নির্বাচন
নির্বাচন ঘিরে ৯৯৯-এ ৮৩৮০টি ফোনকল, অভিযোগ ৩৭১৩টি
জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশেষ অপারেশনাল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে মোট ৮ হাজার ৩৮০টি নির্বাচনসংক্রান্ত ফোনকল এসেছে।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মহিউল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
এই বিশেষ কার্যক্রম ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা চালু ছিল।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’ বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে। এই সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্থাপিত ‘আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় সেল’ এর সঙ্গে সার্বক্ষণিক নিবিড়ভাবে যোগাযোগ ও সমন্বয় করে সেবাপ্রত্যাশী নাগরিকদের ৯৯৯ নির্বাচনসংক্রান্ত জরুরি সেবা দিয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগসমূহ ৯৯৯ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এই সময়ে ৯৯৯ নির্বাচন সংক্রান্ত মোট ৮ হাজার ৩৮০টি ফোনকল গ্রহণ করে, যার মধ্যে ৩ হাজার ৭১৩টি ফোনকল ছিল নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন, প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলোর মধ্যে মারামারি, নিষিদ্ধ সময়ে নির্বাচনি প্রচারণা, ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম এবং আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত বিষয়সমূহ।
এসব ফোনকলে ৯৯৯ তাৎক্ষণিকভবে সংশ্লিষ্ট থানা, জেলা ও মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবগত করে বিধি অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এছাড়া বাকি ৪ হাজার ৬৬৭টি ফোনকল নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে চেয়ে করা হয়েছিল বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
১০ ঘণ্টা আগে
৩২ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জামায়াত জোটের
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গণনা ও ফল প্রকাশ প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ এনে ৩২টি আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানী আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ডা. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসুদ, তাহমিদা আহমদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
হামিদুর রহমান অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো বিভিন্ন উপাদান সক্রিয় ছিল। যেমন: অবৈধ অস্ত্র, কালো টাকা, হুমকি-ধমকি ও জাল ভোটের মতো ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে, আমরা লক্ষ করেছি। কিছু কেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সিল মারার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি বারবার কমিশনকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘৩২টি আসন চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব আসনে অল্প ভোটের ব্যবধানে আমরা পরাজিত হয়েছি। আমরা এসব আসনের তালিকা কমিশনে জমা দিয়ে সেখানে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছি।’
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ভোট গণনার সময় অনেক কেন্দ্রে আমাদের প্রার্থীদের এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি গণনাকক্ষে উপস্থিত এজেন্টরা অনিয়মের অভিযোগ তুলতে গেলে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মুখে পড়েছেন।
তিনি বলেন, সুষ্ঠু ভোট গণনার জন্য যে অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন, তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। ফলে গণনা প্রক্রিয়ায় কোনো ভুল হলে তা সরাসরি নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে, এটাই স্বাভাবিক। একইসঙ্গে অনেক স্থানে ফলাফল শিটে ঘষামাজা, কাটাকাটি, ওভাররাইটিং এবং আমাদের প্রার্থীর মূল এজেন্টের স্বাক্ষর না থাকার মতো বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নবনির্বাচিত এমপিদের গেজেট প্রকাশ হলেও তাদের জন্য আইনি পথ খোলা রয়েছে। তিনটি আইনি ধাপ রয়েছে—নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল এবং হাইকোর্ট।
গেজেট প্রকাশের সময় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এ জামায়াত নেতা। তিনি বলেন, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টায়, অর্থাৎ নির্বাচনের মাত্র এক দিন পরই গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। দূরবর্তী এলাকার প্রার্থীরা অভিযোগ দেওয়ার সুযোগ পাননি। আমরা কমিশনকে অভিযোগগুলো তদন্তের আহ্বান জানিয়েছি। আইনি পথ খোলা থাকলেও আমাদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে।
ভোটের হার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ১১ দলীয় জোটের এই নেতা। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন শেষ হয়েছে বিকেল সাড়ে ৪টায়। কিন্তু কিছু কেন্দ্রে ভোট শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই এক ধরনের ভোটের হার দেখা গেছে। আবার ভোট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই কেন্দ্রগুলোতে অস্বাভাবিক হারে ভোট পড়ার তথ্য দেখা যায়।’
বৈঠক শেষে হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনের পর জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের নেতা-কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। এসব হামলার প্রতিবাদে সোমবার ঢাকার বায়তুল মোকাররম থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করবে ১১ দলীয় জোট।
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি নোয়াখালীর হাতিয়ার মতো ঘটনার উদাহরণ দেন। ২০১৮ সালের মতো ঘটনা আবারও ঘটছে কি না, সে প্রশ্ন উঠছে। আমার নিজ আসনেই তিনজন নারী আহত হয়েছেন। আমরা ৫৪ জেলার প্রতিবেদন জমা দিয়েছি বলে জানান তিনি।
তিনি জানান, সহিংসতা বন্ধ না হলে জোট রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পাশাপাশি সংসদে গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে।
জোটের নির্বাচিত এমপিরা শপথ নেবেন জানিয়ে আজাদ বলেন, শপথ নেওয়ার বিষয়ে আমরা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা শপথ নিয়ে সংসদে যাব এবং গঠনমূলক ভূমিকা পালন করব। একইসঙ্গে রাজপথও আমাদের জন্য খোলা থাকবে।
১১ ঘণ্টা আগে
কুমিল্লায় দুই-তৃতীয়াংশ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি আসন থেকে মোট ৮৩ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তাদের মধ্যে ৫৭ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে, আর টিকেছে ২৬ জনের। এ হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের প্রায় ৬৮ শতাংশেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
কুমিল্লার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, কুমিল্লা-১ আসনে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের মধ্যে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ৭ জনের।
এ আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীরা হলেন— স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জায়েদ আল মাহমুদ, ওমর ফারুক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বশির আহমেদ, বাংলাদেশ জাসদের বড়ুয়া মনোজিত ধীমান, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মোহাম্মদ আবুল কালাম, এবি পার্টির মো. সফিউল বাসার ও জাতীয় পার্টির সৈয়দ মো. ইফতেকার আহসান।
কুমিল্লা-২ আসনে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন— ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আশরাফুল আলম, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আব্দুস সালাম ও জাতীয় পার্টির মো. আমির হোসেন।
কুমিল্লা-৩ আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন ৯ জন। তাদের মধ্যে ৭ জনেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ওই প্রার্থীরা হলেন— ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আহমদ আবদুল কাইয়ুম, আমজনতার দলের চৌধুরী রকিবুল হক, গণঅধিকার পরিষদের মনিরুজ্জামান, বিআরপির মো. এমদাদুল হক, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. খোরশেদ আলম, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মো. শরীফ উদ্দিন সরকার ও এনডিএমের রিয়াজ মো. শরীফ।
কুমিল্লা-৪ আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ৫ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের মনোনয়ন বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন— ইনসানিয়াত বিপ্লবের ইরফানুল হক সরকার, খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ মজিবুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুল করিম।
কুমিল্লা-৫ আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ৮ জনের। এ আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত প্রার্থীরা হলেন— বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির আবদুল্লাহ আল ক্বাফী, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের আবুল কালাম ইদ্রিস, ইনসানিয়াত বিপ্লবের তানজিল আহমেদ, এনপিপির মো. আবুল বাসার, জাতীয় পার্টির মো. এমরানুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রাশেদুল ইসলাম, এবি পার্টির যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া ও জেএসডির শিরিন আক্তার।
কুমিল্লা-৬ আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন ৯ প্রার্থী। তাদের মধ্যে ৭ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন- জেএসডির ওবায়দুল করিম মোহন, বাসদের কামরুন্নাহার সাথী, গণঅধিকার পরিষদের মোবারক হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ, মুক্তিজোটের মো. আমির হোসেন ফরায়েজী, বিএমএলের মো. ইয়াছিন ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মাসুম বিল্লাহ মিয়াজী।
কুমিল্লা-৭ আসনে ৫ প্রার্থীর মধ্যে মনোনয়ন বাজেয়াপ্ত হয়েছে ২ জনের। তারা হলেন— ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. এহতেশামুল হক এবং মুক্তিজোটের সজল কুমার কর।
কুমিল্লা-৮ আসনে ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন— ইসলামী ঐক্যজোটের আবদুল কাদের, জাতীয় পার্টির এইচ এম এম ইরফান, বিএসপির মোহাম্মদ গোলাম মোরশেদ, বাসদের মো. আলী আশ্রাফ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. গোলাম ছাদেক ও বিআরপির মফিজ উদ্দীন আহমেদ।
কুমিল্লা-৯ আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ৬ জনের, প্রার্থী ছিলেন ৮ জন। জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীরা হলেন— ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আবু বকর ছিদ্দিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবুল কাশেম, জাতীয় পার্টির গোলাম মোস্তফা কামাল, মুক্তিজোটের মিজানুর রহমান চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিরা আজিম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সেলিম মাহমুদের।
কুমিল্লা-১০ আসনে ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন— মুক্তিজোটের কাজী নুওে আলম ছিদ্দিকি, আমজনতার দলের আবদুল্লাহ আল নোমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. শামসুদ্দোহা, গণঅধিকার পরিষদের রমিজ বিন আরিফ ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের হাছান আহমেদ।
কুমিল্লা-১১ আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ৫ জনের। এই আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ৭ জন। জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীরা হলেন— বাংলাদেম কংগ্রেসের আ ফ ম আবদুর রহিম, মুক্তিজোটের মোহাম্মদ ইউসুফ, গণফ্রন্টের মো. আলমগীর ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মহিউদ্দিন।
১৩ ঘণ্টা আগে
তারেক রহমানকে মিষ্টি ও ফুল পাঠালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও মিষ্টি পাঠিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান এই ফুল ও মিষ্টি গ্রহণ করেন। এ সময় গুলশান কার্যালয়ের বিশেষ কর্মকর্তা মেহেদুল ইসলাম মেহিদী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের আমার সকল ভাইবোন ও সাধারণ মানুষকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। তাদের সবাইকে জানাই অগ্রিম রমজান মোবারক। এই বিশাল জয়ের জন্য আমার ভাই তারেক, তার দল এবং অন্য সকল দলকে অভিনন্দন। প্রার্থনা করি আপনারা সবাই ভালো ও সুখে থাকুন।’
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হয়। একইসঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। ৩০০ আসনের বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে এককভাবে সরকার গঠন করতে কমপক্ষে ১৫১ আসন প্রয়োজন হয়। দুই শতাধিক আসন পাওয়ায় বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেবেন। শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
অন্যদিকে, একইদিন সকালে সংসদ ভবনে নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)।
১৫ ঘণ্টা আগে
নতুন মন্ত্রিসভার শপথ মঙ্গলবার বিকেলে, এমপিদের সকালে
নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেবেন। শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
বঙ্গভবনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, একইদিন (মঙ্গলবার) সকালে সংসদ ভবনে নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)।
সাধারণত মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান এবার হতে যাচ্ছে খোলা প্রাঙ্গণে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হয়। একইসঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। ৩০০ আসনের বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে এককভাবে সরকার গঠন করতে কমপক্ষে ১৫১ আসন প্রয়োজন হয়। দুই শতাধিক আসন পাওয়ায় বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের শপথের পর পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে দলনেতা নির্বাচিত হবেন। তারপর দলের নেতা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে বলবেন, আমাদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে সংসদে। তখন রাষ্ট্রপতিকে তিনি সরকারপ্রধান করার অনুরোধ করবেন। রাষ্ট্রপতি দলনেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভায় সদস্যদের নির্বাচিত করবেন। প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করাবেন।
রাষ্ট্রপতি প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর শপথ পড়াবেন। এরপর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি। শপথের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
১৭ ঘণ্টা আগে
নাটোরে পৃথক নির্বাচন-পরবর্তী সংঘর্ষে ১৪ জন আহত
নাটোরের বড়াইগ্রাম ও সিংড়ায় পৃথক সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলার ধানাইদহ সেতুর নিকট একটি হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, গতকাল বিকেলে ধানাইদহ বাজারে জামায়াতের পক্ষে ভোট করা নিয়ে সাবেক বিএনপি কর্মী সাব্বিরকে মারপিট করে বিএনপি সমর্থক ফয়সাল ও ফাহিম। এর জেরে নগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাসিনুর রহমানের নেতৃত্বে আজ (শনিবার) দুপুরে ধানাইদহ সেতুর কাছে জামায়াত সমর্থকরা জড়ো হন। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে ফাহিমের নেতৃত্বে বিএনপির নেতা-কর্মীরা জামায়াতের লোকজনের ওপর হামলা চালান। ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে হাসিনুরসহ ৫ জন আহত হন।
আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও ঈশ্বরদী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এর আগে, সকালে সিংড়া উপজেলার পারসিংড়া এলাকায় ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ৫ নারীসহ অন্তত ৯ জন আহত হন।
স্থানীয়রা জানান, আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুন নূর জানান, এ ঘটনায় নেহাল নামের স্বতন্ত্র প্রার্থী দাউদার মাহমুদের এক সমর্থককে আটক করা হয়েছে।
১ দিন আগে
গাইবান্ধা-৪: ভোট জালিয়াতির অভিযোগে পুনর্নির্বাচনের দাবি জামায়াতের
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের ১০টি কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতি, অনিয়মের প্রতিবাদ ও নির্বাচন স্থগিতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা জামায়াত।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের দারুল আমান ট্রাস্ট ভবনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরে জামায়াত প্রার্থী ডা. আব্দুর রহিম সরকার বলেন, ভোটের সময় পোলিং এজেন্টকে বের করে দিয়ে ব্যালটে সিল মারা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও ১০টি কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে বিএনপি প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনে অনিয়ম না হলে আমিই বিজয়ী হতাম।
এ সময় ওই ১০টি কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানান গাইবান্ধা-২ আসনের এ জামায়াত প্রার্থী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের জেলা আমির ও গাইবান্ধা-২ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুর করিম সরকার, গাইবান্ধা-৩ আসনে নির্বাচিত আবু কাওসার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, গাইবান্ধা-১ আসনে নির্বাচিত মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-৫ আসনে নির্বাচিত জামায়াত নেতা ওয়ারেস আলীসহ অন্যান্য জামায়াত নেতারা।
১ দিন আগে
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা: নিজ দলের ৫ কর্মীকে পুলিশে দিলেন নবনির্বাচিত এমপি
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এলাকায় ব্যাপক হানাহানি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অভিযোগে নিজ দলের পাঁচ কর্মীকে পুলিশে দিয়েছেন চাঁদপুর-৩ আসনে নব-নির্বাচিত এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ ঢালীর নেতৃত্বে ছাত্রদলের ওই ৫ কর্মীকে চাঁদপুর মডেল থানায় সোপর্দ করেন তিনি।
তারা হলেন— শহরের ওয়ারলেস বাজার এলাকার নাহিদুল ইসলাম জনি, মোবারক হোসেন বেপারী, জনি গাজী, মনির ও ফাহিম। তাদের থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
এর আগে, ১২ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুর পৌর এলাকার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচন চলাকালীন এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে হানাহানি, উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এদের শনাক্ত করা হয়। পরে তাদের ধরে পুলিশে দেওয়া হয়।
চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (১৪ ফেব্রুয়ারি) মো. ফয়েজ আহমেদ ইউএনবিকে জানান, শুক্রবার রাতে আটক ৫ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যদেরও আটকের জন্য অভিযান চলছে।
১ দিন আগে
নাহিদ ইসলামকে প্রধান উপদেষ্টার বার্তা
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সাফল্য অর্জন করায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক বার্তায় নাহিদ ইসলামের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যে সাহস, দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছে, তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। মাত্র এক বছর আগে চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে জন্ম নেওয়া একটি নবীন রাজনৈতিক দল হিসেবে ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা, তার মধ্যে ছয়টিতে বিজয় অর্জন করা এবং আরও কয়েকটি আসনে তীব্র ও সম্মানজনক প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলা—এ এক অসাধারণ অর্জন। এই সাফল্য কেবল নির্বাচনি পরিসংখ্যানের বিষয় নয়; এটি তরুণ প্রজন্মের আত্মপ্রত্যয়, স্বপ্ন ও গণতান্ত্রিক চেতনার শক্তিশালী প্রকাশ।
তিনি বলেন, ‘চব্বিশের সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা আজও আমাদের স্মৃতিতে অম্লান। আপনার নেতৃত্ব, সাহসিকতা ও অদম্য মনোবল সেই আন্দোলনকে সুশৃঙ্খল ও লক্ষ্যাভিমুখী করে তুলেছিল। আপনার সহযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ও দৃঢ় অবস্থান জাতির হৃদয়ে গভীর কৃতজ্ঞতার অনুভূতি জাগ্রত করেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং জাতির পক্ষ থেকে আপনাদের সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনাকে কিছুদিন উপদেষ্টা পরিষদে সহকর্মী হিসেবে পাওয়ার সুযোগ আমার জন্য এক মূল্যবান অভিজ্ঞতা। সেই সময়ে আপনার কর্মদক্ষতা, বিষয়ভিত্তিক গভীরতা, নীতিগত দৃঢ়তা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বোঝার আগ্রহ আমাকে মুগ্ধ করেছে।’
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গণতন্ত্র তখনই বিকশিত হয়, যখন নতুন কণ্ঠস্বর উঠে আসে, নতুন ধারণা স্থান পায় এবং প্রজন্মান্তরের সেতুবন্ধন তৈরি হয়। আপনার দলের এই অল্প সময়ের সাফল্য প্রমাণ করে—বাংলাদেশের জনগণ, বিশেষত তরুণ সমাজ, নীতিনিষ্ঠ ও আদর্শভিত্তিক রাজনীতির প্রতি আস্থা রাখতে প্রস্তুত। এই আস্থা রক্ষা করা এখন আপনাদের বড় দায়িত্ব।
তিনি বলেন, সংসদে অর্জিত প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে আপনারা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, বিশেষত তরুণদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা তুলে ধরার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ পেয়েছেন। আমি প্রত্যাশা করি, আপনার নেতৃত্বে জাতীয় নাগরিক পার্টি গঠনমূলক, যুক্তিনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক চর্চার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আজকের এই অর্জন আগামী দিনের আরও বড় দায়িত্বের পূর্বাভাস। সংগ্রামের পথ থেকে রাজনীতির মূলধারায় প্রবেশ—এই রূপান্তর যেন আদর্শ ও মূল্যবোধকে অক্ষুণ্ন রাখে, সেটিই আমাদের সবার প্রত্যাশা।
১ দিন আগে
রংপুর-৪ ও ৬ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ, আল্টিমেটাম
রংপুর-৪ ও রংপুর-৬ আসনে নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক ভোট বাতিল ও মব সৃষ্টির মাধ্যমে ফলাফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ তুলে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। ভোট পুনর্গণনা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই ভোট গণনা দাবিতে হারাগাছে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করছে ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ। তাদের দাবি, ভোট কারচুপি করে এমদাদ ভরসাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রংপুর-৪ আসনের হারাগাছে বিএনপি প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভ চলাকালে এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেছেন বিজয়ী প্রার্থী আখতার হোসেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিএনপির প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা।
এদিকে, রংপুর-৬ আসনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ফলাফল পাল্টানোর অভিযোগ অস্বীকার করে জনগণকে শান্ত থাকার অনুরোধ করেছেন বিজয়ী প্রার্থী মাওলানা নুরুল ইসলাম।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌর এলাকার হকবাজারে এমদাদুল হক ভরসার কর্মী সমর্থকরা ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ করেন এবং সড়কে যানচলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় হারাগাছ-রংপুর সড়ক অবরোধ করে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। রাত ১২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলতে দেখা যায়। এ সময় বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা সেখানে জড়ো হন এবং প্রতিবাদ করেন।
একই দাবিতে পীরগাছা উপজেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা। এসময় তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে ফল পুর্নগণনার জন্য জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান।
রংপুর ৪ আসনের ভোট পুনঃগণনার দাবি জানান জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবার রহমান। বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী উজ্জ্বল চন্দ্র রায় অভিযোগ করে বলেন, ‘ভোটের দিন প্রতিপক্ষ প্রার্থী আখতার হোসেন মব তৈরি করে নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন করেছেন। আমরাও চাই ভোটের ফলাফল পুনর্গণনা হোক।’
এ বিষয়ে অভিযোগকারী প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা জানান, নির্বাচনে তিনি জনগণের রায়ে বিজয়ী হবেন বলে শতভাগ আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু, বেলা ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে প্রতিপক্ষ আখতার হোসেনের লোকজন মব সৃষ্টি করে এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় ফলাফল পরিবর্তন করে।
তিনি আরও বলেন, ভোটে প্রায় ৮ হাজার ৫০০ ভোট বাতিল করা হয়েছে, যা সন্দেহজনক। পুনর্গণনা করলে প্রকৃত ফলাফল জনগণের সামনে আসবে বলেও জানান তিনি। সঠিক বিচার না পেলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ও আল্টিমেটাম দেন বিএনপির এই প্রার্থী।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে রাতে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি প্রার্থীর লোকজন মাইকিং করে এনসিপির কর্মীদের খুঁজে বের করে মারধর করেছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। বাড়িঘর ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রংপুর-৪ আসনে বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী এনসিপির প্রার্থী আখতার হোসেন শাপলা প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট।
এদিকে, রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনেও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি প্রার্থী সাইফুল ইসলামের কর্মী সমর্থকরা। তারা রাতে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বর ঘেরাও করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবিলম্বে ফল পুনঃগণনার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মো. নুরুল আমিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট।
১ দিন আগে