মধ্যনগর উপজেলা
চার বছরেও প্রশাসনিক কাঠামো পায়নি মধ্যনগর উপজেলা, বঞ্চিত দেড় লাখ মানুষ
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলাকে প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে ঘোষণার চার বছর পার হলেও এখনো সেখানে গড়ে ওঠেনি পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো। নিজস্ব প্রশাসনিক ভবন নেই, নেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নেই পর্যাপ্ত জনবল। ফলে দেড় লাখ মানুষের বসবাস হলেও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক সেবা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।
সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ২০২২ সালের ২৪ জুলাই মধ্যনগর উপজেলায় আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে ঘোষণার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো প্রশাসনিক ভবন নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।
বর্তমানে ২৩টি সরকারি দপ্তরের জন্য অনুমোদিত ২১২টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। বাকি ২০৩টি পদ শূন্য রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অবকাঠামো ও জনবল সংকটের কারণে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে একটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের একতলায় অস্থায়ীভাবে। অধিকাংশ দপ্তরের কার্যক্রম পাশের ধর্মপাশা উপজেলা থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। এতে নিয়মিত সেবা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রশাসনিক সূত্র জানায়, বর্তমানে মধ্যনগর উপজেলায় প্রকৌশলী, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, নির্বাচন কর্মকর্তা ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ প্রথম শ্রেণির মাত্র চারজন কর্মকর্তা কর্মরত রয়েছেন। এ ছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পাঁচজন কর্মচারী দিয়ে কোনোভাবে দাপ্তরিক কাজ চালানো হচ্ছে।
স্বাস্থ্য খাতের অবস্থাও নাজুক। উপজেলায় নেই কোনো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং নেই একজনও এমবিবিএস চিকিৎসক। যদিও দুটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এবং দুটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে, সেগুলোতেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি রয়েছে। ফলে সাধারণ চিকিৎসা ও জরুরি সেবার জন্য এলাকাবাসীকে ধর্মপাশা উপজেলা কিংবা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।
২২২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের মধ্যনগর উপজেলায় রয়েছে চারটি ইউনিয়ন ও ১৪৭টি গ্রাম। এই উপজেলায় প্রায় দেড় লাখ মানুষের বসবাস। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা ঘোষণার পর কাঠামোগত উন্নয়ন কার্যত থমকে রয়েছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
মধ্যনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ নাজমুল হোসাইন বলেন, ‘মধ্যনগরকে পূর্ণাঙ্গ ও মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু চার বছরেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।’
মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল কাইউম মজনু বলেন, ‘উপজেলা ঘোষণার চার বছর পরও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল না থাকা দুঃখজনক। প্রশাসনের আরও আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন, প্রশাসনিক ভবন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ১৬ একর জমির প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
৭ ঘণ্টা আগে