ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক
মোস্তাফিজ বিতর্কে ঢাকার অবস্থান ‘দৃঢ় ও যথাযথ’
মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর বাংলাদেশে টুর্নামেন্টটির সম্প্রচার বন্ধ রাখা এবং ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত দুটিকে ‘যথাযথ’ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তবে এসব পদক্ষেপ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে মত তার।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে মোস্তাফিজ ইস্যু নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন অর্থ উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, এটা তো বাংলাদেশ থেকে করা হয়নি! ওরা হঠাৎ করে একজন খেলোয়াড়কে বাদ দিল। এটা তো সাধারণভাবে ভালো নয়। (মোস্তাফিজ) একজন ভালো খেলোয়াড়, এমন নয় যে দয়াদাক্ষিণ্য করে তাকে দলে নিয়েছে (কেকেআর)। সে সেরা খেলোয়াড়দের একজন। সেটা সবাই স্বীকার করে, ওরাও (ভারত) করে।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এ জন্য তাকে যেতে দেওয়া হয়নি। অতএব বাংলাদেশ যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ ‘রোবাস্ট’ (দৃঢ়) এবং ওইটাই ‘অ্যাপ্রোপ্রিয়েট’ (যথাযথ)।
তার ভাষ্য, ‘এই ধরনের অ্যাকশন কেউ যদি শুরু করে, তার একটা রিয়্যাকশন হবে। নিউটনের ল, অ্যাকশন-রিয়্যাকশন। এটাই বললাম।’
পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আইপিএলের আগামী আসরে কলকাতার হয়ে খেলার কথা ছিল মোস্তাফিজ। দলের প্রয়োজনে চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে লড়াইয়ে জিতে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে বাংলাদেশি পেসারকে দলে টানে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। তবে চাইলেও আগামী মৌসুমে তাকে খেলাতে পারছে না তারা। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন হচ্ছে এমন দাবি তুলে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আইপিএল থেকে বাদ দিতে বলে ভারতের বেশ কিছু ধর্মীয় সংগঠন ও রাজনৈতিক দল।
তাদের সঙ্গে পেরে না উঠে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত মোস্তাফিজকে ছেড়ে দিয়েছে কলকাতা। বাঁহাতি পেসারের সঙ্গে এমন ঘটনায় ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলাও অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
বিসিবি গতকাল (সোমবার) বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো খেলতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকি এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা আইসিসিকেও ই-মেইল বার্তার মাধ্যমে জানিয়েছে বিসিবি।
এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুই দেশের রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে কী না, সে বিষয়েও অর্থ উপদেষ্টার কাছে জানতে চাওয়া হয়।
জবাবে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, যৌক্তিকভাবেই আমরা সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছি। ফলে আমার কাছে মনে হয় না যে অর্থনৈতিকভাবে, বিশেষ করে (ভারতের সঙ্গে) আমাদের ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়বে।
সামনে নির্বাচন; বিষয়টি রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুরুটা কিন্তু বাংলাদেশ থেকে করা হয়নি! এটা আপনি স্বীকার করবেন। খেলাধুলা, খেলোয়াড়দের আমরা দেশের প্রতিনিধি বলি। একজন ভালো খেলোয়াড়, বিখ্যাত একজন খেলোয়াড় (ভারতে খেলতে) যাবে, তাকে তো কৌশলগত কারণেই নেওয়া হয়েছিল, দয়াদাক্ষিণ্য করে তো নয়! একটা কারণে সেটা হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া, বিষয়টি খুব দুর্ভাগ্যজনক। এটা দুঃখজনক, দুই দেশের কারো জন্যই এটা ভালো নয়।
বিষয়টি রাজনৈতিক দিকে চলে যাচ্ছে প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, আমি বলি যে এটা আর সামনে এগোনো উচিৎ নয়। দুই দেশের পক্ষ থেকেই বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, হিটলারের সময় তো অলিম্পিক হয়েছিল, তাই না? পৃথিবীর লোকজন (জার্মানি) যায়নি? হিটলারকে ঘৃণা করত সবাই, কিন্তু ওখানে গিয়েছিল তো!
ড. সালেহউদ্দিন বলেন, আমার মনে হয়, এখানে একটা আবেগ কাজ করেছে। এটা দুই পক্ষই বিবেচনা করে সমাধান করবে। রাজনৈতিক সম্পর্ক হোক কিংবা অর্থনৈতক, আমরা কোনোভাবেই ক্ষতি চাই না।
এ সময় জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানও তার মতামত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ওরা (ভারত) আমাদের খেলোয়াড়কে ডেকে নিয়ে আবার প্রত্যাহার করছে। আমরা সেটার প্রতিবাদে বলেছি যে, না, যেহেতু আইপিএল এ খেলা নিয়ে, তো এখানে এই খেলার সম্প্রচার বন্ধ।
জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, এজন্য আমি মনে করি, এটা একটা যথাযথ প্রতিক্রিয়া। এটা ছাড়াও আমাদের (টি-টোয়েন্টি) বিশ্বকাপ ভেন্যু পরিবর্তন করার কথা বলা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে আমি মনে করি, আমাদের প্রতিক্রিয়া ‘দৃঢ় ও যথাযথ’। এটা ওদেরও ভাবাচ্ছে।
তবে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, আমরা যেটা আশা করি যে দুই পক্ষ—প্রধানত ওখান থেকে যেখান থেকে এটা শুরু হয়েছে, সেখানে শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং আমরা খেলা চালিয়ে যেতে পারব। আমাদের অর্থনৈতিক-বাণিজ্যিক সম্পর্ক চালিয়ে যেতে পারব।
২ দিন আগে
অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে হাসিনার সমালোচনায় সমর্থন দিচ্ছে না ভারত: মিসরি
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি বলেছেন, বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকার নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনার পক্ষে অবস্থান নেয়নি ভারত। এটিকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের জন্য ছোটখাটো ধাক্কা হিসেবেই দেখছেন তারা।
বুধবার কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের সভাপতিত্বে পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মিসরি নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকারের সঙ্গে জোটবদ্ধ না হয়ে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে ভারতের মনোভাবের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
মিসরি বলেন, শেখ হাসিনা তার মতামত প্রকাশের জন্য 'বেসরকারি যোগাযোগের চ্যানেল' ব্যবহার করছেন। ভারত তাকে তার মাটি থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য কোনো প্ল্যাটফর্ম বা সুবিধা দেয়নি।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক-পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক চায় ভারত: বিক্রম মিসরি
অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার বিষয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের নীতির কথা তুলে ধরেন তিনি।
সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা করে শেখ হাসিনার ভিডিও বার্তা প্রচারে পরই এই ব্রিফিং করা হয়।
মিসরি কমিটিকে জানান, এ সপ্তাহের শুরুতে ঢাকা সফরের সময় তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ‘কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল’ বা নির্দিষ্ট সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ককে ভারত সর্বাধিক অগ্রাধিকার দেয় এবং বর্তমান সরকারের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক থাকবে।
পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফরেন অফিস কনসালটেশনসহ বেশ কয়েকটি বৈঠক করতে সোমবার ঢাকায় আসেন বিক্রম মিসরি।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব জসিম উদ্দিনের সঙ্গে পররাষ্ট্র দপ্তরের বৈঠক এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে 'ইতিবাচক, গঠনমূলক ও পারস্পরিক লাভজনক' হিসেবে দেখতে চান বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থে এই পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক অব্যাহত না রাখার কোনো কারণ নেই।
এসব বৈঠকে মিসরি একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থনের কথা তুলে ধরেন।
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব জোর দিয়ে বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মূল অংশীদার হলো জনগণ।
তিনি বলেন, ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতা এবং সংযোগ, বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বাংলাদেশের সঙ্গে বহুমুখী সম্পৃক্ততা সবই বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণের জন্য।
আরও পড়ুন: ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরির ব্রিফিং বিকালে
৩৯২ দিন আগে