বাংলাদেশ-আর্জেন্টিনা সম্পর্ক
আর্জেন্টিনার সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রত্যাশা বাংলাদেশের
অগ্রাধিকারমূলক খাতগুলোতে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আর্জেন্টিনা ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুসংহত ও গভীর করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
বুধবার (৪ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করেন।
বৈঠকে তারা বিশেষ করে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। এর মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ, কৃষিতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদার করা এবং ফুটবলের বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে ক্রীড়া ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। এছাড়া জ্বালানি বাণিজ্য, সরবরাহ চেইন অংশীদারত্ব এবং বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধির সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে একটি বহু-খাতভিত্তিক সংলাপের প্রস্তাব দেন।
তিনি ঢাকায় আর্জেন্টিনার দূতাবাস পুনরায় চালু করার প্রশংসা করেন এবং সম্প্রতি বুয়েনস আইরেসে বাংলাদেশের দূতাবাস পুনরায় খোলার বিষয়ে আর্জেন্টিনার সম্মতির জন্য ধন্যবাদ জানান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দ্বিপাক্ষিক কার্যক্রমকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বুয়েনস আইরেসে বাংলাদেশের আবাসিক মিশনটি যত দ্রুত সম্ভব কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতার বিষয়ে আর্জেন্টিনার মূল্যবান সমর্থন কামনা করেন।
এ সময় রাষ্ট্রদূত নতুন দায়িত্বে নিযুক্ত হওয়ার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নবনির্বাচিত সরকারের প্রতি আর্জেন্টিনা সরকারের শুভকামনাও পৌঁছে দেন তিনি। রাষ্ট্রদূত বলেন, নতুন নেতৃত্বের অধীনে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হওয়ার পথে রয়েছে।
এর আগে, আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
প্রতিমন্ত্রী দুই দেশের মানুষের মধ্যে বিদ্যমান অনন্য বন্ধন—বিশেষ করে ফুটবলের মাধ্যমে তৈরি হওয়া সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন এবং তরুণ ও নারী ফুটবল উন্নয়নে কাঠামোগত সহযোগিতার প্রস্তাব দেন।
শামা ওবায়েদ ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ‘বাংলাদেশ-আর্জেন্টিনা চেম্বার অব কমার্স’-এর মতো একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির ওপর জোর দেন। তিনি তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, সিরামিক এবং পাটজাত পণ্য আমদানির প্রস্তাব দেন।
উভয় পক্ষই বাংলাদেশ-আর্জেন্টিনা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে। সুনির্দিষ্ট ও ফলাফলভিত্তিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এই অংশীদারত্বকে একটি গতিশীল ও বহুমাত্রিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।
৩ ঘণ্টা আগে