্বাসন এবং ঘর নির্মাণসহ বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
এই প্রামাণ্যচিত্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জীবনসংগ্রাম, তাদের বেদনা, আশা এবং ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পের পাশাপাশি ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর মানবিক কার্যক্রমের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এটি শুধু সহায়তার গল্প নয়; বরং দায়বদ্ধতা, সহমর্মিতা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য মানবিক উদ্যোগের দলিল।
২ ঘণ্টা আগে
জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণে অষ্টাদশ সংশোধনী হবে ঐতিহাসিক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী হবে এ শতাব্দীর একটি ঐতিহাসিক সাংবিধানিক পরিবর্তন। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সে লক্ষ্যেই সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে চলছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে বিভাজনের রাজনীতি নয়, বরং জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “আমরা এই জুলাইকে নিয়ে রাজনীতি কেন করব?... একটা স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পরে আমরা যদি বলি, ‘জুলাই কার, জুলাই কার?’ তাহলে জুলাই আমাদের কারোরই থাকবে না। এই অবস্থা থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে।”
তিনি বলেন, পৃথিবীর অনেক জাতি শতবর্ষ সংগ্রাম করেও স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনি। কিন্তু বাংলাদেশ এমন একটি ঐতিহাসিক সময়ের মধ্য দিয়ে গেছে, যেখানে কয়েক সপ্তাহেই যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে।
ভ্লাদিমির লেনিনের একটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কোনো কোনো দশক আছে যেখানে কিছুই ঘটে না, আবার কোনো কোনো সপ্তাহ আছে যেখানে কয়েক দশকের ইতিহাস রচিত হয়। আমরা সেই ইতিহাসের সাক্ষী।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি হিসেবে দেখার বিরোধিতা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই আমাদের সবার। বাংলাদেশের ১৮ কোটি, ২০ কোটি মানুষের সবার। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা কেউ কেউ হয়তো নেতৃত্ব দিয়েছি, কিন্তু সামনের সারিতে যারা শহিদ হয়েছেন, তারাই আসল জুলাই যোদ্ধা, আসল নেতা। তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করাই হবে আমাদের জন্য ফরজ।’
তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম বৈঠক ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সব রাজনৈতিক পক্ষকে এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তার ভাষায়, ‘জুলাই জাতীয় সনদের প্রত্যেকটা অক্ষর বাস্তবায়ন করা হবে, আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।’
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই হচ্ছে অ্যামেন্ডমেন্ট। প্রত্যেকটা অ্যামেন্ডমেন্ট হচ্ছে এক একটি সংস্কার।... সেটা গ্রহণ করতে হবে পার্লামেন্টে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংস্কার কমিশন বা রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি বাস্তব পরিবর্তনের জন্য সংসদে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী গ্রহণ করা প্রয়োজন। এটি হবে শতাব্দীর সবচেয়ে ঐতিহাসিক সংশোধনী। যেটার প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের শহিদরা শহিদ হয়েছেন, যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, যার জন্য আমরা সংগ্রাম করেছি... তাকে আমি বৃথা যেতে দেব না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন আগামী সংসদে উত্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, ‘গুম কমিশন আমরা অধ্যাদেশ পাস করি নাই, কিন্তু গুমের ওপর প্রতিকার এবং গুম প্রতিরোধ আইন নিয়ে এসেছি। আগামী পার্লামেন্টে আসবে ইনশাআল্লাহ।... সিস্টেমেটিক এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সের জন্য মৃত্যুদণ্ডসহ কড়া শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।’
জুলাই আন্দোলনের পটভূমি তুলে ধরে তিনি বলেন, এই গণঅভ্যুত্থান ৩৬ দিনের কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ফল।
তিনি বলেন, ‘এই মুক্তির মন্দিরের সোপান একদিনে নির্মিত হয়নি। এই সোপান নির্মিত হয়েছে ২০০৯ থেকে শুরু করে ২০২৪ পর্যন্ত।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও গণতন্ত্রকামী মানুষ গুম, খুন, নির্যাতন এবং মামলার শিকার হয়েছেন। সেই ইতিহাস বাদ দিয়ে জুলাইকে ব্যাখ্যা করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো আন্দোলন রক্তাক্ত হবে কি হবে না, সেটা সাধারণ মানুষ নির্ধারণ করে না। সেটা নির্ধারণ করে দিয়েছে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা। আমাদের ছেলেরা-মেয়েরা শূন্য হাতে প্রতিবাদ করেছে, শহিদ হয়েছে, তারপর গণঅভ্যুত্থান হয়েছে।’
জুলাইয়ের চেতনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘৭১-এর চেতনাকে বিক্রি করতে করতে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা দিল্লিতে গিয়ে বসে আছে। ... আমরা যেন জুলাইয়ের এই চেতনাকে কোনোদিন অসম্মান না করতে হয়, সেই রকম রাজনীতি করি।’
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক বন্ধুদের প্রত্যাশা কী, আইনজীবীদের প্রত্যাশা কী, বিশেষজ্ঞদের মতামত কী—সবাইকে নিয়ে আমরা এমন একটি সংবিধান সংশোধনী আনতে চাই, যেটা নিয়ে আমরা অনেক বছর চলতে পারব। কারণ বারবার জুলাই আসে না, বারবার ’৭১ আসে না, বারবার বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান হবে না।’
জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের পুনর্বাসনের বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আহতদের ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী পৃথক শ্রেণিবিন্যাস করে সহায়তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যারা এখনও তালিকাভুক্ত হতে পারেননি, তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে বিচার সুগম করার জন্য কনস্টিটিউশন আর্টিকেল ৪৭-এর অনুসরণে আমরা আইন সংশোধন করেছি। ... ব্যক্তির মতো সংগঠনেরও বিচার করা যায়। আদালত নির্ধারণ করবে আওয়ামী লীগের পরিণতি কী হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এক্সিকিউটিভ অর্ডারে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই। কিন্তু বিচারিক প্রক্রিয়ায় অবশ্যই আদালত নির্ধারণ করবে আওয়ামী লীগের কী হবে। ... ইনশাআল্লাহ, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে এবং তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ গণহত্যাকারী কোনো মাফিয়া শক্তিকে এই দেশে রাজনীতি করার জন্য আর অনুমতি দেবে না।’
শেষে তিনি বলেন, ‘আমরা পরস্পর তর্ক করব, বিতর্ক করব। জাতীয় সংসদে সরকারি দল-বিরোধী দল বাহাস করব। কিন্তু যখন আওয়ামী লীগের প্রশ্ন আসবে, তখন সমগ্র জাতি এক থাকবে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি জীবন্ত সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। ‘কোনো সরকার যাতে ফ্যাসিবাদী আচরণ না করে, সেই জন্য জুলাই জাদুঘর রেখে এসেছি। ওখানে গিয়ে সবাই শিক্ষা নিয়ে আসবে। সেটাকে আমরা জীবন্ত জাদুঘর হিসেবে রেখে দেব।’
১ দিন আগে
জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার এক বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য চিফ প্রসিকিউটরের
জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট সব মামলার তদন্ত ও বিচার আগামী এক বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। একই সঙ্গে গুম ও কথিত ক্রসফায়ারের ঘটনাগুলোর তদন্তও চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত বছরের আগস্ট থেকে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে দুটি ট্রাইব্যুনাল বিচারকাজ পরিচালনা করছে। তদন্ত সংস্থায় ২৩ জন এবং প্রসিকিউশন টিমে ২০ জন কর্মকর্তা কাজ করছেন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধের মামলায় তদন্ত ও বিচার দুই প্রক্রিয়াই সময়সাপেক্ষ। এখন পর্যন্ত ছয়টি মামলার রায় হয়েছে। প্রতিটি মামলার বিচার শুরুর আগে দীর্ঘ সময় তদন্ত হয়েছে। সাক্ষ্য গ্রহণ, যুক্তিতর্কসহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে রায় দেওয়া হয়েছে।
তার ভাষায়, দেড় বছরের মধ্যে ছয়টি মামলার বিচার শেষ করা আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্ভব হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, চলতি মাসেই আরও তিনটি মামলার রায় হতে পারে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মামলায় যুক্তিতর্ক চলছে। মাহবুবুল আলম হানিফের মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। এছাড়া যাত্রাবাড়ীতে তাইম ভূঁইয়া হত্যা মামলার যুক্তিতর্কও শিগগির শুরু হবে। আরও কয়েকটি মামলা বিচারিক প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে যাতে অন্তত জুলাইয়ের সমস্ত বিচার আমরা শেষ করতে পারি, সেই বিষয়ে আমরা একটা কমিটমেন্ট (প্রতিশ্রুতি) নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনের মামলাগুলো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেলেও গুম ও কথিত ক্রসফায়ারের ঘটনাগুলোর তদন্তও সমানভাবে এগিয়ে চলছে। কক্সবাজারের কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা এবং শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ১২টি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হচ্ছে।
ছয়টি মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের অধিকাংশই পলাতক। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার বা আত্মসমর্পণের আগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব নয়। তবে যেসব মামলায় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও অর্থদণ্ডের আদেশ রয়েছে, সেগুলো কার্যকর করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে অর্থ দেওয়ার নজির না থাকায় বিষয়টি নিয়ে আইনি দিকগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তদন্তে ‘পিক অ্যান্ড চুজ’ বা বাছাই করে আসামি করার অভিযোগ নাকচ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কাজ করেন। প্রসিকিউশন তদন্তে হস্তক্ষেপ করে না। কোনো তদন্ত নিয়ে গ্রহণযোগ্য অভিযোগ এলে তা পর্যালোচনা করা হয়। প্রয়োজন হলে তদন্ত প্রতিবেদন ফেরত পাঠানো বা নতুন করে অভিযোগ গঠনও করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামির আপিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনে ‘অটোমেটিক আপিল’ বলে কিছু নেই। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির আপিল ‘অ্যাজ অব রাইট’ হলেও পলাতক অবস্থায় সেই সুবিধা কার্যকর হয় না।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়া প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে এতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের সঙ্গে বড় ধরনের কোনো সাংঘর্ষিক বিষয় দেখা যাচ্ছে না। পরিকল্পিত ও ব্যাপক আকারে সংঘটিত গুম মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে বিচারযোগ্য হবে, আর বিচ্ছিন্ন গুমের ঘটনা নতুন আইনের আওতায় ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিচার হবে।
তিনি আরও জানান, একই ধরনের ঘটনার পৃথক তদন্তের পরিবর্তে একাধিক ঘটনাকে একত্র করে তদন্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে তদন্ত ও বিচার—উভয় প্রক্রিয়াই আরও কার্যকর ও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
২ দিন আগে
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে ডিএমপির নিরাপত্তা জোরদার
আগামীকাল ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দিবসটিকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের নাশকতা, অপ্রীতিকর ঘটনা বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা মোকাবেলায় এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাজধানীজুড়ে পিকেট ও চেকপোস্ট ডিউটি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিশেষ করে মহানগরের সকল প্রবেশপথে তল্লাশি কার্যক্রম ও চেকপোস্ট পরিচালনা জোরদার থাকবে। পাশাপাশি ডিবি ও সিটিটিসি সাদা পোশাকে সকল গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যুতে অপারেশনাল কাজে মোতায়েন থাকবে। যেসব স্থানে সাধারণ মানুষের সমাগম বেশি হবে, সেখানে সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং ডগ-স্কোয়াড ইউনিটের মাধ্যমে বিশেষ সুইপিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এছাড়া, সকল অনুষ্ঠানস্থল এবং জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ এলাকাকে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত করে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের নজরদারিতে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে সাদা পোশাকে সিটিএসবি ও আইএডির গোয়েন্দা কার্যক্রম পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে। যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে পর্যাপ্ত সংখ্যক কুইক রেসপন্স টিম।
নিয়মিত মোতায়েনের পাশাপাশি ডিএমপির অতিরিক্ত ফোর্সসহ র্যাব ও সিআইডি যৌথভাবে মহানগরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাঠে সক্রিয় থাকবে। সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য সকল উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ সরাসরি মাঠে উপস্থিত থেকে ডিউটি তদারকি করবেন।
২ দিন আগে
১৭ বছর ধরে জুলাই অভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি করেছে বিএনপি: পানিসম্পদমন্ত্রী
পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে আজকের বিরোধী দল কোথায় ছিল, গত ১৭ বছর কোথায় ছিল—এসব তো প্রশ্নের বিষয়। আমরা তো জোট করেছি, যুগপৎ আন্দোলন করেছি। আজকে ৫ আগস্টের পর তারা বলে যে, বিরোধী দল নাকি একাই আন্দোলন করেছে!
তিনি বলেন, এ কথা তো অনস্বীকার্য যে একটা অভ্যুত্থানের ভিত্তি লাগে। সেই ভিত্তি ছিল বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘ন্যায়ভিত্তিক বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে বিভাজন নয় ঐক্য’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে ‘আমরা বাংলাদেশি’ নামের একটি সংগঠন।
সংগঠনটির সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে ও নির্বাহী সদস্য তমিজ উদ্দিন টিটুর পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন পারভেজ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দি ইকরাম, বিএনপি নেতা মোমিনুল আমিন, ইউনাইটেড লেবার পার্টির আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, সব আওয়ামী লীগ তো পালিয়ে যায়নি। সবার মামলা তো একরকম নয়। বিরোধী দল সংসদে বলছে, তারা নাকি ভালো আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নেবে। এটা নিয়ে তো বিভেদের শুরু। নির্বাচনের আগে আমরা শুনেছি যে তাদের অনেকে বহু টাকার মালিক হয়েছেন। কারও পিএস বা সহকারীর কাছ থেকে টাকা উদ্ধার হয়েছে। যারা বিগত দিনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলেছি।
বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আজকে ৭১ সালের কথা বাদই দিলাম, কিন্তু ৮৬ সালে স্বৈরাচার এরশাদ থেকে শুরু করে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কোন আন্দোলনে তারা ছিল। তারা ভেবেছিল যে এবার ক্ষমতায় আসবে, কিন্তু বাস্তবে দিল্লি বহুদূর।
জাতীয় সংসদে বিরোধী দল কিছু আসন পেয়েছে উল্লেখ করে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, এক্ষেত্রে কিছু কিছু নির্বাচনি এলাকায় বিএনপির সমস্যা ছিল; একাধিক প্রার্থী ছিল। সেজন্যই তারা ভালো করেছে। অনেকগুলো আসনে প্রবাসী ভোটেও আমাদের দুর্বলতা ছিল। প্রবাসী ভোটকে প্রভাবিত করা হয়েছে। এসব আসনে যাতে ফ্রেশ ইলেকশন (সুষ্ঠু নির্বাচন) হয়, এখন থেকেই তার খবর রাখতে হবে।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, আমরা ১৭ বছর লড়াই-সংগ্রাম করেছি। মানুষের চাহিদা ও প্রত্যাশা আছে। তারা চায় স্বাভাবিক জীবন। সরকারের মাত্র পাঁচ মাস হলো। এখনও খুব বেশি সমাধান করতে পেরেছি, সেটা বলা যাবে না। তবে প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করছেন। তিনি কিছু কর্মসূচি নিয়েছেন। আশা করি, আমরা সবাই তাকে সহযোগিতা করলে দেশে কোনো অভাব থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরে চুরি ও লুটপাটের কারণে আমাদের নানামুখী সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়। জমি কমছে, মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ছোট্ট একটি দেশে ২০ কোটির ওপর মানুষ। তবে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে অসংখ্য প্রকল্প নিয়েছিলেন। আমরাও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনেকগুলো প্রকল্প নিয়েছি। এগুলোর জাগরণ তৈরি করতে চাই।
অনুষ্ঠানে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, আমরা বিভেদ নয় ঐক্য চাই।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি, তারা আজকে সংসদে বিরোধী দল হয়েছে। এটা দেশের জন্য লজ্জার। আজকে তাদের ১১ দলীয় জোটে ভাঙন শুরু হয়েছে। আদতে এটি এখন ৯ দলে পরিণত হয়েছে। তারা নাকি আবার বিএনপি সরকারের পতন ঘটাবে। আমি বলবো—নিজেদের পতন আগে ঠেকান। জনগণ আপনাদের প্রচারণা বুঝে গেছে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কী করবে, তা তাদের এমপিদের কর্মকাণ্ডে ফুটে উঠেছে।
রাশেদ খান বলেন, আজকে বাংলাদেশের মানুষ তারেক রহমানের জাদুতে মুগ্ধ। তিনি যেভাবে চলাফেরা করছেন, ব্যয় সংকোচন করছেন, তা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। বিএনপি ঐক্যে বিশ্বাস করে, কিন্তু জামায়াত সেটি করে না।
তিনি বলেন, ড. ইউনূসের প্রতি শ্রদ্ধা আছে, তবে তার তো মাইনাস ফর্মুলা ছিল। তিনি বিএনপিকে মাইনাস করতে চেয়েছিলেন। জামায়াত এনসিপিকে ক্ষমতায় বসানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। সেজন্য তারা ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন চায়নি। নির্বাচন আদায় করে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আজকে বিরোধী দল অভ্যুত্থানের হুমকি দেয়। এটা কী কখনও সম্ভব? গণঅভ্যুত্থানের নায়ক যে নাহিদ জামায়াতের সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়েছিল, সে-ই আজকে জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্ব মেনে নিয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, আমরা সবার আগে বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্লোগান ধারণ করে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই। সেই লক্ষ্যেই আমরা বাংলাদেশি সংগঠনের সূচনা।
৮ দিন আগে
সাভারবাসীর জন্য বিভীষিকাময় দিন আজ
আজ ২১ জুলাই। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে এই দিনটি ছিল সাভারবাসীর জন্য এক বিভীষিকাময় দিন। সেদিন কারফিউ অমান্য করে বিপুল সংখ্যক ছাত্র-জনতা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বিক্ষোভ ও সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচিতে (কম্পিপ্লিট শাটডাউন) অংশগ্রহণ করে। দিনভর সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ, প্রাণহানি, গ্রেপ্তার এবং রাতে বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
চব্বিশের ২১ জুলাই সকাল থেকেই ঢাকা জেলার তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) (বর্তমানে কারাবন্দি) আবদুল্লাহিল কাফির নেতৃত্বে মহাসড়ক থেকে ছাত্র-জনতার ওপর দফায় দফায় গুলি চালানো হয়। সড়ক-মহাসড়ক থেকে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা মারমুখী ভঙ্গিতে যৌথভাবে শক্তি প্রদর্শন এবং সশস্ত্র মোটরসাইকেল শোডাউন করেন।
সেদিন সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এপিসি, জলকামানসহ ৩০ থেকে ৩৫টি যানবাহনের বহর নিয়ে মহাসড়কজুড়ে টহল দেওয়া হয়। পুলিশের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মোটরসাইকেল মহড়াও চলতে দেখা যায়।
বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সাভার থানা বাসস্ট্যান্ড ও পাকিজা মোড়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশ ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের গুলিতে এদিন ছয়জন নিহত হন। দুপুরের পর থেকে রাতভর সাভার পৌর এলাকায় প্রায় অর্ধশত বিএনপি নেতা ও সাংবাদিকদের বাড়িঘরে লুটপাট চালানো হয়। আন্দোলনকারী ও নিরীহ পথচারীসহ শতাধিক ব্যক্তিকে সেদিন আটক করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনী।
তার আগের দিন ২০ জুলাই পুলিশের গুলিতে সাভার বাসস্ট্যান্ডের কাঁচাবাজার এলাকায় পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। গুলিতে মুরগি ব্যবসায়ী কুরবান শেখ ও ফারুক হোসেন নিহত হন, আহত হন প্রায় অর্ধশত মানুষ। এছাড়া বাসস্ট্যান্ড ও পাকিজা মোড়ে আরও তিন ব্যক্তি পুলিশ ও আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের গুলিতে নিহত হন।
২১ জুলাই সকাল থেকে বিক্ষোভ দমাতে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে ছাত্র-জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। তবে শত শত ছাত্র-জনতা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। থানা বাসস্ট্যান্ড, পাকিজা মোড়, সাভার বাসস্ট্যান্ড, শিমুলতলা, রেডিও কলোনি, বিশমাইল, পল্লী বিদ্যুৎ, পলাশবাড়ী, বাইপাইল ও জামগড়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দিনভর সংঘর্ষ চলে। বিভিন্ন স্থানে পুলিশ শটগান ও ছররা গুলি ছোড়ে।
সংঘর্ষের পর দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত সাভার পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতাকর্মী, ভিন্নমতের ব্যক্তিদের বাড়ি এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে।
১৬ দিন আগে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ঢাবি শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফ
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে আহত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফ করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার (২০ জুলাই) এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স কমিটির সুপারিশ অনুসারে গত ২২ জুন অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় আহত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
এদিকে, ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মাসব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, অনুষদ, বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে পৃথক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে উপজীব্য করে সংকলন প্রকাশ, সেমিনার, স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা, প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা।
এ উপলক্ষে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ‘জুলাই স্মৃতিকথন’ শীর্ষক বিশেষ সংকলন প্রকাশ করবে।
এছাড়া বিভিন্ন আবাসিক হল জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করবে। এর মধ্যে শামসুন নাহার হল ২৬ জুলাই, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল ও ফজলুল হক মুসলিম হল ২৪ ও ২৫ জুলাই, রোকেয়া হল ৩০ জুলাই, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ২৫ জুলাই, শেখ মুজিবুর রহমান হল ১ থেকে ৪ আগস্ট, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল ২৪ জুলাই, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ২৫ জুলাই, অমর একুশে হল ২৩ থেকে ২৫ জুলাই, বিজয় একাত্তর হল ২৩ জুলাই, নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী ছাত্রী নিবাস ২২ জুলাই এবং ড. কুদরাত-ই-খুদা হোস্টেল ৫ আগস্ট জুলাই অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
১৭ দিন আগে
জুলাই শহিদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অমর চেতনা শুধু ইতিহাসের গৌরব নয়, এটি ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা। তিনি বলেন, শহিদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বুধবার (১৫ জুলাই) ঐতিহাসিক জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘১৬ জুলাই। ঐতিহাসিক জুলাই শহিদ দিবস। শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, শোক আর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং দেশে সর্বক্ষেত্রে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সারাদেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে।’
২০২৪ সালের এই দিনে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রংপুরে পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ, চট্টগ্রামে কলেজশিক্ষার্থী মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ কমপক্ষে ছয়জন শহিদ হন বলে বাণীতে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, রংপুরে দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে দিয়েছিলেন শহিদ আবু সাঈদ। আবু সাঈদের বুকে পুলিশের গুলি করার দৃশ্য গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করে। কোটা সংস্কারের দাবি ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আন্দোলনে মোড় নেয়। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বীর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মহান আল্লাহর দরবারে শহিদ আবু সাঈদ, শহিদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ ১৬ জুলাইয়ের সকল শহীদের মাগফিরাত কামনা করছি।’
তিনি বলেন, ১৬ জুলাই বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় সন্ধিক্ষণ। এদিন রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, প্রাণঘাতী শক্তির নির্মম প্রয়োগ এবং ভয়ভীতির রাজনীতির বিরুদ্ধে নিরস্ত্র অথচ অদম্য সাহসী বীর ছাত্র-জনতা যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তা জাতির বিবেককে জাগ্রত করেছিল।
সরকারপ্রধান বলেন, ‘বিশেষ করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে দুই হাত প্রসারিত করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা শহিদ আবু সাঈদের সেই অমলিন দৃশ্য কেবল একটি মুহূর্ত ছিল না; সেটি ছিল গণতান্ত্রিক অধিকারবঞ্চিত একটি জাতির ভয় জয়ের প্রতীক।’
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি আন্দোলন ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি ছিল দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ফ্যাসিবাদ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, লুণ্ঠন, গুম, খুন, দমন-পীড়ন এবং ভোটাধিকার রণের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতির ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ।
তারেক রহমান বলেন, সেই আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের শক্তিতেই বাংলাদেশের মানুষ তাদের মর্যাদা, অধিকার এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে নতুন করে প্রতিষ্ঠার সুযোগ লাভ করেছে। ঐতিহাসিক সেই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পর আজ সরকার শহিদদের পবিত্র আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শহিদদের রক্ত কখনো বৃথা যেতে পারে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অমর চেতনা আমাদের জন্য কেবল ইতিহাসের গৌরব নয়, এটি ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা।
রাষ্ট্র ও সমাজে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যারা শহিদ হয়েছেন, সেই অকুতোভয় শহিদদের গৌরবময় আত্মত্যাগের পথ ধরে বর্তমানে দেশ গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে বলে বাণীতে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সকল নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ, মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শহিদদের রক্তের ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করা যেতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী আবারও আল্লাহর দরবারে সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
২১ দিন আগে
জুলাই শহিদদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
জুলাই শহিদদের আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠে দল-মত-পথ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, সাহস ও আত্মত্যাগের ফসল এবং শহিদদের আত্মদান রাষ্ট্রের শক্তির প্রকৃত উৎস হিসেবে জনগণের মর্যাদাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আজ ১৬ জুলাই, জুলাই শহিদ দিবস। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এই বেদনাবিধুর দিনে আমি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী সকল বীর শহিদদের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করি। তাদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।
তিনি বলেন, আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি আন্দোলনে আহত সেই সব সাহসী তরুণ-তরুণী, যুবপ্রজন্মকে যাদের অনেকে পঙ্গুত্ববরণ করে আজও যন্ত্রণাময় জীবনযাপন করছেন। একই সঙ্গে গভীর সমবেদনা জানাই শহিদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি, যারা আপনজন হারানোর গভীর শোক বুকে ধারণ করেও অসীম ধৈর্য ও সাহসের পরিচয় দিয়ে চলেছেন। আমি জুলাই যোদ্ধা ও গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সকল দেশপ্রেমিক নাগরিকের ত্যাগ ও অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের বৈষম্য, দুর্নীতি, গুম-খুন, ভোটাধিকার হরণ এবং নিপীড়ন ও ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আপামর জনগণের ক্ষোভের বিস্ফোরণ।
তিনি বলেন, ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের প্রসারিত হাত ও গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদাতবরণ; একই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকজন তরুণের আত্মাহুতি আন্দোলনকে দেয় এক নতুন মোড়, দেয় তীব্র মাত্রা। এরপর আন্দোলনরত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আটক, জেল-জুলুম এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও আপামর জনতার রাজপথে নেমে সক্রিয় ও সুতীব্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সূচিত হয় গণঅভ্যুত্থান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, এই গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক আন্দোলন ও অর্জন নয়; এটি ছিল গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, সাহস ও আত্মত্যাগের ফসল। জুলাই শহিদদের আত্মদান আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—রাষ্ট্রের শক্তির উৎস ও সর্বময় ক্ষমতার মালিক জনগণ। জনগণের মৌলিক অধিকার, স্বার্থ, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব। জুলাই-এর চেতনা আমাদের একটি মানবিক, স্বৈরাচারমুক্ত, সমতাভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের প্রেরণা জোগায়।
রাষ্ট্রপতি বলেন, শহিদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান-স্বীকৃতি, তাদের পরিবারের কল্যাণ, আহতদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্যে সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। এ কাজে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও মানবিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।
তিনি বলেন, আসুন, শহিদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ—একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ইনসাফভিত্তিক সৌহার্দ্যপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনে দল-মত-পথ নির্বিশেষে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি।
রাষ্ট্রপতি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মদানকারী সকল শহিদের আত্মার মাগফেরাত ও শাশ্বত শান্তি কামনা করেছেন। জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করেছেন তিনি।
২১ দিন আগে