সুন্দরবন
সুন্দরবনে ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র ৩ সদস্যের আত্মসমর্পণ
সুন্দরবনের ‘কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর সক্রিয় তিন সদস্য কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তারা ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৪০ রাউন্ড গোলাবারুদ জমা দিয়েছেন। এ ছাড়াও, তাদের কাছে জিম্মি থাকা এক জেলেকে উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলাধীন বনের তাম্বুলবুনিয়া ফরেস্ট অফিস-সংলগ্ন কলামুলি খাল এলাকায় ডাকাতরা কোস্ট গার্ডের কাছে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
আত্মসমর্পণকারীরা হলেন—বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার আলামিন হোসেন (৪০), খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার মনিরুজ্জামান মামুন (২০) এবং সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার তৈবুর রহমান (২৪)। তারা সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সক্রিয় সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে তারা সুন্দরবনে ডাকাতিসহ জেলে-বাওয়ালীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিলেন বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড সূত্র।
জব্দ করা অস্ত্র গোলাবারুদের মধ্যে রয়েছে দুটি দেশি তৈরি একনলা বন্দুক, একটি দেশি পাইপগান, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং একটি ওয়াকিটকি।
কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন আজ (বৃহস্পতিবার) জানান, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক ও সফল অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। কোস্ট গার্ডের কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নিয়মিত অভিযানের ফলে দস্যুরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিনজন সক্রিয় সদস্যা দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। গতকাল (বুধবার) ওই তিন ডাকাত সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় তারা অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়েছেন।
কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা আরও জানান, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, সতর্কতা এবং কঠোর অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছে। সরকারের নির্দেশেনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ জেলে-বাওয়ালী ও বনজীবিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পারিচালিত হচ্ছে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজনের তথ্যমতে, ওই অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত ৪২ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। দস্যুদের আস্তানায় জিম্মি থাকা ৪১ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়। এ সময়ে ৪৯টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১০৮ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগানের গোলা, দুটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া, সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন বাহিনী তার সহযোগীসহ মোট সাতজন ডাকাত সদস্য আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
জব্দকৃত আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং আত্মসমর্পণকৃত ডাকাত সদস্যেদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাসহ পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলেকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছে বলে জানান কোস্ট গার্ডে এই কর্মকর্তা।
১২ ঘণ্টা আগে
খুলনায় অস্ত্র ও গুলিসহ সুন্দরবনের জলদস্যু আটক
সুন্দরবনের জলদস্যু ও একাধিক ডাকাতি মামলার আসামি আজহারুল ইসলাম ওরফে খানজাহানকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬ এর স্পেশাল কোম্পানির অভিযানিক দল। এ সময় তার কাছ থেকে ২টি ওয়ান শুটার গান এবং ৩৬ রাউন্ড তাজা সিসা বুলেট উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে র্যাব-৬ খুলনার পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আজহারুল ইসলাম ওরফে খানজাহান খুলনা জেলার দাকোপ থানাধীন জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেতকাশি ইউনিয়নের সোনামুকুন্দি মোরলের খাল-সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
৫ দিন আগে
সুন্দরবনে কুমিরের আক্রমণে নারী জেলে নিহত
বাগেরহাটের সুন্দরবনে শেলা নদীতে কুমিরের আক্রমণে সেলিনা বেগম (৫২) নামে এক নারী জেলে নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১৭ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই নারী জেলার মোংলা উপজেলাধীন সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের জয়মনি লঞ্চঘাট এলাকায় জাল টেনে মাছ ধরার সময় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সেলিনা বেগম (৫২) বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনি গ্রামের আব্দুল শেখের স্ত্রী ছিলেন।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, ১ জুন থেকে আগামী ৩১ আগাস্ট পর্যন্ত ৩ মাস সুন্দরবনে জেলে,বাওয়লী, মৌয়াল ও পর্যটকসহ সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ। কিন্তু ওই এলাকার তিনজন নারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লোকালয়-সংলগ্ন শেলা নদীর লঞ্চঘাট এলাকায় জাল টেনে মাছ ধরছিলেন। এ সময় হঠাৎ একটি কুমির সেলিনা বেগম নামে ওই নারীকে টেনে নদীর মধ্যে নিয়ে যায়। পরে তার সঙ্গীরা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
জয়মনি এলাকার স্থানীয় এক সূত্র জানায়, সুন্দরবন-সংলগ্ন লোকালয়ের অসহায় দরিদ্র বেশকিছু নারী বিভিন্ন সময়ে সুন্দরবনের নদ-নদীতে জাল টেনে মাছ এবং মাছের রেনু আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কুমিরের আক্রমণে নিহত ওই নারী বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও জীবিকার তাগিদে শেলা নদীতে জাল টেনে মাছ আহরণ করছিলেন। এ সময় কুমিরের আক্রমণে তার প্রাণহানি ঘটে। বন-সংলগ্ন লোকালয়ের অসহায় নারী-পুরুষদের কর্মসংস্থান এবং আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান স্থানীয়রা।
ডিএফও মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বৈধ পাশ (অনুমতিপত্র) নিয়ে জেলে, বাওয়ালী, মৌয়ালসহ পেশাজীবীরা সুন্দরবনে প্রবেশ করে বাঘ, কুমিরসহ বন্যপ্রাণীর আক্রমণে নিহত অথবা আহত হলে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। ওই নারী নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন অবৈধভাবে সুন্দরবনের নদীতে মাছ আহরণ করতে গিয়ে কুমিরের আক্রমণে নিহত হয়েছেন। এক্ষেত্রে তাকে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা দেওয়া সম্ভব নয়।
২১ দিন আগে
সুন্দরবনে দস্যুদের সঙ্গে বনকর্মীদের গোলাগুলি, অপহৃত ৪ জেলে উদ্ধার
সুন্দরবনে বনদস্যুদের সঙ্গে বনকর্মীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। গোলাগুলির পরে ওই স্থান থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অপহরণের শিকার হওয়া ৪ জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) সকালে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের কোকিলমনি এলাকার সিঙারটেকে এই ঘটনা ঘটে।
গোলাগুলির পরে ওই স্থান থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অপহৃত ৪ জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় বনদস্যুদের ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা, একটি বন্ধুক ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছেন বনরক্ষীরা।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন— শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের আবদুল বারেক খান ও মো. হাসান এবং খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার নাছিম ও দাকোপ উপজেলার ইরাক শেখ।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সিঙারটেক এলাকায় শেলারচর টহল ফাঁড়ি এবং স্মার্টটিমের যৌথ টহল চলাকালীন ডাকাতের উপস্থিতি টের পেয়ে সেদিকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ডাকাতরা গুলি ছুড়লে বনকর্মীরা পাল্টা গুলি চালান। তাদের দিক থেকে ৭ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। ডাকাতরা পরবর্তীতে তাদের ট্রলার এবং ৪ জন জিম্মিকে রেখে পালিয়ে যান।
তিনি আরও জানান, এ সময় সেখান থেকে জেলেদের ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা, জিম্মি থাকা ৪ জেলে, একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত জেলেরা শেলারচর টহল ফাঁড়ির হেফাজতে আছেন। তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। বনরক্ষীদের গুলি করা দস্যুরা শরীফ বাহিনীর সদস্য বলে জানা গেছে বলে জানান তিনি।
৫৭ দিন আগে
সুন্দরবনে ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অস্ত্রসহ আটক
সুন্দরবনের ডাকাত ‘ছোট সুমন বাহিনী’র সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মো. আব্দুস সামাদ মোল্লাকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে কোস্টগার্ড।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে কোস্টগার্ড মোংলা জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
আটক মো. আব্দুস সামাদ মোল্লা (৩৫) বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে ডাকাতি করে আসছিলেন।
সাব্বির আলম সুজন বলেন, সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যুর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এর অংশ হিসেবে কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযানের ধারাবাহিক সফলতার অংশ হিসেবে তৃতীয়বারের মতো ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় অভিযান চালিয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাত ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ডকে আটক করা হয়।
তিনি আরও বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, আব্দুস সামাদ মোল্লা পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সুন্দরবন থেকে বাগেরহাটের রামপাল থানাধীন শুকদারা বাজার-সংলগ্ন এলাকায় আসবেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল (সোমবার) রাত ১১টার দিকে কোস্টগার্ড বেইস মোংলা ওই এলাকায় বিশেষ একটি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে আটক সামাদ মোল্লার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল (সোমবার) দিবাগত রাত ২টার দিকে মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের নন্দবালা খাল-সংলগ্ন এলাকা থেকে ১টি একনলা বন্দুক, ১টি এয়ারগান ও ২ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
জব্দ করা অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলছে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান এই কোস্টগার্ড কর্মকর্তা ।
৭৯ দিন আগে
সুন্দরবনে জলদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি, মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছেন ৬ জেলে
মুক্তিপণের দাবিতে সুন্দরবনে জলদস্যুদের হাতে অপহরণের শিকার ১০ জেলের মধ্যে ৬জন জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়িতে ফিরেছে।
শুক্রবার (৪ মার্চ) সকালে সাদ্দাম, ইউনুস আলী ও সাইফুল ইসলাম এবং আজ (শনিবার) ভোরে আনারুল, ইমরান ও সুশান্ত বাড়িতে ফিরে আসেন। এর আগে অপহরণের শিকার এসব জেলেদের পরিবারের সদস্যরা জলদস্যুদের দাবিকৃত মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করেন।
ফিরে আসা জেলে ও তাদের স্বজনরা জানিয়েছেন, সাদ্দামের মুক্তিপণ বাবদ ৪০ হাজার, আনারুল, সুশান্ত এবং ইমরানের জন্য মাথাপিছু ৩৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। এছাড়া ইউনুস আলী ও সাইফুল ইসলামের জন্য মাথাপিছু ২৫ হাজার টাকা গুনতে হয়েছে। তবে এনামুল ও হযরতসহ চার জেলের এখনও কোন খোঁজ মেলেনি।
এদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুন্দরবনে যাতায়াতকারী জেলেরা দাবি করেছেন, ১ এপ্রিল বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার নির্দেশনা দেন। তার নির্দেশনার পর র্যাব, কোস্টগার্ড, বিজিবি ও পুলিশ তৎপর হওয়ার কারণে জলদস্যুরা অপহৃত অপর জেলেদের নিয়ে নিচের দিকে নেমে গেছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন অফিসার মো. ফজলুল হক জানান, অপহরণ কিংবা ফিরে আসার বিষয়ে ভুক্তভোগী জেলেদের পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের কিছু জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ৩০ মার্চ সুন্দরবনের চুনকুড়ি, মালঞ্চ এবং মামুন্দো নদী থেকে ‘ডন ও ‘আলিফ ওরফে আলিম’ বাহিনীর পরিচয়ে অপর চার জেলের সঙ্গে তাদের অপহরণ করা হয়।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান জানান, এ ধরনের ঘটনায় জেলেরা অনেক সময় নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করার চেষ্টা করেন। অপহৃতদের জীবনের ঝুঁকির কারণে তারা পুলিশকে তথ্য দিতে চায় না। তবে বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি।
এদিকে, বনবিভাগের কর্মকর্তা জানান, সুন্দরবনের নোটাবেঁকী টহল ফাঁড়ি-সংলগ্ন অভয়ারণ্য এলাকায় প্রবেশ করে সাতজনের একটি মৌয়াল দল মধু সংগ্রহ করছিলেন। পরবর্তীতে অভয়ারণ্যে মধু কাটার অভিযোগে স্মার্ট টহল টিমের সদস্যরা তাদের আটক করেছেন। তবে নেটওয়ার্কের বাইরে অবস্থানের কারণে আটক ৭ মৌয়ালের কারও নাম পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
৯৫ দিন আগে
দস্যুর ভয়ে সুন্দরবনের জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ, রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কায় বন বিভাগ
বনদস্যু আতঙ্কে দুবলারচরের দশ হাজারের অধিক শুঁটকিকরণ জেলে গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যা থেকে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখে চরে অবস্থান নিয়েছেন। গত দুই দিনেও সন্ধান মেলেনি সোমবার রাতে অপহৃত ২০ জেলের। মাছধরা বন্ধ থাকায় বনবিভাগ রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কায় রয়েছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ দুবলার আলোরকোল থেকে বলেন, সুন্দরবন ও সাগরে নিরাপত্তা না থাকায় বনদস্যুদের হাতে অপহরণের আতঙ্কে দুবলার দশ হাজারের অধিক শুঁটকিকরণ জেলে বুধবার সন্ধ্যা থেকে সাগর ও সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন। জেলেরা এখন চরে অলস সময় কাটাচ্ছেন। মৌসুমের শেষে এসে কী নিয়ে বাড়ি যাবেন, সে চিন্তায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন।
তিনি বলেন, সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম বাহিনী নামে বনদস্যুদের চারটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে সুন্দরবন ও সাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। জেলেদের ধরে নিয়ে আটকে মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দিচ্ছে। যারা টাকা দিতে পারছে না তাদের বেদম মারধর করছে দস্যুরা। গত সপ্তাহে দস্যুদের মারধরে গুরুতর আহত হয়ে ৪ জন জেলে রামপাল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো তৎপরতা না থাকায় দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে গেছে। ২০১৮ সালে তৎকালীন সরকার সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করেছিল। তখন থেকে জেলেরা নিরাপদে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সুন্দরবনে দস্যুরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি জানিয়েছেন।
আলোরকোলের রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী বলেন, আগে প্রবাদ ছিল, ‘জলে কুমির, ডাঙ্গায় বাঘ। এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, সাগরে গেলে ডাকাত।’
তিনি বলেন, দস্যুদের তাণ্ডবে মাছ ধরা বন্ধ করা হয়েছে। গত ১৫ দিনের মধ্যে অনেক জেলেকে দস্যুরা অপহরণ করে নিয়ে গেছে। দস্যুদের হাতে এখন কমপক্ষে শতাধিক জেলে আটক রয়েছেন। গত সোমবার রাতে ২০ জেলেকে নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর দিয়ে গেছে। গত দুই দিনেও ২০ জেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের জেলেপল্লী দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিলটন রায় বলেন, দস্যু আতঙ্কে জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রাখায় রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান বলেন, বনদস্যু আতঙ্কে আমাদের স্টেশন অফিস থেকে কোনো জেলে সুন্দরবনে মাছ ধরার পাস নিচ্ছেন না। ফলে আমাদের মাসিক রাজস্বের টার্গেটে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
সুন্দরবন-সংলগ্ন শরণখোলা বাজারের জালাল মোল্লা, আনোয়ার সওদাগর, রিপন হাওলাদারসহ কয়েকজন মুদি দোকানি বলেন, জেলেরা সুন্দরবনে না যাওয়ায় আমাদের বেচাকেনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বনরক্ষীরা জেলেদের নিরাপত্তায় কাজ করছেন।
১৪০ দিন আগে
সুন্দরবনে দুই বছরে ৫৭ বনদস্যু গ্রেপ্তার, ৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার
সুন্দরবনে দস্যু ও ডাকাত দমনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে গত দুই বছরে ৫৭ জন বনদস্যু ও ৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ২০২৫ সালেই গ্রেপ্তার হয়েছে ৪৯ জন। কোস্ট গার্ড সদর দপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মাত্র ৮ জন দস্যু গ্রেপ্তার হলেও ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯ জনে। গত দুই বছরে দস্যুদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫টি হাতবোমা, ৭৮টি দেশি অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ গুলি ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম।
২০২৫ সালে দস্যু বিরোধী অভিযানে ৪৪৮টি কার্তুজ উদ্ধার করার পাশাপাশি জিম্মি দশা থেকে ৫২ জন নারী-পুরুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালে উদ্ধার করা অস্ত্রের তালিকায় ৫টি আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি ইয়াবা ও স্প্লিন্টার বলও ছিল।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, গত এক বছরে সুন্দরবনে অন্তত ২৭টি সফল অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানে আছাবুর বাহিনী, হান্নান বাহিনী, আনারুল বাহিনী, মঞ্জু বাহিনী, রাঙ্গা বাহিনীসহ প্রায় ১০টি ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের কমান্ডার লে. কর্নেল সিয়াম বলেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে এবং পর্যটক ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
১৬৭ দিন আগে
সুন্দরবনে বাঘ বাড়লেও অবাধ হরিণ শিকারে বাড়ছে উদ্বেগ
সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে নানা বয়সী বাঘের আনাগোনা বেড়েছে। ছয় বছরের ব্যবধানে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় আশার আলো দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে একইসঙ্গে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বাঘের প্রধান খাদ্য হরিণের সংকট। অমাবস্যা ও পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে নিয়মিত হরিণ শিকারের ফলে বাঘের খাদ্যভিত্তি মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।
বনবিভাগের তথ্য অনুসারে, ২০১৮ সালের জরিপে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১১৪টি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জরিপে তা বেড়ে ১২৫টিতে দাঁড়িয়েছে। বাঘের মোট খাদ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে হরিণের মাংস থেকে। বাকি ২০ শতাংশ আসে শূকর, বনবিড়াল ও বানর থেকে। তবে নিয়মিত হরিণ শিকারের কারণে বনে বাঘের প্রয়োজনীয় শিকারের প্রাপ্যতা কমে যাচ্ছে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা জানান, গহীন বনে পাতার ফাঁদ ও চেতনানাশক ট্যাবলেট ব্যবহার করে হরিণ শিকার করা হচ্ছে। এর ফলে চাঁদপাই, শরণখোলা, সাতক্ষীরা ও খুলনা রেঞ্জে বাঘের খাদ্যসংকট তীব্র হচ্ছে। খাদ্যের অভাবে বাঘ নদী ও খাল পেরিয়ে লোকালয়ে চলে আসার ঝুঁকিও বাড়ছে। একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘের সপ্তাহে কমপক্ষে ৫০ থেকে ৬০ কেজি মাংসের প্রয়োজন হয় বলে জানান তারা।
১৬৮ দিন আগে
সুন্দরবন থেকে উদ্ধার বাঘটি সংকটাপন্ন, চিরুনি অভিযান জোরদার
সুন্দরবনের চোরশিকারীদের ফাঁদ থেকে উদ্ধার করা বাঘটি চরম সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। কয়েকদিন ধরে ফাঁদে আটকে থাকার কারণে বাঘটির সামনের বাঁ পায়ে পচন ধরেছে এবং রক্তনালী নষ্ট হয়ে গেছে। দীর্ঘ অনাহারে থাকার কারণে শরীরের মাংস ও শরীরের চর্বি ভেঙে বাঘটি হাড্ডিসার হয়ে গেছে।
খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে বাঘটির চিকিৎসা চলছে। এ বিষয়ে বন বিভাগ এবং পশু চিকিৎসকরা বলেছেন, প্রাণীটি ট্রমার মধ্যে রয়েছে। তাকে সুস্থ করতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা
উদ্ধার করা বাঘটি পুর্ণবয়স্ক স্ত্রী প্রজাতির এবং আনুমানিক বয়স ৩–৪ বছর। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৩–৪ দিন আগে মোংলা উপজেলার শরকির খাল-সংলগ্ন এলাকায় চোরা হরিণ শিকারীদের ফাঁদে আটকা পড়ে বাঘটি। শনিবার বিকেলে এক জেলে বিষয়টি দেখে বন বিভাগকে খবর দেয়। রবিবার বিকেল ৩টার দিকে ট্রানকুইলাইজার ব্যবহার করে বাঘটিকে অচেতন করে উদ্ধার করা হয় এবং লোহার খাঁচায় খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে আনা হয়।
গাজীপুর সাফারি পার্কের পশু চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. জুলকারনাইন জানান, নাইলনের সুতা দিয়ে তৈরি ফাঁদে বাঘটির পা আটকে গভীর ক্ষত হয়েছে। পায়ের ওই অংশে পচন ধরা এবং রক্তনালী নষ্ট হওয়ার কারণে রক্ত চলাচল করছে না। শরীরে খনিজ ও লবণের ঘাটতিও দেখা দিয়েছে। নাক দিয়ে পানি ঝরে এবং অনাহারে থাকায় বাঘটি হাড্ডিসার হয়ে গেছে। স্প্রে ও ড্রেসিং প্রয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসা চলছে, তবে তার শারীরিক অবস্থা এখনও স্থিতিশীল নয়।
ডা. জুলকারনাইন বলেন, ‘চিকিৎসার জন্য বাঘটিকে অন্যত্র নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। চেষ্টা চলছে সুস্থ করার। চিকিৎসায় সে সুস্থ হতে পারে, আবার নাও হতে পারে।’
চিরুনি অভিযান ও নিরাপত্তাব্যবস্থা
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের ডিএফও মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানিয়েছেন, চোরশিকারীদের ফাঁদ উদ্ধার এবং তাদের ধরার জন্য সোমবার সকাল থেকে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। বন বিভাগের স্টাফরা কর্ডন তৈরি করে তল্লাশি চালাচ্ছে। আগামী দুই দিন অভিযান চলবে। তবে সোমবার বিকেল পর্যন্ত কোনো শিকারী আটক বা ফাঁদ জব্দ করার খবর পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, গত ৮ মাসে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের আওতাধীন এলাকায় প্রায় ৩৫ হাজার ফুট হরিণ শিকারের ফাঁদ জব্দ করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন শিকারীকে আটক করা হয়েছে।
বাঘের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ
খুলনা বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ডিএফও নির্মল কুমার পাল বলেন, রবিবার সন্ধ্যার পর বাঘটির জ্ঞান ফিরেছে। তবে ট্রমার মধ্যে থাকায় সেটি হাঁটতে পারছে না; খাবারও খাচ্ছে না। পানির সাথে স্যালাইন এবং বিভিন্ন ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে। তবে বাঘটি খাবার খাচ্ছে না। সোমবার সকাল থেকে কয়েকবার বাঘটির মুখের সামনে মুরগির মাংস দিলেও খায়নি। বাঘটিকে সুস্থ করার জন্য চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, বাঘটি তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। বিশেষজ্ঞ টিম বাঘটির চিকিৎসা দিচ্ছে। প্রয়োজনে বাঘটিকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হবে। সুন্দরবনের যে এলাকা থেকে বাঘটিকে উদ্ধার করা হয়েছে, সুস্থ হলে বাঘটিকে বনের ওই এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হবে।
এই বাঘটির মতো আর কোনো বাঘ যেন সুন্দরবনে চোরা শিকারীদের ফাঁদে আটকা না পড়ে, সে বিষয়ে বন বিভাগ সতর্ক রয়েছে বলে জানান তিনি।
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ জানান, ফাঁদে আটকে থাকায় কয়েকদিন ধরে খাবার না খাওয়ায় বাঘটি দুর্বল হয়ে গেছে। তার চিকিৎসায় দেশি-বিদেশি পশু চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মত
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ও ওয়াইল্ডটিমের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন থেকে উদ্ধার বাঘটির চিকিৎসায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে। দেশের সব বন বিভাগ, চিড়িয়াখানা, পশুসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুরোগ বিশেষজ্ঞরা একত্রিত হয়ে বাঘটির চিকিৎসা এবং করণীয় নির্ধারণ করবেন।
তিনি বলেন, ‘সুন্দরবন, বন্যপ্রাণী এবং বনের সম্পদ রক্ষায় স্থানীয় জনগণকে আস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সুন্দরবন বিভাগকে কাজ করতে হবে।’
অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম আরও বলেন, বাঘ সুন্দরবনের অভিভাবক এবং স্থানীয় জনগণ বাঘের অভিভাবক। বাঘ না থাকলে সুন্দরবন বাঁচবে না। বর্তমানে সুন্দরবনে ১২৫টি বাঘ রয়েছে। বাঘ রক্ষা করা দেশের জন্য অত্যাবশ্যক।
সুন্দরবনের বাঘ ও বন সংরক্ষণ
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনের মোট আয়তন ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার, যার মধ্যে ৪ হাজার ১৪৩ বর্গকিলোমিটার স্থলভাগ। সুন্দরবনে প্রতিটি বাঘ তাদের আবাসস্থলের জন্য ১৪ থেকে ১৬ বর্গকিলোমিটার চিহ্নিত করে থাকে। পুরো সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার বিচরণ করে। চোরা শিকার, জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে এই ম্যানগ্রোভ বনে বাঘের অস্তিত্ব হুমকির মুখে রয়েছে।
বিগত কয়েক বছর ধরে ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের মাধ্যমে বাঘের সংখ্যা নিরীক্ষণ করা হয়। ২০১৫ সালে সুন্দরবনে বাঘ ছিল ১০৬টি, ২০১৮ সালে ১১৪টি এবং ২০২৪ সালের অক্টোবরের জরিপ অনুসারে বর্তমানে সুন্দরবনে ১২৫টি বাঘ রয়েছে।
১৮৩ দিন আগে