সিম নিবন্ধন
ফিঙ্গার প্রিন্ট জাল করে সিম নিবন্ধন, চক্রের হোতাসহ আটক ৩
বাগেরহাটে ফিঙ্গারপ্রিন্ট জাল করে বিভিন্ন কোম্পানির সিম কার্ড নিবন্ধন করা প্রতারক চক্রের হোতাসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম তার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
এর আগে গভীর রাতে বাগেরহাট জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সদর উপজেলার কার্তিকদিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ক্লোন বা জাল করার বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
আটকরা হলেন প্রতারক চক্রের হোতা সদর উপজেলার কার্তিকদিয়া গ্রামের মো. মামুন আলী খাঁ (৩০), মো. জিহাদ বিশ্বাস (২৩) ও মে. লিটু বিশ্বাস ওরফে বাবু (২২)।
মামুন আলী খাঁর বাড়ি থেকে জব্দ করা মালামালের মধ্যে রয়েছে ফিঙ্গার প্রিন্ট জাল করার কাজে ব্যবহৃত রাবারের ১৪১টি কিট, অব্যবহৃত ২১টি সিম কার্ড, ফিঙ্গার স্ক্যানার মেশিন, চারটি ইউএসবি কেবল, প্লাস্টিক পেপারের ওপর ছয়টি ফিঙ্গার প্রিন্ট, নিবন্ধন কাজে ব্যবহৃত টেপ ও তিনটি মোবাইল ফোন।
পুলিশ সুপার জানান, আটকরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানুষের ফিঙ্গার প্রিন্ট ক্লোন (জাল) করে মোবাইলের সিম কার্ড নিবন্ধন (ভুয়া নিবন্ধন) করছিলেন। সিম কার্ডগুলো তারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রি করতেন। পরে এসব সিম কার্ড ব্যবহার করে নানাভাবে প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, প্রতারক চক্রের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে কোনো অপরাধ ঘটলে পুলিশি তদন্তে সিম কার্ড ব্যবহারকারী হিসেবে সাধারণ মানুষের নাম আসছে। পুলিশ ফিঙ্গার প্রিন্টের সূত্র ধরে সাধারণ মানুষের কাছে গেলে জানা যায়, ওই সিম কার্ড তারা ব্যবহার করেন না। এভাবে সাধারণ মানুষ সমাস্যায় পড়ছে।
চক্রের অন্য সদস্যদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে এবং আটকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
৪ দিন আগে
এক এনআইডি দিয়ে সর্বাধিক পাঁচটি সিম নিবন্ধনের খবর ভুয়া
সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একটি জাতীয় পরিচপত্র (এনআইডি) দিয়ে পাঁচটির বেশি সিম নিবন্ধন করা যাবে না বলে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশে মোবাইল টেলিকম অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, একটি এনআইডির বিপরীতে সিম নিবন্ধনের সংখ্যা ৫টিতে কমানোর তথ্য সঠিক নয় ও বিভ্রান্তিমূলক। এ ধরনের ভুল তথ্য গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে অ্যামটব জানিয়েছে, আমরা মনে করি, গ্রাহক পর্যায়ে মোবাইলের অপব্যবহার, জালিয়াতি বা অপরাধ রোধে শুধু সিম সংখ্যা সীমিত করাই কার্যকর উপায় নয়। বরং যথাযথভাবে গ্রাহক পরিচিতি যাচাইকরণ, তাৎক্ষণিক (রিয়েল-টাইম) নজরদারি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং উন্নত জালিয়াতি শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা অনেক বেশি কার্যকর।
বৈধ ব্যবহারকারী ও প্রতিষ্ঠানের ওপর বাড়তি বিধিনিষেধ আরোপ করলে উল্টো তারা অনানুষ্ঠানিক বা অনিয়ন্ত্রিত চ্যানেলের দিকে ঝুঁকতে পারেন যা নিরাপত্তার ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, টেলিযোগাযোগ খাত গ্রাহকের অধিকার ও পছন্দের স্বাধীনতা রক্ষার পাশাপাশি ব্যক্তি, উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবার অগ্রযাত্রায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশের টেকসই ডিজিটাল ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য শিল্পটি নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে যেন এ সংক্রান্ত নীতিগুলো নিরাপত্তা, প্রবেশাধিকার, উদ্ভাবন এবং গ্রাহক অধিকারের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করতে পারে।
২৭৯ দিন আগে