ব্রাকসু নির্বাচন
ব্রাকসুর সকল কার্যক্রম স্থগিত, অনিশ্চয়তায় নির্বাচন
আবারো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন (ব্রাকসু)। এতে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ব্রাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের তফসিল আবারও স্থগিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের কার্যক্রমকে যেকোনো ধরনের প্রভাবমুক্ত রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের দিকনির্দেশনার আলোকে দেশের সকল সংগঠনের নির্বাচন আয়োজন ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় রংপুর থেকে পাঠানো চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ব্রাকসু ও হল শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন-২০২৫-সংক্রান্ত চলমান সকল নির্বাচনি কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হলো।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর এবং প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষের দিকনির্দেশনার আলোকে পরবর্তী সময়ে নতুন তফসিল প্রণয়ন ও নির্বাচনি কার্যক্রম পুনরায় আরম্ভ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাসময়ে জানানো হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
নির্বাচন স্থগিত প্রসঙ্গে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বলেন, গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরতে পারছে না এ বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিজেই চান না যে ব্রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।
ব্রাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বেরোবি শাখার সভাপতি মো. সুমন সরকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রহসনে পরিণত করেছে।
সুমন সরকার বলেন, জুলাই বিপ্লবের শহিদ আবু সাঈদ ভাইয়ের রক্তের ওপর অধ্যাপক শওকাত আলী ভিসি হলেও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বোঝার চেষ্টা করেননি, বরং ফ্যাসিস্ট শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থে কাজ করছেন।
একই কথা বলেন ছাত্রদলনেতা আল আমিনও। তার ভাষ্য, এই ভিসি আওয়ামী দোসর। তিনি কোনোভাবেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতন্ত্রের ধারা ফেরাতে চান না।
ব্রাকসু নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার সহযোগী অধ্যাপক মো. আমির শরিফ বলেন, এটা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছেই শুনতে পারেন। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন প্রজ্ঞাপন জারি করায় তিনি (প্রধান নির্বাচন কমিশনার) ডিসি এবং নির্বাচন কমিশনের সচিবদের সঙ্গে কথা বলেছেন। নির্বাচন-সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রমে সমস্যা বা অপ্রীতিকর কিছু ঘটনা ঘটলে এর দায়ভার কে নেবে? এজন্যই এই সিদ্ধান্ত।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানা বলেন, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, তাই ব্রাকসু নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর শওকাত আলী বলেন, সামনে যেহেতু জাতীয় সংসদ নির্বাচন, তাই ওই নিবার্চনের পরে ব্রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই।
উল্লেখ্য, ব্রাকসু নির্বাচনের এখন পর্যন্ত চারবার তফসিল পরিবর্তন করে পাঁচটি তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। বারবার তফসিল পরিবর্তন ও নির্বাচনের তারিখ পেছানোর পর সর্বশেষ গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) পঞ্চম তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। এতে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে আবারও তা স্থগিত ঘোষণা করায় ২৫ ফেব্রুয়ারিও হচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন।
৩ ঘণ্টা আগে