শেখ রবিউল আলম
আড়াই বছরের মধ্যে ঢাকার বাইরে যাবে চার বাস টার্মিনাল: সড়কমন্ত্রী
দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে চারটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল ঢাকার বাইরে সরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এ কথা বলেন। টার্মিনালগুলো হল— গাবতলী বাস টার্মিনাল, মহাখালী বাস টার্মিনাল, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এবং ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল।
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখেছি বাস টার্মিনালগুলোতে সারাদিন বাস থাকে। ওখানে ওয়ার্কশপ হয়ে গিয়েছে। একটি বাস আট-দশ দিন ধরে ওখানে রং করছে, ডেন্ট করছে, ইঞ্জিন ডাউন দিয়ে আবার সেটা রিসেট করছে—এরকম চলছে। এটা ওখানে চলবে না। আমরা ডিপো করার জন্য পরিকল্পনা নিয়েছি, একটা ৩০০ ফিটে। একটা হচ্ছে কাঁচপুরে। কাঁচপুরে যেটা আমরা ডিপো করছি, সেটা টার্মিনালই হয়ে যাবে। সায়েদাবাদ টার্মিনাল আস্তে আস্তে কাঁচপুরে চলে যাবে। ফুলবাড়িয়া টার্মিনালটা চলে যাবে কেরানীগঞ্জে, জেলখানার ঠিক বিপরীতে। গাবতলী বাস টার্মিনাল চলে যাবে হেমায়েতপুরে।’
তিনি বলেন, এভাবে টার্মিনাল শিফট হবে, কিন্তু এখনই হচ্ছে না। এখন ডিপো হিসেবে ওখানে ব্যবহার হবে। আর এখান থেকে গাড়ি ছাড়বে, কিন্তু গাড়িগুলো (টার্মিনালে) আসবে আবার কখন? গাড়ি ছাড়ার যে সময় আছে, তার আগে আসবে। আসবে এবং গাড়ি এখান থেকে ছেড়ে যাবে।
মন্ত্রী বলেন, গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার হবে, বাসের ওই ডিপো হিসেবে ব্যবহার হবে না। আলাদা ডিপো করে আমরা ওখানে পর্যায়ক্রমে দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে বাস টার্মিনালগুলো সরিয়ে নেব।
তিনি বলেন, গাবতলীরটা হেমায়েতপুর, মহাখালীরটা উত্তরা, আব্দুল্লাহপুরের কাছাকাছি ওখানে ৫০ বিঘা জায়গা অ্যাকোয়ার করতে চলেছি আমরা ইতোমধ্যে। তার আগ পর্যন্ত ডিপোটা হবে ৩০০ ফিটে। কাঁচপুরে চলে যাবে সায়েদাবাদ টার্মিনাল। ফুলবাড়িয়ারটা চলে যাবে কেরানীগঞ্জে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘আর এটা আমরা এনসিওর (নিশ্চিত) করতে চাচ্ছি যে কলাবাগান, কল্যাণপুর—যে সমস্ত জায়গায় কাউন্টার, এসি কাউন্টারকে বা অনেকগুলি বেসরকারি বাসের কাউন্টারকে কেন্দ্র করে টেম্পোরারি টার্মিনালের মতো হয়েছে, রাস্তার পাশে বাস দাঁড়িয়ে থাকে, তারা কাউন্টারগুলি পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেবে। আর অবশ্যই কাউন্টারের সামনে বাস এনে যাত্রী উঠাতে পারবে না—আমরা মোটামুটি এই পদক্ষেপ নিয়েছি।’
মন্ত্রী বলেন, ঢাকায় নানা ধরনের যানবাহন চলাচল করে। একটা নগরীতে এরকম চলে না। রেল আছে, মেট্রোরেল আছে, মনোরেল আছে, বাস আছে—এইটাই হলো মৌলিক। আর ব্যক্তিগত গাড়ি আছে। আমরা ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছি যে বাস ব্যক্তি মালিকানায় একই রুটে, দুই-চার-দশজন মালিকের বাস বিচ্ছিন্নভাবে চলবে না। যেটা প্রতিযোগিতা হয়, কেউ টার্মিনালে থামে না, টার্মিনালও নির্দিষ্ট না, লোক যেখানে হাত তোলে সেখানে থামিয়ে দেয়। এই পদ্ধতিতে আমরা বাস আর চালাব না।
প্রত্যেক রুটের বাস মালিকদের নিয়ে কোম্পানি গঠন করা হবে জানিয়ে পরিবহনমন্ত্রী বলেন, নির্দিষ্ট বাস, একই কালারের, নির্দিষ্ট মানের, ফিটনেস রেখে, ফ্যাসিলিটিজ রেখে চালাতে হবে। সেক্ষেত্রে আমরা ইলেকট্রিক ভেহিকেলকে উৎসাহিত করছি। এই কাজ অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে। মালিকরা কোন রুটে কোন কোম্পানি করবে, সে ব্যাপারেও তারা কিন্তু কাজ করছে। প্রথমত, আমরা চাচ্ছি যে বাস ব্যবস্থাপনা এবং চলাচলের ক্ষেত্রে একটা শৃঙ্খলা আনতে। দ্বিতীয়ত হচ্ছে রুট, তৃতীয়ত হচ্ছে ট্রাফিক সিগন্যাল অথবা নির্দিষ্ট টার্মিনালে থামবে এবং নির্দিষ্ট টার্মিনাল থেকে উঠবে—এই ব্যবস্থাপনাটা।
ঢাকার ভেতরে যত্রতত্র গড়ে ওঠা বাস কাউন্টার ঈদের এক এক-দেড় মাস আগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরবর্তী সময়ে মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠন, সিটি করপোরেশন, মেট্রোপলিটন পুলিশ, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ, আমার মন্ত্রণালয়ে আমরা সভা করেছি। সে সভায় আমরা তিন মাসের জন্য একটা সময় নির্ধারণ করেছিলাম। ঈদের আগে অথবা এই মুহূর্তে, যেভাবেই বলেন না কেন, এই রাস্তার পাশে যে কাউন্টারগুলি আছে, সেটা হঠাৎ করে বন্ধ করে দিলে যাত্রী দুর্ভোগ হবে। কারণ যাত্রীরা এখানেই এসে, এই প্রক্রিয়ায় অভ্যস্ত।
শেখ রবিউল আলম বলেন, তাদের সময় দেওয়া দরকার। আমাদের বাস টার্মিনালগুলি এখনও পর্যন্ত ভালো মানের বাস, এসি বাস অথবা যেখানে অনেক বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে, একজন যাত্রী আরাম অনুভব করে, এই বাসগুলি বাস টার্মিনাল থেকে ছাড়ার উপযুক্ত কাঠামো এবং ব্যবস্থাপনা বাস টার্মিনালগুলিতে নেই। সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী কোথাও এ ব্যবস্থাপনা নেই। যাত্রীরা যেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না তার একটা কারণ হলো পরিবেশগত, আরেকটা হলো ফ্যাসিলিটিজগত (সুবিধাগত)।
তিনি বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বাস টার্মিনালগুলোতে এই সুবিধাগুলো সিটি করপোরেশন নিশ্চিত করবে। টয়লেট, ফ্যানগুলি যাতে চলে, অপেক্ষার জন্য বড় রুম—এসব সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে। তবে তাদেরও কিছুটা সময় লাগবে। এটা হয়ে গেলে তিন মাস পর তারা ওখানে যাবে। এটা প্রিভিউ মিটিং দুই-তিন দিন আগে হয়েছে মাত্র। সেখানে এই সময়টা আর এক মাস বাড়িয়ে করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বাস মালিক সমিতির লোকেরা বলেছে, তারা ওই পরিবেশ পেলে, জায়গা পেলে তারা নিজেরাই অবকাঠামো করে নেবে বাস টার্মিনালে। তারা একমত পোষণ করেছে। আমি কিন্তু তাদের সহযোগিতা এখানে পেয়েছি। সিটি করপোরেশন ডেভেলপ করে দিতে চেয়েছে, আর মেট্রোপলিটন পুলিশ দায়িত্ব নিয়েছে, তারা পরিবেশটা নিশ্চিত করবে। মানুষ যাতে নিরাপদ থাকে সেজন্য পর্যাপ্ত সড়কবাতি থাকবে, সিসি ক্যামেরা থাকবে—তাহলে মানুষ উৎসাহিত হবে ওখানে যেতে।
তিনি আরও বলেন, এই পদক্ষেপ নিয়ে আমরা এগোচ্ছি। মনে হচ্ছে, চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে পরিপূর্ণ না হলেও একটা পরিবর্তন আপনারা এই বাস টার্মিনালগুলিতে দেখবেন।
বিএসআরএফের সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপ সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।
৫ দিন আগে
রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে আরও ১০ জেলা
দেশের আরও ১০ জেলা রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
ঢাকার পার্শ্ববর্তী এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলের দশ জেলায় রেলসেবা সম্প্রসারিত হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।
রেলমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে এবং সভাপতিত্বে আজকে রেল মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ কার্যক্রম এবং সামগ্রিক কানেক্টিভিটি, সামগ্রিক সেবা কী পর্যায়ে আছে এবং উত্তরণের জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, কী কার্যক্রম চলমান আছে এবং আগামীতে কী কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে—সে বিষয়ে একটা সভা ছিল। প্রধানমন্ত্রী সেটা জেনেছেন, দেখেছেন, বুঝেছেন এবং তার মতামতও যুক্ত করেছেন। সেই সামগ্রিক যোগাযোগ কানেক্টিভিটি এবং সেবার মান নিয়ে একটা পর্যালোচনাপূর্বক বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
তিনি বলেন, 'ইতোমধ্যেই আমরা বড় কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চলেছি, যেমন: আখাউড়া-সিলেট, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া সেটা তো আছেই, একই সময়ে আমাদের ধীরাশ্রমে একটা আইসিডি কন্টেইনারের প্রকল্প ইতোমধ্যে পাশ হয়েছে এবং ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার যে রাস্তা সেটায় কিছু মিটারগেজ-ব্রডগেজ হচ্ছে।
‘মিটারগেজ যেখানে আছে বিশেষ করে টঙ্গী থেকে আখাউড়া এবং লাকসাম থেকে সিলেট এতটুকু মিসিং লিংক আছে, সেটা ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন হবে। সেই ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঢাকা থেকে কুমিল্লা একটা কর্ড লাইন এটাও খুব জরুরি সে ব্যাপারেও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটা বাস্তবায়ন করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এবং প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করার তাগাদা এসেছে।’
বর্তমানে দেশের ৪৯টি জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে ছিল ৬৪ জেলাকেই আমরা রেল যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত করতে চাই। সেই লক্ষ্যে নতুন আরও ১০টি জেলাকে কীভাবে রেল সংযোগ বা রেল যোগাযোগ কিংবা রেল সেবা নিশ্চিত করা যায় সে ব্যাপারে রেল লাইন এবং তার সার্ভিস প্রসারিত করার জন্য প্রকল্প গ্রহণের তাগাদা এসেছে। সেটা বাস্তবায়ন করার জন্য আগামী দিনের সম্ভাব্য প্রেজেন্টেশন, সম্ভাব্য রেল লাইন, এটা আমরা উপস্থাপন করেছি। অর্থাৎ আমরা আরও ১০টা জেলা যুক্ত করতে চাইব।
শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমান সরকার চাচ্ছে এবং চাইবে এবং তা বাস্তবায়ন করার জন্য প্রকল্প গ্রহণ করবে। এইসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যেগুলি আছে সেটা তো আছেই, যেখানে একেবারেই নেই, যেমন: মানিকগঞ্জ, ঢাকার কাছে নেই। তাই আমরা চাচ্ছি, যেহেতু কমিউটার ট্রেন চালুর একটা ব্যবস্থা আমাদের অঙ্গীকার আছে, যেমন: ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা-টঙ্গী, জয়দেবপুর, ঢাকা-মানিকগঞ্জ, ঢাকা-নরসিংদী। মানিকগঞ্জ ট্রেন যোগাযোগ নেই , তাই আমরা ঢাকা-মানিকগঞ্জ এটা করার একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে কমিউটার ট্রেন চালু করব। যাতে ঢাকা থেকে মানুষ তার ব্যবসা, কর্ম সবকিছু ছেড়ে পাশের জেলাগুলিতে দ্রুততম সময় যেতে পারে এবং কাজ সেরে আসতে পারে। এই ধরনের একটা সংযোগ করার চিন্তা আছে।
৭ দিন আগে
নৌপরিবহন খাত-সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে: মন্ত্রী
নৌ পরিবহন খাতের শ্রমিক, নাবিক, মালিক ও ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে অসন্তোষ ও সমন্বয়হীনতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
রবিবার (১০ মে) রাজধানীর ঢাকা লেডিস ক্লাবে নৌ পরিবহন অধিদপ্তর আয়োজিত ‘নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ ২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ রবিউল আলম বলেন, একটি নৌযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে যত দপ্তর ও সংস্থা প্রয়োজন, তার সবই দেশে রয়েছে। শুধু নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনেই প্রায় ১৬টি সংস্থা কাজ করছে। তারপরও ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি ও অপূর্ণতা থেকে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, এর দায় এককভাবে কারও নয়, বরং সবার। শ্রমিকরা দেশ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন, কিন্তু রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে মালিক, শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল হতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনও অনেকাংশে শ্রমনির্ভর। গার্মেন্টস শ্রমিক ও প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান ছাড়া দেশের অর্থনীতি সচল রাখা সম্ভব নয়। একইসঙ্গে দেশের ভেতরের শ্রমজীবী মানুষেরাও নীরবে রাষ্ট্র গঠনে কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক আশীর্বাদগুলোর একটি হলো প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার নৌপথ।
৪৪ দিন আগে
বর্ধিত ভাড়া ডিজেলচালিত যানবাহনের জন্য, সিদ্ধান্ত না মানলে ব্যবস্থা: পরিবহনমন্ত্রী
সরকার-নির্ধারিত বর্ধিত বাসভাড়া শুধুমাত্র ডিজেলচালিত যানবাহনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং এই সিদ্ধান্ত অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি নতুন ভাড়ার এই ঘোষণা দেন।
ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা করে বাসভাড়া বাড়িয়েছে সরকার। সে হিসেবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ৫৩ পয়সা। এক্ষেত্রে ভাড়া বেড়েছে ৪.৪৫ শতাংশ। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) এলাকায় কিলোমিটার প্রতি বাসভাড়া ২ টাকা ৩২ পয়সা ছিল। সেটা ১১ পয়সা বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ৪৩ পয়সা, অর্থাৎ ভাড়া বেড়েছে ৪.৭৪ শতাংশ।
এ ছাড়াও দূরপাল্লার পথে বাসভাড়া কিলোমিটারে ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ২৩ পয়সা। এক্ষেত্রে ৫.১৯ শতাংশ বেড়েছে ভাড়া।
নতুন ভাড়া ঘোষণা করে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, আজ থেকেই নতুন ভাড়া কার্যকর হবে। স্থানভেদে বাস ও মিনিবাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ৮ ও ১০ টাকাই বহাল আছে। বাস ছাড়াও ডিজেলচালিত ট্রাক এবং অন্যান্য যানবাহনের ক্ষেত্রে এই ভাড়া প্রযোজ্য হবে।
তিনি বলেন, আমরা এ ভাড়া নির্ধারণ করেছি শুধু ডিজেলচালিত বাসের জন্য। সিএনজিচালিত বাসের ভাড়া এখানে বিবেচনায় আসেনি।
মন্ত্রী বলেন, বাস মালিকরা যদি এই সিদ্ধান্তের ব্যত্যয় করার চেষ্টা করেন, তাহলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বিআরটিএ’র নির্ধারণ করা এবং আমরা আলোচনা করে যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি, বাস মালিকরা অঙ্গীকার করেছেন যে তারা এই সিদ্ধান্ত যেকোনো মূল্যে মানবেন এবং অনুসরণ করবেন। যেহেতু তারা অঙ্গীকার করেছেন, এর ব্যত্যয় না হওয়া পর্যন্ত আমাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন না করার অনুরোধ করব।
রবিউল আলম বলেন, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে পরিবহন খাতে ভাড়া বাড়ানোর একটা দাবি উত্থাপিত হয়েছে এবং সেটাকে নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। আমরা এটাকে সমন্বয় করতে চেয়েছি মাত্র, ভাড়া বৃদ্ধি হিসেবে এটাকে দেখতে চাচ্ছি না।
তিনি বলেন, জনস্বার্থ বিবেচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়েছি যে প্রতি কিলোমিটারে ঢাকা এবং চট্টগ্রাম মহানগরে ভাড়া ১১ পয়সা করে বাড়বে।
পরিবহনমন্ত্রী বলেন, আন্তঃজেলা যেখানে ৫২ সিটের গাড়ি আছে, সেখানেও প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ১১ পয়সা বাড়বে। আর ডিটিসিএ একটা এরিয়া আছে আপনারা জানেন এবং মিনিবাস, সেখানেও প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানোর বা একটা সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের আগে থেকেই একটা ফর্মুলা আছে যে তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কতটুকু সমন্বয় হবে ভাড়া, তার একটা ফরম্যাট আছে। যেহেতু তাতে ১৫ টাকা বেড়েছে, তো সেখানে পরিবহন মালিক সমিতির দাবি ছিল প্রায় ২৮ পয়সার মতো ভাড়া বাড়ানো। তারা সেখানে ডলারের দাম বাড়ার ফলে তাদের যে পার্টসগুলো আমদানি করতে হয়, বাস আমদানি করতে হয়, সেখানে আগের চেয়ে অনেক বেশি বিনিয়োগ করতে হচ্ছে। এতে ব্যয় বাড়ছে, রক্ষণাবেক্ষণ খরচও বাড়ছে; সেটাও তারা এখানে যুক্ত করতে চেয়েছে। পরবর্তীতে এসে ক্যাবসহ (বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ) অন্যদের পরামর্শক্রমে এটা ২২ পয়সাতে এসে ঠেকে। আমরা সর্বশেষ গতকাল (বুধবার) এবং আজ দুই দিন সবার সঙ্গে মিটিং করেছি।
রবিউল আলম বলেন, আপনাদের জানিয়ে রাখি যে এই সমন্বয়টা শুধু এবার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে না, তেলের দাম পুনরায় কমলে আবার এই একই প্রক্রিয়ায় ভাড়া কমবে। আবার তেলের দাম যদি বাড়ে কোনো কারণে, তাহলে একই প্রক্রিয়ায় ভাড়া সমন্বয় হবে। অর্থাৎ এই সমন্বয়টা একটা চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে থাকবে। এর জন্য নতুন করে আর মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হবে না বলে মনে করছি।
বাস মালিকদের অন্যান্য বেশ কিছু দাবি থাকলেও সরকার এই মুহূর্তে তা বিবেচনায় নিচ্ছে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আশা করছি যতটুকু সমন্বয় করা হয়েছে তা যথোপযুক্ত। এই পরিস্থিতিতে যেহেতু জ্বালানির দাম বেড়েছে, আমরা এতটুকুই সমন্বয় করতে সক্ষম হলাম।
ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি কীভাবে মনিটরিং হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মনিটরিং আমাদের আগেও আছে। এটা প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।
রেলের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসছে কিনা জানতে চাইলে রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘না, রেলের ভাড়ার ব্যাপারে, বাড়ানোর ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা এখনো পর্যন্ত সেটাকে বিবেচনায় নিচ্ছি না। নৌ-এরটাও এখনো পর্যন্ত আমাদের বিবেচনায় আসেনি।’
উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সরকার। প্রতি লিটার ডিজেল ১৫ টাকা, অকটেন ২০ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা ও কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা বাড়ে। জ্বালানি তেলের নতুন দাম ১৯ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়।
এরপরই গণপরিবহনের ভাড়া বাড়াতে তৎপর হয়ে ওঠেন মালিক ও শ্রমিকরা। তাই, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়িয়েছে সরকার।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে এর আগে ২০২২ সালে বাস ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল।
৬১ দিন আগে
ভারত থেকে আসছে ২০০টি ব্রডগেজ কোচ: রেলমন্ত্রী
রেলওয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও যাত্রীসেবার মান উন্নত করতে ভারত থেকে চলতি বছরে ২০০টি ব্রডগেজ কোচ আসার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সংসদে বিরোধী দল (জামায়াত) সমর্থিত সংসদ সদস্য মো. ইলিয়াস মোল্লার (ফরিদপুর-১) এক টেবিল উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
রেলমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে এ বছর ভারত থেকে ২০০টি ব্রডগেজ কোচ আসার কথা রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় চলতি বছরের জুন থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ২০০টি কোচই বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কোচগুলো হাতে পাওয়ার পর বাংলাদেশ রেলওয়ে নতুন ট্রেন পরিচালনার রুট নির্ধারণের উদ্যোগ নেবে বলেও জানান তিনি।
সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেনের (বগুড়া-৪) অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে সারা দেশে মোট ৩ হাজার ৪২৮ দশমিক ৯ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৯১ দশমিক ৪৩ কিলোমিটার মিটারগেজ, ১ হাজার ৬৬ দশমিক ৬০ কিলোমিটার ব্রডগেজ এবং ৭৭০ দশমিক ৬ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেলপথ।
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্যতা ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন ব্রডগেজ ও ডুয়েলগেজ লাইন স্থাপনের মাধ্যমে রেলওয়ে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সারের (গাইবান্ধা-৪) এক প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ঢাকা ও উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর মধ্যে ১৫টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করছে। ভারত থেকে নতুন কোচ আসতে শুরু করলে এসব রুটের কয়েকটিতে আন্তঃনগর ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হবে।
যাত্রীদের আরামদায়ক ট্রেন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে এবং পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে রেলওয়ের রাজস্ব বাড়াতে সরকার অদূর ভবিষ্যতে ২৬০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ, ৪৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) এবং ৫০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের প্রকল্প অনুমোদনের কাজ করছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
৭৫ দিন আগে
অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প পুনর্বিবেচনা করা হবে: সেতুমন্ত্রী
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নেওয়া অপ্রয়োজনীয় ও লোক দেখানো প্রকল্পগুলো পুনর্বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার রামনাবাদ নদীর ওপর নির্মিত সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জনস্বার্থ বিবেচনায় প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ সময় তিনি আসন্ন ঈদ যাত্রায় গণপরিবহনে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার কথাও জানান, যাতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো যায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
৯৮ দিন আগে
ঈদে বাসে অতিরিক্ত ভাড়া নিলে রুট পারমিট বাতিল: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী
ঈদের সময় কোনো বাস কোম্পানি অতিরিক্ত ভাড়া নিলে তার রুট পারমিট বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সভা কক্ষে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুতি নিয়ে সভা শেষে তিনি এ কথা জানান।
ঈদ আসলেই পরিবহনের ভাড়া বেড়ে যায় এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্দিষ্ট ভাড়া নির্ধারণ করা আছে। সেই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে একটি টাকাও বেশি নিলে আমাদের জানান, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে। এটার নিয়ন্ত্রণ যেকোনো মূল্যে করা হবে।
সভায় পরিবহন মালিকরা উপস্থিত ছিলেন, তারা ভাড়া বেশি নেবেন না বলে নিশ্চিত করেছেন বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসের ভাড়া নির্ধারিত নেই তারা ইচ্ছামতো ভাড়া নেয়, এ বিষয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, কোনো বাসেরই ইচ্ছেমতো ভাড়া নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্ধারিত ভাড়া অনুমোদিত কিনা, সেটা প্রশ্ন করতে পারেন। নির্ধারিত ভাড়া নেবে, ইচ্ছেমতো কোনো ভাড়া নিতে পারে না।
আপনি কী তাহলে বলছেন ঈদের সময় কেউ অতিরিক্ত ভাড়া নিলে, সেই বাস কোম্পানির বিরুদ্ধে আপনি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, আসলে নয়, সত্যিকার নেব। সেটা আপনারা দেখতে পাবেন।
কি ধরনের ব্যবস্থা নেবেন এ বিষয়ে তিনি বলেন, যদি অতিরিক্ত ভাড়া নেয়, তবে রুট পারমিট বাতিল করা হবে। ওই ভাড়া নিতে গিয়ে যদি ফৌজদারি অপরাধ ঘটে থাকে, তাকে শাস্তির আওতায় আসতে হবে।
১১০ দিন আগে
জাহাজ থেকে খাদ্যপণ্য খালাসে দেরি হলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি
নির্ধারিত সময়ে আমদানিকৃত গম ও ভুট্টাবাহী লাইটার জাহাজ থেকে খাদ্যপণ্য গুদামে খালাস না করে দীর্ঘদিন নদীতে নোঙর করে রাখলে জড়িত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নৌপরিবহন, সড়ক ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে মুন্সিগঞ্জ জেলার ধলেশ্বরী নদী এলাকায় আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী জানতে পারেন, খাদ্যপণ্যবাহী কয়েকটি লাইটার জাহাজ ৬ থেকে ১৮ দিন ধরে নোঙর করে রাখা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, এসব পণ্য দ্রুত নির্ধারিত গুদামে খালাস করার কথা থাকলেও তা যথাসময়ে করা হয়নি। এরপর ওই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, খাদ্যপণ্য জাহাজে অযৌক্তিকভাবে ফেলে রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা অধিক মুনাফা অর্জনের কোনো অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না। এতে বাজার ব্যবস্থাপনা ও ভোক্তা স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকার এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অধীনে গঠিত টাস্কফোর্স নিয়মিতভাবে নদীপথে অভিযান ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গত দেড় মাসে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও যশোর অঞ্চলে মোট ৮৩৮টি জাহাজ পরিদর্শন করা হয়েছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি সংশ্লিষ্ট সব আমদানিকারক, পরিবহনকারী ও ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত বিধিবিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানান এবং খাদ্যপণ্য দ্রুত খালাস ও যথাযথ সংরক্ষণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
১১৫ দিন আগে