সাজেক
ডিসেম্বরে হাসিনার ফেরার খবরে অস্থিরতার সুযোগ দেবে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন বলে যে খবর ছড়িয়েছে, তা নিয়ে সরকার কাউকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে দেবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুনছি, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ডিসেম্বরে আসতে চান। আমরা তাকে ফেরত পাওয়ার জন্য প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে প্রতিবেশী দেশকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কয়েক দফা অনুরোধপত্র পাঠিয়েছি। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার।’
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার ফেরার আলোচনা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী শক্তি শুরু থেকেই এ ধরনের অপপ্রয়াস চালিয়ে আসছে। তারা বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায় এবং ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়।
এ সময় দেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ সরকার দেবে না বলে সতর্ক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ দেব না। কোনো অপশক্তিকে না, কোনো পতিত শক্তিকে না, কোনো ফ্যাসিস্টকে না, কোনো পলাতক অপরাধীকে না, কোনো গণহত্যাকারীকে না।’
গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়া এবং শত শত নাগরিক হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বাংলাদেশে কোনো অপতৎপরতা চালাতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আগাম সতর্কতায় শান্তিপূর্ণ দুর্গাপূজা
এবার ১৫ থেকে ১৭ বছর পর দেশে শান্তিপূর্ণভাবে, উৎসাহ, উদ্দীপনা ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
এ জন্য বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, সাংবাদিক এবং দেশের সব স্তরের মানুষের প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, অতীতে দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে দুর্ঘটনা, অপ্রীতিকর ঘটনা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের ঘটনা ঘটেছে। এবার এসব অপসংস্কৃতি থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব হয়েছে।
সেই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এবার ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতি ও বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে অ্যাপের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় কেন্দ্র পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে প্রতি মুহূর্ত মনিটরিং করা হয়েছে।
এছাড়া দুর্গোৎসব ঘিরে দুই-একটি ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনা আগেই উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সে অনুযায়ী আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ব্যবস্থা নিয়েছে।
গোপালগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার একটি ইউনিয়নের খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সংগঠনের কিছু কর্মী মিছিল করার চেষ্টা করেছিলেন। টহলরত পুলিশ সদস্যরা সেখানে গেলে তারা হামলার শিকার হন। পুলিশ সদস্যরা সংখ্যা কম ছিলেন।
ঘটনাটির ভিডিও দেখেছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সাজেকের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
রাঙ্গামাটির সাজেকের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফ ছাড়াও একই ধরনের নামে আরও কয়েকটি গোষ্ঠী রয়েছে। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও অন্তর্দ্বন্দ্ব রয়েছে।
পর্যটন মৌসুমকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর পাহাড়ের কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চলে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে এবং আরও নেবে।
এছাড়া স্থানীয় হেডম্যান ও নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
১৯ ঘণ্টা আগে
সাজেকে সড়ক অবরোধ তৃতীয় দিনে, ব্যাহত পর্যটন
রাঙামাটির সাজেকে শনিবার তৃতীয় দিনের মতো অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যৌথ বাহিনী টহল অব্যাহত রেখেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু গ্রুপ) সশস্ত্র সদস্যদের অবিলম্বে এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ তিন দফা দাবিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে।
তবে এ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
সাজেকে অবস্থানরত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এলাকার শান্তি বজায় রাখতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে।
১ দিন আগে
সাজেকে দ্বিতীয় দিনেও অবরুদ্ধ সড়ক, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ বাহিনীর টহল
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন’-এর যৌথ উদ্যোগে ঘোষিত তিন দফা দাবির অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি দ্বিতীয় দিনের মতো শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে। পার্বত্য জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-সন্তু গ্রুপ)-এর সশস্ত্র সদস্যদের দ্রুত এলাকা থেকে অপসারণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের মূল দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
বর্তমানে সাজেক ও আশপাশের এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানান রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব।
তিনি জানান, সাজেক এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং দুষ্কৃতকারী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর প্রয়োজনীয় অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, সাজেকে চলমান আন্দোলনের সমর্থনে এবং এর আগে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা, লাঠিচার্জ ও সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি-দোকানপাটে ভাঙচুরের তীব্র প্রতিবাদে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ‘ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদ’। সংগঠনটি আগামী শনিবার রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি-এই দুই পার্বত্য জেলায় সকাল ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবির প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়ে এই কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেন ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমা।
বিবৃতিতে ঘোষিত অবরোধ কর্মসূচি সর্বাত্মকভাবে সফল করার লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল এবং দুই জেলার গণপরিবহন, নৌযান মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।
সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও মানবিক দিক বিবেচনা করে নির্দিষ্ট কিছু জরুরি সেবাকে এই অবরোধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। আধা বেলা অবরোধ চলাকালে অ্যাম্বুলেন্স, রোগীবাহী যানবাহন, ফায়ার সার্ভিস, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী পরিবহন এবং সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত সাংবাদিকদের গাড়ি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
২ দিন আগে
সাজেকে গোলাগুলি, ২,৯৩৩ পর্যটককে সরিয়ে নিল নিরাপত্তা বাহিনী
রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলির ঘটনায় আটকে পড়া দুই হাজার ৯৩৩ পর্যটককে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছেন।
তিন দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের এ অবরোধ শুরু করে।
অবরোধকারীরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ারে আগুন জ্বালান। এতে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে সাজেক ভ্যালির মধ্যে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, আটকে পড়া পর্যটকদের নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ নিরাপত্তা বহর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সাজেক থেকে বাঘাইহাটের উদ্দেশে রওনা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বহরটি সাজেক ইউনিয়নের উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা পথ আটকে দেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পর্যটকদের যেতে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তবে তারা নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকেন। একপর্যায়ে সেনাসদস্যরা ব্যারিকেড ভেঙে পর্যটকদের নিরাপদে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন।
এ অভিযানের সময় উজোবাজার এলাকায় অবস্থান নেওয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। তবে গোলাগুলিতে কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
৩ দিন আগে
চার দিন পর উন্মুক্ত সাজেক, প্রথম দিনেই প্রবেশ করল ৮০০ পর্যটক
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাঘাইছড়ির সাজেকে চার দিন ধরে চলা পর্যটক প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রথম দিনে এখানে প্রায় ৮০০ পর্যটক প্রবেশ করেছেন। দীর্ঘ চার দিনের স্থবিরতা কাটিয়ে পর্যটকদের এই আগমন স্থানীয় অর্থনীতি, রিসোর্ট-রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিরাপত্তা ও বিভিন্ন অনিবার্য কারণে গত কয়েকদিন ধরে সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ ছিল। আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের ফলে অনেক পর্যটকের ভ্রমণ পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। তবে সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় এবং পর্যটকদের নিরবচ্ছিন্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন শুক্রবার থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। আর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর আজ সকাল থেকেই খাগড়াছড়ি হয়ে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ ধরে সাজেকের দিকে পর্যটকবাহী যানবাহনের চলাচল শুরু হয়।
সাজেক কটেজ-রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুপর্ণ দেববর্মন জানান, চার দিন বন্ধ থাকার পর আজ প্রথম দিনেই প্রায় ৮ শতাধিক পর্যটক সাজেকে পৌঁছেছেন। পাহাড়ের বুক ঘেঁষে ভেসে যাওয়া মেঘের চাদর ও রূপসী সাজেকের রূপ উপভোগ করতে অসংখ্য পর্যটক ইতোমধ্যে তাদের অগ্রিম বুকিং নিশ্চিত করেছেন। পর্যটকদের বরণে স্থানীয় কটেজ, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন মালিকরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।
পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। পর্যটকেরা যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তি বা নিরাপত্তা ছাড়া স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়াতে পারেন, সে জন্য পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে, সাজেকে পর্যটকদের এই নিরাপদ ও আনন্দঘন প্রত্যাবর্তনে স্বস্তি ফিরে এসেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে। সাজেক পর্যটন সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আবহাওয়া ও সার্বিক পরিবেশ অনুকূলে থাকলে আগামী দিনগুলোতে পর্যটকদের আগমন আরও বাড়বে। আর সব মিলিয়ে সাজেকে পর্যটকদের এই নিরাপদ প্রত্যাবর্তন স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন ব্যবসায় নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
৯ দিন আগে
সাজেকে আটকে পড়া চার শতাধিক পর্যটক উদ্ধার
রাঙ্গামাটিতে টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধস এবং সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সাজেক ভ্যালিতে আটকে পড়া পর্যটকদের মধ্য থেকে এ পর্যন্ত ৪৬১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আজ (শুক্রবার) দ্বিতীয় দফায় ৩১১ জন সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদে সাজেক ত্যাগ করেছেন।
সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক ভ্যালিতে মোট ৫৬১ জন পর্যটক আটকা পড়েছিলেন। গতকাল প্রথম দফায় ১৫০ জন ও আজ সকাল ৯টায় দ্বিতীয় দফায় আরও ৩১১ জন পর্যটক সেনাবাহিনীর এসকর্টে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। অবশিষ্ট প্রায় ১০০ জন পর্যটকদেরও পর্যায়ক্রমে নিরাপদে সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।
গতকাল বিকেলে মাচালং বাজার, সীমানাছড়া ও বাঘাইহাট বাজার এলাকায় নৌকা দিয়ে পার করে এরপর সড়ক পথে তাদের নিরাপদ গন্তব্যে পাঠানো হয়। সেনাবাহিনীর বিশেষ উদ্যোগে পানিতে ডুবে থাকা সড়কগুলোতে নৌকা ও ভেলার মাধ্যমে পর্যটকদের পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়।
কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জানান, আটকে পড়া পর্যটকদের বিনা ভাড়ায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে শুধু পানির বিল নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, টানা ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির স্বাভাবিক জনজীবন। পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিচ্ছে জেলা প্রশাসন। এ পর্যন্ত পুরো রাঙ্গামাটি জেলায় ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৫২৪ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
অন্যদিকে, বন্যা পরিস্থিতির কারণে বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি ও জুরাইছড়িতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমিসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে কয়েক হাজার বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যসংকটে মানুষ ভুগছেন।
এছাড়া রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম ও কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সেখানে যেকোনো সময় নতুন করে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস।
১০৭ দিন আগে
ভারী বর্ষণ: সাজেকে আটকা পড়েছে ৫ শতাধিক পর্যটক, রাঙ্গামাটির আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ছুটছে মানুষ
টানা ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির স্বাভাবিক জনজীবন। পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিচ্ছে জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত পুরো রাঙ্গামাটি জেলায় ৩৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৪ হাজার ২৬৫ জন মানুষ আশ্রয়গ্রহণ করেছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টানা পাঁচ দিনের বর্ষণে পাহাড়ি ঢল ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঙ্গামাটিসহ উপজেলাগুলোর সড়কের বিভিন্ন অংশ ভাঙনসহ অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।
এরই মধ্যে রাঙ্গামাটি সদর মগবান ইউনিয়নে দলমনি চাকমা নামে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল (বুধবার) নদী পার হতে গিয়ে ভেসে যান তিনি। অন্যদিকে, বিলাইছড়িতে বহিরাগত এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ রয়েছেন।
জেলাজুড়ে ভারী বর্ষণ এবং প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতি বিরাজমান থাকায় জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
এদিকে, টানা পাঁচ দিনের বর্ষণে পাহাড়ি ঢল ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা, লংগদু-দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন অংশ এবং বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলতলী ইউনিয়নের করেঙ্গাতলী ও পৌর এলাকার উগলছড়ি সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে করে সাজেকে আটকা পড়েছে প্রায় ৫ শতাধিক পর্যটক।
১০৮ দিন আগে
সাজেকের রিসোর্টে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সেনাবাহিনী ও স্থানীয়রা
রাঙ্গামাটির পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে গেছে রিসোর্ট ও কটেজ এবং দোকান।
সোমবার দুপুর ১টার দিকে অবকাশ রিসোর্ট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তেই আগুন আশপাশের রিসোর্টে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, সোমবার দুপুরে প্রথমে সাজেক অবকাশ রিসোর্টে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। পরে মুহূর্তে আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে এরই মধ্যে সাজেক অবকাশ রিসোর্ট, ইকো ভ্যালি রিসোর্ট, মেঘছুট রিসোর্ট, মনটানা রেস্টুরেন্ট, মারুয়াতি রেস্টুরেন্টসহ ১৫টি রিসোর্ট ও কটেজ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করে যাচ্ছে সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন এবং ২৭ ও ৫৪ বিজিবির সদস্যরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এখনো আগুণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
আরও পড়ুন: সাজেকে গোলাগুলি, আটকা পড়েছেন ৫ শতাধিক পর্যটক
সাজেকের হিলভিউ রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী ইন্দ্রজিৎ চাকমা জানান, আগুন নেভাতে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় লোকজন চেষ্টা চালাচ্ছেন। ইতোমধ্যে ১৫ থেকে ১৬টি রিসোর্ট পুড়ে গেছে। দীঘিনালা থেকে ফায়ার সার্ভিস সাজেকে পৌঁছাতে কমপক্ষে দুই ঘণ্টা লেগে যায়।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরিন আকতার জানান, দুপুরের দিকে সাজেকের একটি রিসোর্ট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে সেনাবাহিনী ও স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালায়। সাজেকে দমকল বাহিনীর কোনো ইউনিট না থাকায় খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে ফায়ার সার্ভিস রওনা হয়েছে।
বর্তমানে আগুন যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে তার জন্য কাজ করছে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও স্থানীয় লোকজন। তবে কিভাবে আগুণের সূত্রপাত হয়েছে, তা পরে জানা যাবে বলে জানান তিনি।
৬০৮ দিন আগে
সাজেকে গোলাগুলি, আটকা পড়েছেন ৫ শতাধিক পর্যটক
পার্বত্য শান্তি চুক্তির অনুষ্ঠানে আসা না আসা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক দুটি দলের মধ্যে দফায় দফায় বন্দুকযুদ্ধ চলছে। ফলে সাজেকে পাঁচ শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন।
মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) রাতে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট জোবায়দা আক্তার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বুধবার (৪ ডিসেম্বর) একদিনের জন্য সাজেক ভ্রমণে নিরুসাহিত করেছে জেলা প্রশাসন।
আঞ্চলিক এই দলের গোলাগুলির ১ জন নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন প্রকার তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকা নিয়ন্ত্রণে বিগত কয়েকদিন ধরে সাজেক ও মাচালং এলাকায় সন্তু লারমা জেএসএস ও প্রসীত দলের ইপিডিএফ দুই অঞ্চলিক দল দফায় দফায় গোলা বর্ষণ করেছে। তবে আঞ্চলিক দুই দলের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় এক জনের প্রাণহাণির খবর পাওয়া গেলেও দুর্গম এলাকা হওয়ায় প্রশাসনের কেউ তা নিশ্চিত করতে পারেনি।
আরও পড়ুন: সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াল জেলা প্রশাসন
সাজেকে আটকা পড়া চালকরা বলেন, সকালে খাগড়াছড়ি থেকে ২৭টি গাড়ি সাজেক গিয়েছে। এই গাড়িগুলোতে করে আসা প্রায় ৪ শতাধিক পর্যটক সাজেকে অবস্থান করছে।
দুই আঞ্চলিক দলের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। তবে মঙ্গলবার সকাল থেকে এই গোলাগুলির ঘটনা আরও বেড়ে যায়। তাই পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিকালে কোনো পর্যটক গাড়ি সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি আসেনি।
সাজেক রিসোর্ট মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা জানান, সাজেক ও মাচালং সড়কের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শীপপাড়া নামক এলাকায় এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। যা পর্যটন কেন্দ্র থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। এই গোলাগুলির ঘটনার কারণে কোনো গাড়ি ছেড়ে যায়নি। রাতে প্রায় পাঁচ শতাধিক পর্যটক সাজেক অবস্থান করছেন।
রাঙ্গামটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান জানান, দুই আঞ্চলিক দলের গোলাগুলির ঘটনায় পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বুধবার একদিন সাজেকে পর্যটক ভ্রমণে নিরুসাহিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যারা আছেন তাদের পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিরাপদে আজ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: এক মাসেরও বেশি সময় পর খুলে দেওয়া হলো সাজেক পর্যটন কেন্দ্র
৬৯০ দিন আগে
বান্দরবানের মিরিঞ্জা ভ্যালি ভ্রমণ: ঘুরে আসুন দ্বিতীয় সাজেক
পর্বত, অরণ্য ও সমুদ্রপ্রেমী এই তিন শ্রেণির পরিব্রাজকদের জন্য সেরা গন্তব্য হচ্ছে বান্দরবান। অতিকায় উচ্চতার নিঃসীম শূন্যতা উপভোগ করতে করতে সবুজ বনে ঢাকা পাহাড়ি রাস্তা ট্রেকিং করা নিঃসন্দেহে কষ্টসাধ্য। এরই মাঝে দু-একটি সুদৃশ্য ঝর্ণা যেন বিস্ময়ের অববাহিকায় দিয়ে যায় রোমাঞ্চকর পরশ। চূড়ায় ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই সেই অনন্ত শূন্যতার সঙ্গে আলিঙ্গনটা যেন এত কষ্টের স্বার্থকতা এনে দেয়। এর সঙ্গে দৃষ্টিসীমানায় ফেনিল সাগরের দৃশ্য জুড়ে দিলেই তা মিলে যাবে মিরিঞ্জা ভ্যালি ভ্রমণ অভিজ্ঞতার সঙ্গে। দ্বিতীয় সাজেক নামে পরিচিত এই জায়গাটি ইতোমধ্যেই দেশজুড়ে পর্যটকদের মধ্যে যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে। চলুন, জেনে নেওয়া যাক দর্শনীয় স্থানটির বৃত্তান্ত।
মিরিঞ্জা ভ্যালির অবস্থান
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলা বান্দরবানের অন্তর্গত লামা উপজেলা। অপরদিকে,কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে আলীকদম সড়কে লামার অবস্থান। এই উপজেলারই অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর মিরিঞ্জা ভ্যালি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ভ্যালির অবস্থান প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফুট উঁচুতে।
মিরিঞ্জা ভ্যালির ইতিহাস ও বিশেষত্ব
সরাসরি ভ্যালির ইতিহাস বা এর নামকরণের উৎপত্তি নিয়ে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। তবে মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্সের গোড়াপত্তন হয়েছিল ২০০৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রায় ১৬ একর পাহাড়ি ভূমিকে ঘিরে। এর আগেও কতিপয় ট্রেকারদের আনাগোনা থাকলেও এই কমপ্লেক্সই মূলত স্থানটির জনপ্রিয়তা সৃষ্টি করে। মিরিঞ্জা পাহাড়ের দক্ষিণ প্রান্তের চূড়ায় ইট পাথরে নির্মাণ করা হয় বিখ্যাত টাইটানিক জাহাজের ভাস্কর্য,যার উদ্বোধন হয় ২০০৫ সালের ১৯ এপ্রিল।
এখানকার প্রধান আকর্ষণ হলো পাহাড় ও মেঘের অসাধারণ মিথস্ক্রিয়া। এই কারণে পর্যটনকেন্দ্রটিকে বর্তমানে দ্বিতীয় সাজেক ভ্যালি হিসেবে অভিহিত করা হয়।
আরো পড়ুন: হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
ঢাকা থেকে বান্দরবানের মিরিঞ্জা ভ্যালি যাওয়ার উপায়
মিরিঞ্জা যাওয়ার জন্য প্রথমত রাজধানী ঢাকার রাজারবাগ,ফকিরাপুল বা সায়েদাবাদ থেকে কক্সবাজারের বাস ধরতে হবে। অতঃপর গন্তব্যের আগেই নেমে যেতে হবে চকরিয়া বা চিরিঙ্গা বাস টার্মিনালে।
এছাড়া কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে রেলপথে চট্টগ্রাম পর্যন্ত যাওয়া যায়। অতঃপর বাসে করে সরাসরি চকরিয়া বাস টার্মিনাল।
দ্রুত সময়ে যাওয়ার জন্য ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজারের ফ্লাইট ব্যবহার করা যেতে পারে। তারপর কক্সবাজার থেকে বাসে করে চকরিয়া পৌঁছাতে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় লাগে।
চকরিয়া থেকে লামা-আলীকদম সড়ক ধরে মিরিঞ্জা ভ্যালিতে যাওয়ার সিএনজি, জিপগাড়ি বা লোকাল বাস পাওয়া যায়। এই পরিবহনগুলো লামা-আলীকদম পথে মিরিঞ্জা পাহাড়ের পাশে নামিয়ে দেয়। সেখান থেকে ১০ মিনিট হাঁটার দূরত্বে ভ্যালির অবস্থান।
আরো পড়ুন: থাইল্যান্ডের ফুকেট ভ্রমণ গাইড: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
যারা ট্রেকিং করতে ইচ্ছুক তাদের চকরিয়া থেকে চান্দের গাড়িতে করে মুরুম পাড়া পর্যন্ত আসতে হবে। এখান থেকে পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে ভ্যালি পর্যন্ত ২০ মিনিটের একটি সহজ ট্রেকিং পথ আছে।
চান্দের গাড়িগুলো মিরিঞ্জা পাড়া পর্যন্তও যায়, যেখানে মেইন রোড থেকে ভ্যালি মাত্র ১০ মিনিট হাঁটা পথ।
মিরিঞ্জা ভ্যালি ভ্রমণে কী কী দেখবেন
পাহাড়ি রাস্তা বা ঝিরিপথ পেরিয়ে চূড়ায় আরহণের পর দূরে দেখা যায় মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স এবং সাঙ্গু নদীসহ বিশাল পাহাড়জুড়ে বিস্তীর্ণ সবুজ বনভূমি। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার জন্য এই চূড়া উপযুক্ত একটি স্থান। এখান থেকে দিগন্তরেখায় কক্সবাজার অংশের বঙ্গোপসাগরের উত্তাল জলরাশি চোখে পড়ে। সেই সঙ্গে দৃশ্যমান হয় লাইট হাউস,যার ক্ষীণ আলোয় সরু রেখায় আলোকিত হয়ে ওঠে পৃথিবীর দীর্ঘতম সৈকত।
মুগ্ধতার পরিসর আরও একটু বাড়িয়ে দিয়ে কখনো কখনো সেই রেখায় ভেসে ওঠে একটি দুটি জাহাজ। পাহাড়ের দক্ষিণ প্রান্তের টাইটানিক জাহাজের কাঠামোটিও এখানকার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। পর্যটনকেন্দ্রের কাছেই উপজেলা শহরে ম্রো, ত্রিপুরা, ও মারমাসহ মোট ১১ জনগোষ্ঠির বসবাস।
আরো পড়ুন: থাইল্যান্ডের গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেলের চিয়াং মাই ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
মিরিঞ্জা ভ্যালি ভ্রমণের সেরা সময়
বর্ষাকালের শেষ থেকে শরৎকাল পর্যন্ত প্রায় সারাদিনই পরিষ্কার আকাশে শুভ্র মেঘের খেলা দেখা যায়। পাহাড়ের চূড়া থেকে এই দৃশ্য দেখার অনুভূতির কোনো বিকল্প হয় না। তবে এ সময়টাতে পাহাড়ি পথ বেশ পিচ্ছিল থাকে। ট্রেকিং পথ খুব একটা দুর্গম না হলেও উষ্ণ মৌসুমের ফলে পুরো যাত্রাটা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তাই এখানে আসার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হচ্ছে শীতের শুরু, তথা নভেম্বর মাস। এ সময় কুয়াশার ঘনঘটা তেমন থাকে না, বিধায় পাহাড়ের উপরের দৃশ্যগুলো ভালোভাবে দেখা যায়।
৭০৬ দিন আগে