সুন্দরবন
সুন্দরবনে দুই বছরে ৫৭ বনদস্যু গ্রেপ্তার, ৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার
সুন্দরবনে দস্যু ও ডাকাত দমনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে গত দুই বছরে ৫৭ জন বনদস্যু ও ৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ২০২৫ সালেই গ্রেপ্তার হয়েছে ৪৯ জন। কোস্ট গার্ড সদর দপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মাত্র ৮ জন দস্যু গ্রেপ্তার হলেও ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯ জনে। গত দুই বছরে দস্যুদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫টি হাতবোমা, ৭৮টি দেশি অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ গুলি ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম।
২০২৫ সালে দস্যু বিরোধী অভিযানে ৪৪৮টি কার্তুজ উদ্ধার করার পাশাপাশি জিম্মি দশা থেকে ৫২ জন নারী-পুরুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালে উদ্ধার করা অস্ত্রের তালিকায় ৫টি আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি ইয়াবা ও স্প্লিন্টার বলও ছিল।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, গত এক বছরে সুন্দরবনে অন্তত ২৭টি সফল অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানে আছাবুর বাহিনী, হান্নান বাহিনী, আনারুল বাহিনী, মঞ্জু বাহিনী, রাঙ্গা বাহিনীসহ প্রায় ১০টি ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের কমান্ডার লে. কর্নেল সিয়াম বলেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে এবং পর্যটক ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
৩ দিন আগে
সুন্দরবনে বাঘ বাড়লেও অবাধ হরিণ শিকারে বাড়ছে উদ্বেগ
সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে নানা বয়সী বাঘের আনাগোনা বেড়েছে। ছয় বছরের ব্যবধানে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় আশার আলো দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে একইসঙ্গে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বাঘের প্রধান খাদ্য হরিণের সংকট। অমাবস্যা ও পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে নিয়মিত হরিণ শিকারের ফলে বাঘের খাদ্যভিত্তি মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।
বনবিভাগের তথ্য অনুসারে, ২০১৮ সালের জরিপে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১১৪টি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জরিপে তা বেড়ে ১২৫টিতে দাঁড়িয়েছে। বাঘের মোট খাদ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে হরিণের মাংস থেকে। বাকি ২০ শতাংশ আসে শূকর, বনবিড়াল ও বানর থেকে। তবে নিয়মিত হরিণ শিকারের কারণে বনে বাঘের প্রয়োজনীয় শিকারের প্রাপ্যতা কমে যাচ্ছে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা জানান, গহীন বনে পাতার ফাঁদ ও চেতনানাশক ট্যাবলেট ব্যবহার করে হরিণ শিকার করা হচ্ছে। এর ফলে চাঁদপাই, শরণখোলা, সাতক্ষীরা ও খুলনা রেঞ্জে বাঘের খাদ্যসংকট তীব্র হচ্ছে। খাদ্যের অভাবে বাঘ নদী ও খাল পেরিয়ে লোকালয়ে চলে আসার ঝুঁকিও বাড়ছে। একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘের সপ্তাহে কমপক্ষে ৫০ থেকে ৬০ কেজি মাংসের প্রয়োজন হয় বলে জানান তারা।
৫ দিন আগে
সুন্দরবন থেকে উদ্ধার বাঘটি সংকটাপন্ন, চিরুনি অভিযান জোরদার
সুন্দরবনের চোরশিকারীদের ফাঁদ থেকে উদ্ধার করা বাঘটি চরম সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। কয়েকদিন ধরে ফাঁদে আটকে থাকার কারণে বাঘটির সামনের বাঁ পায়ে পচন ধরেছে এবং রক্তনালী নষ্ট হয়ে গেছে। দীর্ঘ অনাহারে থাকার কারণে শরীরের মাংস ও শরীরের চর্বি ভেঙে বাঘটি হাড্ডিসার হয়ে গেছে।
খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে বাঘটির চিকিৎসা চলছে। এ বিষয়ে বন বিভাগ এবং পশু চিকিৎসকরা বলেছেন, প্রাণীটি ট্রমার মধ্যে রয়েছে। তাকে সুস্থ করতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা
উদ্ধার করা বাঘটি পুর্ণবয়স্ক স্ত্রী প্রজাতির এবং আনুমানিক বয়স ৩–৪ বছর। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৩–৪ দিন আগে মোংলা উপজেলার শরকির খাল-সংলগ্ন এলাকায় চোরা হরিণ শিকারীদের ফাঁদে আটকা পড়ে বাঘটি। শনিবার বিকেলে এক জেলে বিষয়টি দেখে বন বিভাগকে খবর দেয়। রবিবার বিকেল ৩টার দিকে ট্রানকুইলাইজার ব্যবহার করে বাঘটিকে অচেতন করে উদ্ধার করা হয় এবং লোহার খাঁচায় খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে আনা হয়।
গাজীপুর সাফারি পার্কের পশু চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. জুলকারনাইন জানান, নাইলনের সুতা দিয়ে তৈরি ফাঁদে বাঘটির পা আটকে গভীর ক্ষত হয়েছে। পায়ের ওই অংশে পচন ধরা এবং রক্তনালী নষ্ট হওয়ার কারণে রক্ত চলাচল করছে না। শরীরে খনিজ ও লবণের ঘাটতিও দেখা দিয়েছে। নাক দিয়ে পানি ঝরে এবং অনাহারে থাকায় বাঘটি হাড্ডিসার হয়ে গেছে। স্প্রে ও ড্রেসিং প্রয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসা চলছে, তবে তার শারীরিক অবস্থা এখনও স্থিতিশীল নয়।
ডা. জুলকারনাইন বলেন, ‘চিকিৎসার জন্য বাঘটিকে অন্যত্র নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। চেষ্টা চলছে সুস্থ করার। চিকিৎসায় সে সুস্থ হতে পারে, আবার নাও হতে পারে।’
চিরুনি অভিযান ও নিরাপত্তাব্যবস্থা
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের ডিএফও মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানিয়েছেন, চোরশিকারীদের ফাঁদ উদ্ধার এবং তাদের ধরার জন্য সোমবার সকাল থেকে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। বন বিভাগের স্টাফরা কর্ডন তৈরি করে তল্লাশি চালাচ্ছে। আগামী দুই দিন অভিযান চলবে। তবে সোমবার বিকেল পর্যন্ত কোনো শিকারী আটক বা ফাঁদ জব্দ করার খবর পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, গত ৮ মাসে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের আওতাধীন এলাকায় প্রায় ৩৫ হাজার ফুট হরিণ শিকারের ফাঁদ জব্দ করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন শিকারীকে আটক করা হয়েছে।
বাঘের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ
খুলনা বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ডিএফও নির্মল কুমার পাল বলেন, রবিবার সন্ধ্যার পর বাঘটির জ্ঞান ফিরেছে। তবে ট্রমার মধ্যে থাকায় সেটি হাঁটতে পারছে না; খাবারও খাচ্ছে না। পানির সাথে স্যালাইন এবং বিভিন্ন ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে। তবে বাঘটি খাবার খাচ্ছে না। সোমবার সকাল থেকে কয়েকবার বাঘটির মুখের সামনে মুরগির মাংস দিলেও খায়নি। বাঘটিকে সুস্থ করার জন্য চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, বাঘটি তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। বিশেষজ্ঞ টিম বাঘটির চিকিৎসা দিচ্ছে। প্রয়োজনে বাঘটিকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হবে। সুন্দরবনের যে এলাকা থেকে বাঘটিকে উদ্ধার করা হয়েছে, সুস্থ হলে বাঘটিকে বনের ওই এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হবে।
এই বাঘটির মতো আর কোনো বাঘ যেন সুন্দরবনে চোরা শিকারীদের ফাঁদে আটকা না পড়ে, সে বিষয়ে বন বিভাগ সতর্ক রয়েছে বলে জানান তিনি।
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ জানান, ফাঁদে আটকে থাকায় কয়েকদিন ধরে খাবার না খাওয়ায় বাঘটি দুর্বল হয়ে গেছে। তার চিকিৎসায় দেশি-বিদেশি পশু চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মত
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ও ওয়াইল্ডটিমের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন থেকে উদ্ধার বাঘটির চিকিৎসায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে। দেশের সব বন বিভাগ, চিড়িয়াখানা, পশুসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুরোগ বিশেষজ্ঞরা একত্রিত হয়ে বাঘটির চিকিৎসা এবং করণীয় নির্ধারণ করবেন।
তিনি বলেন, ‘সুন্দরবন, বন্যপ্রাণী এবং বনের সম্পদ রক্ষায় স্থানীয় জনগণকে আস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সুন্দরবন বিভাগকে কাজ করতে হবে।’
অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম আরও বলেন, বাঘ সুন্দরবনের অভিভাবক এবং স্থানীয় জনগণ বাঘের অভিভাবক। বাঘ না থাকলে সুন্দরবন বাঁচবে না। বর্তমানে সুন্দরবনে ১২৫টি বাঘ রয়েছে। বাঘ রক্ষা করা দেশের জন্য অত্যাবশ্যক।
সুন্দরবনের বাঘ ও বন সংরক্ষণ
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনের মোট আয়তন ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার, যার মধ্যে ৪ হাজার ১৪৩ বর্গকিলোমিটার স্থলভাগ। সুন্দরবনে প্রতিটি বাঘ তাদের আবাসস্থলের জন্য ১৪ থেকে ১৬ বর্গকিলোমিটার চিহ্নিত করে থাকে। পুরো সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার বিচরণ করে। চোরা শিকার, জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে এই ম্যানগ্রোভ বনে বাঘের অস্তিত্ব হুমকির মুখে রয়েছে।
বিগত কয়েক বছর ধরে ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের মাধ্যমে বাঘের সংখ্যা নিরীক্ষণ করা হয়। ২০১৫ সালে সুন্দরবনে বাঘ ছিল ১০৬টি, ২০১৮ সালে ১১৪টি এবং ২০২৪ সালের অক্টোবরের জরিপ অনুসারে বর্তমানে সুন্দরবনে ১২৫টি বাঘ রয়েছে।
২০ দিন আগে
ফাঁদ থেকে উদ্ধার হওয়া বাঘটির জ্ঞান ফিরেছে, সুস্থ হলে ফিরবে আবাসস্থলে
সুন্দরবনে ফাঁদে আটকে পড়া বাঘটিকে উদ্ধারের পর সেটিকে উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল। বাঘটির জ্ঞান ফিরেছে, তবে সুস্থ হওয়ার পর সেটিকে আবাসস্থলে উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা উম্মুল খায়ের ফাতেমার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল (রবিবার) সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের চিলা ইউনিয়নের শোরকির খাল-সংলগ্ন এলাকা থেকে আধা কিলোমিটার বনের ভেতর ফাঁদে আটকে পড়া বাঘটিকে উদ্ধার করা হয়েছে।
গত পরশু (শনিবার) বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয় জেলে বাওয়ালি মারফত জানা যায়, উল্লিখিত এলাকায় বাঘটি দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করছিল। একই স্থানে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করায় এলাকার কমিউনিটি পেট্রোল গ্রুপ, ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম ও বন বিভাগের কর্মকর্তাসহ সবাইকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে রাতেও বাঘটি স্থান ত্যাগ না করায় ওই স্থানের পাহারা জোরদার করা হয় এবং কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী বন অধিদপ্তরের পশুসম্পদ কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি অভিজ্ঞ দল জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা থেকে সুন্দরবন যায়। গতকাল সকালে দলটিসহ খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিশেষজ্ঞগণ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাঘটি উদ্ধারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
প্রাথমিকভাবে বাঘটিকে পর্যবেক্ষণের পর বোঝা যায় যে, এটি কোনো ফাঁদে আটকা পড়ে আছে। এই অবস্থায় বাঘটিকে অবচেতন করে চিকিৎসা দিয়ে অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ঘন বন ও মাংসাশী বন্যপ্রাণী হওয়ায় এটিকে অবচেতন করার ক্ষেত্রে কিছুটা বেগ পেতে হয়। পরে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের চেষ্টায় সফলভাবে বাঘটিকে তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে সুন্দরবনে অবমুক্ত না করে বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র খুলনায় স্থানান্তর করে চিকিৎসা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী বাঘটিকে বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র খুলনায় স্থানান্তর করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে বাঘটির জ্ঞান ফিরেছে এবং রেসকিউ সেন্টারে পশুসম্পদ কর্মকর্তা হাতেম সাজ্জাদ জুলকারনাইনের তত্ত্বাবধানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। বাঘটি সুস্থ হলে তার আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে জানায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
২২ দিন আগে
সুন্দরবনে ফাঁদে আটকা পড়েছে বাঘ, এক দিনেও উদ্ধার হয়নি
বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবনের মধ্যে হরিণ শিকারীদের পেতে রাখা ফাঁদে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার আটকা পড়েছে। লোকালয় থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বাগেহরহাট জেলার মোংলা উপজেলাধীন বনের শরকির খাল-সংলগ্ন বৈরাগী বাড়ির কাছে বাঘটি আটকা পড়ে।
শনিবার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে এক জেলে প্রথম ফাঁদে আটকে থাকা বাঘটিকে দেখে বন বিভাগকে খবর দেন। এরপর সন্ধ্যা থেকে বন বিভাগ ওই এলাকা ঘিরে রেখেছে। আজ রবিবার দুপুর ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বন বিভাগ চেষ্টা চালিয়ে গেলেও এখনও বাঘটি উদ্ধার করতে পারেনি।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে সুন্দরবন বাঘের শেষ আশ্রয়স্থল। বাঘ আমাদের জাতীয় পশু। সুন্দরবনে ফাঁদে আটকে পড়া বাঘটিকে রবিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত উদ্ধার করতে না পারা অত্যন্ত দুঃখজনক।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাস জানান, খবর পাওয়ার পর বন বিভাগের কর্মচারীদের গতকাল সন্ধ্যায় সেখানে পাঠানো হয়। তারা সেখানে গিয়ে দেখতে পান, সুন্দরবনের ভেতরে হরিণ শিকারীদের পেতে রাখা ফাঁদে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার আটকে আছে। এর পর শরকির খালপাড় এলাকা কর্ডন করে (ঘিরে) রাখা হয়। শনিবার রাত থেকে তারা চেষ্টা চালাচ্ছেন বাঘটিকে ফাঁদ থেকে মুক্ত করতে।
ফাঁদে আটকে থাকলেও বাঘটি সুস্থ রয়েছে বলে জানান তিনি।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বাঘটিকে উদ্ধার করতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বাঘটি উদ্ধারের জন্য বন বিভাগের বিশেজ্ঞ টিম কাজ করছে। আজ সকালে বিশেজ্ঞ টিম সেখানে পৌঁছেছে। বাঘটিকে উদ্ধারে প্রয়োজনে ট্যাংকুলাইজার গান ব্যাবহার করা হবে।
তিনি আরও জানান, বাঘটি অসুস্থ হয়ে পড়লে লোহার খাঁচায় বন্দি করে খুলনা অথবা ঢাকায় বন বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে পাঠানো হবে। আর সুস্থ থাকলে সুন্দরবনে ছেড়ে দেওয়া হবে। বাঘটি উদ্ধারের পর বিশেজ্ঞ টিমের পরমর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে, সুন্দরবনে হরিণ শিকারীদের ফাঁদে বাঘ আটকা পড়ার খবরে বন-সংলগ্ন গ্রামের মানুষ সেখানে জড়ো হতে শুরু করে। তবে ওই এলাকায় কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ও ওয়াইল্ডটিমের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, পৌষ মাসের প্রচণ্ড শীতে শনিবার থেকে বাঘটি ফাঁদে আটকে খুব কষ্ট পাচ্ছে। আরও আগেই বাঘটিকে উদ্ধার করা উচিত ছিল। কিন্তু সুন্দরবন বিভাগের নিজস্ব ভেটেনারি সার্জন না থাকায় এখনও বাঘটিকে উদ্ধার করা যায়নি।
অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম আরও বলেন, সুন্দরবন পূর্ব এবং পশ্চিম বিভাগের জন্য নিজস্ব ভেটেনারি সার্জন থাকতে হবে। বন্যপ্রাণীদের যেকোনো আপৎকালীন সময়ের জন্য বন বিভাগের প্রস্তুতি নেই। বাঘটি ফাঁদে আটকা পড়ে ছুটাছুটি করছে। এ কারণে সেটি আহত হতে পারে। তাই ফাঁদ থেকে মুক্ত করার পরপরই বাঘটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে হবে। বন বিভাগের সঙ্গে ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম শনিবার রাত থেকে সেখানে পাহারা দিচ্ছে।
সুন্দরবনে হরিণ শিকার কেন বন্ধ করা যাচ্ছে না—বন বিভাগের উদ্দেশে এ প্রশ্নও রাখেন ড. আনোয়ারুল ইসলাম।
বন বিভাগের তথ্য অনুসারে, বিগত কয়েক বছর ধরে ‘ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের’ মাধ্যমে সুন্দরবনে বাঘ গণনা করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসের জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের সংখ্যা ১২৫টি। এর আগে ২০১৮ সালে একইভাবে গণনা করে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১১৪টি নির্ধারণ করা হয়। ২০১৫ সালে ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের মাধ্যমে গণনার ফলাফল অনুসারে সুন্দরবনে বাঘ ছিল ১০৬টি।
জানা গেছে, সুন্দরবনের মোট আয়াতন ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে স্থলভাগের পরিমাণ ৪ হাজার ১৪৩ বর্গকিলোমিটার। বর্তমানে সুন্দরবনের মোট আয়াতনের অর্ধেকেরও বেশি এলাকা সংরক্ষিত বনাঞ্চল। বনে প্রতিটি বাঘ তাদের আবাসস্থলের জন্য ১৪ থেকে ১৬ বর্গকিলোমিটার (হোমরেঞ্জ) চিহ্নিত করে সেখানে বাস করে। তবে তাদের বিচরণ গোটা সুন্দরবনজুড়েই।
চোরা শিকারীদের তৎপরতা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে সুন্দরবনে বাঘ হুমকির মুখে রয়েছে। বন বিভাজ জানায়, গত ৮ মাসে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার ফুট হরিণ শিকারের বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ জব্দ করেছে। এ সময়ে বেশ কয়েকজন হরিণ শিকারীকে আটকও করা হয়।
২৩ দিন আগে
সুন্দরবন থেকে ৭ জেলে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি
মুক্তিপণের দাবিতে ডন বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৭ জেলেকে অপহরণ করেছে জলদস্যুরা।
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের মালঞ্চ নদীর হাঁসখালী, চেলাকাটা, হেতালবুনি খাল থেকে জেলেদের অপহরণ করা হয় বলে জানিয়েছেন ফিরে আসা জেলেরা।
অপহৃত জেলেরা হলেন— সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের আব্দুল আজিজ (৫০), ইব্রাহিম হোসেন (৪৫), আনারুল ইসলাম (২২), নাজমুল হক (৩৪), শামিম হোসেন (৩৬), আনোয়ার হোসেন (৩২) ও হরিনগর জেলেপাড়ার মুজিবুল হোসেন (৩৫)।
ফিরে আসা দুই জেলে ফজের আলী ও সবুজ মিয়া জানান, সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা স্টেশন থেকে পাশ নিয়ে কাঁকড়া ধরার জন্য তারা সুন্দরবনে যান। বনে কাঁকড়া শিকারের জন্য রবিবার তারা মালঞ্চ নদীর বিভিন্ন খালে অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে তিনটি নৌকায় ১০ জন বন্দুকধারী তাদের ঘিরে ধরে। এ সময় তারা প্রতি নৌকা থেকে একজন করে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিকাশ নম্বর দিয়ে সেটিতে মুক্তিপণের মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকা পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
তারা আরও জানান, ঋণ করে তারা বনে গিয়েছিলেন। এখন চালান তো উঠবেই না, উল্টো মুক্তিপণ দিয়ে সহকর্মীদের ছাড়াতে হবে। এমন দুরবস্থার মধ্যে পড়ার চেয়ে মৃত্যুও ভালো ছিল বলে আক্ষেপ করেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুন্দরবনের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ফজলুল হক বলেন, বনবিভাগের স্মার্ট পেট্রোল টিমের সদস্যরা নিচে রয়েছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি আপনারা কোস্টগার্ডকে একটু অবহিত করেন।
কোস্টগার্ড কৈখালী বিসিজি স্টেশন সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে বিষয়টি তারা শুনেছেন। অপহরণের শিকার জেলেদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা চলছে। সবকিছু নিশ্চিত হয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
৫০ দিন আগে
সুন্দরবনে কুমিরের আক্রমণে জেলে নিহত, ৭ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার
সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে কুমিরের আক্রমণে সুব্রত মণ্ডল (৩২) নামে এক জেলে নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল খালে ওই ঘটনা ঘটে। প্রায় সাত ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার লাশ উদ্ধার হয়েছে।
নিহত সুব্রত খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারী এলাকার কুমুদ মণ্ডলের ছেলে। পেশায় তিনি একজন জেলে ছিলেন। সুব্রত মণ্ডল সুন্দরবনে নদী–খালে মাছ ও কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (মঙ্গলবার) সকালে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী স্টেশন থেকে সরকারি রাজস্ব দিয়ে পাশ সংগ্রহ করে সুব্রতসহ কয়েকজন জেলে সুন্দরবনে প্রবেশ করেন। আমুরবুনিয়া গ্রাম থেকে হেঁটে জোংড়া এলাকায় যান তাঁরা। পথে নদী–খাল সাঁতরে পার হন তাঁরা।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় গরু বিক্রির দ্বন্দ্বে নিহত দুই ভাই
কাঁকড়া ও মাছ সংগ্রহ করে সুন্দরবন থেকে ফেরার পথে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে করমজল খাল সাঁতরে পার হওয়ার সময় একটি কুমির সুব্রতকে কামড়ে ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য জেলেরা চেষ্টার পরও তাকে উদ্ধার করতে পারেননি। পরে বন বিভাগ ও স্থানীয় বাসিন্দারা খালে তল্লাশি শুরু করেন।
সুন্দরবনের করমজল পর্যটন ও বন্য প্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির জানান, অনেক খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে করমজল খালের গজালমারী এলাকায় পানির নিচ থেকে গ্রামবাসীরা সুব্রতের লাশ উদ্ধার করে।
তিনি আরও জানান, বন বিভাগের অনুমতি নিয়েই সুব্রত মণ্ডল মাছ ও কাঁকড়া ধরার জন্য সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিল। কুমিরের হামলায় নিহত হওয়ায় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তার পরিবার ক্ষতিপূরণ পাবে বলে আশ্বাস দেন।
১১৮ দিন আগে
জেলে ও পর্যটকদের জন্য আজ খুলে দেওয়া হচ্ছে সুন্দরবন
টানা তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে জেলে, বনজীবী ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য খুলছে সুন্দরবনের দ্বার।
বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে আজ থেকে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সরব উপস্থিতিতে কোলাহলপূর্ণ হয়ে উঠবে সুন্দরবন।
দীর্ঘ সময়ের নিষেধাজ্ঞা শেষে সুন্দরবনের দ্বার খোলায় অপেক্ষার প্রহর গুনছেন পর্যটন ব্যবসায়ী ও জেলেরা। সেই লক্ষ্যে শরণখোলা উপজেলার জেলে পল্লীতে ফিরে এসেছে চিরচেনা রূপ। জেলে পল্লীতে ঠুকঠাক শব্দে নৌকা ও ট্রলার মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলেরা। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি শেষে প্রথম দিনেই সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য নিরলস পরিশ্রম করছেন তারা।
এদিকে, পর্যটন ব্যবসায়ীরাও তাদের ট্যুরিস্ট বোটগুলো মেরামত ও রঙ দিয়ে প্রস্তুত করে তুলেছেন। দীর্ঘ বিরতির পর তারা আশা করছেন, পর্যটকদের আগমন সুন্দরবনের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনবে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মৎস্য ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন মৌসুম হওয়ায় প্রতিবছরের মতো এবারও ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে জনসাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
অন্যদিকে, টানা নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিপাকে পড়েছেন সুন্দরবনের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল জেলেরা। বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় অনেকেই পাড়ি জমিয়েছেন শহরে।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনে প্রবেশে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা
কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ ও শরণখোলা উপজেলার খুড়িয়াখালী গ্রামের জেলেরা বলেন, তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের চরম অভাব-অনটনে দিন কাটাতে হয়েছে। বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি না করলে জেলে পরিবারগুলোতে দারিদ্র্যতা থেকে যাবে। নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা তিন মাস থেকে কমিয়ে দুই মাসে আনা উচিত বলে দাবি করেন তারা।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের স্টেশন কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি পাবেন জেলে ও পর্যটকরা। এ উপলক্ষে গত ২৭ আগস্ট বুধবার সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল পেশাজীবীদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হয়, যেখানে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
১৪৮ দিন আগে
বিদায় ‘বাঘবন্ধু’ আন্দ্রে কার্সটেনস
বছরখানেক আগে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত আন্দ্রে কার্সটেনসের সঙ্গে আমরা যখন দেখা করি, তখনও বুঝতে পারিনি যে সুন্দরবন ও রয়েল বেঙ্গল টাইগার এত গভীরভাবে তার হৃদয় ছুঁয়ে যাবে। সে সময় তিনি কেবল সুন্দরবন ঘুরে দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, তবে সেই ইচ্ছা কাজে রূপ নিতে সময় লাগেনি।
সেই একবারই নয়, দুই দুবার তিনি সুন্দরবন ভ্রমণ করেছেন। সেই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং বাঘ বাঁচাতে তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গাড়িতে বসে আয়েশি ভ্রমণ ছেড়ে দু’চাকার সাইকেলে প্যাডেল ঘুরিয়ে বনবিলাসও করেছেন। না, এগুলো শুধু লোক দেখানো কর্মকাণ্ড ছিল না, সত্যিকার অর্থেই উল্লিখিত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কাজ করেছেন তিনি।
সত্যিকার অর্থে, বাঘ ভালোবেসেই এসব করেছেন কার্সটেনস। আর এভাবেই তিনি হয়ে উঠেছেন ‘বাঘবন্ধু’।
১৭২ দিন আগে
সুন্দরবনে প্রবেশে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে প্রতি বছরের মতো এবারও ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত পর্যটক প্রবেশ এবং মাছ ও কাঁকড়া ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বন বিভাগ। রবিবার (১ জুন) থেকে প্রায় এক মাস এই নিষেধাজ্ঞা সুন্দরবনের বাংলাদেশের অংশে বহাল থাকবে।
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মাছ ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন খুলনা রেঞ্জের বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এজেডএম হাছানুর রহমান।
খুলনা রেঞ্জের আওতার এলাকাগুলোতে ইতোমধ্যেই মাইকিং করে স্থানীয় বনজীবীদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে সব ধরনের পাস-পারমিট ইস্যু এবং পর্যটক প্রবেশ। নিরাপত্তা জোরদারে বাড়ানো হয়েছে বন বিভাগের টহল কার্যক্রম।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুন্দরবনের ডিএফও এজেডএম হাছানুর রহমান। বিগত দুই তিন ধরে খুলনা রেঞ্জের সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে মাইকিং করে স্থানীয় বনজীবীদের জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে সুন্দরবনের ভেতরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্ষাকালে সুন্দরবনের অন্তত ২৫১ প্রজাতির মাছ ডিম ছাড়ে। এই সময় মাছ ধরা বন্ধ রাখলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনে তিনজন ভারতীয়সহ পুশ ইন করা ৭৮ জন উদ্ধার
তবে নিষেধাজ্ঞার কারণে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন উপকূলীয় এলাকার জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালরা। বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় তিনটি মাস তাদের কষ্টের মধ্যে দিন পার করতে হবে বলে জানিয়েছেন কয়রার অনেক বনজীবী।
শনিবার (৩১ মে) সকালে সুন্দরবনসংলগ্ন কয়রা উপজেলার শাকবাড়িয়ায় নদীর তীরে নৌকা বেঁধে রাখা ও মেরামতের দৃশ্য দেখা গেছে। কেউ কেউ আবার নৌকা মেরামত করার জন্য বেড়িবাঁধের রাস্তার ওপর উঠিয়ে রেখেছেন।
খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ইতোমধ্যে সব স্টেশনে পাশপারমিট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। খুলনা রেঞ্জের অধীনস্ত এলাকায় টহল কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে।’
কয়রার বনজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সুন্দরবনে মাছ-কাঁকড়া, মধু আহরণ করে আমাদের সংসার চলে। তিন মাস সুন্দরবন বন্ধ থাকবে। এলাকায় তেমন কোনো কাজ নাই, ভাবছি কীভাবে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে সংসার চালাবো।’
সুন্দরবন সংলগ্ন শাকবাড়িয়া নদীর তীরবর্তী পাথরখালী গ্রামের জেলে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আবার ১ জুন থেকে ৯২ দিনের জন্য সুন্দরবন বন্ধ। বন্ধের সময় সাগরে মাছ ধরা জেলেদের সরকারি সহায়তা করা হলেও সুন্দরবনের জেলেদের কিছুই দেওয়া হয় না। এর মধ্যে সবকিছুর দাম বেড়েই চলছে। বন্ধের সময় সরকারের পক্ষ থেকে সাহায্য না পেলে আমাদের সামনের দিনগুলো খুবই কষ্টের মধ্যে যাবে।’
আরও পড়ুন: সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা
সুন্দরবনের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম সাহিদ বলেন, ‘১ জুন থেকে সুন্দরবনের সব নদী ও খালে মাছ ধরা বন্ধের পাশাপাশি পর্যটক প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে সুন্দরবনে প্রবেশের সব ধরনের পাস-পারমিট। এ সময় বন্য প্রাণী শিকার ও বিষ দিয়ে মাছ আহরণ বন্ধে কঠোর অবস্থানে থাকবে বন বিভাগ।’
২৪০ দিন আগে