শাকসু নির্বাচন
শাকসু নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত শাবিপ্রবিতে শাটডাউন ঘোষণা
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনের দাবিতে ফের বিক্ষোভে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) থেকে শাকসু নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শাটডাউন রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে অবশ্যই শাকসু নির্বাচন হতে হবে। শুক্রবার প্রতিটি বিভাগের ক্লাস প্রতিনিধিদের (সিআর) সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শাকসু নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের বিক্ষোভ চলমান থাকবে।’
এ দাবিতে শনিবার বিকেল ৫টা থেকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। গোলচত্বর থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি শাহপরান হল এলাকা হয়ে সৈয়দ মুজতবা আলী হলে গিয়ে কিছুক্ষণ অবস্থান নেয়। পরে মিছিলটি চেতনা-৭১ হয়ে ছাত্রীদের আবাসিক হলে অবস্থান করে পুনরায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘মব করে শাকসু, বন্ধ করা যাবে না’, ‘ঢাকায় বসে শাকসু, বন্ধ করা যাবে না’, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান, শাকসু ব্যান’—এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ মিছিলে ‘দুর্বার সাস্টিয়ান’ ঐক্যের ভিপি প্রার্থী দেলোয়ার হাসান (শিশির), জিএস প্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম, স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী পলাশ বখতিয়ার, জুনায়েদ আহমেদ, ফয়সাল, বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সালেহ মো. নাসিমসহ আরও অনেকে অংশ নেন।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ২৮ বছর পর গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) শাকসু নির্বাচনের ভোট গ্রহণের কথা ছিল। তবে দুই প্রার্থী ও একজন শিক্ষার্থীর করা রিট আবেদনের পর গত ১৯ জানুয়ারি সোমবার হাইকোর্ট চার সপ্তাহের জন্য শাকসু নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন।
২০ দিন আগে
শাবিপ্রবিতে আজও বিক্ষোভ অব্যাহত
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন প্রার্থী ও সমর্থকরা।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা।
এদিকে, বিক্ষোভ চলাকালে উপাচার্য কার্যালয়ে প্রবেশের সময় সহকারী উপাচার্যকে দেখে ‘দালাল’ বলে স্লোগান দেন আন্দোলনরত প্রার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য সাজেদুল করিমের গাড়ি উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে থামে। তিনি গাড়ি থেকে বের হলে আন্দোলনকারীরা তাকে দেখে ‘দালাল’ ‘দালাল’ বলে স্লোগান দেন। তবে বিএনপিপন্থী শিক্ষক প্যানেলের সাবেক নেতা সহকারী উপাচার্য সাজেদুল করিম কোনো প্রতিক্রিয়া প্রকাশ না করে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
এর আগে, শাকসু নির্বাচনের দাবিতে সকাল থেকে উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন প্রার্থীরা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রার্থীদের একটা প্রতিনিধি দল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে যান।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে তারা ‘সাস্টিয়ান সাস্টিয়ান এক হও, এক হও’, ‘শাকসু নিয়ে তালবাহানা চলবে না চলবে না’, ‘শাকসু নিয়ে মববাজি চলবে না চলবে না’, ‘শাকসু চাই শাকসু দাও, নইলে গদি ছাইড়া দাও’, ‘দালালদের গদিতে আগুন জ্বালো একসাথে’, ‘শাকসু মোদের অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
কর্মসূচি চলাকালে শিবিরের ভিপি প্রার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির বলেন, গতকাল আমরা প্রশাসনের সঙ্গে বলেছি যে, যেভাবেই হোক চেম্বার জজ আদালতের মাধ্যমে বুধবার শাকসু নির্বাচন করতে হবে। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চাপ দেওয়া হবে, কেননা আমাদের দাবি যৌক্তিক।
শিবিরের জিএস প্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ২৮ বছর পর আজ আমাদের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন মহলের ষড়যন্ত্রের কারণে নির্বাচন হয়নি। গতকাল চেম্বার জজের শুনানি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তাও হয়নি। আজকে আদালতের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। আশা করছি, চেম্বার জজ শাকসু নির্বাচনের পক্ষে রায় দেবেন।
২৫ দিন আগে
শাকসু নির্বাচন হাইকোর্টে স্থগিত
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। আগামীকাল ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
এ বিষয়ে এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম, ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদ। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসাইন লিপু। এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
রায়ের পর ব্যারিস্টার কাজল জানিয়েছেন, হাইকোর্ট রিটের শুনানি শেষে শাকসুর নির্বাচনি কার্যক্রম স্থগিত করেছেন। পাশাপাশি রুল জারি করেছেন।
এর আগে, রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। শাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে। রিটে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সব ধরনের নির্বাচন বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি করেছে। এ অবস্থায় শাকসু নির্বাচন হতে দেওয়া আইনসঙ্গত নয়।
২৬ দিন আগে