হামিদুর রহমান আযাদ
সচিবালয়ে বিএনপির বৈঠক নিয়ে জামায়াতের প্রশ্ন
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাই করতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিএনপির বৈঠক আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেছেন, সচিবালয়ের মতো নির্বাহী জায়গায় রাজনৈতিক দলের বৈঠকের ইতিহাস তাদের জানা নেই।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘সচিবালয় হলো একটা নির্বাহী জায়গা। এখানে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ বৈঠক হবে, শীর্ষ ফোরামের বৈঠক হবে—এটার অতীতের রেকর্ড আমাদের জানা নাই। এই কাজটি উনারা করছেন। তাহলে উনারা গণতন্ত্রকে কীভাবে দেখেন? আমার দলের মতো হলে গণতন্ত্র, না হলে স্বৈরতন্ত্র!’
সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকার পরও গণতন্ত্রের সৌন্দর্য রক্ষা ও গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনার স্বার্থে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বলে জানান হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক চর্চায় একটি নতুন ধারা তৈরি করতে চাই। তবে ১৯৯১ সালে (রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে) যদিও একটা সম্ভাবনা ছিল বিএনপির আসন কম থাকাতে। এখানে তো সেই সম্ভাবনাও নাই। বিএনপিতে আগেই নিজেদের মেজোরিটি (সংখ্যাগরিষ্ঠতা) সুনিশ্চিত কলাকৌশল করে করে নিয়েছে। সেই কারণে তাদের ‘সেফ সাইড’ আছে।
আযাদ বলেন, ‘এখানে জিতব কি হারব—এটা নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন হোক—এটা আমরা চাই না। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্যই আমরা এই সিদ্ধান্তটা নিয়েছি।’
অলি আহমদকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে এই নেতা বলেন, তিনি একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং জাতীয়ভাবে সমালোচনা-বিতর্কের ঊর্ধ্বে। দেশের জন্য অনেক অবদান রেখে আসছেন দীর্ঘ সময় ধরে। একসময় তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। আবার আলাদা দল করেছেন। এখন আবার আমাদের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে উনি রাজনীতি করে যাচ্ছেন। জাতি এটাকে অবশ্যই ইতিবাচক দেখছে এবং আমাদের ১১ দলের সিদ্ধান্তকে প্রশংসা করছে।
তবে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গণতান্ত্রিক চর্চার ক্ষেত্রে একটি বাধা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য তার দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারেন না।
বিএনপি চাইলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য গোপন ব্যালটে ভোটের বিধান চালু করতে পারত বলেও দাবি করেন আযাদ। তিনি বলেন, সবাই মিলে যখন একমত (জুলাই সনদ) হয়েছি একটা অধ্যাদেশ জারি করে বাংলাদেশে গণতন্ত্র উচ্চ পর্যায়ে থেকে চর্চা শুরু করার সুযোগ ছিল, কিন্তু তারা করলেন না।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধিত হতো এবং এমপিরা স্বাধীনভাবে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট দিতে পারতেন। তবে গণভোটে এটা পাস হওয়ার পরও ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপির ‘একগুঁয়েমি’ ও ‘দলীয় সংকীর্ণতা’র কারণে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে না পারায় এই সংস্কার বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের এই নেতা।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের বহিষ্কৃত জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আযাদ বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অবিকলভাবে বহাল আছে ততক্ষণ সেই অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোট দিতে হবে।
আজ বেলা ১১টা ৪৯ মিনিটে এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে বিরোধী দলীয় জোটের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে অলি আহমেদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়।
মনোনয়নপত্রে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে প্রস্তাব করেন এবং এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন তার প্রার্থিতা সমর্থন করেন।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন জামায়াতের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, নাজিবুর রহমান মোমেন ও মারদিয়া মমতাজ; এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন ও মাহমুদা মিতু; লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান প্রমুখ।
১৩ দিন আগে
সংসদে মানুষের মৌলিক অধিকারের অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে: আযাদ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, সংসদে মানুষের মৌলিক অধিকারের অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে, যেগুলো পাস করা হয়েছে তা মৌলিক অধিকারের নয়।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদপুর শহরতলীর মুসলিম মিশন মিলনায়তনে ফরিদপুর অঞ্চলের উপজেলা/থানার আমির, নায়েবে আমির ও সেক্রেটারি সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
বর্তমান সরকারপ্রধান নির্বাচনের আগে তাদের দলীয় প্রতীক ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেও সমর্থন চেয়েছিলেন। তবে কেন একই তফসিলের দুটি ভোটে অংশ নিয়ে একটি শপথ পড়লেন, আর ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায়কে ছুড়ে ফেললেন।
তিনি বলেন, আপনারা দেশের ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে এভাবে ছুড়ে ফেলতে পারেন না। আপনাদের মনে রাখতে হবে দেশটা সরকারের নয়, এটি সবার বাংলাদেশ।
ডাকসুর নেতাদের ওপর হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা হলো থানা, আর ছাত্র নেতারা থানায় গিয়ে হামলার শিকার হন। তাদের অপরাধ কী ছিল?’
জামায়াতের এই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘সরকারের কাছে আমার প্রশ্ন— আবার কি আয়নাঘর, গুমের মতো ঘটনা তৈরি করে বিরোধী দলকে দমন করা হবে?’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারকে বলব আপনার দলের মাস্তানদের নিয়ন্ত্রণ করুন, নয়তো জনগণ তাদের প্রতিহত করবে, তখন কিন্তু পালাবার পথ পাবেন না।’
বিএনপির উদ্দেশে আযাদ বলেন, শিবিরকে রগ কাটার অপবাদ দেওয়া হয়, কিন্তু আমরা চট্টগ্রামে কী দেখলাম, আমার ভাইয়ের পায়ের রগ কেটেছে কারা?
তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজন হলে আবারও জুলাইয়ের মতো আন্দোলন হবে, এখনও সময় আছে জনগণের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন।
এ সময় নিজ দলের নেতা-কর্মীদের আগামীতে আন্দোলনের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ফরিদপুর জেলার আমির মাওলানা বদরুদ্দীন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য শামসুল ইসলাম বরাটি, অধ্যাপক আবদুত তাওয়াব, ইমতিয়াজউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
১২৪ দিন আগে
সংস্কার ছাড়া নির্বাচন দিলে ফ্যাসিবাদ ফিরবে: হামিদুর রহমান আযাদ
ফ্যাসিবাদী সরকারের মাধ্যমে সৃষ্ট অচলাবস্থার মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া নির্বাচন দিলে দেশে আবারও ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি বলেছন, ‘বর্তমান সরকার যদি গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার দিকে ফিরিয়ে নিতে চান, তাহলে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার যে দেশকে অচলাবস্থা করেছিল সেটার প্রয়োজনীয় সংস্কার দরকার। সংস্কার ছাড়া নির্বাচন দিলে আবারো ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে।’
আযাদ বলেন, বাংলাদেশকে গড়তে হলে আমাদেরকে ঔক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৫টায় ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে উপজেলা ও পৌর জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হামিদুর রহমান বলেন, বিগত ৫৩ বছর বাংলাদেশের মানুষ দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কবলে পড়েছে, বৈষম্যের শিকার হয়েছে। এ জন্যই জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার বিপ্লব ঘটেছে। বুলেটের সামনে দেশের দামাল ছেলেরা বুক পেতে রক্ত দিয়েছে। হাজার হাজার লাশ পড়েছে ও ৩০ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতা আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: দিনাজপুরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলন
অন্তবর্তী সরকারকে উদ্দ্যেশে করে তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে হবে। তারপর জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সংসদে সংখ্যানুপাতিক আসন বিন্যাস করতে হবে। নির্বাচন ব্যবস্থার মধ্যে বিগত সরকারের দুর্নীতিবাজদের বিচারের দাবিও জানান আযাদ।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, বর্তমান সরকার এসেছিল বৈষম্য দূর করতে, এখনো বৈষম্যমুক্ত হয়নি দেশ। আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের অধিকার সমান। সংবিধানের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদ কার্যকর হয়নি এখনো।
আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ৫ আগস্ট গণভবন ঘেরাওয়ের কথা বুঝতে পেরে নেতাকর্মীদের বিপদে ফেলে শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে। ১৫ বছর ছাত্রদের যে ইতিহাস পড়ানো হয়েছিল, ছাত্র-জনতা সেদিন ফুসে উঠে ক্রেন দিয়ে সেগুলো ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।
তিনি বলেন, বিগত সরকার সম্পদের সঠিক ব্যবহার না করে শুধু লুটপাটে ব্যস্ত ছিল। তারা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করছে, চর দখলের মতো ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয়ের হল দখল করে ক্যান্টনম্যান্ট তৈরি করেছিল। যে কারণে মেধাবীরা দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। শুধু সমদ্রের সম্পদ ব্যবহার করে দেশের ছয় মাসের চাহিদা মেটানো সম্ভব ছিল।
হামিদুর রহমান বলেন, যে উদ্দেশ্য এ দেশ স্বাধীন হয়েছিল সে উদ্দেশ্য সফল হয়নি। দেশে সুশাসন, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা না হওয়ায় পাঁচবার বাংলাদেশ দূর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিকভাবে গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত হয়েছে। গণহত্যার দায়ে শেখ হাসিনার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ফ্যাসিস্টের দোসরদের বিচার করতে হবে। তিনি সর্বশেষে জামায়াত নেতা আজাহারুল ইসলামসহ জেলবন্দি নেতাদের মুক্তির দাবি জানান তিনি।
আরও পড়ুন: ‘ক্ষমতায় যাওয়া নয়, সুশাসন কায়েম করাই জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশ্য’
ফরিদপুর জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক ইমারত হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও বোয়ালমারী পৌর জামায়াতের আমীর মাওলানা সৈয়দ নিয়ামুল হাসানের সঞ্চালনায় জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ দেলোয়ার হুসাইন, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য শামসুল ইসলাম আল-বরাটী, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ বদরুদ্দীন, সেক্রেটারি আব্দুল ওহাব, ফরিদপুর-১ আসনের জামায়াতের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. মো. ইলিয়াস মোল্যা, জেলা নায়েবে আমির আবু হারেস মোল্যা প্রমুখ।
৫৫০ দিন আগে