নির্বাচন
শেরপুর ও বগুড়া নির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতির’ অভিযোগে রাজধানীতে জামায়াতের বিক্ষোভ
শেরপুর-৩ আসনে জাতীয় নির্বাচন ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়ম ও ভোট ডাকাতির অভিযোগে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপির আমলের প্রথম নির্বাচনে নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র দখল, জাল ভোট ও প্রতিপক্ষের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা আওয়ামী লীগকেও হার মানিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, শেরপুর ও বগুড়ার উপনির্বাচনে কেন্দ্র দখল, জাল ভোট ও জামায়াত নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করে জাতির সঙ্গে তামাশা করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি এ নির্বাচনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের ফলাফল বাতিলের দাবি জানান।
গণভোট প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছে, গণভোট জয়যুক্ত হলে তারা অক্ষরে অক্ষরে মানবে। কিন্তু সরকার গঠন করে তারা গণভোটের আদেশ বাতিল করছে। বিএনপির এই দ্বিচারিতা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং শহিদদের রক্তের সঙ্গেও চরম বেইমানি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা যদি গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণের রায় মেনে নিতে না পারেন, তবে তাদের সংসদে দাঁড়িয়ে বলতে হবে, তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়নি। তারা যদি গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়ে থাকেন, তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে তারা সংসদ সদস্য হিসেবে যেভাবে শপথ নিয়েছেন, একইভাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করতেন।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপি যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিল, ৫ কোটি জনগণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করে বিএনপির সেই নোট অব ডিসেন্ট বাতিল করে দিয়েছে। এজন্য বিএনপি ৭০ শতাংশ জনগণের রায় উপেক্ষা করে ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে। বিএনপি জুলাই সনদের বিপক্ষে গিয়ে হাসিনার তৈরি কালো আইন বহাল রাখতে কাজ করছে।
বিএনপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না। ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে বিএনপিকেই চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধান করতে হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান প্রমুখ।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমের পরিচালনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ শামছুর রহমান, মহানগরী দক্ষিণের অফিস সেক্রেটারি কামরুল আহসান হাসান, মহানগরী দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন, সহকারী মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন, সহকারী অফিস সেক্রেটারি মুজিবুর রহমানসহ মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা।
সমাবেশ শেষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে এক বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে পল্টন মোড়-বিজয়নগর গোলচত্বর গিয়ে শেষ হয়। এ সময় হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মী ভোট ডাকাতি ও প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচনের ফলাফল বাতিলের দাবি জানান।
৭ দিন আগে
বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ জামায়াতের
বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলাকালে ভোট কারচুপি, জালভোট প্রদান, ফলাফলের শিটে আগাম সই নেওয়া এবং পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) হস্তক্ষেপও কামনা করেছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব অভিযোগ করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এ উপনির্বাচনে গুরুতর অনিয়ম হচ্ছে। ভোট কারচুপি, জালভোট, এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং সকালেই রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর নেওয়ার মতো আপত্তিকর ঘটনা ঘটছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
পরওয়ার বলেন, শেরপুরের শ্রীবরদীতে তাদের প্রার্থী ইন্তেকাল করেছেন। নির্বাচনের আগে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়, যা এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
শেরপুরে তাদের প্রার্থী সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং বগুড়ায় প্রার্থী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বগুড়া শহরের আমির আবিদুর রহমান সোহেল।
তিনি বলেন, ৪, ৫ ও ৬ এপ্রিল আমরা কেন্দ্রের পক্ষ থেকে তিন দিন নির্বাচনি এলাকা সফর করেছি। সেখানে ভয়ভীতি প্রদর্শন, নেতা-কর্মীদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা এবং হুমকির আলামত পেয়েছি।
বগুড়ায় অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, কয়েকটি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা সকালেই পোলিং এজেন্টদের দিয়ে ফলাফলের শিটে জোরপূর্বক সই করিয়েছেন যা নির্বাচন বিধির পরিপন্থী। উদাহরণ হিসেবে তিনি মালতিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের কথা উল্লেখ করেন। তার দাবি, ওই কেন্দ্রে সকালে এজেন্টদের দিয়ে সই নেওয়ার পর জালভোট দেওয়া হয়েছে এবং পরে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দুপুর ১২টা পর্যন্ত শেরপুরে অন্তত ১৩টি কেন্দ্রে জোর করে এজেন্টদের বের করে দিয়ে জাল ভোট দেওয়া হয়েছে। শ্রীবরদী পৌরসভার ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা কেন্দ্রে জাল ভোট প্রতিরোধ করতে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা কেন্দ্রে প্রবেশ করে তাদের এজেন্টদের বের করে দেন এবং জামায়াতের এক যুবনেতাকে মারধর করেন।
তার অভিযোগ, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে বারবার অনুরোধ করা হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের ‘পেটুয়া বাহিনী’ ভোটারদের, বিশেষ করে নারীদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দিচ্ছে এবং তাদের হয়রানি করছে।
উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের পর ক্ষমতায় আসা একটি বড় রাজনৈতিক দলের অধীনে প্রথম উপনির্বাচনেই যদি এমন চিত্র দেখা যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।
এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, যেসব কেন্দ্রে অনিয়ম হয়েছে, সেসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে পুনরায় ভোটের ব্যবস্থা এবং দায়ী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে জনগণ এমন একতরফা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রায় ৩০০ কেন্দ্রের মধ্যে যেসব কেন্দ্রে জালভোট ও এজেন্টদের বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর বিষয়ে দুপুর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য উদ্বেগজনক। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এসব ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
ভোটার ও এজেন্টদের নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দিচ্ছে, ফলে অনেক ভোটার ভোটকেন্দ্রে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। এ পরিস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মা’ছুম, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দিন মোল্লা এবং প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি আতাউর রহমান সরকার উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে দুই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন এই দুই আসনের তফসিল ঘোষণা করে।
এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে উভয় আসনে নির্বাচিত হন। পরে তিনি বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিয়ে ঢাকা-১৭ আসন রাখেন।
অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর পর গত ৪ ফেব্রুয়ারি শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করেছিল নির্বাচন কমিশন।
৮ দিন আগে
শেরপুর-৩, বগুড়া-৬ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে
শেরপুর-৩ আসনে সাধারণ নির্বাচন এবং বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
এর আগে, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) সকল প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইসি এই দুটি নির্বাচনি এলাকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিল। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ২ মার্চ, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের তারিখ ছিল ৫ মার্চ এবং প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ছিল ১৪ মার্চ।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে উভয় আসনেই জয় লাভ করেন। পরে তিনি বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দেওয়ায় এখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর কারণে গত ৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করেছিল।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি শেরপুর-৩ আসন বাদে দেশের ৩০০টি নির্বাচনি এলাকার মধ্যে ২৯৯টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আদালতের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম-২ এবং ৪ আসনের নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত রেখে ১২ ফেব্রুয়ারি ইসি ২৯৭ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ করেছিল।
৮ দিন আগে
শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন কাল
প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে গত ১২ ফেব্রুয়ারির বাতিল হওয়া শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামীকাল (৯ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সফল করতে তৎপর রয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোটের জন্য ইতোমধ্যে শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলায় বৃহস্পতিবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
নির্বাচনকে ঘিরে শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুর থেকে উপজেলা সদর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রহরায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে ব্যালট পেপার, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, অমোচনীয় কালিসহ নির্বাচনি সরঞ্জাম।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শেরপুর-৩ আসনটি শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী—এই দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন। এর মধ্যে শ্রীবরদী উপজেলায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৬০৪ জন এবং ঝিনাইগাতী উপজেলায় ১ লাখ ৬০ হাজার ৭৭৩ জন ভোটার রয়েছেন।
এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনজন প্রার্থী। তারা হলেন—বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের মাহমুদুল হক রুবেল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মাসুদুর রহমান এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের কাঁচি প্রতীকের মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
দুই উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১২৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ২৮টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং গারো পাহাড়ি এলাকার ৩২টি কেন্দ্রকে দুর্গম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এ আসনে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর পাশাপাশি ১৬ প্লাটুন বিজিবি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিটি কেন্দ্রে ৬ জন করে পুলিশ এবং ১৩ জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সার্বিক নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকছে ১ হাজার ১৫০ জন পুলিশ, ১৬ প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের ১৪টি টিমে ১৩৫ জন সদস্য এবং ১ হাজার ৭০৪ জন আনসার সদস্য।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, শেরপুর-৩ আসনটি সীমান্তবর্তী হওয়ায় সেনাবাহিনী আইন অনুযায়ী সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের ভেতরে সরাসরি দায়িত্ব পালন করতে পারে না। এ কারণে এখানে বিজিবির উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। ভোটের দিন প্রতি ভোটকেন্দ্রে ৬ জন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে ১২ জন করে আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন থাকবে। নির্বাচনি নিরাপত্তা জোরদারে র্যাবের ১০টি টিম মাঠে কাজ করছে এবং আরও ৪টি টিম রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুলিশের ২৬টি মোবাইল টিম মোতায়েন রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ১৮ জন পর্যবেক্ষক থাকছেন। পাশাপাশি দুই উপজেলায় ২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ইলেকশন ইনকোয়ারি কমিটির ৩ জন যুগ্ম জেলা জজ দায়িত্ব পালন করছেন। সেনাবাহিনীর কয়েকটি টিমও দায়িত্বে থাকবে।
নির্বাচনি মাঠ ঘুরে সাধারণ ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। দীর্ঘদিন পর আসনটি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে বিএনপি। অন্যদিকে, এ আসনটি নিজেদের দখলে নিতে চায় জামায়াতে ইসলামী।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগমুহুর্তে গত ৪ ফেব্রুয়ারি শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা যান। পরদিন ওই আসনের নির্বাচন প্রথমে স্থগিত ও পরে বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন নতুন করে শেরপুর-৩ আসনের তফসিল ঘোষণা করে। নতুন তফসিল অনুসারে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জামায়াত প্রার্থী মাসুদুর রহমান মৃত নুরুজ্জামান বাদলের ভাই।
৯ দিন আগে
তারেক রহমানকে ট্রফি দিয়ে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে আসেন ড. ইউনূস: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে গিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের ‘ট্রফি’ দিয়ে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে আসেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন।
মীর শাহে আলম বলেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের ট্রফি তুলে দিতে এবং নির্বাচনের তারিখ নিশ্চিত করতে লন্ডন সফর করেছিলেন।
তিনটি আন্দোলনের ট্রফি বিএনপির ঘরে বলে দাবি করেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ১৯৭১, ১৯৯০ এবং জুলাই-আগস্ট; তিনটি আন্দোলনের ট্রফিই আমাদের ঘরে। এরকম ট্রফি শুধু বিএনপির ঘরে, অন্য কোনো রাজনৈতিক দল দেখাতে পারবে না। আওয়ামী লীগ ৭১ ও ৯০ বলতে পারবে, কিন্তু জুলাই-আগস্টের ট্রফি তাদের ঘরে নেই। বিরোধীদলের বন্ধুরা জুলাই-আগস্ট বলতে পারবে, কিন্তু ৭১ ও ৯০ বলতে পারবে না।
এ সময় বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে হৈচৈ শুরু হলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বক্তাকে বক্তব্যে কোনো বাধা দেবেন না। আপনাদের যখন সময় আসবে, আপনারা আপনাদের বক্তব্যের মধ্যে বলবেন।
মীর শাহে আলম বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ছাত্র-জনতার সঙ্গে আমরা সবাই ছিলাম। ট্রফি আমরা কারও কাছে নিতে যাইনি। ক্যাপ্টেন কে, এটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. ইউনূস চেনেন। এই কারণে উনি লন্ডনে গিয়ে আমাদের ক্যাপ্টেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ট্রফি দিয়ে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে এসেছেন।
তিনি বলেন, ক্যাপ্টেন একজনই থাকে। সে ক্যাপ্টেনের কাছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান লন্ডনে গিয়ে আলোচনা করে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে এসেছেন বলেই এ দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে।
স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি ১৯৭১ সালকে রিপ্রেজেন্ট (প্রতিনিধিত্ব) করছেন।
এ সময় সরকারি দলের বেঞ্চে অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছেন তুলে ধরে কয়েকজনের নাম বলার পাশাপাশি তিনি বলেন, বিরোধী দলের বেঞ্চে সে ধরনের উপস্থিতি নেই।
সঙ্গে সঙ্গে স্পিকার তাকে থামিয়ে বলেন, বিরোধী দলের বেঞ্চেও মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। আমি নিজেই রণাঙ্গনে দেখেছি। গাজী নজরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা; তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা।
বিরোধী দলের উদ্দেশে মীর শাহে আলম বলেন, আমরাও আন্দোলন করেছি, আপনারাও আন্দোলন করেছেন। কিন্তু মাঝপথ থেকে আপনারা আমাদের কাছ থেকে চলে গিয়েছিলেন ২০১৪ সালের পরে।
তার ভাষায়, দীর্ঘদিন চার দলীয় জোট ও ২০ দলীয় জোটে একসঙ্গে আন্দোলন করলেও কোনো এক অজানা কারণে তারা সরে যান এবং পরে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনকে এমনভাবে ধারণ করতে চান, মনে হয় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধই হয়নি, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনই হয়নি।
এ সময় সরকারের কাজে বিরোধী দলের সহযোগিতাও চান তিনি।
মীর শাহে আলম বলেন, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী পাঁচ বছরে এই দেশকে এমন একটি জায়গায় নিয়ে যেতে চাই, যাতে মানুষ মনে করে যে একসময়কার জোটবদ্ধ বিএনপি-জামায়াত যদিও আজকে আলাদা আলাদা, কিন্তু তারা আবার ভেতরে ভেতরে এক হয়ে দেশটিকে একটি ভালো জায়গায়, সুন্দর জায়গায় নিয়ে গিয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য শেষে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, আমরা প্রথম দিনই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছি, এই বিরোধী দল কোনো গতানুগতিক বিরোধী দল হবে না। ন্যায্যসঙ্গত সকল কাজে সমর্থন-সহযোগিতা, অন্যায় এবং জনগণের অধিকার হরণকারী সকল পদক্ষেপে আমাদের কণ্ঠ থাকবে আপসহীন।
মীর শাহে আলমের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আজকে মাননীয় সংসদ সদস্য প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে আমাদের একবারে জেরবার করে ফেলেছেন।’
শফিকুর রহমান বলেন, অসংখ্য অসত্য তথ্য এখানে এসেছে। দুই-একটার প্রতিবাদ আপনি নিজেও করেছেন। আমি অনুরোধ করব, অসত্য কোনো তথ্য যেন এই মহান সংসদে কেউ পরিবেশন না করেন।
তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য সংসদ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান।
জবাবে স্পিকার বলেন, আমি বক্তব্য পরীক্ষা করে দেখব। সেখানে কোনো অসংসদীয় বা অসত্য তথ্য থাকলে সেটা প্রত্যাহার করা হবে।
১০ দিন আগে
নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার আমিনুলের
ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। তবে নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়মে জড়িত থাকার কথা নাকচ করে দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তার বিরুদ্ধে ওঠা এ অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
এদিকে, নির্বাচনে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। রবিবার (৫ এপ্রিল) এ তদন্ত প্রতিবেদন এনএসসিতে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হননি আমিনুল।
এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, সময়ের অভাবে সশরীরে উপস্থিত হতে না পারলেও তিনি লিখিত জবাব পাঠিয়েছেন। কাউন্সিলর মনোনয়নে হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করে তার দাবি, নির্বাচনের সঙ্গে তার সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। গঠনতন্ত্র মেনে অ্যাড-হক কমিটির মাধ্যমেই নাম আসার কথা ছিল। নির্দিষ্ট কিছু জেলা ও বিভাগ থেকে পর্যাপ্ত নাম না আসায় পুনরায় চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়াটিতেই কেবল তার সম্পৃক্ততা ছিল।
একের পর এক বোর্ড পরিচালক পদত্যাগ করছেন; উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বর্তমান পর্ষদের সব পরিচালক পদত্যাগ করলে কী করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, তিনি হবেন পদত্যাগকারী শেষ ব্যক্তি।
তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন আমাদের হাতে এসেছে। আমরা এখন আইসিসির সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।
এদিকে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেছেন, বর্তমান বোর্ডের কিছু সদস্য ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর প্রলোভনে পড়ে পদত্যাগ করেছেন। তবে মন্ত্রী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বোর্ড সভাপতির মতো আসিফ মাহমুদও তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হননি। তিনি অভিযোগ করেছেন, অবৈধভাবে বোর্ড ভাঙার প্রক্রিয়ায় আইসিসি যেন কোনো ব্যবস্থা না নেয় তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একজন স্বনামধন্য ক্রিকেটার লবিংয়ে ব্যস্ত।
আসিফ মাহমুদের এই ইঙ্গিত সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের দিকে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তামিম ইকবাল নির্বাচনের অনিয়ম নিয়ে সোচ্চার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। নির্বাচনের আগে তিনি আমিনুলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চেষ্টা করলেও শেষ মুহূর্তে নাম প্রত্যাহার করে নেন।
সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ অপসারিত হওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হয়ে প্রথমবারের মতো বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব পান আমিনুল। পরবর্তীতে অন্যান্য পরিচালকদের ভোটে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর আমিনুল শুরুতে জানিয়েছিলেন তিনি ‘টি-টোয়েন্টি ইনিংস’ খেলতে এসেছেন, যা দিয়ে তিনি স্বল্প মেয়াদে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের আগে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন।
১১ দিন আগে
উপনির্বাচন: ৯ এপ্রিল বগুড়া ও শেরপুরের ২ আসনে সাধারণ ছুটি
বগুড়া ও শেরপুরের দুটি শূন্য আসনে উপনির্বাচন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট এলাকায় আগামী ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।
বুধবার (১ এপ্রিল) এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অ্যালোকেশন অব বিজনেস অ্যামাং দ্য মিনিস্ট্রিজ অ্যান্ড ডিভিশনস (রুলস অফ বিজনেস ১৯৯৬)-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের চাহিদার ভিত্তিতে এ ছুটি ঘোষণা করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জাতীয় সংসদের ৪১ (বগুড়া-৬) ও ১৪৫ (শেরপুর-৩) শূন্য আসনে ভোটগ্রহণের দিন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় এ সাধারণ ছুটি কার্যকর থাকবে।
১৬ দিন আগে
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দ্রুত নির্বাচন হবে: প্রতিমন্ত্রী
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, উপজেলা ও পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগের কোনো সিদ্ধান্ত এখনও সরকার নেয়নি। বর্তমানে স্থানীয় সরকারের যেসব প্রতিষ্ঠানে এডিসি, ইউএনওরা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, সেখানে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা হবে। সেই নির্বাচনে জনগণের ভোটে যারা নির্বাচিত হবে তারাই প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিনিধিত্ব করবেন।
বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সদর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নে নির্মানাধীন একটি সেতুর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই সেতুটির অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করে এটিকে জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করা হবে। এটি প্রধানন্ত্রীর নজরে আসার পর আমাকে সরেজমিনে পরিদর্শনের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে জনগণের চলাচল-উপযোগী করতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে ৭ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে।
এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক হারুনুর রশীদ, সাবেক এমপি আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মুসাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২৩ দিন আগে
জাবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মাহ্ আলম, সম্পাদক রাজিব রায়হান
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (জাবিসাস) ২০২৬ সেশনের কার্যকরি পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এতে সভাপতি পদে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মা্হ আলম এবং সাধারণ সম্পাদক পদে দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি রাজিব রায়হান নির্বাচিত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুর সোয়া ২টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহিদ আক্তার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) প্রাঙ্গণে সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। পরে দুপুর ১টা পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
নবনির্বাচিত কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি রাসেল মাহমুদ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দৈনিক আজকের পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মুশফিক রিজন।
এছাড়া কোষাধ্যক্ষ পদে এশিয়া পোস্টের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি সৈকত ইসলাম এবং দপ্তর ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে দৈনিক নয়া দিগন্তের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আতাউর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন।
কমিটির কার্যকরী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডেইলি সানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ফারুক হোসাইন, জাগো নিউজের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি রকিব হাসান প্রান্ত এবং দৈনিক শিক্ষা ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মেহেদী ইসলাম।
নির্বাচনে কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবু সাইদ মো. মুনতাকিমুল বারী চৌধুরী এবং পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সাহাদাত হোসেন।
৩৮ দিন আগে
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর, ধৈর্য ধরার আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশ্বাস দিয়েছেন যে, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন এবং দেশের উন্নয়নে তার সরকার যেকোনো মূল্যে তাদের সমস্ত নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করবে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) নিজ নির্বাচনি এলাকা বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এ আশ্বাস দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি আমরা একে একে পূরণ করব। এই প্রতিশ্রুতিগুলোই মানুষের ভাগ্য বদলে দেবে এবং দেশের ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করবে। যেকোনো মূল্যে আমরা এগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।
প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড চালুর এই দিনটিকে আবেগঘন দিন হিসেবে বর্ণনা করেন, কারণ এর মাধ্যমে তিনি নির্বাচনের আগে দেওয়া একটি বড় প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পেরেছেন।
তারেক রহমান বলেন, তার সরকার বুঝতে পারে যে একটি নির্বাচিত প্রশাসনের কাছে জনগণের অনেক প্রত্যাশা থাকে। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বাস্তবতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটসহ বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করলে কিছু কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষকে মধ্যপ্রাচ্য সংকট-পরবর্তী উদ্ভূত পরিস্থিতি ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করার এবং ইতিবাচক ও গঠনমূলকভাবে দেশ গড়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আমরা প্রতিশ্রুতি থেকে বিন্দুমাত্র অবস্থান পরিবর্তন করব না। হয়তো সমসাময়িক বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আমাদের কিছু কিছু ক্ষেত্রে সময় বেশি লাগতে পারে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য।
তারেক রহমান দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তার সরকার বাংলাদেশের চার কোটি পরিবারের সব নারী প্রধানের হাতে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে।
নারীর ক্ষমতায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক হচ্ছে নারী। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যদি এই অর্ধেক জনসংখ্যাকে পেছনে রাখা হয়, শিক্ষা ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়ন করা না হয়, তাহলে দেশকে কোনোভাবেই সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
বিএনপির পূর্ববর্তী সরকারগুলোর প্রচেষ্টার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন তিনি সারা বাংলাদেশে মেয়েদের জন্য উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন এই শিক্ষিত নারী জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে চাই। এ লক্ষ্য নিয়েই সরকার গঠনের আগে আমরা পরিকল্পনা করেছিলাম—কীভাবে নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই আমরা সারা বাংলাদেশে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করেছি।
বিএনপি চেয়ারম্যান জানান, আমরা একটি দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে কাজ করতে চাই; এমন একটি প্রশাসন যা দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করবে। আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে চাই।
তিনি বলেন, ‘তারই একটি অংশ হিসেবে আমাদের দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচনের আগে আমরা বাংলাদেশের মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, দেশের নারী সমাজের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে, আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু করব।
৩৮ দিন আগে