সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন
হাসপাতালে বাইরে পরীক্ষা করানোর অভিযোগ, সতর্ক করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও রোগীদের হাসপাতালের বাইরে পাঠানোর অভিযোগে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালটিতে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গুর সব ধরনের পরীক্ষা হাসপাতালে করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বাইরে থেকে পরীক্ষা করানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসক ও রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ডেঙ্গু ওয়ার্ডও পরিদর্শন করেন।
এ সময় রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হাসপাতালের বাইরে পাঠানোর অভিযোগ পান তিনি। এতে রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
সাখাওয়াত বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এরপরও রোগীরা যথাযথ সেবা থেকে বঞ্চিত হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সম্প্রতি হাসপাতালের সেবার মান ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেবাপ্রত্যাশীদের ক্ষোভের বিষয়টি নজরে আসার পর পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ আকস্মিক পরিদর্শনে যান।
১ দিন আগে
আত্মহত্যা শূন্যের কোটায় আনতে কাজ করছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আত্মহত্যার হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে ঢাকার ইউনিভার্সিটি উইমেন্স ফেডারেশনে অ্যাসোসিয়েশন ফর ডিজএবলড পিপল (এডিপি) ও রোটারি ক্লাব আহসান মঞ্জিল আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আত্মহত্যার হার শূন্যের কোটায় নিয়ে আসতে সরকার কাজ করছে। আত্মহত্যা প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
এ সময় উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আত্মহত্যাকে ‘না’ বলার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, যত বড় বিপদই আসুক না কেন, জীবনের প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। জীবনে ব্যর্থতা আসবেই। ব্যর্থতায় হতাশ না হয়ে সাফল্য অর্জনের জন্য বারবার প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। নিরন্তর প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই মানুষ উন্নতির শিখরে আরোহণ করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আত্মহত্যাকে ‘না’ বলতে হবে। একই সঙ্গে মা-বাবা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে। পারস্পরিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে নিজেদের সমস্যা ও অনুভূতিগুলো ভাগাভাগি করে নিতে হবে। যেসব বিষয়ে মা-বাবা বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বলা সম্ভব হয় না, সেসব বিষয় বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করা যেতে পারে। এতে মানসিক চাপ ও হতাশা মোকাবিলায় সহায়তা পাওয়া সম্ভব।
আত্মহত্যা প্রতিরোধে সমাজকে সচেতন করার ওপর জোর দিয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গড্ডলিকা প্রবাহে সমাজকে চলতে দিলে সমাজ খুব বেশি দূর এগোতে পারবে না। তাই প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে ইতিবাচক চিন্তা, পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সচেতনতার মাধ্যমে আত্মহত্যা প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
এডিপির চেয়ারম্যান রওশন আরা জামানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন। এছাড়া সেমিনারে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ইউনিভার্সিটি উইমেন্স ফেডারেশনের অধ্যক্ষ আফরোজা শারমিন।
২ দিন আগে
২৫ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হামের সংক্রমণ মোকাবিলায় আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে আবারও হামের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে ঢাকায় ইউনিভার্সিটি উইমেন্স ফেডারেশনে অ্যাসোসিয়েশন ফর ডিজএবলড পিপল (এডিপি) ও রোটারি ক্লাব আহসান মঞ্জিল আয়োজিত সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে অধিকাংশ টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে দেশে এসে পৌঁছেছে। অবশিষ্ট টিকাও আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে পৌঁছাবে।
তিনি আরও বলেন, হামের টিকাদান ক্যাম্পেইন শেষ করার পরও সংক্রমণ অব্যাহত থাকার বিষয়টি নজরে আসায় সরকার মপ-আপ কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ কার্যক্রমের আওতায় নতুন করে ১৪ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিগত সরকার দেশে কোনো টিকা রেখে যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকার মাত্র ২১ দিনের মধ্যে ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুর জন্য টিকা সংগ্রহ করে টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।
এছাড়া ঢাকার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর চাপ কমাতে প্রান্তিক পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিটি হাসপাতালে আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং মোবাইল হাসপাতালের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়েই রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি টারশিয়ারি হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমাতে সোসাইটি অব মেডিসিনের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় ও প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা আছে। এ জন্য জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
২ দিন আগে
উপজেলা পর্যায়ে স্ট্রোক-পরবর্তী থেরাপি চালুর কথা ভাবছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, উপজেলা পর্যায়ে স্ট্রোক-পরবর্তী থেরাপি সেবা চালু করার বিষয়টি সরকারের ধাপে ধাপে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে এ জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামো ও সরঞ্জাম থাকা সাপেক্ষে এ সেবা চালু করা হবে বলেও জানান তিনি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর (চট্টগ্রাম-১৫) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টার দিকে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, ডেঙ্গু, সাপের কামড় ও অন্যান্য মৌসুমি রোগের চিকিৎসায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ এবং মজুত ব্যবস্থাপনাও জোরদার করা হবে।
এছাড়া চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে হামে সন্দেহভাজন ৮৮০ জনের মৃত্যু ও নিশ্চিতভাবে ৯৯ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত হামে সন্দেহভাজন মৃত্যুর সংখ্যা ৮৯৭ এবং নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ১০০-তে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯৭।
৫ দিন আগে
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের সংখ্যা ৩০,৩১১, প্রয়োজন ৮৮,৯০৯: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী চিকিৎসক ও জনসংখ্যার ন্যূনতম অনুপাত পূরণ করতে দেশে প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন হলেও সরকারি হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে মাত্র ৩০ হাজার ৩১১ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সংসদে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপির সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিহার (মাদারীপুর-২) লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে বেলা ৩টার দিকে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী এদিন সংসদে জানান, সরকারের অর্থায়নে ২০২৬ সালে পরিচালিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত প্রতি এক হাজার মানুষের জন্য শূন্য দশমিক ৫০ জন চিকিৎসকের ন্যূনতম মান পূরণ করতে চলতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের অনুমোদিত মোট পদ রয়েছে ৪১ হাজার ৮০৬টি। এর মধ্যে বর্তমানে ৩০ হাজার ৩১১ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। ফলে ১১ হাজার ৪৯৫টি পদ শূন্য রয়েছে।
সাখাওয়াত হোসেন জানান, দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে কতজন চিকিৎসক প্রয়োজন, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্বাস্থ্যকর্মী-সংক্রান্ত মানদণ্ড বিবেচনায় নেওয়া হয়।
তবে দেশে চিকিৎসকের মোট সংখ্যা ও সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় কর্মরত চিকিৎসকের সংখ্যা এক নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদ পূরণ ও চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ৪৪তম ও ৪৮তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৪৫তম, ৪৬তম, ৪৭তম ও ৫০তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী সার্জন নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলছে।
সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদগুলো ধীরে ধীরে পূরণ করতে সরবার চলমান নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের জন্য সহজলভ্য, মানসম্মত ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টি করা হবে।
৫ দিন আগে
ক্যাম্পেইনের পরও সচেতনতার অভাবে টিকাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে হাম ছড়াচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
নিয়মিত টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার পরও নতুন করে টিকাদানের উপযুক্ত হওয়া এবং সচেতনতার অভাবে সময়মতো টিকা না পাওয়া শিশুদের মধ্যে হাম ছড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন।
হামের সংক্রমণ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর দীর্ঘদিন নিয়মিত হামের টিকা ক্যাম্পেইন না হওয়ায় দেশে টিকাবঞ্চিত শিশুর সংখ্যা বেড়ে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। ক্যাম্পেইনের পরও নতুন করে টিকাদানের উপযুক্ত হওয়া শিশুদের একটি অংশ এবং সচেতনতার অভাবে সময়মতো টিকা না পাওয়া শিশুরা টিকাবঞ্চিত থেকে গেছে। ফলে তাদের মধ্যে হাম ছড়াচ্ছে।
তিনি জানান, বিশ্বব্যাংক ও ইউনিসেফের সহযোগিতায় পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন এনে টিকাদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এদিকে, দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, একটি চক্র রোগীদের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। এই দালাল চক্রকে ধরতে ডিজিএফআই, র্যাবসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একযোগে কাজ করছে।
মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে বহু হাসপাতালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানের ফলে আগের তুলনায় দালাল চক্রের উৎপাত কমেছে।
অবৈধ ক্লিনিক ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জেলাগুলোতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরিমানা করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ক্লিনিক সিলগালা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, যেসব ক্লিনিকে অবৈধ চিকিৎসক এবং ভুয়া সনদধারী টেকনিশিয়ান দিয়ে অস্ত্রোপচারসহ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে, সেসব প্রতিষ্ঠানও সিলগালা করা হচ্ছে। তিনি নিজে এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা সংগ্রহ করে অভিযান পরিচালনার বিষয়টি তদারকি করছেন বলেও জানান।
হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত এক মাসে ২৫টির বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করে তিনি চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি পেয়েছেন। তাঁর পরিদর্শনের পর রোগীরাও চিকিৎসকদের আচরণ এবং হাসপাতালের খাবারের মান আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
সিলেটে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালগুলোর ড্রেনেজ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার যাবতীয় সমস্যা সাত দিনের মধ্যে সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
৮ দিন আগে
মজুত থাকলেও রোগীকে দেওয়া হচ্ছিলো না স্যালাইন, নিজের টাকায় কিনে দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় মজুত থাকা সত্ত্বেও রোগীকে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে বলায় এক নার্সের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। এরপর ওই রোগীকে বাইরে থেকে স্যালাইন কেনার টাকা ফেরত দেন তিনি।
রবিবার (২৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পরিদর্শনে গিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার, ফার্মেসি ও রান্নাঘর ঘুরে দেখে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
প্রায় এক ঘণ্টা পরিদর্শন শেষে তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয়ে গিয়ে অনুপস্থিত চিকিৎকদের মোবাইল নম্বরে ফোন করে ব্যাখ্যা চান সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়ম পাওয়া গেছে। এখানে স্যালাইন মজুত থাকার পরেও রোগীকে দেওয়া হচ্ছিল না। এছাড়া একজন চিকিৎসককে অনুপস্থিত পাওয়া গেছে। এসব বিষয় নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপকক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। খুব শিগগিরই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শয্যাসহ সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে।
এ সময় নওগাঁ-০৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থ্যাপনা কমিটির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ধলু, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম, ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আ ম আখতারুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পালসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় মজুত থাকা সত্ত্বেও রোগীকে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে বলায় এক নার্সের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। এরপর ওই রোগীকে বাইরে থেকে স্যালাইন কেনার টাকা ফেরত দেন তিনি।
রবিবার (২৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পরিদর্শনে গিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার, ফার্মেসি ও রান্নাঘর ঘুরে দেখে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
প্রায় এক ঘণ্টা পরিদর্শন শেষে তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয়ে গিয়ে অনুপস্থিত চিকিৎকদের মোবাইল নম্বরে ফোন করে ব্যাখ্যা চান সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়ম পাওয়া গেছে। এখানে স্যালাইন মজুত থাকার পরেও রোগীকে দেওয়া হচ্ছিল না। এছাড়া একজন চিকিৎসককে অনুপস্থিত পাওয়া গেছে। এসব বিষয় নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপকক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। খুব শিগগিরই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শয্যাসহ সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে।
এ সময় নওগাঁ-০৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থ্যাপনা কমিটির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ধলু, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম, ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আ ম আখতারুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পালসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
২০ দিন আগে
চিকিৎসকদের মানবিক মানুষে রূপান্তর হওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন চিকিৎসকদের আরও মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগমুক্ত করা সম্ভব নয়; রোগ নিরাময়ের পাশাপাশি এখন প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীতে জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম)-এ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্বখাতে পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রমের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এম এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।
শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব নয় উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এখন শুধু রোগ নিরাময় নয়, বরং রোগ প্রতিরোধের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এর জন্য একদম জিরো (শূন্য) বয়স থেকে উদ্ভাবনী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৪৪ দিন আগে
সরকারি হাসপাতালে দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে টেস্ট বাণিজ্য, অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা, টেন্ডার কারসাজি ও অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
বুধবার (২৯ জুলাই) ‘বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ঘাটতি নিরসন: সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার উপযোগী সেবা নিশ্চিত করতে ব্যয় দক্ষতার একটি দ্রুত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গবেষণাটি যৌথভাবে পরিচালনা করে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেন্ট রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট।
মন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব রেখে বাইরে পাশের ক্লিনিক খুলবেন, সরকারি দায়িত্ব রেখে সেখানে সার্জারি করবেন, কমিশন খাবেন, রোগী এলে বলবেন পাশের ক্লিনিকে গিয়ে টেস্ট করতে—এসব বন্ধ করতে হবে। এগুলো আমরা মনিটর করব।
টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, পছন্দের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে এমন অবাস্তব শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়, যা অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, পাঁচ বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার লেনদেনের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়, যা প্রতিযোগিতা সীমিত করারই কৌশল।
স্বাস্থ্য খাতে সরকারি অর্থ অপচয়ের উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ১১ কোটি টাকার রেডিওথেরাপি মেশিন ১৮ কোটি টাকা দিয়ে দুটি কেনা হয়েছিল। কিন্তু যেখানে সেগুলো স্থাপন করা হয়েছে, সেখানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোই প্রস্তুত ছিল না। ফলে একটি মেশিন ফরিদপুরে এবং অন্যটি খুলনায় অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। একইভাবে প্রয়োজনীয় কারিগরি জনবল ছাড়াই দেশের বিভিন্ন স্থানে এক্স-রে ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম কিনে ফেলে রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, একটি বিদেশি কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ডায়ালাইসিস সেবার বাজার নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। নভেম্বরে তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তা আর নবায়ন করা হবে না। সরকার নিজস্ব উদ্যোগে ডায়ালাইসিস মেশিন কিনবে। এর ফলে আগামী ডিসেম্বর থেকে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি কম খরচে ডায়ালাইসিস সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যা এবং প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দেশে স্তন ক্যান্সার, জরায়ু ক্যান্সার ও ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়লেও মানুষের সচেতনতা কম উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১০টি উপজেলা ও ৯০টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যকর্মীদের সাইকেল, স্মার্টফোন ও এআই-সমৃদ্ধ ‘কিট বক্স’ দেওয়া হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এ কার্যক্রম শুরু হবে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে উচ্চতা, ওজন, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তের লিপিড প্রোফাইল, আরবিসি ও সিবিসি পরীক্ষা করবেন। পুরুষদের কাছে পুরুষ এবং নারীদের কাছে নারী স্বাস্থ্যকর্মী যাবেন।
মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের কাজে অডিটের নামে এক টাকাও ঘুষ দেওয়া যাবে না। সৎ থাকলে কাউকে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। অডিটে কেউ অনৈতিক টাকা চাইলে সরাসরি আমার কাছে আসবেন।
হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবের হার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভয় দেখিয়ে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন করানোর প্রবণতা বন্ধে কঠোর তদারকি শুরু হয়েছে। সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে সারা দেশে বেসরকারি ক্লিনিকে আকস্মিক পরিদর্শন জোরদার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় লেবার রুম, লেবার চেয়ার ও নবজাতকের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ছাড়া পরিচালিত অনেক ক্লিনিক ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং এ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. এনামুল হক।
গবেষণায় দেশের আটটি বিভাগের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও তৃতীয় পর্যায়ের ২২টি সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন, সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়া, প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্ষমতা এবং ৯৫ জন কর্মকর্তার জ্ঞান, দৃষ্টিভঙ্গি ও পেশাগত চর্চা মূল্যায়ন করা হয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপক, জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারক, সরবরাহকারী, শিক্ষাবিদ ও রোগীদের সঙ্গে ৩২টি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জরিপভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর গড় বাজেট বাস্তবায়নের হার ছিল ৮৫ শতাংশ। মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে এ হার ছিল সবচেয়ে কম, ৭৮ শতাংশ। অর্থবছর শেষে ৯৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দের অর্থ অব্যয়িত থাকলেও মাত্র ১১ শতাংশ উত্তরদাতা আর্থিক অব্যবস্থাপনাকে উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। গবেষণায় বলা হয়, অব্যয়িত অর্থের প্রধান কারণ আর্থিক অনিয়মের চেয়ে বাজেট ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত দুর্বলতা ও প্রশাসনিক জটিলতা।
এছাড়া সাধারণ সরঞ্জাম খাতে বরাদ্দের মাত্র ২৭ শতাংশ ব্যয় হয়েছে। ভ্রমণ ও স্থানান্তর খাতে ব্যয়ের হার ছিল ৬৮ শতাংশ এবং পেশাগত সেবা ও সম্মানী খাতে ৫৯ শতাংশ।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪৫ দিন আগে
সাতক্ষীরায় আকস্মিক হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, দুই চিকিৎসকসহ তিনজন বরখাস্ত
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ কয়েকটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে দুজন চিকিৎসকসহ তিনজনকে শাস্তি দিয়েছেন তিনি।
রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় ছুটি না নিয়ে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় ডা. তন্নি নামের এক চিকিৎসককে এবং চুরির ঘটনায় এক নাইট গার্ডকে বরখাস্ত করেন তিনি।
পরে তিনি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে হাসপাতালের রান্নাঘর, ওয়াশরুম ও বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় এক মাসের বেশি সময় ছুটি ছাড়া অনুপস্থিত থাকায় ডা. সোহানা সেলিম নামের আরেক চিকিৎসককে বরখাস্ত করা হয়। এরপর তিনি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বাংলাদেশে রোগীর তুলনায় চিকিৎসক কম। গত ১৭ বছরে স্বৈরশাসন চিকিৎসক নিয়োগ দেয়নি; কোনো দিকে খেয়াল করেনি; যে কারণে এ সমস্যা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করতে যাচ্ছি। প্রতিটি জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল হাসপাতালে ৫০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রতিটি উপজেলায় ১০১ শয্যার ফিজিওথেরাপি ও আধুনিক প্যাথলজি করা হচ্ছে। পরবর্তীতে ওই হাসপাতালগুলোতেও ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সুবিধা দেওয়া হবে। ইউনিয়ন হেলথ কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন ফ্যামিলি প্ল্যানিং সেন্টারকে পিপিপির আওতায় আনা হবে। খুব দ্রুতই ই-হেলথ কার্ড দেওয়া শুরু করব। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী দেখছেন।’
৪৮ দিন আগে