মাইলস্টোন দুর্ঘটনা
মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় বোন হারানো সেই তাহসিনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর দিকে দুহাত বাড়িয়ে দেওয়া এক কিশোরের হাসিমাখা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে জানা যায়, ছবির সেই কিশোর তাহসিন আব্দুল্লাহ, ২০২৫ সালের মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় বড় বোনকে হারিয়ে যে হাসতে ভুলে গিয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছবিটির পেছনের বেদনাদায়ক গল্প জানার পর তাহসিন ও তার পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২৯ জুলাই) বাবা নাজমুল হককে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে তাহসিন।
বর্তমানে সপ্তম শ্রেণিতে পড়া তাহসিনের পরিবারে নার্সারিতে পড়ুয়া আরও একটি ছোট বোন রয়েছে।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তাহসিনের লেখাপড়া, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ব্যক্তিগত আগ্রহ সম্পর্কে খোঁজ নেন। জবাবে তাহসিন জানায়, বড় হয়ে সে একজন সফল ব্যবসায়ী হতে চায়। পাশাপাশি এমন কিছু করতে চায়, যার মাধ্যমে মানুষের উপকার হবে এবং মানুষ আকৃষ্ট হবে।
৭ দিন আগে
সাহসী শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরীর নামে চালু হবে জাতীয় পুরস্কার
উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় নিজের জীবন উৎসর্গ করে শিক্ষার্থীকে বাঁচানো সাহসী শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরীর নামে জাতীয়ভাবে একটি পুরস্কার চালু করবে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
আরও পড়ুন: উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক: স্বল্প মেয়াদে ১৬ সুপারিশ বাস্তবায়ন, বাস্তবায়নাধীন ৮৫
তিনি বলেন, 'মাইলস্টোন ট্রাজেডি নিয়ে আবার আলোচনা হয়েছে। সেখানে যারা মারা গেছেন, বিশেষ করে দুজন টিচার ও একজন আয়া, তাদের বিশেষ কি সম্মাননা দেওয়া যায়, সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সামনে আপনারা এটার সিদ্ধান্তটা জানতে পারবেন।'
প্রেস সচিব বলেন, 'মাহেরীন চৌধুরী বীরত্ব ও সাহস দেখিয়েছেন ওনার স্কুলের শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে। তিনি নিজের জীবনকে আত্মদান করেছেন। উনার নামে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটা জাতীয় পুরস্কার ঘোষণা করবে খুব শিগগিরই। এই পুরস্কারের নাম হবে মেহরিন চৌধুরী অ্যাওয়ার্ড ফর আউটস্ট্যান্ডিং সার্ভিসেস। এটা শুধু শিক্ষকদের দেওয়া হবে।'
৩৬৪ দিন আগে
মাইলস্টোনে বিমান বিধ্বস্ত: আরও দুজনের মৃত্যু, নিহত বেড়ে ৩৫
উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩৫ জনে।
শনিবার (২৬ জুলাই) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে জারিফ ফারহান নামের ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী মারা যায় বলে জানান স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন। পরে সোয়া দশটার দিকে মাসুমা নামের আরেক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
নিহত জারিফ মাইলস্টোন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শ্বাসনালীসহ শরীরের ৪০ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে সে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিল।
বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন শুক্রবার বিকালে জানিয়েছিলেন, চিকিৎসাধীন পাঁচ শিক্ষার্থীর অবস্থা ‘আশঙ্কাজনক’। এরপর আজ সকালেই এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর কথা জানানো হয়।
অন্যদিকে, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মাসুমা নামের ওই নারীর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
দুজনের মৃত্যুর কথা ঘোষণা করা হলেও লাশদুটি এখনও তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: মাইলস্টোনে বিমান বিধ্বস্ত: শিক্ষার্থী মাকিনের মৃত্যু, নিহত বেড়ে ৩৩
এ নিয়ে বার্ন ইনস্টিটিউটে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১৬ জনে, আর সবমিলিয়ে এ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলো ৩৫ জনের।
সোমবার দুপুরে বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনের মুখে বিধ্বস্ত হয়। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই সামরিক বিমান দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত যে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের বেশিরভাগই শিশু।
অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দীনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বার্ন ইনস্টিটিউটের অনেকেই ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। সুস্থ ১৫ জনকে আজ শনিবার থেকেই ছাড়পত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
৩৭৬ দিন আগে
উত্তরার বিমান দুর্ঘটনায় নিহত অজ্ঞাত শিশুদের পরিচয় শনাক্ত করল সিআইডি
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত অজ্ঞাত পাঁচ শিশুর পরিচয় ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে শনাক্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডি জানায়, গত ২২ জুলাই ঢাকা সিএমএইচে রক্ষিত অজ্ঞাত মৃতদেহ ও দেহাংশ থেকে তাদের ডিএনএ ল্যাবের সদস্যরা ১১টি নমুনা সংগ্রহ করেন। এসব নমুনা বিশ্লেষণ করে পাঁচজন নারীর ডিএনএ প্রোফাইল শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে, এসব প্রোফাইল ৫টি ভিন্ন পরিবারের ১১ জন সদস্যের দেওয়া ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মেলানো হয়। এতে পাঁচজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
শনাক্ত হওয়া পাঁচ নারী হলেন— মো. ফারুক হোসেন ও সালমা আক্তার দম্পতির মেয়ে কিয়া ফেরদৌস নিধি (পিএম নম্বর: ৬২৫)।
মো. বাবুল ও মাজেদা দম্পতির মেয়ে লামিয়া আক্তার সোনিয়া (পিএম নম্বর: ৬২৬, ৬৩১, ৬৩২, ৬৩৩–এম৯, এম১০, এম১১)।
মো. আব্বাস উদ্দিন ও মোসা. মিনু আক্তার দম্পতির মেয়ে আফসানা আক্তার প্রিয়া (পিএম নম্বর: ৬২৭, ৬২৮)।
মো. শাহাবুল শেখ ও মিসেস মিম দম্পতির কন্যাসন্তান রাইসা মনি (পিএম নম্বর: ৬২৯)।
মো. আব্দুল কাদির ও উম্মে তামিমা আক্তার দম্পতির মেয়ে মারিয়াম উম্মে আফিয়া (পিএম নম্বর: ৬৩০)।
সিআইডি সূত্রে আরও জানা যায়, বিমান দুর্ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে অজ্ঞাত পরিচয় মৃতদের শনাক্তে কাজ করে যাচ্ছে সংস্থাটি। নিহতদের লাশ পুড়ে যাওয়ায় চেহারা দেখে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে আত্মীয়দের দেওয়া ডিএনএ নমুনার ভিত্তিতে এই প্রোফাইলিং করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আরও কয়েকজনের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ বিশ্লেষণের কাজ চলছে। শনাক্তদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও শুরু হবে দ্রুত।
আরও পড়ুন: উত্তরায় যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩০
৩৭৭ দিন আগে
মাইলস্টোনের ঘটনাকে পুঁজি করে আ. লীগ পুনর্গঠিত হচ্ছে: হাসনাত আব্দুল্লাহ
মাইলস্টোনের ঘটনাকে পুঁজি করে আওয়ামী লীগ আবার পুনর্গঠিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এসসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম মাইলস্টোনের ঘটনাকে পুঁজি করে আওয়ামী লীগ আবার পুনর্গঠিত হচ্ছে।’
হাসনাত বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বান করব, বাংলাদেশের স্বার্থে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়ামী লীগকে মোকাবেলা করতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের জাতীয় বীর আব্দুল কুদ্দুস মাখন পৌর মুক্তমঞ্চে জুলাই পদযাত্রা পরবর্তী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
এর আগে দুপুর পৌনে ১২টায় জেলা শহরের রেলগেইট এলাকা থেকে পদযাত্রা শুরু করেন এনসিপি নেতারা।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, অতীতের শাসকরা আমাদের একটি ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দিয়ে গেছে। আপনি রাস্তায় বের হন, বাসে চাপা পড়ে মরবেন। আপনি হাসপাতালে যান, চিকিৎসার অভাবে মারা যাবেন। বিমান দুর্ঘটনায় মারা যাবেন, লঞ্চ দুর্ঘটনায় মারা যাবেন। বাংলাদেশে একটি স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তার অবস্থা আমাদের দিয়ে যায়নি। এই রাষ্ট্রের কাছে, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আমরা স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা চাই।
আরও পড়ুন: হাসিনা অধ্যায় শেষ, আ. লীগ কখনো ফিরবে না: হাসনাত আব্দুল্লাহ
তিনি আরও বলেন, আমরা চেয়েছিলাম একটি পুনর্গঠিত রাষ্ট্র ব্যবস্থা। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে আমাদের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন ইংরেজিতে অনার্স, বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী হচ্ছেন বাংলায় অনার্স। যারা দক্ষ এবং যোগ্য মানুষ ছিল—তাদের সরকারে বসিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে দেখিয়ে দেওয়া উচিত ছিল স্বাস্থ্যব্যবস্থা কেমন হওয়া উচিত। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়-আমরা দেখেছি একটা ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, একটা অযোগ্য স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে দিয়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পরিচালনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে কি কোনো ডাক্তার ছিল না?
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেনন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম আহবায়ক আশরাফ মাহদি প্রমুখ।
এছাড়াও পদযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাছির উদ্দিন পাটোয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
৩৭৭ দিন আগে
বিমান দুর্ঘটনার বিষয়ে গুজব ছড়ানো গুরুতর অপরাধ: আইন উপদেষ্টা
উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনার তথ্য প্রচারে সরকার পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখাসহ জনসাধারণের বিভ্রান্তির কারণ হতে পারে—এমন গুজব প্রতিরোধের গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সবকিছু অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে। গণমাধ্যম স্বাধীন ও শক্তিশালী রয়েছে।’
ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘সত্য না জেনে দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে গুজব ছড়ানো একটি বড় অপরাধ।’
তিনি সরকারকে সহনশীল বর্ণনা করে দায়িত্বশীল, তথ্য-ভিত্তিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে ভুল তথ্য রোধের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, সরকারের তথ্য চ্যানেল সকলের জন্য উন্মুক্ত এবং ব্যবহারযোগ্য— যার মাধ্যমে জনগণ সঠিক তথ্য জানতে পারে।
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ সম্পর্কে মন্তব্য করে আইন উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা পরিস্থিতি নিয়ে খুবই সহযোগিতা করেছেন।
তবে তিনি স্বীকার করেন কিছু ব্যক্তি রাগ বা হতাশা প্রকাশ করতে পারেন। তারা এটিকে বড় করে দেখেন না বলেও উল্লেখ করেন আইন উপদেষ্টা।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এসময় উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকছে না দলীয় প্রতীক: উপদেষ্টা আসিফ
সোমবার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে মর্মান্তিক সামরিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। সবশেষ আজ বৃহস্পতিবার ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা গেছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, মাহতাব নামে নিহত কিশোরের ৮৫ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় ছিল। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
এছাড়াও, ৫৬ জন আহত ব্যক্তি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে ৪৪ জন বার্ন ইনস্টিটিউটে, ২১ জন ঢাকা সিএমএইচে, একজন কুয়েত বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ সরকারি হাসপাতালে, একজন শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও একজন উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এর আগে বুধবার সরকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিচয় প্রকাশ
৩৭৭ দিন আগে
মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনা: সন্ধ্যায় ঢাকায় আসছে চীনের মেডিকেল টিম
অন্তর্বর্তী সরকারের অনুরোধে পাঁচজন পোড়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সের সমন্বয়ে গঠিত একটি চীনা জরুরি চিকিৎসক দল আজ সন্ধ্যায় ঢাকায় আসছেন।
ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) এই তথ্য জানিয়েছে।
চিকিৎসক দল প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা ও আহতদের দেখতে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে যাবেন।
আরও পড়ুন: উত্তরায় যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩০
আজ সকালে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে চীনের ইউনান প্রদেশ জরুরিভাবে কুনমিং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকেন্ড অ্যাফিলিয়েটেড হসপিটালের বিশেষজ্ঞদের একটি দলকে বাংলাদেশের জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সঙ্গে একটি দূরবর্তী ভিডিও পরামর্শ করার আয়োজন করে।
সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সামরিক বিমান দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বেশ কয়েকজন রোগীর অবস্থা মূল্যায়ন ও যৌথভাবে চিকিৎসা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করে চীনা বিশেষজ্ঞ দল ও বাংলাদেশি চিকিৎসকরা।
৩৭৮ দিন আগে
উত্তরায় যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩০
উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ১৫ বছর বয়সী এক ছেলে মারা গেছেন।
মৃতদেহের পরিচয় মাহতাব হিসেবে জানা গেছে। তিনি ৮৫ শতাংশ দগ্ধ ছিলেন এবং বৃহস্পতিবার দুপুর ১:৫২ মিনিটে হাসপাতালের আইসিইউতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন, জানায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
আরও পড়ুন: মাইলস্টোনে নিহত দুই শিক্ষককে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্ত
এদিকে, ৫৬ জন আহত ভুক্তভোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪৪ জন বার্ন ইনস্টিটিউটে, ২১ জন ঢাকা সিএমএইচ-এ, একজন কুয়েত বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ গভর্নমেন্ট হাসপাতালে, একজন শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং একজন উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
সরকার বৃহস্পতিবার সকালেই বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিচয় প্রকাশ করেছে।
৩৭৮ দিন আগে
বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা কম দেখানোর কোনো কারণ নেই: প্রেস সচিব
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিধ্বস্ত হওয়া বিমানের দুর্ঘটনা নিয়ে হতাহতের সংখ্যা ঘিরে ছড়ানো ভুয়া তথ্যকে উড়িয়ে দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, হতাহতের সংখ্যা কম দেখানোর সরকারের কোনো কারণ নেই।
বুধবার (২৩ জুলাই) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন হতাহতের সংখ্যা গোপন রাখা প্রায় অসম্ভব।
তিনি লিখেছেন, ‘২০০২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আমি বহু বড় ধরনের দুর্যোগ কভার করেছি। অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, বাংলাদেশে হতাহতের সংখ্যা গোপন রাখা কার্যত অসম্ভব। প্রথমদিকে পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জন নিখোঁজ হিসেবে জানায়, পরে হাসপাতাল বা কর্তৃপক্ষ থেকে তথ্য এলে তারা স্বজনদের অবস্থান জানতে পারে। এই ঘটনার ক্ষেত্রেও মাইলস্টোন কলেজ প্রতিদিনের হাজিরা খাতা যাচাই করে অনুপস্থিতদের শনাক্ত করতে পারবে।’
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের অবস্থা নিয়ে নিয়মিত তথ্য জানাচ্ছে, সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও সহযোগিতা করা হচ্ছে। ‘আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি, হতাহতের সংখ্যা কম দেখানোর সরকারের কোনো প্রয়োজন নেই।’
আরও পড়ুন: নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা নেই: প্রেস সচিব
তিনি লেখেন, ‘আমরা মাইলস্টোন কলেজে গিয়েছিলাম নিহতদের পরিবারের সদস্য এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে, যারা এখনো এই শোক থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। চারদিকে ভারী শোকাবহ পরিবেশ ছিল। অনেকে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছে এবং মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদনে ক্ষোভ জানিয়েছে।’
ঘটনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রেস সচিব জানান, দুই উপদেষ্টা স্কুল কর্তৃপক্ষকে ক্যাম্পাসে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, এই কন্ট্রোল রুম থেকে নিয়মিত আহত ও মৃতের তথ্য জানানো হবে, যা স্কুলের উপস্থিতির তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে প্রকাশ করা হবে।
প্রেস সচিব জানান, উপদেষ্টারা সুপারিশ করেছেন যাতে বর্তমান শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন ছাত্ররা কন্ট্রোল রুমের কাজে যুক্ত থাকে। ‘আমরা আশা করছি, এটি আজ থেকেই সম্পূর্ণরূপে কার্যকর হবে।’
‘আমরা গতকাল (মঙ্গলবার) নয় ঘণ্টা স্কুলে ছিলাম। চাইলে আগে বেরিয়ে আসতে পারতাম, কিন্তু উপদেষ্টারা শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে ছিলেন। প্রয়োজন হলে আরও দীর্ঘ সময় থাকতেন, আমরা তখনই বেরিয়েছি যখন সেটি যথাযথ মনে হয়েছে,’ বলেন প্রেস সচিব।
শফিকুল আলম বলেন, যেসব শিক্ষক-শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা। এই বিমান দুর্ঘটনাকে তিনি জাতীয় শোক হিসেবে অভিহিত করে নিহতদের শহীদ হিসেবে বর্ণনা করেন।
‘আসুন, আমরা একসঙ্গে কাজ করি যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে। বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আকাশপথে শূন্য দুর্ঘটনার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে,’ যোগ করেন তিনি।
৩৭৯ দিন আগে
রাজশাহীতে পাইলট তৌকিরের দাফন সম্পন্ন
রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় প্রাণ হারানো বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার তৌকির ইসলামের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার(২২ জুলাই) বিকাল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্টেডিয়ামে জানাযা শেষে পাশেই সপুরা কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে ঢাকায় তার জানাযা সম্পন্ন হয়। বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের পাইলট ছিলেন তিনি।
নিহত তৌকিরের মামা রফিকুল ইসলাম বলেন, সোমবার মৃত্যুর খবর শোনার পর তৌকিরের পরিবারের সদস্যদের ঢাকায় নেওয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকায় প্রথম জানাজা শেষে হেলিকপ্টারে তার লাশ রাজশাহীতে নেওয়া হয়।
দ্বিতীয় দফায় রাজশাহী উপশহর ঈদগাহ মাঠে তার জানাজা হয়। এরপর বিকালে সপুরা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
তিনি আরও জানান, তৌকিরের মৃত্যুতে শোকের আবহ পুরো রাজশাহী নগরীজুড়ে। সকাল থেকেই ভাড়া বাসায় ভিড় জমাতে শুরু করেছেন স্বজনরা। তৌকিরের বন্ধু-বান্ধবসহ পরিচিতরা তার রুহের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।
জেলা প্রশাসন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন দোয়ার আয়োজন করেছে।
৩৭৯ দিন আগে