শামা ওবায়েদ
শেখ হাসিনাকে ফেরানোর চেষ্টায় কূটনৈতিক ঘাটতি নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে কোনো কূটনৈতিক ঘাটতি নেই বলে দাবি করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সেইসঙ্গে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা প্রাসঙ্গিক নয় বলেও মনে করছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা দেশে ফেরার কথা বলছেন এবং সময়ের উল্লেখ করেছেন। তাহলে তাকে ফেরাতে বাধা কোথায়—প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়।
জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের কোর্ট একজনকে সাজা দিয়েছে, সাজাপ্রাপ্ত আসামি যিনি বাংলাদেশে বহু অন্যায়, অত্যাচার, অপকর্ম করে বিদেশে পালিয়ে আছেন। তো উনার এখানে... শেখ হাসিনা কী বলছে না বলছে উনার বক্তব্যটা এখানে (দেশে) রেলেভেন্ট (প্রাসঙ্গিক) না, একেবারেই রেলেভেন্ট না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে যোগাযোগটা শুরু হয়েছে, এখন সেই ডিপ্লোম্যাটিক চ্যানেলে সেটা চলমান আছে। একজন বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় বা একজন আসামিকে যখন ফেরত আনা হয়, সেই যে প্রটোকল আছে, যে নর্মস (নিয়মকানুন) আছে, সেই নর্মস অনুযায়ী উনাকে এনে এখানে বিচার করা হবে। সেটাই তো মনে হয় বাংলাদেশের জনগণ চায়।
তিনি বলেন, এখানে যে অন্যায়গুলো হয়েছে, যে দুর্নীতি হয়েছে, খুন, গুম হয়েছে—সেগুলোর একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ বিচার বাংলাদেশের মাটিতে হবে। ভারত সরকারের সঙ্গে সেই প্রক্রিয়া চলমান আছে, সেটা আমরা আগেই বলেছি। এখন যিনি আসামি তার বক্তব্যটা এখানে রেলেভেন্ট না।
প্রায় ৫ মাস হয়ে যাচ্ছে, এখনো শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার অগ্রগতি নেই, এখানে সফলতার ঘাটতি আছে কি না জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, না; এটা দেখুন... এটা সময় লাগে। প্রক্রিয়াটা চলমান আছে। তার মধ্যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়, তার মধ্যে বাংলাদেশে নির্বাচন হয়েছে, নতুন সরকার গঠন হয়েছে। সরকার আসার পরে প্রক্রিয়াটি আবার সচল হয়েছে। তো প্রক্রিয়ায় সময় লাগে, সেটা চলমান আছে। সেখানে কূটনীতির কোনো ঘাটতি নেই।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে আপনাদের মনে রাখতে হবে, এটা শুধু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়, এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও বিষয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এটা নিয়ে কাজ করছে। উনারাও কাজ করছেন, প্রক্রিয়াটা চলমান আছে।
শেখ হাসিনাকে ফেরানোর ক্ষেত্রে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জটি কী? ভারতের সহযোগিতা সরকার পাচ্ছে কিনা, আইনি কোনো জটিলতা আছে কিনা—এমন প্রশ্নের উত্তরে শামা ওবায়েদ বলেন, আইনি জটিলতা আছে কি নাই, সেটা আমাদের আইন মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খুঁটিয়ে দেখবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমাদের যেই প্রক্রিয়া চালানো দরকার, সেই প্রক্রিয়া আমরা চালাচ্ছি, সেটাতে কোনো ঘাটতি আমি দেখছি না।
গঙ্গা পানি চুক্তি প্রসঙ্গ
গঙ্গার পানি ভাগাভাগি-সংক্রান্ত বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ৩০ বছরের চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। এ চুক্তির নবায়ন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলছে জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটা মাথায় রেখে এ ব্যাপারে ভারত সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি বলেন, ‘গঙ্গা চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হচ্ছে। সব আলোচনা দৃশ্যমান নয়। আলোচনা চলতে থাকে। আমি বিশ্বাস করি, দ্বিপাক্ষিক যে আলোচনা চলছে, গঙ্গা চুক্তির গুরুত্ব এবং পানির গুরুত্ব ভারত বুঝতে পারছে। সেটা বিবেচনায় রেখে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কটা যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটা মাথায় রেখে ভারত সিদ্ধান্ত নেবে।’
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমরা মনে করি, এটা ইতিবাচক দিকে আগাচ্ছে। গঙ্গাচুক্তির বেশি সময় নেই। আমাদের যে টিম (যৌথ নদী কমিশন-জেআরসি) প্রধানমন্ত্রী করে দিয়েছেন, সেই কমিটি কাজ করছে ভারতের সঙ্গে।’
ইতিবাচক দিকে এগোনোর ব্যাখ্যায় শামা ওবায়েদ বলেন, ‘এটা ব্যাখ্যা করার কিছু নেই। আমি আশা করছি, ভারত গঙ্গাচুক্তির গুরুত্ব বুঝবে এবং সেভাবে উনারা এগিয়ে আসবেন।’
‘কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাস যোগ্যতার ভিত্তিতেই করা হচ্ছে’
এ সময় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে রদবদল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিষয়টিকে ‘একটি চলমান প্রক্রিয়া’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন হবে, নতুন দায়িত্বে নতুন ব্যক্তিরা আসবেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন ও রদবদল একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। সরকার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত জানানো হলে তখনই সবাই জানতে পারবেন কোথায়, কেন এবং কী কারণে রদবদল করা হয়েছে। এর আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করার সুযোগ নেই।
রদবদলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দক্ষতা, যোগ্যতা এবং কাজের প্রতি আন্তরিকতা। প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বশীলতাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, শুধু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নয়, সব মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রেই দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা, কাজের প্রতি নিষ্ঠা, দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা এবং ব্যক্তির যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই প্রয়োজনীয় রদবদল করা হয়।
তিনি আরও বলেন, রদবদল প্রক্রিয়া এখনও চলমান। সরকার থেকে গেজেট প্রকাশের পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
১৬ ঘণ্টা আগে
সার্ক ও বিমসটেকের মধ্যে একটিকে বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই: শামা ওবায়েদ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা—সার্ক ও বহুখাতভিত্তিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য বঙ্গোপসাগরীয় উদ্যোগ—বিমসটেকের মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এ দুটি প্ল্যাটফর্মের মধ্যে প্রতিযোগিতা নয়, বরং পরিপূরক সম্পর্ক থাকা উচিত।
সোমবার (৬ জুলাই) এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সার্ক এবং অন্যান্য আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম, বিশেষ করে বিমসটেকের পারস্পরিক সম্পর্ক তুলে ধরে এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিমসটেক দক্ষিণ এশিয়াকে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করে। অন্যদিকে, সার্ক দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বিস্তৃত আঞ্চলিক পরিচয়ের প্রতিনিধিত্ব করে, যেখানে বিমসটেকের বাইরে থাকা দেশগুলোও অন্তর্ভুক্ত।
তিনি বলেন, উপ-আঞ্চলিক উদ্যোগগুলো যেন সার্কের গতি কমিয়ে না দেয়; বরং এগুলোকে বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ একই সঙ্গে সার্ক এবং বিমসটেককে সমর্থন করতে পারে। কারণ, যোগাযোগ, স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে উভয় প্ল্যাটফর্মই বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সেন্টার ফর বে অব বেঙ্গল স্টাডিজের উপদেষ্টা এবং সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়া স্টাডিজের ভিজিটিং রিসার্চ ফেলো তারিক এ করিম।
আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত পররাষ্ট্রসচিব (সার্ক ও বিমসটেক) এবং কোডারসট্রাস্ট বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামসুল হক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. নিলয় রঞ্জন বিশ্বাস।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস)-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান অনুষ্ঠানে স্বাগত ও সমাপনী বক্তব্য দেন।
মূল প্রবন্ধে মানচিত্র নিয়ে আপত্তি
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় প্রদর্শিত একটি মানচিত্র নিয়ে আপত্তি জানান ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক ও তথ্য) পূজা কুমারী ঝা।
তিনি বলেন, এখানে ভারতের যে মানচিত্র দেখানো হয়েছে, তা সঠিক নয়। জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই উপস্থাপিত মানচিত্রটি সঠিক নয় বলে আমি মনে করি।
জবাবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকারী সাবেক রাষ্ট্রদূত তারিক এ করিম বলেন, মানচিত্রটি শুধু উপস্থাপনার সুবিধার্থে ব্যবহার করা হয়েছে এবং এটি প্রকৃত সীমারেখা নির্দেশ করে না।
পরে পূজা কুমারী ঝা বলেন, আমি বুঝতে পারছি, স্যার। কিন্তু জম্মু ও কাশ্মীরকে আমরা ভারতের অংশ হিসেবে দেখি এবং এখানে সেটি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাই বিষয়টি শুধু উল্লেখ করতে চেয়েছি।
এর জবাবে তারিক করিম বলেন, বিষয়টি নথিভুক্ত করা হলো।
‘সর্বোচ্চ কার্যকর অবস্থায়’ সার্ক পরিচালনার আহ্বান
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার প্রাথমিক ধাপে বাংলাদেশ চায়, পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত সংস্থাটি ‘সর্বোচ্চ কার্যকর অবস্থায়’ পরিচালিত হোক।
তিনি বলেন, ‘সর্বোচ্চ কার্যকর অবস্থায়’ কথাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর অর্থ শুধু প্রতীকীভাবে সার্ককে টিকিয়ে রাখা নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাস্তবসম্মতভাবে যতটুকু সম্ভব, তার সর্বোচ্চটা করা। অর্থাৎ লক্ষ্য হবে উচ্চাভিলাষী, কিন্তু পদ্ধতি হবে বাস্তবভিত্তিক।
৩ দিন আগে
হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে দেশে ফেরানোর চেষ্টা চলছে: শামা ওবায়েদ
জুলাই অভ্যুত্থানকেন্দ্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বুধবার (১ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
এদিন শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন কোনো আপডেট নেই। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।
‘অবশ্যই একজন আসামি, যিনি অন্যায় করে, অপরাধ করে আরেক দেশে অবস্থান করছেন এবং যার বিচার হয়েছে, যিনি সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাকে আমরা দেশে ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশের মাটিতে সেই বিচার সম্পন্ন করতে চাই। বাংলাদেশের জনগণও সেটাই চায়। সেই লক্ষ্যেই কাজ চলছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।’
পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, গত ১৭ বছরে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে জানিয়েছেন যে, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে ১০টি দেশের কাছে বাংলাদেশ অনুরোধ জানিয়েছে। যেসব দেশে অর্থ পাচার হয়েছে, সেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
তিনি বলেন, ‘এটা রাতারাতি হওয়ার মতো কোনো বিষয় নয়। এটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে আমরা মনে করছি, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যে চুক্তিগুলো হয়েছে এবং আলোচনা চলছে, সেগুলোর মাধ্যমে আমরা একধাপ এগিয়েছি। বাংলাদেশের জনগণের পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আমরা একধাপ এগিয়েছি। সেই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ও ‘টু প্লাস টু’ প্রস্তাব
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, ‘চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সবসময়ই ভালো ছিল। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে তারা আমাদের অত্যন্ত শক্তিশালী অংশীদার। প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর আমরা আশা করছি, চীনা বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন নতুন বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসবে।’
চীনের প্রস্তাবিত ‘টু প্লাস টু’ সংলাপ এবং অর্থনৈতিক করিডর (ইকোনমিক করিডর) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সবসময় বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা এবং তাদের চাহিদাকে সামনে রেখেই পরিচালিত হবে। যদি আমরা দেখি এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য উপকারী এবং জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনীয়, তাহলে অবশ্যই আমরা তা বিবেচনা করব।’
‘টু প্লাস টু’ সংলাপের প্রস্তাব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও চীনের প্রেসিডেন্টের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং সরকার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে চীনের মন্তব্য যে ‘এ সম্পর্ক নিয়ে তৃতীয় কোনো পক্ষের মাথা ঘামানোর সুযোগ নেই’, এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, সব দেশের সঙ্গেই আমাদের সম্পর্ক স্বতন্ত্র। চীনের সঙ্গে যেমন সম্পর্ক থাকবে, তেমনি অন্যান্য দেশের সঙ্গেও থাকবে। আমরা মনে করি না, এক দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক হলে আরেক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হবে। সব দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রেখে বাংলাদেশের স্বার্থ হাসিল করাই আমাদের লক্ষ্য।’
তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা
তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) নিয়ে তিনি বলেন, সমীক্ষাটি এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।
তিনি বলেন, ‘ফিজিবিলিটি স্টাডির জন্য যে কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন, চীন তা দিতে সম্মত হয়েছে। শুধু তিস্তা নয়, বাংলাদেশে নদী ব্যবস্থাপনার আরও অনেক বিষয় রয়েছে। সেসব ক্ষেত্রেও সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় তারা সহায়তা করতে চায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি এখনও শেষ হয়নি, শুরু হয়েছে। আগে যেখানে কাজ থেমে ছিল, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের পর সেখান থেকেই এটি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’
অর্থনৈতিক করিডর
মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশ-চীন প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি এখনও বিশ্লেষণাধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এটি বিশ্লেষণ করছি। যদি অর্থনৈতিক করিডরের মাধ্যমে যোগাযোগ সহজ হয়, তাহলে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে। তবে এতে কোনো জটিলতা বা সমস্যা আছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি প্রস্তাব। আমরা প্রস্তাবটিকে সাধুবাদ জানাই, কারণ এটি বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক হতে পারে। তবে বাস্তবে এটি কতটা কার্যকর হবে বা কোনো জটিলতা তৈরি করবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এ সময় সাংবাদিকরা জানতে চান, অতীতে ভারতের উদ্যোগে করিডোর নিয়ে যেভাবে আলোচনা হয়েছিল, তখন একটা ভিন্ন পেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল। বর্তমান প্রস্তাব নিয়েও তেমন কোনো জটিলতা তৈরি হতে পারে কি না।
জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো বিশ্লেষণ করছে এবং তাদের মূল্যায়নের ভিত্তিতেই সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
ভারতের বিভিন্ন থিঙ্ক ট্যাংকের মন্তব্য প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘ভারতের থিঙ্ক ট্যাংক কী বলছে, সেটা ভারতকেই জিজ্ঞেস করা যায়। এ বিষয়ে আমাদের মন্তব্য করার কিছু নেই।’
৮ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরসূচি একান্তই তার সিদ্ধান্ত: শামা ওবায়েদ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর কোন দেশে হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কিংবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা দেওয়া হয়নি। তাই প্রথম সফর কোন দেশে হবে, তা জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
বুধবার (৩ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, প্রধানমন্ত্রী চলতি মাসের শেষ দিকে চীন সফরের আগে ২১-২২ জুন মালয়েশিয়া সফর করতে পারেন।
এ বিষেয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, বহু দেশ থেকে আমন্ত্রণ এসেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী কবে, কখন ও কীভাবে কোন দেশ দিয়ে সফর শুরু করবেন, সেটি সম্পূর্ণ তার সিদ্ধান্ত।’
তিনি বলেন, পত্রপত্রিকা আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে নিউজ করে। তবে এ ব্যাপারে যতক্ষণ না প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অফিশিয়াল কোনো বিবৃতি প্রকাশিত হয়, সংবাদ প্রকাশের জন্য সে পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষা করা উচিৎ।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর কোনো সফরসূচি চূড়ান্ত হলে তার দপ্তরের প্রেস উইং থেকে বিষয়টি গণমাধ্যমে জানানো হবে। তার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সব দেশেই উনি (প্রধানমন্ত্রী) যাবেন। সবার সঙ্গেই আমাদের সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে হবে। সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন।
৩৬ দিন আগে
শামা ওবায়েদকে নিয়ে ছড়ানো ফটোকার্ড ‘ভুয়া’, বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামকে উদ্ধৃত করে ছড়িয়ে পড়া কিছু ফটোকার্ড সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সোমবার (৩০ মার্চ) এক বিবৃতিতে জনগণকে এ ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে এবং সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো কয়েকটি ভুয়া ফটোকার্ড পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এসব ফটোকার্ডে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের বক্তব্যের নামে পুরোপুরি অসত্য তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এমন একটি কার্ডে দাবি করা হয়েছে, ‘ইন্ডিয়ার সাথে আমাদের চোখ নিচু করেই কথা বলতে হবে, এই যে যেমন এখন ইন্ডিয়ার হাতে পায়ে ধরে তেল আনতে হচ্ছে, গাধার মতো ‘‘দিল্লি না ঢাকা’’ স্লোগান দিলেই তো হবে না, বুঝতে হবে যে ইন্ডিয়ার সাথে ঝামেলা করলে আমাদের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়ে যাবে।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করছে যে, এই বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে গুজব ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কখনোই কোথাও এরকম বক্তব্য প্রদান করেননি। কাজেই, এসব অপতথ্য ও গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সকলকে অনুরোধ করা হলো।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রকৃতপক্ষে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘বাংলাদেশে সরকারের পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে ‘‘সবার আগে বাংলাদেশ’’। বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে সব রাষ্ট্রের সাথে, সব সরকারের সাথে আমাদের সম্পর্ক থাকবে। বাংলাদেশ মেরুদণ্ড সোজা করে সব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে, কথা বলবে, বন্ধুত্ব রাখবে।’
১০১ দিন আগে
হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ফেরাতে কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছে ঢাকা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) কর্তৃক ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তারের পর কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছে বাংলাদেশ।
সোমবার (৯ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ তথ্য জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল আমরা জানতে পেরেছি, কলকাতা পুলিশ হাদি হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘কলকাতার উপকমিশনার এরইমধ্যে যোগাযোগ করেছে। আমরা ভারতের কাছে কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছি। কারণ আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, তা এখন পর্যন্ত যথেষ্ট নয়। কনস্যুলার অ্যাক্সেস পাওয়া মাত্রই আমরা সামনের দিকে এগোতে পারবো। ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্দিবিনিময় চুক্তি আছে। যদি এ আসামিরা শনাক্ত হয়, তাহলে আমরা ভারত সরকারের সঙ্গে বন্দিবিনিময় চুক্তির মাধ্যমে বন্দিদের ফেরত আনার ব্যবস্থা করব।’
কতদিনের মাঝে ফেরানো সম্ভব, তা সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি তিনি। তবে ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘এই কনস্যুলার অ্যাক্সেস পেলে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বন্দিদের পরিচয় যাচাই করতে পারবে। আমাদের অপেক্ষা করতে হবে পরবর্তীতে তারা কী পদক্ষেপ নেয়, সেটার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু আমরা আশা করব যে ভারত আমাদের সে ব্যাপারে সহযোগিতা করবে।’
১২২ দিন আগে
বিএনপি-কর্মীদের ওপর ফুলের টোকা পড়লেও আইনি আশ্রয় চান শামা ওবায়েদ
বিএনপির কোনো কর্মীর ওপর ফুলের টোকা পড়লেও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আশ্রয়ে আনতে হবে বলে দাবি করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ।
ফরিদপুরের সালথায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাড়ি পরিদর্শনকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
আজ (শুক্রবার) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সংঘর্ষস্থল উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরুটিয়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাড়ি পরিদর্শন করেন শামা ওবায়েদ। এ সময় স্থানীয় ও উপজেলা বিএনপির নেতারা তার সঙ্গে ছিলেন।
পরিদর্শনকালে তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আফছার মাতুব্বরকে ঘটনার জন্য দায়ী করেন এবং তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ জানান।
আরও পড়ুন: সংস্কার সম্পর্কে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে: বিএনপি মহাসচিব
তিনি বলেন, ‘যদি আফছার চেয়ারম্যান এই সমাজে সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে চায়, তাহলে তাকে দলমত নির্বিশেষে মিলেমিশে চলতে হবে। আর যদি এ ধরনের অন্যায় কাজ করে তাহলে তাকে আইনের আওতায় নেব।’
এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার, বিএনপি কারো ওপর নির্যাতন করতে চায় না। কেউ যদি বেগম খালেদা জিয়ার, তারেক রহমানের কিংবা আমার কোনো নেতা-কর্মীর ওপর ফুলের টোকাও দেয়, তাহলে তাকে আইনের আশ্রয় নিতে হবে।’
‘আমরা সালথায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাই। সেই শান্তি যদি কেউ বিনষ্ট করে, অশান্তি তৈরি করে, তাদের কাউকে প্রশাসনের ছাড় দেওয়া উচিত নয়।’
স্থানীয় বিএনপি নেতা মিন্টু মিয়াকে নিরাপদ দাবি করে তিনি বলেন, ‘মিন্টুর দোষ ছিলর রোজার মাসে বিএনপির ইফতার পার্টিতে যোগ দেওয়া। এ কারণে নিরাপরাধ লোকের বাড়িতে হামলা হয়েছে, এটা মেনে নেওয়া যায় না।’
এ সময় তিনি নেতা-কর্মীদের ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানান। এছাড়া এ ঘটনার সঙ্গে দলীয় নেতা-কর্মীরা কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন: জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি করছে সরকার: রিজভী
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে কথা হয় ইউপি চেয়ারম্যান আফছার মাতুব্বরের ছেলে ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল হোসেনের সঙ্গে। তিনি দাবি করেন, ‘আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় ঘরে রয়েছেন। তিনি কেন (হামলার) নেতৃত্ব দিতে যাবে? চাঁদা চাওয়া নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে।’
উল্লেখ্য, গতকাল (বৃহস্পতিবার) সালথা উপজেলায় এক বিএনপি নেতাকে চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয়পক্ষের বাড়িঘর ভাঙচুর ও এক আওয়ামী লীগ সমর্থক কৃষকের ঘরে আগুন দেওয়া হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।
উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরুটিয়া গ্রামে দফায় দফায় এ সংঘর্ষ হয়। এতে একপক্ষের নেতৃত্ব দেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি হারুন মিয়ার ছেলে মিন্টু মিয়া এবং অপরপক্ষের নেতৃত্ব দেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আফছার মাতব্বরের অনুসারী আওয়ালী লীগকর্মী বেলায়েত মোল্যা।
৪৬১ দিন আগে