জুলাই গণঅভ্যুত্থান
জুলাই শহিদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অমর চেতনা শুধু ইতিহাসের গৌরব নয়, এটি ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা। তিনি বলেন, শহিদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বুধবার (১৫ জুলাই) ঐতিহাসিক জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘১৬ জুলাই। ঐতিহাসিক জুলাই শহিদ দিবস। শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, শোক আর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং দেশে সর্বক্ষেত্রে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সারাদেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে।’
২০২৪ সালের এই দিনে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রংপুরে পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ, চট্টগ্রামে কলেজশিক্ষার্থী মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ কমপক্ষে ছয়জন শহিদ হন বলে বাণীতে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, রংপুরে দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে দিয়েছিলেন শহিদ আবু সাঈদ। আবু সাঈদের বুকে পুলিশের গুলি করার দৃশ্য গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করে। কোটা সংস্কারের দাবি ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আন্দোলনে মোড় নেয়। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বীর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মহান আল্লাহর দরবারে শহিদ আবু সাঈদ, শহিদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ ১৬ জুলাইয়ের সকল শহীদের মাগফিরাত কামনা করছি।’
তিনি বলেন, ১৬ জুলাই বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় সন্ধিক্ষণ। এদিন রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, প্রাণঘাতী শক্তির নির্মম প্রয়োগ এবং ভয়ভীতির রাজনীতির বিরুদ্ধে নিরস্ত্র অথচ অদম্য সাহসী বীর ছাত্র-জনতা যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তা জাতির বিবেককে জাগ্রত করেছিল।
সরকারপ্রধান বলেন, ‘বিশেষ করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে দুই হাত প্রসারিত করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা শহিদ আবু সাঈদের সেই অমলিন দৃশ্য কেবল একটি মুহূর্ত ছিল না; সেটি ছিল গণতান্ত্রিক অধিকারবঞ্চিত একটি জাতির ভয় জয়ের প্রতীক।’
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি আন্দোলন ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি ছিল দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ফ্যাসিবাদ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, লুণ্ঠন, গুম, খুন, দমন-পীড়ন এবং ভোটাধিকার রণের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতির ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ।
তারেক রহমান বলেন, সেই আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের শক্তিতেই বাংলাদেশের মানুষ তাদের মর্যাদা, অধিকার এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে নতুন করে প্রতিষ্ঠার সুযোগ লাভ করেছে। ঐতিহাসিক সেই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পর আজ সরকার শহিদদের পবিত্র আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শহিদদের রক্ত কখনো বৃথা যেতে পারে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অমর চেতনা আমাদের জন্য কেবল ইতিহাসের গৌরব নয়, এটি ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা।
রাষ্ট্র ও সমাজে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যারা শহিদ হয়েছেন, সেই অকুতোভয় শহিদদের গৌরবময় আত্মত্যাগের পথ ধরে বর্তমানে দেশ গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে বলে বাণীতে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সকল নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ, মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শহিদদের রক্তের ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করা যেতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী আবারও আল্লাহর দরবারে সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
২২ ঘণ্টা আগে
জুলাই শহিদদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
জুলাই শহিদদের আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠে দল-মত-পথ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, সাহস ও আত্মত্যাগের ফসল এবং শহিদদের আত্মদান রাষ্ট্রের শক্তির প্রকৃত উৎস হিসেবে জনগণের মর্যাদাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আজ ১৬ জুলাই, জুলাই শহিদ দিবস। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এই বেদনাবিধুর দিনে আমি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী সকল বীর শহিদদের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করি। তাদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।
তিনি বলেন, আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি আন্দোলনে আহত সেই সব সাহসী তরুণ-তরুণী, যুবপ্রজন্মকে যাদের অনেকে পঙ্গুত্ববরণ করে আজও যন্ত্রণাময় জীবনযাপন করছেন। একই সঙ্গে গভীর সমবেদনা জানাই শহিদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি, যারা আপনজন হারানোর গভীর শোক বুকে ধারণ করেও অসীম ধৈর্য ও সাহসের পরিচয় দিয়ে চলেছেন। আমি জুলাই যোদ্ধা ও গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সকল দেশপ্রেমিক নাগরিকের ত্যাগ ও অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের বৈষম্য, দুর্নীতি, গুম-খুন, ভোটাধিকার হরণ এবং নিপীড়ন ও ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আপামর জনগণের ক্ষোভের বিস্ফোরণ।
তিনি বলেন, ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের প্রসারিত হাত ও গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদাতবরণ; একই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকজন তরুণের আত্মাহুতি আন্দোলনকে দেয় এক নতুন মোড়, দেয় তীব্র মাত্রা। এরপর আন্দোলনরত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আটক, জেল-জুলুম এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও আপামর জনতার রাজপথে নেমে সক্রিয় ও সুতীব্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সূচিত হয় গণঅভ্যুত্থান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, এই গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক আন্দোলন ও অর্জন নয়; এটি ছিল গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, সাহস ও আত্মত্যাগের ফসল। জুলাই শহিদদের আত্মদান আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—রাষ্ট্রের শক্তির উৎস ও সর্বময় ক্ষমতার মালিক জনগণ। জনগণের মৌলিক অধিকার, স্বার্থ, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব। জুলাই-এর চেতনা আমাদের একটি মানবিক, স্বৈরাচারমুক্ত, সমতাভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের প্রেরণা জোগায়।
রাষ্ট্রপতি বলেন, শহিদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান-স্বীকৃতি, তাদের পরিবারের কল্যাণ, আহতদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্যে সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। এ কাজে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও মানবিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।
তিনি বলেন, আসুন, শহিদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ—একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ইনসাফভিত্তিক সৌহার্দ্যপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনে দল-মত-পথ নির্বিশেষে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি।
রাষ্ট্রপতি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মদানকারী সকল শহিদের আত্মার মাগফেরাত ও শাশ্বত শান্তি কামনা করেছেন। জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করেছেন তিনি।
১ দিন আগে
এমপি মনির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান ছাত্রদল সভাপতির
জুলাই আন্দোলন নিয়ে বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সহ-সম্পাদক নিলোফার চৌধুরী মনির বক্তব্যকে ‘অযাচিত’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে রাকিব লেখেন, ‘প্রিয় নিলোফার চৌধুরী মনি আপা, এমপি, আপনি দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামের সারথি ছিলেন। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে আপনার অনবদ্য ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি টেলিভিশন টকশোতে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আপনার অযাচিত বক্তব্যে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত এবং ক্ষুব্ধ। আপনার বক্তব্য আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করলাম।’
নিলোফার চৌধুরী মনিকে উদ্দেশ করে রাকিব আরও লেখেন, ‘আমরা অবগত রয়েছি, আপনি জুলাইয়ের চেতনা ধারণকারী একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ। তাই জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বক্তব্যে আপনি আরও বেশি সংযত ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন সেটাই প্রত্যাশা করি।’
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি এক টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি প্রশ্ন তোলেন, জুলাই আন্দোলনে স্নাইপার চালিয়েছিলেন কারা।
তিনি বলেন, ‘অনেক কিছুই আমি বলতে চেয়েও বলতে পারি না। কারণ অনেক কিছু বললে অনেকের কাপড়-চোপড় ঠিক থাকবে না। যারা আজ কথা বলে, তারা কখন কোথায় কীভাবে সেনাবাহিনীর সঙ্গে দেখা করে এই কাজগুলো করেছিল? তাদের কতটা ভূমিকা ছিল? যাদের বলা হয় যে তারাই (আন্দোলনের) মেইন; এই আন্দোলনে কারা মেইন ছিল, কেউ জানে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আন্দোলনে অংশ নেওয়াদের একজন আরেকজনকে চেনে নাই। পাশে হাঁটতে গেছে, আন্দোলন করতে গেছে; পাশের একজন পড়ে গেছে। মনে করছে যে নরমাল পড়েছে। আসলে সে মারা গিয়েছে। গুলিটা সামনে থেকে আসছে না পিছন থেকে আসছে, সেটাও জানে না। গুলির কোনো শব্দ হয় নাই, এটা স্নাইপারের গুলি ছিল। অনেকেই যারা পড়ে গেছে।’
তখন সঞ্চালক প্রশ্ন করেন, ‘তার মানে এটা কি কোনো ডিজাইন ছিল বা ষড়যন্ত্র?’ জবাবে নিলোফার চৌধুরী বলেন, ‘ডিজাইন তো অবশ্যই ছিল, ষড়যন্ত্র কিনা আমি বলতে পারবো না।’
জুলাই আন্দোলনে এমন নিঃশব্দে হত্যাযজ্ঞ কারা চালিয়েছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘কারা মারল, কেউ জানে না। সামনে কোনো পুলিশও ছিল না। পুলিশের গুলি হলে তো সামনেই হতো। হতে পারে কোনো বাসা থেকে টার্গেট করে, ওপরতলা থেকে টার্গেট করে হয়তো গুলি করা হয়েছে। আমার নিজের কাছে অনেক প্রশ্নের উত্তর নাই।’
১৪ দিন আগে
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে রায় আজ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আট অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আজ রায় ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করবেন।
আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে রায় ঘোষণার কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করবে।
এর আগে, গত ১৪ মে এ মামলায় উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি যেকোনো দিন রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। সেদিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম, আবদুস সোবহান তরফদারসহ অন্যরা।
অন্যদিকে, ইনুর পক্ষে যুক্তিতর্ক শেষ করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। মোট ৯ দিন নিজেদের যুক্তি উপস্থাপন করে আসামিপক্ষ। শুনানিতে আসামির পক্ষে বিভিন্ন আইনি দিক তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইনু সংসদ সদস্য ছিলেন না বলেও দাবি করা হয়।
আইনজীবী মুনসুরুল হক বলেন, কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় ইনুর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। মামলার সাক্ষীরাও স্বীকার করেছেন, হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুষ্টিয়ায় উপস্থিত ছিলেন না।
হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ৩০ নভেম্বর শুরু হয় সাক্ষ্য গ্রহণ। মোট ১০ জন সাক্ষী এই মামলায় সাক্ষ্য দেন। আসামির পক্ষে সাক্ষী দেন ২ জন।
জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। তাদের গুলিতে নিহত হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। আহত হন বহু নিরীহ মানুষ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। পরে তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ এনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন।
সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি গুরুতর অভিযোগ হলো:
১. ইনু তৎকালীন ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জাসদের প্রধান হিসেবে ঊর্ধ্বতন অবস্থানে থেকে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ‘মিরর নাউ’ নামে ভারতের মুম্বাইভিত্তিক একটি গণমাধ্যমে আন্দোলন দমনে এবং আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক ট্যাগ প্রদান করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের উসকানি প্রদান করেন।
২. এরপর ওই বছরের ১৯ জুলাই গণভবনে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ও হাসানুল হক ইনুর উপস্থিতিতে ১৪ দলীয় জোটের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় কোটা সংস্কার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে দেশব্যাপী সেনা মোতায়েন করে নিরীহ, নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং তা সরকার কার্যকর করে। এই নির্দেশ দেওয়ার সঙ্গে তৎকালীন ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোট সরকারের অংশীদার জাসদের সভাপতি হিসেবে ইনু তার ঊর্ধ্বতন অবস্থান থেকে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। সেইসঙ্গে তিনি প্ররোচনা দিয়েছেন, উসকানি দিয়েছেন ও সহায়তা করেছেন।
৩. হাসানুল হক ইনু ২০২৪ সালের ২০ জুলাই দুপুরে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে তার নিজ জেলা কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করেন। আন্দোলনকারীদের ছবি দেখে তালিকা প্রণয়ন ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
৪. সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে হাসানুল হক ইনু সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করতেন। আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র (লেথাল উইপন) ব্যবহার করে, ছত্রীসেনা নামানো, হেলিকপ্টার দিয়ে গুলি করে হত্যা, আটক ও নির্যাতনের ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা করেন এবং শেখ হাসিনাকে এমন নির্দেশনা দিতেন তিনি।
৫. ২৭ জুলাই হাসানুল হক ইনু নিউজ টোয়েন্টিফোর চ্যানেলে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী, জঙ্গি, সাম্প্রদায়িক ইত্যাদি ট্যাগ প্রদান করে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। সেইসঙ্গে কারফিউ জারি করে মারণাস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের হত্যাকাণ্ড সংঘটনসহ নির্যাতন-নিপীড়নকে কৌশলে সমর্থন করেন অভিযুক্ত এই আসামি।
৬. এরপর ২৯ জুলাই শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের সভায় হাসানুল হক ইনু উপস্থিত ছিলেন। আন্দোলনকে দমন ও ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক ট্যাগ প্রদান করেন তিনি। ইনু জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দেন এবং এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র ক্যাডারের হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনকে বৈধতা দেয়।
৭. ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট আন্দোলন দমনে কারফিউ জারি করে গুলিবর্ষণসহ শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপ অনুমোদন করেন হাসানুল হক ইনু। শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নে ষড়যন্ত্র, সহায়তায় সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। পাশাপাশি তিনি নিজ দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রদান করেন।
৮. ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা, হাসানুল হক ইনু ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা ও নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ, এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও পুলিশ নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে গুলি চালায়। এতে সেদিন আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী (বাবু), আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, বাবলু ফরাজী ও ইউসুফ শেখ নামের ছয়জন নিহত হন।
১৬ দিন আগে
রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলিসহ ২ জনকে হত্যা: সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি ও দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচ আসামির মধ্যে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পলাতক হাবিবুর রহমান ছাড়াও পুলিশের সাবেক এডিসি রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমানকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়াও পলাতক আসামি, পুলিশের সাবেক এসআই তরিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন ও একমাত্র গ্রেফতার আসামি সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের ২০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৮ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত ১৫ জুন উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
জুলাই আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় মানবতাবিরোধী মামলাগুলোর মধ্যে এটি তৃতীয়, যেটা রায় পর্যন্ত গড়ালো। সেই সঙ্গে পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এটি পঞ্চম রায়।
বরাবরের মতোই রায় ঘোষণার কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এছাড়া এ রায়ের মাধ্যমে পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হলো।
মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৩ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। গত ১৫ জুন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের দ্বিতীয় দফায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়। ওই দিন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন।
তিনি দাবি করেন, এ ঘটনার সঙ্গে তার মক্কেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে মামলার পাঁচ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। পরে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ২৮ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলায় চঞ্চল চন্দ্র সরকার ছাড়া অন্য চার আসামি পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন: ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।
চলতি বছরের ৪ মার্চ এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে নতুন করে ডিজিটাল এভিডেন্স (তথ্যপ্রমাণ) জমা দেওয়ার আবেদন করে প্রসিকিউশন। এরপর রায়টি পিছিয়ে যায়।
গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। একই বছরের ৭ আগস্ট ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে চালানো পুলিশের গুলি থেকে প্রাণ বাঁচাতে রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের পাশে থাকা একটি নির্মাণাধীন ভবনে ওঠেন আমির হোসেন। ওই সময় পুলিশও তার পিছু পিছু যায়। একপর্যায়ে ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকলেও তার ওপর ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন এক পুলিশ সদস্য। এতে জীবন বাঁচলেও গুরুতর আহত হন তিনি।
একই দিন বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হন মায়া ইসলামের ছয় বছর বয়সী নাতি বাসিত খান মুসাও। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরও এখনও কথা বলতে পারছে না শিশুটি।
১৮ দিন আগে
রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলির মামলার রায় ২৮ জুন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি করাসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের জন্য আগামী ২৮ জুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট আসামি পাঁচজন।
সোমবার (১৫ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন।
এদিন এ মামলায় দ্বিতীয় দফায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়। প্রথমেই আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন। এ ঘটনার সঙ্গে তার মক্কেলের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি। তবে প্রসিকিউশনের পক্ষে মামলার পাঁচ আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি চান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে, ১০ জুন পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকার। জবানবন্দিতে এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে অভিযোগও আনেন তিনি। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি প্রথম ধাপে সাক্ষ্য দেন এই আসামি।
মামলায় চঞ্চল ছাড়া অন্যরা পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন—ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।
গত ৪ মার্চ এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু নতুন করে ডিজিটাল এভিডেন্স জমা দেওয়ার আবেদন করে প্রসিকিউশন। এরপর প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া আমির হোসেনকে পুনরায় সাক্ষ্য দিতে হয়।
গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। ৭ আগস্ট ফর্মাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
৩১ দিন আগে
মেনন-কামরুলের বিচার শুরু, নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচারের প্রার্থনা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে রাজধানীর বাড্ডায় হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন— বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এ মামলায় আজ (বৃহস্পতিবার) মেনন ও কামরুলকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
এদিন শুরুতেই আসামিপক্ষের অব্যাহতি আবেদন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। পরে মামলায় আনা তিনটি অভিযোগ পড়েন বিচারক মোহিতুল হক। এরপর কাঠগড়ায় থাকা কামরুল ও মেননকে অভিযোগ স্বীকার করবেন কি না জিজ্ঞেস করা হয়।
এ সময় মেনন দাঁড়িয়ে ট্রাইব্যুনালকে বলেন, আমি নির্দোষ; ন্যায়বিচার চাই। অপরদিকে, এ অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট, অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন কামরুল। একইসঙ্গে তিনিও ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।
পরে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর এ মামলায় সূচনা বক্তব্যের জন্য আগামী ৯ জুন দিন ধার্য করা হয়।
প্রসিকিউশনের পক্ষে আজ উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, মঈনুল করিমসহ অন্যরা।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়, শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন উসকানি দিয়েছেন কামরুল ও মেনন। তারা আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ পদে থেকে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহার এবং কারফিউ জারির প্ররোচনা দেন। তাদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়। ফলে রাজধানীর বাড্ডাসহ আশপাশের এলাকায় ২৩ জন নিহত হন।
৭৭ দিন আগে
বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পাবেন জুলাইযোদ্ধা ও শহিদ পরিবার
জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবার এবং গুম হওয়া ব্যক্তি বা তার পরিবার বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা পাবেন।
এজন্য গত ২৩ এপ্রিল ‘আইনগত সহায়তা প্রধান নীতিমালা, ২০১৪’ সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইনগত সহায়তা প্রধান অধিদপ্তর।
নীতিমালা সংশোধন করে বিনামূল্যে সরকারের আইনগত সহায়তা পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকায় এদের যুক্ত করা হয়েছে।
২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন আন্দোলনে অংশ নিয়ে নিহত ব্যক্তিদের ‘জুলাই শহিদ’ এবং আহত ব্যক্তিদের ‘জুলাইযোদ্ধা’র মর্যাদা দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
জুলাইযোদ্ধা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ পরিবার এবং গুম হওয়া ব্যক্তি, তার পরিবার বা গুমের কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত কোনো ব্যক্তি আইনগত সহায়তা পাবেন বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
৮১ দিন আগে
রায়ে অসন্তোষ, সব আসামির ফাঁসি চান আবু সাঈদের বাবা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার বাবা মকবুল হোসেন। তিনি বলেছেন, আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় যারা নির্দেশ দিয়েছেন, সেই উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা বিচারের বাইরে থেকে গেছেন। এ সময় হত্যার সঙ্গে জড়িত সবার ফাঁসি দাবি করেন তিনি ।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।
মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলেকে হত্যার ঘটনাটি শুধু কনস্টেবলের ওপর দিয়ে গেল। যাদের আদেশে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে, তারা বেঁচে গেল। আমরা সব আসামির ফাঁসি চাই।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ সময় আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের (সাজার) রায় হয়েছে।’ তবে এই রায় কার্যকর করতে হবে দাবি করে তিনি বলেন, ‘রায় কার্যকর হলে আমার ছেলের আত্মা শান্তি পাবে।’
আবু সাঈদের বড় ভাই আবু রায়হান বলেন, ‘আমার ভাইকে হত্যার সঙ্গে যারা যারা জড়িত, সবার ফাঁসি কার্যকর চাই। তাহলেই ভাই হত্যার সঠিক বিচার হবে।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া রায়ে অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া রায়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশীদ, গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডলকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আরও কয়েকজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করন। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
গত ৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার জন্য ৯ এপ্রিল তারিখ নির্ধারণ করেছিল। গত বছরের ৩০ জুন আইসিটি সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশিদসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয়। আইসিটির তদন্ত সংস্থা একই বছরের ২৪ জুন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে ইংরেজি বিভাগের দ্বাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডটি আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে যা শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এর ফলশ্রুতিতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
৯৮ দিন আগে
জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়ে সংসদে বিল পাস
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকারীদের দায়মুক্তির বিধান রেখে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬’ বিল সংসদে পাস হয়েছে। এর ফলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতা আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা পাবেন।
বুধবার (৭ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের একাদশ দিনে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যদেশের এই বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এই আইন পাসের ফলে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল ধরনের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা এবং আইনি কার্যধারা স্থায়ীভাবে প্রত্যাহারের পথ প্রশস্ত হলো। পাস হওয়া বিলের বিধান অনুযায়ী, নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট সকল অভিযোগ অবিলম্বে বাতিল করা হবে।
শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে এই অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো মামলা দায়ের বা কোনো প্রকার আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে তা আইনত বাধা বা বারিত হিসেবে গণ্য হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজপথের বিপ্লবীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলো।
এ বিলে বলা হয়েছে ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি কার্যকর হয়েছে বলিয়া গণ্য হবে এবং ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে বলবৎ হয়েছে বলে গণ্য হবে।
বিলের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘গণঅভ্যুত্থানকারী’ অর্থ ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত অভ্যুত্থানের পক্ষে অংশগ্রহণকারী যেকোনো ব্যক্তি। আইনের বিশেষ তফসিলে ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধ’ বলতে ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে পরিচালিত সকল কার্যাবলিকে বোঝানো হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে ‘বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার’ হিসেবে চিহ্নিত করে তা এই সুরক্ষার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ থাকলে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করা যাবে এবং কমিশন ওই অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা নেবে।
সংসদে পাস হওয়া এই আইনের অন্যতম শক্তিশালী দিক হলো এর শ্রেষ্ঠত্ব বা ওভাররাইডিং ক্ষমতা। বিলে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমানে বলবৎ অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলিই প্রাধান্য পাবে। এর ফলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অতীতে দায়েরকৃত সকল দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা আইনি কার্যধারা নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হবে।
একইসঙ্গে আইনের ৫ নম্বর ধারার বিধান সাপেক্ষে, অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট কোনো ঘটনার জন্য অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে নতুন কোনো মামলা বা অভিযোগ দায়ের করা আইনত নিষিদ্ধ বা বারিত করা হয়েছে। এই আইনি রক্ষাকবচ মূলত বিপ্লবীদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে আজীবনের জন্য মুক্তি প্রদান করল।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে অত্যন্ত জোরালোভাবে বলা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে সর্বাত্মক সংগ্রাম করেছে, তা রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’ হিসেবে স্বীকৃত। ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে পরিচালিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধের সময় আত্মরক্ষা এবং জনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের স্বার্থে আন্দোলনকারীরা যে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তাকে সাংবিধানিক বৈধতা দেওয়া হয়েছে।
বিল উত্থাপনের সময় আপত্তি তুলে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বিলে ‘কমিশন’ বলতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বোঝানো হয়েছে। আবার সংজ্ঞা অংশে ‘বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার’ এবং ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধ’ আলাদা করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এনসিপির এ সদস্যের প্রশ্ন ছিল, সঙ্কীর্ণ ও ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড আর রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ হিসেবে সংঘটিত কার্যাবলির মধ্যে পার্থক্য কে নির্ধারণ করবে?
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী এটি নির্ধারণের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপরই পড়ছে। কিন্তু মানবাধিকার কমিশনের বর্তমান কাঠামো যদি সরকারনিয়ন্ত্রিত থাকে, তাহলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ অনুসন্ধান প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে মন্ত্রণালয়ের অধীনে রেখে এ ধরনের সংবেদনশীল অনুসন্ধানের দায়িত্ব দিলে তা নিয়ে আস্থা তৈরি হবে না। কমিশনকে স্বতন্ত্র ও স্বশাসিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তা না হলে এই আইন কাগজে থাকলেও বাস্তবে এর কার্যকর প্রয়োগ নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাবে।
তিনি আরও বলেন, সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণের অভিযোগ যখন উঠছে, তখন মানবাধিকার কমিশনও একইভাবে প্রভাবিত হবে না, সেই নিশ্চয়তা নেই। তার ভাষায়, ‘কমিশন স্বাধীন না হলে জুলাই-সংক্রান্ত সুরক্ষার এই কাঠামোও কার্যকর হবে না।’
এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সাংবিধানিক ও আইনি সুরক্ষা দেওয়া এখন জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। এ বিসয়ে তার ভাষ্য, ‘জুলাই যোদ্ধাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই এ উদ্যোগ এসেছে এবং জুলাই জাতীয় সনদেও এ বিষয়ে অঙ্গীকার রয়েছে।’
মন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার ওপর ‘গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ এবং তাদের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ নিপীড়ন চালিয়েছিল। প্রতিরোধের মুখে অনেকে প্রাণও হারিয়েছেন। সেই বাস্তবতায় তাদের জন্য আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা দরকার বলেই সরকার এই অধ্যাদেশ জারি করেছিল।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বিল নিয়ে কারও সংশোধনী থাকলে তা আগের ধাপে আনা যেত। এই পর্যায়ে এসে মূল নীতিগত প্রশ্ন তুলে বিল উত্থাপন ‘ঠেকানোর’ সুযোগ নেই।
মানবাধিকার কমিশন বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন করতে চায়। তবে গুমবিরোধী আইন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-সংক্রান্ত আইন এবং মানবাধিকার কমিশনের কাঠামোর মধ্যে কিছু মিল ও ‘ওভারল্যাপ’ আছে। সে কারণে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ কাঠামো চূড়ান্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা ব্যবস্থার কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। সেই কারণেই বিলটি আনা হয়েছে।
৯৯ দিন আগে