আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস
সশস্র বাহিনীর মর্যাদা রক্ষায় পেশাদারিত্ব, ঐক্য ও শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্ব দিলেন প্রধানমন্ত্রী
দেশের ভেতরে ও বাইরে সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অতীতের অপচেষ্টার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব, ঐক্য, শৃঙ্খলা ও কমান্ড চেইন বজায় রেখে বাহিনীর সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার (১০ জুন) ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সময়ে বিভ্রান্তি তৈরি এবং দেশে-বিদেশে বাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হলেও বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তাদের ভূমিকার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন এবং আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশকে পর্যায়ক্রমে আধুনিকায়নের কাজ করে যাচ্ছে।
তারেক রহমান বলেন, ‘ইউনিফর্মধারী বাহিনীর জন্য মূল বার্তা হলো—পেশাদারিত্ব, ঐক্য, শৃঙ্খলা এবং চেইন অব কমান্ড ছাড়া সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা কঠিন।’
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সামরিক বাহিনী দেশের স্বাধীনতা, সম্মান ও সাহসের প্রতীক। এ সময় বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘সেনাবাহিনীর একজন মেজর বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। আমি বিশ্বাস করি, এই গৌরব ও অহংকার আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য চিরন্তন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তাই এই সম্মান যেন কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন না হয়, তা নিশ্চিত করা সশস্ত্র বাহিনীর কর্তব্য।’
২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিডিআর বিদ্রোহের সময় সশস্ত্র বাহিনী যে ‘বড় ধাক্কা’ খেয়েছিল, তার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই ঘটনার পরিণতি দেশবাসীর ভালো করেই জানা আছে।
তিনি বলেন, কেবল অতীতের দিকে তাকিয়ে থাকার পরিবর্তে, একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও পূর্ণ সততার সঙ্গে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, যারা সশস্ত্র বাহিনী, সরকার বা জনপ্রশাসনে কাজ করছেন, তারা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। এই দেশ আমাদের সবার। আমরা দেশে বা বিদেশে যেখানেই কাজ করি না কেন, আজ আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত সঠিকভাবে এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা।
বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্ব এখন একটি জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং দ্রুত প্রযুক্তির উন্নতির কারণে শান্তিরক্ষা মিশনগুলো আরও ঝুঁকিপূর্ণ ও বহুমুখী হয়ে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত যুদ্ধ ছাড়াও সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, গণমাধ্যম প্রচারণা এবং জলবায়ু-জনিত নিরাপত্তা ঝুঁকি বৈশ্বিক শান্তির জন্য নতুন বাধা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন যে ভবিষ্যতের শান্তিরক্ষা মিশনগুলোকে আরও আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তি-ভিত্তিক হতে হবে।
তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শান্তি, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা এবং মানবতার প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার নীতিতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।
সরকারপ্রধান বলেন, ‘একটি স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা এবং মানবতার প্রতি সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা তাদের আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব এবং কর্তব্যপরায়ণতার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী সম্মান অর্জন করেছে। শান্তিরক্ষা মিশনের প্রতিটি সদস্য বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে এবং বিদেশে দেশের সম্মান বয়ে নিয়ে বেড়ায়।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, ২ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী ৪৩টি দেশে ৬৩টি মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন, অন্যদিকে বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ জন শান্তিরক্ষী ১০টি মিশনে নিয়োজিত রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, হাইতিতে একটি নতুন মিশনের প্রস্তুতি চলছে।
তিনি নারী শান্তিরক্ষীদের অবদানেরও প্রশংসা করে বলেন, জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশের কন্টিনজেন্টের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য, যারা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে সাহসের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
৫ দিন আগে
জাতিসংঘ মিশনে শান্তিরক্ষার দায়িত্ব পালন একটি নিয়মিত চ্যালেঞ্জ: সালেহউদ্দিন
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন ব্যাপক চ্যালেঞ্জিং বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। বৈরী পরিবেশ, অপরিচিত পরিস্থিতি এবং সাংস্কৃতিক পার্থক্যের মধ্যে শান্তিরক্ষীদের এই কঠিন কাজ করতে হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এবারের শান্তিরক্ষী দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘শান্তিরক্ষার ভবিষ্যৎ’।
ড. সালেহউদ্দিন বলেন, ‘সবসময় চ্যালেঞ্জ ও অনিশ্চয়তার জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়, পাশাপাশি, আপনাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে সবসময় সজাগ থাকতে হবে।’
বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘তারা দেশের শান্তিপ্রিয় ও উন্নয়নশীল ভাবমূর্তি বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশ শুধু নিজের জন্য নয়, বরং বিশ্বের প্রতিটি কোণে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
আরও পড়ুন: ভিন্ন আঙ্গিকে ২ জুন বাজেট উপস্থাপন
শান্তিরক্ষীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনে আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, ‘প্রযুক্তি শেখা একটি চলমান প্রক্রিয়া—এটি চালিয়ে যেতে হবে, এটিও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার শান্তিরক্ষীদের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি ও সহায়তা নিশ্চিত করবে।’
অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব রুহুল আলম সিদ্দিক এবং জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গোয়েন লুইস বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে প্রাণ হারানো সদস্যদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
ড. সালেহউদ্দিন জাতিসংঘ মিশনে আহত দুই শান্তিরক্ষীর—সৈনিক মো. আলআমিন হোসেন ও কনস্টেবল মাহমুদুল হক—হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। এ সময় তিনি ‘শান্তিরক্ষী জার্নাল’ উদ্বোধন করেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন মিশনে কর্মরত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময় করেন।
৩৮২ দিন আগে