বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক
বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতায় বাস্তব সুফল নিশ্চিত করতে চায় চীন
বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সুফল যাতে দুই দেশের জনগণ সরাসরি ভোগ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই চীন প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
সোমবার (২৭ জুলাই) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চীনের সহায়তায় নির্মাণাধীন বার্ন ইউনিট প্রকল্প পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা জানান।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘চীন প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সমর্থন অব্যাহত রাখবে, যাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ফলাফল দুই দেশের জনগণের জন্য বাস্তব সুফল বয়ে আনে।’
তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্পকে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার আরেকটি মাইলফলক হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চায় চীন।’
প্রকল্পটির বাস্তবায়নকে চীন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রদূত ওয়েন।
পরিদর্শনকালে তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
বাংলাদেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাস জানায়, রাষ্ট্রদূত ওয়েন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে গঠনমূলক পরামর্শ দেন এবং প্রকল্পে নিয়োজিত চীনা ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন।
ডা. শাহাদাত হোসেনসহ বাংলাদেশি কর্মকর্তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে চীনের বাস্তব সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তারা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও ইতিবাচক ফল অর্জনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
৯ দিন আগে
বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চল শিল্প বিপ্লব ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে ‘চায়না অর্থনৈতিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ (সিইআইজেড)-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প খাতে এক নতুন ও ঐতিহাসিক যুগের সূচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ও চীন সরকারের (জি-টু-জি) যৌথ উদ্যোগে এবং ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর নীতিমালার আলোকে গৃহীত এই প্রকল্পটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, বৈচিত্র্যময় শিল্পায়ন এবং বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
সোমবার (২৭ জুলাই) চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সিইআইজেড-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সহজীকরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এরই অংশ হিসেবে চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলে সরকারের নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে অবকাঠামো ও শিল্প স্থাপনে প্রায় ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের বিশাল বিনিয়োগ অর্জিত হতে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের দ্রুত ও সহজ সেবা প্রদান নিশ্চিতে সরকার খুব শিগগিরই শতভাগ কার্যকর ‘সিঙ্গেল উইন্ডো সার্ভিস’ চালুর পাশাপাশি পুঁজিবাজার ও মূলধনি খাতে কৌশলগত বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, শিল্পায়নের পাশাপাশি শ্রমিকদের আবাসন, আধুনিক জীবনযাত্রার মান এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি আনোয়ারা শিল্পাঞ্চলে দেশীয় শিল্পের বিকাশ, সাপ্লাই চেইন জোরদারকরণ এবং দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে একটি আধুনিক ‘স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার’ স্থাপনে চায়নিজ অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আনোয়ারার এই উর্বর মাটিতে সিইআইজেড-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে আমরা কেবল এক কোদাল মাটিই তুলছি না, বরং বাংলাদেশের শিল্প রূপান্তরের এক নতুন অধ্যায়ের শুভ সূচনা করছি।’
তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাস, গভীর বন্ধুত্বের সুদৃঢ় ভিত্তি এবং যৌথ সনদের আলোকে গৃহীত এই জি-টু-জি প্রকল্পটির মাধ্যমে দুদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছালো।
প্রকল্পটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রায় ৭৭৬ একর (৩১৪.৩৯ হেক্টর) এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই বৃহৎ প্রকল্পের মাধ্যমে কেবল চট্টগ্রাম অঞ্চলেই ৩৬ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হবে, যা স্থানীয় যুবসমাজের ভাগ্যোন্নয়নে এক অভূতপূর্ব প্রভাব ফেলবে। তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের পাশাপাশি এই অঞ্চলে বায়ো-ফার্মাসিউটিক্যালস, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রসেসিং এবং চামড়াজাত পণ্যের মতো উচ্চ-মূল্যের শিল্প প্রতিষ্ঠিত হবে—যা বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে আরও বৈচিত্র্যময় ও শক্তিশালী করবে।
ভৌগোলিক ও লজিস্টিক দিক থেকে সিইআইজেড অত্যন্ত সুবিধাজনক স্থানে অবস্থিত উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এটি কর্ণফুলী টানেল থেকে মাত্র ৭০০ মিটার, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৬ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এন-১ জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ায় এর পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা হবে অত্যন্ত সহজ ও দ্রুত।
তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এখানে আন্তর্জাতিক মানের সেন্ট্রাল এফলুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি) ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে, যা টেকসই শিল্পায়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
বিনিয়োগকারীদের সার্বিক নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সিইআইজেড-এর সার্বিক নিরাপত্তা, নিরবচ্ছিন্ন পরিবহন করিডোর এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। একই সাথে বেজা-এর ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস (ওএসএস)’-এর মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে দ্রুত অনুমোদন ও গ্যাস-বিদ্যুতের মতো পরিষেবা নিশ্চিত করে একটি সহজ ও সমৃদ্ধ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞ সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য বেজা, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি), ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস এবং বিশেষ করে আনোয়ার ও চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই শিল্প অঞ্চলটি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার স্থায়ী অর্থনৈতিক ও বন্ধুত্বের এক টেকসই সেতু হিসেবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য সারোয়ার জামাল নিজাম এবং চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি)-এর ভাইস চেয়ারম্যান লি চাংগুই।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তৃতা দেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। সভাপতির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিসিসিএলের চেয়ারম্যান ওয়ানং পেইন-ছিয়েন। এছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
১০ দিন আগে
জাতীয় অগ্রাধিকারকে শক্তিশালী করলেই অংশীদারত্ব অর্থবহ হয়: ড. তিতুমীর
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, অংশীদারত্ব তখনই সবচেয়ে অর্থবহ হয়, যখন তা জাতীয় অগ্রাধিকারকে শক্তিশালী করে; প্রতিটি সহযোগিতার কেন্দ্রে বাংলাদেশের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের কল্যাণকে স্থান দেয়।
রবিবার (২৬ জুলাই) নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনএসইউ) সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্সের (এসআইপিজি) উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-চীন রিলেশনস: এনহ্যান্সড ট্রাস্ট অ্যান্ড নিউ ডিরেকশন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেমিনারে নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, গবেষক, চীন বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বেইজিং সফরের পর বাংলাদেশ কীভাবে নতুন কূটনৈতিক গতি ও পারস্পরিক আস্থাকে কূটনীতি, বাণিজ্য, সংযোগ, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার বাস্তব অর্জনে রূপ দিতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ড. তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশকে নিজের স্বনির্ভর উন্নয়নযাত্রা নিজেকেই এগিয়ে নিতে হবে এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক সম্মান, জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে।
তিনি মাল্টিমোডাল পরিবহন, চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, মংলা বন্দর সম্প্রসারণ এবং প্রস্তাবিত কুনমিং-চট্টগ্রাম সংযোগে চীনা অংশীদারত্বকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে সমাজভিত্তিক সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও গভীর করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র সচিব এইচ ই আসাদ আলম সিয়াম বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি সাম্প্রতিক চুক্তি, প্রটোকল, গণমাধ্যম সহযোগিতা এবং কৃষি, পানি নিরাপত্তা, সরবরাহ শৃঙ্খল, প্রযুক্তি ও বহুপাক্ষিক ফোরামে সহযোগিতার বিষয় উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো প্রতিশ্রুতি ও বিনিয়োগকে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উচ্চ-প্রভাবসম্পন্ন প্রকল্পে রূপান্তর করা।
বাংলাদেশে চীনের দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর মি. লি শাওপেং প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘অবকাঠামোর চেয়েও মানুষ গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদি মানুষে-মানুষে সম্পর্ক ভৌত সংযোগের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক আস্থা, আন্তর্জাতিক সমন্বয় এবং অভিন্ন উন্নয়নকে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার কেন্দ্রীয় ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, মানুষে-মানুষে সম্পর্ক, কারিগরি শিক্ষা, চীনা ভাষা শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্ব অবকাঠামোগত সংযোগের বাইরেও অত্যন্ত বেশি।
১১ দিন আগে
গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে চায় ঢাকা
গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে একাধিক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
বুধবার (২২ জুলাই) ফিলিপাইনের রাজধানীতে আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয় বলে একটি কূটনৈতিক সূত্র ইউএনবিকে জানিয়েছে।
৩৩তম আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তির (টিএসি) ৫০তম বার্ষিকী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড. খলিলুর রহমান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকগুলোতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও যোগাযোগ খাতের সহযোগিতাসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতেই দেশের বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনা করা হবে।
১৪ দিন আগে
বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় রেড ক্রিসেন্টকে ১ লাখ ডলার অনুদান দিল চীন
সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি সহায়তা কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে (বিডিআরসিএস) ১ লাখ মার্কিন ডলার মানবিক সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাস।
বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জাতীয় সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আনুষ্ঠানিকভাবে এ অনুদান হস্তান্তর করেন। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুস সালাম বিডিআরসিএসের পক্ষে অনুদান গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং কৃষিজমি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই দুর্যোগে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি চীনের জনগণ গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করছে।
তিনি বলেন, চীনা রেড ক্রস সোসাইটির পক্ষ থেকে আমরা আজ বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কাছে ১ লাখ ডলার জরুরি নগদ সহায়তা হস্তান্তর করছি। এই অনুদান বাংলাদেশের জনগণের প্রতি চীনা সরকার ও জনগণের আন্তরিক উদ্বেগ ও সংহতির বহিঃপ্রকাশ।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যখনই দুর্যোগ বা সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, তখনই চীন দ্রুততম সময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিবছর দুর্যোগ প্রস্তুতি বিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং বন্যা মোকাবিলার সরঞ্জাম দিয়ে বাংলাদেশের দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে আসছে চীন। গত বছর বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে উদ্ধারসামগ্রী প্রদান করা হয়েছিল, যা চলমান বন্যা মোকাবিলায় কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের প্রয়োজন অনুযায়ী মানবিক সহায়তা ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ প্রদান অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুস সালাম চীন সরকার, চীনের জনগণ এবং চীনা রেড ক্রস সোসাইটির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা চীন সরকার ও জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আমাদের স্বেচ্ছাসেবকেরা ইতোমধ্যে সবচেয়ে দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। চীনের এই সহায়তার মাধ্যমে আমরা জরুরি খাদ্য সহায়তা, বিশুদ্ধ পানি বিতরণ, অস্থায়ী আশ্রয়, হাইজিন কিট এবং চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করতে পারব।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের সংকটময় সময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রকৃত বন্ধুত্বের পরিচয় পাওয়া যায়। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পক্ষ থেকে আমরা চীন সরকার ও জনগণের প্রতি আবারও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। এই অনুদানের প্রতিটি ডলার সর্বোচ্চ দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করা হবে।
বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সূচনা করেছিলেন এবং পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মানবিক, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে একটি উপস্থাপনার মাধ্যমে বিডিআরসিএস চলমান বন্যা ও ভূমিধস মোকাবিলায় ২১ জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত জরুরি কার্যক্রম তুলে ধরে। এতে জানানো হয়, সংস্থাটি ইতোমধ্যে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরুরি তহবিল ছাড় করেছে। এছাড়া ২ হাজার ৫০০টির বেশি খাদ্য প্যাকেজ বিতরণ, ২২ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, ২ হাজারের বেশি মানুষকে চিকিৎসাসেবা প্রদান, ৩৭ হাজার লিটারের বেশি বিশুদ্ধ পানি বিতরণ, ১২টি রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা এবং ৩ হাজার ৫০০-এর বেশি স্বেচ্ছাসেবককে মাঠপর্যায়ে মোতায়েন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল কবির, ট্রেজারার ডা. আবু মো. মোফাখখারুল ইসলাম রানা, মহাসচিব ড. কবির মো. আশরাফ আলম এনডিসি, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের (আইএফআরসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তা, রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট মুভমেন্টের প্রতিনিধিসহ অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
১৫ দিন আগে
রোহিঙ্গা সংকট সমাধান, বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস চীনের
বাংলাদেশের উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত করতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানেও বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে দেশটি।
এ প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ের পদ্মা হলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক ঐতিহাসিক এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরও গভীর ও বহুমাত্রিক হয়েছে। স্বাধীনতার পর শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় দুই দেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় ভিত্তি লাভ করে। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চীন সফর এ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক কেবল রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এর বিস্তৃতি ঘটেছে। বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী চীনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন, উদ্যোক্তারা ব্যবসা সম্প্রসারণ করছেন এবং আধুনিক প্রযুক্তি দেশে এনে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছেন।
মন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও অর্থনীতিতে চীনের অভূতপূর্ব অগ্রগতি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সম্ভাবনা। চীনের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশের উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।
১৯ দিন আগে
বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৩০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে চীনা প্রতিষ্ঠান হুয়ারান টেক্স
চীনা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হুয়ারান টেক্স কোম্পানি লিমিটেড চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে টেক্সটাইল পণ্য উৎপাদন কারখানা স্থাপনে ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে।
৩৬ হাজার বর্গমিটার জমির ওপর স্থাপিতব্য কারখানাটি পূর্ণ উৎপাদনে গেলে বছরে ২৪ হাজার টন সুতা এবং দুই কোটি মিটার গ্রে ওভেন ফেব্রিক উৎপাদন করতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি এখানে ৫৮০ জন বাংলাদেশি নাগরিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সম্প্রতি (১৬ জুলাই) ঢাকার বেপজা কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) এবং হুয়ারান টেক্স কোম্পানি লিমিটেডের মধ্যে এ-সংক্রান্ত ভূমি ইজারা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন এবং হুয়ারান টেক্স কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিন ওয়াং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, জি, এমফিল।
অনুষ্ঠানে নির্বাহী চেয়ারম্যান বাংলাদেশ এবং বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলকে বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়ায় হুয়ারান টেক্স কোম্পানি লিমিটেডকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বেপজা বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ, আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রতিষ্ঠানটির সফল ও নির্বিঘ্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেপজার সদস্য (প্রকৌশল) আবদুল্লাহ আল মামুন, সদস্য (অর্থ) আ ন ম ফয়জুল হক, নির্বাহী পরিচালক (এন্টারপ্রাইজ সার্ভিসেস) মো. খুরশিদ আলম, নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) সমীর বিশ্বাস, বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ এনামুল হক, নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) এ এস এম আনোয়ার পারভেজসহ বেপজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং হুয়ারান টেক্স কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
১৯ দিন আগে
অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে সুযোগ শেষ হয়নি, অন্য দেশের জন্যও দরজা খোলা: চীনা রাষ্ট্রদূত
আঞ্চলিক সংযোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনকে নিয়ে অর্থনৈতিক করিডর গঠনে বেইজিং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে এ উদ্যোগে অন্য দেশগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগও রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকার চীনা দূতাবাসে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘এই সহযোগিতাই শেষ কথা নয়। আমরা উন্মুক্ত এবং অন্য দেশগুলো যদি প্রস্তুত থাকে, আমরা তাদেরও স্বাগত জানাই। তবে তারা এর অংশ হতে চায় নাকি আরও কিছু সময় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে চায়, তা সম্পূর্ণ তাদের সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে সঙ্গে নিয়ে অর্থনৈতিক করিডর গঠনে চীন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (বিসিআইএম) ফোরামের অধীনে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক করিডর ধারণার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, অর্থনৈতিক করিডর নির্মাণের বিষয়টি নতুন কিছু নয়। এর আগে বিসিআইএম অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে আলোচনা হলেও তাতে অগ্রগতি হয়নি।
তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, মিয়ানমারও এ ধরনের সহযোগিতা চায়। আমাদের তিন দেশ মিলে এই সংযোগ (অর্থনৈতিক করিডর) গড়ে তুলতে পারব।’
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে আঞ্চলিক সংযোগ জোরদার করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে কুনমিং থেকে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত বহুমাত্রিক (মাল্টিমোডাল) যোগাযোগ ব্যবস্থা জোরদার এবং চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও বলেন, এটি একটি সম্পূর্ণ সফল সফর। বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি মাইলফলক, যা সম্পর্ককে এক নতুন কৌশলগত উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ‘এ সফর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের উন্নয়নে শক্তিশালী গতি সঞ্চার করেছে। দুই দেশের মধ্যে নতুন মাত্রার পারস্পরিক আস্থা তৈরি হয়েছে।’
তিস্তা প্রকল্পে চীনের অবস্থান অপরিবর্তিত
তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প (টিআরসিএমআরপি) প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, এটি সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল, কারণ এ প্রকল্পের সঙ্গে লাখো মানুষের জীবিকা জড়িত।
তিনি বলেন, ‘তিস্তা বাংলাদেশের প্রকল্প। এটি আপনাদের প্রকল্প।’
ইয়াও ওয়েন জানান, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোয়িংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সম্পদ পরিকল্পনা, বন্যা প্রতিরোধ, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জনবল প্রশিক্ষণে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে চীন প্রস্তুত।
‘একটি বিষয় আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই—তিস্তা প্রকল্পের প্রতি চীনের প্রতিশ্রুতি অপরিবর্তিত রয়েছে,’ বলেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত জানান, তিস্তা প্রকল্পে চীন তাদের সক্ষমতার মধ্যে সহায়তা অব্যাহত রাখবে এবং সম্ভাব্যতা সমীক্ষাসহ সংশ্লিষ্ট কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা করবে।
নতুন কৌশলগত সংলাপ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা
রাষ্ট্রদূত বলেন, সফরের গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের মধ্যে রয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ চালু এবং কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক ‘২+২’ সংলাপ কাঠামো চালুর বিষয়ে আলোচনা। এই ব্যবস্থাগুলো দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত যোগাযোগের জন্য একটি শক্তিশালী এবং আরও স্থিতিশীল প্ল্যাটফর্ম প্রদান করবে।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক সর্বাত্মক এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা তারই একটি অংশ। তবে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় নিয়ে মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।
তিনি বলেন, দুই দেশ উচ্চপর্যায়ের সফর, সুশাসন বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সরকার, আইনসভা ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারে সম্মত হয়েছে।
জিডিআই ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক
রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন সবসময় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে এবং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী নীতিতে অবিচল রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব পরিস্থিতি যেমনই পরিবর্তিত হোক না কেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়ে চীন তার অঙ্গীকার থেকে সরে আসবে না। বাংলাদেশ সবসময় চীনের একজন বিশ্বস্ত বন্ধু, ভালো প্রতিবেশী এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদার থাকবে।’
তিনি জানান, গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (জিডিআই)-এর ‘গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস’-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছে চীন এবং এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক কার্যকর করতে একসঙ্গে কাজ করবে।
‘নতুন যুগের অভিন্ন ভবিষ্যতের কমিউনিটি’
ইয়াও ওয়েন বলেন, এই সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো বাংলাদেশ-চীনের বিদ্যমান সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বকে উন্নীত করে ‘নতুন যুগের অভিন্ন ভবিষ্যতের চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি’ গঠনের সিদ্ধান্ত।
তার ভাষায়, এটি এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে চীনের সম্পর্কের সর্বোচ্চ স্তরের কাঠামো।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তারেক রহমানের প্রথম চীন সফর। একই সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন সরকার গঠনের পর দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও বলেন, ‘দুই দেশের নেতারা আন্তরিক ও ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন। তারা গুরুত্বপূর্ণ নতুন ঐকমত্যে পৌঁছেছেন এবং আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ, পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার বার্তা দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। আমাদের দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পরবর্তী ‘স্বর্ণালী ৫০ বছরে’ পদার্পণের এই লগ্নে, আমাদের নেতাদের অর্জিত ঐকমত্য বাস্তবায়নে চীন বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, তারা যৌথভাবে এই ফলাফলগুলোকে দৃশ্যমান অর্জনে রূপান্তর করবেন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে শক্তিশালী গতি আনবেন, যা দুই দেশ ও জনগণের জন্য আরও বড় কল্যাণ বয়ে আনবে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বাংলাদেশ ও চীন ১৭টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে, যার মধ্যে রয়েছে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), চুক্তি, একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা এবং একটি কৃষি বাণিজ্য প্রোটোকল।
পাশাপাশি গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (জিডিআই) বাস্তবায়নে একটি সমঝোতা স্মারক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে বিনিময় ও সহযোগিতাবিষয়ক আরেকটি সমঝোতা স্মারকও সই হয়।
৩৫ দিন আগে
হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে দেশে ফেরানোর চেষ্টা চলছে: শামা ওবায়েদ
জুলাই অভ্যুত্থানকেন্দ্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বুধবার (১ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
এদিন শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন কোনো আপডেট নেই। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।
‘অবশ্যই একজন আসামি, যিনি অন্যায় করে, অপরাধ করে আরেক দেশে অবস্থান করছেন এবং যার বিচার হয়েছে, যিনি সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাকে আমরা দেশে ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশের মাটিতে সেই বিচার সম্পন্ন করতে চাই। বাংলাদেশের জনগণও সেটাই চায়। সেই লক্ষ্যেই কাজ চলছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।’
পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, গত ১৭ বছরে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে জানিয়েছেন যে, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে ১০টি দেশের কাছে বাংলাদেশ অনুরোধ জানিয়েছে। যেসব দেশে অর্থ পাচার হয়েছে, সেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
তিনি বলেন, ‘এটা রাতারাতি হওয়ার মতো কোনো বিষয় নয়। এটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে আমরা মনে করছি, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যে চুক্তিগুলো হয়েছে এবং আলোচনা চলছে, সেগুলোর মাধ্যমে আমরা একধাপ এগিয়েছি। বাংলাদেশের জনগণের পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আমরা একধাপ এগিয়েছি। সেই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ও ‘টু প্লাস টু’ প্রস্তাব
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, ‘চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সবসময়ই ভালো ছিল। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে তারা আমাদের অত্যন্ত শক্তিশালী অংশীদার। প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর আমরা আশা করছি, চীনা বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন নতুন বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসবে।’
চীনের প্রস্তাবিত ‘টু প্লাস টু’ সংলাপ এবং অর্থনৈতিক করিডর (ইকোনমিক করিডর) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সবসময় বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা এবং তাদের চাহিদাকে সামনে রেখেই পরিচালিত হবে। যদি আমরা দেখি এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য উপকারী এবং জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনীয়, তাহলে অবশ্যই আমরা তা বিবেচনা করব।’
‘টু প্লাস টু’ সংলাপের প্রস্তাব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও চীনের প্রেসিডেন্টের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং সরকার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে চীনের মন্তব্য যে ‘এ সম্পর্ক নিয়ে তৃতীয় কোনো পক্ষের মাথা ঘামানোর সুযোগ নেই’, এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, সব দেশের সঙ্গেই আমাদের সম্পর্ক স্বতন্ত্র। চীনের সঙ্গে যেমন সম্পর্ক থাকবে, তেমনি অন্যান্য দেশের সঙ্গেও থাকবে। আমরা মনে করি না, এক দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক হলে আরেক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হবে। সব দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রেখে বাংলাদেশের স্বার্থ হাসিল করাই আমাদের লক্ষ্য।’
তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা
তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) নিয়ে তিনি বলেন, সমীক্ষাটি এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।
তিনি বলেন, ‘ফিজিবিলিটি স্টাডির জন্য যে কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন, চীন তা দিতে সম্মত হয়েছে। শুধু তিস্তা নয়, বাংলাদেশে নদী ব্যবস্থাপনার আরও অনেক বিষয় রয়েছে। সেসব ক্ষেত্রেও সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় তারা সহায়তা করতে চায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি এখনও শেষ হয়নি, শুরু হয়েছে। আগে যেখানে কাজ থেমে ছিল, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের পর সেখান থেকেই এটি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’
অর্থনৈতিক করিডর
মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশ-চীন প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি এখনও বিশ্লেষণাধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এটি বিশ্লেষণ করছি। যদি অর্থনৈতিক করিডরের মাধ্যমে যোগাযোগ সহজ হয়, তাহলে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে। তবে এতে কোনো জটিলতা বা সমস্যা আছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি প্রস্তাব। আমরা প্রস্তাবটিকে সাধুবাদ জানাই, কারণ এটি বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক হতে পারে। তবে বাস্তবে এটি কতটা কার্যকর হবে বা কোনো জটিলতা তৈরি করবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এ সময় সাংবাদিকরা জানতে চান, অতীতে ভারতের উদ্যোগে করিডোর নিয়ে যেভাবে আলোচনা হয়েছিল, তখন একটা ভিন্ন পেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল। বর্তমান প্রস্তাব নিয়েও তেমন কোনো জটিলতা তৈরি হতে পারে কি না।
জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো বিশ্লেষণ করছে এবং তাদের মূল্যায়নের ভিত্তিতেই সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
ভারতের বিভিন্ন থিঙ্ক ট্যাংকের মন্তব্য প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘ভারতের থিঙ্ক ট্যাংক কী বলছে, সেটা ভারতকেই জিজ্ঞেস করা যায়। এ বিষয়ে আমাদের মন্তব্য করার কিছু নেই।’
৩৫ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর চীন-মালয়েশিয়া সফরের অর্জন নিয়ে যা জানাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরে বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্জন করেছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করা, তিস্তা প্রকল্পে অগ্রগতি, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরুর আশ্বাস, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) আলোচনা ত্বরান্বিতকরণ এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার মতো বিষয়।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
চীন সফরে নতুন উচ্চতায় সম্পর্ক, তিস্তা ও আঞ্চলিক সংযোগে অগ্রগতি
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সম্মেলনে বিশ্বের উদীয়মান শক্তিগুলোর অন্যতম প্রতিনিধি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অগ্রণী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
ডব্লিউইএফের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ফোরামের বার্ষিক সভায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপনের প্রস্তাব দেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন ডব্লিউইএফের সিইও।
চীন সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ‘সার্বিক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব’ (কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপ) থেকে ‘অভিন্ন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-চীন সম্প্রদায়’ (চায়না-বাংলাদেশ কমিউনিটি উইথ অ্যা শেয়ার্ড ফিউচার) পর্যায়ে উন্নীত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ চালু এবং কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ‘২+২ ডায়ালগ মেকানিজম’ চালুর বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে। পাশাপাশি ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই)-এর আওতায় বড় ও ছোট জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও সম্মতি হয়েছে।
৪০ দিন আগে