ভারতীয় মিডিয়া
ইউনূসের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে আ.লীগের পাশাপাশি ভারতীয় মিডিয়াও: প্রেস সচিব
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে জঙ্গি নেতা হিসেবে বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করতে শেখ হাসিনার ‘অলিগার্ক গোষ্ঠীর’ পাশাপাশি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমও ‘অপপ্রচার’ চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি বলেছেন, ‘তারা একটা নতুন ন্যারেটিভ তৈরি করতে চাচ্ছে। বিশ্বকে বোঝাতে চাইছে, তোমরা যে এটাকে গণঅভ্যুত্থান বলছ, সেটা আসলে তা না।’
শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে দ্রোহের গ্রাফিতির প্রকাশনা উৎসবে এ মন্তব্য করেন তিনি।
শফিকুল আলম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও পতিত স্বৈরাচার, চোরতন্ত্রের জননী, গুমের জননী; তারা চাইছেন বাংলাদেশের যে ন্যারেটিভ, সেটাকে চ্যালেঞ্জ করতে।’
‘ওদের বার্তাগুলো খেয়াল করেন— তিন হাজার পুলিশ মারা গেছে; ড. ইউনূস জঙ্গি লিডার; ইউনূসকে জঙ্গিরা ঘিরে আছে। এগুলো কেন বলছে জানেন? এটা সুপরিকল্পিত প্রচারাভিযান। এতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমও জড়িত। এর পেছনে মিলিয়ন ডলার খরচ করছেন হাসিনার অলিগার্করা।’
আরও পড়ুন: ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত আ.লীগকে বিক্ষোভ করতে দেওয়া হবে না: প্রেস সচিব
তিনি বলেন, ‘এটা বড় রকমের একটা চক্রান্ত। বিদেশিদের তারা বোঝাতে চাইছে, আমাদের দেশে যেটা হয়েছে, সেটা আসলে গ্লোবাল অর্ডারের বাইরের একটা কিছু।’
প্রেস সচিব বলেন, ‘ড. ইউনূস ছয় দশক ধরে জনজীবনে আছেন এবং সবাই তাকে চেনেন। তাকে তারা এমনভাবে উপস্থাপন করছে, বাংলাদেশের যে অনন্য ইতিহাস, নতুন বাংলাদেশের ইতিহাস, এটা উল্টে দিতে চায়।’
অন্তর্বর্তী সরকারকে অনেকেই ব্যর্থ প্রমাণের চেষ্টায় লিপ্ত আছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা মিলিয়ন ডলার খরচ করছে। অথচ ড. ইউনূস কিন্তু ছয় দশক ধরে পাবলিকলি আছেন একটা স্বচ্ছ ইমেজ নিয়ে। আমাদের অপপ্রচার যারা করে তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।’
অধ্যাপক ইউনূস সবাইকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, ‘আমাদের কাজ হচ্ছে কী ভয়াবহ ১৫টা বছর ছিল—সেটা গবেষণার মাধ্যমে সবাইকে জানানো। প্রত্যেক ক্যাম্পাসে সেমিনার করব, দেওয়ালে দেওয়ালে অন্যায়-অবিচারের কথা লিখে রাখব, যেন বাংলাদেশে এই পতিত স্বৈরাচার ও তাদের সাঙ্গ-পাঙ্গরা ফিরতে না পারে।’
প্রেস সচিব আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমাদের একটি মহৎ-মহান বিপ্লব হলো, একটি মুক্তিযুদ্ধ করলাম, ভয়ঙ্কর রকমের একটি মিলিটারির বিরুদ্ধে, কিন্তু এটার ডকুমেন্টেশন নেই। খুবই দুর্বল ডকুমেন্টেশন।’
এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘শেখ মুজিবের প্রথম কয়েকটা মাসে একটা ভঙ্গুর অর্থনীতির মাঝে ছিলাম। আরেকটা হচ্ছে, তার বাজে রকমের অর্থনৈতিক পলিসি, এটাকে আমি সুইসাইডাল বলব। সেটা বাংলাদেশকে আরও গরিবীর দিকে নিয়ে গেছে।’
‘মানুষ তখন বাঁচার যন্ত্রণায় ছিল, গ্রাফিতি কী করবে আর! ফলে ১০-১৫ বছর পর দেখা গেল, ১৯৭১ সালের পরে জন্ম নিয়েও মুক্তিযোদ্ধা হয়ে গেছে, এমনকি ডাকাত হয়ে গেছে মুক্তিযোদ্ধা, মন্ত্রীও হয়েছে।’
আরও পড়ুন: দেশের মানুষের কল্যাণেই ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও স্বাস্থ্যকর জায়াগায় নিতে হবে: প্রেস সচিব
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী; সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠ সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, আমার দেশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, সাংবাদিক কাজী রওনাক হোসেন ও ‘দ্রোহের গ্রাফিতি: ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান’ বইয়ের লেখক জি এম রাজীব হোসেন।
৫৫ দিন আগে