পদ্মা সেতু
পদ্মা সেতুর ‘ক্যাশলেস’ টোল আদায় ১০ কোটি টাকা ছাড়াল
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন পদ্মা সেতুতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থাপনা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের মাইলফলক অর্জন করেছে। চলতি বছরের ২৬ জুলাই পর্যন্ত ইটিসির মাধ্যমে মোট টোল আদায় হয়েছে ১০ কোটি ৮ লাখ ২৪ হাজার ৬০০ টাকা, যা ১০ কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
এছাড়া, পদ্মা সেতুতে নিয়মিত যাতায়াতকারী দূরপাল্লার বাস, বাণিজ্যিক ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়িসহ ইটিসিতে নিবন্ধিত মোট যানবাহনের সংখ্যা ১ হাজার ৮টিতে উন্নীত হয়েছে। এই পরিষেবা চালুর পর থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত মোট ৫৬ হাজার ৪০৬টি যানবাহন ইলেকট্রনিক উপায়ে (ক্যাশলেস) টোল প্রদান করে নির্বিঘ্নে সেতু অতিক্রম করেছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এই যুগান্তকারী অর্জন উপলক্ষে সেতু বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা আনয়নের লক্ষ্যে এবং ইটিসির মাধ্যমে যানবাহনের টোল আদায় করতে, জনগণকে স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীর সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনা, নিবিড় তদারকি এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শের কারণে পদ্মা সেতুতে আধুনিক অটোমেটেড টোল কালেকশন ব্যবস্থা অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
সেতু সচিব আরও বলেন, ‘ইটিসি সিস্টেমে ১০ কোটি টাকার বেশি টোল সংগ্রহ এবং ১ হাজারের বেশি যানবাহন নিবন্ধিত হওয়া শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি দেশের গণপরিবহন খাতকে প্রযুক্তিবান্ধব ও ক্যাশলেস করার ক্ষেত্রে এক বিরাট সাফল্য ও অগ্রগতি। আমি এই অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, কারিগরি অংশীদার, পরিবহন মালিক সমিতি এবং আস্থা রাখা সকল সেতু ব্যবহারকারীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই।’
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সেতু ব্যবহারকারীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে পদ্মা সেতুর টোল আদায় প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত সহজ ও দ্রুততর করা হয়েছে। যেকোনো গ্রাহক ‘ট্যাপ’, ‘বিকাশ’, ‘নগদ’, ‘উপায়’-এর মতো জনপ্রিয় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের মোবাইল ও ডিজিটাল ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে অতি সহজেই টোল পরিশোধ করতে পারছেন। এর ফলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে নগদ টাকায় লেনদেনের ভোগান্তি পুরোপুরি নিরসন হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের অ্যাপ এবং ট্রাস্ট ব্যাংকের TAP অ্যাপ, মিডল্যান্ড ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের অ্যাপের মাধ্যমে পদ্মা সেতুর টোল পরিশোধ করা যাচ্ছে।
ব্যবহারকারীরা সংশ্লিষ্ট অ্যাপে ‘D-Toll’ অপশনের অধীনে ‘মোটরযান রেজিস্ট্রেশন করুন’-এ প্রবেশ করে গাড়ির নম্বর এবং চেসিস নম্বরের শেষ ৪ (চার) ডিজিট প্রদান করে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারবেন। নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর ‘D-Toll Top-Up’ সেবার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অর্থ রিচার্জ করতে হবে। এরপর প্রথমবারের জন্য পদ্মা সেতুর মাওয়া টোল প্লাজার নিকটস্থ রেজিস্ট্রেশন বুথ অথবা টোল বুথে গিয়ে বিআরটিএ অনুমোদিত RFID ট্যাগ যাচাইয়ের মাধ্যমে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
একবার নিবন্ধন সম্পন্ন হলে ব্যবহারকারীরা ইটিসি লেন ব্যবহার করে নির্বিঘ্নে পদ্মা সেতু পারাপার করতে পারবেন। ইটিসি ব্যবহারের জন্য BRTA কর্তৃক প্রদত্ত RFID ট্যাগ সচল থাকলেই হবে, পৃথক কোনো RFID ট্যাগের প্রয়োজন নেই।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রুটে চলাচলকারী শীর্ষস্থানীয় বাস অপারেটর—ইমাদ পরিবহন, দোলা পরিবহন, সার্বিক পরিবহন, গোল্ডেন লাইন পরিবহনসহ অসংখ্য বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত যানবাহনের মালিকরা ইতোমধ্যে ইটিসি সুবিধা ব্যবহার করছেন।
ইটিসি লেনে চলাচলকারী যানবাহনগুলো টোল প্লাজায় থামতে হয় না, বরং প্রায় ৬০ কিলোমিটার/ঘণ্টা গতিসীমার মধ্যে থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল পরিশোধ করে নির্বিঘ্নে অতিক্রম করতে পারে। ফলে টোল প্লাজায় অপেক্ষমাণ সময় শূন্যে নেমে এসেছে। এছাড়া, ঈদের মতো ব্যস্ত সময়গুলোতেও প্লাজা এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে না। যানবাহন না থামার কারণে অতিরিক্ত জ্বালানি অপচয় রোধ হচ্ছে, গাড়ি স্টপ-অ্যান্ড-গো না হওয়ায় কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাচ্ছে—যা টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত হচ্ছে ।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, পদ্মা সেতুর এই ইটিসি মডেলটি দেশের সামগ্রিক মহাসড়ক ও সেতু ব্যবস্থাপনায় এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে পদ্মা সেতুর শতভাগ টোল আদায়কে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার আওতায় আনার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য প্রধান সেতুসমূহ, এক্সপ্রেসওয়ে, টানেলেও ইটিসির মাধ্যমে ক্যাশলেস ব্যবস্থা চালুর প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সকল পরিবহন মালিক ও চালকদের দ্রুততম সময়ে নিজ নিজ যানবাহনে ইটিসি নিবন্ধন সম্পন্ন করার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছে এবং জনগণের জন্য আরও দ্রুত, নিরাপদ ও বিশ্বমানের আধুনিক সড়ক সেবা নিশ্চিত করতে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।
২ দিন আগে
পদ্মা সেতুতে চার বছরে টোল আদায় ৩৪২৯ কোটি, ২৫১৬ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ
উদ্বোধনের পর থেকে চলতি বছরের ২৯ জুন পর্যন্ত পদ্মা সেতু দিয়ে ২ কোটি ৬৮ লাখ ৬২ হাজার ৮০৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময়ে টোল বাবদ আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৪২৯ কোটি ৪৫ লাখ ২৫ হাজার ৫৫০ টাকা। আদায় হওয়া টোল থেকে সরকারের ঋণের ১৬টি কিস্তিতে ২ হাজার ৫১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৩০ হাজার ৭৭০ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত পদ্মা সেতু ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধনের পরদিন থেকে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এরপর থেকে সেতুটি দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
এতে বলা হয়, ২৯ জুন পর্যন্ত সেতু দিয়ে মোট ২ কোটি ৬৮ লাখ ৬২ হাজার ৮০৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময়ে টোল বাবদ মোট ৩ হাজার ৪২৯ কোটি ৪৫ লাখ ২৫ হাজার ৫৫০ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। একই সময়ে আদায় করা টোল থেকে সরকারের কাছে ঋণের ১৬টি কিস্তিতে মোট ২ হাজার ৫১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বর্তমানে কোনো কিস্তি বকেয়া নেই।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও অর্থ বিভাগের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী ১ শতাংশ সুদে ৩৫ বছরের মধ্যে মোট ৩৬ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। বছরে চার কিস্তি হিসেবে মোট ১৪০ কিস্তিতে এ অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এছাড়া টোল থেকে ভ্যাট বাবদ এখন পর্যন্ত ৪৩৬ কোটি ৭ লাখ ৭৪ হাজার ২২১ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, ‘২০০২ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে পদ্মা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়। ওই সময়ের সমীক্ষা, নকশা ও মাওয়া-জাজিরা অ্যালাইনমেন্ট অনুমোদনের ফলে পরবর্তী সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ সহজ হয়।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে পদ্মা সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক, স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে চলছে।’ আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সরকারের সব ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ইউনিফায়েড ন্যাশনাল ইটিসি (ইউএনইএফ) ফ্রেমওয়ার্কসহ বিভিন্ন জনবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়নে সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে।
২৯ দিন আগে
ঈদযাত্রায় পদ্মা ও যমুনা সেতুতে টোল আদায় ও যানবাহন পারাপারে রেকর্ড
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপের মধ্যে পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতুতে টোল আদায় ও যানবাহন পারাপারে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১৭ থেকে ১৯ মার্চ—এই তিন দিনে পদ্মা সেতু দিয়ে ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৮২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ লাখ ৮০২টি। একই সময়ে টোল আদায় হয়েছে ১৩ কোটি ২১ লাখ ৫১ হাজার ৮০০ টাকা, যা ২০২৫ সালে ছিল ১২ কোটি ৭৮ হাজার ৪০০ টাকা।
অন্যদিকে, যমুনা সেতুতে ১৮ মার্চ এক দিনে সর্বোচ্চ ৫১ হাজার ৩৮৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৪৮ হাজার ৩৬৮টি। একই দিনে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৫১ লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা, যা ২০২৫ সালে ছিল ৩ কোটি ৪৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৫০ টাকা।
সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিক ও সহজ করতে কাজ চলমান রয়েছে। আসন্ন ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছে।
তিনি জানান, যানবাহনের চাপ বাড়লেও এবার বড় কোনো দুর্ঘটনা বা দীর্ঘ যানজট দেখা যায়নি, যা সমন্বিত ব্যবস্থাপনার সফলতা নির্দেশ করে।
ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে নেওয়া পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে সার্বক্ষণিক টোল লেন চালু, দক্ষ টোল কালেক্টর নিয়োগ, মোটরসাইকেল লেন বৃদ্ধি, নন-স্টপ ইটিসি (ETC) চালু, উন্নত ট্রাফিক মনিটরিং, জরুরি সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা, রেকার মোতায়েনসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা ইত্যাদি।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব উদ্যোগের ফলে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক ও সুশৃঙ্খল হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলেও এ সময় উল্লেখ করা হয়।
১৩১ দিন আগে
পদ্মা সেতুর তিন বছরপূর্তি আজ
পদ্মা সেতুর মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ দুয়ার খুলে যাওয়ার তিন বছরপূর্তি আজ বৃহস্পতিবার। ২০২২ সালের এই দিনে বহুল প্রতিক্ষীত পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এরপর এই তিন বছরে ১ কোটি ৯৪ লাখ ৭১ হাজার ৬৯২টি যান পারাপারে ২ হাজার ৫০৪ কোটি ৬৭ লাখ ৬২ হাজার ৮০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে।
সেতুর উপর তলায় সড়ক পথ ও আর নিচ দিয়ে ছুটছে ট্রেন। রাতদিন দ্রুতবেগে পদ্মার ওপর দিয়ে চলছে ট্রেন ও সড়ক পথের যাত্রা।
পদ্মা সেতুর ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধন হলেও পরদিন ২৬ জুন এই দিনে পদ্মা সেতুতে যান চলাচল শুরু হয়। পরের বছর ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পদ্মা সেতুর রেলপথের উদ্বোধন হয়। পদ্মা সেতু হয়ে চালু হয় ঢাকা-ভাঙ্গা নতুন রেল নেটওয়ার্ক।
পরে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর পদ্মা সেতুর রেল লিঙ্ক প্রকল্প পুরোপুরি চালু হয়। সেদিন রাজধানী ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু দিয়ে ভাঙ্গা হয়ে নতুন পথে নড়াইল ও যশোর অতিক্রম করে খুলনা পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এর ফলে রাজধানী থেকে মাত্র সাড়ে ৩ ঘণ্টায় খুলনা ও বেনাপোল পৌছানো যাচ্ছে।
খুলনার বিউটি আক্তার বলেন, ঢাকা থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টায় খুলনা যাওয়া যাবে—এটা আমরা কোনো দিন ভাবতেও পারিনি।
বেনাপোলের হাবিবুর রহমান বলেন, পদ্মা সেতুর প্রভাব এখন পুরো দক্ষিণ-পশ্চিামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।
পদ্মা সেতুর দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ বলেন, কোনো বিড়ম্বনা ছাড়াই টানা দিন বছর সেতুতে নিরবিচ্ছিন্নভাবর যান পারাপার হচ্ছে। এটি একটি বড় মাইলফলক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানিয়েছে, পদ্মা সেতু চালুর তিন বছরে মোট ১ কোটি ৯৪ লাখ ৭১ হাজার ৬৯২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর মধ্যে মাওয়া দিয়ে প্রবেশ করে ৯৬ লাখ ৭১ হাজার ১১২ টি যান, আর ৯৮ লাখ ৫৮০টি যান জাজিরা প্রান্ত দিয়ে পদ্মা সেতুতে প্রবেশ করে। মাওয়া থেকে ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৬৮টি বেশি যান জাজিরা প্রান্ত দিয়ে প্রবেশ করে পদ্মা সেতু অতিক্রম করেছে।
আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় বিলুপ্ত প্রজাতির ৬৭ কচ্ছপ উদ্ধার
গত ৫ জুন পদ্মা সেতুতে এক দিনে রেকর্ড পরিমান ৫ কোটি ৪৩ লাখ ২৮ হাজার টাকার টোল আদায় হয়েছে। এই ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫২ হাজার ৪৮৭টি যানবাহন পারাপার হয়। পদ্মা সেতুতে একদিনে সর্বোচ্চ টোল আদায় ও যানবাহন পারাপারের নতুন রেকর্ড এটি।
এর আগে ২০২২ সালের ২৬ জুন পদ্মা সেতুর যান চলাচলের শুরুর দিনে সর্বোচ্চ ৫১ হাজর ৩১৬টি যানবাহন পারাপারের রেকর্ড ছিল। আর ২০২৪ সালের ৯ এপ্রিল ঈদুল ফিতরের আগে সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড ছিল ৪ কোটি ৮৯ লাখ ৯৪ হাজার ৭০০ টাকা।
প্রকৌশলী আবু সায়াদ জানান, সেতু চালুর প্রথম বছর ৫৬ লাখ ৯৪ হাজার ৮৯৯টি যানবাহন পারাপারে টোল আদায় হয়েছে ৭৯৮ কোটি ৬০ লাখ ৯৩ হাজার ৭০০ টাকা। দ্বিতীয় বছর ৬৮ লাখ ১ হাজার ৩৭৪টি যানের বিপরীতে টোল পাওয়া যায় ৮৫০ কোটি ৪৩ লাখ ৫৬ হাজার ৩৫০ টাকা। আর তৃতীয় বছর ২৫ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত ৬৯ লাখ ৯৫ হাজার ২২৯টি যান পারাপারে টোল আদায় হয়েছে ৮৬১ কোটি ২২ লাখ ১৮ হাজার ৮৫৯ টাকা।
মূল পদ্মা সেতু ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ। তবে অ্যাপ্রোচসহ এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ কিলোমিটার।
সেতু নিরাপত্তাসহ ট্রাফিক আইন মেনে পদ্মা সেতুতে যানাবাহানের নিবিঘ্নে চলাচলে সেতু এবং দুই প্রান্তের সড়কজুড়ে অত্যাধুনিক ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সেতুতে যানবাহানের গতিও বৃদ্ধি করে দুই পাড়ের এক্সপ্রেসওয়ের মতই ঘণ্টায় সর্বোচ্চ গতি করা হয়েছে ৮০ কিলোমিটার।
৩৯৯ দিন আগে
পদ্মা সেতু হয়ে বেনাপোল-ঢাকা রুটে মঙ্গলবার চালু হচ্ছে ‘রূপসী বাংলা’
পদ্মা সেতু হয়ে বেনাপোল-ঢাকা রুটে ‘রূপসী বাংলা’ এক্সপ্রেস নামে ট্রেন চলাচল শুরু হবে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) থেকে এই ট্রেন চলাচল করবে। ট্রেনটি পৌনে ৪ ঘণ্টায় বেনাপোল থেকে ঢাকায় পৌঁছাবে।
মঙ্গলবার যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম বেনাপোল রেলস্টেশন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল উদ্বোধন করবেন।
বেনাপোল রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. সাইদুজ্জামান বলেন, ‘রূপসী বাংলা’ প্রতি সাপ্তাহে সোমবার বন্ধ থাকবে। বর্তমানে ট্রেনযোগে ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল-ঈশ্বরদী হয়ে বেনাপোল যেতে ৭ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট সময় লাগে।
আরও পড়ুন: মেঘনায় জাহাজে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭
পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-বেনাপোল রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হলে যাত্রীদের বেনাপোল থেকে ঢাকা যেতে প্রায় ৪ ঘণ্টা সময় বাঁচবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বেনাপোল থেকে ৮২৭/৮২৮ ‘রূপসী বাংলা’ এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে সকাল পৌঁনে ১১টায় ছেড়ে দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে বেনাপোল পৌঁছাবে। বিকাল সাড়ে ৩টায় ছেড়ে সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে ঢাকা পৌঁছাবে।
এছাড়া ট্রেনটি যশোর জংশন, নড়াইল, কাশিয়ানী জংশন ও ভাঙ্গা জংশন থেকে যাত্রী ওঠাবে বলেও জানান ওই স্টেশন মাস্টার।
৫৮৩ দিন আগে
ডিসেম্বরের শুরুতে পদ্মা সেতু হয়ে ট্রেন চালুর আশা
পদ্মা সেতু হয়ে পরীক্ষামূলক শেষ ট্রেনটি খুলনা পৌঁছেছে। রবিবার (২৪ নভেম্বর) দুপুর ১টা ১০ মিনিটে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে ঢাকা থেকে খুলনা স্টেশনে পৌঁছায় ট্রেনটি।
১২টি বগি নিয়ে সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে নড়াইল হয়ে খুলনা পর্যন্ত পরীক্ষামূলক ট্রেনের এটি তৃতীয় ট্রায়াল ছিল।
পরীক্ষামূলক ট্রেনে যাত্রী হিসেবে ছিলেন রেলপথ বিভাগের সচিব আবদুল বাকি, রেলওয়ের মহাপরিচালক সরদার শাহাদাত হোসেন, রেলওয়ের পশ্চিম অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মামুনুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ট্রেনটি খুলনায় গিয়ে পৌঁছালে রেলপথ বিভাগের সচিব ও রেলওয়ের মহাপরিচালককে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন খুলনা রেল স্টেশনের কর্মকর্তারা-কর্মচারীরা।
রেলপথ বিভাগের সচিব আবদুল বাকি বলেন, ‘প্রথমে আমরা এই অঞ্চলের যাত্রী ও জনসাধারণকে ধন্যবাদ জানাই। তারা অনেকদিন ধরে অপেক্ষায় আছে। আমরা সফলভাবে তিনটি ট্রায়াল সম্পন্ন করেছি।’
আরও পড়ুন: ১১ দিন পর খুলনা-বেনাপোল-মোংলা কমিউটার ট্রেন চালু
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখলাম, (এই যাত্রায়) তিন ঘণ্টা ৪৫ থেকে ৫০ মিনিট সময় লেগেছে। আমাদের সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও টেকনিক্যাল কর্মকর্তাদের সবাই উপস্থিত ছিলেন। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাণিজ্যিকভাবে এ রুটে ট্রেনের যাত্রা শুরু করার আশা করছি আমরা।’
রেলওয়ের মহাপরিচালক সরদার শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-খুলনা রুটে কতটি ট্রেন চলবে তা এখনও চূড়ান্ত করতে পারিনি। আমাদের পর্যাপ্ত কোচের সংকট রয়েছে। ফলে চাহিদা তা পূরণ করতে হলে সমন্বয় করে চালাতে হবে। সীমিত সম্পদ নিয়ে মানুষকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করব আমরা।’
জানা গেছে, ফরিদপুরের ভাঙ্গা জংশন থেকে যশোরের পদ্মবিলা স্টেশন পর্যন্ত ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলবে। পদ্মবিলা থেকে সিঙ্গিয়া হয়ে খুলনা পর্যন্ত ৭৫ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলার কথা রয়েছে।
পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ডিসেম্বরের শুরুতে ঢাকা-ভাঙ্গা-যশোর-খুলনা রুটে বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ার কথা।
এর আগে, ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আংশিক খুলে দেওয়া হয়। তখন ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার রেলপথ চালু হয়। এবার ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত আরও ৮৭ কিলোমিটার যোগ হচ্ছে। এতে সরাসরি ঢাকা থেকে যশোরের ১৬৯ কিলোমিটার রেল যোগাযোগ চালু হতে যাচ্ছে।
ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা-নড়াইল-যশোর হয়ে নতুন রেলপথে খুলনায় যাবে ট্রেন। ঢাকা থেকে রেলপথে খুলনার দূরত্ব কমবে।
আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ঢাকা রুটে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন চালু
৬১২ দিন আগে
পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-যশোর-বেনাপোল রুটে ২ ডিসেম্বর থেকে চলবে ট্রেন
সোমবার (২ ডিসেম্বর) থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-যশোর-বেনাপোল রেলপথে ট্রেন সেবা চালু হবে।
বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) পদ্মা রেল লিংকের প্রকল্প পরিচালক মো. আফজাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলনা থেকে আগামী ২ ডিসেম্বর সকাল ৬টায় কমলাপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। একইদিন বেলা ১১টার দিকে বেনাপোল এক্সপ্রেস কমলাপুর থেকে বেনাপোলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।’
এছাড়া ঢাকা থেকে বেনাপোল মোট যাত্রার সময় হবে আনুমানিক সাড়ে ৩ ঘণ্টা বলে জানান পদ্মা রেল লিংকের প্রকল্প পরিচালক আফজাল হোসেন।
তিনি আরও বলেন, ‘নবনির্মিত ব্রডগেজ সিঙ্গেল লাইন রেল ট্র্যাকটি রূপদিয়া ও সিংগিয়া হয়ে খুলনাগামী রেল ট্র্যাককে সংযুক্ত করেছে।’
এছাড়া সরকার ৩৭ হাজার ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কমলাপুর থেকে রূপদিয়া ও সিংগিয়া স্টেশন পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ করেছে বলে জানান পদ্মা রেল লিংকের প্রকল্প পরিচালক।
আরও পড়ুন: নাটোরে ট্রেনে কাটা পড়ে কৃষকের মৃত্যু
বাংলাদেশ রেলওয়ের সরকারি পরিদর্শক (জিআইবিআর) ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত লাইনের পরিদর্শন শেষে এ অগ্রগতির কথা জানান।
আফজাল হোসেন বলেন, যা ব্যয়ের দিক থেকে রেলওয়ের জন্য সবচেয়ে বড় প্রকল্প। ব্যয়ের অর্ধেকেরও বেশি ঋণ সহায়তা হিসেবে দিচ্ছে চীন।
এছাড়া গত বছরের অক্টোবরে এ লাইনের ঢাকা-ভাঙ্গা সেকশন চালু হয় এবং এ সেকশনে পাঁচটি ট্রেন চলাচল করছে বলে জানান তিনি।
ইন্ডিয়া বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের ডাইরেক্টর মতিয়ার রহমান জানান, পদ্মা সেতু হয়ে বেনাপোলগামী রেললাইনটি চালু হলে ঢাকা থেকে যশোরের দূরত্ব ২০০ কিলোমিটার কমে যাবে, যা ভ্রমণের সময় অর্ধেকে নামবে।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ডাউন লাইন দিয়ে চলাচল স্বাভাবিক
বর্তমানে যশোর যেতে সময় লাগে আট ঘণ্টার বেশি। রেলটি চালু হলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক অগ্রগতি হবে বলে জানান তিনি।
৬১৪ দিন আগে
পদ্মা সেতু প্রতিবাদের ভাষা, বাঙালির উন্নয়নের প্রতীক: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আব্দুর রহমান বলেছেন, স্বপ্নের পদ্মা সেতু আজ শুধু পদ্মা সেতুই নয়, এই সেতু আজ প্রতিবাদের ভাষা ও বাঙালি জাতির উন্নয়নের প্রতীক।’
ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা লেক উন্নয়ন প্রকল্পের (প্রথম সংশোধিত) কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে শনিবার (১৩ জুলাই) দুপুরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী একথা বলেন।
আরও পড়ুন: মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ প্রাণিসম্পদ খাতের উপর সরাসরি নির্ভরশীল: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী
তিনি বলেন, ‘নিজস্ব অর্থায়নে এই পদ্মা সেতু দিয়েই শেখ হাসিনা প্রমাণ করে দিয়েছিলেন যে, বিশ্ব মোড়লের ধার এই বাঙালি জাতি কখনো ধারে না, কখনো ধারবেও না।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ফরিদপুরবাসীর স্বপ্ন পূরণের রাস্তা সুগম হবে খুব শিগগিরই। শেখ হাসিনা ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে টেপাখোলা লেক সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এই লেককে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠবে ফরিদপুরের নতুন উপশহর। এছাড়া ফরিদপুরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন খুব শিগগিরই পূরণ হতে চলেছে। আমি এখনই তা প্রকাশ করতে চাই না।’
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে ফরিদপুর—২ আসনের সংসদ সদস্য আয়মন আকবর চৌধুরী লাবলু, ফরিদপুর—৩ আসনের সংসদ সদস্য এ কে আজাদ, ফরিদপুর—৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ঝর্ণা হাসান, এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শহিদুল হাসান, ফরিদপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুজ্জামান খান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী বাকাহিদ হোসেন, টেপাখোলা লেক উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক সাজ্জাদ আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক, সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আরিফ, পৌর মেয়র অমিতাভ বোস উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ২০৪১ সালে ৮৫ লক্ষ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাংলাদেশের: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী
দেশীয় পশু দিয়েই কোরবানি হবে: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী
৭৪৬ দিন আগে
পদ্মা সেতু দেশকে বিশ্বে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ায় বিশ্বে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ। এটি দেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মানসিকতায় পরিবর্তন এনেছে।
তিনি বলেন, ‘এখন নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্তের পর এবং এই সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশের মানুষ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গর্বের সঙ্গে চলতে পারবে। এটাই সবচেয়ে বড় অর্জন।’
আরও পড়ুন: আমরা আমাদের দরজা বন্ধ রাখতে পারি না: ভারতকে ট্রানজিট দেওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী
শুক্রবার (৫ জুলাই) পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জে নাগরিক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আগে যারা মনে করত তাদের ছাড়া বাংলাদেশ চলতে পারবে না, তাদের মানসিকতা পরিবর্তন হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এই পদ্মা সেতু আমাদের গর্ব..... এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম শুনলেই মানুষ সম্মান করে। বাংলাদেশের জনগণকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশ উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে উঠবে।
তিনি বলেন, ‘পথে যত বাধাই আসুক না কেন, সব বাধা অতিক্রম করে আমরা অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাব। জাতির পিতার আদর্শ বাস্তবায়ন করে আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’
আরও পড়ুন: চীনে ৮-১০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর ঘোষণা বেইজিংয়ের
বাংলাদেশ-স্পেনের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
৭৫৪ দিন আগে
পদ্মা সেতুর ঋণ পরিশোধ বাবদ ৩১৫ কোটি টাকার চেক গ্রহণ করলেন প্রধানমন্ত্রী
পদ্মা সেতু নির্মাণে নেওয়া ঋণ পরিশোধের সপ্তম ও অষ্টম কিস্তি বাবদ ৩১৫ কোটি টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে।
বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) গণভবনে পদ্মা সেতুর জন্য ঋণের সপ্তম ও অষ্টম কিস্তি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৩১৪ কোটি ৬৪ লাখ ৮৬ হাজার ৯৬৩ টাকার চেক হস্তান্তর করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
এসময় আরও ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, অর্থ সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এম নাঈমুল ইসলাম খান।
সপ্তম ও অষ্টম কিস্তি নিয়ে সেতু বিভাগ প্রথম আট কিস্তি বাবদ অর্থ বিভাগকে এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে।
গত ৫ এপ্রিল পদ্মা সেতু থেকে টোল আদায় বাবদ অর্জিত রাজস্ব থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে ৩১৬ কোটি ৯০ লাখ ৯৭ হাজার ৫০ টাকা দিয়ে ঋণ পরিশোধ শুরু করে সেতু বিভাগ।
২০২২ সালের ২৫ জুন থেকে ২০২৪ সালের ২৬ জুন পর্যন্ত পদ্মা সেতু থেকে টোল বাবদ ১ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা আদায় হয়েছে।
নিজস্ব অর্থায়নে ৩২ হাজার ৬০৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হয়।
নির্মাণ তহবিলের প্রায় পুরোটাই অর্থ বিভাগ থেকে স্বল্প সুদে ঋণ হিসেবে নিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। ঋণ পরিশোধের সময়সূচি অনুযায়ী ৩৫ বছরে ১৪০ কিস্তিতে (৪ কিস্তি) এ ঋণ পরিশোধ করা হবে।
২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা নদীর ওপর দেশের সর্ববৃহৎ ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
৭৬২ দিন আগে