ইরান-যুক্তরাষ্ট্র
যুদ্ধবিরতিতে ইরানকে ট্রাম্প প্রশাসনের ১৫ দফা প্রস্তাব
যুদ্ধবিরতিতে ইরানকে ১৫ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছে ডোনিাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইতোমধ্যে মোতায়েন প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনার সঙ্গে আরও অন্তত ১ হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে এ প্রস্তাবের রূপরেখা সম্পর্কে অবগত একজন ব্যক্তি এ তথ্য জানান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যক্তি জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের কাছে প্রস্তাবটি পাঠানো হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনা আয়োজনের প্রস্তাবও দিয়েছে পাকিস্তান।
ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে প্রস্তাবটি পৌঁছানোর খবর প্রথম প্রকাশ করে নিউইয়র্ক টাইমস।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে আরও দুটি নৌ ইউনিট মোতায়েনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে পেন্টাগন। এর ফলে প্রায় ৫ হাজার মেরিন ও হাজারো নৌসেনা ওই অঞ্চলে যুক্ত হবে। এসব পদক্ষেপকে ট্রাম্পের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নমনীয়তা নিশ্চিতের কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে জানান ওই ব্যক্তি।
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে ট্রাম্পকে উৎসাহিত করা ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বিস্মিত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে, মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ শেষ করতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। একই সময়ে ইরান কড়া ভাষায় নিজেদের অবস্থান জানায়।
একদিকে ওয়াশিংটন হামলা অব্যাহত রাখায় তেহরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য ইসরায়েল ও অঞ্চলটির বিভিন্ন স্থাপনা। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে তেহরান। আবার হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর জন্য দেওয়া নিজের নির্ধারিত সময়সীমাও পিছিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ব্যাহত করেছে, জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হুমকি তৈরি করেছে।
আলোচনার পথে বড় চ্যালেঞ্জ
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান এখনও জটিল।
ইরান সরকারের পক্ষ থেকে কার হাতে আলোচনা করার ক্ষমতা রয়েছে বা কে আলোচনা করতে আগ্রহী হবেন—তাও স্পষ্ট নয়; বিশেষ করে ইসরায়েল যখন দেশটির নেতাদের হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের গভীর সন্দেহ রয়েছে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনার মাঝপথেই যুক্তরাষ্ট্র দুইবার হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলাটি চলমান যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়।
মধ্যপ্রাচ্যে আরও সেনা মোতায়েন
যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত তিনজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের অন্তত ১ হাজার সেনা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হবে।
এই ডিভিশনকে মার্কিন সেনাবাহিনীর ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স ফোর্স’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যারা খুব অল্প সময়ের নোটিশে মোতায়েন হতে পারে। গত সপ্তাহে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, নৌবাহিনীর কয়েকটি জাহাজে থাকা হাজারো নৌসেনাও ওই অঞ্চলে যাচ্ছে।
নৌ ইউনিটগুলো সাধারণত মার্কিন দূতাবাস রক্ষা, বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া এবং দুর্যোগকালীন সহায়তার জন্য প্রশিক্ষিত হলেও, ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের সেনারা শত্রুভাবাপন্ন বা বিরোধপূর্ণ এলাকায় প্যারাস্যুটের মাধ্যমে নেমে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও বিমানঘাঁটি দখল করতে পারদর্শী।
এ অঞ্চলে নৌসেনা মোতায়েন নিয়ে গুঞ্জন উঠেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ইরানের তেল নেটওয়ার্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ দখলের চেষ্টা করতে পারে। এর আগে, পারস্য উপসাগরের এই দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র বোমা হামলা চালালেও তেল স্থাপনা অক্ষত রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়।
অন্যদিকে, তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র স্থলবাহিনী নামানোর চেষ্টা করলে উপসাগরে মাইন বিছিয়ে দেবে তারা।
নিউইয়র্কভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সুফান সেন্টার এক বিশ্লেষণে লিখেছে, আলোচনা চলাকালীন ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলার হুমকি স্থগিত রেখেছেন। তবে এটি নৌসেনাদের পৌঁছানোর জন্য সময়ক্ষেপণের একটি কৌশল হতে পারে। সংস্থাটি অবশ্য এও উল্লেখ করেছে যে, ট্রাম্প হয়তো সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার একটি পথ খুঁজছেন।
১০ দিন আগে
ইরান চুক্তিতে আগ্রহী বলে দাবি ট্রাম্পের, কূটনৈতিক আলোচনার সময়সীমা বৃদ্ধি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ শেষ করতে একটি চুক্তির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ইরান। এছাড়া, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য তেহরানকে দেওয়া সময়সীমা আরও পাঁচ দিন বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৩ মার্চ) ট্রাম্প দাবি করেন, চুক্তির ব্যাপারে ইরানের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলছে ওয়াশিংটন। হরমুজ প্রণালি না খুললে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
চতুর্থ সপ্তাহে পদার্পণ করা যুদ্ধ নিরসনের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছে ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তন। তেলের দাম কমাতে এবং শেয়ার বাজারে চাঞ্চল্য সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে এটি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হুমকির পর ট্রাম্পের এ বার্তা কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
ওই হুমকির ফলে ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পানীয় জল সরবরাহকারী লোনা পানি শোধনাগারগুলো অকেজো হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ইরান একটি চুক্তি করতে চায়। তিনি দাবি করেন, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার রবিবার ইরানের একজন নেতার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তিনি সেই নেতার নাম প্রকাশ না করলেও জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।
তবে ইরান আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, আর্থিক ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে ভুয়া খবর ব্যবহার করা হচ্ছে।
চুক্তি হলে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছাড়বে ইরান!
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, কোনো চুক্তি হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবে, যা দেশটির বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তেহরান অতীতে এ ধরনের দাবি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে এসেছে এবং শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ তাদের অধিকার বলে দাবি করে আসছে।
প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও ফিউশন এনার্জি গবেষক অধ্যাপক রবার্ট গোল্ডস্টন জানান, ইরান ইতোমধ্যে ৯টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক মানের ইউরেনিয়াম উৎপাদনের ৯৯ শতাংশ সেন্ট্রিফিউজের কাজ সম্পন্ন করেছে। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ইরানের কাছে ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছিল।
এদিকে, তুরস্ক ও মিসর জানিয়েছে যে তারা যুদ্ধরত পক্ষগুলোর সঙ্গে কথা বলেছে। এটি এই অঞ্চলের শক্তিশালী দেশগুলোর পক্ষ থেকে সমন্বিত মধ্যস্থতার প্রথম পদক্ষেপ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এ যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে কাঁপিয়ে দিয়েছে, তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে এবং বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত আকাশপথগুলোকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।
ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ না সরায়, তবে তিনি দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নিশ্চিহ্ন করে দেবেন। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেলের পাঁচভাগের একভাগ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। ওয়াশিংটন সময় সোমবার রাতে সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা।
ট্রাম্প বলেন, পাঁচ দিনের এই সময়সীমা বৃদ্ধি চলমান বৈঠক ও আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভরশীল।
পরবর্তীতে টেনেসি অঙ্গরাজ্যে এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, তার প্রশাসন তেহরানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা করছে।
ট্রাম্প বলেন, তারা শান্তি চায়। তারা একমত হয়েছে যে, ‘তাদের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না, ইত্যাদি ইত্যাদি... তবে দেখা যাক কী হয়।’ তিনি আরও জানান, এই সপ্তাহেই একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর খুব ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। এর কৃতিত্ব তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র উড়িয়ে দেওয়ার হুমকির ওপর দিয়েছেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার বিষয়ে অবগত আছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিস্তারিত না জানিয়ে সোমবার তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য জানত যে এমন কিছু ঘটছে।
আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার সম্ভাবনা
এর আগে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, তিনি তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে অতীতেও তুরস্ক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে।
সোমবার তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তবে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। অবশ্য রবিবার তুর্কি কর্মকর্তারা জানান, যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ফিদান কাতার, সৌদি আরব, পাকিস্তান, মিসর এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পাশাপাশি মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন।
মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি জানিয়েছেন, তার দেশ উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে ইরানকে সুস্পষ্ট বার্তা পাঠিয়েছে। মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা সব পক্ষের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মিসরীয় কর্মকর্তা জানান, জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা এড়ানোর লক্ষ্যে মিসর, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বার্তা আদান-প্রদান করেছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের একজন কূটনীতিকও নিশ্চিত করেছেন যে, মিসর ও তুরস্ক উত্তেজনা প্রশমনে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, আপাতত মনে হচ্ছে, তারা জ্বালানি বিপর্যয় এড়াতে সক্ষম হয়েছে।
ট্রাম্প পিছু হটেছেন বলে দাবি ইরানের
ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনের পর ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স ও তাসনিম যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে পিছু হটেছেন বলে উল্লেখ করেছে।
তাসনিম নিউজ জানায়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কিছু মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তেহরানে বার্তা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ইরানের স্পষ্ট জবাব হলো, প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তারা প্রতিরক্ষা চালিয়ে যাবে। এ ধরনের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালিয়ে হরমুজ প্রণালিকে যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফেরানো যাবে না বা জ্বালানি বাজারেও শান্তি আসবে না বলে জানিয়েছে তেহরান।
ইরানের আধাসামরিক বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ড হুমকি দিয়েছে যে, ট্রাম্প হামলা চালালে তারা মার্কিন ঘাঁটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কেন্দ্র এবং আমেরিকানদের অংশীদারত্ব থাকা অর্থনৈতিক, শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালাবে।
এর আগে, কালিবাফ বলেছিলেন, ইরান এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন অবকাঠামোকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে, যার মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোর পানীয় জলের জন্য জরুরি লোনা পানি শোধনাগারও রয়েছে।
রেভল্যুশনারি গার্ডের ঘনিষ্ঠ ফারস নিউজ এজেন্সি এ ধরনের স্থাপনার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও রয়েছে। ইরান ইসরায়েলের ডিমোনা শহর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, যা দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের কাছে অবস্থিত। তবে স্থাপনাটির কোনো ক্ষতি হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরও যুদ্ধজাহাজ এবং নৌসেনা মোতায়েন করার প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রতিরক্ষা কাউন্সিল যেকোনো স্থল অভিযানের বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেছে, এর ফলে সমস্ত প্রবেশপথে মাইন বিছিয়ে দেওয়া হবে।
ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে স্থল সেনা পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা তার নেই, তবে তিনি সম্ভাবনাটি পুরোপুরি উড়িয়েও দেননি। অপরদিকে, ইসরায়েল ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তাদের স্থল সেনা এ যুদ্ধে অংশ নিতে পারে।
তেহরান ও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা
ইসরায়েল সোমবার তেহরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। তারা দাবি করেছে, অবকাঠামো লক্ষ্য করে এ হামলা চালাচ্ছে তারা।
শহরের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে ঠিক কোথায় আঘাত হানা হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়।
ইসরায়েল লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গেও লড়াই করছে। হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে শত শত রকেট ছুড়েছে। সম্প্রতি ইসরায়েল বৈরুতের আবাসিক ভবন এবং দক্ষিণ লেবাননের লিটানি নদীর ওপরের সেতুগুলোতে বোমা হামলা চালিয়েছে।
লেবাননের সেনাপ্রধান জোসেফ আউন সেতুগুলোতে হামলাকে স্থল আক্রমণের পূর্বাভাস বলে অভিহিত করেছেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির কথা বিবেচনা করলেও ইসরায়েল ইরান ও লেবাননে হামলা চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, সামনে আরও হামলা আসছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলে ইরানি হামলায় ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা এবং ১০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
১১ দিন আগে
গভীর হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য সংকট, কমতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ
ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ যে তাদের হাতেই ছিল, তা নিয়ে খুব কম মানুষের মনেই সন্দেহ ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে। দাবার চাল এখন চলে যাচ্ছে তেহরানের দিকে।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৫ মার্চ) ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, যুদ্ধের সমাপ্তি এখন আমাদের হাতে। তার দাবি, পারস্য উপসাগর থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করা এবং হামলার ফলে হওয়া সমস্ত ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
দ্য গার্ডিয়ানের কলামিস্ট জেসন বার্ক এক প্রতিবেদনে বলেছেন, তিন সপ্তাহ আগেও তেহরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে এতটা আত্মবিশ্বাসী দেখা যায়নি। এ যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ইসরায়েলের একটি আকস্মিক হামলার মাধ্যমে, যাতে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এরপর ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী যে বিনা বাধায় বিচরণ করতে পারে এবং গোয়েন্দা তথ্যের বিশাল ভাণ্ডার ব্যবহার করে হাজারো লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারে, তা প্রমাণ করতে তারা বেশি সময়ও নেয়নি।
ইরানও ইসরায়েলের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তবে এর বেশিরভাগই ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত করা হয়েছে। ইরানের হামলায় ইসরায়েলে এখন পর্যন্ত ১২ জন নিহত হয়েছেন। গত বছর এ দুই দেশের মধ্যে হওয়া স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধের তুলনায় এবার নিহতের সংখ্যা এখনও অনেক কম।
তেহরানের হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলো তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তারা এখনও তাদের বাসিন্দা এবং অবকাঠামোগুলোকে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে পেরেছে। যদিও তাদের কাছে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী মিসাইলের মজুদ শেষ হয়ে যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে শান্তি, বিলাসিতা ও সম্পদের মরূদ্যান হিসেবে তাদের যে পরিচিতি ছিল, তা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রতিদিনই ইরানে হামলার মাধ্যমে তাদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করছে। কিন্তু দিন যত গড়াচ্ছে ততই মনে হচ্ছে, যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাত থেকে ফসকে যাচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধের স্থায়িত্ব নিয়ে একাধিক সময়সীমা দিয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানকে ছাড় দিতে বাধ্য করার পরেই কেবল এই যুদ্ধ শেষ হবে।
অন্যদিকে, অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের পরিকল্পনার চেয়ে অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে আটকা পড়তে যাচ্ছে।
যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সামনে এসেছে মূলত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে। এ পথটি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে, যার ফলে তেলের দাম আকাশ ছুঁয়েছে, পেট্রোল পাম্পগুলোতেও দাম হু হু করে বাড়ছে। এ কারণে এই যুদ্ধ শেষ করার জন্য অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
জেরুজালেমের হিব্রু ইউনিভার্সিটির সামরিক ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড্যানি ওরবাখ অবশ্য দাবি করেছেন, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র এখনও যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করছে। তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণ হাতে থাকার মানে হলো, আপনিই এজেন্ডা ঠিক করছেন। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী যন্ত্র ফুরিয়ে আসছে। তাই তেহরানের সামনে একমাত্র পথ ছিল হামলা বাড়িয়ে দেওয়া এবং আশা করা যে, কোনোভাবে এটি থেমে যাবে। এ কারণেই তারা উপসাগরীয় দেশগুলোতে আক্রমণ করেছে এবং তারপর হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে।
কেউ কেউ অবশ্য বলছেন, তেহরানকে চাপে ফেলতে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের পথে থাকা মার্কিন নৌসেনাদের ইরানের প্রধান তেল রপ্তানিকেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের নির্দেশ দিতে পারেন। তবে তারা যদি তা করেও, সেখানে পৌঁছাতে তাদের অন্তত দুই সপ্তাহ সময় লাগবে।
ট্রাম্প খার্গ দ্বীপের তেল স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার নির্দেশও দিতে পারেন, যা বহু বছরের জন্য ইরানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিতে পারে। শনিবার ট্রাম্প বলেছেন, এখন পর্যন্ত সেখানে কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা করা হয়েছে এবং এটি ছিল একটি সৌজন্যমূলক সিদ্ধান্ত।
ওরবাখ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সত্যি সত্যিই সেখানে হামলা চালাবে কি না, এখন সেই সিদ্ধান্তের ওপর অনেকটা নির্ভর করছে ইরানের অর্থনীতির ভাগ্য। যদি কোনো অচলাবস্থা তৈরিও হয়, তবে সেই লড়াইটা সমানে সমান নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
১৯ দিন আগে
হরমুজে ট্রাম্পের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ঘোষণার পর হামলা বাড়ানোর হুমকি তেহরানের
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ঘোষণার পর ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে তারা মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো মার্কিন স্থাপনাতে হামলার মাধ্যমে চলমান যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেবে। যুদ্ধের শুরু থেকেই তেহরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি প্রায় সব ধরনের সামুদ্রিক চলাচলের জন্য বন্ধ করে রেখেছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৪ মার্চ) তেহরান এ হামলার হুঁশিয়ারি দেয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইসরায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও অন্যান্য অবকাঠামোতেও হামলা চালাচ্ছে ইরান। শনিবারও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান।
শিল্প ও বাণিজ্য সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, বিশ্বের অন্যতম জ্বালানি জাহাজ সরবরাহ কেন্দ্র আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ আমিরাতে বেশ কিছু তেল বোঝাই কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। টেলিভিশনের ফুটেজে সেখান থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা গেছে।
ইরানের একজন সামরিক মুখপাত্র আরব আমিরাতের জনগণকে বন্দর, ডক এবং মার্কিন ঘাঁটি থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন বাহিনী ওই এলাকাগুলো থেকেই ইরানের দ্বীপগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ শনিবার রাতে বলেন, সন্ত্রাসী আগ্রাসনের মুখে নিজেদের রক্ষা করার অধিকার দেশটির রয়েছে। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, আরব আমিরাত এই চাপিয়ে দেওয়া আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার রাখে, তবে আমরা এখনও যুক্তি ও বুদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি এবং সংযম বজায় রেখে ইরান ও এই অঞ্চলের জন্য একটি সমাধানের পথ খুঁজছি।
গত শুক্রবার ইরানের প্রধান তেল রপ্তানিকেন্দ্র খার্গ দ্বীপে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। শনিবারও ইরানে দফায় দফায় হামলা অব্যাহত রেখেছে মার্কিন বাহিনী।
শনিবার রাতে এনবিসি নিউজকে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন হামলায় ওই দ্বীপের বেশিরভাগ অংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, তবে আমরা ‘মজা করার জন্য’ আরও কয়েকবার সেখানে হামলা চালাতে পারি। তিনি আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে প্রস্তুত নয় যুক্তরাষ্ট্র। কারণ শর্তগুলো এখনও যথেষ্ট ভালো নয়।
এদিকে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানও তেরানকে লক্ষ্য করে বেশ কিছু হামলা চালিয়েছে। আধা-সরকারি ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইসফাহানের একটি রেফ্রিজারেটর ও হিটার কারখানায় বিমান হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সক্ষমতা এবং শাসকগোষ্ঠীর নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
শনিবার ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, অনেক দেশ বিশেষ করে যারা ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রচেষ্টায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে যাতে প্রণালিটি উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখা যায়।
অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সমর্থন পাওয়ার চেষ্টায় ট্রাম্প আরও বলেন, আশা করি চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য এবং অন্যরা যারা এই কৃত্রিম বাধার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তারা ওই এলাকায় যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এখনও কোনো সুসংগত কৌশল উপস্থাপন করতে পারেনি। সাধারণত বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
শুক্রবার ট্রাম্প বলেছিলেন, খার্গ দ্বীপে অভিযান চালিয়ে মার্কিন বাহিনী সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোকে নিশ্চিহ্ন করেছে। তিনি বলেন, ভদ্রতার খাতিরে আমি দ্বীপের তেল অবকাঠামো ধ্বংস না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে, ইরান বা অন্য কেউ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ যাতায়াতের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করার জন্য কিছু করে, তাহলে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে আমি দেরি করব না।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের নেতাদের ‘উন্মাদ পাপিষ্ঠ’ বলে অভিহিত করেছিলেন। মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইরানের নেতারা মরিয়া হয়ে আত্মগোপন করেছেন। তারা গর্তে ঢুকেছেন।
হেগসেথ আরও দাবি করেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত এবং সম্ভবত ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন। ইরান স্বীকার করেছে যে, যুদ্ধের শুরুতে ইসরায়েলি হামলায় ৫৬ বছর বয়সী খামেনি আঘাত পেয়েছেন। তবে তারা বলছেন, তার আঘাত তত গুরুতর নয়।
ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ হওয়া এখন এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। খার্গ দ্বীপ ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ১৫ মাইল দূরে অবস্থিত এবং এটিই দেশটির তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র। ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় তেলের দাম আকাশ ছুঁয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি এই অঞ্চলে আমেরিকার শেয়ার রয়েছে এমন তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোগুলোতে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শনিবার প্রতিবেশী দেশগুলোকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন বাহিনীকে বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছেন।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রজেক্ট ডিরেক্টর আলি ভায়েজ বলেন, ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে তেহরান বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করছে। তিনি বলেন, কিছু জ্যেষ্ঠ নেতাকে হারিয়েও, এই সরকার বেশ অক্ষত বলে মনে হচ্ছে।
অপরদিকে, বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস তাদের নাগরিকদের অবিলম্বে ইরাক ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে। রাতে দূতাবাস ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এই সতর্কতা জারি করা হয়।
ইরানে বোমা হামলায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ইসরায়েলে ১৩ জন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মোট ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
লেবাননেও মানবিক সংকট গভীর হচ্ছে। সেখানে ইসরায়েলি হামলায় ৮০০-র বেশি মানুষ নিহত এবং ৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বৈরুত থেকে ওয়াশিংটন সব পক্ষই এখন এক চরম অনিশ্চিত পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে।
বিশ্লেষকরা দাবি করছেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে মার্কিন ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হওয়া রোধ করতে শিগগরিই এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে চাইবেন ট্রাম্প।
বিশেষজ্ঞরা এই সপ্তাহের শুরুতে দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, খার্গের দিকে পরিচালিত সামরিক পদক্ষেপ তেলের দাম আরও নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি করবে, যা ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইতোমধ্যেই বৃদ্ধি পেয়েছে।
চ্যাথাম হাউস থিঙ্কট্যাঙ্কের নীল কুইলিয়াম বলেন, খার্গে হামলার ফলে গত সোমবার আমরা যে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার দেখেছিলাম, তা ১৫০ ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারের জন্য এটি অশনি সংকেত।
২০ দিন আগে
ইরানে যুদ্ধ সম্প্রসারণে ট্রাম্পকে সিনেটের সমর্থন
মার্কিন সিনেটে ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক অভিযান বন্ধের উদ্দেশ্যে আনা ‘যুদ্ধ ক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাব’ রিপাবলিকানরা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (৪ মার্চ) আনা প্রস্তাবটি ৪৭-৫৩ ভোটে পরাজিত হয়। এর ফলাফল মূলত দলীয় মেরুকরণ অনুযায়ীই এসেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেনটাকির রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল তার দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে, পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন।
এ আইনটির লক্ষ্য ছিল ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো পরবর্তী মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জন্য কংগ্রেসের পূর্ব অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা। প্রস্তাবের সমর্থকরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে, যুদ্ধ ক্ষমতার ওপর কংগ্রেসের সাংবিধানিক কর্তৃত্ব বজায় রাখা জরুরি; বিশেষ করে যখন কোনো স্পষ্ট যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পরিকল্পনা ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলা তীব্রতর হচ্ছে।
এই ভোটাভুটির ফলে আইনপ্রণেতারা এমন একটি সংঘাতের বিষয়ে প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান জানালেন, যা মার্কিন সেনা সদস্যদের ভাগ্য নির্ধারণ করছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে এবং যার সুদূরপ্রসারী বৈশ্বিক পরিণতি রয়েছে।
রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদেও একই ধরনের প্রস্তাব বৃহস্পতিবার সকালে ভোটের জন্য ওঠার কথা রয়েছে, তবে সেখানেও এটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।
সিনেটের এই সিদ্ধান্তটি যুদ্ধ বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক বিভাজনকেই প্রতিফলিত করে। সমালোচকরা যেখানে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করছেন, সেখানে সমর্থকরা প্রশাসনের পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বলে রক্ষা করছেন।
৩০ দিন আগে
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল করলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি তেহরানের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি এ প্রণালী দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করলে এতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২ মার্চ) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর এক উপদেষ্টা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, এ নৌপথ কার্যত বন্ধ, সেখানে প্রবেশ করলে জাহাজগুলোকে কঠোর জবাব মোকাবিলা করতে হবে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এর ফলে এটি বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুটে পরিণত হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় আঘাত এখনও বাকি। তবে তিনি অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান। শনিবারের মার্কিন পদক্ষেপকে তিনি ‘প্রতিরোধমূলক’ উল্লেখ করে বলেন, ইসরায়েলের হামলার জেরে ইরান মার্কিন বাহিনীর ওপর পাল্টা হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই ওয়াশিংটন ব্যবস্থা নিয়েছে।
রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং তাদের নৌবাহিনীর মাধ্যমে বৈশ্বিক জাহাজ চলাচলের ওপর সম্ভাব্য হুমকি সীমিত করা।
তিনি আরও বলেন, ইরানের জনগণের নেতৃত্বে পরিবর্তনকে যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানাবে, তবে সরকার পরিবর্তন (রেজিম চেঞ্জ) এ অভিযানের উদ্দেশ্য নয়।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে হামলার পর প্রথমবারের মতো বক্তব্য দিয়ে সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্তকে শেষ এবং সর্বোত্তম সুযোগ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও বৃহৎ পরিসরের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
৩২ দিন আগে
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি কি তবে হতে চলেছে?
ইরানের পারমাণবিক শক্তি অর্জনের প্রচেষ্টা যেন পশ্চিমাদের ঘুম হারাম করে দিয়েছে। একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এরপরও যখন ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন, তখন পশ্চিমা মোড়ল যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তি করতে আহ্বান জানিয়েছে, নাহলে আক্রমণ চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তি করতে দ্বিতীয় দফায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে তেহরান। স্থানীয় সময় শনিবার (১৯ এপ্রিল) ইতালির রাজধানী রোমে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গত শনিবার (১২ এপ্রিল) ওমানের রাজধানী মাস্কাটে প্রথম দফায় বৈঠক করে তেহরান ও যুক্তরাষ্ট্র।
হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় মেয়াদে ফিরেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নানা পদক্ষেপ নিয়ে চলেছেন ইরানের বিরুদ্ধে। ইরান যাতে পারমাণবিক শক্তি অর্জন করতে না পারে, সে লক্ষ্যে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন তিনি। এমনকি বিভিন্ন সময় ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প।
এরপরও একটি চুক্তি করা যায় বলে মনে করেছেন ট্রাম্প। এজন্য ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে চিঠিও লিখেছেন তিনি। তবে খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে ইরানও বসে থাকবে না।
আরও পড়ুন: প্রথম দফার বৈঠক শেষ, আরও আলোচনায় সম্মত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র
এমন পরিস্থিতিতে চুক্তি আদৌ হবে কিনা বা কী কী বাধা রয়েছে; দেশদুটির একটি চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার ক্ষেত্রে সে বিষয়ে একটু আলোকপাত করা যাক।
ট্রাম্প কেন খামেনিকে চিঠি লিখলেন?
ট্রাম্প গত ৫ মার্চ ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাকে আলোচনায় আসার জন্য একটি চিঠি লেখেন। পরদিন টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এসে নিজেই বলেন, ‘আমি তাদের একটি চিঠি লিখেছি। চিঠিতে বলেছি, আপনারা আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসুন, নাহলে আমরা সামরিক হামলা চালাতে বাধ্য হব। সেটি কিন্তু খুব খারাপ হবে।’
এমন চিঠি ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেও লিখেছিলেন। খামেনি বেশ রাগত স্বরেই সেই চিঠির জবাব দিয়েছিলেন। এবারের হুমকিও মুখেও কড়া জবাবই দিয়েছেন তিনি। খামেনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ইরানও পাল্টা হামলা চালাবে।’ প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার লক্ষ্যে একটি চিঠি উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনকেও লিখেছিলেন। চিঠির জবাবে ট্রাম্পের সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎও করেছিলেন। তবে পারমাণবিক কোনো চুক্তি কিন্তু হয়নি। এখনও উত্তর কোরিয়া নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েই যাচ্ছে।
প্রথম দফার বৈঠকে কি হলো
গত সপ্তাহে আরব দেশ ওমানে প্রথম দফায় বৈঠকে বসেছিলেন তেহরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। পরে মুখোমুখি আলাচনায় বসেন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এমনকি তারা পরবর্তী ধাপের আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যেতে সম্মতও হন।
আরও পড়ুন: ইরানে ভয়েস অব আমেরিকার সাবেক সাংবাদিকের ১০ বছরের কারাদণ্ড
বৈঠক শেষে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে উইটকফ জানান, ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি অনুযায়ী, ইরান ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ উপাদান মজুদ রাখতে পারে। অথচ এই চুক্তি থেকেই ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে বের হয়ে গিয়েছিলেন।
এরপর এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ‘ইরানের সঙ্গে তখনই একটি চুক্তি সম্ভব হবে, যদি সেটি ট্রাম্পের চুক্তি হয়।’
উইটকফের এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসা এক ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও দেশটির অন্যান্য নেতারা।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমাদের এত চিন্তা কেন?
কয়েক দশক ধরেই ইরান দাবি করে আসছে তারা শান্তিপূর্ণভাবেই পারমাণবিক কর্মসূচি চালাচ্ছে। দেশটি বর্তমানে ৬০ শতাংশ ইউরেনিয়োম সমৃদ্ধ করেছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির খুব কাছাকাছি। পারমাণবিক অস্ত্র নেই এমন আর কোনো দেশের কাছে এই পর্যায়ে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নেই বলে জানা যায়।
২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি অনুযায়ী, ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ ও ৩০০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত মজুত রাখার অনুমতি রয়েছে ইরানের। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় ৮ হাজার ৩০০ কিলোগ্রামের মতো ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে এবং দেশটি ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যমতে, ইরান এখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি শুরু না করলেও তারা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।
আয়াতুল্লাহ খামেনির এক উপদেষ্টা আলি লারিজানি বলেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা থাকলেও তারা সেটি করছে না। আইএইএর তদন্তেও দেশটির কোনো আপত্তি নেই। তবে এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি তাদের ওপর হামলা চালাতে চায়, তাহলে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা ছাড়া তাদেরর উপায় থাকবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘পারমাণবিক ইস্যুতে যদি আপনারা ভুল পদক্ষেপ নেন, তাহলে ইরানও সেই পথেই এগোবে। কারণ তাদেরও তো নিজেদের রক্ষা করতে হবে।’
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এত খারাপ কেন?
এক সময় ইরান ছিল মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় মিত্র। ইরানের তৎকালীন শাসক শাহ মোহাম্মদ পাহলভির আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্বর্ণযুগ চলেছিল বলা যায়।
পাহলভি যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র কিনতেন, এমনকি ইরান থেকে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে নজরদারি করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থাকে (সিআইএ) গোপন তথ্যকেন্দ্র পরিচালনার অনুমতিও দিয়েছিলেন তিনি। সিআইএর সমর্থিত অভ্যুত্থানেই পাহলভির গদি পাকাপোক্ত হয়েছিল বলে বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়।এরপর ১৯৮৯ সালে গণবিক্ষোভের মুখে ক্যান্সার আক্রান্ত পাহলভি ইরান থেকে পালিয়ে যান। পরে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খামেনির নেতৃত্বে ইসলামিক বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং ইরানে ধর্মীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম হয়।
ওই বছরের শেষের দিকে পাহলভিকে ফেরত পাঠানোর জন্য তেহরানের মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালান ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় ৪৪৪ দিনের জিম্মি সংকট তৈরি হয় এবং ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘টাইট’দেওয়া যায়, তা বের করতেই ভিয়েতনামে শি: ট্রাম্প এরপর ১৯৮০ সালে ইরান-ইরাক যুদ্ধে ইরাকের সাদ্দাম হোসেনকে সমর্থন দেয় যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় একদিনের হামলায় ইরানের নৌশক্তি ধ্বংস করেন মার্কিন সেনারা। পরবর্তীতে একটি ইরানি বেসামরিক বিমান ভুলবশত যুদ্ধবিমান ভেবে গুলি করে ভূপাতিত করে যুক্তরাষ্ট্র, এতে ২৯০ জন নিহত হন।
এরপরে কয়েক দশক ধরেই দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা চলমান থাকে। এরই মধ্যে ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে বিশ্ব শক্তিগুলোর সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করে ইরান। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যকার সম্পর্কের পারদ কিছুটা গলতে শুরু করে। তবে প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় এসে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সেই চুক্তি থেকে বের করে আনেন ট্রাম্প।
এখন আবার তিনিই একটি চুক্তি করতে চাইছেন। বলা চলে জোর করে চুক্তি করাতে চাইছেন, কারণ ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারিও দিয়ে আসছেন ট্রাম্প।
এ অবস্থায় আলোচনার ফলাফলে কি হবে সেটিই দেখার অপেক্ষায় অনেকে। কোন কোন শর্তে ট্রাম্প চুক্তি করতে চান আর ইরান সেগুলোর কতটুকু মান্য করে সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।
৩৪৯ দিন আগে
প্রথম দফার বৈঠক শেষ, আরও আলোচনায় সম্মত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে প্রথম দফার বৈঠক শেষ হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, এ নিয়ে আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও আলোচনার বিষয়ে দুপক্ষ সম্মত হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১২ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে এ আলোচনা শুরু হয় বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে।
খবরে বলা হয়, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে হওয়া এই বৈঠক শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে ইরান থেকে প্রকাশিত এসব খবরের সত্যতা নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে দুই পক্ষের মধ্যে সামনাসামনি কথা হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। তাতে আলোচনা যে ভালো হয়েছে, তার ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: ইরানে ভয়েস অব আমেরিকার সাবেক সাংবাদিকের ১০ বছরের কারাদণ্ড
ওমানের যে স্থানে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট করে কিছু জানানো না হলেও দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে এই আলোচনা চলে বলে জানা গেছে। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বৈঠকটি শুরু হয়ে ৫টা ৫০ মিনিটে তা শেষ হয়।
বৈঠক শেষে উইটকফকে বহনকারী গাড়িবহরটি ওমানের রাজধানী মাসকাটে ফিরে আসে। পরে সেটিকে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের দিকে রওনা হতে দেখা যায়।
প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে বৈরী সম্পর্ক টেনে নিয়ে আসার পর দুই দেশের মধ্যে এমন আলোচনা সত্যি আশাব্যঞ্জক। তবে এই আলোচনার ঝুঁকিও রয়েছে।
একদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়ে রেখেছেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হবে। অন্যদিকে, ইরানি কর্মকর্তারাও বারবার পাল্টা সতর্ক করে আসছেন যে, তাদের কাছে প্রায় অস্ত্র-গ্রেড মানের ইউরেনিয়ামের মজুদ রয়েছে, যা দিয়ে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে।
ওমানে বৈঠক
আজ (শনিবার) বিকালে অ্যাসোসিয়েট প্রেসের (এপি) সাংবাদিকরা একটি গাড়ির বহর দেখেন, যেটি উইটকফকে বহন করছিল বলে ধারণা তাদের। বহরটি ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বেরিয়ে মাসকাটের উপকণ্ঠের দিকে দ্রুত চলে যায়। এরপর সেটি একটি প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে।
এর কয়েক মিনিট পরই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি এক্সে লেখেন, ‘পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে।’
‘আলোচনাটি ওমানের মধ্যস্থতায় তাদের পরিকল্পিত স্থানে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা বসে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি ও অবস্থান বিনিময় করবেন।’
এর ঘণ্টাখানেক পর বাঘায়ি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে হাজির হন এবং আলোচনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।
আরও পড়ুন: ইরানে সাময়িক মুক্তি পেল নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মদী
তিনি বলেন, ‘ইরানের উদ্দেশ্য খুবই স্পষ্ট—ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। কূটনীতির ব্যাপারে আমরা সত্যিকারের ও অকৃত্রিম সুযোগ দিচ্ছি, যাতে সংলাপের মাধ্যমে আমরা একদিকে পরমাণু ইস্যুতে এগিয়ে যেতে পারি, অন্যদিকে আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিতেও একটি সমাধানের দিকে যেতে পারি।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেখুন, এটি কেবল শুরু। সুতরাং এই পর্যায়ে উভয় পক্ষই যে কেবল নিজেদের মৌলিক অবস্থানের বিষয়গুলো উপস্থাপন করবে, এটিই স্বাভাবিক। ফলে এই দফায় আলোচনা দীর্ঘ হবে বলে আমরা আশা করছি না।’
এর আগে, ইরানি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আরাগচি। সে সময় তিনি বলেন, ‘যদি উভয় পক্ষের যথেষ্ট সদিচ্ছা থাকে, তাহলে আমরা একটি সময়সূচি নির্ধারণ করব। তবে এ ব্যাপারে এখনই কথা বললে তা বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে।’
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ প্রকাশিত ওই অডিও ক্লিপে তিনি আরও বলেন, ‘এই আলোচনাগুলো যে পরোক্ষভাবে হবে, এখন কেবল সেটিই স্পষ্ট। তাছাড়া পারমাণবিক ইস্যুতে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় ইচ্ছা নিয়েই এগুলো (আলোচনা) পরিচালিত হবে। আর ইরানের জনগণের স্বার্থ রক্ষা এবং সমতার ভিত্তিতে চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা মাথায় রেখেই আমরা কাজ করছি।’
তবে ট্রাম্প ও উইটকফ উভয়েই এই আলোচনাকে ‘সরাসরি’ বলে বর্ণনা করেছেন।
ওমান সফরের আগে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে উইটকফ বলেন, ‘আমি মনে করি, আপনাদের (ইরান) কর্মসূচি ভেঙে দেওয়ার মধ্য দিয়ে আমাদের অবস্থান (গ্রহণ) শুরু হয়েছে। আর এটিই আজ আমাদের অবস্থান। তবে এর মানে এই নয় যে, আমরা দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার অন্যান্য উপায় খুঁজে পাব না।’
‘আপনারা কোনোভাবেই আপনাদের পারমাণবিক সক্ষমতার অস্ত্রীকরণ করতে পারবেন না—এখানেই আমাদের রেড লাইন,’ বলেন তিনি।
নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণই প্রধান বিষয়
ইরানের সংকটে থাকা অর্থনীতিকে স্বস্তি দিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রস্তাব দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, তবে ইরান কতটা ছাড় দিতে রাজি হবে—তা এখনও স্পষ্ট নয়।
২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি অনুযায়ী, ইরান ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ উপাদান মজুদ রাখতে পারে। তবে বর্তমানে তেহরানের ইউরেনিয়ামের মজুদ এমন পর্যায়ে আছে যে তারা চাইলে একাধিক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে। এছাড়া তাদের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ উপাদানও রয়েছে, যা অস্ত্র-গ্রেড মান থেকে প্রযুক্তিগতভাবে মাত্র কয়েক ধাপ দূরে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন আলোচনায় ইরান অন্তত ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম মজুদ করতে চাইবে। এবং একটি বিষয় তারা কখনোই করবে না; তা হলো, তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে মাস্কের দ্বারস্থ ইরান
এর ফলে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তথাকথিত লিবিয়া সমাধানের প্রস্তাব ‘তুমি ভেতরে যাও, স্থাপনাগুলো উড়িয়ে দাও, আমেরিকার তত্ত্বাবধায়নে সমস্ত সরঞ্জাম ধ্বংস কর, তাদের তত্ত্বাবধায়নেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর কর’ ধোপে টিকবে না।
লিবিয়ার প্রয়াত স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পরিণতির কথা তুলে ধরেছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ইরানি প্রতিনিধিরা। ২০১১ সালের আরব বসন্তের গণজাগরণের সময় বিদ্রোহীদের হাতে নিজের বন্দুকের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন গাদ্দাফি। আর এটিকেই ইরানিরা সতর্কতা হিসেবে দেখেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভরসার ফল কী হতে পারে।
৩৫৭ দিন আগে