নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী
খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল শুধু কথার রাজনীতি করে না, বরং বাস্তব কাজের মাধ্যমে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ শুরু করেছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে লালমাই উপজেলার দোশারীচোঁ মৌজার ডাকাতিয়া নদীর শাখা খাল পুনর্খনন কাজের উদ্বোধন এবং খাল-সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগেই বিএনপি দরিদ্র ও অসহায় নারীদের সহায়তার জন্য ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের ঘোষণা দিয়েছিল এবং নির্বাচন শেষে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেই কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। একইভাবে কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ড চালু করার প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন হয়েছে এবং পহেলা বৈশাখের আগেপরে তা চালু করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত। কৃষকদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। এ লক্ষ্যে সরকার কৃষিঋণ মওকুফসহ বিভিন্ন সহায়ক উদ্যোগ ইতোমধ্যে নিয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ের মতো আবারও খাল খনন কর্মসূচি চালু করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল পুনর্খনন ও সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
খাল পুনর্খননের মাধ্যমে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং মাছ উৎপাদনের সম্ভাবনা বাড়বে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতেও এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আমিন উর রশিদ জানান, সরকারের লক্ষ্য হলো কৃষকবান্ধব নীতি গ্রহণের মাধ্যমে দেশের কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো।
স্থানীয় জনগণকে খাল রক্ষা ও ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, খালগুলো সচল থাকলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, পানি নিষ্কাশন সহজ হবে এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-১০-এর (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান। এ সময় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ‘দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনর্খনন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুমিল্লা জেলার লালমাই উপজেলায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) আওতাধীন ‘বি-স্ট্র’ প্রকল্পের অধীনে খাল খননের কার্যক্রম আজ শুরু হয়েছে। এ খাল খনন কার্যক্রমের মাধ্যমে লালমাই উপজেলার ৪২টি গ্রামের জলাবদ্ধতা দূরীভূত হবে। ফলে এ অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক মানুষ উপকৃত হবে।
৩১ দিন আগে
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর, ধৈর্য ধরার আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশ্বাস দিয়েছেন যে, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন এবং দেশের উন্নয়নে তার সরকার যেকোনো মূল্যে তাদের সমস্ত নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করবে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) নিজ নির্বাচনি এলাকা বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এ আশ্বাস দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি আমরা একে একে পূরণ করব। এই প্রতিশ্রুতিগুলোই মানুষের ভাগ্য বদলে দেবে এবং দেশের ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করবে। যেকোনো মূল্যে আমরা এগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।
প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড চালুর এই দিনটিকে আবেগঘন দিন হিসেবে বর্ণনা করেন, কারণ এর মাধ্যমে তিনি নির্বাচনের আগে দেওয়া একটি বড় প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পেরেছেন।
তারেক রহমান বলেন, তার সরকার বুঝতে পারে যে একটি নির্বাচিত প্রশাসনের কাছে জনগণের অনেক প্রত্যাশা থাকে। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বাস্তবতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটসহ বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করলে কিছু কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষকে মধ্যপ্রাচ্য সংকট-পরবর্তী উদ্ভূত পরিস্থিতি ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করার এবং ইতিবাচক ও গঠনমূলকভাবে দেশ গড়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আমরা প্রতিশ্রুতি থেকে বিন্দুমাত্র অবস্থান পরিবর্তন করব না। হয়তো সমসাময়িক বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আমাদের কিছু কিছু ক্ষেত্রে সময় বেশি লাগতে পারে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য।
তারেক রহমান দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তার সরকার বাংলাদেশের চার কোটি পরিবারের সব নারী প্রধানের হাতে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে।
নারীর ক্ষমতায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক হচ্ছে নারী। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যদি এই অর্ধেক জনসংখ্যাকে পেছনে রাখা হয়, শিক্ষা ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়ন করা না হয়, তাহলে দেশকে কোনোভাবেই সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
বিএনপির পূর্ববর্তী সরকারগুলোর প্রচেষ্টার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন তিনি সারা বাংলাদেশে মেয়েদের জন্য উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন এই শিক্ষিত নারী জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে চাই। এ লক্ষ্য নিয়েই সরকার গঠনের আগে আমরা পরিকল্পনা করেছিলাম—কীভাবে নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই আমরা সারা বাংলাদেশে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করেছি।
বিএনপি চেয়ারম্যান জানান, আমরা একটি দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে কাজ করতে চাই; এমন একটি প্রশাসন যা দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করবে। আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে চাই।
তিনি বলেন, ‘তারই একটি অংশ হিসেবে আমাদের দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচনের আগে আমরা বাংলাদেশের মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, দেশের নারী সমাজের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে, আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু করব।
৩৭ দিন আগে