বার্ষিক কর্মশালার উদ্বোধন
বাকৃবিতে গবেষণা অগ্রগতির বার্ষিক কর্মশালার উদ্বোধন
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী ‘গবেষণা অগ্রগতির’ বার্ষিক কর্মশালা শুরু হয়েছে।
কর্মশালায় বাউরেস দেশের কৃষিতে অসামান্য অবদান রাখার জন্য সংবর্ধনা ও সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বাউরেসের তত্ত্বাবধানে বাকৃবির সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন এ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
এ বছর শিক্ষকদের এইচ-ইনডেক্স মানের উপর ভিত্তি করে মোট ১৭ জনকে গ্লোবাল রিসার্চ ইম্প্যাক্ট রিকগনাইজেশন অ্যাওয়ার্ড-২০২৪, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষকদের মধ্যে বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি স্বর্ণপদক পুরস্কার প্রাপ্তির অসামান্য কৃতিত্বের স্বীকৃতি স্বরুপ বাউরেস থেকে পাঁচজনকে গ্লোবাল সায়েন্টিস্ট রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড-২০২৫ ও ২০২৪ সালে বিশ্ব র্যাঙ্কিয়ে স্ট্যানফোর্ড-এলসেভিয়ায়ের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় বাকৃবির আটজন শিক্ষককে তাদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ বাউরেস থেকে তাদের সম্মাননা-২০২৫ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: কৃষি সুরক্ষা পদ্ধতির উন্নয়নে বাকৃবি-মারডক বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণা
এছাড়া কৃষি উৎপাদনে বিশেষ অবদান রাখার জন্য খামার পর্যায়ের পাঁচজন কৃষককে অধ্যাপক ড. আশরাফ আলী খান স্মৃতি কৃষি পুরস্কার-২০২৫ দেওয়া হয়েছে। এ বছর কৃষি বিষয়ে বিশেষ অবদান রাখার জন্য বাকৃবি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. রায়হান আবিদকে কৃষি সাংবাদিকতা অ্যাওয়ার্ড-২০২৫ দেওয়া হয়।
বাউরেসের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফজলুল হক ভূইঁয়ার পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা ও ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘বাকৃবির অনন্য ও সেরা বিষয়টি হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষক নারী। কৃষিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রগতি জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদালয়ে গবেষণার পাশাপশি গবেষণার সংস্কৃতিও থাকা দরকার। উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে গবেষণার সংস্কৃতি বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে আরও পরিচিত করে তুলবে।’
এ সময় বাকৃবি উপাচার্য বলেন, ‘বাকৃবির প্রয়াস আগামীতে বাংলাদেশের কৃষিকে আরও শক্তিশালী ও খাদ্য নিরাপত্তায় স্বচ্ছল করবে। আমদেরকে একটি টেকসই ও খাদ্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার পথে একসঙ্গে কাজ করে যেতে হবে। উদ্ভাবনী গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে, কৃষক এবং গবেষকরা একযোগে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ, তার ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে, কৃষির জন্য এক অনিশ্চিত ভবিষ্যত মোকাবিলা করছে। তবে, কৃষি গবেষণা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে বাকৃবির একাগ্রতা এবং উদ্ভাবনী শক্তি আমাদের কৃষি ব্যবস্থাকে আরও টেকসই ও সহিষ্ণু করে তুলবে।’
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান ও কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী চেয়ারম্যান কৃষিবিদ ড. নাথুরাম সরকার।
আরও পড়ুন: বাকৃবির মধ্যে রিকশাভাড়া নির্ধারণ করল প্রশাসন
উল্লেখ্য, তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে ২৩টি টেকনিক্যাল সেশন উপস্থাপিত হবে এবং তা থেকে পরবর্তী গবেষণার পরিকল্পনা করা হবে। পরবর্তীতে সেশন ভিত্তিক বেস্ট ২১ জন উপস্থাপনকারীকে পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হবে। এছাড়াও পোষ্টার সেশন মোট ছয়জনকে সেরা পোস্টার উপস্থাপনকারী হিসেবে পুরুস্কৃত করা হবে।
৪৮ দিন আগে