ভেনেজুয়েলা
ভূমিকম্পে নিহত ২ হাজার ছুঁই ছুঁই, কী ঘটছে ভেনেজুয়েলায়
ভয়াবহ ভূমিকম্পের ছয় দিন পরও লা গুয়াইরার সমুদ্রতীরবর্তী একটি ধসে পড়া ভবনের সামনে অপেক্ষা করছেন অ্যাঞ্জেলিকা মুন্দ্রাইন। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন তার ছেলে, ভাতিজি ও ভাতিজা। তাদের মরদেহ উদ্ধারে প্রয়োজন একটি টেলিস্কোপিক ক্রেন, কিন্তু সেটি এখনও সেখানে পৌঁছেনি। কংক্রিটের বিশাল স্ল্যাব ও লোহার মোচড়ানো কাঠামো সরিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধারের জন্য ভারী যন্ত্রপাতির অপেক্ষায় দিন গুনছেন এই সন্তানহারা মা।
শুধু অ্যাঞ্জেলিকা নন, ভূমিকম্প থেকে বেঁচে যাওয়া ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলীয় লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের অসংখ্য মানুষের মনে এখন একই প্রশ্ন—এই উদ্ধারকাজের দায়িত্বে আসলে কে?
গত ২৪ জুন ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশটির লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্য, রাজধানী কারাকাস এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বহু বহুতল ভবন, হোটেল, রেস্তোরাঁ, ফার্মেসি ও দোকানপাট ধসে পড়ে। এই দুর্যোগে সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৯৪৩ জন নিহত এবং ১০ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া হাজারো মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করার কথা থাকলেও ভেনেজুয়াজুড়ে দেখা দিয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। উদ্ধার তৎপরতায় ধীরগতি, সমন্বয়হীনতা এবং প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে ক্ষোভে ফুঁসছেন দুর্গতরা। তাদের অভিযোগ, সবচেয়ে প্রয়োজনের মুহূর্তে সরকার কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।
মঙ্গলবার ভবনটির সামনে থেকে মুন্দ্রাইন বলেন, ‘আমাদের পরিত্যাগ করা হয়েছে। আমরা চরম অসহায় বোধ করছি। আমরা যা দেখেছি, তা হলো সংগঠনের অভাব, সহমর্মিতার অভাব—সবকিছুরই অভাব।’
১৫ দিন আগে
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্প: চার দিন পর পিতা-পুত্র জীবিত উদ্ধার, নিহত প্রায় ১,৫০০
ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহের ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। এরই মধ্যে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরের একটি শহরে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক ব্যক্তি ও তার কিশোর ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার পর পর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার প্রায় ৪ দিন পর স্থানীয় সময় রবিবার (২৮ জুন) কারাবালেদা নামক স্থানে ফরাসি ও মার্কিন উদ্ধারকারী দল ওই জীবিতদের সন্ধান পায়। ওই এলাকায় ভূমিকম্পের তীব্রতায় প্রায় ২০০টি ভবন সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে।
ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও জীবিত মানুষ উদ্ধারে সক্ষম হওয়ায় উদ্ধারকর্মীদের প্রশংসা করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ। রবিবার তিনি বলেন, ‘আজও আমরা জীবিত মানুষ উদ্ধার করেছি। তাই এই উদ্ধার তৎপরতা স্থগিত করা হবে না। আমরা সব সময়ই আশা ধরে রাখছি।’
চলমান এই বিপর্যয়ের মধ্যে এই উদ্ধার অভিযান কিছুটা আশার আলো দেখালেও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত দেশটিতে এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। একই সঙ্গে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমাও ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে।
লাতিন আমেরিকার অন্যতম ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের পর লাখ লাখ মানুষের স্যানিটেশন ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
১৭ দিন আগে
ভেনেজুয়েলায় বাড়ছে হতাশা ও ক্ষোভ, ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১,৪৩০
ভেনেজুয়েলের লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যে উদ্ধারকর্মী ও সাধারণ মানুষ যখন ধ্বংসস্তূপের নিচে বেঁচে থাকা মানুষদের খুঁজছে, তখন সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উত্তেজনা ও মরিয়া ভাব আরও বাড়ছে। দেশটিতে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের পর এরই মধ্যে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৩০ জনে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর শনিবার পর্যন্ত অন্তত ৬৮ হাজার ৯০০ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য জানিয়েছে পরিবারগুলো।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলোর অন্যতম লা গুয়াইরা। সেখানকার ধসে পড়া কংক্রিটের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীদের খোঁজে কোদাল, ভারী যন্ত্রপাতি, দড়ি ও খালি হাতেই উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোও। ধসে পড়া ভবনের ফাটল গলে তাদের ভেতরে ঢোকার দৃশ্য শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর মনে ক্ষীণ হলেও আশার আলো জাগাচ্ছে।
তবে সরকারের অপর্যাপ্ত পদক্ষেপের কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখন চরমে পৌঁছেছে। দেশটির সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সামরিক ক্যাডেটদের উপস্থিতি থাকলেও এত বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় তাদের প্রস্তুতিতে স্পষ্ট ঘাটতি লক্ষ করা গেছে। এর মধ্যেই সরকারি তৎপরতা খুব জোরালো, সরকারের এমন একটি ভাবমূর্তি জাহির করার চেষ্টায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
সহায়তা সংস্থাগুলোর মতে, ধ্বংসস্তূপ থেকে মানুষকে জীবিত উদ্ধারের জন্য প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। তবে খাবার ও পানির উৎস থাকলে এই সময়সীমা আরও বাড়তে পারে। ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার পর্যন্ত ১ হাজার ৬০০-রও বেশি উদ্ধারকর্মী নিয়ে ১৭টি বিমান দেশটিতে অবতরণ করেছে।
১৮ দিন আগে
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৯২০: জীবিত উদ্ধারের সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, বাড়ছে হতাশা
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের পর ৭২ ঘণ্টার সময় শেষের পথে। এরই মধ্যে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জনে দঁড়িয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পর তিন দিন অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ায় ধ্বংসস্তুপের নিচে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা আস্তে আস্তে ক্ষীণ হয়ে আসছে।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবরে বলা হয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উদ্ধার তৎপরতায় বিশৃঙ্খলা, জনসমাগম এবং পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তার অভাবে তাদের জীবিত উদ্ধারের প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে পড়েছে।
ভেনেজুয়ায় ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে ঘরবাড়ি ও বহুতল ভবন ধসে পড়ার তিন দিন পরও স্বজনদের খোঁজে সাধারণ মানুষ নিজেরাই ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা করছেন।
১৯ দিন আগে
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৬৪, আহত ৯৭১
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৯৭১ জন। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এ তথ্য জানিয়েছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যা ৬টার কিছু পরে ক্যারিবীয় উপকূলের মোরন শহরের পশ্চিমে, দেশটির রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার দূরে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, এর গভীরতা ছিল ২২ কিলোমিটার।
মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল মোরনের দক্ষিণ-পশ্চিমে ১৬ কিলোমিটার দূরে এবং গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার।
রদ্রিগেজ বলেন, ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। এছাড়া দুর্গত এলাকাগুলোর সব জায়গায় জরুরি সেবা পৌঁছাতে পারেনি। উদ্ধারকারী দলগুলো সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
এই ভূমিকম্প গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে ভেনেজুয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর অন্যতম। ভূমিকম্পের কম্পন পুরো অঞ্চলে অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পে দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় এক হাজার ৭০০ কিলোমিটার দূরের ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলেও বিভিন্ন ভবন থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকর্মীরা বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। রাজধানীর বাসিন্দারা আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসেন। ভূমিকম্পের পর অনেককে ধসে পড়া ভবন ও উপড়ে পড়া বৈদ্যুতিক খুঁটির ধ্বংসাবশেষের মধ্যে নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজ করতে দেখা যায়।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, লা গুইরা অঙ্গরাজ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ধুলায় ঢাকা জীবিত অবস্থায় তিন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। রদ্রিগেজ লা গুইরাকে ‘দুর্যোগকবলিত এলাকা’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ব্যাপকসংখ্যক ভবন ধসে পড়ায় এটি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি।
তিনি জানান, উপকূলীয় লা গুইরায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদারে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেক মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই দিনের আলো কাজে লাগিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
রদ্রিগেজ বলেন, ‘সেখানে বহু ভবন ধসে পড়েছে এবং জীবন বাঁচাতে আমরা ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, লা গুইরার একটি হাসপাতালের বাইরে বহু মানুষকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের কেউ মাটিতে, আবার কেউ হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
দক্ষিণ আমেরিকান ও ক্যারিবীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছে অবস্থান করলেও ভেনেজুয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প লাতিন আমেরিকার অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম ঘটে।
রদ্রিগেজ উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভারী নির্মাণযন্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানান। তিনি আরও জানান, জাতিসংঘ অনুমোদিত অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল ভেনেজুয়ার পথে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সহায়তার আশ্বাস
ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর আর্জেন্টিনা, চিলি, পানামা ও উরুগুয়েসহ বিভিন্ন দেশ ভেনেজুয়াকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক্সে এক পোস্টে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসা এবং ত্রাণ সহায়তা পাঠাচ্ছে।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে রদ্রিগেজ জানান, তিনি রুবিওর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এছাড়া কাতার, মেক্সিকো ও এল সালভাদোরও ইতোমধ্যে উদ্ধারকর্মী পাঠিয়েছে।
এল সালভাদোরের প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে, ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট দানিয়েল নোবোয়া এবং বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় মানুষের ঢল
টেলিভিশন সম্প্রচারে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছেন। অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত ভবন এড়িয়ে গাড়ি, মেট্রো স্টেশন ও অন্যান্য খোলা স্থানে রাত কাটিয়েছেন।
কারাকাসের বাসিন্দা হেক্তর রিচ্চি বলেন, ‘প্রথমে কম্পনটা মৃদু ছিল, পরে ধীরে ধীরে তীব্র হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত আমাদের সবাইকে ঘর ছেড়ে বাইরে এসে একত্র হতে হয়েছে।’
আরেক বাসিন্দা রবার্তো গামা বলেন, ‘আমাদের ভবনটি প্রচণ্ডভাবে দুলছিল। এমন শক্তিশালী কম্পন আগে অনুভব করিনি।’
ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। একে অনেক পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা নির্ধারিত প্রোটোকল অনুসরণ করে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছি। শিশু ও বয়স্কদের বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকুন; আত্মীয়স্বজনের খোঁজ নিন।’
ব্রাজিল ও কলম্বিয়াতেও কম্পন অনুভূত
ভূমিকম্পের কম্পন ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলের মানাউস, বেলেম ও মাকাপা শহরে অনুভূত হয়েছে। কলম্বিয়ার ক্যারিবীয় উপকূল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও কম্পন টের পাওয়া গেছে।
ভূমিকম্পের পর মার্কিন প্যাসিফিক সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র কয়েকটি সুনামি সতর্কতা জারি করলেও পরে সেগুলো প্রত্যাহার করে জানানো হয়, সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই।
একাধিক ভূ-ফলকের সংযোগস্থলে অবস্থান করলেও ভেনেজুয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প তুলনামূলক বিরল। তবে মেক্সিকো ও চিলির মতো লাতিন আমেরিকার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় দেশগুলোতে এ ধরনের ভূমিকম্প বেশি ঘটে। ভূকম্পনপ্রবণ ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ার কারণে ওইসব অঞ্চলে ভূমিকম্পের প্রবণতা বেশি।
২১ দিন আগে
ভয়াবহ দুই ভূমিকম্পে কাঁপল ভেনেজুয়েলা, নিহত অন্তত ৩২
ভেনেজুয়েলায় এক মিনিটের ব্যবধানে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ জন নিহত এবং প্রায় ৭০০ জন আহত হয়েছেন। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এ তথ্য জানিয়েছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যা ৬টার কিছু পরে ক্যারিবীয় উপকূলের মোরন শহরের পশ্চিমে, দেশটির রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার দূরে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, এর গভীরতা ছিল ২২ কিলোমিটার।
মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল মোরনের দক্ষিণ-পশ্চিমে ১৬ কিলোমিটার দূরে এবং গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার।
রদ্রিগেজ বলেন, ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। এছাড়া দুর্গত এলাকাগুলোর সব জায়গায় জরুরি সেবা পৌঁছাতে পারেনি। ফলে হতাহতের সংখ্যা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। উদ্ধার কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বুধবার রাতেই জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট জানান, ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হতাহতের হিসাবের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুইরা অঙ্গরাজ্যের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
২১ দিন আগে
দুই দিনে শতাধিক বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে ভেনেজুয়েলা
নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বন্দি হয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশটির কারাগারগুলো থেকে গত সপ্তাহের শেষ দুই দিনে বেশ কয়েকজন কয়েদিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মাদুরো বন্দি হওয়ার পর ওইসব ভিন্নমতাবলম্বীকে মুক্তি দিতে দেশটির বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ভেনেজুয়েলায় বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা ফোরো পেনাল এ তথ্য জানিয়েছে।
সংস্থাটির সভাপতি আলফ্রেদো রোমেরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে বলেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতিকে পথে ফেরানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত ৮ জানুয়ারি থেকে মোট ২৬৬ জন রাজনৈতিক বন্দি মুক্তি পেয়েছেন। আর গত দুই দিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে অন্তত ১০০ জনকে।
গত ৩ জানুয়ারি একটি বিশেষ অভিযানে মাদুরোকে আটক করে নিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে তার স্থলাভিষিক্ত হন ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ। তিনিই বর্তমানে দেশটির রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
এদিকে, নিজের ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে ভেনেজুয়েলা তার রাজনৈতিক বন্দিদের দ্রুত মুক্তি দিচ্ছে, যা আগামী অল্প সময়ের মধ্যে আরও বাড়বে। এই শক্তিশালী মানবিক পদক্ষেপে সম্মত হওয়ায় আমি ভেনেজুয়েলার বর্তমান নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানাতে চাই!’
১৭১ দিন আগে