ইটভাটা বন্ধ
নির্বাচন উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় ইটভাটা বন্ধ, পাম্পে তেল বিক্রি সীমিত
গণভোট উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গার ১২৫টি ইটভাটার কার্যক্রম ৫ দিন বন্ধ, একই সঙ্গে পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেল বিক্রি সীমিত করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় কামাল হোসেন বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চুয়াডাঙ্গার ১২৫টি ইটভাটার কার্যক্রম ৫ দিন বন্ধ রাখতে মালিকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেল বিক্রি সীমিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করতে প্রশাসনের পাশাপাশি গণমাধ্যমের দায়িত্বও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
জেলা প্রশাসক বলেন, জাল ব্যালট নিয়ে কেউ ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হবে। প্রতিটি বুথে ব্যালট বাক্স একজন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের সামনে থাকবে, যাতে কেউ জাল ব্যালট ফেলতে না পারেন। ভোটারদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই ব্যালট প্রদান করা হবে এবং একজনের ভোট অন্যজন দিতে পারবেন না।
সভায় এই সরকারি কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনের দিন নিরাপত্তায় আনসার, পুলিশ ও ডিবি পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, র্যাব ও সেনাবাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে। এর মধ্যে ১০ প্লাটুন বিজিবি, ৯ প্লাটুন সেনাবাহিনী, ৪ প্লাটুন র্যাব ও ৪ প্লাটুন আনসার এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব পালন করবে।
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে ৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে এবং ২ প্লাটুন রিজার্ভে রাখা হবে। অপরদিকে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ৭ প্লাটুন সেনাবাহিনী সক্রিয় থাকবে এবং ২ প্লাটুন রিজার্ভ অবস্থানে থাকবে। প্রতিটি প্লাটুনের সঙ্গে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন।
তিনি আরও বলেন, ভোট চলাকালীন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা তিন ধাপে মোকাবিলা করা হবে। প্রথম পর্যায়ে পুলিশ, প্রয়োজনে সেনাবাহিনী ও বিজিবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে। চুয়াডাঙ্গার দুই আসনের নির্বাচন পরিচালনায় মোট ১৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক জানান, কেন্দ্র থেকে ফলাফল আসার সঙ্গে সঙ্গেই তা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে সমন্বয় করা হবে। পোস্টাল ব্যালট ভোট গণনাও প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন করে ফলাফল চূড়ান্ত করা হবে।
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা নির্বাচনকালীন মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ, তথ্য সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতা এবং গণভোট নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে জেলা প্রশাসন সাংবাদিকদের সঙ্গে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেয়।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) তারিক উজ জামান, জেলা নির্বাচন অফিসার আহমেদ আলী, সহকারী কমিশনার আবদুল্লাহ আল নাঈম, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপনসহ জেলার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
৪ ঘণ্টা আগে