রাজশাহী
দুই মালিকপক্ষের রেষারেষিতে রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ
নাটোরে রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া কয়েকটি দূরপাল্লার বাস আটকে রাখার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজশাহী থেকে সারা দেশের দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যের বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজশাহী থেকে বাইরে যেতে চাওয়া যাত্রীরা।
পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা জানান, নাটোরে দেশ ট্রাভেলস ও ন্যাশনাল ট্রাভেলসের কয়েকটি বাস আটকে রাখার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজশাহীর পরিবহন মালিকপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়। এর প্রতিবাদে রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার সব বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, কয়েক দিন আগে এ বিরোধের সূত্রপাত। গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে রাজশাহী থেকে দর্শনার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া রাব্বি পরিবহনের একটি বাস নাটোরে পৌঁছানোর পর আটকে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
তাদের দাবি, তুহিন পরিবহনের মালিকপক্ষ বাসটি থামিয়ে যাত্রীদের অন্য একটি বাসে তুলে দেয়। পরে রাব্বি পরিবহনের বাসটি নাটোরে রেখে দেওয়া হয়। এর জেরে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে রাজশাহীতে তুহিন পরিবহনের কয়েকটি বাস আটকে রাখা হয়।
পরবর্তী সময়ে নাটোরে রাব্বি পরিবহনের বাস ছেড়ে দেওয়া হলে রাজশাহীতে আটক তুহিন পরিবহনের বাসও ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও দুই পক্ষের বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এর মধ্যেই শনিবার সকালে নাটোরে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী দেশ ট্রাভেলস ও ন্যাশনাল ট্রাভেলসের কয়েকটি বাস আটকে রাখার খবর আসে। এরপর রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে দাবি করেছে পরিবহন মালিকপক্ষ।
এদিকে, সকাল থেকেই রাজশাহীর বিভিন্ন বাস কাউন্টারে ঢাকাসহ দূরপাল্লার বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীদের ভিড় থাকলেও বাস না পেয়ে অনেককেই ফিরে যেতে দেখা যায়। কেউ কেউ টিকিটের টাকা ফেরত নিয়ে বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
ঢাকাগামী এক যাত্রী বলেন, আগে থেকেই বাসের টিকিট কাটা ছিল। কাউন্টারে এসে জানতে পারেন বাস চলবে না। হঠাৎ বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছি।
আরেক যাত্রী বলেন, জরুরী প্রয়োজনে ঢাকায় যেতে হবে। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় এখন কীভাবে গন্তব্যে পৌঁছাব, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ে গিয়েছি। দুই পক্ষের বিরোধ দ্রুত মিটিয়ে বাস চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানান তিনি।
রাজশাহীর এক পরিবহন শ্রমিক বলেন, মালিকদের বিরোধের প্রভাব সরাসরি শ্রমিক ও যাত্রীদের ওপর পড়ছে। আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
উত্তরবঙ্গ বাস মালিক সমিতির মহাসচিব নজরুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী ও নাটোরের পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের কারণে রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
৩ দিন আগে
বগি লাইনচ্যুত, রাজশাহীর সঙ্গে সব রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ
রাজশাহীর হরিয়ান রেল স্টেশনের কাছে ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে রাজশাহীর সঙ্গে সব রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহীগামী ঢালারচর এক্সপ্রেসের ‘ট’ বগির দুটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। এ সময় ট্রেনটি পাবনা থেকে রাজশাহী আসছিল।
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার জিয়াউল ইসলাম জানান, হরিয়ান স্টেশন থেকে ছেড়ে প্রায় ২০০ গজ যাওয়ার পর ট্রেনটির ‘ট’ বগির চাকার সঙ্গে থাকা ট্রলি ভেঙে যায়। এতে বগিটির দুটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। ঘটনাটি মেইন লাইনে হওয়ায় রাজশাহীর সঙ্গে সব রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঈশ্বরদী থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাইনচ্যুত বগিটি উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে। উদ্ধারকাজ শেষে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন স্টেশন ম্যানেজার।
এর আগে সকালে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার লোকমানপুর এলাকায় রেললাইন ভেঙে গেলে রাজশাহীর সঙ্গে সব রুটে দেড় ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে।
৭ দিন আগে
নেশার টাকা না পেয়ে রাজশাহীতে মা-ভাইকে কুপিয়ে জখম
নেশার টাকা না পেয়ে রাজশাহীতে মেহেদী হাসান ওরফে মুন্না (৩৪) নামের এক মাদকাসক্ত ব্যক্তি তার মা ও ছোট ভাইকে ধারালো বঁটি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছেন।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা থানার মেহেরচণ্ডী উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত মেহেদী হাসান ওই এলাকার মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলার সময় তিনি বাড়ির দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে রাখেন। পরে স্থানীয়রা ইট ছুড়ে তাকে আহত করে দরজা ভেঙে ফেলেন। এরপর পুলিশ ও স্থানীয়রা বাড়ির ভেতরে ঢুকে মেহেদীর মা মনোয়ারা খাতুন টুলু (৫৫) ও ছোট ভাই মো. মৃদুলকে (২৮) উদ্ধার করেন। পরে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ সময় অভিযুক্ত আহত মেহেদীকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অভিযানকালে পুলিশ বাড়ি থেকে হামলায় ব্যবহৃত ধারালো বঁটি উদ্ধার করেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত মৃদুল জানান, নেশা করার কারণে তার ভাই মেহেদী মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন। এ কারণে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখান থেকে ফিরে আবারও নেশায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। এরপর থেকে নেশার টাকার জন্য প্রায়ই বাড়ির সদস্যদের অত্যাচার করতেন।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, নেশা করার টাকা না দেওয়ায় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মেহেদী ধারালো বঁটি দিয়ে তার মা ও ভাইকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। খবর পেয়ে চন্দ্রিমা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে আহত মা ও ভাইকে উদ্ধার করে।
তিনি বলেন, এ সময় স্থানীয় উত্তেজিত জনতা মেহেদী হাসানকে মারধর করেন। পরে পুলিশ হামলাকারীসহ আহত তিনজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে ভর্তি করে। আহত মনোয়ারা খাতুন ও তার ছেলে মৃদুলের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, এ ঘটনায় মনোয়ারার মেয়ে বাদী হয়ে রাতেই চন্দ্রিমা থানায় মামলা করেছেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসা শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান উপ-পুলিশ কমিশনার।
১৬ দিন আগে
রাজশাহীতে বিভাগীয় কমিশনার, তিন জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ
রাজশাহী বিভাগে নতুন বিভাগীয় কমিশনার এবং নাটোর, গাইবান্ধা ও রংপুর জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
রাজশাহী বিভাগের নতুন বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের সদস্য-পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. ইউসুফ আলী।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের উপসচিব মোছা. সুমনী আক্তারকে নাটোরের জেলা প্রশাসক করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর একান্ত সচিব ড. মো. মনিরুজ্জামান গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ইসরাত জাহানকে রংপুরের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
গেল মঙ্গলবার রাতে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. এ এন এম বজলুর রশীদকে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়।
এছাড়া নাটোরের ডিসি আসমা শাহীন, গাইবান্ধার ডিসি মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা ও রংপুরের ডিসি মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
১৯ দিন আগে
রাজশাহী বোর্ডের এসএসসির ফলে বড় অবনতি
রাজশাহীকে বলা হয় শিক্ষানগরী, কিন্তু বিগত বছরগুলো থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয়ের কারণে বড় ধরনের অবনতির কবলে পড়েছে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড। এর ফলে শিক্ষানগরীর সুনাম ক্ষুণ্ন হতে চলেছে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের প্রতি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অভিভাকরা।
রাজশাহী বোর্ডের বিগত বছরগুলোর এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সাত বছর থেকে পাসের হার কমতে শুরু করেছে যা এ বছর সবচেয়ে কম। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ১৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ২০২৫ সালে ৭৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করলেও এবার পাস করেছে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফরাত জেরিন ফলাফল ঘোষণা করেন।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে মোট ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৫২ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৪ জন। পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৯০৮ জন। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার ৮৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ছাত্র ৯২ হাজার ৭৭৩ জন এবং ছাত্রী ৮৩ হাজার ২৭১ জন।
ফলাফলে দেখা যায়, ছাত্রীদের পাসের হার ৭০ দশমিক ৭৩ শতাংশ। অন্যদিকে ছাত্রদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ। অর্থাৎ ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের পাসের হার ১৩ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি। ছেলেদের পাশের এই নিদারুণ অবনতির প্রভাব পড়েছে এই শিক্ষা বোর্ডের সার্বিক ফলাফলে।
এ বছর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৬ হাজার ৬১৩ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্রী ৮ হাজার ৯৯১ জন এবং ছাত্র ৭ হাজার ৬২২ জন।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাত বছরের তুলনামূলক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালে পাসের হার ছিল সর্বোচ্চ ৯৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। ২০২০ সালে এ হার ছিল ৯০ দশমিক ৩৭ শতাংশ। ২০২২ সালে ৮৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৮৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৮৯ দশমিক ২৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেন। তবে ২০২৫ সালে পাসের হার কমে দাঁড়ায় ৭৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। চলতি বছর তা আরও কমে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে নেমে এসেছে।
ফল প্রকাশকে ঘিরে নগরীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আগের মতো বড় ধরনের জটলা বা উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়নি। এর অন্যতম কারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না গিয়ে নিজের বাড়িতে অনলাইনে ফলাফল দেখতে পাওয়া। এছাড়া শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফল কেমন হবে তা আগে থেকেই অবগত হওয়া।
অভিভাবকদের মতে, বিগত বছরগুলোতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় কম পরিশ্রম করলেও ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। সেই পরিবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা এখনও বের হতে পারেনি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ শিক্ষকদের প্রতি অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের প্রতি পাঠদানে আরও যত্নশীল হতে হবে। প্রাইভেট-কোচিংয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের বিমুখ করে ক্লাসে উপস্থিতি বাড়াতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
২৯ দিন আগে
পুলিশ কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশ কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে কাজ করবে না, বরং পুলিশকে হতে হবে জনগণের অকৃত্রিম বন্ধু ও নিরাপত্তার প্রতীক। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণ দলীয় প্রভাবমুক্ত করে একটি আধুনিক, দক্ষ ও মানবিক সেবামুখী সংস্থায় রূপান্তর করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।
রবিবার (২ আগস্ট) সকালে রাজশাহী জেলার সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাকাডেমিতে ‘২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচ প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে চরম দলীয়করণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পুলিশ বাহিনীর মনোবল পুনর্গঠনে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, বাহিনীর পেশাদারত্ব ফিরিয়ে আনতে সততা ও শৃঙ্খলার ভিত্তিতে পুরস্কার ও তিরস্কারের নীতি কঠোরভাবে চালু করা হয়েছে। সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের জন্য যেমন পুরস্কৃত করা হচ্ছে, তেমনি অপরাধ বা শৃঙ্খলাভঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারী নবীন কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজকের এই আনন্দঘন মুহূর্তটি তাদের জীবনে অনেক আগেই আসার কথা ছিল। বিগত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে দীর্ঘ ১৮ বছর যাবৎ যে সীমাহীন বঞ্চনা ও অমানবিক যন্ত্রণা তারা সহ্য করেছেন, তা অত্যন্ত পীড়াদায়ক। স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর ন্যায্য অধিকার ও পদমর্যাদা ফিরে পাওয়ায় তিনি সকল কর্মকর্তাকে শুভেচ্ছা জানান।
নবীন এএসপি প্রবেশনারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা দেশের এক ঐতিহাসিক রূপান্তরকালে পেশাগত জীবনে পদার্পণ করছেন। আইনের চোখে রাজপথের কর্মী থেকে প্রান্তিক কৃষক—সকলেই সমান। সেবা নিতে এসে কেউ যেন কোনো প্রকার বৈষম্যের শিকার না হয়, সে বিষয়ে সদা সতর্ক থাকতে হবে। চেইন অব কমান্ড, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও সমন্বিত নেতৃত্বই বাহিনীর মূল শক্তি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ তদন্তে নবীন কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ কারিগরি জ্ঞান অর্জন করতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে, তাই সকল পুলিশ সদস্যদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচ প্রথম পর্যায়ের সদস্যরা তাদের দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে বিভিন্ন পেশায় অর্জিত জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
৩৭ দিন আগে
রাজশাহীতে পদ্মায় নৌকাডুবি, বাবা-ছেলে নিখোঁজ
রাজশাহীর পদ্মা নদীতে ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকা ডুবে এক ব্যক্তি ও তার ছেলে নিখোঁজ হয়েছেন। ওই নৌকার আরও ছয় যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর পৌনে ১টার দিকে নগরীর বড়কুঠি এলাকায় পদ্মায় মাঝনদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ দুজন হলেন—আফছার আলী (৬০) ও তার ছেলে জিয়ারুল হক (৪০)। তাদের বাড়ি রাজশাহীর কাটাখালী থানার শ্যামপুর বালুরঘাট এলাকায়।
ওই নৌকায় জিয়ারুলের মা জাহেরা বেগমও (৫৫) ছিলেন। নৌকা ডুবে গেলে তিনি ভেসে যাচ্ছিলেন। তখন নৌকা নিয়ে স্থানীয় মাঝিরা তাকে উদ্ধার করেন। একইভাবে আরও পাঁচজনকে উদ্ধার করে তীরে আনা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজশাহীর চর মাঝারদিয়াড় এলাকা থেকে ঝাউগাছ কেটে নৌকায় নিয়ে আসছিলেন আটজন যাত্রী। নৌকাটি মাঝনদীতে পৌঁছালে ঢেউয়ে দুলতে দুলতে একপর্যায়ে পানিতে তলিয়ে যায়।
তীরে উঠে জিয়ারুলের মা জাহেরা বেগম আহাজারি করছিলেন। ছেলের উদ্দেশে বারবার বলছিলেন, ‘আমার বাপ নাই, আমার বাপ নাই!’
দুর্ঘটনা ঘটতে দেখে স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। তাদের তাৎক্ষণিক সহায়তায় পানিতে হাবুডুবু খেতে থাকা আট যাত্রীর মধ্যে ছয়জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে মুহূর্তের মধ্যেই নদীর স্রোতে তলিয়ে যান আফছার আলী ও তার ছেলে জিয়ারুল।
নিখোঁজ দুজনকে উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর স্টেশনের উপপরিচালক মনজিল হক।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ছয়জন ডুবুরি আছেন। তারা পানির নিচে গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন। পাশাপাশি নৌকা নিয়েও নদীতে চোখ রাখা হচ্ছে। দুজনকে উদ্ধার করতে অন্ধকার না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযান চলবে বলেও তিনি জানান।
৪২ দিন আগে
গ্রাম পুলিশের স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন
রাজশাহীর পবা উপজেলায় এক গ্রাম পুলিশের স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার হরিয়ান পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নারী হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ লালন শেখের স্ত্রী ফরিদা খাতুন (৪০)।
ফরিদাকে রক্ষা করতে গিয়ে তার ছেলে মো. ফয়সালও গুরুত্বর আহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছাবের আলী পালু জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, প্রতিবেশী মো. পরশ (১৮) নামের একটি ছেলে ফরিদা খাতুনকে ছুরিকাঘাত করেন। ঘটনার পর উত্তেজিত গ্রামবাসী অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। তবে এর আগেই অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।
তিনি আরও বলেন, কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রাজশাহীর কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কাদেরী এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে পরে জানানো হবে।
৪৫ দিন আগে
রাজশাহীতে আম পাড়া নিয়ে বিরোধে নিহত ১
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় আম পাড়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে আব্দুর রাজ্জাক (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের হরিহরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুর রাজ্জাক ওই গ্রামের ভূগোর মণ্ডলের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, আম পাড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ওই গ্রামের রাসেল নামের এক যুবক আব্দুর রাজ্জাকের আমবাগান থেকে আম পেড়ে বাজারে বিক্রি করেন। গতকাল (শনিবার) এ বিষয়ে রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় একই গ্রামের মুকবুল হোসেন (৫২), তার ছেলে শাহিন আলমসহ (৩০) কয়েকজন পূর্বশত্রুতার জেরে আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তারা আব্দুর রাজ্জাককে কিল-ঘুষি ও ইট দিয়ে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুর রাজ্জাককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করছে।
৭২ দিন আগে
রাজশাহীতে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি
রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার স্বর্ণপট্টির একটি দোকানে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে কারুশ্রী জুয়েলার্সে প্রবেশ করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।
ব্যবসায়ীদের ধারণা, এ দোকানে কয়েক কোটি টাকার স্বর্ণালঙ্কার ছিল।
আজ (শনিবার) সকালে দোকান খোলার সময় প্রথম ঘটনাটি ধরা পড়ে। পরে দেখা যায়, আফিয়া জুয়েলার্স ও কারুশ্রী জুয়েলার্সের মধ্যবর্তী পার্টিশন দেয়াল কেটে দুর্বৃত্তরা ভেতরে প্রবেশ করে বলে স্থানীয়রা দাবি করে।
পুলিশের ধারণা, প্রথমে আফিয়া জুয়েলার্সের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে চক্রটি। পরে সেখান থেকে দেয়াল কেটে কারুশ্রী জুয়েলার্সে প্রবেশ করে এবং সিন্ধুক ভেঙে স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়। বের হওয়ার সময় তারা আবার আফিয়া জুয়েলার্সে তালা লাগিয়ে যায়।
কারুশ্রী জুয়েলার্সের মালিক তূর্য সরকার সকালে দোকান খুলতে এসে ভেতরের এলোমেলো অবস্থা দেখে ডাকাতির বিষয়টি নিশ্চিত হন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের ব্যবসায়ীরাও ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। পরে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা তাদের সব দোকান বন্ধ করে প্রতিবাদ জানান।
পুলিশ জানায়, ঠিক কত পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট হয়েছে, তা এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। দোকান কর্তৃপক্ষ হিসাব-নিকাশ শেষে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট তথ্য জানাবে। তবে প্রাথমিকভাবে কয়েক কোটি টাকার স্বর্ণালংকার লুট হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের ধারণা, এটি পরিকল্পিত একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতি। দোকানের বিন্যাস ও ভেতরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে আগে থেকেই চক্রটি জানত বলেই মনে করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল ঘিরে বিভিন্ন ধরনের সন্দেহও তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, আশপাশের স্থাপনা থেকে দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণ করে ডাকাতচক্র পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। তবে এসব বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
বোয়ালিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। এটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
এদিকে, ঘটনার পর স্বর্ণপট্টি এলাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঘটনার প্রতিবাদে দুপুরে জুয়েলার্স সমিতির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিলও করা হয়। ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে লুট হওয়া স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় জুয়েলার্স সমিতি।
৮০ দিন আগে