পুশ ইন
পুশ ইনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ভারতকে সতর্কবার্তা আলালের
ঢাকা, ১৪ জুন (ইউএনবি)— পুশ ইনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ভারতকে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে।
রবিবার (১৪ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
আলাল বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে ভরসার জায়গা হচ্ছে সীমান্তে বিজিবির যদি পাঁচজন সদস্য থাকেন, বাংলাদেশের পাঁচ হাজার সাধারণ মানুষ উপস্থিত থেকে পুশ ইন প্রতিহত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বিএসএফের (ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী) সঙ্গে কোনো ভারতীয় নাগরিককে দেখা যায় না। বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ এই পুশ ইন প্রতিরোধ করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ভারতকে অবিলম্বে এটা বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অতিথিপরায়ণ। কেউ এ দেশে এলে তাকে বরণ করে নেওয়া হয়। তবে কেউ যদি দীর্ঘদিন থাকতে চায়, তাহলে তাকে বিদায় করার উপায়ও এ দেশের মানুষ জানে।
ভারতের উদ্দেশে আলাল বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতা বাংলাদেশের মানুষ স্বীকার করে। তবে ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও রাশিয়া টিকে থাকতে পারেনি। বাংলাদেশে ঢোকা অত্যন্ত সহজ, বাংলাদেশ থেকে বের হওয়া এর চেয়ে কষ্টকর।
সীমান্তে ‘পুশ ইন’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে যদি এত আগ্রহ থাকে, তাহলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠিয়ে দেওয়া যেতে পারে, কারণ তার বাড়ি বরিশালে। তাকে সম্মানের সঙ্গে আতিথ্য দেওয়া হবে। আমরা আপনাদের মতো আচরণ করি না।
ভারতে ধর্মের নামে বিভাজন সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির চেয়ারম্যানের এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘আপনারা ওখানে ধর্মের নামে বিভাজন সৃষ্টি করছেন। সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর যে অত্যাচার আপনারা করছেন, এটা সারা বিশ্বে আজ নিন্দিত হচ্ছে।’
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ অগ্রাধিকার পাবে বলে উল্লেখ করেন মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হবে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে, অগ্রগণ্য রেখে, সম্মানের সঙ্গে। তারপর হবে বন্ধুত্ব। এটা শুধু ভারত নয়, পৃথিবীতে যত দেশ আছে, সবার ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের মর্যাদা সামনে রেখে তারপরে কূটনীতি পরিচালিত হবে। সে কারণে প্রধানমন্ত্রী তারক রহমান বারবার সব জায়গায় বলেন, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ সবার আগে যদি বাংলাদেশ হয়, তাহলে আজ যারা বিভিন্নভাবে নানা রকমের চক্রান্ত, বুদ্ধি, দুর্বুদ্ধি, কুবুদ্ধি করছে, সেটা সফল হবে না।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত প্রমুখ।
৫ দিন আগে
নেত্রকোণা সীমান্তে ৩২ জনকে পুশ ইন বিএসএফের
নেত্রকোণার সীমান্তবর্তী উপজেলা দুর্গাপুরের বিজয়পুরের জংখল এলাকা দিয়ে ৩২ জনকে পুশ ইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)
মঙ্গলবার (৩ জুন) দিবাগত রাত ৩টার দিকে বিএসএফের পুশইন রকা ৩২ জন আটক করে বিজিবি। এদের মধ্যে ৯ জন পুরুষ, ২২ জন মহিলা ও একজন শিশু রয়েছেন।
৩২ জন পুশইনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নড়াইল জেলার কালিয়া থানাধীন ১১ জন। তারা হলেন- মো. রমজান আলী (১৮), নুর ইসলাম সরদার (৪২), আলম সরদার (১৮), মিরাজগাজী (২৩), রোজিনা বানু (৩৫), ছামিরা গাজি (১৪), সিরাজ গাজী (২২), ফনুফা (২০), মাসুদ সরদার (৯), মরিয়ম (১২) ও নাসরিন বেগম (৩২)।
খুলনা জেলার বৈইটাঘাটনা থানার মো. শাকিল ইজাদ্দার (২২), মোসা. সোনিয়া (১৯) ও হালিমা ইজ্জাদার (০২) এবং একই জেলার রূপসা থানার মোসাম্মাৎ কবিতা খাতুন (২০), মোসাম্মাৎ এলিনা বেগম (৩০)।
আরও পড়ুন: সিলেট সীমান্তে ২২ জনকে পুশ ইন করল বিএসএফ
তিনজন করে বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোর জেলার। তারা হলেন- বাগেরহাটের রামপাল থানার মোসাম্মাৎ হাসনা খাতুন (২৫), মোংলা থানার মোসাম্মাৎ মাহমুদা বেগম (২৮) ও কচুয়া থানার ইভা শেখ (১৮)। সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া ধানার মোসম্মাৎ টুম্পা খাতুন (২২), মোসাম্মাৎ সায়েরা খাতুন (৩০) ও আসমা খাতুন (২৮) এবং যশোর জেলার মনিরামপুর থানার মোসাম্মাৎ তানিয়া খাতুন (২৬), মোসাম্মাৎ রেখা খাতুন (২৬) ও ঝিকরগাছা থানার মোসাম্মাৎ পরভিনা শেখ (৩০)।
ঢাকা জেলার দুজন দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার ফাতেমা (২৫) ও ডেমরা থানার রিতা আক্তার (৩০)। এছাড়া একজন করে রয়েছেন দিনাজপুরের কোতোয়ালী থানার মো. জাকারিয়া (৩০), টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানার, মোসাম্মাৎ সাবিনা বেগম (৩৫), শেরপুরের নকলা থানার মো. মনঞ্জুরুল ইসলাম (৩৭), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থানার জাহানারা বেগম (৪০) এবং জামালপুরের মেলান্দহ থানার জুথি আক্তার (১৭)।
বিজিবি’র নেত্রকোণা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল আওয়াল এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, পুশ ইন করার ব্যক্তিদের বাড়ি টাঙ্গাইল, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর নড়াইল, ঢাকা, জামালপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, খুলনা, শেরপুর ও দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায়। তাদের দুর্গাপুর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনে তিনজন ভারতীয়সহ পুশ ইন করা ৭৮ জন উদ্ধার
৩৮০ দিন আগে