রংপুর-৪
রংপুর-৪ ও ৬ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ, আল্টিমেটাম
রংপুর-৪ ও রংপুর-৬ আসনে নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক ভোট বাতিল ও মব সৃষ্টির মাধ্যমে ফলাফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ তুলে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। ভোট পুনর্গণনা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই ভোট গণনা দাবিতে হারাগাছে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করছে ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ। তাদের দাবি, ভোট কারচুপি করে এমদাদ ভরসাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রংপুর-৪ আসনের হারাগাছে বিএনপি প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভ চলাকালে এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেছেন বিজয়ী প্রার্থী আখতার হোসেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিএনপির প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা।
এদিকে, রংপুর-৬ আসনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ফলাফল পাল্টানোর অভিযোগ অস্বীকার করে জনগণকে শান্ত থাকার অনুরোধ করেছেন বিজয়ী প্রার্থী মাওলানা নুরুল ইসলাম।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌর এলাকার হকবাজারে এমদাদুল হক ভরসার কর্মী সমর্থকরা ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ করেন এবং সড়কে যানচলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় হারাগাছ-রংপুর সড়ক অবরোধ করে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। রাত ১২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলতে দেখা যায়। এ সময় বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা সেখানে জড়ো হন এবং প্রতিবাদ করেন।
একই দাবিতে পীরগাছা উপজেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা। এসময় তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে ফল পুর্নগণনার জন্য জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান।
রংপুর ৪ আসনের ভোট পুনঃগণনার দাবি জানান জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবার রহমান। বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী উজ্জ্বল চন্দ্র রায় অভিযোগ করে বলেন, ‘ভোটের দিন প্রতিপক্ষ প্রার্থী আখতার হোসেন মব তৈরি করে নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন করেছেন। আমরাও চাই ভোটের ফলাফল পুনর্গণনা হোক।’
এ বিষয়ে অভিযোগকারী প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা জানান, নির্বাচনে তিনি জনগণের রায়ে বিজয়ী হবেন বলে শতভাগ আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু, বেলা ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে প্রতিপক্ষ আখতার হোসেনের লোকজন মব সৃষ্টি করে এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় ফলাফল পরিবর্তন করে।
তিনি আরও বলেন, ভোটে প্রায় ৮ হাজার ৫০০ ভোট বাতিল করা হয়েছে, যা সন্দেহজনক। পুনর্গণনা করলে প্রকৃত ফলাফল জনগণের সামনে আসবে বলেও জানান তিনি। সঠিক বিচার না পেলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ও আল্টিমেটাম দেন বিএনপির এই প্রার্থী।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে রাতে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি প্রার্থীর লোকজন মাইকিং করে এনসিপির কর্মীদের খুঁজে বের করে মারধর করেছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। বাড়িঘর ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রংপুর-৪ আসনে বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী এনসিপির প্রার্থী আখতার হোসেন শাপলা প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট।
এদিকে, রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনেও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি প্রার্থী সাইফুল ইসলামের কর্মী সমর্থকরা। তারা রাতে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বর ঘেরাও করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবিলম্বে ফল পুনঃগণনার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মো. নুরুল আমিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট।
১৩ ঘণ্টা আগে
‘জাতীয় পার্টির দূর্গ’ রংপুরের দখল নিল জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরের ৬ টি আসনের মধ্যে ৫টি আসনে জামায়াতে ইসলামী এবং ১টি আসনে তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের এনসিপি প্রার্থী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে জাতীয় পার্টির দূর্গ হিসেবে পরিচিত রংপুরে দখলে নিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট।
রংপুর-১ (গংগাচড়া) আসন
এই আসনের ১৩৯ টি কেন্দ্রের সবকটি কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রায়হান সিরাজী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মোকাররম হোসেন সুজন পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৪০৭ ভোট।
রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসন
এই আসনের ১৩৭ টি কেন্দ্রের সবকটি কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৮০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকার ৭৯ হাজার ৮৭০ ভোট পেয়েছেন।
রংপুর-৩ (সদর ও রসিক) আসন
এই আসনের ১৬৯টি কেন্দ্রের সবকটি কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী, জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল ১ লাখ ৭৫ হাচার ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট। এছাড়া এই আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৪৩ হাজার ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের।
রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসন
এই আসনের ১৬৩টি কেন্দ্রের সবকটি কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬১৬ ভোট পেয়েছেন ।
রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসন
এই আসনের ১৫২টি কেন্দ্রের সবকটি কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৭৫ হাজার ২০৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামী অধ্যাপক গোলাম রব্বানী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী গোলাম রব্বানী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ১৪১ ভোট।
রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসন
এই আসনের ১১৩ টি কেন্দ্রের সবকটি কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮৯০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের প্রাথী মাওলানা নুরুল আমীন। তিনি ২০২৫ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ১ লাখ ১৬ হাজার ৯১৯ ভোট পান।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, রংপুরের ৬টি সংসদীয় আসনে ৪৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার সংখ্যা ১৩ লাখ ৬ হাজার ৩৩৩ জন এবং পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১২ লাখ ৯২ হাজার ৮৩৮ জন। আর হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৩১ জন।
জেলায় মোট ৮৭৩টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ৯৮৮টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৮৭৩ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ৫ হাজার ১৮ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ১০ হাজার পোলিং কর্মকর্তা ভোটগ্রহণ করেন।
ফলাফল হাতে পাওয়ার পর প্রার্থীরা ভোটারদের প্রতি সন্তুষ্টি এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
১ দিন আগে