তদন্ত কমিটি
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি এ ঘটনায় হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে গতকাল (রবিবার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়। এতে চার সাংবাদিক গুরুতর আহতসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবিবসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রাতে তারা শহিদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে প্রতিপক্ষের ওপর হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় সাংবাদিকরা দেশীয় অস্ত্রের ছবি তুলতে থাকেন। ছবি ও সংবাদ সংগ্রহের কারণে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়।
ঘটনার পর সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি হামলায় জড়িত শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব বাতিল ও পড়াশোনা শেষ করা ব্যক্তিদের সনদ বাতিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন—এমন অভিযুক্তদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দাবিও জানানো হয়।
পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজকের (সোমবার) মধ্যে মামলা দায়েরের আশ্বাস দেওয়া হলে সাংবাদিকরা কর্মসূচি থেকে ফিরে যান।
হামলায় আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু।
এদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার পর ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এই কাজে ক্যাম্পাস শাখা ছাত্রদল ও হল প্রাধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান জড়িত বলেও অভিযোগ করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলের সামনের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ার কথা। কিন্তু পরে ওই ফুটেজ আর পাওয়া যায়নি। হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পরিচয় ও ঘটনার প্রকৃত চিত্র আড়াল করতেই ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছে বলে তারা দাবি করছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শহিদ জিয়াউর রহমান হল প্রাধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সংস্কারকাজ চলমান থাকায় তখন সিসিটিভির সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। সে জন্য কোনো ফুটেজ নেই। ফুটেজ ডিলিট করার অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা।’
অন্যদিকে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. আবদুল আলীম বলেন, ‘তথ্যগুলো সংরক্ষিত আছে। অভিযোগ যে কেউ করতে পারে। ডকুমেন্টসের কোনো অভাব নেই। তদন্ত কমিটি যেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করার সেখান থেকে করছে।’
অবশ্য সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগ বা হল প্রাধ্যক্ষের দাবি অনুযায়ী সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।
১৩ দিন আগে
স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ, তদন্ত কমিটি গঠন
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ করা খাবার খেয়ে ১২ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ ঘটনার পর খাবারের গুণগত মান যাচাই ও শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সাইফুল ইসলাম বলেন, গতকাল (বুধবার) দুপুরে উপজেলার লহলামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খাওয়ার পর ১২ শিক্ষার্থীর পেটে ব্যথা ও বমি হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পর সবাই সুস্থ হয়ে পরে ওই দিনই বাড়ি ফিরে গেছে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে আহ্বায়ক এবং শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা ও জেলা স্যানিটারি পরিদর্শককে সদস্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাইফুল ইসলাম ।
তদন্ত কমিটিকে স্কুল ফিডিংয়ের সরবরাহ করা খাবারের গুণগত মান যাচাই, শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং এর জন্য দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরও জানান, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর খাবারের মান ও শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
১৭ দিন আগে
আশুলিয়ার অগ্নিকাণ্ড তদন্তে কমিটি গঠন
সাভারের আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানায় আগুনে আটজন নিহতের ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এ কমিটি গঠন করে।
এর আগে গতকাল (রবিবার) সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে আশুলিয়ার জামগড়ায় প্রীতি কম্পোজিট কারখানার সামনে অগ্নিকাণ্ড হয়। এতে আটজন নিহত ও ৩৫ জন আহত হন।
একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার নামানোর সময় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটলে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। আগুনের ঘটনায় চারটি যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম জানান, রবিবার রাতেই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করেন। এছাড়া বিস্ফোরণের সময় একটি সিলিন্ডার ছিটকে পড়লে পাশের একটি টেইলারিং দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা জয়নব বেগম (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়।
পরদিন সোমবার নজরুল ইসলাম নামের আরেকজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মারা যান বলে জানায় পুলিশ।
এদিকে আহত ৩৫ জনের মধ্যে ২৬ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। ছয়জন বিভিন্ন হাসপাতালে এবং আরও পাঁচজন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
২৭ দিন আগে
ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড: তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগের তদন্ত কমিটি বাতিল করে ছয় সদস্যের নতুন কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের দুই দিন পর বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে হাসপাতাল পরিদর্শন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এম ইকবাল হোসেইন।
হাসপাতালে পৌঁছে তিনি কনফারেন্স রুমে এক বৈঠকে অংশ নেন। পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
এ সময় হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যা নিরসনে পরবর্তী সময়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি ও ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ, হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. জাকিউল ইসলাম, ড্যাবের জেলা সভাপতি ডা. মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম, বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটের বিষয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও সহসভাপতিকে অবহিত করা হয়।
এদিকে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. জাকিউল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন রাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। পরে সেটি বাতিল করে বুধবার আগের কমিটির দুই সদস্যকে বাদ দিয়ে নতুন দুই সদস্য যুক্ত করে ছয় সদস্যের কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।
নতুন কমিটির প্রধান করা হয়েছে মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. গোলাম রহমান ভূইয়াকে। সহকারী পরিচালক ডা. মাইন উদ্দিন খানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন: ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডেন্টাল সার্জন ডা. খন্দকার মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায় এবং ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দি।
উপপরিচালক জানান, আগের পাঁচ সদস্যের কমিটিতে গণপূর্ত বিভাগের দুজন সদস্য ছিলেন। বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি ওঠায় পুনর্গঠিত কমিটিতে গণপূর্ত বিভাগের কাউকে রাখা হয়নি।
কমিটিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ উদঘাটন, কর্তৃপক্ষের গাফিলতি থাকলে তা চিহ্নিত করে সুপারিশ দেওয়া এবং অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি ও ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পদদলিত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। যারা মারা গেছেন, তাদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।
৩২ দিন আগে
ঢাবি ক্যাম্পাসের ৩ ঘটনা তদন্তে পৃথক কমিটি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের সাম্প্রতিক তিনটি ঘটনা তদন্তে পৃথক তিনটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সাত কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিগুলো সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেবে। এসব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ।
ডাকসুর ‘ডিইউ ইভ্যালুয়েশন’ নামে ওয়েবসাইট চালু, ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন এবং ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি টানানোর ঘটনা তদন্তে এসব কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর ১২(৩) ধারা অনুযায়ী কমিটিগুলো গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে কমিটিগুলোকে। এসব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
‘ডিইউ ইভ্যালুয়েশন’ নামে ডাকসুর ওয়েবসাইট চালুর বিষয়টি তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)-কে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), আইন অনুষদের ডিন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ও প্রাতিষ্ঠানিক মান নিশ্চিতকরণ কেন্দ্রের পরিচালক। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে কলাভবনসংলগ্ন ডাকসু ভবনের পশ্চিম পাশে ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের বিষয়টি তদন্তে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)-কে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনির্দিষ্ট আইন থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ডাকসুর এই স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের বিষয়টি তদন্ত করবে কমিটি।
এ কমিটির সদস্যরা হলেন ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন, আইন অনুষদের ডিন ও প্রক্টর। বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট ব্যবস্থাপক সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
অন্যদিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের আলোচিত ছবি টানানোর ঘটনাটি তদন্তেও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)-কে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির সদস্যরা হলেন আইন অনুষদের ডিন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ও প্রক্টর। এ কমিটিতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট ব্যবস্থাপক সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
৩৪ দিন আগে
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে গোপন তৎপরতা খতিয়ে দেখতে খুবিতে তদন্ত কমিটি
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে গোপন তৎপরতায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) কোনো শিক্ষক জড়িত কি না, তা অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (১১আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এস এম মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক কার্যালয়ের আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
কার্যালয়ের আদেশে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও নানা সূত্রের খবরে জানা গেছে, শেখ হাসিনাকে ফেরাতে দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক একটি গোপন তৎপরতায় যুক্ত হয়েছেন। উক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক এ ধরনের কোনো গোপন অপতৎপরতায় জড়িত আছেন কি না, তা সুষ্ঠুভাবে অনুসন্ধানের লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো।
গঠিত কমিটিতে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলমকে সভাপতি ও ছাত্র বিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। এছাড়া কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন: শিক্ষা স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল জব্বার, আইন স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নাসিফ আহসান ও সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. শেখ শারাফাত হোসেন।
আদেশে কমিটিকে আগামী ১ মাসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
৬৮ দিন আগে
শাবিপ্রবিতে ‘রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত শিক্ষকদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কমিটি
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষকদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী গোপন কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ অনুসন্ধানে ৬ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই কমিটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে লিপ্ত শিক্ষকদেরও চিহ্নিত করবে।
রবিবার (৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সৈয়দ সলিম মোহাম্মদ আবদুল কাদির স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কোনো শিক্ষকের রাষ্ট্রবিরোধী গোপন কার্যকলাপে জড়িত থাকার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই প্রতিবেদনের আলোকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এ-সংক্রান্ত কাজে জড়িত থাকার বিষয়ে তদন্তপূর্বক অনতিবিলম্বে প্রতিবেদন প্রদানের জন্য কর্তৃপক্ষ এই তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
তদন্ত কমিটিতে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিমকে আহ্বায়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইসমাঈল হোসেন, গণিত বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ উদ্দিন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল ফজল মোহাম্মদ জাকারিয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, কমিটিকে অবিলম্বে প্রকাশিত প্রতিবেদনের আলোকেই শাবিপ্রবির শিক্ষকদের সংশ্লিষ্টতা তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কার্যপরিধি অনুযায়ী, রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবে এই কমিটি।
এছাড়া বিগত সরকারের সময় শিক্ষকরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হুমকি বা নিপীড়নে লিপ্ত ছিলেন কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে অনুসন্ধান করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
৬৯ দিন আগে
বেরোবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, তদন্ত কমিটি গঠন
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল-শিবিরের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে, জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানাকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— বিশ্ববিদ্যালয় সহকারী প্রক্টর আব্দুল্লাহ আল মাহবুব, বিজয় ২৪ হলের প্রভোস্ট আমির শরিফ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিউল ইসলাম জীবন ও রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হারুন-আল রশিদ।
অফিস আদেশে সদয় অবগতকরণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।
বেরোবি রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের নির্দিষ্ট সময় বেধে না দেওয়া হলেও খুব শিগগিরই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে, সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রশাসনের অনুমতিতে সকাল থেকেই ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক এলইডি স্ক্রিনে ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীসহ জুলাই ও বিগত সময়ে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ব্যানার ফেস্টুন প্রদর্শন করছিল বেরোবি শাখা ছাত্রশিবির।
তবে, একটি ফেস্টুনে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা কাদের মোল্লা, মতিউর রহমান নিজামী, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, মীর কাশেম আলীসহ বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ছবি ছিল।
ছাত্রদল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ওই ফেস্টুন সরানোর দাবিতে প্রোগ্রামস্থলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে চেয়ার ও ইটপাটকেল ছোঁড়া হলে লাঠিসোঁটা নিয়ে পাল্টা ধাওয়া দেন শিবিরের নেতাকর্মীরা। দফায় দফায় চলে আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ।
এ সময় আহত হন বেরোবি শাখা শিবিরের সাবেক সভাপতি সোহেল রানা, বর্তমান সেক্রেটারি ইমরান খান সৌরভ, শিবির সমর্থিত প্যানেলের ব্রাকসুর জিএস প্রার্থী মেহেদী হাসান, বাইতুল মাল সম্পাদক বাইজিদ শিকদার, মুরসালিন এছাড়াও ছাত্রদল নেতা আশিকসহ দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন।
৭৪ দিন আগে
শিশু নন্দিনী হত্যায় আসামির দায় স্বীকার, পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় শিশু নন্দিনী হত্যার দায় স্বীকার করেছে গ্রেপ্তার বিধান চন্দ্র (২২)। ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তে পৃথক দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান।
এর আগে, মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে ভুট্টাক্ষেত থেকে নন্দিনীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে ওই এলাকার নলিনী কান্তের মেয়ে ছিল।
পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের পর ঘাতক বিধানকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। সেই বিধানকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে তার বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় বিক্ষুব্ধ জনতা। এতে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম মমিনুল হক ও বিজিবি ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমামসহ জেলা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। তিন ঘণ্টা পর সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে আসামিদের নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন প্রশাসনের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
এ সময় স্থানীয়দের হামলায় এসপি-ওসিসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। বিক্ষুব্ধ জনতা ডিসি-এসপির গাড়িসহ সরকারি ৭টি গাড়ি ভাঙচুর করে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার ঘটনাস্থলেই আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হককে প্রত্যাহার করা হয়। আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে আজ (বুধবার) সদর থানার ওসি (তদন্ত) নাজমুস সাকিব সজিবকে পদায়ন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নন্দিনীর বাবা নলিনী কান্ত বাদী হয়ে আসামি বিধান, তার বাবা রনজিৎ ও মা সাবিত্রীকে অভিযুক্ত করে গতকাল (মঙ্গলবার) আদিতমারী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। সে মামলায় বিধান ও তার বাবাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিধান তার দায় স্বীকার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন জেলা প্রশাসক। যেখানে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
অপরদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন পুলিশ সুপার। তিন কর্মদিবসের মধ্যে এ কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
গত সোমবার বিকেলে নিখোঁজ হন শিশু নন্দিনী রায়। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে গতকাল সকালে বাড়ির পাশে একটি ভুট্টাক্ষেতের গর্ত থেকে নন্দিনীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরই মধ্যে স্থানীয়রা ঘাতক বিধান চন্দ্রকে সন্দেহজনকভাবে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে মব সৃষ্টি করে তার বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। বিধানকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করে। এতে বাধা দিলে পুলিশের ওপর হামলা করে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা। অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন জেলা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও পুলিশ, বিজিবি, আনসার ব্যাটালিয়নের যৌথ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার বিধান চন্দ্র নন্দিনীকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। পারিবারিক দ্বন্দ্বের ক্ষোভে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে গ্রেপ্তার বিধান স্বীকার করেছে। তাই তাকে রিমান্ড চাওয়া হয়নি। আদালতেও দায় স্বীকার করে তিনি জবানবন্দি দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ধর্ষণ করা হয়নি বলে অভিযুক্ত দাবি করলেও আমরা মর্গের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর বিষয়টি পরিষ্কার বলতে পারব। আপাতত তাদের বাবা-ছেলেকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রত্যাহার ওসির স্থলে নতুন কর্মকর্তা পদায়ন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান বলেন, ঘটনা তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও সরকারি সম্পদ নষ্টের অভিযোগে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে পৃথক দুইটি মামলার প্রস্তুতি রয়েছে।
১২৩ দিন আগে
লালমনিরহাটে নন্দিনী হত্যা: মরদেহের শেষকৃত্য সম্পন্ন, পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে শ্বাসরোধে হত্যার শিকার সাত বছর বয়সী নন্দিনীর মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করেছে পুলিশ। পরে গতকাল রাতে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অন্যদিকে, এ ঘটনার জেরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা ও সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ তিন সদস্যের পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) নিহতের বাবা নলিনী কান্ত রায় বাদী হয়ে তিনজনের নামে হত্যা মামলা করেছেন।
ঘটনায় অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র রায় (২২) ও তার বাবা রণজিৎ কুমারকে আটক করেছে পুলিশ। আটকদের আজ (বুধবার) আদালতে পাঠানো হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে আটক ওই দুজনকে থানায় নিয়ে আসার সময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ হয়। এতে ওসিসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। ডিসি-এসপির গাড়ীসহ সাতটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা ও সরকারি গাড়ি ভাঙচুর ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ তিন সদস্যের পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
গত সোমবার নিখোঁজ হয় নন্দিনী। এরপর গতকাল (মঙ্গলবার) সকালে বাড়ির পাশের ভুট্টাখেতে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার হয়। এরপর এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ওই এলাকায়। এর জেরে গতকাল দুপুরে স্থানীয়রা একপর্যায়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ অন্যদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে গ্রামটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পুলিশ ও বিজিবি আটক সন্দেহভাজন বিধান ও তার বাবাকে থানায় নিয়ে যায়।
১২৩ দিন আগে