মাদক কারবারি
মাদক ব্যবসায়ীদের নিত্যনতুন কৌশলে অসহায় লালমনিরহাট প্রশাসন
কঠোর অবস্থান নিয়েও মাদক পাচার ও ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা জেলা লালমনিরহাটে। মাদকের হটস্পটের কলঙ্ক ঘুচতে পারছে না প্রশাসন। নিত্যনতুন কৌশলে সীমান্তের মাদক সারাদেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীরা। হাতের কাছে মাদক পেয়ে ধ্বংস হচ্ছে জেলার যুবসমাজ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার পাশ দিয়ে ২৮১ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। যার মধ্যে কিছু সীমান্ত রয়েছে কাঁটাতারের বেড়াহীন। কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও চোরাচালানে থেমে নেই পাচারকারীরা। বিভিন্ন কৌশলে কাঁটাতারের বেড়া ভেদ করে রাতের আঁধারে ভারত থেকে পাচার হয়ে আসছে ভারতীয় মদ, হিরোইন, ফেন্সিডিল, গাঁজা, ইয়াবা, টাপেন্টারসহ নানান জাতের মাদকদ্রব্য। প্রথমে পাচারকারীরা ভারত থেকে নিয়ে এসে সীমান্তঘেঁষা আস্তানায় রাখে। এরপর সুযোগ মতো ছড়িয়ে দেয় সারা দেশে।
সীমান্তের গ্রামগুলোতে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। সন্ধ্যা হলে এসব গ্রামে বহিরাগত মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। চা পানের দোকানে, বিভিন্ন সড়কের মোড়ে ও স্টেশনে ছদ্মবেশে বিক্রি হচ্ছে মাদক। এসব ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন চিহ্নিত কিছু ব্যবসায়ী। এদের সঙ্গে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি দলের নেতা-কর্মীদেরও সখ্যতা বেশ।
স্থানীয়রা জানান, জেলার আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার কিছু পয়েন্ট হয়ে উঠেছে মাদক পাচারের নিরাপদ রুট। যেখান দিয়ে ভারতীয় মদ ঢুকে পড়ে বাংলাদেশে। ২০২১ সালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল ইউনিয়নে স্থাপন করা হয় একটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র। এরপর থেকে অভিযান বাড়লেও বন্ধ হয়নি মাদক। প্রশাসনের কঠোর অবস্থানেও যেন টিকেই আছে শক্তিশালী মাদক নেটওয়ার্ক।
গোড়ল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নুরল আমিন বাদশার বিরুদ্ধে রয়েছে ১৪টি মাদক মামলা। স্ত্রী, ছেলে ও ভাইয়ের বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক মাদক মামলা। তবুও তিনি এলাকায় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি। বাদশা বলেন, একটা সময় মাদকের ব্যবসা করতাম। পরে ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু পুলিশ এখনও হয়রানি করে।
চন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আলো ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মাদক মামলা। তাদের মূল পেশা মাদক ব্যবসা।
নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে কিছুটা কমেছে মাদকদ্রব্য পাচার ও বিক্রি। ঈদকে সামনে রেখে আবারও বেপরোয়া হচ্ছে মাদক পাচার চক্র। তবে কঠোর নজরদারিতে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে প্রশাসন।
লালমনিরহাটে দফায় দফায় পুলিশি অভিযান, একের পর এক মামলা করেও কমছে না মাদক। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ, পুলিশের রাতভর অভিযান সবই ব্যর্থ হয়ে পড়ছে প্রভাবশালী মাদক চক্রের কাছে। লালমনিরহাটের সীমান্তঘেঁষা গ্রামগুলো যেন এক অদৃশ্য অন্ধকারে আটকে গেছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ২০টি মাদক মামলায় ২২ জন মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ।
এসব মামলায় যাবজ্জীবন সাজাও দিচ্ছেন আদালত। তবুও মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। মাদক নিয়ন্ত্রণে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর প্রতি তাগিদ দিচ্ছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স্কুল-শিক্ষক সঞ্জয় কুমার বলেন, অনেককে দেখেছি, মাদক ব্যবসা ছেড়ে ভালো হতে ওসি-এসপির হাতে ফুল দিয়ে শপথ করেছেন। তারা কিছুদিন ভালো থাকলেও ওইসব এসপি-ওসির বদলির পরে পুনরায় আগের পেশায় ফিরে গেছেন। তাই, আত্নসমর্পনে কোনো কাজ হবে না। মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে আইনের যথার্থ প্রয়োগ করতে হবে।
কলেজ-শিক্ষক তাপষ কুমার পাল বলেন, মাদক পাচার রোধ করতে হবে। হাতের কাছে মাদক পেয়ে অনেকের আসক্তির সুযোগ থাকে। অপরদিকে, যারা গ্রেপ্তার হচ্ছেন তারা যেন সাজাভোগ ছাড়া কোনোভাবে ফাঁকফোকর দিয়ে বেড়িয়ে না যায়, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। অনেক দেখেছি, মাদকের মামলায় হাজত থেকে বেড়িয়ে পুনরায় দ্বিগুণ গতিতে মাদক পাচারে ঝুঁকে পড়ছে। কারণ, মামলা হলে তার খরচ রয়েছে, যার অর্থ যোগান দিতেও অনেকেই পেশা বদল করছেন না।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম সাফওয়ান হোসেন বলেন, মাদক যুবসমাজকে ধ্বংস করছে। জুমার খুতবাতে মাদক নিয়ে আলোচনা করা হয়। মুলত, সচেতনতা বাড়াতে না পারলে এসব সামাজিক ব্যাধি শুধু আইন দিয়ে বন্ধ করা যায় না। তবে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরে মাদকের দৌড়াত্ম্য কিছুটা কমেছে।
লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, নির্বাচন-পূর্ব আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় মাদকের অভিযান কিছুটা কম ছিল। তাই সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে মাদকের প্রাদুর্ভাব কিছুটা বাড়লেও নির্বাচন পরবর্তীতে নতুন কৌশলে দফায় দফায় অভিযানে মাদকের কারবার কিছুটা কমতে শুরু করেছে। আমরা বিজিবিকে সঙ্গে নিয়েও যৌথ অভিযান পরিচালনা করে থাকি। মাদকের সঙ্গে কোনো আপস নয়। মাদক নির্মূল করার লক্ষ্য নিয়ে দিনরাত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১ দিন আগে
গোপনে মাদক কারবারিদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মাদক কারবারিদের তালিকা অত্যন্ত পেশাদারভাবে প্রস্তুতের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, প্রকাশ্যে তালিকা ঘোষণা করা হবে না। কারণ প্রকাশ্যে তালিকা প্রকাশ করলে তা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং তাতে ত্রুটি দেখা দিতে পারে।
সোমবার (৯ মার্চ) কক্সবাজার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ জেলায় প্রথম আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ।
সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, হাদি হত্যা মামলার দুই আসামি ভারতে আটকের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী যাতে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা যায়।
মব সৃষ্টির মতো কোনো ঘটনা দেশে চলতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে তিনি বলেন, সব সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজকে আইনের আওতায় আনা হবে। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে।
মাদক কারবারিদের তালিকা অত্যন্ত পেশাদারভাবে প্রস্তুতের কাজ চলছে বলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রকাশ্যে তালিকা ঘোষণা করা হবে না। কারণ প্রকাশ্যে তালিকা প্রকাশ করলে তা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং তাতে ত্রুটি দেখা দিতে পারে।
পর্যটন খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সমুদ্র সৈকতে বালিয়াড়িতে বসানো স্থায়ী-অস্থায়ী অবৈধ স্থাপনা এক সপ্তাহের মধ্যে দখলমুক্ত করা হবে। সেই সঙ্গে সৈকতসহ পর্যটন এলাকা পরিষ্কার রাখা হবে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের লক্ষ্যে কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের সহায়তায় তা জেলা পুলিশ বাস্তবায়ন করবে।
ট্রাফিক ব্যবস্থার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জনবল দেওয়া হবে। কক্সবাজার শহরে ব্যাটারিচালিত টমটম ও অন্যান্য অযান্ত্রিক যানবাহনের সংখ্যা আর বাড়তে দেওয়া হবে না। লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও কঠোরতা আরোপ করা হবে। নির্ধারিত সংখ্যার বেশি যানবাহন চলতে দেওয়া হবে না এবং একটি লাইসেন্সের অধীনে একাধিক যানবাহন পরিচালনা করলে সেই লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
এ সময় বন্ধ থাকা টেকনাফ স্থলবন্দর খুলে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামিম আরা স্বপ্নাসহ বিএনপির অন্যান্য নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
৮ দিন আগে
মাদকসেবীদের দখলে ঐতিহাসিক তিন নেতার মাজার
অবহেলায় জীর্ণ দশায় পড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বরসংলগ্ন ঐতিহাসিক তিন নেতার মাজার। মাদকসেবী ও ভবঘুরেদের দখলে থাকা এই স্থাপনা এখন নিরাপত্তাহীনতা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হারাতে বসেছে ঐতিহাসিক মর্যাদা।
স্বাধীনতা-পূর্ব বাংলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সাবেক তিন প্রধানমন্ত্রী—হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, এ.কে. ফজলুল হক ও খাজা নাজিমুদ্দিনকে স্মরণে ১৯৮৫ সালে নির্মিত হয় তিন নেতার মাজার। এক সময় প্রাচীর দিয়ে সুরক্ষিত থাকলেও বর্তমানে স্থাপনাটি খোলা ও অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।
পূর্বে রক্ষিত থাকলেও বর্তমানে নাজেহাল অবস্থা
সংশ্লিষ্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা বলছেন, তিন নেতার মাজার আগে প্রাচীর দিয়ে রক্ষিত ছিল। কিন্তু সম্প্রতি, বিশেষ করে ঢাবি শিক্ষার্থী সাম্য হত্যার পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বন্ধ করে দেওয়ার পর এই স্থাপনার নিরাপত্তা নাজেহাল হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, নিরাপত্তা বা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত কেউকে পাওয়া যায়নি। মাজারের একেবারে সম্মুখ দিকে বড় একটি অংশের সীমানা প্রাচীর নেই। এ ছাড়াও, প্রাচীরের বেশ কয়েকটি জায়গায় লোহার বেড়ি নেই। এসব জায়গা দিয়ে মানুষ অবাধে মাজারে প্রবেশ করছে। এদিকে, ঢাকা গেট সংলগ্ন সীমানা প্রাচীর পুরোটাই উধাও হয়ে গেছে।
মাজারের সামনে ফুটপাতের একজন দোকানদার বলেন, ‘ভবঘুরে ও পথশিশুরা দেওয়ালের এমন অবস্থা করেছে। তারা অর্থের বিনিময়ে দেওয়ালের রড বিক্রি করে দিচ্ছে। তাই, ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে এই দেওয়াল।’ নিরাপত্তার স্বার্থে ওই দোকানি নাম প্রকাশে অনিচ্ছা পোষণ করেছেন।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে স্থানান্তরিত ভবঘুরেদের আবাসস্থল
গত ১৩ মে, দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন ঢাবি শিক্ষার্থী সাম্য। এরপর থেকে, প্রশাসনের উদ্যোগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে ভবঘুরে ও মাদক ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা হয়।
আরও পড়ুন: উত্তরাধিকার বিরোধে জুলাই শহীদ পরিবারের সহায়তা বিতরণে বিলম্ব
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর এইসব ছিন্নমূল মানুষ বর্তমানে তিন নেতার মাজারে আশ্রয় নিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাজারের মূল বেদীতে বেশ কয়েকজন মানুষ শুয়ে অথবা বসে আছেন। এমনকি কবরের আশেপাশের জায়গায়, অসংখ্য ব্যক্তি বসে আছেন। কেউ কেউ ঘুমিয়েও আছেন। আবার অনেকে ঘুমিয়ে আছেন। এ সময়, অনেককে মাদক গ্রহণ করতেও দেখা যায়।
কবরের উপরে বসে থাকা কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করলে তাদের মধ্যে একজন পঞ্চাশোর্ধ ব্যক্তি বলেন, ‘কই যাবো বলেন? আমাদের তো যায়গা নাই। আমরা এখন মাজারেই থাকি।’এসব ব্যক্তির বেশিরভাগই মাদক ব্যবসায়ী অথবা মাদক সংশ্লিষ্ট বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
মাদক বিক্রি ও মাদকের আখড়া
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র মতে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বন্ধ হওয়ার পর থেকে তিন নেতার মাজার মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। জানা যায়, ঢাকা গেট সংলগ্ন দুই পাশের সরু জায়গা, মেট্রোরেলের পিলারের নিচে এমনকি অনেক সময় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তার ওপরেই প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হচ্ছে। মাদক ক্রয়ের পর ক্রেতারা মাজার প্রাঙ্গণেই সেবনে নিয়োজিত হচ্ছে।
নিয়মিত অভিযান চললেও থামছে না মাদক
তিন নেতার মাজার গণপূর্ত অধিদপ্তরের আওতাধীন হলেও এলাকায় কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা প্রহরী নেই। সরেজমিনে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে শাহবাগ থানার একটি টহল দল এসে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক ও মাদকগ্রহিতাদের মাজার থেকে সরিয়ে দেয়। কিন্তু অভিযানের মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যেই অবস্থা পুরোপুরি একই। আবারও পুরোদমে মাদক বিক্রি হচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থান থেকে আসা সেবনকারীরা মাদকের ভয়াল থাবায় ঢুকে পড়ছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্য হত্যার পর থেকে নিয়মিতই এমন অভিযান পরিচালনা হচ্ছে। কিন্তু মাদকের বেচাকেনা কমানো যাচ্ছে না। এ সময় ১৪-১৫ বছরের এক মাদক ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞেস করলে সে বলে, ‘আগে উদ্যানে বেচতাম, উদ্যান থেকে বের করে দেওয়ার পর এইখানে গাঁজা বেচি।’
আরও পড়ুন: ‘অর্থাভাবে’ সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ, দুর্ভোগে কাউনিয়ার পাঁচ গ্রামের মানুষ
কোথায় বসবাস জিজ্ঞেস করলে সে মাজারের মূল বেদী আঙুল দিয়ে লক্ষ্য করে দেখায়। মাদকগুলো কে দিয়েছে জিজ্ঞেস করলে ওই শিশু ‘নবী’ নামের এক ব্যক্তির নাম বলেন।‘নবী’র বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৫ জুন বিকালে রাজধানীর শাহবাগে শিশুপার্কের সামনে ছুরিকাঘাতে মোবারক (১৮) নামে এক যুবক খুন হয়েছিল।
এ সময়, নিহতের চাচাতো ভাই রবিউল ইউএনবিকে জানিয়েছিলেন, নবী নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে মাদকের টাকা আদায় নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এই খুন হয়।
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর জানান, ‘প্রতিদিনই আমাদের অভিযান, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি। গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতেও আমরা তিন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক ও ১ কেজির বেশি গাঁজা জব্দ করেছি। এর মধ্যে একজনকে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই মাদকের কারবার থামানো সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, ‘খুব শীঘ্রই আমরা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, র্যাবের সঙ্গে যৌথ অভিযান পরিচালনার কথা ভাবছি।’ওসি বলেন, ‘আমরা উদ্যানের সীমানা প্রাচীর ঠিক করার ব্যাপারে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে অবহিত করেছি। আমরা আমাদের মতন কাজ করে যাচ্ছি। তারাও যেন এগিয়ে আসে— সে ব্যাপারে আমরা বারবার বলছি।’
এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের দায়িত্বরত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি সম্ভব হয়নি।
ঐতিহাসিক তিন নেতার মাজার কেবল একটি কবরস্থান নয়, এটি ইতিহাসের একটি গৌরবময় অধ্যায়ের স্মারক। তবে, বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, ভবঘুরে ও মাদকসেবীদের দখল, এবং নিরাপত্তাহীনতা—সব মিলিয়ে স্থাপনাটির ভবিষ্যৎ এখন শঙ্কার মুখে পড়ছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ও সচেতন নাগরিকেরা।
২৩৭ দিন আগে
পল্টনে মাদক কারবারিদের গুলিতে ২ পুলিশ সদস্য আহত
রাজধানীর পল্টন এলাকায় মাদক কারবারিদের ছোড়া গুলিতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) দুই সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (১৮ জুন) দিবাগত রাত ১২ টা ২০ মিনিটের দিকে পল্টন থানাধীন কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের (সিপিএইচ) বিপরীত পাশে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় একটি প্রাইভেটকারসহ তিনজন সন্দেহভাজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। এ সময় ৯ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাও উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সকালে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ তালেবুর রহমান।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন— সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আতিক হাসান ও কনস্টেবল সুজন। তারা ডিবির লালবাগ বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ বলেন, গুলিবিদ্ধ দুজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
আরও পড়ুন: রাজধানীর শাহবাগে ছুরিকাঘাতে যুবক খুন
ঘটনার বিষয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল দিবাগত রাত রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে গোপন খবরের ভিত্তিতে ডিবির লালবাগ বিভাগের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এনায়েত কবির শোয়েবের নেতৃত্বে সিপিএইচের বিপরীত পাশে রাস্তার ওপর একটি প্রাইভেট কারের গতি রোধ করার চেষ্টা করেন। এ সময় ভেতর থেকে মাদক কারবারিরা গুলি চালায়।
এতে এএসআই আতিক হাসানের পেটের বাঁ পাশে ও কনস্টেবল সুজনের বাঁ হাঁটুতে গুলি লাগে। পরে তাদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আহতদের মধ্যে এএসআই আতিক হাসান কে গুরুতর আহত অবস্থায় জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সী সেন্টার (ওসেক) এ রাখা হয়েছে। আর সুজনকে ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
২৭১ দিন আগে
ফেনীতে মাদক কারবারিদের হামলায় গোয়েন্দা পুলিশের ৫ সদস্য আহত, আটক ৩
ফেনীতে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তারের অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ এপ্রিল) রাতে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার মহামায়া ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
আটক তিনজন হলেন— জয়নগরের শফি উল্যাহর ছেলে জয়নাল আবদীন সিফাত (২০), তার মেয়ে রুজিনা আক্তার (৩২) ও রহিম উল্যাহর স্ত্রী রূপধন (৪৮)।
আহতরা হলেন— জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) তানভীর মেহেদী, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) খোকন হোসেন, রিংকু বড়ুয়া, কনস্টেবল মুজিবুর রহমান ও জাহাঙ্গীর।
আরও পড়ুন: ব্রহ্মপুত্র নদে মাছ ধরতে নেমে নিখোঁজ যুবকের লাশ উদ্ধার
পুলিশ জানায়, জয়নগর গ্রামের মাদক কারবারি আলমগীর ওরফে সোর্স আলমগীরকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে পুলিশের একটি টিম অভিযানে যায়। অভিযানে আলমগীরকে আটক করলে তাৎক্ষণিক সেখানকার ৪০-৫০ জন নারী-পুরুষ জড়ো হয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা করেন। একপর্যায়ে তারা আলমগীরকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন।
খবর পেয়ে ছাগলনাইয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলামসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে আসেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ফেনী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা জানান, হামলার ঘটনায় জড়িত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
৩২২ দিন আগে
পূর্বধলায় ভারতীয় মদসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলায় ভারতীয় মদসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে থেকে ১০ বোতল মদ জব্দ করা হয়।
শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি আঞ্চলিম মহাসড়কের পূর্বধলার গোজাখালী কান্দা বাজার থেকে এই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম।
গ্রেপ্তার দুই মাদক কারবারি হলেন- নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার ফেছিয়া পাথারিয়া গ্রামের হযরত আলী ছেলে ইমন মিয়া ওরফে হাসান (২০) ও একই এলাকার আব্দুল হাকিমের ছেলে নাজমুল মিয়া (৩২)।
আরও পড়ুন: দৌলতপুর সীমান্তে মাদকসহ তিন ভারতীয় আটক
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের গোজাখালী কান্দা বাজারে সন্দেহজনক একটি যাত্রীবাহী ব্যাটারিচালিত অটো রিকশা তল্লাশি করে ১০ বোতল ভারতীয় মদসহ ওই দুজন কারবারিকে আটক করে। জব্দ করা মদের বাজারমূল্য আনুমানিক ২০ হাজার টাকা।
ওসি মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম বলেন, হাসান ও নাজমুল দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতীয় মদ অবৈধ পন্থায় সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কেনাবেচা করে আসছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের শেষে কোর্টে চালান দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, বুধবার (১৬ এপ্রিল) একই স্থানে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় তল্লাশি করে সাত বোতল ভারতীয় মদসহ মাদক কারবারি ফারজানা খাতুন ঝুমা নামে এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। ওই তরুণী নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার কেরনখলা গ্রামের রজব আলী মেয়ে। পরে মাদক মামলায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
৩৩২ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে মাদক কারবারিদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে যুবক নিহত
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাদক কারবারিদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মোহাম্মদ হাবিব নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। হাবিব নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের চনপাড়া এলাকার আনোয়ার মোল্লার ছেলে।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। পরে বুধবার (১৯ মার্চ) ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতর ভাই বাবু বলেন, ‘হাবিব পেশায় একজন অটোরিকশাচালক। সে চনপাড়া এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় মাদক কারবারিদের দুই পক্ষের গোলাগুলির মধ্যে পড়ে। পরে ওইখানে তার একটি গুলি এসে গায়ে লাগে। খবর পেয়ে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরের দিকে তার মৃত্যু হয়।’
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০
নিহত হাবিবের দুইটি সন্তান রয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক বলেন, ‘লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।’
৩৬৩ দিন আগে
রাজশাহীতে নারীর ঘরে আটক এএসআই বরখাস্ত
রাজশাহীতে এক নারীর ঘরে আটক হওয়া সমালোচিত সেই পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সোহেল রানাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
পাশাপাশি বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তাকে রাজশাহী পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়েছে।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এএসআই সোহেল রানা রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানায় কর্মরত ছিলেন।
এর আগে, গত মঙ্গলবার রাতে নগরীর মতিহার থানার সাতবাড়িয়া মহল্লার এক মাদক কারবারির স্ত্রীর ঘরে সোহেল রানাকে পেয়ে স্থানীয় লোকজন আটক করে। পরে ঘরের দরজা বন্ধ করে তাকে লাঠিপেটা করা হয়। এ সময় মারধর করা হয় ওই নারীকেও।
আরও পড়ুন: রাতে মাদক কারবারির স্ত্রীর ঘরে এএসআই, লাঠিপেটা
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মালেক বলেন, রাতে ওই নারীর বাড়ি থেকে উদ্ধার করে এনে এএসআই সোহেল রানাকে থানা হেফাজতে রাখা হয়।
পরে এএসআই সোহেলকে চন্দ্রিমা থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে পুলিশ লাইন্সে চলে যান তিনি।
রাজশাহী মেট্রোপলিটনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) সাবিনা ইয়াসমিন জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে এএসআই সোহেল রানাকে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করার পাশাপাশি সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে। তদন্ত শেষে নিয়মানুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩৯০ দিন আগে
রাতে মাদক কারবারির স্ত্রীর ঘরে এএসআই, লাঠিপেটা
রাজশাহীতে এক মাদক কারবারির স্ত্রীর ঘরে পুলিশের একজন সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) পেয়ে লাঠিপেটা করেছে স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাকে উদ্ধার করে নগরীর মতিহার থানা হেফাজতে নেয়।
জানা যায়, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) চন্দ্রিমা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সোহেল রানাকে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরের সাতবাড়িয়া মহল্লার এক মাদক কারবারির স্ত্রীর ঘর থেকে স্থানীয়রা আটক করে। পরে ঘরের দরজা বন্ধ করে তাকে লাঠিপেটা করা হয়। মারধর করা হয় ওই নারীকেও। এর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয়রা ওই নারী ও এএসআইকে নানাভাবে জেরা করছেন। জেরার ফাঁকে ফাঁকে লাঠি দিয়ে পেটানোও হচ্ছে। এ সময় ওই নারীকে বলতে দেখা যায়, ‘প্রচুর মেরেছে, প্রচুর,’ আর এএসআই সোহেলকে বলতে দেখা যায়, ‘আমি কলমা করে বিয়ে করেছি’।
জেরার মুখে এএসআই বলেন, ‘তার গ্রামের বাড়ি বগুড়া। সেখানে তার স্ত্রী-সন্তান আছে। তাকে তিনি কলমা করে বিয়ে করেছেন।’
তবে ঘরে উপস্থিত ওই নারীর স্বামী বলেন, ‘স্ত্রীর সঙ্গে তার এখনও বিবাহ বিচ্ছেদই হয়নি। এ সময় ওই নারী বলেন, ‘স্বামীকে আমি মুখে মুখে তালাক দিয়েছি।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই নারীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিলেন এএসআই সোহেল রানা। তাকে ঘরে আটকে রেখে থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ আসার আগে অল্পবয়সী কয়েকজন লাঠি দিয়ে এএসআইকে পেটায়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়।
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মালেক বলেন, ‘এএসআই সোহেল রানা থানা হেফাজতে আছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ ধরনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এ জন্য কর্তৃপক্ষ এএসআইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন।’
তবে ওই নারীর সঙ্গে এএসআইয়ের বিয়ে কিংবা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক চালানোর বিষয়ে ওসি কোনো তথ্য দিতে পারেননি। এ সময় তিনি জানান, ওই নারীর স্বামী মাদক কারবারি। তার বাড়ি ডাসমারী মধ্যপাড়ায়। তিনি মাদক মামলায় বছর দেড়েক জেলে ছিলেন। এই সময়ে ওই নারী বাবার বাড়ি চলে যান। এছাড়া স্বামী জামিনে বের হলেও তিনি তার বাড়ি আসছিলেন না।
ওসি বলেন, ‘ওই নারীর স্বামী যখন জেলে ছিলেন, তখন এএসআই তিনটি অটোরিকশা কেনেন। অটোরিকশাগুলো সোহেল তার পূর্বপরিচিত ওই নারীর তত্ত্বাবধানে রাখেন। ওই নারীর ভাই ও অন্য চালকেরা অটোরিকশাগুলো চালান। সোহেল মাঝে মাঝে ওই নারীর কাছ থেকে ভাড়ার টাকা নিয়ে আসতেন। মঙ্গলবার রাতেও তিনি ভাড়ার টাকা আনতে গিয়েছিলেন। তখন ওই নারীর স্বামী স্থানীয় কিছু ব্যক্তিকে নিয়ে এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন। আসলেই কী ঘটনা ঘটেছে সে ব্যাপারে তদন্ত চলছে।’ইউএনবি/এএস
৩৯১ দিন আগে
বিজিবি-মাদক কারবারির গোলাগুলি
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও মাদক চোরাকারবারিদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (৩ জুন) ভোর ৫টায় নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের ভালুখাইয়া বিওপির এলাকার গর্জনিয়ার মরিচ্যাচর রাজঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে শাহবাগ থানা
বিজিবি জানিয়েছে, অভিযান চালিয়ে ৯৮ কার্টুন বার্মিজ সিগারেট ও ২০ হাজার ইয়াবা পিস জব্দ করেছে বিজিবি। এসময় নিজাম ডাকাতের নেতৃত্বে দেড়শ’ থেকে ২০০ জন মাদককারবারি বিজিবি টহল দলের উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়।
চোরাকারবারীরা গুলি ছুঁড়লে আত্মরক্ষার জন্য বিজিবি পাল্টা গুলি ছুঁড়ে।
বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিজিবি ও মাদককারবারিদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। গোলাগুলির সময় একটি মোটরসাইকেলেও আগুন দেওয়া হয়। এ সময় ইয়াবা ও বার্মিজ সিগারেট জব্দ করা হয়।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
আরও পড়ুন: আফতাবনগরে পশুর হাট বসানো যাবে না: আপিল বিভাগ
টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে ডিআরএফ প্রণয়ন করা হবে: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
৬৫২ দিন আগে