জাকাত মেলা
চতুর্দশ জাকাত মেলা শুরু হচ্ছে শনিবার
‘ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় জাকাত’—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে রাজধানীতে শুরু হচ্ছে চতুর্দশ জাকাত মেলা। সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেডএম)-এর উদ্যোগে আগামী শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাবে দিনব্যাপী এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে। মেলার উদ্বোধন করবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেলার বিস্তারিত তুলে ধরেন সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান ও জাকাত মেলার আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ।
তিনি বলেন, দেশে এক লাখ কোটি টাকা জাকাত সংগ্রহের সম্ভাবনা রয়েছে। এই অর্থ সঠিকভাবে সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা করা গেলে বৈষম্যহীন, দারিদ্র্যমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর দেশে যে ন্যায়ভিত্তিক সমাজের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে জাকাত কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে।
ড. আবদুল মজিদ বলেন, দারিদ্র্যবিমোচনে সরকার বৈদেশিক ঋণ নেয়, অথচ দেশে বিপুল পরিমাণ জাকাত আদায়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এই অর্থ আদায় করা গেলে সরকারের ঋণনির্ভরতা কমবে এবং গৃহহীনতা ও চিকিৎসার অভাবে মানুষের মৃত্যুর মতো ঘটনাও কমে আসবে। তিনি বলেন, সঠিকভাবে জাকাত দেওয়া মানে শুধু সহায়তা নয়, মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলা, যাতে তারা ভবিষ্যতে দাতা হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দেশে ব্যক্তিগত উদ্যোগেই সবচেয়ে বেশি জাকাত আদায় হয় এবং এখনও শাড়ি–লুঙ্গী দেওয়ার প্রবণতা বেশি। ‘শাড়ি–লুঙ্গী দিয়ে সমাজ বদলাবে না। এর বদলে ভ্যানগাড়ি, ক্ষুদ্র ব্যবসা বা আয়ের সুযোগ তৈরি করলে টেকসই পরিবর্তন আসবে,’ বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সিজেডএমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া জানান, চলতি বছরে সংস্থাটির জাকাত সংগ্রহের লক্ষ্য ৯০ কোটি টাকা। তিনি বলেন, সিজেডএম মেধাবিকাশে সবচেয়ে বেশি কাজ করে আসছে। এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের সাড়ে ১৭ হাজার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীকে ৩০ মাস মেয়াদি ‘জিনিয়াস’ উচ্চ বৃত্তি হিসেবে মাসে চার হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরও বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের ৫০০ শিক্ষার্থী এই বৃত্তি পাচ্ছেন।
তিনি জানান, সারা দেশে সিজেডএমের ৬০টির বেশি প্রাইমারি হেলথ কেয়ার প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধসেবা দেওয়া হচ্ছে। সংস্থাটির ডায়ালাইসিস সেন্টারে মাসে ৬০ জন বিনামূল্যে ডায়ালাইসিস সেবা পাচ্ছেন এবং ৩০ জন থ্যালাসেমিয়া রোগীর চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৫টি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা পরিচালনার পাশাপাশি সাড়ে পাঁচ হাজার মানুষকে ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।
৩৬ দিন আগে