আহত অর্ধশতাধিক
মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৩ গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক
সিলেটে কোম্পানীগঞ্জে মাইকে ঘোষণা দিয়ে তিন গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছে।
শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাত থেকে রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুর পর্যন্ত কয়েক দফায় সংঘর্ষে জড়ায় তারা।
জানা যায়, শনিবার বিকালে উপজেলার বর্ণি গ্রামের এক ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইল ফোনে চার্জ দেওয়া নিয়ে কাঠাঁলবাড়ি গ্রামের এক ব্যক্তির তর্কাতর্কি হয়। এ ঘটনায় এক পক্ষের লোকজন বর্ণি এলাকায় সড়কে গাড়ি আটক করে। পরে উপজেলা সদরে কোম্পানীগঞ্জ, বর্ণি ও কাঁঠালবাড়ি- তিন গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংষর্ঘে জড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনার জের ধরে রবিবার সকাল থেকে সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে উপজেলার বর্ণি ও কাঠালবাড়ি গ্রামের লোকজন। এ সময় তারা অটেরিকশায় মাইক বেঁধে গ্রামের লোকজনকে সংঘর্ষের জন্য বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান। এতে করে পরিস্থিতি উত্তেজিত হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন: পাসপোর্ট ও বিআরটিএ অফিসে দুদকের অভিযান, দালাল আটক
এরপর বেলা ১১টার দিকে দুই গ্রামের লোকজন থানা বাজার পয়েন্টে এসে সংঘর্ষে জড়ায়। দফায় দফায় সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক লোক আহত হন। পরে উপজেলার বাসিন্দারা বড় সংঘাত ঠেকাতে ফেসবুক লাইভে এসে সেনাবাহিনীর সাহায্য চাইতে থাকেন। এরপর বেলা ২টার দিকে ঘটনাস্থলে এসে হাজির হন বিপুল সংখ্যক সেনাবাহিনী ও র্যাব সদস্যরা। তাদের উপস্থিতি দেখে সব পক্ষই সরে যায়।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান রাসেল বলেন, ‘সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজায়ের আল মাহমুদ আদনান জানান, মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় বেশকিছু দোকান ভাঙচুর ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জে এখন পর্যন্ত থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
২ দিন আগে
হবিগঞ্জে টমটম ভাড়া নিয়ে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক
টমটম (অটোরিকশা) ভাড়া পাঁচ টাকা কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এ সময় ৭টি দোকানে আগুন দেওয়াসহ ১৫টি দোকান লুটপাট করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার মৌচাক এলাকায় এ সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে প্রায় চার ঘণ্টার জন্য মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বাহুবল থানা পুলিশ জানায়, টমটমের ভাড়া নিয়ে চালক সালমান মিয়া ও যাত্রী সাজিদ মিয়ার মধ্যে শুরুতে কথা কাটাকাটি হয়। এর মধ্যে উভয় গ্রামের লোকজন হাতাহাতিতে জড়িয়ে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।
আরও পড়ুন: নরসিংদীতে সংঘর্ষে দুই ইউপি সদস্য নিহত, আহত ১০
সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, বাগবিতণ্ডার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রথমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। এমনকি ৭ রাউন্ড টিয়ার শেলও নিক্ষেপ করে। কিন্তু তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পরে সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।
ওসি জানান, পরিস্থতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে দোকানপাটে আগুন দেওয়ার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট এসে আগুন নেভায়। তবে অগ্নিসংযোগে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা সুনির্দিষ্ট করে এখনও জানা যায়নি।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংঘর্ষের ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।
বাহুবল উপজেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সুমাইয়া খাতুন বলেন, মোট ৫৯ জন হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: দিনাজপুরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৪
১ সপ্তাহ আগে