শেখ রবিউল আলম
বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে বাড়ল ১৭ পয়সা
সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার থেকেই নতুন ভাড়া কার্যকর হবে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া বাড়ানোর এ ঘোষণা দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এর আগে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৭০ পয়সা করা হয়েছে।
অন্যদিকে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়েছে।
এছাড়া ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) আওতাধীন এলাকায় বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৪৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৬০ পয়সা হয়েছে।
শেখ রবিউল আলম আরও জানান, আজই (মঙ্গলবার) নতুন ভাড়া নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি হবে এবং আজ থেকেই তা কার্যকর হবে।
এর আগে গত রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সরকার চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ায়, যা পরদিন সোমবার থেকে কার্যকর হয়। সর্বশেষ এ সমন্বয় অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা ও অকটেনের দাম ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
১২ দিন আগে
২০২৯ সালের জুনের মধ্যে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৬ লেনের হবে: মন্ত্রী
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি আরও বলেন, এ লক্ষ্যে প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ, নির্মাণকাজসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার শশই এলাকায় সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সড়ক ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়ক। এটি ছয় লেনে উন্নীত করার প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ছয় মাসে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের ফলে প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের অগ্রগতি প্রায় ৫৬ শতাংশে পৌঁছেছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে শতভাগ ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের ভৌত কাজের অগ্রগতিও এগিয়ে যাচ্ছে। প্রকল্পের ১৩টি প্যাকেজের মধ্যে আটটির কাজ সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে। তবে পাঁচটি প্যাকেজের কাজের অগ্রগতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে নেই। যেসব ক্ষেত্রে কাজের অগ্রগতিতে বিচ্যুতি রয়েছে, সেসব সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ আরও গতিশীল করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
শেখ রবিউল আলম বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উন্নয়ন শুধু একটি সড়ক অবকাঠামো প্রকল্প নয়; এটি দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, পর্যটন ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ আরও দ্রুত, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে। একই সঙ্গে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
নির্মাণকাজ চলমান থাকায় মহাসড়কের কিছু অংশে সাময়িকভাবে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি জনগণের চলাচলে ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ সময় নির্মাণকাজের গুণগতমান নিশ্চিত, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা এবং সড়ক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। যেসব অংশে কাজের গতি কম, সেসব অংশে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে গতি বাড়ানোর নির্দেশও দেন তিনি। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
দিনব্যাপী সফরে মন্ত্রী সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাঁচপুর-নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ অংশ পরিদর্শন করেন। প্রকল্পের বিভিন্ন অংশ সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তিনি।
এ সময় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং নির্মাণকাজে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
১৫ দিন আগে
টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর
টেকসই, সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অবকাঠামো উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, অবকাঠামো উন্নয়ন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আঞ্চলিক যোগাযোগ, সামাজিক উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার কো-অপারেশন কনফারেন্স (জিআইসিসি) ২০২৬-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার ভূমি, অবকাঠামো ও পরিবহন মন্ত্রণালয় আয়োজিত এবং ইন্টারন্যাশনাল কনট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়ার (আইসিএকে) ব্যবস্থাপনায় তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘কো-অপারেশন অন গ্লোবাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্টস ওপেনড বাই এআই’।
এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, অবকাঠামো সংশ্লিষ্ট সংস্থা, বহুপাক্ষিক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী এবং শীর্ষস্থানীয় নির্মাণ ও প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করছেন।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে শেখ রবিউল আলম আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে সহনশীল, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থায়নের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, জ্ঞান ও কারিগরি দক্ষতার সমন্বয় প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে দেশগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা জরুরি।’
১৯ দিন আগে
ভারতের সঙ্গে যাত্রীবাহী ট্রেন চালু্র উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: রেলমন্ত্রী
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করছে জানিয়ে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদের (কুষ্টিয়া-১) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী এ কথা বলেন। এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে ৩টায় সংসদ অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়।
গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৪৩টি পণ্যবাহী ট্রেন আসছে এবং ৪২টি খালি রেক ফেরত যাচ্ছে উল্লেখ করে রেলমন্ত্রী বলেন, রহনপুর, দর্শনা ও বেনাপোল ইন্টারচেঞ্জ স্টেশনের মাধ্যমে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রেন গ্রহণ করা হচ্ছে এবং খালি রেক ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
এছাড়া মন্ত্রী জানান, রাজশাহী-কলকাতা-রাজশাহী রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়টি বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।
বিএনপির সংসদ সদস্য শাহ মো. ওয়ারেস আলী মামুনের (জামালপুর-৫) আরেকটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে রবিউল আলম বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও রেলওয়ে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ধীরে ধীরে বাংলাদেশের সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান সরকার এই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
রেলমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বর্তমানে চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রকল্পগুলো হলো—মধুখালী থেকে কামারখালী হয়ে মাগুরা শহর পর্যন্ত ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ; বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ; শেরপুর-রৌমারী রেল যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত কর্ড লাইন নির্মাণ।
মন্ত্রী আরও বলেন, রেলওয়ে সম্প্রসারণে তিনটি প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নোয়াখালীর চৌমুহনী থেকে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা; নেত্রকোনার ঝারিয়া ঝাঞ্জাইল থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন এবং সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা।
রবিউল আলম বলেন, ভবিষ্যতে ধীরে ধীরে আরও প্রকল্প নেওয়া হবে, যাতে দেশের সব জেলায় রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা যায়।
২৫ দিন আগে
২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য সরকারের
চালক ও পথচারীদের সচেতন করার পাশাপাশি কার্যকর আইন প্রয়োগ ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ও দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেল এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনে বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের আওতায় সড়ক দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি চিকিৎসাসেবা ও হাইওয়ে টহল কার্যক্রমের জন্য ৬০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স, ৪০টি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স এবং ৮০টি হাইওয়ে প্যাট্রোল মোটরসাইকেল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সড়ক ও সেতু মন্ত্রী বলেন, দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি রোধে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দুর্ঘটনা কমানোর পাশাপাশি দুর্ঘটনার পর দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
সড়ক নিরাপত্তায় নতুন আইন প্রণয়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত নতুন নিরাপদ সড়ক আইন প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি মহাসড়ক-সংলগ্ন বাজার স্থানান্তর, আঞ্চলিক সড়কের সংযোগস্থলে প্রয়োজনীয় ডাইভারশন নির্মাণ এবং সড়কে স্পষ্ট মার্কিং ও সাইনেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
৪১ দিন আগে
বাংলাদেশি নাবিকদের ভিসা জটিলতা দ্রুত সমাধানের নির্দেশ নৌ পরিবহনমন্ত্রীর
বাংলাদেশি নাবিকদের সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ (ইউএই) বিভিন্ন দেশে ভিসা, ট্রানজিট ও ক্রু চেঞ্জ-সংক্রান্ত বিদ্যমান জটিলতা দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক, রেলপথ, সেতু ও নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় মেরিটাইম কাউন্সিলের প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
সভায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, এমপি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মেরিটাইম শিল্প খাতের সংশ্লিষ্ট অংশীজনরাও উপস্থিত ছিলেন।
শেখ রবিউল আলম বলেন, আন্তর্জাতিক শিপিং খাতে বাংলাদেশের নাবিকদের কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ ও তাদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনে কমিটি গঠনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় আরও জোরদার করতে হবে।
সভায় বাংলাদেশি নাবিকদের সংযুক্ত আরব আমিরাতে ট্রানজিট ভিসা, ক্রু চেঞ্জ ভিসা, শোর পাস এবং এন্ট্রি ক্লিয়ারেন্স প্রাপ্তিতে বিদ্যমান জটিলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাবিক সরবরাহকারী দেশ হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এসব জটিলতার কারণে আন্তর্জাতিক জাহাজে নিয়োগ, ক্রু রিলিফ এবং কর্মসংস্থানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে বাংলাদেশি নাবিকদের চাকরির বাজার সংকুচিত হচ্ছে। ফলে এ খাত থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় থেকে দেশ বঞ্চিত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি নাবিকদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ জোরদার এবং আবুধাবিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও দুবাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় ২০২৮ সালের আইএমও মেম্বার স্টেট অডিট স্কিমের (আইএমএসএএস) প্রস্তুতি, ২০১৭ সালের অডিটে চিহ্নিত বিষয়গুলোর নিষ্পত্তির অগ্রগতি ও একটি সমন্বিত জাতীয় প্রস্তুতি পরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।
এছাড়া হংকং কনভেনশন বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলা, ট্রিটমেন্ট, স্টোরেজ অ্যান্ড ডিসপোজাল ফ্যাসিলি (টিএসডিএফ) স্থাপনের রোডম্যাপ ও সংশ্লিষ্ট নীতিগত বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
সভায় আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) ‘নেট-জিরো ফ্রেমওয়ার্ক’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাহাজের জ্বালানি ব্যবহার-সংক্রান্ত জাতীয় তথ্যভান্ডার প্রতিষ্ঠা, কার্বন নির্গমন বেসলাইন প্রণয়ন ও বাঙ্কার ফুয়েল মনিটরিং ফ্রেমওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
পাশাপাশি সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর ও বিমানবন্দরে বিপজ্জনক পণ্য পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, আইএমডিজি কোড বাস্তবায়ন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে ‘ডেঞ্জারাস গুডস ভ্যালিডেশন মডিউল’ সংযোজনের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
সভায় দেশের সামুদ্রিক খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত ন্যাশনাল মেরিটাইম পলিসি প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ নীতিমালার মাধ্যমে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, আন্তর্জাতিক কনভেনশন বাস্তবায়ন, ব্লু ইকোনমির বিকাশ, বন্দর ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, নাবিকদের কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ ও সামুদ্রিক খাতের টেকসই উন্নয়নে সমন্বিত দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জোরদার এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
৬১ দিন আগে
ঢাকার চারপাশের নৌপথে বেসরকারি ওয়াটার বাস যুক্ত করার পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর
রাজধানী ঢাকার চারপাশের নৌপথগুলো সচল করে ওয়াটার বাস চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। নগরবাসীর যাতায়াত আরও সহজ করতে আগ্রহী বেসরকারি কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব বিবেচনা করে নৌপথে তাদের ওয়াটার বাস পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
রবিবার (২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিশেষ সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ঢাকার চারপাশের নৌপথ চালু-সংক্রান্ত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় ঢাকার চারপাশের নৌপথগুলো সচল করার পাশাপাশি নদীর দূষণ প্রতিরোধ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নদীর নাব্যতা ও পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নদীতীরের পরিবেশ উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি নদীর চারপাশে নির্মিত ওয়াকওয়ের পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানোর নির্দেশনাও দেন, যাতে পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি নদীতীরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।
সভা শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে ঢাকার চক্রাকার নৌপথে ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, আশুলিয়া থেকে সদরঘাট হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত নদীপথের একটি অংশ যাত্রীবান্ধব হলেও অন্য অংশে এখনও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সড়কপথে যেখানে মানুষ দেড় থেকে দুই ঘণ্টায় গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন, সেখানে নদীপথে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগলে যাত্রীদের আগ্রহ কমে যায়। ফলে যাত্রী সংকট তৈরি হয়।
তিনি বলেন, এর আগে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) ওয়াটার বাস পরিচালনা করলেও যাত্রী স্বল্পতা, নদী দূষণ এবং পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গত ১০ বছরে সংস্থাটির প্রায় ৫৭ কোটি টাকা লোকসান হয়। ফলে সেবাটি বন্ধ হয়ে যায়।
শেখ রবিউল আলম বলেন, এবার কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ওয়াটার বাস পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের লক্ষ্য শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, নদীকেন্দ্রিক পর্যটন ও বিনোদনের সম্ভাবনাও কাজে লাগানো।
হাতিরঝিলের ওয়াটার বাসের সঙ্গে এ প্রকল্পের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, হাতিরঝিলে অল্প দূরত্বে যাত্রীর চাপ বেশি এবং চলাচলেও তেমন কোনো বাধা নেই। কিন্তু দীর্ঘ রুটে যখন সড়কপথে কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যায়, তখন নদীপথে যাত্রী আকর্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
৬৩ দিন আগে
জুলাই নিয়ে অপতৎপরতা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করবে বিএনপি: সেতুমন্ত্রী
জুলাইকে ঘিরে যেকোনো অপতৎপরতা বিএনপি রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, সেতু, রেল ও নৌমন্ত্রী এবং ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, ‘জুলাইয়ের চেতনা ও অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা জনগণকে সঙ্গে নিয়েই রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করা হবে।’
বুধবার (২৯ জুলাই) ঢাকা কলেজের বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ আ ন ম নজীর উদ্দিন খান খুররম অডিটোরিয়ামে কলেজ শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত ‘শাশ্বত জুলাই’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ রবিউল আলম বলেন, জুলাই আমাদের নতুন করে শাণিত হতে, সংশোধিত হতে এবং সমৃদ্ধ জাতি হতে শিখিয়েছে। একই সঙ্গে একটি ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন নিশ্চিত হওয়ার শিক্ষা দিয়েছে। এ আন্দোলন ছাত্ররাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের শিক্ষা দিয়েছে এবং সেই পরিবর্তন বাধ্যতামূলকভাবে এসেছে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন এবং আগামী দিনের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার সূতিকাগার হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তোলার শিক্ষা দিয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদের পতন নিশ্চিত হয়েছে এবং রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের সরকারও নিশ্চিত হয়েছে। এখন বাকি রয়েছে রাষ্ট্র ও জনগণকে আরও সমৃদ্ধ, মানসম্পন্ন ও শাণিত করা। জনগণের নির্বাচিত সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে এবং সেই সরকারের নেতৃত্বে রয়েছেন তারেক রহমান।
ঢাকা কলেজ তার নির্বাচনি এলাকার অন্তর্ভুক্ত উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, এ প্রতিষ্ঠানের প্রতি তার বিশেষ দায়বদ্ধতা রয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকা কলেজ শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা, অবকাঠামো, আবাসন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার উন্নয়নে আমি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করব।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা কলেজের সুনাম ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
ঢাকা কলেজের ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের সিভিল প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন দপ্তর, পরিদপ্তর, অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন বিভাগে ঢাকা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীরা দায়িত্ব পালন করছেন। একসময় সারা দেশের শিক্ষার্থীদের কাছে ঢাকা কলেজে ভর্তি হওয়া ছিল একটি স্বপ্ন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আলোচনা সভার আগে শেখ রবিউল আলম ঢাকা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক, কলেজের অধ্যক্ষ, সাবেক শিক্ষক, সাবেক ছাত্রনেতা, ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
৬৭ দিন আগে
যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা আরও বাড়াবে বাংলাদেশ-জাইকা
বাংলাদেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা—জাইকা’র প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনবিষয়ক মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশের যোগাযোগ খাতের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, মেট্রোরেল প্রকল্প, সড়ক ও সেতু অবকাঠামো, এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, কারিগরি সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রকল্পে জাইকার সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া এবং জাইকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর আধুনিকায়নে জাইকা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে মেট্রোরেল, সড়ক, সেতু এবং অন্যান্য কৌশলগত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার নিরাপদ, আধুনিক, টেকসই ও সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে গণপরিবহন, স্মার্ট পরিবহন ব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় জাইকা ভবিষ্যতেও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে। চলমান প্রকল্পগুলোর সফল বাস্তবায়নের পাশাপাশি নতুন সম্ভাবনাময় খাতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ মেট্রোরেল প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন, মাতারবাড়ী অঞ্চলের সমন্বিত উন্নয়ন, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারে একমত হন।
এ সময় বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ।
৯৪ দিন আগে
আড়াই বছরের মধ্যে ঢাকার বাইরে যাবে চার বাস টার্মিনাল: সড়কমন্ত্রী
দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে চারটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল ঢাকার বাইরে সরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এ কথা বলেন। টার্মিনালগুলো হল— গাবতলী বাস টার্মিনাল, মহাখালী বাস টার্মিনাল, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এবং ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল।
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখেছি বাস টার্মিনালগুলোতে সারাদিন বাস থাকে। ওখানে ওয়ার্কশপ হয়ে গিয়েছে। একটি বাস আট-দশ দিন ধরে ওখানে রং করছে, ডেন্ট করছে, ইঞ্জিন ডাউন দিয়ে আবার সেটা রিসেট করছে—এরকম চলছে। এটা ওখানে চলবে না। আমরা ডিপো করার জন্য পরিকল্পনা নিয়েছি, একটা ৩০০ ফিটে। একটা হচ্ছে কাঁচপুরে। কাঁচপুরে যেটা আমরা ডিপো করছি, সেটা টার্মিনালই হয়ে যাবে। সায়েদাবাদ টার্মিনাল আস্তে আস্তে কাঁচপুরে চলে যাবে। ফুলবাড়িয়া টার্মিনালটা চলে যাবে কেরানীগঞ্জে, জেলখানার ঠিক বিপরীতে। গাবতলী বাস টার্মিনাল চলে যাবে হেমায়েতপুরে।’
তিনি বলেন, এভাবে টার্মিনাল শিফট হবে, কিন্তু এখনই হচ্ছে না। এখন ডিপো হিসেবে ওখানে ব্যবহার হবে। আর এখান থেকে গাড়ি ছাড়বে, কিন্তু গাড়িগুলো (টার্মিনালে) আসবে আবার কখন? গাড়ি ছাড়ার যে সময় আছে, তার আগে আসবে। আসবে এবং গাড়ি এখান থেকে ছেড়ে যাবে।
মন্ত্রী বলেন, গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার হবে, বাসের ওই ডিপো হিসেবে ব্যবহার হবে না। আলাদা ডিপো করে আমরা ওখানে পর্যায়ক্রমে দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে বাস টার্মিনালগুলো সরিয়ে নেব।
তিনি বলেন, গাবতলীরটা হেমায়েতপুর, মহাখালীরটা উত্তরা, আব্দুল্লাহপুরের কাছাকাছি ওখানে ৫০ বিঘা জায়গা অ্যাকোয়ার করতে চলেছি আমরা ইতোমধ্যে। তার আগ পর্যন্ত ডিপোটা হবে ৩০০ ফিটে। কাঁচপুরে চলে যাবে সায়েদাবাদ টার্মিনাল। ফুলবাড়িয়ারটা চলে যাবে কেরানীগঞ্জে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘আর এটা আমরা এনসিওর (নিশ্চিত) করতে চাচ্ছি যে কলাবাগান, কল্যাণপুর—যে সমস্ত জায়গায় কাউন্টার, এসি কাউন্টারকে বা অনেকগুলি বেসরকারি বাসের কাউন্টারকে কেন্দ্র করে টেম্পোরারি টার্মিনালের মতো হয়েছে, রাস্তার পাশে বাস দাঁড়িয়ে থাকে, তারা কাউন্টারগুলি পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেবে। আর অবশ্যই কাউন্টারের সামনে বাস এনে যাত্রী উঠাতে পারবে না—আমরা মোটামুটি এই পদক্ষেপ নিয়েছি।’
মন্ত্রী বলেন, ঢাকায় নানা ধরনের যানবাহন চলাচল করে। একটা নগরীতে এরকম চলে না। রেল আছে, মেট্রোরেল আছে, মনোরেল আছে, বাস আছে—এইটাই হলো মৌলিক। আর ব্যক্তিগত গাড়ি আছে। আমরা ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছি যে বাস ব্যক্তি মালিকানায় একই রুটে, দুই-চার-দশজন মালিকের বাস বিচ্ছিন্নভাবে চলবে না। যেটা প্রতিযোগিতা হয়, কেউ টার্মিনালে থামে না, টার্মিনালও নির্দিষ্ট না, লোক যেখানে হাত তোলে সেখানে থামিয়ে দেয়। এই পদ্ধতিতে আমরা বাস আর চালাব না।
প্রত্যেক রুটের বাস মালিকদের নিয়ে কোম্পানি গঠন করা হবে জানিয়ে পরিবহনমন্ত্রী বলেন, নির্দিষ্ট বাস, একই কালারের, নির্দিষ্ট মানের, ফিটনেস রেখে, ফ্যাসিলিটিজ রেখে চালাতে হবে। সেক্ষেত্রে আমরা ইলেকট্রিক ভেহিকেলকে উৎসাহিত করছি। এই কাজ অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে। মালিকরা কোন রুটে কোন কোম্পানি করবে, সে ব্যাপারেও তারা কিন্তু কাজ করছে। প্রথমত, আমরা চাচ্ছি যে বাস ব্যবস্থাপনা এবং চলাচলের ক্ষেত্রে একটা শৃঙ্খলা আনতে। দ্বিতীয়ত হচ্ছে রুট, তৃতীয়ত হচ্ছে ট্রাফিক সিগন্যাল অথবা নির্দিষ্ট টার্মিনালে থামবে এবং নির্দিষ্ট টার্মিনাল থেকে উঠবে—এই ব্যবস্থাপনাটা।
ঢাকার ভেতরে যত্রতত্র গড়ে ওঠা বাস কাউন্টার ঈদের এক এক-দেড় মাস আগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরবর্তী সময়ে মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠন, সিটি করপোরেশন, মেট্রোপলিটন পুলিশ, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ, আমার মন্ত্রণালয়ে আমরা সভা করেছি। সে সভায় আমরা তিন মাসের জন্য একটা সময় নির্ধারণ করেছিলাম। ঈদের আগে অথবা এই মুহূর্তে, যেভাবেই বলেন না কেন, এই রাস্তার পাশে যে কাউন্টারগুলি আছে, সেটা হঠাৎ করে বন্ধ করে দিলে যাত্রী দুর্ভোগ হবে। কারণ যাত্রীরা এখানেই এসে, এই প্রক্রিয়ায় অভ্যস্ত।
শেখ রবিউল আলম বলেন, তাদের সময় দেওয়া দরকার। আমাদের বাস টার্মিনালগুলি এখনও পর্যন্ত ভালো মানের বাস, এসি বাস অথবা যেখানে অনেক বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে, একজন যাত্রী আরাম অনুভব করে, এই বাসগুলি বাস টার্মিনাল থেকে ছাড়ার উপযুক্ত কাঠামো এবং ব্যবস্থাপনা বাস টার্মিনালগুলিতে নেই। সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী কোথাও এ ব্যবস্থাপনা নেই। যাত্রীরা যেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না তার একটা কারণ হলো পরিবেশগত, আরেকটা হলো ফ্যাসিলিটিজগত (সুবিধাগত)।
তিনি বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বাস টার্মিনালগুলোতে এই সুবিধাগুলো সিটি করপোরেশন নিশ্চিত করবে। টয়লেট, ফ্যানগুলি যাতে চলে, অপেক্ষার জন্য বড় রুম—এসব সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে। তবে তাদেরও কিছুটা সময় লাগবে। এটা হয়ে গেলে তিন মাস পর তারা ওখানে যাবে। এটা প্রিভিউ মিটিং দুই-তিন দিন আগে হয়েছে মাত্র। সেখানে এই সময়টা আর এক মাস বাড়িয়ে করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বাস মালিক সমিতির লোকেরা বলেছে, তারা ওই পরিবেশ পেলে, জায়গা পেলে তারা নিজেরাই অবকাঠামো করে নেবে বাস টার্মিনালে। তারা একমত পোষণ করেছে। আমি কিন্তু তাদের সহযোগিতা এখানে পেয়েছি। সিটি করপোরেশন ডেভেলপ করে দিতে চেয়েছে, আর মেট্রোপলিটন পুলিশ দায়িত্ব নিয়েছে, তারা পরিবেশটা নিশ্চিত করবে। মানুষ যাতে নিরাপদ থাকে সেজন্য পর্যাপ্ত সড়কবাতি থাকবে, সিসি ক্যামেরা থাকবে—তাহলে মানুষ উৎসাহিত হবে ওখানে যেতে।
তিনি আরও বলেন, এই পদক্ষেপ নিয়ে আমরা এগোচ্ছি। মনে হচ্ছে, চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে পরিপূর্ণ না হলেও একটা পরিবর্তন আপনারা এই বাস টার্মিনালগুলিতে দেখবেন।
বিএসআরএফের সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপ সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।
১০৮ দিন আগে