রাজশাহী
পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশের বর্তমান পোশাক নিয়ে বাহিনীর মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ পুলিশকে আগের কোনো ঐতিহ্যমণ্ডিত পোশাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ মহলে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শনিবার (২৮ মার্চ) রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইন সবার জন্য সমান—এ কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশ এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রের এই রূপান্তরকালে আপনাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। নিজেদের এর উপযোগী করে তুলতে হবে। সততা, দক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘পুলিশের আচরণ হতে হবে মানবিক এবং আইনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল। মনে রাখতে হবে, চেইন অব কমান্ড, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও সমন্বিত নেতৃত্বই একটি বাহিনীর মূল শক্তি। আইনের চোখে সবাই সমান, হোক সে কোনো রাজনৈতিক কর্মী বা সাধারণ কৃষক।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকা অগ্রগণ্য। বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, পুলিশ কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়। পুলিশ বাহিনীকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে একটি আধুনিক, সেবাধর্মী ও মানবিক সংস্থায় রূপান্তর করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’ পুলিশের জনবল বৃদ্ধিতে সরকার ইতোমধ্যে নানাবিধ উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, স্বাধীন ও শক্তিশালী পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠনে কাজ করা হচ্ছে, যার প্রধান কাজ হবে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা। বক্তব্যের শুরুতে তিনি মুক্তিযুদ্ধের শহিদ, স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এবং স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।
এর আগে মন্ত্রী শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের অভিবাদন গ্রহণ ও প্যারেড পরিদর্শন করেন। পরে প্রশিক্ষণ শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
১ দিন আগে
জনপ্রত্যাশা ও ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে জনপ্রত্যাশা এবং ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর ভিত্তিতে সমঝোতার মাধ্যমে যাবতীয় সংশোধনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
শনিবার (২৮ মার্চ) রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবিধানে জিয়াউর রহমান-এর নাম স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এ সমস্ত বিষয়ে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং সেখানে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা করা হবে। জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আমরা সব কিছুই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রণয়ন করবো। সেখানে বাংলাদেশের মানুষের বর্তমান সময়ের প্রত্যাশা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্বপ্নকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।’
তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ স্বীকৃত বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে সংবিধান সংশোধন কমিটি খসড়া প্রণয়ন করবে। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে বিধি মোতাবেক প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পাঠের মাধ্যমে আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পরে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের নবীন কর্মকর্তাদের মাঝে সনদপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আজ থেকে আপনাদের জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো। এই ইউনিফর্ম কেবল ক্ষমতার প্রতীক নয়; এটি দায়িত্ব, ত্যাগ এবং সেবার প্রতীক।’
এ সময় নবীন কর্মকর্তাদের সততা, সাহস ও মানবিকতার সঙ্গে দেশসেবায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের সদস্যদের সফলভাবে প্রশিক্ষণ সমাপ্তিতে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং তাদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল (অ্যাডিশনাল আইজিপি) জি এম আজিজুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
নতুন বাংলাদেশে পুলিশকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত রাখা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা এবং জনবান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা হবে।’
শনিবার সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপারদের এক বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি যেখানে নবীন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অনেক বেশি।’ তিনি জানান, বর্তমান সরকার একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন’ গঠন করে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে মেধা ও জ্যেষ্ঠতাকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছে।
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘জনগণের সেবক হোন। ব্রিটিশ আমলের সেকেলে পুলিশ আইন পরিবর্তন করে সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। আপনারা অপরাধীর মনে ভয় এবং নিরপরাধীর মনে প্রশান্তি জাগাবেন।’ একইসঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ এবং ডিজিটাল অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ কারিগরি দক্ষতা অর্জনের তাগিদ দেন তিনি।
২ দিন আগে
রাজশাহীতে টাকা চাওয়া নিয়ে দোকানিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় দোকানের বাকির টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র ছুরিকাঘাতে সাব্বির (২১) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২২ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের বেড়াবাড়ী দিঘির মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাব্বির স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীরের ছেলে। তিনি একটি দোকান পরিচালনা করতেন।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল একই এলাকার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল খানের ছেলে মঞ্জুর খানের কাছে বাকির টাকা দাবি করেন সাব্বির। তবে পূর্ব বিরোধ থাকায় তার জেরে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মঞ্জুর, রুম্মন ও আরেক সাব্বির মিলে তাকে হঠাৎ ছুরিকাঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মোহনপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোদ্দাসের খান জানান, ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
৭ দিন আগে
রাজশাহীতে ট্রাকচাপায় বাবা-ছেলে নিহত
রাজশাহীর পুঠিয়ায় বালুবাহী ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-ছেলে নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে উপজেলার বানেশ্বর কলাহাটা এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— কাওসার (২৬) ও তার ছেলে রেদোয়ান (৫)। তাদের বাড়ি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের শলুয়া গ্রামে।
দুর্ঘটনার বিষয়ে পবা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক খান জানান, রাজশাহী থেকে নাটোরগামী একটি বালুবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাবা ও ছেলে মারা যান।
দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি জব্দ করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
১২ দিন আগে
রাজশাহীতে ইউপি চেয়ারম্যানকে মারধর করে ভিজিএফ কার্ডের তালিকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
রাজশাহীর দুর্গাপুরে নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজাদ আলীকে (৬২) মারধর করে ভিজিএফ কার্ডের তালিকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক ইউপি সদস্যসহ বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন ভুক্তভোগী।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের সময় প্রাণ বাঁচাতে আজাদ আলী মোটরসাইকেল ফেলে পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানান, আজাদ আলী দুপুরে মোটরসাইকেলে শ্যামপুর বাজার হয়ে উপজেলা সদরের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করা ইউপি সদস্যসহ কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী তার পথরোধ করেন। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। পরে তার কাছ থেকে ভিজিএফ কার্ডের তালিকাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
এ ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
চেয়ারম্যান আজাদ আলী অভিযোগ করেন, একই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও শ্যামপুর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল ইসলামের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় হামলাকারীরা তাকে মারধর করে এবং পরিষদের দাপ্তরিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেন।
হতদরিদ্রদের জন্য ভিজিএফ কার্ডের তালিকা প্রস্তুত ও চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে কয়েকজন স্থানীয় নেতা-কর্মীর সঙ্গে আজাদ আলীর বিরোধ তৈরি হয়েছিল। এর জের ধরেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা এলাকাবাসীর।
নওপাড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর (শ্যামপুর) ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম বলেন, স্বচ্ছতার ভিত্তিতে চেয়ারম্যান ভিজিএফ কার্ডের তালিকা প্রস্তুত করেছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম ও বিএনপি নেতা আফাজ আলী তার পথরোধ করে হামলা চালান।
তবে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম হামলার ঘটনা স্বীকার করেন। তবে তার দাবি, ভিজিএফ কার্ড দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। এ কারণেই তাকে মারধর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আজাদ আলী এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, টাকা দাবি করার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। বরং রেজাউল ইসলামসহ কয়েকজন ব্যক্তি ২৪০ জনের একটি তালিকা তাকে দিয়েছিলেন। সেই তালিকা অনুযায়ী কার্ড দিতে না পারায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে।
এ ঘটনায় দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফোনে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাশতুরা আমিনা বলেন, ঘটনাটির বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাকে জানিয়েছেন। তাকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
১৮ দিন আগে
রাজশাহীতে বিএনপির দুপক্ষের বিরোধে এক নেতাকে পিটিয়ে হত্যা
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় বিএনপির কর্মীরা নিজ দলের এক নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নের সিপাইপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম এরশাদ আলী (৬৫)। তিনি সিপাইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ইউসুফপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ছিলেন। তিনি রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাইদ চাঁদের অনুসারী ছিলেন।
অভিযুক্তরা জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের অনুসারী। তিনি এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে চারঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল ইসলাম জানান, গতকাল (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর স্থানীয়রা মসজিদে বসে একটি ইসলামি জলসা আয়োজন করার ব্যাপারে আলোচনা করছিলেন। এ সময় একপক্ষ বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলকে প্রধান অতিথি করতে চান। আর অপরপক্ষ স্থানীয় এমপি আবু সাঈদ চাঁদকেই প্রধান অতিথি করতে চান। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কিতে আলোচনা ভেস্তে যায়।
ঘটনার বিবরণে তিনি আরও জানান, তর্কাতর্কির পর রাতে এরশাদ আলী তারাবির নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরছিলেন। ওই সময় চায়ের দোকানে বসে ছিলেন আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের অনুসারী সাইদুর রহমান, গাজী, সুমন আলী, সাব্বির, আশাদুল, জোয়াদসহ কয়েকজন। তারা এরশাদ আলীকে দেখতে পেয়ে লাঠি ও গাছের ডাল দিয়ে তাকে পেটাতে থাকেন। এ সময় ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। তার বাড়ির পাশেই ঘটনাটি ঘটে। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাড়ি নিয়ে যান।
এসআই সিরাজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তরা ঘটনার পরই পালিয়েছেন। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে। আর নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।
৩০ দিন আগে
রাজশাহীতে ফেসবুক লাইভে এসে তরুণীর আত্মহত্যা
রাজশাহীতে ফেসবুক লাইভে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক তরুণী। প্রাথমিকভাবে প্রেমঘটিত মনোমালিন্যকে এ ঘটনার কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরীর রাজপাড়া থানার কাদের মণ্ডলের মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তরুণীর নাম রোজিনা সরকার পাখি (২১)। তিনি প্রায় দুই বছর ধরে তার পালিত মা রোজী খাতুনের (৪০) সঙ্গে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি নওগাঁর সাপাহার উপজেলায়। তার বাবার নাম ইদ্রিস আলী।
এ বিষয়ে রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এক যুবকের সঙ্গে প্রেমঘটিত মনোমালিন্যের জেরে তিনি এ পথ বেছে নেন। আত্মহত্যার আগে তিনি ফেসবুকে লাইভে ছিলেন এবং নিজের আইডি থেকে আত্মহত্যার ইঙ্গিত দিয়ে একাধিক পোস্ট দেন।
বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর প্রায় ৫ ঘণ্টা আগে রোজিনা তার ফেসবুক আইডিতে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আজকে আমার শেষ দিন। আল্লাহ মাফ করুক। জানি না জান্নাতে যাব নাকি জাহান্নামে যাব। পৃথিবীতে আমার জন্য কোনো সুখ নেই। আল্লাহ হাফেজ, প্রিয় বন্ধুরা।’
মৃত্যুর ২ ঘণ্টা আগে তিনি আরেকটি পোস্টে লেখেন, ‘বিদায় এই সুন্দর পৃথিবী।’ এছাড়া মৃত্যুর আগে কথিত প্রেমিককে উদ্দেশ করে ‘আই লাভ ইউ’ ও ‘আই মিস ইউ’ লিখেও পোস্ট দেন।
পরে তিনি ফেসবুক লাইভে এসে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের দরজা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে।
৩২ দিন আগে
মসজিদে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তের গুলি, রাজশাহীতে মুসল্লি নিহত
রাজশাহী মহানগরীতে মসজিদে নামাজ আদায় করতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের গুলিতে এক মুসল্লি নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে নগরীর খোঁজাপুর গোরস্তানের প্রাচীরসংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম মো. মোস্তফা (৫০)। তিনি নগরীর মতিহার থানার ডাঁশমারী এলাকার তইমুর উদ্দীনের ছেলে ছিলেন।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অবুল কালাম আজাদ স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, মোস্তফা মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তার ডান পায়ে গুলি লাগে এবং তিনি ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎস তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্মকর্তা ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, মোস্তফাকে হাসপাতলে আনা হলে তাকে আমারা মৃত অবস্থায় পাই। তিনি ডান পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।
এ বিষয়ে ওসি বলেন, কী কারণে হামলা হয়েছে, সেটি এখনও জানা যায়নি। হামলাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এই বিষয়ে এখন তদন্ত করা হচ্ছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৪৩ দিন আগে
রাজশাহীর ৬টি আসনে ৪টিতে বিএনপি, দুটিতে জামায়াত বিজয়ী
রাজশাহী জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৪টিতে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বাকি দুটি আসনে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। জেলার ৬টি আসনে পোস্টাল ভোটসহ বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের মোট ১৬০টি কেন্দ্রের মধ্যে সবগুলো কেন্দ্রের ফলাফলে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুজিবুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৭৮৬ ভোট। বিএনপির প্রার্থী শরীফ উদ্দীন পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯০২ ভোট। ১ হাজার ৮৮৪ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মুজিবুর রহমান।
অপরদিকে, রাজশাহী-২ (সদর) আসনে মোট কেন্দ্র ১১৬টি। এর মধ্যে সবকয়টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৪৭ ভোট। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৪৬৬ ভোট।
এছাড়া, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে মোট কেন্দ্র ১৩১টি। সবয়কটি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৬৮ ভোট। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫৬৫ ভোট।
অন্যদিকে, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১২২টি। এর মধ্যে ১২২টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. আব্দুল বারী সরদার পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ২৪৮ ভোট। বিএনপি প্রার্থী ডি এম ডি জিয়াউর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৭৫৯ ভোট। ৮ হাজার ৪৪৯ ভোটের ব্যবধানে ডা. আব্দুল বারী সরদার বিজয়ী হয়েছেন।
এছাড়াও, রাজশাহী ৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ১৩২টি। সবগুলো কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম মণ্ডল পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৬১২ ভোট। এখানে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী মাওলানা মনজুর রহমান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৮৭৩ ভোট।
রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১১৯টি। সবগুলো কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদ পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬৭২ ভোট। জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী নাজমুল হক পেয়েছেন ৯২ হাজার ৯৬৫ ভোট।
৪৫ দিন আগে