সুন্দরবন
সুন্দরবনে এসআরবির কাছে ১৫ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ
সুন্দরবনের দুটি জলদস্যু বাহিনীর ১৫ সদস্য স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) কাছে আত্মসপর্ণ করেছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) এসআরবি মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যায় এসআরবি-৬-এর কাছে আত্মসমর্পণ করেন তারা।
আত্মসমর্পণ করা জলদস্যুদের মধ্যে আটজন আলিফ বাহিনীর অংশ আব্দুল্লাহ গ্রুপের ও সাতজন মজিদ গ্রুপের। প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে এসআরবি।
এ ঘটনা সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি জেলে, বাওয়ালি, মৌয়াল ও অন্য বনজীবীদের নিরাপদে জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করবে বলে এসআরবি আশা প্রকাশ করেছে।
এসআরবি-৬ বলেছে, সুন্দরবনে জলদস্যুতা, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
৮ দিন আগে
সুন্দরবনে ১০ আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৪ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার
সুন্দরবনের শেলা নদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাতদের ব্যবহৃত ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৪ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। তবে এ সময় ডাকাতদলের কোনো সদস্যকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) কোস্ট গার্ডের মোংলা বেইসের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
এর আগে গতকাল (বু্ধবার) রাতে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় সুন্দরবনের শেলা নদী ফরেস্ট অফিস-সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায় কোস্ট গার্ড।
উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ছয়টি একনলা বন্দুক, তিনটি এয়ারগান ও একটি পাইপগানের ট্রিগার। এছাড়া ১৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। এগুলোর বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, শেলা নদী ফরেস্ট অফিস-সংলগ্ন এলাকায় একটি ডাকাতদল ডাকাতির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাতে সেখানে বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
এ সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতদলের সদস্যরা সুন্দরবনের গহিনে পালিয়ে যান। পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ছয়টি একনলা বন্দুক, তিনটি এয়ারগান, একটি পাইপগানের ট্রিগার ও ১৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনে সক্রিয় সব বনদস্যু বাহিনী নির্মূল ও উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামের দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ অভিযান চালানো হয়।
১০ দিন আগে
সুন্দরবনের চার বাহিনীর ৫২ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ
সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও জলদস্যুমুক্ত রাখতে র্যাব-৬-এর ধারাবাহিক অভিযানে চারটি ভিন্ন বাহিনীর মোট ৫২ জন জলদস্যু আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছেন।
সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সোমবার (৩১ আগস্ট) আয়োজিত কার্যক্রমে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন ও আফতাব বাহিনীর ৮ জন সদস্যসহ মোট ৫২ জন জলদস্যু স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রত্যয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
র্যাব-৬-এর অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালরা জলদস্যুদের অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির কারণে চরম ঝুঁকিতে ছিলেন। বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও বিচরণ নির্বিঘ্ন রাখতে তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ (১ সেপ্টেম্বর) থেকে বনটি পুনরায় পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে।
এর ঠিক আগের দিন এই ৫২ জন দস্যুর অস্ত্র ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার ঘোষণা বনের জীবিকা নির্বাহ, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একই সঙ্গে এটি অবৈধ বনজ সম্পদ আহরণ ও বন্যপ্রাণী শিকার রোধেও সহায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যথাসময়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বননির্ভর জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে বলে জানান র্যাব-৬-এর অধিনায়ক।
৪৭ দিন আগে
তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ থেকে খুলছে সুন্দরবনের দুয়ার
তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ মঙ্গলবার থেকে পর্যটক ও সুন্দরবননির্ভর মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরা উপকূলীয় এলাকার জেলে ও বাওয়ালীরাও বনবিভাগের কাছ থেকে বৈধ পাস নিয়ে মাছ ও কাঁকড়া আহরণের জন্য সুন্দরবনে ঢুকতে পারবেন।
দীর্ঘ সময় কর্মহীন থাকার পর সুন্দরবন খোলার খবরে বননির্ভর পরিবারগুলোর মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। তবে জীবিকার নতুন প্রত্যাশার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে তাদের মধ্যে। স্থানীয় বনজীবীদের অভিযোগ, দস্যুদের চাঁদাবাজি, নৌকা থামিয়ে হয়রানি ও অপহরণের আশঙ্কা রয়েছে।
বনজীবীদের দাবি, সরকারি নিবন্ধনের আওতায় থাকা মানুষের বাইরেও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি।
সুন্দরবনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে সুন্দরবনসংলগ্ন বিভিন্ন নদীঘাট ও জেলে পল্লীতে বেড়েছে কর্মচাঞ্চল্য। কোথাও পুরোনো নৌকায় আলকাতরা লাগানো হচ্ছে, কোথাও ছেঁড়া জাল মেরামত করা হচ্ছে। কাঁকড়া ধরার সরঞ্জাম প্রস্তুতের পাশাপাশি ট্রলারের ইঞ্জিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন জেলেরা।
বর্ষা মৌসুমে মাছের প্রজনন ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময় বনে প্রবেশ এবং মাছ ও কাঁকড়া আহরণ বন্ধ রাখা হয়। চলতি বছরও তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার কারণে সুন্দরবননির্ভর পরিবারগুলোকে বিকল্প আয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।
দীর্ঘ তিন মাস কর্মহীন থাকার পর অনেক বনজীবী এখন ঋণ পরিশোধের চাপের মধ্যেও নতুন করে জীবিকার সন্ধানে বনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অন্যদিকে, দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র সুন্দরবনে পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে পর্যটন খাতসংশ্লিষ্টরা। সুন্দরবন ভ্রমণের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন জাহাজ ও লঞ্চ পর্যটকদের বহনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
খুলনা বিভাগের বন কর্মকর্তা (ডিএফও) হাসানুর রহমান জানান, তিন মাস সাধারণ মানুষের যাতায়াত বন্ধ থাকায় সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছগাছালির বৃদ্ধি হয়েছে। এ সময় হরিণসহ বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখির সংখ্যাও বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উৎপাদনও বেড়েছে।
৪৭ দিন আগে
বিশ্ব বাঘ দিবস আজ, প্রাণহানির উদ্বেগের মধ্যেও সুন্দরবনে বাড়ছে বাঘের সংখ্যা
দেশের জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগারের একমাত্র আবাসস্থল সুন্দরবন। তবে নিজের এই প্রাকৃতিক আবাসস্থলেই নানা হুমকির মুখে রয়েছে বাঘ। চোরাশিকারী চক্র, জলবায়ু পরিবর্তন, বনদস্যুদের তৎপরতা এবং সুন্দরবনের ওপর ক্রমবর্ধমান পরিবেশগত চাপ বাঘের অস্তিত্বের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ বছরে সুন্দরবনে ৬১টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে।
তবে আশার খবর হলো, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। গত কয়েক দফার ক্যামেরা ট্র্যাপিংভিত্তিক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি জরিপে গড়ে প্রায় ১০টি করে বাঘ বেড়েছে। বনজীবী, বনকর্মী ও পর্যটকদের ভাষ্যেও আগের তুলনায় সুন্দরবনে বাঘের উপস্থিতি এখন বেশি চোখে পড়ছে। সম্প্রতি বন বিভাগের ক্যামেরায়ও একাধিক বাঘ ধরা পড়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিশ্ব বাঘ দিবস। সুন্দরবনসংলগ্ন জেলার মানুষকে সম্পৃক্ত করতে গত কয়েক বছর ধরে ঢাকার বাইরে জাতীয়ভাবে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘সবাই হই সচেতন, বাঘ করি সংরক্ষণ’।
চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি সুন্দরবনে চোরাশিকারীদের পেতে রাখা ফাঁদ থেকে একটি বাঘিনীকে উদ্ধার করে বন বিভাগ। কয়েকদিন ধরে ফাঁদে আটকে থাকায় প্রায় ১০ বছর বয়সী বাঘিনীটির অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছিল।
চিকিৎসার মাধ্যমে তাকে সুস্থ করে তোলার পর বন থেকে উদ্ধারের ছয় মাস পর গত ১২ জুলাই সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়।
ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ে বাড়ছে বাঘের সংখ্যা
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরে ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে সুন্দরবনে বাঘ গণনা করা হচ্ছে।
২০১৫ সালে প্রথম ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে গণনায় সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি। ২০১৮ সালে একই পদ্ধতিতে পরিচালিত জরিপে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ১১৪টি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসের জরিপে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের সংখ্যা পাওয়া যায় ১২৫টি।
সাম্প্রতিক সময়েও সুন্দরবনে বাঘের উপস্থিতির একাধিক প্রমাণ মিলেছে। গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে সুন্দরবনের আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র এলাকায় একটি বাঘকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। এছাড়া ওই এলাকায় সম্প্রতি স্থাপন করা ২০টি ট্র্যাপ ক্যামেরায় এক সপ্তাহে ধারণ করা ছবি বিশ্লেষণ করে পৃথক তিনটি বাঘ শনাক্ত করেছে বন বিভাগ।
বন বিভাগ বলছে, আগের তুলনায় বাঘের লোকালয়ে চলে আসার প্রবণতা কমেছে। একই সঙ্গে মানুষ ও বাঘের সংঘাতও কমেছে। বনকর্মী ও পর্যটকদের অনেকেই এখন জোড়া জোড়া বাঘ দেখতে পাচ্ছেন।
৮১ দিন আগে
অবশেষে সুন্দরবনে ফিরল ফাঁদে আটকা রয়েল বেঙ্গল টাইগার
অবশেষে আপন নীড়ে ফিরেছে হরিণ শিকারের ফাঁদে আটকা পড়া রয়েল বেঙ্গল টাইগার। প্রায় ছয় মাস চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পর আজ রবিবার বাগেরহাটের সুন্দরবনে বাঘিনীটিকে অবমুক্ত করেছে বন বিভাগ। অবমুক্তির পর তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণে ৯০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ২০টি ক্যামেরা বসিয়ে মনিটরিং করা হবে।
এটি প্রথমবারের মতো বন থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পর কোনো বাঘকে আবার সুন্দরবনে অবমুক্ত করার ঘটনা।
রবিবার (১২ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা ফুয়েল জেটি থেকে লোহার খাঁচায় বন্দি বাঘিনীকে বন বিভাগের ট্রলার এমএল সোয়াচ-২-এ করে নদীপথে সুন্দরবনের উদ্দেশে নেওয়া হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের আন্ধারমানিক টহল ফাঁড়ি-সংলগ্ন আন্দারিয়া খালে ট্রলারটি নোঙর করা হয়।
সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুর ১২টার দিকে বাঘিনীটিকে সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য খাঁচার দরজা খুলে দেওয়া হয়। তবে দীর্ঘ সময় চেষ্টা পরও সেটি খাঁচা থেকে বের হচ্ছিল না। পরে দুপুর ১টার দিকে ট্রলারটি বনের আরও কাছে নেওয়া হয় এবং খাঁচার এক পাশ উঁচু করে দিলে বাঘিনীটি এক লাফে বনের ভেতরে চলে যায়। মুহূর্তেই সেটি চোখের আড়ালে মিলিয়ে যায়।
বাঘটিকে অবমুক্ত করার সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসেন চৌধুরী, খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, গতকাল (শনিবার) দিবাগত রাতে খুলনার বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসনকেন্দ্রে ট্রাঙ্কুইলাইজার গানের মাধ্যমে বাঘটিকে অজ্ঞান করা হয়। পরে ভোরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সড়কপথে সেটিকে মোংলায় নেওয়া হয়।
বন বিভাগ সূত্র জানায়, গত ৩ জানুয়ারি বন বিভাগের কাছে খবর আসে, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির খাল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার ভেতরে বৈদ্যমারি ফরেস্ট টহল ফাঁড়ি এলাকায় হরিণ শিকারের ফাঁদে একটি বাঘ আটকা পড়েছে। খবর পাওয়ার পরপরই অনুসন্ধান শুরু হলেও উদ্ধার অভিযান শুরু হতে এক দিন সময় লাগে।
পরদিন ৪ জানুয়ারি দুপুরের আগে খুলনা বিভাগের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদের নেতৃত্বে বন বিভাগের ভেটেরিনারি সার্জনসহ একটি উদ্ধারকারী দল অভিযান শুরু করে। ট্রাঙ্কুইলাইজার গানের সাহায্যে বাঘটিকে অজ্ঞান করা হয়। দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অভিযান চালিয়ে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে বাঘটিকে উদ্ধার করে শরকির খালের পাড়ে আনা হয়। হাজারো মানুষের উপস্থিতির মধ্যে কঠোর নিরাপত্তায় লোহার খাঁচায় আটকে পরে সেটিকে খুলনার বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসনকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ছয় মাস বনকর্মীদের পরিচর্যায় ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে বাঘিনীটি।
৯৮ দিন আগে
সুন্দরবনে ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র ৩ সদস্যের আত্মসমর্পণ
সুন্দরবনের ‘কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর সক্রিয় তিন সদস্য কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তারা ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৪০ রাউন্ড গোলাবারুদ জমা দিয়েছেন। এ ছাড়াও, তাদের কাছে জিম্মি থাকা এক জেলেকে উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলাধীন বনের তাম্বুলবুনিয়া ফরেস্ট অফিস-সংলগ্ন কলামুলি খাল এলাকায় ডাকাতরা কোস্ট গার্ডের কাছে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
আত্মসমর্পণকারীরা হলেন—বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার আলামিন হোসেন (৪০), খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার মনিরুজ্জামান মামুন (২০) এবং সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার তৈবুর রহমান (২৪)। তারা সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সক্রিয় সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে তারা সুন্দরবনে ডাকাতিসহ জেলে-বাওয়ালীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিলেন বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড সূত্র।
জব্দ করা অস্ত্র গোলাবারুদের মধ্যে রয়েছে দুটি দেশি তৈরি একনলা বন্দুক, একটি দেশি পাইপগান, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং একটি ওয়াকিটকি।
কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন আজ (বৃহস্পতিবার) জানান, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক ও সফল অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। কোস্ট গার্ডের কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নিয়মিত অভিযানের ফলে দস্যুরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিনজন সক্রিয় সদস্যা দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। গতকাল (বুধবার) ওই তিন ডাকাত সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় তারা অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়েছেন।
কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা আরও জানান, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, সতর্কতা এবং কঠোর অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছে। সরকারের নির্দেশেনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ জেলে-বাওয়ালী ও বনজীবিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পারিচালিত হচ্ছে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজনের তথ্যমতে, ওই অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত ৪২ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। দস্যুদের আস্তানায় জিম্মি থাকা ৪১ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়। এ সময়ে ৪৯টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১০৮ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগানের গোলা, দুটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া, সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন বাহিনী তার সহযোগীসহ মোট সাতজন ডাকাত সদস্য আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
জব্দকৃত আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং আত্মসমর্পণকৃত ডাকাত সদস্যেদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাসহ পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলেকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছে বলে জানান কোস্ট গার্ডে এই কর্মকর্তা।
১০১ দিন আগে
খুলনায় অস্ত্র ও গুলিসহ সুন্দরবনের জলদস্যু আটক
সুন্দরবনের জলদস্যু ও একাধিক ডাকাতি মামলার আসামি আজহারুল ইসলাম ওরফে খানজাহানকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬ এর স্পেশাল কোম্পানির অভিযানিক দল। এ সময় তার কাছ থেকে ২টি ওয়ান শুটার গান এবং ৩৬ রাউন্ড তাজা সিসা বুলেট উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে র্যাব-৬ খুলনার পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আজহারুল ইসলাম ওরফে খানজাহান খুলনা জেলার দাকোপ থানাধীন জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেতকাশি ইউনিয়নের সোনামুকুন্দি মোরলের খাল-সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
১০৬ দিন আগে
সুন্দরবনে কুমিরের আক্রমণে নারী জেলে নিহত
বাগেরহাটের সুন্দরবনে শেলা নদীতে কুমিরের আক্রমণে সেলিনা বেগম (৫২) নামে এক নারী জেলে নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১৭ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই নারী জেলার মোংলা উপজেলাধীন সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের জয়মনি লঞ্চঘাট এলাকায় জাল টেনে মাছ ধরার সময় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সেলিনা বেগম (৫২) বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনি গ্রামের আব্দুল শেখের স্ত্রী ছিলেন।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, ১ জুন থেকে আগামী ৩১ আগাস্ট পর্যন্ত ৩ মাস সুন্দরবনে জেলে,বাওয়লী, মৌয়াল ও পর্যটকসহ সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ। কিন্তু ওই এলাকার তিনজন নারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লোকালয়-সংলগ্ন শেলা নদীর লঞ্চঘাট এলাকায় জাল টেনে মাছ ধরছিলেন। এ সময় হঠাৎ একটি কুমির সেলিনা বেগম নামে ওই নারীকে টেনে নদীর মধ্যে নিয়ে যায়। পরে তার সঙ্গীরা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
জয়মনি এলাকার স্থানীয় এক সূত্র জানায়, সুন্দরবন-সংলগ্ন লোকালয়ের অসহায় দরিদ্র বেশকিছু নারী বিভিন্ন সময়ে সুন্দরবনের নদ-নদীতে জাল টেনে মাছ এবং মাছের রেনু আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কুমিরের আক্রমণে নিহত ওই নারী বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও জীবিকার তাগিদে শেলা নদীতে জাল টেনে মাছ আহরণ করছিলেন। এ সময় কুমিরের আক্রমণে তার প্রাণহানি ঘটে। বন-সংলগ্ন লোকালয়ের অসহায় নারী-পুরুষদের কর্মসংস্থান এবং আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান স্থানীয়রা।
ডিএফও মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বৈধ পাশ (অনুমতিপত্র) নিয়ে জেলে, বাওয়ালী, মৌয়ালসহ পেশাজীবীরা সুন্দরবনে প্রবেশ করে বাঘ, কুমিরসহ বন্যপ্রাণীর আক্রমণে নিহত অথবা আহত হলে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। ওই নারী নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন অবৈধভাবে সুন্দরবনের নদীতে মাছ আহরণ করতে গিয়ে কুমিরের আক্রমণে নিহত হয়েছেন। এক্ষেত্রে তাকে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা দেওয়া সম্ভব নয়।
১২২ দিন আগে
সুন্দরবনে দস্যুদের সঙ্গে বনকর্মীদের গোলাগুলি, অপহৃত ৪ জেলে উদ্ধার
সুন্দরবনে বনদস্যুদের সঙ্গে বনকর্মীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। গোলাগুলির পরে ওই স্থান থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অপহরণের শিকার হওয়া ৪ জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) সকালে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের কোকিলমনি এলাকার সিঙারটেকে এই ঘটনা ঘটে।
গোলাগুলির পরে ওই স্থান থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অপহৃত ৪ জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় বনদস্যুদের ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা, একটি বন্ধুক ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছেন বনরক্ষীরা।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন— শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের আবদুল বারেক খান ও মো. হাসান এবং খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার নাছিম ও দাকোপ উপজেলার ইরাক শেখ।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সিঙারটেক এলাকায় শেলারচর টহল ফাঁড়ি এবং স্মার্টটিমের যৌথ টহল চলাকালীন ডাকাতের উপস্থিতি টের পেয়ে সেদিকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ডাকাতরা গুলি ছুড়লে বনকর্মীরা পাল্টা গুলি চালান। তাদের দিক থেকে ৭ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। ডাকাতরা পরবর্তীতে তাদের ট্রলার এবং ৪ জন জিম্মিকে রেখে পালিয়ে যান।
তিনি আরও জানান, এ সময় সেখান থেকে জেলেদের ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা, জিম্মি থাকা ৪ জেলে, একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত জেলেরা শেলারচর টহল ফাঁড়ির হেফাজতে আছেন। তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। বনরক্ষীদের গুলি করা দস্যুরা শরীফ বাহিনীর সদস্য বলে জানা গেছে বলে জানান তিনি।
১৫৮ দিন আগে