বাবা
পটুয়াখালীতে লঞ্চে শিশুকে ফেলে রেখে ‘বাবা’ উধাও
পটুয়াখালীর বাউফলে ঢাকাগামী ডাবল ডেকার লঞ্চ বন্ধন-৫-এ একটি মেয়ে শিশুকে রেখে এক ব্যক্তি পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি নিজেকে শিশুটির বাবা বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। শিশুটির বয়স ৬ থেকে ৮ মাস বলে ধারণার কথা জানিয়েছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার কালাইয়া লঞ্চঘাটে এ ঘটনা ঘটে।
লঞ্চের একাধিক যাত্রী ও লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানায়, গতকাল (বুধবার) বিকেল ৪টার দিকে কালাইয়া লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ধুলিয়া লঞ্চঘাটে নোঙর করলে এক ব্যক্তি ওই শিশুটিকে নিয়ে লঞ্চে ওঠেন। তিনি নিজেকে শিশুটির বাবা পরিচয় দিয়ে অন্য যাত্রীদের সঙ্গে বিছানা বিছিয়ে বসেন। তবে কিছু সময় পর শিশুটিকে রেখে লঞ্চ থেকে নেমে যান তিনি।
মো. সোহেল নামে এক যাত্রী বলেন, ওই ব্যক্তি ধুলিয়া ঘাট থেকে লঞ্চে উঠেন। লঞ্চে ওঠার কিছুক্ষণ পর বাচ্চাটির মা আসবে বলে তিনি লঞ্চ থেকে নেমে যান। লঞ্চ থেকে নামার সময় পাশের সিটের যাত্রীদের বাচ্চার প্রতি খেয়াল রাখার অনুরোধ জানিয়ে যান।
তবে লঞ্চটি ধুলিয়া ঘাট ত্যাগ করার পরও শিশুটির মা-বাবা কিংবা কোনো স্বজন লঞ্চে আসেননি। একপর্যায়ে বাচ্চাটি চিৎকার করতে থাকে। পরে যাত্রীরা বিষয়টি লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে জানান। এরপর লঞ্চ কর্তৃপক্ষ বাচ্চাটিকে কয়েকজন নারী যাত্রীর হেফাজতে রাখেন।
এ বিষয়ে এমভি বন্ধন-৫ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. সজল বলেন, কী কারণে শিশুটিকে রেখে লোকটি উধাও হয়ে গেছে তা বলতে পারছি না। শিশুটি কয়েকজন নারী যাত্রীর কাছে রয়েছে। খোঁজ-খবর নিয়ে শিশুটির পরিবারের সন্ধান করার চেষ্টা চলছে।
কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন বলেন, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে জেনেছি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
৩ দিন আগে
বাবার হাতেই অপহরণের শিকার ৮ বছরের শিশু, উদ্ধার করল পুলিশ
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় এক ব্যক্তি তারই সন্তানকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করেছেন। তবে পুলিশি অভিযানে সিয়াম (৮) নামের ওই শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত ১১টার দিকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সিয়ামের বাবা তার এক সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে তাকে অপহরণ করেন। পরে তাকে একটি নির্জন বাগানে বেঁধে গলায় ধারালো হাসুয়া ধরে তার মায়ের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দাবি করা অর্থ না দিলে শিশুটিকে হত্যা করে মরদেহ গুম করারও হুমকি দেন তারা।
ঘটনার খবর পেয়ে জীবননগর থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের টিম মাঠে নামে। অভিযানের একপর্যায়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে জীবননগর থানার পাকা দাসপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীর বাবা মো. আজিজুল (২৮) এবং তার সহযোগী মো. আক্তারকে (২৬) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় অপহরণের শিকার হওয়া সিয়ামকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
অভিযানকালে ভুক্তভোগীর জীবন রক্ষার্থে বিকাশের মাধ্যমে দেওয়া ১০ হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে ৭ হাজার টাকা এবং অপহরণে ব্যবহৃত একটি ধারালো হাসুয়া জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, শিশুটির মা বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সিয়ামকে অপহরণ করেন তার বাবা। শিশুটিকে জিম্মি করে গলায় ধারালো অস্ত্র ধরে ছবি তুলে তার মায়ের মুঠোফোনে ছবি পাঠান তারা। ওই নারীর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যেই এ নৃশংস ঘটনা ঘটানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় মামলা হয়েছে।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে শিশুটিক উদ্ধার করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে তারা সর্বদা কঠোর অবস্থানে নিয়েছেন। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
৩২ দিন আগে
বাবাকে হত্যা করেছি, ‘আমাকে ধরে নিয়ে যান’: ৯৯৯ নম্বরে কলে মেয়ে
সাভারে বাবাকে হত্যার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে আত্মসমর্পণ করেছেন মেয়ে। ফোনে মেয়ে বলেন, ‘আমি আমার বাবাকে হত্যা করেছি, আমাকে ধরে নিয়ে যান।’
পরে মেয়ের কাছ থেকে লোকেশন পেয়ে সাভার মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় জব্দ করা হয় হত্যার কাজে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরিও।
বৃহস্পতিবার (৮ মে) ভোরে সাভার পৌর এলাকার মজিদপুরের কাঠাল বাগান মহল্লার আবদুল কাদেরের মালিকানাধীন নূর মোহাম্মদ ভিলার পাঁচতলা ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
নিহত আব্দুর সাত্তার (৫৬) নাটোর জেলার সিংড়া থানার ভগা গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে।
বাড়ির কেয়ারটেকার রহিজ উদ্দিন বলেন, ‘গত পাঁচ মাস আগে বাবা ও মেয়ে ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। তবে তাদের ফ্ল্যাটে কি হয় না হয় আমরা কিছুই জানতাম না।’
সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রশিদ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৪টার দিকে ৯৯৯ কল করে এক মেয়ে জানান, বাবাকে হত্যা করেছি আমাকে ধরে নিয়ে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ও মেয়ে জান্নাত জাহান শিফাকে গ্রেপ্তার করেন।’
সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইমরান হোসেন বলেন, ‘গত ২০২২ সালে সিংড়া থানার বাবার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেছিল মেয়ে জান্নাত। সেই মামলায় বাবা আব্দুর সাত্তার বেশ কয়েক মাস কারাগারে ছিলেন। জামিনে বের হয়ে নিজের ভুল স্বীকার করে মেয়ের সঙ্গে আবার বসবাস শুরু করেন সাভারে। সেই মামলার সূত্র ধরেই বাবার সঙ্গে মেয়ে জান্নাতের বনিবনা হচ্ছিল না। মেয়েকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। অবশেষে বুধবার দিবাগত রাতে ভাতের সঙ্গে ২০টি ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে রাতে বাবাকে খেতে দেয়। পরে তার বাবা ঘুমিয়ে পড়লে ছুরি দিয়ে হত্যা করে। পরে ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফ্লাটে বাবা-মেয়ে দুজনে বসবাস করতেন। মেয়ের মায়ের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না। জান্নাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ও ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুঁড়ি জব্দ করা হয়েছে।’
এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে ও আসামিকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলেও জানান সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক।
৩৪৬ দিন আগে
মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ায় বাবার মুরগির খামার পুড়িয়ে দিল ছেলে
নরসিংদীর মনোহরদীতে মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ায় রাগ করে বাবার মুরগির খামার পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২১ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নের লেবুতলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
মুরগির খামার পুড়িয়ে দেওয়া জুনায়েদ (১৬) ওই এলাকার সৈয়দ মো. কামালের ছেলে।
পারিবাররে সদস্যরা জানান, কিছুদিন ধরে জুনায়েদ তার বাবাকে নতুন মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। সামর্থ্য না থাকায় কিনে দিতে রাজি হয়নি তার বাবা। যার কারণে বাবার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে বিকালে প্রথম দফায় মুরগির খামারে আগুন দেয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আগেই আগুন নিভিয়ে ফেলে। এর পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফাঁকা বাড়িতে দ্বিতীয় দফায় আবার ঘরে আগুন দেয়। এ সময় স্থানীয়দের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও মুরগির খামারের শেড, রান্না ঘর এবং বসত ঘরের কিছু অংশ পুড়ে যায়।
আরও পড়ুন: চাঁদপুরে মধ্যরাতের আগুনে পুড়ল ১১ দোকান, আহত ১০
এ বিষয়ে জুনায়েদের বাবা কামাল বলেন, ‘আমার একটি মোটরসাইকেল আছে। প্রায়ই সে চালাত। তার পরেও নতুন কিনে দিতে চাপ দিচ্ছিল। সামর্থ্য না থাকার কারণে গাড়ি কিনে দিতে আমি অস্বীকার করি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আগুন দেয় সে। ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।’
মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জব্বার বলেন, ‘মোটরসাইকেল কিনে দিতে ছেলে বাবাকে চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু বাবা অপারগতা প্রকাশ করায় ছেলে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।’
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েও ছেলেকে পাওয়া যায়নি, সে পালিয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
৩৬৩ দিন আগে
লক্ষ্মীপুরে তথ্য উপদেষ্টার বাবার ওপর হামলার অভিযোগ
লক্ষ্মীপুরে রামগঞ্জে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বাবা আজিজুর রহমানের (বাচ্চু) ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার (৩০ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার নারায়নপুরের মোল্লার বাড়ির সামনে এ ঘটনাটি ঘটে।
পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। এ ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রামগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে রামগঞ্জ থানার সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রবিবার বিকালে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান মঞ্জু উপজেলার ইছাপুর ইউপির নারায়ানপুর এলাকায় নিজ বাড়িতে আসেন। সে হাসিনার পতনের পর থেকে পলাতক ছিল। সন্ধ্যার পর মেহেদী হাসান মঞ্জুকে এলাকায় দেখতে পেয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সাগর হোসেন শুক্কুরের নেতৃত্বে কয়েকজন মিলে তাকে মারধর করার চেষ্টা চালায়। এ খবর শুনে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বাবা এগিয়ে গিয়ে বিষয়টি জানতে চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাগর হোসেন শুক্কুরসহ কয়েকজন তথ্য উপদেষ্টার বাবাকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। এতে তিনি হাতে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে আহত হন।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী হামলায় আ.লীগ নেতা নিহত
পরে তাকে উদ্ধার করে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এঘটনার জের ধরে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এনিয়ে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদিকে অভিযুক্ত সাগর হোসেনের সঙ্গে বারবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার বলেন, ‘যারাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে।’
৩৮৪ দিন আগে
শিশু ধর্ষণের খবরে বাবার মৃত্যু! ২ কিশোর গ্রেপ্তার
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে ১০ টাকার লোভ দেখিয়ে ৬ বছরের এক শিশুকে জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৯ মার্চ) বিকালে ধর্ষণের এই ঘটনাটি ঘটে।
শিশুটির মামা মুমিন মিয়া জানান, মেয়ের ধর্ষণের খবরে মারা যান তার বাবা। তিনি বলেন, ‘তার বাবা বেশ কিছুদিন যাবৎ অসুস্থ ছিল। তার মেয়ের ঘটনা শোনার পর থেকে তিনি অসুস্থবোধ করেন, একপর্যায় সকাল ১১টার দিকে মারা যান।’
এই ঘটনায় ভিকটিমের নানী মিনারা বেগম বাদী হয়ে বানিয়াচং থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন— বানিয়াচংয়ের দক্ষিণ যাত্রাপাশা বনমথুরা গ্রামের সাজমান মিয়ার ছেলে নোফায়েল মিয়া (১৭) ও একই এলাকার ফরিদ মিয়ার ছেলে শামীম মিয়া (১৫)।
আরও পড়ুন: ধর্ষণের শিকার চিকিৎসাধীন শিশুটি চোখের পাতা নেড়েছে: প্রেস উইং
স্থানীয়রা জানায়, গত ৯ মার্চ বিকালে শিশুটি দক্ষিণ যাত্রাপাশায় তার বাড়িতে খেলাধুলা করছিল। এক পর্যায়ে ওই শিশুটিকে ১০ টাকার লোভ দেখিয়ে বাড়ির পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় শিশুটির আত্ন-চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে কিশোররা পালিয়ে যায়। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে পাঠনো হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন। ওইদিন রাতেই অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে নোফায়েল ও শামীমকে আটক করে পুলিশ।
আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রবাস কুমার সিংহ বলেন, ‘শিশুটি ধর্ষণের ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৪০৫ দিন আগে
ছেলের দায়ের কোপে প্রাণ গেল বাবার
যশোরের চৌগাছায় পারিবারিক কলহের জেরে ছেলের দায়ের কোপে বাবার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত যুবক পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (৮ মার্চ) উপজেলার পাতিবিলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম শরিফুল ইসলাম। তিনি পাতিবিলা গ্রামের উত্তর পাড়ার বাসিন্দা এবং পেশায় কৃষক ছিলেন। তার ছেলে রিমন হোসেনই বাবাকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, পাতিবিলা গ্রামের শরিফুল মাস চারেক আগে তার ছেলে রিমনকে একই উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামে বিয়ে দেন। কিন্তু বিয়ের তিন মাস না যেতেই রিমনের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়।
পুলিশ আরও জানায়, রিমন নিহত শরিফুলের প্রথম স্ত্রীর সন্তান। পরবর্তীতে রিমনের বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন।
এদিকে, রিমনের প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তালাক হওয়ার পর তার দ্বিতীয় মা দেখেশুনে নিজের বোনের মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ে দেন। তবে দ্বিতীয় বিয়ের পরও ফের শুরু হয় পারিবারিক দ্বন্দ্ব।
আরও পড়ুন: নিজেদের পাতানো বৈদ্যুতিক ফাঁদে প্রাণ গেল দম্পতির
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (শুক্রবার) রিমনের স্ত্রীর (দ্বিতীয়) সঙ্গে বাবা ও সৎ মায়ের ঝগড়া হয়। এরপর রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে আজ ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রিমন দা নিয়ে তার বাবার ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় সেহরির খাবারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তার সৎ মা। এ সময় কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘুমন্ত অবস্থায় তার বাবাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন রিমন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে রিমন পালিয়ে যান। পরে শরিফুল ইসলামকে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘নিহতের লাশ উদ্ধার করে জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘাতক ছেলে পালিয়ে গেছে। তাকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। আইনি কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন।’
৪০৭ দিন আগে
খাগড়াছড়িতে মা-বাবাকে কুপিয়ে জখম, ছেলে আটক
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় পারিবারিক কলহের জেরে মা-বাবাকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে আবুল কালাম নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পরপরই ছেলেকে আটক করে পুলিশে দেন স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার বেলছড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: চাঁদপুরে ভাগ্নিকে পৈশাচিক ‘নির্যাতন’, মামা-মামি আটক
স্থানীয়রা জানায়, কালাম নেশাগ্রস্ত হয়ে বাড়িতে এসে রাতে ঘরে ঢুকে দা দিয়ে তার মা ও বাবাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। তাদের চিৎকারে প্রতিবেশিরা এগিয়ে এসে আবুল কালামকে আটক করে। পরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তফিকুল ইসলাম তৌফিক বলেন, ‘আটক আবুল কালাম থানা হেফাজতে রয়েছে। মূলত নেশা করতে বাধা দেওয়ার কারণেই মা-বাবার সঙ্গে দ্বন্দ্ব। আহত দুই জনকে প্রথমে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।’
৪০৮ দিন আগে
বাবার বিরুদ্ধে চুরির অপবাদের প্রতিবাদ করায় কিশোরীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন
কুড়িগ্রামে বাবার বিরুদ্ধে চুরির অপবাদের প্রতিবাদ করায় ১৫ বছরের এক কিশোরীকে টানা ৬ ঘণ্টা গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের কিতাবখা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজারহাট থানা পুলিশের সদস্যরা বেলা ৩টার দিকে সেখানে গিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করে। এ সময় অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে। ভুক্তভোগী ওই কিশোরী নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় কিশোরীকে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, অপবাদের প্রতিবাদ ও দাদির সঙ্গে দেখা করতে চাওয়ায় দাদা আব্দুল কাদের কয়েকজনের সহায়তায় সকাল ৯টার দিকে গাছের সঙ্গে বেঁধে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ ও মারধর করে হাঁটু, গলায়, পিঠে জখম করে।
ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় বাসিন্দা খন্দকার আরিফ বলেন, ‘তিনি গিয়ে ওই কিশোরীকে গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। তার উপস্থিতিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে। এই ঘটনায় জড়িতদের নামও জানিয়েছে ওই ভুক্তভোগী কিশোরী।’
স্থানীরা জানান, ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর ছোটবোন বেশ কিছুদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিল। তার দাদি নাতনির চিকিৎসার খরচের জন্য ওই কিশোরীর বাবাকে একটি গরু দেন। পরে ওই কিশোরীর দুঃসম্পর্কের দাদা আব্দুল কাদের (সাবেক মেম্বর) ওই কিশোরীর বাবার বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ আনেন ও চৌকিদার পাঠিয়ে হুমকি দেন। বাবাকে দেওয়া অপবাদের প্রতিবাদ করলে আব্দুল কাদেরের উঠানেই কিশোরীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে নির্যাতন করে সাবেক ওই মেম্বর।
রাজারহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তছলিম উদ্দিন বলেন, ‘ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবার থানায় এসেছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্র আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৪২৪ দিন আগে
পিরোজপুরে বাসচাপায় বাবা-ছেলে নিহত
পিরোজপুরে ইমাদ পরিবহন নামের একটি বাসের চাপায় বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। এ সময় ভ্যানচালক আহত হয়েছেন। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর-মাটিভাঙ্গা সড়কের রুহিতলাবুনিয়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন— পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার চালিতাবাড়ি গ্রামের মাহাবুব মোল্লা ও তার ছেলে ইয়াদ আলী মোল্লা। আহত ভ্যানচালক মইন শেখ উপজেলার হুগলাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানান, সকালে পিরোজপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্যাটারিচালিত ভ্যানটিকে চাপা দিলে তিনজন গুরুতর আহত হন।
আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় দুর্বৃত্তের গুলিতে কিশোর নিহত
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মশিউর রহমান বলেন, আহত তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদ আল ফরিদ ভূইয়া বলেন, ‘এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’
৪২৬ দিন আগে